মায়ের গল্প মায়ের কাছে

ঐ তোর মনে আছে?
আজ আমরা আমাদের কথায় কথায় আমি একবার বলতে শুরু করেছিলাম আমার মা এর কথা.... 

তারপর তোর একটা ফোন আসলো আমায় বললি অপেক্ষা করো,, আর আমি অনেক্ষণ অপেক্ষায় ছিলাম। 

তখনই ভেবে ছিলাম এই কথা গুলো আমি আজ তোকে বলবো।

আবার এই কথাও ভেবেছিলাম আর কতোক্ষন অপেক্ষায় থাকতে হবে। 

শেষে ভেবেছিলাম আজ,,
 একটা মায়ের কথা আর একটা মা কে বলবো।

অপেক্ষা তো করতেই হবে।

আমি ছিলাম অপেক্ষায় তারপর এক সময় দেখলাম ফোন টাই কেটে দিলি।

হ্যাঁ সত্যি তখন খুব রাগ হয়েছিল। 

আমি তারপরও অপেক্ষায় ছিলাম এই ভেবে হয়তো কোনো ব্যস্ততায় আটকে পরেছে। 

আমি অপেক্ষায় ছিলাম 
আজ,,
 এক মায়ের গল্প মায়ের কাছেই বলবো। 


সেই ছোটবেলার সাধারণ জ্ঞানে যতটুকু শুনেছি, ওদের ৮ ভাইবোনের মধ্যে ও সবার থেকে বড়।
বাংলাদেশের পাবনায় জন্ম। প্রাণ বাচাতে  লোটা কম্বল নিয়ে এদেশে এসেছেন ওনার বাবা মা আরো অন্যান্য আত্মীয় স্বজন। 

এদেশে এসেই সেই ৭ বচ্ছর বয়সেই উদবাস্তু হয়ে ঘুরতে লাগলো। 
 ওনার বাবা ঐ বাচ্চার মাথায় ছাদের চিন্তায় মেয়ে কে এক বনেদি  লোকের বাড়িতে উনুনের কয়লা ভাঙার ও ছাই বাছাইয়ের কাজে দিয়ে দিলেন।
  দু বেলা দু মুঠো ভাত আর ওই ঘরের এক কোনে একটা বিছানা। 

শুরু নিয়তি-র জীবনের পাঠশালা। 

চলতে থাকলো এই ভাবেই ২ বচ্ছর।  কেউ খোজ নেয়নি।  মাঝে একবার খুব হাম হয়েছিলো। তখন ওই বাড়ির মানুষ গুলো রেখে এসেছিলো পাড়ার মন্দিরের দাওয়ায়। ওখানে সবাই বলতো কে এটা কোথায় বাড়ি? কিছুই বলতে পারেনি।  তারপর আবার ওই বাড়ির হেসেলের কর্মি। 

একদিন বাবা এলেন তাকে নিতে বললেন চল আমাদের বাড়ি হয়েছে। বাড়ি চল। বাড়ি যাবো সে কি আনন্দ তার। তারপর বাড়ি ফিরলো।  আর ফিরলো নতুন জীবনে।  বাবার সাথে বাবার কাজে সাহায্য করা। সুতোর কাজ। তখন বয়স প্রায় ১১ হবে। তার মধ্যেই  এতো দ্বায়িত্ব নিয়ে বাবার পাশে।

না লেখা পড়া বিদ্যালয় এর জানলা দরজা শিক্ষক  এসব কিছুই দেখেন নি।  এখনো অনেক শব্দ ঠিক মতো উচ্চারণ করতে পারে না। 
তোর নাম টাও হয়তো একবারে উচ্চারণ করতে পারবে না 
চিনেছে শুধু পরিশ্রম।  চিনেছে  মানবতা।

এইভাবেই  আরো ৩ বচ্ছর পর প্রকৃতির ডাকে হয়ে উঠেছে অপরুপ এক বিষ্ময়।


পাত্র পক্ষের বিভিন্ন ডাক চারিদিক থেকে।
  ওই যে লেখা পড়া জানেনা  অনেকেই ফিরে গেছেন। 
শেষ বার যিনি ফেঁসে ছেন তিনি গত ২ বছরে ৬ বার দেখতে গিয়েছিলেন। । 

