এহন আর তোমার জইন্য বাঁচি না প্রিয়,,

হৃদয় খান জুইড়া  শুধু তোমারে  রাখার পরেও পাইলাম না!  
নাঃ পাইলাম না।
পাইলাম শুধু তোমার এক অনিশ্রিত ঘৃণ্ণা , অবহেলা, অপমান। 
এই বুঝি কপালে ছিলো! 

তারপরেও বার বার ফিরা  আইছিলাম এই আমি তোমারই ধারেই।।
কি বোকা ছিলাম।  আশায় ছিলাম যদি বিন্দু বিন্দু ভালোবাসা পাই। আমি তাই দিয়াই বানাইয়া লমু তোমার আমার সিন্ধু... 

 আগের এই মুই  কি অদ্ভুত ছিলাম! 
তাইনা? 
তবে চালাকির কাছে খোয়াইয়া ফেলছো হেই অদ্ভুত বোকা মানুষ টারে। 
তুমি হারাইয়া  ফেলছো হে ই আগের আমিটারে।

 আগের  আমি তোমার অবহেলা, অপমান দিব্যি সহ্য কইরা  যাইতাম। 
তাও হেই  বার বার তোমার দ্বারেই ফিরে যাইতাম।
 আর তুমি বার বার তাড়াইয়া  দিতে আমায় তোমার দুয়ার থেকে। 

তোমার করা অপমানে মাথা নিচু কইরা  আমার চোখের জল গুলো খুব বেশি উপভোগ করতে তুমি। 
যত বার তোমার কাছে ছুটে গেছি ততবারই উপহার হিসেবে পাইছি চোক্কের জল।  
মাঝে মাঝে অস্পষ্ট সুরে বলছি ''আহা, আমায় একটু ভালোবাসলে কি এমন হইতো '' !! 
সত্যিই তো!  কইতে পারো কি এমন হইতো যদি সত্যিই একটু ভালোবাসা দিতা? 

আর এখন কার আমি, 

তোমায় ছাড়াই চলতে শিখে গেছি। 
এখন আর বার বার তোমার কাছে ছুটে যাইনা।
তোমার কাছাকাছি গেলেও তোমায় দেখার জন্য মন চায় না এখন আর।
 বার বার ভালোবাসার দাবি নিয়া  তোমার দুয়ারে পা রাখি না। 
এখন আর মুখ বুঝে তোমার করা অপমান, অবহেলা সহ্য করার প্রশ্নই আসে না।  

এহন আর তোমার জইন্য বাঁচি না প্রিয়,,

এহন শুধু নিজের জইন্যই বাঁচি।। 

হ্যাঁ,আমি বাঁচতে শিখে গেছি। 
তোমার অবহেলা অপমান আমায় বাঁচতে শিখায়ে দিছে। 
তবে এতো কিছুর পরেও তোমায় না পাওয়ার শূন্যতা বুকের বাঁ দিক্র  তিব্র ভাবে জানান দেয় !! 

তোমার দুয়ারে না গেলেও প্রতিনিয়ত অপেক্ষা করি কবে আমার দুয়ারে কড়া নাড়াবে তুমি ।। 

ভাবি এই বুঝি আসলে তবে,কিন্তু সবই যে কল্পনা !! 

তবুও তোমায় নিয়ে ভাবতে আমার ভালো লাগে, 

আইজ অব্দি আমার চোখের ভাষা বুঝলে না তুমি।
 হয়তো বুঝবাও না। 
আচ্ছা,একটু ভালোবাসলে কি খুব বেশি ক্ষতি হইয়া যাইত..? 
ভালোবাসা তো অপরাধ না, ভালোবাসা তো ফুল 
ভালোবাসা তো ঠিক ফুলের নাহান  পবিত্র ।। 
ভালোবাসা তো সুন্দর, অনেক সুন্দর ~~
তুমি কি তা বুঝো না প্রিয় !!

চুপ থাকতে শিখতে হবে...

