তুমি আমার ভোরের নতুন আলো ,
তপ্ত দুপুরের শীতল হাওয়া ,
নিশী রাত্রির একগুচ্ছ কবিতা আর মধ্য রাত্রির নিবিড় আলিঙ্গন।
আরাধ্য, অধরা তুমি আমার।
সুনীল আকাশে একফালি শুভ্র মেঘের মত জুড়ে থাকো অন্তঃপুরের গহিন অতলে।
তোমাকে খুঁজে নেই অমোঘ হৃদয়ের আকুলতায়।
বৈধব্যের নিষ্ঠুরতায় যখন জীবনের পথে শুষ্কতা ছড়ায়,
তখনই তুমি সিক্ত করে দিলে শ্রাবণের অঝোরধারায়।।
পাতার শরীর যেমন শিশিরে ভেজে, শিলা পাথর যেমন ভিজে ঝরনায়,
তেমনি সিক্ততায় তুমি আমায় ভিজিয়ে রাখো, প্রণতি জলহরিণ।
মাধুকরী, মধুকর তোমার প্রিয় নাম।
তোমার মধুকুঞ্জে আমি প্রবেশ করি নিবিড় প্রেমাসক্ততায়।
আর তোমার ভেজা ঠোঁটে জমে নিবিষ্টতার নীরদ ছোঁয়া।
তুমি হয়ে উঠো পৌরণিক কামুক্ততার দেবী।
অঙ্গে তোলো অশান্ত ঝড়, আমাকে ডুবিয়ে তোমার অতলের অতলে।
বুকের ভাজরেখা যখন এলোমেলো হয়ে যায় আমার পরশে, তোমার অঙ্গসৌষ্ঠব হয়ে উঠে বিমুর্ত।
তোমার গলার তিল ছুঁয়ে, আমি তোমার বুকের স্পন্দন শুনি।
এলোকেশ বিছিয়ে রাখো তোমার আরঙ্গম পৃষ্ঠোপরি ক্রি-বিণে।
স্নান শেষে তোমার চুলের ডগায় যে জলকণা ঝরে, আমি সেই স্ফটিকে তোমার পবিত্রতা দেখি।
নিমগ্ন হয়ে রই অধীর অজান্তে রাতজাগা পাখির মত,
তুমি আবেগে আমার ঠোঁট স্পর্শ করে দাও।
তোমাকে ভেবে ভেবে যখন স্বপ্নঘোর তৈরি করি, আমার কন্ঠ শুনে তুমি ব্যাকুল হয়ে উঠো, অশান্ত ঢেউয়ের মত।
প্রোথিত করে নাও তোমাতে, আমার জীবন্ত অপ্সরী।
রিমঝিম শব্দ তরঙ্গ তুলে গমের দানার মত উদোম তুমি, জোৎস্নার আলোতে তোমার শরীর হতে পোষাক ঝরছে,
গাঢ় রাত্রির-তারা-ছাওয়া বিছানায় ভেজা ভেজা কথায়
আমাতে আকন্ঠ ডুবে থাকো।
প্রণয়ী, বিধাতা তোমার নাভিতে দিয়েছে স্বর্গ-মত্যের নির্যাস।
আমি জীবন সুরা পান করি তোমাতে নিঃস্ব হয়ে অনাবিল সুখে।
তোমার পায়েলের মত, তোমার বক্ষবেষ্টনির মত, বাধিত আমি।
সুড়ঙ্গ পথের অসমীয়া বিচরণ, উন্মাতাল তৃষিত কলতান।
অনুভব যখন অনুভূতি হয়ে যায়, দিঘল সঙ্গমের রাত্রির জাগরণ।
স্রোতস্বিনী নদীর জল অবগাহন।
তোমার তালুতে জমা করি জলভারানত উষ্ণতা আর আঙ্গুলে আঙ্গুল ছুঁয়ে পুর্ণিমা রাতের বিনাশী মিথুন।
জোৎস্নাকুমারী, কুঞ্চিত নিতম্বে আঁকা রূপোর উল্কা ফাল্গুনী হাওয়াতে।
রিনিক ঝিনিক কাঁকন বাজে, আঙ্গুল ছোঁয়ায় আঁকা উরুতে।
বৃষ্টি কাঁপন, বৃষ্টি স্বপন, ভূবন জুড়ে
ভিজবো দু’জন দুজনার হাত ধরে।
মনেরই ছায়াতে মন থাকে নিরালায়, গান থাকে উর্বশী সব রাতে।
এমনই বাঁধন, অনাদী আপণ।
উত্থিত গ্রীবায়, প্রেমাতাল বিচ্ছুরণ।