এক কোজাগরী সন্ধ্যায়...

তিথি,,,
  পরিপাটী সাঁঝে,,, 
চমৎকার চোখ ধাঁধানো শ্রী সৌন্দর্য নিয়ে উপস্থিত।
হাতে সেই আদ্দি কালের ব্যাগ মাথার চুলে বেণী , নীল শাড়ি কাচের চুড়ি ভর্তি হাত ,ঝুমুর ঝুমুর নুপূর দোলায় আলতা রাঙ্গানো পা, দুখানি যেন পদ্মের উপরেই শোভা পায়। 

আহা: কি চমৎকার! 

নীল তিস্তার এক ঘাটে নৌকার মাঝি কে বলছে আমাদের একটু ঘুরাবে 200 টাকা দেবো,,, 
রামু মাঝি তাতেই রাজি বলে বাবু !
আগে টাকা টা দিবেন দুই কেজি চাউল কিন্না বাড়িতে দিয়া আমু!!

কথা টা তিথি কে আক্রান্ত করেছে । 
ও বরাবরই ওইরকম স্বভাবের মেয়ে।

সাথে সাথে নীলের মানি ব্যাগ টা নিয়ে রামু কে বললো হ্যা দেবো কিন্তু আমাদের আরেকটা কাজ করতে হবে। 

রামু  মাঝি বলে কি  কাজ ! দিদিমণি?

চার টি 500 টাকার নোট বের করে দিল রামুর হাতে 

এই নাও দোকান থেকে চাল ডাল আলু তেল নুন কিনে বাড়িতে দিয়ে এসো আর আসার সময় আমাদের তিনজনের জন্য কিছু খাবার নিয়ে এসো আর একটু তাড়াতাড়ি এসো। 
আমরা তোমার নৌকাতেই বসলাম...

রামু মাঝির সেদিনের কোন উপার্জন ছিলো না । 


দুজনে একসাথে নৌকায় হাওয়ায় দোলে দোলে দোদুল দোলে নীল ও তিথির চৈতন্য ,,,

রামু মাঝি আসে না সময় বয়ে তখন রাত 9 টা ,
ওরা দুজনে ভুলেই গেছে ওরা,,, দুজন তখন,

তিথির কোলের ওপরে নীলের মাথা তিথির চুল হাওয়ায় এলোমেলো তখন...  উড়ে উড়ে এসে নীলের মুখ ঢেকে দিচ্ছে, 
তিথি চুলে ঢাকা মুখ সরিয়ে নীলের মুখ চাদের আলোয় ঝলমল মুখের দিকে তাকিয়ে আছে।

বলছে আচ্ছা নীল ! 
তুমি এমন কেন? 

একটু দেখা করতে চাও না কেন! 

সব সময় শুধু ব্যস্ত আর ব্যস্ত ধূর ভাল্লাগে না !

বিরক্ত কর তুমি...

যখন আমি থাকবো না !

তখন বুঝবি এই যন্ত্রণা কি কঠিন,,, 

তখন তোমার এই ব্যস্ততাও থাকবে না ।

কী করবি তখন?

নীল, তিথির কোলের থেকে মাথা তুলে বসেই,,

তিথি আমি পাগল হয়ে যাবো তুমি না থাকলে,, 

ও সব কথা বলবে না। 

তিথি নীলের মাথায় এক টা চাটি মেরে,,
ওরে মাথা মোটা কেউ চিরদিন থাকে না,, 
আমিও না তুমিও থাকবে না। 
তবে আমি না থাকলে তুমি নিজেকে ভালো রাখার চেষ্টা রাখবে।
 তুমি বেঁচে থাকলে আমার ভালবাসা বেঁচে থাকবে। আমি বেঁচে থাকব তোমার মধ্যে। 
এক টা সহজ মানুষ হয়ে থেকো।
দেখবে সবাই ভালবাসবে তোমায়,,, 
তুমিও ভালো থাকবে। 
লাবণ্য হয়ে থাকবে কোন ফুলের...
আমিও থাকব তোমাদের  মধ্যে,,, 
দেখবে তুমি ..
আমার থেকেও কেউ বেশী ভালবাসা নিয়ে তোমায় উজাড় করে দিতে আসবে.....
 