এ সব শুনেছি।  দেখিনি। 

আমি তখন ............................. 😁


১৩৯০ সালের ফাল্গুনী পুর্নিমায় লক্ষী বিদায় দেয় এক বাবা।
 লক্ষীর স্থান হয় আর এক জাত ভিখেরির ভাড়া বাড়ির বারান্দায়। 

পরের দিন সকালেই নিয়তির  সে এক করুণ খেলা শুরু।  
হায়!  
ভগবান এ কোথায় আমি?

বাবা!  আমায় কোথায় দিলে? 

মেনে নিয়েই বাসর ছেড়ে সকালের স্নান সেরেছিলো সেদিন।  
এর মধ্যেই বাপের দেওয়া একটাই একটু সোনা সেই টাও হাওয়া। 
ডানা মেলে আকাশে চলে গেছে আর আসেনি ফিরে।
চার দিনের মাথায় নিয়তির নিয়ম হলো কাজ করে খেতে হবে।  
লেগে পরো কাজে। 
 বিয়ের গিট পিঠে নিয়েই বসে পরলেন কাজে। অভিযোগ ছিলো না। 
সাত দিনের মাথায় নিয়তির সংসার আলাদা করে দিলেন।  

শুধু দুটি মানুষ বাড়ি থেকে বেড় করে দিয়ে।
  মাত্র ৬০ পয়সা আঁচলে বাঁধা ছিলো সেদিন। 

ওরা স্বামী-স্ত্রী যখন কথা বলে! 
 মাঝেমধ্যেই বলে ওঠে এটা আমাদের 60 পয়সা সংসার। 

ধার করা উনুন মাটির হাড়ি কলার পাতায় প্রথম দিন। পরের দিন সকালে নিয়তির বাবা  সংসারের প্রয়োজনীয় সব কিছু কিনে কিছু ওনার বাড়ি থেকে দিয়ে গেলেন।  

এভাবেই শুরু সংসার,, নিয়তি মা হতে চলেছে,, 
নিয়তি নিয়ম করে সংসারের দ্বায়িত্ব কাঁধে নিয়ে চলছে। স্বামী তার জাত কূড়ে,, গল্প সিনেমা আড্ডা ঠাট্টায় ওস্তাদ। 
 নাঃ  মাতাল বা  জুয়োরি না। 
তবে হ্যা দ্বায়িত্ব বোধ নেই।
কথা বলার কোন ধরন নেই।
রাজা-বাদশা ভাব। 
হিন্দি সিনেমার পোকা,,, 
ঘরে খাবার না থাকলেও সিনেমা দেখতেই হবে।
তিনি বাপ হয়েছেন। 

মাত্র ১৭ বছরেই প্রথম মা হয়েছেন।  
ছিলো না কোন যত্নশীল কোন মানুষ সেই মানুষ টার কাছে। ঠিক মতো রোজ খেতেও পেতো না। কখনো কখনো ইচ্ছে করেই খেতো না। ও তো জানতো না ওই সময় ওর কি দরকার।  
আমার এক স্কুলের বন্ধুর মা গল্প করেছিলো।  আমার মা ওদের বাড়ির ভাতের ফ্যান এনে দিদিকে খায়িয়ে ছিলো।  নিজেও খেয়ে ঘরে ছিলো। আমায় সেই বন্ধুর মা সেদিন বলেছিল বাবা রে জীবনে যাই হোক মা য়ের যত্ন নিবি। 
তোর মা জীবনে খুব কষ্ট করেছে।

 না বাপের বাড়ি যায় নি। বাপ তো বিদায় দিয়ে দিয়েছে।  সেখানে মেয়েদের যেতে নেই ।  

ও ওই সব কিছুই জানতো না।   তাই  অপুষ্টিতে জন্ম হয় একটা  ৭২০ গ্রামের টুনি।(ডাক নাম)
সবাই বলেছিলো বাচবে না। 

নাম করণ হলো সাবিত্রী, শিখা, সারাদিন শুধু কান্না আর কান্না বেড়ালের বাচ্চার মতো। তারপর একদিন দ্বায়িত্ব হীন লোক টা একদিন কোলে নিয়ে খেতে বসেছে খিদের জালায় মুখ খুলছে।  খিদে তো থাকবেই ঘরে খাবার নেই দিনের পরদিন ও খাবাব দেবে কি করে ওই শিশু টাকে? 