কেউ যন্ত্রণা দিচ্ছে ? 
                     চু হয়ে যান। 

কেউ অনেক ভালবাসার পরও প্রাপ্যটা দেয়নি ? 
                         চুপ হয়ে যান। 

কোন মানুষ অনেক অপ'মান করছে?
                        চুপ হয়ে যান। 

কেউ ঠকিয়ে গেছে ? 
                        চুপ হয়ে যান। 

কেউ আপনাকে নিয়ে তুমুল মি'থ্যা দোষা'রোপ করছে ? 
                     চুপ হয়ে যান। 

কেউ বিশ্বাস ঘা'ত'ক'তা করছে ?
                  চুপ হয়ে যান।

এমন নিরব হয়ে যান সে মানুষগুলো যেনো আর কখনই আপনার শব্দ কিংবা ছায়া না দেখে । মৃ'ত হয়ে যান তাদের কাছে। 
প্রতিজ্ঞা করুন আর কখনই ঘুরে তাকাবেন না । শুধু এই প্রতিজ্ঞাটা করতে পারলে আপনি কষ্ট পাবেন না । এই যে নিরবতা আপনাকে দম বন্ধ করা আ'র্ত'নাদ দিবে কিন্তু অপর পক্ষকে দিবে আফসোস । আসলে আমরা হারাবার ভয়ে শব্দ দিয়ে প্রতিবাদ করি ।
কিন্তু আপনি জানেন কি ? যে মানুষগুলো আপনাকে মানুষ বলে মূল্যায়ন করেনি , আপনাকে দম'বন্ধ কান্নার অনুভূতি দিয়েছে তারা আপনার কেউ না । তাই শব্দ দিয়ে , কান্না দিয়ে দুনিয়ার সমস্ত প্রায়োরিটি দিলেও ওরা আপনার মূল্য বুঝবে না । 

তাই নিজের স্বার্থে বাঁচুন 
নিজেকে ভালোবাসুন,,
আপনার ভগবান  আছেন.!
শেষ বিচারের হাইকোর্টে  গিয়ে বলে দিন সব অভিযোগ ,,
তিনি দুঃখ মোছার উপশম বিলি করেন..!!

রাধে রাধে 🙏🙏🙏

অন্ধকার রাইত

হেইকালে তোমারে যদি এক্কারে নিজের কইরা পাইতাম!  
হয়তো  মোর  চাওয়া পাওয়ার হিসেবের খাতা খান  ধুলা জমা হইতো। 
 কারণ তোমারে  পাইলে আমার আর কিছু চাওয়ার থাকতো না -- 
অথচ, এই তোমারে  কিছুতেই পাওয়া হইলো না, 
তুমিও  আমার হইলা না !! 

আমিও অনেক বার চেষ্টা কইরাও ফলাফল কিছুই পাইনাই। 

এই যে এই   অন্ধকার রাইত,,  আর নির্ঘুম আমি। 

আসলে তুমি যখন আমারে ছাইড়া যাওয়ার কথা ভাবতেছিলা।
তার অনেক আগেই তুমি আমারে ছাইড়া চইলা গেছিলা।
আমি নিজেরে মিথ্যা বুঝাইয়া তোমারে আমার কাছে রাখছিলাম বোকার মতো। 
আমি জানতাম তুমি থাকবার নয়।
এতো যত্নে যে ভালোবাসা গড়েছিলাম তার শেষ হবে, তাই'ই হলো।

আমি শুকনো পাতার মতো পড়ে রইলাম।
তুমি হাসলে,,, রঙ্গমঞ্চে,,,  বিচ্ছেদ উপন্যাসের একটা বিষাদময় সমাপ্তি করলে।
আমি হারলাম,কাঁদলাম, বেঁচে ফিরলাম, তবু তোমায় ভালোবেসে গেলাম...
এখনো কেন জানিনা মন কাঁদে তোমার জন্য। 

অভাব কাকে বলে!

শোনেন অভাব কাকে বলে ? 

অর্থনীতি ক্লাসে বয়স্ক একজন স্যার, রুমে ঢুকেই সামনে বসা ছেলেটিকে প্রশ্ন করলেন, 
বলো তো, অভাব কাকে বলে ?

