ও ,,, মা,,
কে ফোন করেছে?
কার সাথে কথা বলছো?.
ভেবে ছিলাম হয়তো প্রিয়াঙ্কা ফোন করেছে।
মা ওর সাথে কথা বলছে।
এর আগে ওরা অনেক বার কথা বলেছে আমি জানিই না।।
হয়তো আজও তাই।
মা খুব হেসে হেসে কথা বলছে।
আমি সামনে আসতেই বলে রাখছি আমার শত্রু টা বাড়ি এসেছে।
গরু টা খাটালে খাবার দিয়ে নেই পরে কথা হবে।
ফোন গরম হয়ে গেছে।
কথাটা শোনার পরে কৌতূহল আরো অনেক বেড়ে গিয়েছিল।
কি জানি হয়তো আমার ভাবনাটাই সত্যি হতে পারে!
তাই যেন হয়।
আমি এখনো তার অপেক্ষায়।
আর পারছি না চলতে।
একবার যদি বাঁবলা গাছের কষ লেগে যায় সেই দাগ যেমন উঠতে চায় না।
প্রেমের স্বাদ ঠিক ওই কষের মতো, প্রেমের নেশা হৃদয় থেকে গেলেও চোখের নেশা যেন শেষ হয় না।
তাই তার জন্য আমার সেই নেশা সব সময়।
মা বললো এই নে কথা বলবে তোর সাথে দেখ কে?
চমকে যাই।
তবে কি সিত্যিই এটা প্রিয়!
ফোন নিতেই দেখলাম অচেনা নম্বর কৌতূহল তখন উর্ধ্বে টান।
সে এক দারুণ অনুভূতি।
ফোন স্কিনে দেখছি ৪৮ মিনিটের কথপোকথন ভেসে উঠেছে।
কি অবস্থা বুঝতে পেরেছেন?
ফোন কানে দিতেই ওপাশ থেকে বলে উঠলো
ও মামা কেমন আছো? আমি তোমার বাবাই বলছি।
বুঝলাম এ আমার মায়ের বৈধ দ্বিতীয় প্রেমিক।
তাকে তো একটু আদর করেই ডাকতে হবে নইলে মা কষ্ট পাবে।
নাঃ নাঃ মা কে কষ্ট দেওয়া পাপ ওই কাজ ভুলেও যেন না হয়।
মা ক্ষমা করো আমি ওকে বাবাই কেন বাবা বলেও ডাকতে রাজি।
হ্যা , ঠিক আছে।
তো! আমার ওই দ্বিতীয় বাবা কথা বলতে জানতে পারলাম আজ বাড়িতে ডিমের ঝোল, আমড়া দিয়ে মুসুর ডাল,,,উচ্ছে তোতো থাকবেই।
সব ভুলে গিয়ে মা কে জিজ্ঞেস করলাম
ও মা আমার জন্য ডিমের মামলেট করে ঝোলে দিয়েছোতো!
নইলে আমি খাবো না।
আমি মনে মনে বলছি মা যেন কোন কারণেই ভুলে না যায়।
মা যেন হ্যা বলে।
মা বলল না ওসব করিনি!
আমার অত সব কিছু মনে নেই।
আমি সব এক রকম করে রেখেছি।
তুই খেলে খাবি না খেলে কিছু করার নেই।
রোজ রোজ ওইসব ঝামেলা আমার ভালো লাগেনা।
আমি অতো ভাগাভাগি করতে পারবোনা।
তোর যদি ভাগে ভাগে খেতে হয!
তাহলে তুই রান্না করার লোক নিয়ে আয়।
তোকে ভাগে ভাগে করে দেবে খাবি।
আমি আর পারবো না।
(এই শুরু মায়ের সাথে ঝগড়া,,)
ও তার মানে এখন আর তুমি আমার উপরে তোমার সব অধিকার তুমি রাখো না।
আমি কি বঞ্চিত হয়েছি তোমার সেই অধিকার থেকে? ।
আমার কি এখন অবশ্যই আমার দ্বায়িত্ব নিতে কোন একজন কে আনতেই হবে।
ও মা,, সন্তান কি তোমার বড়ো হয়েছে আজ!
যে আমার জন্য কিছুই করতে পারবে না বলছো?
তোমার সেই ছোট্ট সন্তান কি আজ আর ছোট্ট টা নেই?
মা!
ও মা!
তবে কেন এখনো মনে প্রাণে শরিরে একটু আঘাত পেলেই বলে উঠি,,
ও! মা!
কারণ এই আমি টা তোমার অদ্বিতীয় অংশ তাই।
আমার সব অনুভব অনুভূতি তোমার হয়ে আমায় সুস্থতায় নিশ্চিত ভাবে রাখে তাই ডাকি
মা! বলে,,
আর তুমি বলছো আজ থেকে আর আমার জন্য কিছুই করতে পারবে না!