চলতে থাকলো এই ভাবেই চলতে চলতে পুষ্টির অভাবে পোলিও আক্রান্ত হলো মেয়ে।  মাত্র ১ বছর ৭ মাসেই।  

দ্বায়িত্ব হীন মানুষ টা বেশ সংসারের মন দিয়েছে কাজ কর্ম ঠিক ঠাক করে। একটা বাড়ি কিনেছে দুই জনেই সংসার চালিয়ে।  এর মধ্যেই  নিয়তি  একবার রথের মেলায় ওই মেয়ে কোলে নিয়ে রথের দড়িতে টানতে রাজ পথে।  
না মেয়ে হাটতে পারে না। বসিয়ে রাখলে বসেই থাকে উঠে দাড়াতে পারে না। 
আর শরির থেকে রোগ ছাড়ে না। 
আজ,, হাগা তো কাল বমি তারপর জ্বর লেগেই আছে।
টুনির জন্য কেনা হলো কাঠের জগন্নাথ।  সেই দোকানি বার্তা দেয় মা আগামী বচ্ছর তোর কোলে জগন্নাথ আসবে। নিয়ে যা। তোর মেয়ে খেলবে। 

এভাবেই চলতে লাগল,, 
মা হতে চলেছে নিয়তি দ্বিতীয় জীবন যুদ্ধে। 
মনে তার স্বপ্ন তার জগন্নাথ আসবেন।  

এলোও তাই,,, ৩ কেজি ৫০০ কালো অন্ধকারে খুজে পাওয়া মস্কিল নাক চোখ মুখ কান বোঝার উপায় নাই। 

মা একদিন আমায় বলেছিলো,,
আমায় আঁতুড়ঘরের  আলো নিভে গেলে হাতিয়ে হাতিয়ে খুজতো। 
 আমি সেদিন বলেছি ইস!!
আমিও যদি দিদির মতো ফর্সা হতাম তোমায় খুজতে হতো না। 
ঠাটিয়ে গালে খেয়ে উত্তর পাই আমি ওই হোদলকূকুত টা কেই বুকে নিয়ে সেদিন বলেছিলাম আমার প্রাণ এইটা। 
নাম করণের দিন ঘটলো দুর্ঘটনা দিদি বসে বসে মাজা ঘসতে ঘসতে আঁতুড়ঘরের আলো ফেলে আগুন লেগে যায়।  মামা আগুন থেকে তুলে এনে নাম দেয় মৃত্যুঞ্জয়,, আর নাম রাখেন সিনেমা পোকার মাথায় যা থাকতে পারে। 

চলছে ভাই বোনের আদর আর নিয়তির নিয়মের সংসার। চলতে চলতে আবার নিয়তি মা হলো।  এবার তার অনেক সাহস।  অনেক শক্তি। 
 ওই বড় মেয়ে টা মাঝে প্রায় মরে যায় যায়। এমন সময় এক হনুমান ডাক্তার দাতব্য চিকিৎসালয়ে দেখে বলেন এই মরা এনেছিস কেন? যা এখান থেকে নিয়ে যা।  গন্ধ নাকে রুমাল দিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছিলো। সেদিন মেয়ে টা সারাদিন ওই খানেই ছিলো।  ডাক্তার বেলাশেষে ডেকে  কি খেয়েছিস? 
উত্তর কিছুই ছিলো না।

এর মধ্যে টুনি কেঁদে উঠেছে ডাক্তার বলে বেচে আছে? কই দেখি!  দেখি!  
সেই যে টুনি ভালো হয়ে গেলো আজ টুনি তিন সন্তানের মা। 