-'অর্থনীতিতে বস্তুগত বা অবস্তুগত কোনো দ্রব্য পাওয়ার আকাঙ্খাকে 'অভাব' বলে।' 
ছেলেটি উত্তর দিল।

-এটা তো অর্থনীতির ভাষা, 
সাধারণ ভাবে অভাব কাকে বলে ? অর্থাৎ 'অভাব' বলতে তুমি ঠিক কি বোঝ ?

ছেলেটি মাথা নিচু করে বেঞ্চের দিকে তাকিয়ে আছে। 
কি বলবে ভাবছে সে।
স্যার আবার তাড়া দিলেন 
'বল' ...

ছেলেটি এবার বলতে শুরু করল।

১। আমি কলেজে আসার সময় মা আমাকে ভাড়া দিতে গিয়ে তার ব্যাগ তন্ন তন্ন করে খুঁজে অনেক কষ্টে ২০/৩০ টাকা বের করে দেন, 
আর আমি বাড়ি থেকে বের হয়ে ৫/৭ মিনিট পর বাড়িতে ফিরে ভাড়ার টাকাটা মাকে দিয়ে বলি, মা! আজ কলেজে ক্লাস হবে না। 
মা তখন বলেন, আগে খবর নিবি না ক্লাস হবে কিনা ? 
মায়ের সাথে এই লুকোচুরি হচ্ছে 'অভাব'।

২। বাবা যখন রাত করে বাড়ি আসেন মা তখন বাবাকে জিজ্ঞেস করেন এত রাত হলো কেন ফিরতে ? 
বাবা বলেন, 'ওভারটাইম' ছিল। 
'ওভারটাইম' না করলে সংসার কিভাবে চলবে ? বাবার এই অতিরিক্ত পরিশ্রম হচ্ছে আমার কাছে 'অভাব'।

৩। ছোট বোন মাস শেষে প্রাইভেট টিচারের টাকা বাবার কাছে চাইতে যখন সংকোচবোধ করে সেটাই 'অভাব'।

৪। মাকে যখন দেখি ছেঁড়া কাপড়ে সেলাই দিতে দিতে বলে কাপড়টা অনেক ভাল আরো কিছুদিন পরা যাবে এটাই 'অভাব'।

৫। বন্ধুদের দামী স্মার্টফোনের ভিড়ে নিজের নর্মাল ফোন লজ্জায় যখন লুকিয়ে রাখি এই লজ্জাই আমার কাছে 'অভাব'।

৬। অভাবী হওয়ায় কাছের মানুষগুলো যখন আস্তে আস্তে দূরে সরে যায়,এই দূরে সরে পড়াটাই আমার কাছে 'অভাব'। ....

পুরো ক্লাসের সবাই দাঁড়িয়ে গেল! 
অনেকের চোখে জল! 

স্যার ও চোখের জল মুছতে মুছতে ছেলেটিকে কাছে টেনে নিলেন।

বস্তুতঃ আমাদের সহপাঠীদের মধ্যে এমন অনেকেই আছে, 
যারা কয়েক মাস অপেক্ষা করেও বাড়ি থেকে সামান্য টাকা পায় না। 
সব দুঃখ-কষ্টকে আড়াল করে হাসিমুখে দিনের পর দিন পার করে দেয় খেয়ে না খেয়ে!
তাদের হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকা কষ্ট টুকু বুঝার সুযোগ হয়তো আমাদের হয়ে ওঠে না!

এটাই বাস্তব! 

নীলি! !