আমাকেই আমার ব্যাবস্থা করে নিতে।
হ্যা আমি তাই করবো।
আজ একটা বিঞ্জাপণে দেখলাম যদি পাত্রীর দাবি মেনে থাকতে পারে পাত্রীর সাথে তবেই যোগাযোগ করতে।
আমি ওই যোগাযোগ টা করবো।
সে যেমন হোক আমি মেনে নিয়ে চলে যাবো।
আমি সারাজীবন সকলের চোখে ঘরজামাই আর আমার চোখে আমার দ্বায়িত্ব নিতে পারবে সেই মানুষ টার কাছেই থাকবো।
আর আসবো না তোমার কাছে।
হাজার ডাকলেও আসবো না ফিরে।
তারপর যদি এখন কার মতো খুব ব্যাথা পাই!
কিংবা মনের ঘরের কোন দেওয়ালের ফাঁটল ধরে তবুও কাঁদবো না।
ডাকবো না মা বলে।
আমি তখন সেই মানুষ টাকেই ডাকবো।
তোমাকে তো শুধু মা বলেই ভগবান মেনেছি।
কিন্তু তাকে আমি নাড়ির ষোল কলায় চৌষট্টি গুনে প্রতি গুনে আলাদা আলাদা করে ডাকবো।,
কখনো প্রিয়, কখনো মাধবীলতা,
কখনো শুখ পাখি,,
খুব অশুখে বন্ধু,,
স্নেহে তার কাছেও তোমার মতোই মায়ের ভালোবাসাই চাইবো,,
সেও তখন মা।
আর হৃদপিণ্ডে ওই মানুষ টাকে পূজো করবো।
সম্মানে তাকে তোমার মতোই মর্যাদা দেবো।
নইলে যে তোমার ঘাড়ে দোষ পরবে।
বলবে আমার মা সংস্কারি নয়।
না মা! ।
আমি তা পারবো না।
আমি ওর বাবা মা কে আমিও বাবা মা ডাকবো।
আমার সব কিছুতে ওদের ঠিকানা ব্যবহার করবো।
আমি ওদের সাথে ওদের মতো থাকতে নিজেকে বাধ্য করবো যদি কোন অসুবিধা হয়।
ও,,,এসব তোমায় বলছি কেন?
বলে কি লাভ?
আমিতো তোমার সাথে কোন যোগাযোগ রাখব না।
সুতরাং আমি কেমন থাকি বা না থাকি তোমার না জানলেও চলবে।
তবুও ফিরবো না,, আমি আমার দ্বায়িত্ব নিতে পারার মানুষ টার কাছেই থাকবো।
হ্যাঁ মা তুমি ঠিকই বলেছো,,
এখন আমি শুধুই তোমার সন্তান।
আর কিছু না?
সে সন্তান তো কুকুর ছাগলেরও থাকে তবে আমার আর ওদের মধ্যে পার্থক্য কোথায়?
হ্যাঁ মা তুমি ঠিক,
এই যে আমি ভাবতাম আমার কষ্ট হলে আমি ব্যথা পেলেই এই যে এখনো মা বলে উঠি,,
আমি সেই তোমার গর্ভের থেকেই শিখে এসেছি এই মা ডাক টা।
এই অভ্যাসে খুব কষ্টেও মা! বলে ডাকি।
কিন্তু কি জানো মা!
আমার সেই কষ্ট তোমার ডাকেও আজকাল বিন্দুমাত্র কমে না।
আমি যতটা শুখ পাই একজন কে ভেবে ততটা শুখ আমি আর কিছুতেই পাই না।
আমি নিজেও জানিনা ওই মানুষটাকে না পাওয়ার কষ্ট আমার এই জীবনে কবে ঘুচবে।
তাই সেই অনুভূতি তো তোমায় কোন দিন আঘাত করেনি?
কেন?
সে টা আজ বুঝতে পেরেছি মা।
আমি আজ তোমার ছোট্ট সন্তান টা অনেক বড়ো হয়েছি।
আজ নিজের কষ্ট নিজের নামের মুখোশের আড়ালে রেখে প্রত্যেকবার তোমার সামনে আসি।।
প্রত্যেকবার তোমায় মা বলে ডাকি।
আসলে আমিই তো মুখোশ পরে থাকি।
তোমাকে দেখতে দেইনা কোথায় আমার ব্যথা।
হ্যাঁ মা তুমিই ঠিক,,, আমি নিজের কতো ইচ্ছে তোমায় বলি না।
এই যেমন ধরো সেদিন বৃষ্টির রাতে ভাত খেতে ইচ্ছে করছিল না।।
ইচ্ছে ছিল যদি একটু খিচুড়ি পেতাম।
দেখলাম তোমার শরীরটা খুব একটা ভালো না।
সেই ইচ্ছেটা প্রকাশ করিনি।
তখন আমিও তোমার মতোই ভেবে ছিলাম।
সত্যিই যদি আমার একটা কেউ থাকতো!
