হঠাৎ ঘুমটা ভেঙে গিয়েছিলো সেদিন।
তখন রাত প্রায় ৩ টে।
বুঝতেই পারলাম বাইরে ঝড়ো বাতাস হচ্ছে।
যে বাসভবনে ছিলাম সেই দিন সেটা ২য় তলায় দক্ষিণ মুখি ঘর।
বিছানা থেকে আস্তে করে উঠে সব কটা জানালা খুলে পর্দার কাপড় গুলো সরিয়ে দিলাম একে একে।
ঘরের বাতি গুলোয় আলো নেই।
বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।
বোধহয় ঝড়ো বাতাসের জন্যেই হবে।
তবে রাস্তার ল্যাম্পপোষ্টের সরকারি আলো কিন্তু জ্বলছে।
আচ্ছাঃ
ওগুলো কিভাবে জ্বলছে?
যেভাবে জ্বলে জলুক তো!
এগুলো ভেবে সময় নষ্ট করবার মতো সময় কি আমার আছে?
আমি লিখতে বসেছিলাম তিথির অতিথি...
সেই সময় খেয়াল করে দেখি,,
তিথি ঘুমাচ্ছে।
ওমনি মাথায় ভুত চাপলো ওকে লুকিয়ে দেখার কি মজা,,,
চুপিচুপি জেগে জেগে ওকে লুকিয়ে দেখতে আমার বেশ লাগে।
জীবনের যতগুলো রাত সে আমায় দিয়েছে প্রতি রাতেই তাকে চুরি করে লুকিয়ে দেখার আনন্দ আমি পেয়েছি।
আমি চুপচাপ বসে আছি ওর পাশেই।
একদম চুপচাপ!
নিস্তব্ধতা আমায় গ্রাস করেছে নিরবতায় তার নিষ্পাপ, মায়াবী! মুখের মায়ায়
আহাঃ!
কথায় কি আর ওই রূপের বর্ণনা দেওয়া যায়?
ওমন কোনো ব্যাখ্যা কি কেউ করতে পেরেছে আজও ?
তা দিয়ে আমার কি?
আমি কেন এ সব ভেবে সময় নষ্ট করছি??
আমি শুধু চুপিচুপি ওকে দেখতাম,,,,
ওর কপাল আর চুলে হাত বুলিয়ে দিতেই ,,,,
নিষ্পলক ওকে দেখে ওর মাঝে হারিয়ে যেতাম !
বারবার, প্রতিবার,,,,
বৃষ্টি শুরু হয়েছে এরমধ্যেই।
মেঘের গর্জন টাও বেশ জোরালো।
বৃষ্টির ছাঁট আসছে বাতাসে।
ঘর টার পরিবেশ মূহুর্তের মধ্যে বদলে গেল।
এখন আর ওর পছন্দের স্ট্রবেরির গন্ধ নেই।
ভাবছিলাম তিথি কে কি ডাকবো?
যদি ও জানে আমি জেগে ছিলাম বৃষ্টির সময়,
আর ওকে ডাকিনি!
তবে আমার নাজেহাল অবস্থা করবে নিশ্চিত।
কিন্তু তবে যে আমরা ওকে লুকিয়ে দেখার ইচ্ছে বিসর্জন দিতে হবে!
কি যে করি ভেবেই পাচ্ছিলাম না!
ইতি মধ্যে খেয়াল হলো তিথির চোখের দিকে। ঘুমের মধ্যে চোখের মনি চলছে এপাশ থেকে ওপাশ।
মুচকি হাসি ফুটে উঠেছে ওর ঠোঁটে।
বুঝলাম স্বপ্ন দেখছে তিথি,,,,
কি! জানি কি স্বপ্নে বিভোর তিনি?
যে স্বপ্নেই থাকুন আপনি আপনার এই হাসি আমায় মুগ্ধতা দিয়েছে।
আমি তোমার এতটা মায়াভরা হাসির কোথাও? আদৌ আমি আছি?
নাকি অন্যকেউ?
নাঃ এসব ভাবতে নেই।
সে তার সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছে আমায়।
প্রশ্ন আসে,,,
ওই! যদি ছুঁয়ে দিই তোর ঠোঁট?
চোখ ভাঙা ঘুমে ভালোবাসবি?
প্রচন্ড?
তিথি ,,,, ওই!!!
ওঠ! দেখ,
বৃষ্টি হচ্ছে!
ভিজবি?