ক্রোধান্বিত নীল,,,  তুই রাখতো বা* কথা,, 

চল ক্ষিদে পেয়েছে সামনে কি আছে দেখি খাবো 
মাঝি টাকা নিয়ে চম্পট দিয়েছে আর আসবে না ....

কতগুলো টাকা তুই ওকে বেকার দিলি...

তিথি,,,
নারে ! ও যদি নাও আসে তাও জানবি একটা মানুষ যিনি অসহায় বোধ দেখিয়ে ঠকিয়েছে,, ভগবান ওর ঠিক বিচার করবে,,,,।

ওরা,, উঠতেই,,  রামু,,,  
ও। মা! মা- গো আমি ঠকাই নাই মা! 
তোমার টাকায় বাবার   ওষুধ  আগে নিয়েছি ।
আজ  চারদিন ফুরিয়ে গিয়েছিল আমি জোগার করতে পারিনি!  
তারপর একটু সবজি চাল ডাল আলু তেল নুন কিনে বাড়িতে দিতেই  তোমার কাকি মা, 💗 আনন্দিত হয়ে হেঁসেলে গিয়েই রান্না বইসে দিয়ে-ল,, 
সারা দিন ও  আর আমি কিচ্ছুটি খাই নি কো,,,

অভাগী আমার জানতে চাইলে কি করে এতো কিছু এনিছি! 
ধার কইরেছি কি না জানতে চেইয়ে বেজায় চটে।
 অভাগী! 
আমায় সব সময় বলে ধার করে খাবে না ।
আমি মাঝে মাঝেই শুধোই ওরে! 
কে রেইকে ছিলো তোর নাম অভাগি!
 কি জানি?

এখন চটপট উইঠে ওই খানে জল আছে হাত ধুয়ে এসো,, 

এ দেখো আমি তোমাদের জন্য খাবার নিয়ে এসেছি ।
আমি আরো একটু তাড়াতাড়ি আসতাম,  
বউ টা আমার বলছিল ওর চোখের সামনে দুটো খাবার খেতে,, 
আসলে আমি না খেলে ও (অভাগী ) কিছু খায় না,,,, 
আজ সারাদিন কিছু জোগাড় করতে পারি নাই,, 
নদীতে আ জ আমদানি হয় নাই,,
ঘরে অল্প কিছু চাল ছিল,, ছোট্ট মেয়েটা,,আর অসুস্থ বাবাটার মুখেই তুলে দিয়েছে ও,,,  

দুই জনেই খুদার জ্বালা নিয়া সন্ধ্যা থেকে আকাশের চাঁদ দেখতে ছিলাম আর কইতে ছিলাম,, হায়রে কোজাগরী লক্ষী দেবী  কোথায় তুমি ?

এই দাদা ঘাটের ধারে অনেকক্ষণ,,, 
আমি নৌকায় বইসা ছিলাম,,  
তুমি মা এই দিকে আইতে ছিলা !
আমি তোমায় দেখে ভাবতেছিলাম মা লক্ষ্মী বুঝি এইরকমই হয়....

নীল তৎক্ষণাৎ একই কথা ভাবছে ঠিকই তো আমিও তো তাই ভাবছিলাম আজ তিথি লক্ষ্মী মেয়ে হয়ে এসেছে।

নাও দেখি বাবু এখন চটপট খেয়ে নাও আর কথা নয়। 

অনেক রাত হয়েছে এরপর তোমারা বাড়ি ফিরবে কখন? 

দেখো চুনো মাছের ঝোল আর আলু সিদ্ধ মাখা  করেছিল অভাগী,,, 

খেয়ে দেখো খুব স্বাদ! 

আমি খেয়ে এসেছি। 
না খেয়ে আসলে অবাগিটা ও না খেয়ে থাকতো। 

তাই একটু দেরি হলো আসতে। 

আমার আসতে দেরি হয় দাদাবাবু আমায় ভুল বুঝবেন না। 

রামু মাঝি,,,
 আচ্ছা আপনাদের বাড়ি কোথায় দাদা বাবু!  