আজ রাতে সে একটু খিচুড়ি করে দিতোই।
হ্যা আজ,,, আমার পাশে একটা মানুষের খুব দরকার।
তারপর যেমন গতকাল রাতে ঘুম হয় নি।
জীবনের একাকিত্বের রোগে ধরেছে মা।
ভীষণ জ্বালা একা থাকাই যায় না,,,
আমি খুব খুজেছি এক জনের সাথে থাকার অভাব।
শেষ রাতে ঘুম আসে ক্লান্তিতে শরিরও আজ খুব একটা ভালো না।
আমি নেশায় পরেছি মা।
ভীষণ রকম নেশায় পরেছি,, একজনের।।
হ্যা মা আমি প্রেম পরেছি এক জনের আজ প্রায় এক মাস তার সাথে যোগাযোগ নেই।
ওই যে দেখো আমি ফোনে বকবক করি দুই তিন জনের সাথে ওরা আজ আমার আঘাতের ওপর একটু একটু মলম দিতে আসে,,,
"পিউ" টা সবার থেকে বেশি খেয়াল রাখে।
মৌরি অনেক টাই চেষ্টা করে,,
ঝিঁঝি পোকা ফুলের সুভাষের মতো এসে সব ভুলিয়ে মিনিশে উধাও হয়ে যায়।
তবে ঝিঁঝি পোকা টাও অনেকটা আগলে রাখতে চায়।
ওরা সবাই আমার এই যুদ্ধের বীর সৈনিক।
আমি ওদের সাথে নিয়ে এই যাত্রায় জয় পেয়েছি।
তবে কি জানো মা!
আমিও ভাবি আমার একটা মানুষ খুব দরকার।
আমি যেই কারণে মুখোশ পরে তোমার সামনে আসি,,
আমি তারকাছে কিচ্ছুটি লোকাবো না।
আমি তার কাছে নিজেকে খোলা বই এর মতো রাখবো।
সে যেমন খুশি যখন খুশি যাখুশি তাই পড়বে।
ওহো!
কেন আমি ভুল করে তোমায় এসব বলে ফেললাম?
আমি তোমাদের সাথে কোন যোগাযোগ রাখবো না।
আমি চলে যাবো আমার দ্বায়িত্ব নেবে যেই মানুষ টা তার কাছে।
ফিরবো না আর।
তারকাছেই থাকবো।।
তুমি তো অনেক আগেই বলে দিয়েছো।
তুমি মরলে আমায় অতো কিছু করতে হবে না।
ওই ১৫' দিনে শ্রাদ্ধ শান্তি কাছা নেওয়া একসিদ্ধ আঁধ ফোটা ভাত আগুনে জ্বেলে আমায় খেতেও হবে না।
তুমি তো কোন কিছুতেই আমার পিছু ছাড়বে না।
যখের মতো আমায় খেয়াল রাখবে আমি নাকি তোমার সেই ধন।
তবে তুমি মরলে আমি এসে ওই শশান ঘাটের কাজ মিটিয়ে সবাই কে মিষ্টি মুখ করিয়ে আবার আমার দ্বায়িত্ব নেওয়া মানুষ টার কাছে চলে যাবো একেবারে তারমতো তারসাথে আজীবন একসাথে থাকতে।
কারণ দুনিয়ায় আর আমার কেউ সত্যিই নেই।
সেও যদি তাড়িয়ে দেয় তবে আমি যাযাবর হয়ে যাবো।
না,, আমি যাযাবর হতে চাই না।
আর তুমি কিন্তু আবার কান্নাকাটি করবে না।
আমার ছেলে টা আজ আমার নেই।
এখন পরের মেয়ের হয়ে গেছে।
কিংবা! ব্যাঙ্গ করে বলবে না,,
অন্তত তুমি,
আমার ছেলে এখন অন্যের মা কে মা ডাকে।
জামাই এখন ছেলে হয়েছে।
অথবা সমাজ যেটাকে বলে ঘরজামাই।
তুমি এ সব বলবে না।
একদম বলবে নাঃ
আমি বছরের ৩৬৪ দিন ওদের সাথে থাকবো একদিন তোমার মৃত্যু বার্ষিকির দিন গুলোয় আমি সকলের থেকে নিজেকে হারিয়ে একা থাকবো।
তবুও তোমার.................
এর মধ্যে মা কাছে এসে বলছে,,
বাবা রে শুধু একবার তার মুখ টা আমায় দেখিয়ে নিয়ে যাস।
তোকে ফিরে আসতে হবে না।
খুব সুখে থাকিস,,,
এবার স্নান করে আয়,,,
অনেক বেলা হয়েছে,, আমি খাবার পরিবেশন করি। তারাতাড়ি আয় বাবা।
হ্যাঁ আজকের মতো তোমায় আর একটু জ্বলাই তারপর বিকেলে ফোন করবো,,
কথা শেষ হতেনা হতেই আমার জ্যান্ত দুর্গা হাতে হাতা নিয়ে রুদ্ধকন্ঠে হারামজাদা তুই যাবি এখন,,,
আমি দে দৌড়,, সোজা স্নানের ঘরে।