এরপর এলো অন্য এক জীবন দ্বায়িত্ব হীন লোক টা হয়ে উঠলো অত্যাচারী,  আমি তখন খুব ছোট, মনে আছে, ওই বড় পিসি আর বাবা মিলে মাকে খুব মাড়ছিলো। মায়ের গায়ে কেরসিন ঢেলে দিয়েছিলো বাবা। তারপর পাশের বাড়ির দাদু এসে আমাদের বাচায়। আমি দিদি বোন মা সারারাত ওই দাদু বাড়ির উনুনের পাশে ঘসির বস্তার পাশে রাত কাটিয়ে মামা বাড়ি গিয়ে ছিলাম পরের দিন।
আর একবার মনে আছে ঠাকুমা আর পিসি মা কে ঝাটা দিয়ে মেরেছিলো সে বার ওই লক্ষি পিসি মায়ের পিঠের থেকে বুকের থেকে ঝাটার কাঠি তুলে দিয়েছিলো।  এ গুলো আমার পরিস্কার মনে আছে।
দ্বায়িত্ব হীন মানুষ টার সংসারে কোন টান নেই। সন্তান তিন জনের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোন ভাবনাই তার কোন দিন ছিলো না। আজও নেই।
সিনেমা, আড্ডা, আর ছিলো চোখের খিদের যন্ত্রণা। 
না খেয়ে ওনার মিন ভরে না। সব সময় খাইখাই। আজও তাই।  দুর্ভিক্ষ এর চেহারায়। সুদর্শন এক মহা পুরুষ।  
এই ভাবেই চললো দিন গুলি,,তখন আমি দিদি বোন সবাই স্কুলে যাই। 
আমার সে বার পঞ্চম শ্রেণি,,দিদিও তাই হতো মা বললো ও নাম সই দিতে পারে। ওর আর স্কুলে যেতে হবে না।  আমরা গরিব চালাতে পারবো না তুই স্কুলে পড়াশোনা কর।  তাই হতে লাগলো আমি স্কুলের গন্ডি পার করতেই বোনের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেলো।  
পরিস্থিতি কি দাড়ালো!  সেই দ্বায়িত্ব হীন মানুষ টা এই সব কোন খেয়ালই রাখেন নি।  নিজের মতো জীবন যাপন করেছেন।  

সকলের কাছে আমাদের পরিচয় পর্যন্ত দেয়নি। তার ধ্রুব সাক্ষি আমি আর হবি আজ তুই। 
সেদিন বলেছিলো আমি নাকি এক আত্মিয়ের সন্তান। 
কোথায় আমি আর কোথায় এ( মানে আমি)

  আমি রাস্তার সেই কথা ওই নিমন্ত্রণ বাড়িতে সকলের সামনে বলেছিলাম।  বাবা বলেছিলো তুই ফর্সা হলে বলতাম। 
 বুঝিনি সেদিন মায়া ভালোবাসা এ সব কি?
মাত্র তখন ৭ কি ৮ বছর বয়স হবে।


আমি সে বার ক্লাস  নাইন,, টুকটাক কাজে লেগে গেলাম স্কুল টিউশন আমার খরচ নিজেই যোগাড় করতে লাগলাম।  স্কুলের গন্ডি টপকে গেলাম।  

নিয়তির মনে সন্দেহ হতে লাগলো ওই দ্বায়িত্ব হীন মানুষ টার রোজগারের ভান্ডার কোথায় যায়। হ্যাঁ  মিলে গেলো,,, এই ভাবেই ওই মানুষ টা বাইরে বাইরে ফুর্তি করে বাড়িতে ভালো মানুষ আসতে লাগলো।  কিছুই না সেও আরেক  খিদের টান। 
মা বলতে লাগলো  ভু-ভুক্ষু,,  ওর খিদে, অভাব , হাহাকার কোন দিন মিটবে না। 

মায়ের এই কথা কোথাও নেই,, ভু-ভুক্ষু কি!!?  