মা! তোমাদের বাড়ি কোথায়! 

ওরা দুজনেই দুজনার ঠিকানা জানানোর পর ,,
রামু বলছে,, 
তো আজ রাতে তোমরা থাকবে কোথায়? 

নীল,,, তৎক্ষণাৎ বলে উঠলো কেন তোমার নৌকায় !

তিথি, ,,,ও রামু কাকা হ্যাঁ ও ঠিক বলেছে... 

আজ রাতটা আমরা এখানেই কাটাই...

রামুর ক্ষমতা হলো না ওদের মুখের উপর না করবে,, 

রাজি হয়ে গেলো তিথির প্রস্তাবে....

আচ্ছা আচ্ছা ঠিক আছে তাই হবে বেশ,,

ও মা ! এখন খাবার টা দাদা বাবুকে দাও দেখি তোমরা খাও মা ,,,  

আমি একটু দেখি মা লক্ষ্মী মেয়ে আমার দাদা বাবুকে কি ভাবে খাবার খেতে দেয়... 

আমার অভাগীর আমায় যেই ভাবে দেয় ! 

নাকি তার থেকেও অনেক বেশি মায়া মমতা ভালবাসা ভরিয়ে তারপর....

একটা সত্যি কথা বলি মা,,,

 আমি এখানে এসেছি আরো অনেকক্ষণ আগে।

 তুমি দাদাবাবুর মাথায় হাত বুলিয়ে হাওয়ায় উড়ে আসা তোমার মাথার চুল দাদা বাবুর মুখের উপর থেকে সরিয়ে কি দেখছিলে তুমি জানিনা !

আমিও তোমাদের দেখছিলাম,,, 

আর শুনছিলাম তোমার কথাগুলো,,,

ঠিকই বলেছ তুমি দাদাবাবু কে,,,  

একটা ভালো মানুষ হয়ে, একটা সহজ মানুষ হয়ে সকলের ভালোবাসা নিয়ে সকলের মধ্যে সব সময় আনন্দে থাকতে ।

আচ্ছা তোমাদেরকে একটা কথা বলি,, 
ওই যে হ্যারিকেনের আলো দেখতেছো? 
আমি সারারাত ওখানে থাকবো,, 
তোমরা নৌকায় থাইকো,, 
ভিতরে চাদর আছে যদি দরকার পড়ে বের করে নিও...


ভোরের পাখি জেগে উঠবার আগেই নিত্যদিনের অভ্যাসের রামু ও জেগে ওঠে  ,,, 

ঘুম ভাঙতেই সে সজাগ হয়ে নৌকোর পাটায় ওদের দেখতে এসে দেখছে,,,  
সম্পূর্ণ শরীর চাদর আবৃত নীল ঘুমায়ে আছে তিথির কোলে ,,  

নৌকোয় বাঁধা বাঁশের খুঁটিতে হেলান দিয়ে কখন যেন ঘুমিয়ে পড়েছে তিথি....

একা চাদ ওদের পাহাড়ায়। 

লোক জন ঘাটে আসার আগেই আবার রামু,, 
ওদের দেখতে এসেছে ,,,
জাগিয়ে দিয়েছে কারণ ওদের ওভাবে দেখলে সমাজের আর সকলে কেউ মেনে নেবে না। 
 
ঘুম ভাঙতেই নীল,, 

 এই এক্ষুনি যদি বাড়ির দিকে গন্তব্য নেই তবে সঠিক সময় ট্রেনটা ধরতে পারবো,, 

এসো তিথি আবার কোন দিন দেখা হবে,, 

আমি তোমার কথা মতোই চলবো,, 

একটা সহজ মানুষ হয়ে চলবো...










শিব তাণ্ডব

শিব তাণ্ডব || Shiv Tandav || (শিব তাণ্ডব রচনা করেছিলেন রাবণ) জটা-টবী-গলজ্জ্বল-প্রবাহ-পাবিতস্থলে গলেবলম্ব্য লম্বিতাং ভুজঙ্গ-তুঙ্গ-মালিকাম্ । ...