আমি কেমন শুধু শুধু ঝগড়া করি একটু আইসা দ্যেখেন...

মা!

ও ,,, মা,,

কে ফোন করেছে?

  কার সাথে কথা বলছো?.

ভেবে ছিলাম হয়তো প্রিয়াঙ্কা ফোন করেছে।
 মা ওর সাথে কথা বলছে। 
এর আগে ওরা অনেক বার কথা বলেছে আমি জানিই না।।
 হয়তো আজও তাই। 
মা খুব হেসে হেসে কথা বলছে। 

আমি সামনে আসতেই বলে রাখছি আমার শত্রু টা বাড়ি এসেছে।  
গরু টা খাটালে খাবার দিয়ে নেই পরে কথা হবে।
 ফোন গরম হয়ে গেছে।

কথাটা শোনার পরে কৌতূহল আরো অনেক বেড়ে গিয়েছিল। 

কি জানি হয়তো আমার ভাবনাটাই সত্যি হতে পারে!  
তাই যেন হয়।  

আমি এখনো তার অপেক্ষায়। 

আর পারছি না চলতে। 

একবার যদি বাঁবলা গাছের কষ লেগে যায় সেই দাগ যেমন উঠতে চায় না। 
প্রেমের স্বাদ ঠিক ওই কষের মতো, প্রেমের নেশা হৃদয়  থেকে গেলেও চোখের নেশা যেন শেষ হয় না।  
তাই তার জন্য আমার সেই নেশা সব সময়। 

মা বললো এই নে কথা বলবে তোর সাথে দেখ কে?

চমকে যাই। 

তবে কি সিত্যিই এটা প্রিয়! 

ফোন নিতেই দেখলাম অচেনা নম্বর কৌতূহল তখন উর্ধ্বে টান। 

সে এক দারুণ অনুভূতি। 

ফোন স্কিনে দেখছি ৪৮ মিনিটের কথপোকথন ভেসে উঠেছে। 

কি অবস্থা বুঝতে পেরেছেন? 

ফোন কানে দিতেই ওপাশ থেকে বলে উঠলো 

ও মামা কেমন আছো?  আমি তোমার বাবাই বলছি।

বুঝলাম এ আমার মায়ের  বৈধ দ্বিতীয় প্রেমিক। 

তাকে তো একটু আদর করেই ডাকতে হবে নইলে মা কষ্ট পাবে।  

নাঃ  নাঃ মা কে কষ্ট দেওয়া পাপ ওই কাজ ভুলেও যেন না হয়। 
মা ক্ষমা করো আমি ওকে বাবাই কেন বাবা বলেও ডাকতে রাজি। 
হ্যা , ঠিক আছে। 

তো!  আমার ওই দ্বিতীয় বাবা কথা বলতে জানতে পারলাম আজ বাড়িতে ডিমের ঝোল, আমড়া দিয়ে মুসুর ডাল,,,উচ্ছে তোতো থাকবেই। 

সব ভুলে গিয়ে মা কে জিজ্ঞেস করলাম
 ও মা আমার জন্য ডিমের মামলেট করে ঝোলে দিয়েছোতো!  
নইলে আমি খাবো না।

আমি মনে মনে বলছি মা যেন কোন কারণেই ভুলে না যায়।  
মা যেন হ্যা  বলে। 

মা বলল না ওসব করিনি! 

আমার অত সব কিছু মনে নেই। 

আমি সব এক রকম করে রেখেছি। 

তুই  খেলে খাবি না খেলে কিছু করার নেই।

 রোজ রোজ ওইসব ঝামেলা আমার ভালো লাগেনা। 
আমি অতো ভাগাভাগি করতে পারবোনা। 

তোর যদি ভাগে ভাগে খেতে হয! 

 তাহলে তুই রান্না করার লোক নিয়ে আয়। 
তোকে ভাগে ভাগে করে দেবে খাবি।

আমি আর পারবো না। 

(এই শুরু মায়ের সাথে ঝগড়া,,) 

ও   তার মানে এখন আর তুমি আমার উপরে তোমার সব অধিকার তুমি রাখো না। 

আমি কি বঞ্চিত হয়েছি তোমার সেই অধিকার থেকে? । 

আমার কি এখন অবশ্যই আমার দ্বায়িত্ব নিতে কোন একজন কে আনতেই হবে। 

 ও মা,, সন্তান কি তোমার বড়ো হয়েছে আজ! 
যে আমার জন্য কিছুই করতে পারবে না বলছো?