কি অতো ভাবতাসো সেই থিকা কইবা! 
নীলি? 
কও কইয়া ফালাও।  
কথা লুকাইয়া রাখতে নাই।
 কথা হারাইয়া যায়।  
কথা লুকাইলে কথার বিষে দিলের ভেতর পীড়া হয়। 
যাইহোউক এখন কও দেখি কি অমন ভাবতেছে হেই থিকা? 
তুমি কি ভোরের সেই স্বপ্ন নিয়া কিছু কইতে চাও? 
দেখো বাপু আমি অতো চুপ চাপ থাকতে পারি না।
ও নীলি কও,,  কও আমি কথা দিতাছি আইজ তোমার কথা মন দিয়া সুনমু, 
কও নীলি!  
জানো নীলি,, 
আমারও মাঝে মাঝে খুব ইচ্ছে হয়  তোমার মাঝে নিজের এক আকাশ বিশলতা ছড়াইয়া দেই,
যাতে তুমি দূরত্ব কি তা বুঝো। 
তুমিও একটু বুজতে  বিচ্ছেদ কেমন অভিশাপ। 

 সেই সব দিনে যখন তোমার মেসেজ এর পর মেসেজ দিয়েও যখন কোনো রিপ্লাই পাওনি তখন ভেবেই নিয়েছিলে অন্য কারো উপন্যাসের পাতায় নিজেরে সাজাচ্ছি,,,  কি তাই না!
আমায় প্রশ্নের বদলে সন্দেহের কাতারে রাখছিলা আমারে । 
তোমার অভিমান এবং সন্দেহের প্রান্তর এতো বেশি ছিলো, যে সেদিন ওই রাস্তা পার করতে অক্ষম হয়েছো !! 
তোমার আর কি। 
আমি মুক্তি পাই নাই। 

সামনে থিকা তোমারে যখন যখন  দেখতাম! 
 এখন তুমি সামনে নাই তাও কেন জানি না আরো বেশি দেখি তোমারে।
, তখনতো  তুমি ভেবে নিয়েছিলে অন্য কারো আকাশে উড়ছি আমি। 
বিশ্বাসের  বদলে দিয়েগেলে তোমার এক অভিমানী দীর্ঘশ্বাস। 

চার রাস্তার মোড়ে আমায় অপমান করে   পিছু ফিরে চলে গিয়েছিলে।  
পেছন ফিরে একবার দেখোনি এক কপাটে অশ্রুসিক্ত নয়ন তোমার চলে যাওয়ার পানে চেয়ে আছে।। 

আমার দরজায় কড়া নাড়ার পরেও কি  আমার কোনো অস্তিত্ব পাওনাই ?
তখন তুমি ভাবলা  কি কইরা  তোমারে  চাইনাই আমি। 
অথচ দরজার ওপাশে কি চলতাছে তা জানার চেষ্টাও করোনাই তুমি। 
হ্যাঁ  আমি স্বীকার করি আমি চেষ্টা করছিলাম  নতুন কইরা একটা মানুষ পাইতে।  
আমি তারে তোমার কথা প্রথমেই কইছি।
আমিতো তোমারে ভুলি নাই। 

অন্য কারো হাতে যখন হাত রাখছিলাম সেই হাতের মাঝেও তোমার স্পর্শ  সন্ধানে ছিলাম।
তুমি বুঝওনি বা আমি বুঝতেও দেইনি। 

তুমি একদিনের জন্য আমি হইতে চাইতাছো?
 আচ্ছা আমার ভিতরে গিয়া  নিজেরে  সামলাইতে পারবা তো..? 
কারণ আমার পুরো ''আমি'' এর  মাঝে তোমার অস্তিত্ব যা তুমি কখনো খুঁজতে চাওনাই। 

তাই তোমার  করা প্রশ্নের উত্তর গুলা  আমি নিদ্রাহীন রাতের আকাশে উড়াইয়া  দিছিলাম। 
যদি কখনো উড়তে উড়তে তোমার জানালায় গিয়ে পরে তবে নিজেকে আফসোসের কাড়ায় দাঁড় করিও না। 
আমার আমি না হয় আমার মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকি,তুমি ভালো থেকো। 

দেখছো,, আমি বক্তৃতা দিতে শুরু করলে সেই বক্তৃতা আর থামতেই চায় না। 

আর তুমিও দেখো সেই থিকা  চুপচাপ কইরা শুনতে কথাগুলো। 

আমি সকালে ঘুম থিকা উইঠাই কথা গুলা মাইয়াডারে জানাইয়া দিছি। 
কিন্তু সব কিচ্ছু কইনাই।  
শুধু কইছি একটা বাচ্চার কথা। 

