ব্যাক্তি,বয়স ও সময় ভেদে ভালোবাসার রূপটা ভিন্ন হয়।একেক বয়সের প্রেম-ভালোবাসা একেক রকম।
.
.
যখন স্কুল,কলেজে ছিলাম তখন ভালোবাসা মানে ছিলো একটা গার্লফ্রেন্ড থাকা। বন্ধু মহলে শো অফ করার মতো সুন্দরী একটা গার্লফ্রেন্ড। স্কুল,কোচিং পালিয়ে রাস্তা দিয়ে হাটব,বাবার পকেট চুরি করে,প্রাইভেট,কোচিংয়ের টাকা মেরে দিয়ে গার্লফ্রেন্ডকে ফুচকা খাওয়াব। সবাই জানবে আমার একটা গার্লফ্রেন্ড আছে।ব্যাস।
ভার্সিটিতে আসার বয়সটায় প্রচন্ড আবেগ আসে। এই আবেগের ধাক্কা সামলাতে পারেনা অনেকেই। ভালোবাসা হয়ে যায় তখন শারীরিক,মানসিক, কাব্যিক,ভাববাদী ইত্যাদি ইত্যাদি। প্রেমিকা ৫ মিনিট ফোন রিসিভ না করলে মনে হয় আমারে এভয়েড করতেছে। কোনো ছেলের সাথে কথা বললেই মনে হয় এই বুঝি ছেড়ে গেল। রাত জেগে কথা না বললে মনে হয় প্রেমটা জমছে না। মাঝে মাঝে প্রেমটাই আসে শরীর থেকে, যখন চাহিদা মিটে যায় প্রেমও নিভে যায় টাইপ।
কারো প্রেম প্রচন্ড আবেগের। একটু পান থেকে চুন খসলেই মারামারি কাটাকাটি। কেউ কেউ ভুল সময় ভুল মানুষের প্রেমে পরে যায়। কারো কারো প্রেমে কোনো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা থাকে না,প্রেম করছি যা হবার হবে।কেউ আবার বোঝেও না কি করছে কেনো করছে। এ বয়সে প্রেম মানে নিজেকে বিসর্জন দিয়ে আর একজনকে সুখী করার প্রচেষ্টা।
বয়সটাই উত্তেজনার বহু জনের বহু ধরনের প্রেম।
আমাদের বয়সে এসে প্রেম নিয়ে কথা বললে একটা শব্দই উঠে আসে "মেন্টাল এটাচমেন্ট"।
এই বয়সে প্রেম মানে মানসিক প্রেম,তাঁর চিন্তার সাথে আমার চেতনার প্রেম। তাঁর ভালো লাগার সাথে আমার ভালো থাকার প্রেম। তাঁর চাওয়ার সীমাবদ্ধতার সাথে আমার দেয়ার অসীমতার প্রেম।
এই বয়সে রাত দিন ফোনে কথা বলার চেয়ে দিন শেষে ৫ মিনিটের সারাংশই অকৃতিম আনন্দ দেয়। এই বয়সে বুঝতে পারাটাই সবচেয়ে বড় আবেগের জায়গা। এই বয়সে নিজে কষ্ট পেলেও তাঁর ঐ হাসিমুখের উপরে মেঘের আবছায়া দেখতে ইচ্ছা হয় না। এই বয়সে প্রেম মানে নিজেকে বিসর্জন দিয়ে আরেকজনকে সুখী না করে দুজনে পাশাপাশি হেঁটে যাওয়া।
আস্তে আস্তে করে আবেগের নদীটা শুকিয়ে যায়। সেখানে জন্ম নেয় বিশালাকৃতির সবুজ শ্যামল বটবৃক্ষ। যার শেকড়ে শেকড়ে ছুঁয়ে থাকে ভালোবাসা, যা আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকে পাশের মানুষটাকে। ছায়ার মত,আকাশের মতো।