তোমার সেই ছোট্ট সন্তান কি আজ আর ছোট্ট টা নেই?

  মা! 

ও মা!  

তবে কেন এখনো মনে প্রাণে শরিরে একটু আঘাত পেলেই বলে উঠি,, 

ও!   মা!  

কারণ  এই আমি টা তোমার অদ্বিতীয় অংশ তাই।
 আমার সব অনুভব অনুভূতি তোমার হয়ে আমায় সুস্থতায় নিশ্চিত ভাবে রাখে তাই ডাকি 

মা! বলে,, 

আর তুমি বলছো আজ থেকে আর আমার জন্য কিছুই করতে পারবে না!

আমাকেই আমার ব্যাবস্থা করে নিতে। 

হ্যা  আমি তাই করবো। 

আজ একটা বিঞ্জাপণে দেখলাম যদি পাত্রীর দাবি মেনে থাকতে পারে পাত্রীর সাথে তবেই যোগাযোগ করতে। 

আমি ওই যোগাযোগ টা করবো।  
সে যেমন হোক আমি মেনে নিয়ে চলে যাবো। 

আমি  সারাজীবন সকলের চোখে ঘরজামাই আর আমার চোখে আমার দ্বায়িত্ব নিতে পারবে সেই মানুষ টার কাছেই থাকবো। 

আর আসবো না তোমার কাছে।

হাজার ডাকলেও আসবো না ফিরে। 

তারপর যদি এখন কার মতো খুব ব্যাথা পাই! 

 কিংবা মনের ঘরের কোন দেওয়ালের ফাঁটল ধরে তবুও কাঁদবো না।
  ডাকবো না মা বলে। 

আমি তখন সেই মানুষ টাকেই ডাকবো। 
তোমাকে তো শুধু মা বলেই ভগবান মেনেছি।

কিন্তু  তাকে আমি নাড়ির ষোল কলায় চৌষট্টি গুনে প্রতি গুনে আলাদা আলাদা করে ডাকবো।, 

কখনো  প্রিয়,  কখনো  মাধবীলতা,  
কখনো  শুখ পাখি,, 
খুব অশুখে বন্ধু,

স্নেহে তার কাছেও তোমার মতোই মায়ের ভালোবাসাই চাইবো,,
  সেও তখন মা।  

আর হৃদপিণ্ডে ওই মানুষ টাকে পূজো করবো। 

সম্মানে তাকে তোমার মতোই মর্যাদা দেবো। 

নইলে যে তোমার ঘাড়ে দোষ পরবে।

বলবে আমার মা সংস্কারি নয়।  

না  মা! । 
আমি তা পারবো না। 

আমি ওর বাবা মা কে আমিও বাবা মা ডাকবো। 

আমার সব কিছুতে ওদের ঠিকানা ব্যবহার করবো। 
আমি ওদের সাথে ওদের মতো থাকতে নিজেকে  বাধ্য করবো যদি কোন অসুবিধা হয়।  

ও,,,এসব তোমায় বলছি কেন?
 বলে কি লাভ?
আমিতো তোমার সাথে কোন যোগাযোগ রাখব না। 
সুতরাং আমি কেমন থাকি বা না থাকি তোমার না জানলেও চলবে। 

তবুও ফিরবো না,, আমি  আমার দ্বায়িত্ব নিতে পারার মানুষ টার কাছেই থাকবো। 

হ্যাঁ  মা তুমি ঠিকই বলেছো,, 

এখন আমি শুধুই তোমার সন্তান। 

আর কিছু না? 

সে সন্তান তো কুকুর ছাগলেরও থাকে তবে আমার আর ওদের মধ্যে পার্থক্য কোথায়? 


