মেঘের কথা

ঘড়িতে সময় তখন সকাল দশটা। 
 আমি আমার মতোই প্রতিদিনকার নিত্যনৈমিত্তিক কাজে ব্যস্ততায় উপযুক্ত স্থানে রেখেছি। 
বলতে পারেন যদিও আমি এখানে প্রতিদিনই আসি। 
প্রতিদিন এখানে দিনের কিছুটা সময় অতিক্রম  করি বিভিন্ন ভাবে।
কখনো কর্মব্যস্ততায়, কিংবা চা  সিগারেটের টানে সাথে প্রকৃতির হাওয়া, অথবা  অচেনা কোন মানুষের সাথে নিজের পরিচয় দেওয়া এবং তার পরিচয় নেওয়া। 
সেখান থেকে অনেকটাই আনন্দ কূড়াই আর তাই আমি এই স্থানের নাম রেখেছি আনন্দপুর। 
 আমি এখানে অনেক আনন্দ পেয়েছি।  
পেয়েছি জীবনের কঠিন সময়ে নিজেকে কি ভাবে পরিচালনা করতে হবে সেই ভাবনার উপযুক্ত পরিবেশ।  
প্রকৃতির এই স্থান আমায় দিয়েছে জীবনের মার্গ দর্শনের বীজ মন্ত্র। 
আমি এই স্থান কে হৃদয়ের অন্তস্থল থেকে কুর্নিশ জানাই। 

আজ এই আনন্দ পুরে আমি যখন পৌছাই। তারপর নিজের মতো নিজের কাজে থাকি। 
চোখ দুটো এঁদিক ওঁদিক কিছু একটা খুজছিলো। না তেমন কিছুই না। 
আবার অনেক কিছুই।  
আমি কথা কেই খুজছিলাম। 
 কই মেয়ে টা কে আজ দেখছি না তো!!!
আজ কি আসেনি? 
এর মধ্যে একটি অচেনা একটা ছেলে পাশে এসে খানিক দূরে বসেছে। 
আমায় ঘনঘন দেখছে আমি সেটা বুঝতেই বাবু একটু ইতস্তত বোধ করছেন। 

তামাটে রঙ,,গায়ের  সাদা চেক জামা নস্যি রঙের কটন জীন্স প্যান্ট হাতে ষ্টীলের বালা সামনে সামান্য কিছু চুল রঙ করা।  
স্বাস্থ্য টা ভালোই  চওড়া কাঁধ,,গোলগাল চেহারা। হালকা গোঁফ বিশিষ্ট এক জন সাধারণ কৌতুহলী মানুষ। 
দেখে মনে হচ্ছে বেশ চিন্তায় আছেন।  

প্রায়  ২০ মিনিট পর কথার আগমন হয়। 

কথা আসতেই তার পাশে গিয়ে বলতে শুরু করলো এতো দেরি কেন হলো?
আমি সেই অনেক সময় আগে এসে বসেছি।

ছেলেটির  পরিচয় আমার আর কিছুই নিতে বাকি রইলো না। 

মল্লিকা!  ইনিই কি সেই লোক টা?  
যার কথা তুমি আমায় বলেছো এই কয় দিন। 


কথা বলতে শুরু করে হ্যা উনিই সেই চা খায়িয়ে দুনিয়ায় জুড়ে বিঞ্জাপন দেওয়া মানুষ।  
আমায় পিসি পিসি করে মাথা খারাপ করে দিয়ে অতো সুন্দর একটা নাম দিয়েছে।  কথা।।।


ছেলেটি আমার সামনে এসে সোজা হাত জোড় করে কাঁদতে কাঁদতে বললো  দাদা নমস্কার আমি জয়দ্বীপ।  বাড়ি মালদা।  
আমি আপনার কথার প্রেমিক। 
 আমি গতকাল রাতে ওর সেথে গল্প করার পর আর বাড়ি ফিরিনি সোজা এখানে এসেছি একটা অনুরোধ করতে আপনাকে। 

আমি ছেলেটিকে  দুই কাঁধে হাত দিয়ে তুলে জড়িয়ে ধরতেই আবেগের আম আরো পেঁকে গেলো।  

বললাম  কি হচ্ছে এই সব? 
আর কেনই বা হচ্ছে? 
এই কথা এই সব কি হচ্ছে??? 
তুমি বলো দেখি এসব কি হচ্ছে??? 