জানো মৌরি ঘুম থিকা ঊইঠাই ফোন করছে। 
কয় আর কি দেখছি সব কইতে। 
আমি সবটা কই নাই। 

আচ্ছা নীলি!  তুমিও কি তাই চাও? না আমিও খুশি হমু খুব খুশি হমু,,,  তবে কি জানো ও কিন্তু  একটা ছেলে চায়। ও সব সময় কয় আমার একটা ছেলে হইলে আমি ওরে তোমার নামে ডাকবো।

আচ্ছা তুমি কি সত্যিই চাও! ওর কাছে যেতে? 
মেয়ে টা আজকের দিনে দাড়াইয়া একদিকে সংসার আরেক দিকে আমি।
  না এই দিক টা কিছুই না এর মধ্যে শুধুই এক গভীর বিশ্বাস। 

ও নীলি !!!!      নীলি  !!!    !        !        !  

আচ্ছা আমি কি কমু,, সব টা।  


সাধু সঙ্গ সাধু সঙ্গ সর্বশাস্ত্রে কয়

এক ভোমরা ঘুরতে ঘুরতে দেখতে পেল তার নিজের মত অন্য একটি পোকা মাটিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। 
ভোমরা এসে বলল- ভাই তোমার এত দুর্দশা কেন? 
গোবরের পোকা বলল- কেন ভাই, আমার তো কোনো দুঃখ নাই। আমার বাসা এখানেই আছে। 
তুমি দয়া করে আমার বাড়ী এসো।
ভোমরা আস্তে আস্তে গোবরের পোকার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করল। তুমি কোথায় থাক ভাই! 
গোবরের পোকা বলল- আমি এই গোবরের গর্তের মধ্যে থাকি এবং গোবরের রস খাই। 
ভোমরা হো হো করে হেসে উঠল। বলল-ভাই তুমি আমার স্বজাতি হয়ে এত বোকা? 
তোমার দুঃখ তুমি কিছুই বুঝতে পারছ না? 
আমি কি করি জান? আমি সব ফুলের মধু খাই এবং গুন গুন করে গান গাই। 
সকলে আমার কত প্রশংসা করে।
আমি এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পরিব্রাজকের মতো ঘুরে বেড়াই। 
তোমার দুঃখ-কষ্ট তুমি কিছুই বুঝতে পারছ না। 
তুমি আমার সঙ্গে চল, তোমায় ফুলের মধু খাওয়াব। 
আমি তোমার দুঃখ সহ্য করতে পারছি না।” 