হ্যাঁ মা তুমি ঠিক,

 এই যে আমি ভাবতাম আমার কষ্ট হলে আমি ব্যথা পেলেই এই যে এখনো মা বলে উঠি,,
 আমি সেই তোমার গর্ভের থেকেই শিখে এসেছি এই মা ডাক টা। 

 এই অভ্যাসে  খুব কষ্টেও  মা! বলে ডাকি। 

কিন্তু  কি জানো মা!  

আমার সেই কষ্ট তোমার ডাকেও আজকাল বিন্দুমাত্র কমে না।  

আমি যতটা শুখ পাই একজন কে ভেবে ততটা শুখ আমি আর কিছুতেই পাই না।  

আমি নিজেও জানিনা ওই মানুষটাকে না পাওয়ার কষ্ট আমার এই জীবনে কবে ঘুচবে।  

তাই সেই অনুভূতি তো তোমায় কোন দিন আঘাত করেনি?  

কেন?  

সে টা আজ বুঝতে পেরেছি মা। 

আমি আজ তোমার ছোট্ট সন্তান টা অনেক বড়ো হয়েছি। 

আজ নিজের কষ্ট নিজের নামের মুখোশের আড়ালে রেখে প্রত্যেকবার তোমার সামনে আসি।।
 প্রত্যেকবার তোমায় মা বলে ডাকি। 
 আসলে আমিই তো মুখোশ পরে থাকি। 

তোমাকে দেখতে দেইনা কোথায় আমার ব্যথা। 

হ্যাঁ মা তুমিই ঠিক,,, আমি নিজের কতো ইচ্ছে তোমায় বলি না। 
এই যেমন ধরো সেদিন বৃষ্টির রাতে ভাত খেতে ইচ্ছে করছিল না।।
 ইচ্ছে ছিল যদি একটু খিচুড়ি পেতাম। 
দেখলাম তোমার শরীরটা খুব একটা ভালো না।

সেই ইচ্ছেটা প্রকাশ করিনি। 
তখন আমিও তোমার মতোই ভেবে ছিলাম। 
সত্যিই যদি আমার একটা কেউ থাকতো!
 আজ রাতে সে একটু খিচুড়ি করে দিতোই।

হ্যা আজ,,, আমার পাশে একটা মানুষের খুব দরকার। 

তারপর যেমন গতকাল রাতে ঘুম হয় নি। 
 জীবনের একাকিত্বের রোগে ধরেছে মা। 
ভীষণ জ্বালা একা থাকাই যায় না,,, 
আমি খুব খুজেছি এক জনের সাথে থাকার অভাব।  
শেষ রাতে ঘুম আসে ক্লান্তিতে শরিরও আজ খুব একটা ভালো না। 
আমি নেশায় পরেছি মা। 

ভীষণ রকম নেশায় পরেছি,, একজনের।। 

হ্যা  মা আমি প্রেম পরেছি এক জনের আজ প্রায় এক মাস তার সাথে যোগাযোগ নেই।

ওই যে দেখো আমি ফোনে বকবক করি দুই তিন জনের সাথে ওরা আজ আমার আঘাতের ওপর একটু একটু মলম দিতে আসে,,, 

"পিউ" টা সবার থেকে বেশি খেয়াল রাখে। 
মৌরি অনেক টাই চেষ্টা করে,, 
ঝিঁঝি পোকা ফুলের সুভাষের মতো এসে সব ভুলিয়ে মিনিশে উধাও হয়ে যায়।  

তবে ঝিঁঝি পোকা টাও অনেকটা আগলে রাখতে চায়।  

ওরা সবাই আমার এই যুদ্ধের বীর সৈনিক।
 আমি ওদের সাথে নিয়ে এই যাত্রায় জয় পেয়েছি।

তবে কি জানো মা! 
 আমিও ভাবি আমার একটা মানুষ খুব দরকার। 

আমি যেই কারণে মুখোশ পরে তোমার সামনে আসি,, 
আমি তারকাছে কিচ্ছুটি লোকাবো না। 

আমি তার কাছে নিজেকে খোলা বই এর মতো রাখবো। 
সে যেমন খুশি যখন খুশি যাখুশি তাই পড়বে। 

ওহো!
   কেন আমি ভুল করে তোমায় এসব বলে ফেললাম? 
 আমি তোমাদের সাথে কোন যোগাযোগ রাখবো না।