আমি এর কোন সামাজিক ব্যাবহার পাইনি। 
তবে বুঝেছি ওনার ওই শব্দ কেবল  দ্বায়িত্ব হীন মানুষ টার জন্যই।  সে অনেক  গভীর ব্যাথার আর্তনাদ এর বাহ্যিক প্রকাশ  ভু-ভুক্ষু।


চলতে লাগলো অধিকারের লড়াই, সে আরেক  সাংঘাতিক দিক। বাড়ি ফেরায় ১ ঘন্টা দেরি হলে রাস্তায় তাকিয়ে থাকা। এক দিন বাড়ি না ফিরলে পরের দিন ভোর বেলা ১০  কিলোমিটার পায়ে হেটে খবর আনতে যাওয়া।  রাতে বাড়ি না ফিরলে খাবার পরের দিন  আবার জাল দিয়ে রাখা।  
আমার জীবনে দেখিনি বাবা জামা কাপড় কিনেছে নিজে।  আমাদের কাউ কেই কোনদিন কিছু কিনে দিয়েছে কি না মনে নেই।  হয়তো দিয়েছে। নইলে আজ কি করে এই গল্প লিখছি??
আজও  যদি বাবা একটা জামা পরেন সেটা মায়ের পছন্দের।  আর সত্যিই  মহাশয় দারুণ দেখতে।  শিবের মতো ভোলা।  মহেশ্বর। 

এর মধ্যে আমিও ডানা মেলে উড়তে শিখেছি সারাদিন কাজ আর শম্পা দিদির বাড়ি।  পড়াশোনা ওই খানেই করতাম।  আমার টেবিল বই খাতা সব ওই বাড়িতেই ছিলো।  
এক সময় হঠাৎ বাড়ি থেকে পালিয়ে যাই দিল্লি।  
সেখানে কাজে লাগি রিবোক এর এক সোরুমে। ঠিক ৩ মাস পর  কলকাতার এক জন ওই মালিক কে বলে এই বাঙালি কে আমার কাছে দিয়ে দাও।  আমিও চলে আসি,, শ্রীরামপুর।  
পরিচয় হয় পারুলের সাথে।  ওদের  সন্তান ছিলো না।  আমায় খুব ভালো বাসতে লাগলো।  ঢুকে গেলাম  আবার  পড়াশোনায় ডিশটেন্স কোর্সের মাধ্যমে। প্রিয়  বিষয় ছিলো  রাষ্ট্র বিজ্ঞান। 
তারপর চলে গেলাম ওয়েব ডিজাইনিং ডিপ্লোমা করতে।  সেখানে ও  ২ বছর।  শরির খারাপ করতে শুরু করলো,,ওখানের জল শরিরে সহ্য হলো না। ফিরে এলাম বাড়ি,, 
হ্যাঁ যোগাযোগ ছিলো বাড়িতে,।  আমি ওদের দোকানে কাজের লোক ছিলাম। মাইনে বাড়িতে পাঠিয়ে দিতাম। 

দায়িত্বহীন মানুষটা  জীবনে ধর্মের মধ্যে কর্ম আর আমাবস্যার রাসের মতো আমায় পয়সা জমানোর জন্য একটা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করে দিয়েছিল। 
আমি সেখানে প্রায় কুড়ি হাজার টাকা জমিয়েছিলাম সেই সময়ে। 

দিদির হঠাৎ বিয়ে হয়ে গেলো সেও আরেক ঠকবাজ পরিবারে।  এক টাও মানুষ না ওরা।  
ঠিক মতো  খোজ টা পর্যন্ত নেয় নি দ্বায়িত্ব হীন মানুষ টা।  বিয়ের দিন আমার এক বন্ধুর বাবা আমায় বলে তোমার দিদি!  হায়!  হায়!  কি করলো তোমার বাবা!  
যাইহোক কন্যাদায় থেকে মুক্ত হতে গিয়ে মেয়ে টার জীবন টা নষ্ট করলো। ছেলে টা পাগল। 
বিয়ের ৬ মাসের মাথায় এক অশান্তিতে আমি ওই বাড়িতে নিজেকে সামলাতে পারিনি।  সেদিন গায়ে হাত তুলে দিয়েছিলাম দিদির বড়ের। 
বাবা ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়ে বলেছিলো এই বাড়িতে জীবনেও  পা দিবি না। 
আমি আজও যাই না। 