মেঘের মতো উড়ে এসে ভিজিয়ে দিয়ে কি চাইছে? 
 আনন্দ পুরে আজ শুধুই  বৃষ্টিই আসবে??  
রৌদ্দুর উঠবেই না ঘুম থেকে?? 
সে কি ঘোমাচ্ছে আজ?
এই মেঘের এখন উদয়ের কারণ কি? 

ছেলে টি হেসে ফেললো  কি?  আমি ☁ মেঘ!! "
হ্যা আমি উড়েই এসেছি।
  এসেছি  আপনাকে দেখতে।  
কেন জানেন  প্রথমে যখন আপনারা কথা ওর মুখে শুনি মনে হয়েছিলো আর সাধারণ পাচজনের মতো মেয়ে মানুষ দেখলেই খেজুরে পিরিত শুরু করেন।  
তারপর যখন আরো শুনলাম মনে হলো খুব রসিক আপনি। 
তারপর  যখন এই ভাবে শুনতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত শুনতে শুনতে এখন আমার একদিকে ভয় হচ্ছে অন্য দিকে এই ভয় টা কে সামনে থেকে দেখার ইচ্ছে হচ্ছে। 

জানেন দাদা গত তিন দিন ও আর আমি যখন কথা বলেছি শুধু আপনাকে নিয়েই কথা হয়েছে।  
দাদা দুইদিন হলো ও আমায় আমার নাম নিয়ে সুপ্রভাত, শুভরাত্রি বলে না। 
আজ তিন দিন আমার ফোন কল রেকর্ডিং শুনেছি  ও আমায় এক বার নাম ধরে ডাকেনি। 
খুব ভয় হচ্ছে দাদা আমার জীবনের সেই কষ্টের দিন ডেকে এনেন না। 
আমার এই অনুরোধ আপনাদের দুজনের কাছেই।  আমি জীবনের সেই দিন টা সহ্য করতে পারবো না। 
আমার পৃথিবী টা সেদিন ধ্বংস হয়ে যাবে। 
আমি আপনাকে শুনেছি আর ভেবেছি কি করে বন্ধুত্বের প্রস্তাব দিতে হয় পৃথিবীর সকল মানুষকে  আপনার থেকে শিখতে হবে। 
কি দারুণ উপস্থাপনা আপনার।  চমৎকার দাদা।

দাদা আমিও আসবো এই আপনার আনন্দপুরেই আসবো ওর সাথেই আসবো আমাদেরও দেখা হবে এই আনন্দ পুরে।
  কিন্তু অনুরোধ দাদা আপনাদের এই সম্পর্ক যেন শুধু বন্ধুত্বই থাকে। 
আপনারা চাইলে অনেক কিছু করতে পারেন।
  না! আমি কিছুই চাই না।
 আমি চাই আপনাদের মাঝে আমাকেও ঠাই দিন।  আমিও বন্ধু হবো। 
ক্ষমা করবেন দাদা এই ভাবে বলার জন্য।

আমি ছেলে টার প্রতি বিন্দু মাত্র রাগ করিনি। আমি ওর ভেতরে নিজের ছবি দেখছিলাম।  নিজেকে দেখছিলাম।
  ছেলে টার মায়াবী মুখ আমায় কিছুক্ষণের জন্য গভীর ভাবনায় ফেলেছিলো। 

সত্যিই তো আমিও তাকে হারিয়ে ওর মতোই অসহায় হয়ে এখনো আছি। মুখোশের আড়ালে নিজের বুক টা কেঁপে উঠল। 

কথা  আজ কেন জানি না চুপচাপ।
  আজ কথার মুখে কোন কথা নেই। 
কোন প্রশ্ন নেই।
 আজ কথা   কথা হারিয়েছে। 
 কি জানি নিজেকে কি ভাবছে। 
ওর চোখে মুখে একটা নির্বোধ ভুলের ছবি ভেসে উঠেছে। 

দুজন কে দুই হাতে কাঁধে হাত দিয়ে বললাম 
 আচ্ছা!  ☁  মেঘ  তোমার কথা কে নিয়ে ওই খানে গিয়ে বসলে কেমন হয়? তারপর জমিয়ে আড্ডা দেওয়া যাবে। চলো।। ও,,,,ই  ওই  খানে বসি সবাই মিলে। 

কি!  কি নাম বললেন  মেঘ??  আমি মেঘ!!.