  আমি চলে যাবো আমার দ্বায়িত্ব নেবে যেই মানুষ টা তার কাছে। 

ফিরবো না আর। 
 তারকাছেই থাকবো।। 

তুমি তো অনেক আগেই বলে দিয়েছো।

 তুমি মরলে আমায় অতো কিছু করতে হবে না। 

ওই ১৫' দিনে শ্রাদ্ধ শান্তি কাছা নেওয়া একসিদ্ধ আঁধ ফোটা ভাত আগুনে জ্বেলে আমায় খেতেও হবে না। 
 তুমি তো কোন কিছুতেই আমার পিছু ছাড়বে না।  
যখের মতো আমায় খেয়াল রাখবে আমি নাকি তোমার সেই ধন। 

তবে তুমি মরলে আমি এসে ওই শশান ঘাটের কাজ মিটিয়ে সবাই কে মিষ্টি মুখ করিয়ে আবার আমার দ্বায়িত্ব নেওয়া মানুষ টার কাছে চলে যাবো একেবারে তারমতো তারসাথে আজীবন একসাথে থাকতে। 

 কারণ দুনিয়ায় আর আমার কেউ সত্যিই নেই।

সেও  যদি তাড়িয়ে দেয় তবে আমি যাযাবর হয়ে যাবো।  
না,, আমি যাযাবর হতে চাই না। 

আর তুমি কিন্তু আবার কান্নাকাটি  করবে না। 

আমার ছেলে টা আজ আমার নেই। 

এখন পরের মেয়ের হয়ে গেছে। 

কিংবা!  ব্যাঙ্গ করে বলবে না,,
 অন্তত তুমি,
 আমার ছেলে এখন  অন্যের মা কে মা ডাকে। 

জামাই এখন ছেলে হয়েছে। 

অথবা সমাজ যেটাকে বলে ঘরজামাই। 

তুমি এ সব বলবে না। 

একদম বলবে নাঃ 

আমি বছরের ৩৬৪ দিন ওদের সাথে থাকবো একদিন তোমার মৃত্যু  বার্ষিকির দিন গুলোয়  আমি সকলের থেকে নিজেকে হারিয়ে একা থাকবো।

তবুও তোমার................. 



এর মধ্যে মা কাছে এসে বলছে,, 
বাবা রে শুধু একবার তার মুখ টা আমায় দেখিয়ে নিয়ে যাস। 
তোকে ফিরে আসতে হবে না।  

খুব সুখে থাকিস,,, 
এবার স্নান করে আয়,,, 
অনেক বেলা হয়েছে,,  আমি খাবার পরিবেশন করি।  তারাতাড়ি আয় বাবা। 

হ্যাঁ  আজকের মতো তোমায় আর একটু  জ্বলাই তারপর  বিকেলে ফোন করবো,, 

কথা শেষ হতেনা হতেই আমার জ্যান্ত দুর্গা হাতে হাতা নিয়ে  রুদ্ধকন্ঠে  হারামজাদা  তুই  যাবি এখন,,,  

আমি দে দৌড়,, সোজা স্নানের ঘরে।  







সেই ছেলেটার জন্মদিন ''

আজ সেই ছেলে টাকে  এই ৩৬ বছরের এই ছোট্ট জিবনে এই দ্বিতীয় বার কেউ জানতে চাইলো তোমার জন্মদিন কবে? 

ছেলে টা  খানিকটা চমকে যায়!. 

. তারপর তাকে বলে ! 
এই যে তোমরা তোমাদের জন্মদিন ঘিরে এতো আনন্দ করো;! 

আমি সেই ছেলেটা যার কোন দিন জন্মদিন পালন হয়নি।

প্রতিবার তার জন্মদিন টা ঘিরে সে অনেক পরিকল্পনা করে অনেক,, 

না শেষে সেই ছেলেটা কিছুই করতে পারে না।

আর দিন টা এমনিই অন্য পাঁচ দিনের মতো কেটে যায়। 
এই পাঁচ দিন কথা টা খুব দামি কথা তাই এই ভাবেই বললাম।  

ওই পাঁচ দিনে মানুষের স্মৃতি ভুলতে শুরু হয়।

যাইহোক এই ভাবেই কাটে সেই ছেলেটার প্রতিটি জন্মদিন।  

সেই ছেলে টাও ভাবে এই বারের জন্মদিনে ওর মা ওকে বলবে! 

