মধ্যরাতে আমি প্রায়ই জানালায় বসে থাকি। এই সময়টা খুব বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে যাই। সিগারেট শেষ হয়ে যায়, ইচ্ছে হলেই দোকানে গিয়ে সিগারেট নেওয়ার উপায় নেই।
এই সময় আকাশে তাকালে আবছা আলোয় নীল আকাশ দেখা যায়। চোখে আলি ঝালি দেখায় পেঁয়াজ কালারের জামা পরে মায়া তাকিয়ে আছে। সর্বনাশ! এই মেয়ে আমার পিছু ছাড়ছেনা।
মায়ার সাথে আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তগুলো কেটেছিল। মায়া একবার আমার বুকে মাথা রেখে ঘুমাতে চেয়েছিলো, তপ্ত দুপুরে আমার ঘামে ভেজা শার্টে তার মাথার চুল আটঁকে যাচ্ছিল। কাজল লাগালে চোখে! মায়া খুব গুছিয়ে কথা বলতে জানতো। মায়ার চোখে তাকালে আমার সব কথা বোবা হয়ে যেতো। মায়া যখন কথা বলে, আমার কথাগুলো তার কথায় চাপা পড়ে যায়। আমি বোকা হয়ে মায়াকে দেখি, মায়ার শিরা উপশিরায় আমি আমাকে দেখতাম। মায়াকে মনে হতো কোন দেয়ালে আঁকা চিত্রশিল্প। যা পিকাসো সাহেব আমার জন্য এঁকেছে, আর কারো জন্য না। মায়া যেদিন শেষবার আমার সামনে দাঁড়িয়েছিল, আমার কথা আটকে যাচ্ছিল মুখে, আমার মনে হচ্ছিল হলুদ জামা গায়ে মায়া মারা যাচ্ছে। আমার ইচ্ছে ছিল তাকে একবার লাশের বেশে দেখার। লাশের প্রতি আমার মায়া দয়া হয় না, হুমায়ূন আহমেদ স্যার এর একটা কথা মনে এনে দিতো "মৃত মানুষদের জন্য আমাদের কোন সময় নেই"। তবুও মায়ার লাশটা আমার সময় নষ্ট করছে।