মায়াবতী নীলাম্বরী,,
তোমার নিয়ে আমার অভিযোগ ছিলো না কোনোদিন,
এ-ই তুমি তো আমার সেই অধিকার যা আমি নিজের ভেতরে ভালোবাসা নামে প্রতিষ্ঠিত করেছি।
যদি কিছু থেকে থাকে! তবে তা ভুলবসত ছিলো।
আসলে ভুলে জর্জতিত এই আমি টা,,, দোষ তো! আমার ছিলো। আমিই তো তোমাকে একটু একটু করে পর্যবেক্ষণ করেছি তাও তোমার অনুমতি ছাড়াই,, আমিই ভুল করেছিলাম সেই তখন থেকেই কোন এক পিতার স্নেহ কে আমিও ঠিক করেছিলাম যদি সারাজীবন আগুনে সেঁকতে হয় নিজেকে তাও মেনে নেবো কিন্তু এই নীলা আমিও ওই পিতার মতো সুরক্ষায় ঢেকে রাখবো,,,,
আমার জন্মটাও বোধহয় ভুল ছিলো, ভুল ছিলো পৃথিবীতে আসা। কেন যে এক অভিশপ্ত একাকিত্ব নিয়ে একটা মানুষ তোমার মায়ায় জড়িয়ে গেলাম এখন শুধুই অন্ধকার দেখি.....
সখী,,
আজ তোমার প্রতি আমার কোন অভিযোগ নেই,
একটু একটু করে তোমায় দেখেছি, চিনেছি, যত চিনেছি, দেখেছি, তোমায় তত বেশিই ভালোবাসেছি।
এখন তো মনে হয় আমি বিন্দু বিন্দু করে তোমার নামে ভালোবাসা জমিয়েছি মনে....
হে! নীলাম্বরী!
তোমার কোনো ভুল নেই সবই মায়া!।
দোষ, ভুল যা ছিলো বা আছে, সবই আমার।
জানো দিদিমণি , এত্ত এত্ত ভুল! করেছি আমি।
আমি নিজেই জানিনি,, আর কখনো পিছু ফিরে জীবন দেখিনি আমি।
কেনইবা দেখব! কেউ ছিলো না,,,
তাই পিছুটান কি বুঝতাম না ।
ছন্দ হীন একটা মানুষ ছিলাম।
ভুলের স্রোতে ভেসে চলেছি অক্লান্ত বিরামহীন ।
সাগর থেকে নদী, নদী থেকে খাল, একের পর এক পাড়ি জমিয়ে চলেছিলাম,, তারপর তুমি!
আমি এখন হৃদয় পর্যন্ত কোন সম্পর্ক নেই বলি না,,,
নীলাম্বরী সেখানে সব সময় থাকে।
দুনিয়ার কেউ তা কেড়ে নিতে পারবে না।
এখন তো নিজেকে দেখলেও হাসি পায়।
এত্ত ভুলের মাঝে কি করে নিজেকে খুঁজে পাই বলোতো! হারিয়ে ফেলেছি নিজেকে বোধহয়।
বিশুদ্ধ নেই এখন আর।
অশুদ্ধ আমি।
প্রচন্ড অশুদ্ধ।
মাঝে মধ্যে মনে হয় আমি পঁচে গেছি।
আজকাল ভুল গুলো কি বেড়েই চলেছে?
আমার ভুল গুলো তোমার কষ্টের কারণ, একের পর এক।
মায়াবতী!
তুমি এত বিশুদ্ধ কেনো?
তোমার কোনো ভুল নেই কেনো?
তোমার প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই কেনো?
প্রশ্ন আছে, উত্তর নেই। উত্তর অবশ্যি আছে। সে উত্তর না হয় নাইবা দিলাম। ক্ষতি কি? সবজান্তা ছিলাম না, হতেও চাইনি কোনোদিন। তাই হয়তো কোনো এক বোর্ড পরীক্ষায় জানা উত্তরও ছেড়ে দিয়ে এসেছিলাম সময় থাকতেও। তোমার বিশ্বাসযোগ্য উত্তর দেবার ক্ষমতা যখন নেই, সে উত্তর কি করে দিই বলোতো?
মায়াবতী,
তুমি মহামানবী।
সাধারণ নও। আগে কোনোদিন সাধারণ ছিলে কিনা জানি না, তবে এখন তুমি দেবী। আমি যে সামান্য, নগণ্য, তুচ্ছ। তোমায় ভালোবাসা দিতে গিয়ে পরাজিত, লাঞ্চিত হয়েছি প্রতিবার। প্রতিবার তোমার কষ্ট হয়ে।
মায়াবতী,
আমি বোধহয় ভালোবাসতে জানি না। দেবীকে সবাই ভালোবাসতে পারে? বলোতো? আমি যে দেবতা নই!