বাবু আজ তোর জন্মদিন, 

তো একটু কাজের চাপ কম রাখিস। 
 একটু বাড়িতে থাকার চেষ্টা করিস,,, 

আর সন্ধ্যেবেলা তোর রাক্ষসের দলের নিমন্ত্রণ রইলো ওদের আসতে বলিস।

আর হ্যাঁ  পারলে বাবা কে একটা প্রনাম করে তারপর দিনের সব কাজ শুরু করিস। 

সকাল সকাল গঙা স্নান করে আসার সময় পোড়ামাকে একটু পূজো দিয়ে আসবি। 

ওঠ বাবা!  

চা এনেছি!  

ছেলেটা  মায়ের হাত টা ধরে ঘুম ঘুম চোখে টেনে বুকে নিয়ে মায়ের কপালে এঁকে দিতো  চুমুর আহ্লাদের আলপনা।  

মা!  এই তুমিই আমার প্রতি জন্মের মা হয়ে আমায় এই রকম  স্নেহের আদরে মানুষ করবে তো! 

ছাড়!  ছাড় বাবা!  

নাঃ আগে বলো,, 
আমার প্রতি জন্মের মা হবে?  

হ্যাঁ তুইও আমার সব জন্মের দস্যি ছেলে হয়ে আসিস রে বাবা । 

ওঠো বাবা যাও আজ বাবাকে প্রনাম করে দিনের শুরু করো,,, 

ছেলেটা  মা কে আগে প্রনাম করতেই বাবা সেখানে হাজির.
 তাকেও প্রনাম করতেই বাড়িতে দিদির উপস্থিতি।
 ভাই ভাইরে  কই তুই আমরা সবাই এসেছি বোন আসছে। 

তোর জামাইবাবু বাজারে আছে তোকে একটু যেতে বলেছে তারাতাড়ি সাইকেল টা নিয়ে বাজারের দিকে যা ভাই ।  

আসার সময় একটা ২ লিটারের ঠান্ডা  কিছু নিয়ে আসবি ,,  

ম্যাডাম  ১ পেটি নিয়ে আসবো, ঠান্ডা ,
 সবাই মিলে একটু 🥰🥰🥰🥰 

জুতো দেখেছিস পায়ে!  

এই জুতো দিয়ে আজ তোর জন্মদিন পালন হবে।  

যেটা যে ভাবে বলছি সেই ভাবেই করবি।  

মনে থাকে যেন। 

 নইলে ওই জুতো দেখিয়ে রাখলাম দেখে নে। 

পাওয়া হলো জন্মদিনের প্রথম শুভেচ্ছা। 

 জানতে চাইলো  তো আর সবাই কই?  

ওরা টিউশন থেকে এখানে আসবে সেই ১০ টায়,, খেয়ে স্কুলে যাবে  তারপর আবার এখানে।  
 ভাই তুই বাজারে যা, আমি রান্নার দিক টা দেখি  ।  

মা!  এদিকে এসো,, দিদি ডাকতেই মা ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন। 




কি ভাবছেন সেই ছেলে টা পাগোল? 


আরে  নাঃ নাঃ  

সেই ছেলে টা তার প্রতিটি জন্মদিন এই রকম নানান আনন্দের পরিকল্পনায় ভাবে।  

কোন দিন  সফল হয়নি তার স্বপ্ন দেখা জন্মদিনের  পরিকল্পনা। 


সেই ছেলে টা জন্মদিন এলেই! 
এই তোমাদের মতো কোন দিনই মুখে কেউ এক বাটি পায়েস কিংবা একটু ক্ষীর (ছেলে টা খুব ভালো খায়)  তুলে দেয়নি ।  

নাঃ  কেউ কোন দিন দেয়নি,,,, । 

হ্যা তোমাদের মতো তারও মা আছে। 

তোমাদের মতোই সেই মা ওকে ভালোবাসে। 

কিন্তু কোন দিন তার মা,, 
তার জন্মদিনে মুখে একটু কিছু তুলে দেয় নি। 


আবার আপনারা কেউ ভেবে নিয়েন না সে তার মায়ের বদনাম গাইছে। 

এইভাবে কেউই ভাববেন না। 

ক্ষমা করবেন। 


সে ছেলেটা জানে!  