গোবরের পোকা বলল- ভাই, আমি তোমার মতো উড়তে পারব না। কেমন করে যাব? 
ভোমরা বলল- তুমি আমার পিঠে ওঠ। আমি তোমায় বয়ে নিয়ে যাব। গোবরের পোকাকে এক কুমুদ পুষ্পে বসিয়ে দিয়ে বলল-“ভাই, যেমন করে তুমি গোবরের রস পান কর, ঠিক সেইভাবেই এই ফুলের মধু পান কর। আমি কয়েকটি ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে আসি।” 
এদিকে প্রভাত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কুমুদ পুষ্প সঙ্কুচিত হয়ে যাওয়ার ফলে গোবরের পোকা তার মধ্যে আবদ্ধ হয়ে পড়ে রইল। ভোমরা বন্ধুকে খুঁজে পেল না।
এদিকে গ্রামের এক বালক শিব পূজার জন্য ফুল তুলতে এসে গোবরের পোকা সহ ফুলটা তুলে নিল। 
পূজারী অগুরু চন্দন ও কর্পূর মিশ্রিত গন্ধের সহিত পুষ্প মিশ্রিত করে শিবমন্ত্রে অর্পণ করলেন। 
ক্রমানুসারে যে ফুলের মধ্যে গোবরের পোকাটি আছে, সেটিও “ইদম্ সগন্ধং পুষ্পং ওঁ নমো শিবায় নমঃ। শিবমন্ত্রে অর্পণ করলেন। 
পরদিন প্রাতঃকালে সেই সমস্ত ফুল গঙ্গায় ভাসিয়ে দিয়ে নতুন ফুল তুলতে গেল বালকটি। গঙ্গার স্রোতে ফুলগুলি ভাসতে ভাসতে চলল। গঙ্গার জলের স্পর্শ পেয়ে মহানন্দে পোকা বলতে লাগল-“আহা! আহা! আমার জন্ম এক গোবরের স্তুপের মধ্যে। আমি পূর্বার্জিত কোন সৌভাগ্যের ফলে এমন একজন সাধুর সঙ্গ লাভ করলাম, যার ফলে আমার পূর্বপুরুষ কেউ যা পাননি, সেই বৈষ্ণবপ্রবর মহাদেবের চরণে অর্পিত হলাম। 
তারপর ব্রহ্মারও দুর্লভ বস্তু যে ভগবৎ পাদপদ্ম থেকে প্রবাহিত গঙ্গা তা প্রাপ্ত হওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে, শুধু সেই সৎ বন্ধুর কৃপা বলে। 
জন্ম যখন হয়েছে তখন মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী। 
আমার এই মৃত্যু, উর্ধ্বগামী মৃত্যু। 
কেননা সাধুসঙ্গের প্রভাবে ভগবৎ পাদপদ্মে যাওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছি। 
তাই শাস্ত্র বলেন-
                   “সাধু সঙ্গ সাধু সঙ্গ সর্বশাস্ত্রে কয়
                    লব মাত্র সাধুসঙ্গে সর্বসিদ্ধি হয়।”
অর্থাৎ -
আমারা এই দুর্লভ নর দেহ লাভ করে যদি সাধুসঙ্গ না করি তাহলে আমাদের জীবন বৃথা। 
শাস্ত্র বলেন-
                        “সাধুসঙ্গে কৃষ্ণনাম এইমাত্র চাই।
                      সংসার জিনিতে আর কোন বস্তু নাই।
                        সাধুসঙ্গে কৃষ্ণভক্তে শ্রদ্ধা যদি হয়।
                    ভক্তির ফল প্রেম হয় সংসার যায় ক্ষয়।”

                             ভারতের সাধক ও সাধিকা
🌺🙏🌺🙏🌺🙏🌺🙏🌺🙏🌺🙏🌺🙏🌺

প্রাপ্তির শেষ কোথায়?

প্রাপ্তির শেষ কোথায়?

⛔বিবাহিত? 
সংসারে অশান্তি। মনে করেন বিচ্ছেদ দিয়ে সব মিটমাট করে ফেলতে। ইচ্ছে  ইচ্ছেতেই ইচ্ছের মতো থাকে। 

⛔অবিবাহিত? 
সারাক্ষণ বিয়ের ভাবনায় দিন কাটে। সঙ্গীকে পাওয়ার স্বপ্নে বিভোর! 

⛔ধনী?
একটু শান্তি আর সুখের খোঁজ কোথা থেকে পাওয়া যায়, তা ভাবতে ভাবতে বিষন্নতায় ডুবে থাকা!

⛔গরীব?
আরও বেশি অর্থ উপার্জনের পথ খুঁজে ফেরা!

⛔শিশু?
কবে যে বড় হবো? সবাই ছোট-ছোট বলে!

⛔প্রাপ্তবয়স্ক? 
ইশ্! সেই শৈশবটাকে যদি আবার ফিরে পেতাম!

⛔সন্তানপ্রাপ্ত?
এইগুলোর যন্ত্রণায় জীবনটা শেষ হয়ে গেল। একটাও মানুষ হলো না। যাদের সন্তান নেই তারাই ভালো আছে!

⛔নিঃসন্তান?
ভগবান , পৃথিবীর যেকোন কিছুর বিনিময়ে আমাকে সন্তান দাও!

