আমার সংসার

আমি একটা সংসার করবো ভাবছি। চমৎকার সংসার। হাঁসের গলার মতোন লম্বা, কাঁচের মতোন স্বচ্ছ তবে ভঙ্গুর নয়। দিন দু'বেলা চুমু খাবো হরদম, বাকি সময় সংসার করবো। সংসার করতে গিয়ে দু'জন ভাবতে বসবো, মানুষ করে কীভাবে সারাদিন বালের এই সংসার নিয়ে থাকে? আমি বলবো, চলো ঘুম দিই জমাট একখানা। কোলবালিশ ছাড়া ঘুম হয় না, যদি পা তুলে দিই গায়ে, ঘুমের ঘোরে, কোলবালিশ মনে করে ভুলে যেয়ো। 
তুমি বলবা, এসো কামরাঙা খাই। পাশের বাড়ির  বাগান থেকে বেয়ে আসা ডালে কামরাঙা আছে ক'টি, জানালা দিয়ে পেড়ে খাবো। যদিও মনে হবে অনর্থক। ঢং। বইমেলায় সদ্য প্রকাশিত আনাড়ি লেখকের কাঁচা হাতের লেখা বস্তা প্রেমের সস্তা গল্প। অথচ আমরা কিন্তু সংসার করবো ওরকম, ঘুমাতে ঘুমাতে, গায়ের উপর পা তুলে, চুরি করে কামরাঙা খেয়ে।
আমরা সূক্ষ্ণ সব বিষয়-আশয় নিয়ে তুমুল হল্লা করবো। সংসার করার ফাঁকে ফাঁকে আমি মুভি দেখবো। তোমার পছন্দ বই, তুমি পড়বা মেটামরফোসিস। আমি মুভি পজ করে তেলাপোকার মতোন ব্লাউজের ভেতর ঢুকে যাবো তোমার, খসখস করে। তুমি বই রেখে আঁতকে উঠবা। কি নির্লজ্জ ভেবে রাগবা। তুমুল রাগে ঘাড়ের আশেপাশে আমি ঠেসে ভরে দেবো দীর্ঘস্থায়ী চুম্বন। রাগ পড়ে গেলে আমরা আবার সংসার করবো।
সংসার করার পাশাপাশি 'রাজনীতি, অর্থনীতি, সাহিত্য, চলচ্চিত্র' নিয়ে নিত্য ঝগড়া করবো আমরা। হাঁড়ি পাতিল আঁচড়িয়ে, ছুঁড়ে, কামড়ে, খামচে। যেভাবে ঝগড়া করলে পার্শ্ববর্তী  বাসিন্দারা উঁকি দেয় জানালায়, পাড়ার উৎসুক আন্টি সম্প্রদায় কানাকানি করার প্রসঙ্গ পায়। আমরা ওইরকম চরম ঝগড়া করে দু'জন দু'রুমে খিল এঁটে বসে থাকবো ঘণ্টা খানেক। খিল খুলে পড়ার পর দু'জন ছাদে হাত ধরে বসে খিলখিল করে হাসবো। যখন ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি গিলে খাবে সন্ধ্যার বিষাদমাখা রঙ, স্যাঁতসেঁতে গন্ধ, আমাদের হাসির শব্দে বিষাদ কেটে যাবে ঠিক। আমরা হাসতে হাসতে শেখাবো ওদের, কোনো কোনো সন্ধ্যেয় বিষণ্ন হতে নেই কারোর।

আমাদের সংসারে অশান্তিকে আমরাই আমন্ত্রণ জানিয়ে অতিথি করে আনবো আবার সেই অতিথি কে বিদায় জানিয়ে আমার একে অপরের আলিঙ্গনে।  শক্ত করে তোমায় জড়িয়ে ধরে বলবো এই ঝগড়াটি বুড়ি চল অনেক রাত হয়েছে দুটো ভাত মাখিয়ে দিবি?  খেয়ে শিশুর মতো তোমায় জড়িয়ে গভীর ঘুমে অচেতন হয়ে বলব আমার মরনেও যেন তোমায় পাশে পাই প্রিয়।

 আমিও একটা সংসার তোমায় নিয়ে করতে চাই। যেখানে অভাব থাকবে নিত্যদিনের রসদ যোগানের,, নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মতো অভাব থাকবে আমাদের সংসারে। এক বেলার খাবার দুই বেলা দু জনে ভাগ করে খাবো। তবুও কেউ ছেড়ে যাবো না তরুলতার মতো আষ্টেপৃষ্ঠে থাকবো। 
আমরা মাঝেমধ্যে রাত কাটাবো রেলষ্টেশনে প্লাটফর্ম এর সারা রাত যাযাবর দের সংসার গুলো দেখবো আর আমাদের ভাবনায় ওদের ভালোবাসার গল্প গুলো লিখে রাখবো শেষ জীবনে পড়ার জন্য। মাঝেমধ্যে ওদের জন্য জামা কাপড় শীতের চাদর কিছু খাবার নিয়ে ওদের সাথেই হৈ-হুল্লোড় করে ছুটি কাটিয়ে বাড়ি ফিরে তোমার বুকে মাথা রেখে আমি ভীষণ কান্নায় তোমায় বলবো আর ঝগড়া করবো না তোমার সাথে। 

আ মি একটা সংসারের কথা ভাবছি। পতিদেবতা পরমেশ্বর টাইপ সংসার নয়, অল্প স্বল্প ভুলে কাঁধে হাত রেখে যাতে ফিসফিসিয়ে গাল দিতে পারো তুমি। দু'জনের সমান কান মলে দেয়ার অধিকার সম্পন্ন একটা নিখুঁত সংসার। বিশ্বাসে টইটুম্বুর। পরিচ্ছন্ন এবং অশ্লীল। কোলে শুয়ে যেন নির্দ্বিধায় বলে দিতে পারি, পৃথিবীর অশ্লীলতম গোপন কথা। যেন গা থেকে টুপ করে খুলে নিতে পারি মেকি ভদ্রতার আস্তরণ। কেননা, আমরা নির্লজ্জ্ব হবো একে অপরের কাছে, চরম।
বয়স যখন দু'জনের পিঠে বেঁকে যাবে, কুঁচকে যাবে গাল, তখনো থামাবো না। আমরা বরং সংসার করবো শশ্মানঘাট অবধি। পুড়িয়ে কিংবা পুঁতে ফেলার পরও। ওরা বলে, সব শূন্য থেকে এসেছে, শূন্যতেই গিয়ে পৌঁছুবে আবার। মৃত্যুর পর তুমি বিন্দু হবা? আমি তোমায় কেন্দ্র করে ঘুরতে ঘুরতেই সংসার করবো।

শিব তাণ্ডব

শিব তাণ্ডব || Shiv Tandav || (শিব তাণ্ডব রচনা করেছিলেন রাবণ) জটা-টবী-গলজ্জ্বল-প্রবাহ-পাবিতস্থলে গলেবলম্ব্য লম্বিতাং ভুজঙ্গ-তুঙ্গ-মালিকাম্ । ...