তার মা তাকে মানুষ করতে জীবনে কত কষ্ট সহ্য করেছে,,, 

তার মা তাকে মানুষ করতে কত রাতের পর রাত নির্ঘুম রাত কাটিয়েছে। 

সেই ছেলেটা জানে!  

সেই ছেলেটা তার মায়ের আত্মা। 

সেই ছেলেটার প্রতিটা জন্মদিনে,, 
সেই ছেলে টা অপেক্ষায় থাকে,, 

প্রতিবার তার জন্ম দিন আসলেই সে যতই হাজারো পরিকল্পনা করুক সে অপেক্ষায় থাকে কবে তার মা তাকে বলবে,,, 

বাবু আজ তোর জন্মদিন। 

সেই ছেলেটার ছোটবেলা আজকের ছোট ছেলেমেয়েদের মত ছিল না। 

 ওদের ওই জন্মদিন নিয়ে কোন মাথা ব্যাথা ছিলো না।  

ওরা সকালে ঘুম থেকে উঠেই দাঁত মুখ ধুয়ে তিন ভাইবোন বসে মা বাবা কে নিয়ে সবাই মিলে মুড়ি খেতো বাটিতে বাটিতে।  

কোন কোন দিন ঠাকুমার চায়ের কাপে ছেলে টা হামলা চালাতো।  

আবার বাবার লাল চোখের ভীষণ ভিতু ছিলো।  

তারপর সেই তিন জন পড়তে বসা সেখানে খুটিনাটি রোজই কিছু লেগেই থাকতো। 

শেষে দিদির হাতের মার খেয়ে চুপচাপ পড়া করতো।  

মাঝেমধ্যে ওই দিদির কাজ টা মা করতেন সেদিন ভিটামিন টা একটু বেশি পেতে হতো তাতে প্রায়  দিন পাঁচেক চলতো।  

এই ভাবেই যেদিন সেই ছেলে টা পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র"
 তখন শম্পা  দিদি,,, একদিন 

 জানতে চেয়েছিলো এ ভাই তোর জন্মদিন কবে রে?  

ওদের স্কুল টা ছেলে মেয়ে একসাথে ছিলো।
শম্পা  অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী।


 আর ওর খুব প্রিয় ছিলো ওই শম্পা দিদি।  

সে এই স্কুলে অলোক নামের এক শান্ত ছেলে কে বন্ধু বানিয়েছে ,, 
আর ওরই নিজের  দিদি  ওই শম্পা দিদি।

হ্যা সেই দিদিও ওকে ভীষণ ভালো বাসতে শুরু করলো।

সেদিন ছেলে টা বাড়ি ফিরে মা কে জানতে চেয়ে ছিলো 

মা!  সবাই কি সুন্দর জন্মদিন পালোন করে।

 আমার তো কোন দিন জন্মদিন করো নি। 

স্কুলের বন্ধু দের সবাই জন্মদিন জানে।

 আমি জানি না। 

ও মা!  আমার জন্মদিন কবে?  

 তুই তো কার্তিক মাসের কৃষ্ণ পক্ষের রবিবার জন্মেছিলি। 

তারিখ মনে নেই।  

ওমা!  

আজকে আমার জন্ম প্রমান পত্র  টা একটু বের করে দেবে! 

দেখব ইংরেজি কত তারিখে আমার জন্ম ছিল। 

খেয়ে ওঠ  তারপর দিচ্ছি। 

বাঁধাকপি ,  ডালের বড়া,  টামাটোডাল। 

নাঃ সেদিন টা কোন দিন ভুলবে  না ছেলে টা। 

তারপর যখন জন্মের প্রমাণপত্র টা 
দেখেছিলো ! 

দেখলো! 