⛔চাকুরীজীবি?
দিনভর এত খাটুনি আর ভালো লাগে না!

⛔বেকার?
কবে যে একটা চাকুরী হবে!

⛔সেলিব্রেটি? 
মুখ লুকাতে ব্যস্ত!

⛔সাধারণ ব্যাক্তি? 
সেলিব্রেটি হওয়ার স্বপ্নে বিভোর!

✔️এই জগতে একমাত্র মৃত্যু ছাড়া মানুষের এই অসীম ইচ্ছা, চাহিদা আর অপূর্ণতাকে দমানোর কোনো শক্তি নেই।

কাজেই আসুন, যে যেই অবস্থানে আছি ভগবান কে স্মরণ করে প্রার্থনা করি  সেখান থেকেই নিজের মনের সর্বোচ্চ প্রশান্তিটা খুঁজে নেয়ার চেষ্টা করি।
🤍🤍রাধে 💙💙রাধে❤️❤️

নতুন পরিচয়

প্রিয়,, 
তোমার জন্য কত কি'ই না করলাম!

 সারা রাইত না ঘুমাইয়া সকালবেলা তোমারে খোজতে গেলাম।

তুমি লুকাইয়া রইলা! 
 আমি তোমার পাশে  আশ্রয় খুজতেছিলাম।

 আর তুমি আমারে দেউলিয়া বানাইয়া দেলা!

 আশ্রয়শূন্য মানুষ'রে বোঝা যতোটা সহজ,

আশ্রয় দিয়ে বাঁচানো হয়তো তার থেইকা একটু কঠিন।

 তোমার আশ্রয় চাই না আর।
বাঁচতে চাই নতুন পরিচয়..

                                            মূ র্খ রাখাল নীল

রাখিবন্ধনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মহাভারতের কৃষ্ণ ও যমুনার কাহিনি

বাঙালির রাখিবন্ধন দিবস পালন করা উচিত ১৬ই অক্টোবরে। ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে লর্ড কার্জন বাংলাকে ভাগ করেন। তাই প্রতিবাদ স্বরূপ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সেইদিনেই বাংলা ব্যাপী সমস্ত বাঙালিকে এক সুতোয় বাঁধার জন্য রাখিবন্ধনের ডাক দেন।
রবীন্দ্রনাথের এই রাখিবন্ধন কোনভাবেই ‘বোন ভাইকে রাখি বাঁধবে আর ভাই তার সুরক্ষার ভার নেবে’ জাতীয় পুরুষতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে ছিল না। বরং তা ছিল সর্বব্যাপী। যে কেউ, যে কাউকে রাখি বাঁধতে পারে। মূলত বিশ্বমানবতাই ছিল রবীন্দ্রনাথের এই রাখিবন্ধনের ভিত্তি।
ঠিক এজন্যই রবীন্দ্রনাথ তাঁর প্রেম পর্যায়ের গান ‘ ভালবেসে সখী নিভৃত যতনে’তে লিখছেন –
“ধরিয়া রাখিয়ো সোহাগে আদরে আমার মুখর পাখি-- তোমার প্রাসাদপ্রাঙ্গণে॥
মনে ক’রে সখী, বাঁধিয়া রাখিয়ো আমার হাতের রাখী-- তোমার কনককঙ্কণে॥
ভারতের সংস্কৃতি হল বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য। এই দেশে বিভিন্ন উৎসব সাড়ম্বরে পালিত হয়। এক একটি মরসুমে এক-একটি উৎসব ঘিরে তৈরি হয় অনিবার্য মাদকতা। যা আরও রঙিন করে তোলে সংস্কৃতিকে। ভারতের সংস্কৃতির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত রয়েছে নানা মহাকাব্যে বর্ণিত অগণিত ঘটনা। রাখি উৎসবও তার ব্যতিক্রম নয়।
কৃষ্ণ ও দ্রৌপদী