আমি তখন ১৯ বছরের, সংসারে সব সময় ঝামেলা ঝগড়া লেগেই আছে। ওই ঐ সেই অধিকারের লড়াই।  ক্রমশ বাড়তে লাগলো সেই সংঘাত।  একেক সময় খুব খারাপ লাগতো তখন শম্পা দি ছিলো আমার মনের চিকিৎসক।  
তারপর আমি আসামে চলে যাই,, সেখানে ৭ মাস থাকি বাড়ি ফিরে আসি। 
তারপর আমার নতুন জীবন শুরু হয় গোলদারের গল্পে,, আমি ঝড়ের বেগে ছুটতে লাগলাম।  
স্মৃতি এলো অর্থ এলো আমি তখন ব্যাস্ত মানুষ। চললো ৩' বচ্ছর।  আমি আবার সেই ঘরে ফিরলাম।  মাঝে বোনের বিয়ে দিলাম।  বিয়ের রাতে শুনতে হলো ঐ বাড়িতে আমি পা দিলে বাবার মরা মুখ দেখবো,, আমি আজও বোনের বাড়ি যাই  না। 

এই  ভাবে চলতে চলতে  নিয়তি আমাকেও ভুল ভেবে একদিন শম্পা কে নিয়ে বাজে কথা বলায়। 
আমি রাগ সামলাতে না পেরে মুখে জুতো ছুড়ে মেড়েছিলাম। 
আমি ওনার হাতের খাবার  ওনার সাথে কথা, মা বলে ডাকতাম না অনেক বছর।  
আমি আবার বাড়ি ছেড়ে দিলাম। এবার বাড়ি ছাড়লাম নিজেকে হারাবো বলে।  আমি ঠাই  নিলাম সেই পাঞ্জাবে। সেখানেই তিন বছর। 
তারপর পরে একদিন এক বন্ধুর প্রেরণ করা ছবি দেখে মায়ের মুখ টা আমায় বাড়ির বাইরে রাখতে পারল না। 
এক ছুটে সেই বাড়ি আজও  বাড়িতেই।  
মায়ের মুখে সে কি খুশি,, 
 খুশি  শম্পা দি, আবার যোগাযোগ আবার সেই আগের মতোই ঘোরাফেরা। 
না কেউ খোজ রাখে নি আমার। 

এইভাবে চলতে চলতে আমার শম্পা দির সাথে সম্পর্ক আরো অনেক দৃঢ় হয়।
আবার বাড়িতে খাওয়া বন্ধ করে দেই ওই দ্বায়িত্ব হীন মানুষ টার কথায়।  সে বার বোনকে নিয়ে বাজে কথা।  বোন দ্বিতীয় বারের জন্য  সন্তান সম্ভবা হয়। আমার বন্ধু বলে দাদা এটা রাখবো না তুমি ব্যাবস্থা করো।  সেই ঘটনা বাড়িতে যখন জানতে পারে,,  বাবা বলেছে মা   নাকি ওনাকে বলেছে ওই কু কর্মের দ্বায় আমার  ।  এই নিয়ে আমি জামাই কে ডেকে ওদের ভুল দূর করি।