সেই ছেলেটা দেখেছিলো  
এই  আজই,,,
সেই ছেলেটার জন্মদিন,,,, সেদিন ও ছিলো কার্তিকের এক বুধ বার।  
তারিখ টা সেই ওই দিন। 
*************-*********************
সেদিন ছেলেটা সকালে দেখেছে,,, 
বাজারের কিছুই ছিল না ঘরে।

  সকালে বাবা বলে গেছেন,, 
দিদির  পয়সা জমানো ঘট থে কে তিরিশ টাকা বের করে বাজার করতে ।

ওর   মা সেদিন তাই করেছিলো। 

সেই ছেলেটা নিজেই সাক্ষী   সেই দিনের খাবার যোগারের দৃশ্যে । 

দিদি মামার বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছে সেদিন। 

ওর মা ওকে বলেছিলো দিদিকে বলতে না। 

নাঃ দিদি আজও জানে না। 

দিদির ওই ঘট থেকে সুযোগ ছেলে টাও নিয়েছে অনেক বার,, 

সেই যে বার ধরা পরে খুব ধোলাই খেলো! 
তখন রাগে বলে দিয়েছিলো তোমরাও তো দিদির ঘট থেকে পয়সা বের করে নাও আমি দেখেছি।  

বাবা মা দিদি সবাই চমকে যায় সেদিন। 

দিদি সেই যে ঘট টা ভেঙে দিলো আজও দিদি আর ঘটে পয়সা রাখে না। 

বলে ভাই যদি আবার দুষ্টুমি করে ওই রকম আবার ধোলাই খায়।  সেই দিন দিদির খুব কষ্ট হয়েছিলো।। 
***********---------************


সেই ছেলেটার মা সেদিন জানতে চেয়েছিল কি রে

 কি দেখলি কোন কাগজ টা তোর জন্ম সারটিবিট? 

ছেলেটা ইচ্ছে করেই বলেছিল কি জানি বুঝতে পারছি না। 

ছেলেটা জানে আজ তার জন্মদিন।  

সেই ছেলে টা জানে সে এমন এক পরিবারের আনন্দের সম্পদ তাকে পেয়ে তার বাবা মা নিজেদের জীবনের যে যুদ্ধে প্রতিদিন  অংশগ্রহণ করে!
 সেখানে এই সব তাদের কাছে কেবলই বিলাসিতা।  
ওদের  মতো পরিবারে তিন বেলা সকলের মুখে দুমুঠো ভাতের যোগান দিতে গিয়েই বাবা মা ভুলে গিয়েছে ওদের  জীবনের সব আনন্দ। 

তাই ওসব দাবি মানায় না।  

ও সব বড্ডো বে মানান।  


ছেলেটা সেদিন  মনে মনে স্থির করেছে

  আমার মা যেদিন আমায় বলবে আজ তোর জন্মদিন আমি সেইদিন আমার জন্মদিন পালন করব। 

আমি সেই দিন জন্মদিন পালন করবো। 

সেই তারপর দেখতে দেখতে কেটে গেলো কতো গুলো বছর কোন দিনই তার মা তাকে বলে নি। 

ওই কথা টা। 

আজ সন্ধ্যায় কেউ একজন বলেছে ও ভাই তোমার জন্মদিন কবে গোঁ,,

ছেলেটা  চমকে যায় !  

আজ কেউ বহু বছর পর এই প্রশ্ন করলো। 

ছেলে টা  বলেছে  নাঃ আমি বলতে চাই না। 

সে বলেছে ঠিক জানবেই!!

ছেলেটা জানতে চেয়েছে তারপর? 

তারপর সেদিন সারাদিন তার বাড়িতে ছেলেটার  থাকার নিমন্ত্রণ দেবে।
 তিন বেলা সব তার পছন্দের খাদ্য খাবারের আয়োজন করবে।  

সেদিন সেই পরিবারে উৎসব হবে। 

তারপর !

  তারপর  কি জানি কি হবে কবে? 






শিব তাণ্ডব

শিব তাণ্ডব || Shiv Tandav || (শিব তাণ্ডব রচনা করেছিলেন রাবণ) জটা-টবী-গলজ্জ্বল-প্রবাহ-পাবিতস্থলে গলেবলম্ব্য লম্বিতাং ভুজঙ্গ-তুঙ্গ-মালিকাম্ । ...