হ্যা তোমায় ওই নামেই ডাকবো যেমন আজ এসে আনন্দ পুরের আবহাওয়া বদলে দিয়েছো। 
তাতে তোমার ওই নাম টাই শ্রেয়.....


জানেন দাদা আপনার নাম এতোবার ওর মুখে শুনেছি,,, তা আর কি বলবো???
এক সময় ভেবেছি এই মানুষ গুলো কি পাগোল!! নাকি মানসিক রুগি। কিংবা যাদুকর (ওই মানুষ কে হ্যালুসিনেশনের মধ্যে যারা রাখে)....

রাখতে পারবেন আপনার  কথা আপনি আর মল্লিকা কোন দিন কেউ কাউর ঠিকানা বা যোগাযোগ এর কোন সুত্র রাখবেন না।
  শুধু এই আনন্দ পুরে যদি দেখা হয় তবেই কথা হবে? 
দাদা কি করে এতো অবাস্তব ধারণা এলো আপনার মাথায়?
 কোথায় পান এই সব ধারণা?  
আমার তো সত্যিই  আপনাকে পাগোল মনে হচ্ছে। 
শুনলাম  প্রেমও  করেন।  
তাকে নাকি খুব ভালোবাসেন।  
খুব সুন্দর করে ডাকেন তাকেও। 

ঝিঁঝি পোকা, টুনটুনির বাসা, মোটাভাই, প্রিয়,,  ছুচো, কাকাতুয়া, কথা, সবই শুনেছি। 




হ্যা এবার আমি বলি একটু শান্ত হও ভাই। আমি তোমার ইচ্ছে মতোই আমার কথা আমার কাছেই রাখবো।  
তুমি কোন চিন্তা কোরো না ভাই। 

মেঘের মুখ কালো হয়ে গেলো,,,,
দেখলাম  কথার  চোখে মুখে অন্য এক ঝলক।

খানিকটা হেসে বললাম আমি আমার উপস্থাপনার বাক্যের বিবরণ বলছি। 
তোমার মল্লিকা সেই  কথা নয়। 
এবার ঘটলো চমৎকার  
মেঘের মুখে হাসি দেখে  মনে হচ্ছিল বেচারা  মৃত্যু কালিন মুখে জল পাওয়ার মতো  তৃষ্ণার অবশেষে ঘটলো। 

কি! মেঘ খুশি তো আমার কথায়???

আপনার কথার(মল্লিকা) জন্যই জীবন যাপন করি,, 
আর ওর সাথেই বুড়ো হয়ে এই আনন্দ পুরে আপনার সাথে একদিন,,,
  এক কাপ চা য়ে আমি এই সবাই কে চাই।।।।
তবে হ্যা বার্ধক্যের কারণে সেদিন যদি বাড়ি ফিরতে না পারি আপনার বাড়িতেই সেই রাত্রি বাস হয় যেন। 

মেঘ,,,আমি তোমায় তোমার এই ইচ্ছের একদিন বাস্তবতায় পরিনত হওয়ার তৌফিক ভগবানের কাছে প্রার্থনা করবো।

আমি যেমন বন্ধুত্ব চেয়ে জ্যাকপট  পেয়েছি।  
মানে একসাথে ডবল বন্ধু,,, 

 কথায় কথায় বলে যাই ,,, 
 আমার কথা মেঘের জন্যই রইলো ভাই.......
 তোমরা ভালো থেকো। 

গল্প করো আজ আমি চলি একটু ব্যাস্ততায় আছি। 
 আবার দেখা হবে এই আনন্দ পুরেই।
 যদি সবাই ফিরে আসি। 


তোমাদের এই গল্প টা মেঘের কথা,য় বলবো,,,

ও দয়াল তোমার লীলা বোঝা দ্বায়

ও দয়াল তোমার লীলা বোঝা দায় দীনের বন্ধু করুণা সিন্ধু, রাধার শ্যামরায়।। তুমি গোঠের রাখাল রাজা, যশোদার কানাই, বিষ্ণুপ্রিয়ার প্রাণসখা, নদীয়ার নি...