আমি সাধক হয়ে কি তোমাকে ভালবাসতে পারিনা! তোমার কষ্টের স্রষ্টা হয়েছি প্রতিবার, শতবার, সহস্রবার। আমি যে নগণ্য। অতি নগণ্য।
একা একা পৃথিবীর কোনো কোনায়, কোনো একবিন্দুতে আজকাল পড়ে থাকি। গুটিশুটি মেরে। ভয়ে কম্পণ তুলি। এই বুঝি তোমার বিদায়ের পালা।
জানো মায়া!
আমি চুপচাপ হয়ে গেছি, অনেক। এখন আর কথা বলতে পারি না। নিকোটিন শুষে শুষে খায় আমাকে, একের পর এক। এখন আমি লিখতেও পারি না। ভুলের ভিড়ে মস্তিষ্ক অকেজো হয়ে পড়েছে বোধহয়।
তোমায় দেয়া কষ্ট কুঁড়ে কুঁড়ে খায় আমাকে।
কষ্টপোকা সব খেয়ে ফেলেছে গো, ভিতরটা কেমন ফাঁকা ফাঁকা! সব শূণ্য হয়ে গেছে বোধহয়। ভেতরটাতে নেই, কিচ্ছু নেই। হারিয়ে গেছে সব, খুইয়ে ফেলেছি সব। আছে শুধু পাহাড় পর্বত ভুলের রাজ্য। ওই রাজ্যের আকাশটাও ভুল। শুধুই ভুল।
শুধুই ভুল,,,
আমি পারিনি!
আমি তোমার তুমি হতে পারিনি, আমি তোমার ভালোবাসা হতে পারিনি। হয়েছে কেবল ভুলের পরিনামে পাহাড় পর্বত কষ্ট। আর কতো সইবে? যেখানে ভালোবাসা নেই, যেখানে শান্তি নেই, যেখানে তোমার মন নেই, সেখানে কেনো পড়ে রইবে? কতকাল পড়ে রইবে?
আমি বসে বসে ভয়ে গুটিশুটি মেরে অপেক্ষার প্রহর গুনি, এই বুঝি সময় শেষ, এই বুঝি হারিয়ে যাওয়ার সময় হলো। চুপচাপ, প্রচন্ড চুপচাপ। অভিশপ্ত এই আমি থেকে অচিরেই চলে যাবে। বসে বসে সেই প্রহর গুনি। এই বুঝি অবসান! এই বুঝি শেষ, সব শেষ। কষ্ট হয়ে না থাকাটাই বোধহয় শ্রেয়। ভালোবাসা না হতে পারি, অন্তত কষ্ট টা তো আর হবো না! ওটাই শান্তি।
তোমায় ফিরিয়ে দেবার ক্ষমতা আমার নেই, তুমি যে দেবী! দেবীকে ফিরিয়ে দেবার সাধ্য আমার নেই। তুমি চলে গেলে তোমায় আটকে রাখার সাধ্য আমার নেই। অত শক্ত কিছু নেই আমার মাঝে যে তোমায় আটকে রাখা যাবে। একজীবন।
মায়াবতী,
আরণ্যক বসুর মতো আমার আর দ্বিতীয় জন্ম হবে না। আমি আর জন্মাবো না। এই জন্মের ভুল গুলো পরের জন্মে শুধরানোর কোনো সুযোগ নেই। এই জন্মের দেবী-মানুষ দূরত্ব কমানোরও কোনো সুযোগ নেই। পরের জন্মে বাউল হতে পারবো না, তোমায় নিয়ে গান বেঁধে মেলায় মেলায় ঘোরার সুযোগটাও নেই। আমার একটাই জন্ম। এই জন্মটাই অভিশপ্ত।
এই মজার বিষয় কি জানো? আরণ্যক বলেছিলো এই জন্মের পরিপাট্য সবার আগে ঘুঁচিয়ে দেবে। উনি মনে হয় জানতেন না বিশৃঙ্খলা থেকেই ভুলের শুরু হয়।
আরণ্যকের দেখা যদি পেয়েই যাই মৃত্যুর আগে বা পরে, বলে দেবো, আর যাই করুক, ভুল যেন না করে, না একবার, না বারবার, যেনো শিখতে শেখে।
মায়াবতী,
আমি আর জন্মাবো না, না এই জন্মে, না পরের জন্মে। নতুন আমার জন্ম হবে না কোনোদিন। নাটকীয়তা, বর্বরতা, রুক্ষতা আর লক্ষকোটি ভুল করে আমি মরে গেছি। এই ভুল শুধরাবে না।
যদি চলে যাও,
তবে জেনে রেখো,
তোমার ভুল ছিলো না কোনো,
ভুল যা সব, আমারই।
অপরাধ যা সব, আমারই।
তুমি নিষ্পাপ ছিলে, আছো, থাকবে।
তুমি দেবী।
তুমি মায়াবতী নীলাম্বরী…...