প্রায় ৮ মাস হোটেল খাওয়া আর বাড়িতে ঘুম ।  চলতে চলতে শম্পার হাতে ধরা খাই। 
আমি তাকে সেদিন বলেছিলাম ঘটনা টা। 
দিদি সেদিন আমায় উল্টো মেরেছিলো।। 
তারপর থেকে ওর বাড়িতেই তিন বেলা খাওয়া আর বাড়িতে ঘুম।  প্রতিদিন কি খাবো পেচির সাথে মেনু করে বাজারে যেতাম  ।  দিদি মাঝে মধ্যে ওই সকল দিনে রন্না করার ক্ষমতায় থাকতো না। আমায় দেখিয়ে দিতো কি দিয়ে কি রান্না করে।  
একদিন ২ হাজার টাকা দিয়ে একটা মানুষের একা সংসারে যা কিছু প্রয়োজন সব কিনে বলে ভাই আজ থেকে বাড়িতে রান্না করে খাবি। সব শিখিয়ে দিয়েছি। 
চলতে লাগলো প্রায় ৪ বছর  তারপর একদিন ওই সেই দাদু টা একটা বীজ মন্ত্র কানে দিলো পরের দিন থেকে খাওয়া দাওয়া মা বলে ডাকা সব যেন মন্ত্রের মতো শুরু হয়ে গেলো। 

তারপর  থেকে তারপর ,, তারপর  আমি আমার মতোই এই আজকেও আছি।  

আমি আজও বুঝিনা এই এদের মাঝে এতো কিসের অধিকারের লড়াই।  
কেন এরা বোঝেই না সংসারের সকলের আলাদা আলাদা ভাবনা আছে। 
হ্যা খুব লজ্জার বিষয় ওরা আজ দুদিন এমন ঝগড়া করছে আমি সারাদিনে কিছুই খাইনি। তিন টে মানুষ আজ তিন টে বিছানায়। 

জানিস এক সময় ভেবেছিলাম এদের সাথে থাকলে আমার আর সংসার হবে না।  
আমি বিয়ে প্রেম ভালোবাসা এই সব নিয়ে ভাবতামই না। 
তোকে কি বলবো  শম্পা দি আমার বিয়ের জন্য অনেক কিছু করেছে।  আমি সেই মুখ ঘুরিয়ে চলে আসতাম।  বলতাম আমি পারবো না স্মৃতি কে ভুলতে। 
আমার বাড়িতে যেই পরিস্থিতি তাতে মানুষ বাস করে না।  
মান সম্মান থাকবে না। 
আমার কাছে আজ যখন লোকজন আসে দ্বায়িত্ব হীন মানুষ টা আজ ভাব দেখায় আমার ছেলে। 
নিয়তি বলে কেন  সেদিন বলেছিলে আত্মিয়ের। 
আজ কি করে তোমার?  
আজ বুঝি গতি নেই? 

আজ আমি কেমন আছি আমার নিজের আপন জনেরাই জানে না।  নাঃ ওদের অতো সব জানাই না।  ওরা এসব বোঝে না। ওদের কাছে মূল্য নেই।  শুধু মুখ বুঝে থাকি সামাজিকতায় সভ্য হয়ে বাচতে হবে তাই। 

এই যে তোকে,,, মা,,, বলি,, বলি মনের  আনন্দে। সবাই যখন ঠকিয়ে মানুষ টাকে রাস্তায় ফেলে দিয়েছে।  আমি খড়কুটোর মতো একটা  নাড়ি শক্তির প্রার্থনা করেছি। পরিচিত সকলেই ছিলো অনেক বাধার কারণ।  তাই বেছে নিয়েছি তোকে। 

আমি খুব খুশি আজ,,, 
আমার আকাশে এক ফোটাও মেঘ নেই। 
সব টা আমি ছুড়ে ফেলতে পেরেছি তোর জন্য। আমি পরিচিত এতো নাড়ির মধ্যে তোর থেকে যে শান্তি পাই!
 তাতে ওই ডাক টাই আসে রে,,,,, মা,,,  

হ্যা  সব সময় ওই দূরেই থাকিস,,
 খুব বেশি সংস্পর্শে এলে গরিমা হারাতে পারে। 

আমি সূর্যের আলোয় তোর আশীর্বাদ স্নেহ মমতা ভালোবাসা খুজে নেবো । 

ও দয়াল তোমার লীলা বোঝা দ্বায়

ও দয়াল তোমার লীলা বোঝা দায় দীনের বন্ধু করুণা সিন্ধু, রাধার শ্যামরায়।। তুমি গোঠের রাখাল রাজা, যশোদার কানাই, বিষ্ণুপ্রিয়ার প্রাণসখা, নদীয়ার নি...