মহাভারতের কাহিনি থেকে জানা যায়, একটি যুদ্ধের সময় শ্রীকৃষ্ণের হাতের কবজিতে আঘাত লাগে। সেই ক্ষত থেকে রক্তপাত হতে শুরু হয়। তা দেখতে পেয়ে দ্রৌপদী নিজের শাড়ির আঁচল ছিঁড়ে কৃষ্ণের হাতে বেঁধে দেন। তার পর থেকেই শ্রীকৃষ্ণ দ্রৌপদীকে নিজের বোন সখী হিসাবে মানতে শুরু করেন। এই উপকারের প্রতিদান দেওয়ারও অঙ্গীকার করেন কৃষ্ণ। এর পর পাশা খেলায় পাণ্ডবরা সর্বস্ব খুইয়ে যখন দ্রৌপদীকে কৌরবদের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হয়, দ্রৌপদীর চরম বিপদ এসে পড়ে। দুঃশাসন তাঁর বস্ত্রহরণ করতে গেলে দ্রৌপদী শ্রীকৃষ্ণকে প্রাণ ভরে স্মরণ করেন। দ্রৌপদীর সম্মানরক্ষা করে সেই শ্রীকৃষ্ণ সেই প্রতিদান দেন। সেই সময় থেকে এই ভাবেই রাখিবন্ধন উৎসবের প্রচলন হয়।

যমুনা ও যম

পুরাণ কথা অনুযায়ী, এক বার যমুনা নদী যমরাজকে রাখি পরিয়েছিলেন। তাতে খুশি হয়েছিলেন যমরাজ। তিনি যমুনা নদীকে অমরত্বের আশীর্বাদ দেন। তার পর থেকেই এটাই প্রচলিত বিশ্বাস যে, যদি কোনো বোন বা দিদি ভাই বা দাদার হাতে রাখি বাঁধে তা হলে সে অমরত্ব প্রাপ্ত হবে।


পুরাণে রাখি বন্ধন

রাখি বন্ধনের প্রচলন নিয়ে ভবিষ্যপুরাণে একটি আগ্রহজনক গল্পের কথা বলা আছে। সত্যযুগে বৃতাসুর নামে এক অসুর ছিল। দেবতাদের যুদ্ধে পরাজিত করে এই অসুর স্বর্গলোক দখল করে। বৃতাসুর বর পেয়েছিল যে কোনও অস্ত্রে তাকে ঘায়েল করা যাবে না। সেই কারণে বারবার চেষ্টা করেও দেবরাজ ইন্দ্র তাকে হারাতে পারেননি। তখন মহর্ষি দধিচি দেবতাদের জন্য নিজের শরীর দান করেন এবং তাঁর হাড় দিয়ে তৈরি হয় ইন্দ্রের অস্ত্র বজ্র।

বৃতাসুরের সঙ্গে যুদ্ধে যাওয়ার আগে ইন্দ্র তাঁর গুরু বৃহস্পতির কাছে যান। বৃহস্পতিকে তিনি বলেন যে এই শেষবার তিনি বৃতাসুরের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হতে চলেছেন। এই যুদ্ধে হয় তাঁর জয় হবে, নয়তো পরাজয়। এই কথা শুনে ইন্দ্রের সুরক্ষা নিয়ে অত্যন্ত ভীত হয়ে পড়েন ইন্দ্রাণী সচী। তিনি তাঁর সমস্ত সাধনার শক্তি একত্রিত করে একটি বিশেষ রক্ষাসূত্র তৈরি করেন। ইন্দ্রের সুরক্ষা কামনা করে এই সুতো তিনি দেবরাজের কবজিতে বেঁধে দেন। সেদিন ছিল শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমা। এই যুদ্ধে বৃতাসুরকে হত্যা করে জয়ী হয়ে ফিরে আসেন দেবরাজ ইন্দ্র।


শিব তাণ্ডব

শিব তাণ্ডব || Shiv Tandav || (শিব তাণ্ডব রচনা করেছিলেন রাবণ) জটা-টবী-গলজ্জ্বল-প্রবাহ-পাবিতস্থলে গলেবলম্ব্য লম্বিতাং ভুজঙ্গ-তুঙ্গ-মালিকাম্ । ...