সেই ছেলেটার জন্মদিন ''

আজ সেই ছেলে টাকে  এই ৩৬ বছরের এই ছোট্ট জিবনে এই দ্বিতীয় বার কেউ জানতে চাইলো তোমার জন্মদিন কবে? 

ছেলে টা  খানিকটা চমকে যায়!. 

. তারপর তাকে বলে ! 
এই যে তোমরা তোমাদের জন্মদিন ঘিরে এতো আনন্দ করো;! 

আমি সেই ছেলেটা যার কোন দিন জন্মদিন পালন হয়নি।

প্রতিবার তার জন্মদিন টা ঘিরে সে অনেক পরিকল্পনা করে অনেক,, 

না শেষে সেই ছেলেটা কিছুই করতে পারে না।

আর দিন টা এমনিই অন্য পাঁচ দিনের মতো কেটে যায়। 
এই পাঁচ দিন কথা টা খুব দামি কথা তাই এই ভাবেই বললাম।  

ওই পাঁচ দিনে মানুষের স্মৃতি ভুলতে শুরু হয়।

যাইহোক এই ভাবেই কাটে সেই ছেলেটার প্রতিটি জন্মদিন।  

সেই ছেলে টাও ভাবে এই বারের জন্মদিনে ওর মা ওকে বলবে! 

বাবু আজ তোর জন্মদিন, 

তো একটু কাজের চাপ কম রাখিস। 
 একটু বাড়িতে থাকার চেষ্টা করিস,,, 

আর সন্ধ্যেবেলা তোর রাক্ষসের দলের নিমন্ত্রণ রইলো ওদের আসতে বলিস।

আর হ্যাঁ  পারলে বাবা কে একটা প্রনাম করে তারপর দিনের সব কাজ শুরু করিস। 

সকাল সকাল গঙা স্নান করে আসার সময় পোড়ামাকে একটু পূজো দিয়ে আসবি। 

ওঠ বাবা!  

চা এনেছি!  

ছেলেটা  মায়ের হাত টা ধরে ঘুম ঘুম চোখে টেনে বুকে নিয়ে মায়ের কপালে এঁকে দিতো  চুমুর আহ্লাদের আলপনা।  

মা!  এই তুমিই আমার প্রতি জন্মের মা হয়ে আমায় এই রকম  স্নেহের আদরে মানুষ করবে তো! 

ছাড়!  ছাড় বাবা!  

নাঃ আগে বলো,, 
আমার প্রতি জন্মের মা হবে?  

হ্যাঁ তুইও আমার সব জন্মের দস্যি ছেলে হয়ে আসিস রে বাবা । 

ওঠো বাবা যাও আজ বাবাকে প্রনাম করে দিনের শুরু করো,,, 

ছেলেটা  মা কে আগে প্রনাম করতেই বাবা সেখানে হাজির.
 তাকেও প্রনাম করতেই বাড়িতে দিদির উপস্থিতি।
 ভাই ভাইরে  কই তুই আমরা সবাই এসেছি বোন আসছে। 

তোর জামাইবাবু বাজারে আছে তোকে একটু যেতে বলেছে তারাতাড়ি সাইকেল টা নিয়ে বাজারের দিকে যা ভাই ।  

আসার সময় একটা ২ লিটারের ঠান্ডা  কিছু নিয়ে আসবি ,,  

ম্যাডাম  ১ পেটি নিয়ে আসবো, ঠান্ডা ,
 সবাই মিলে একটু 🥰🥰🥰🥰 

জুতো দেখেছিস পায়ে!  

এই জুতো দিয়ে আজ তোর জন্মদিন পালন হবে।  

যেটা যে ভাবে বলছি সেই ভাবেই করবি।  

মনে থাকে যেন। 

 নইলে ওই জুতো দেখিয়ে রাখলাম দেখে নে। 

পাওয়া হলো জন্মদিনের প্রথম শুভেচ্ছা। 

 জানতে চাইলো  তো আর সবাই কই?  

ওরা টিউশন থেকে এখানে আসবে সেই ১০ টায়,, খেয়ে স্কুলে যাবে  তারপর আবার এখানে।  
 ভাই তুই বাজারে যা, আমি রান্নার দিক টা দেখি  ।  

মা!  এদিকে এসো,, দিদি ডাকতেই মা ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন। 




কি ভাবছেন সেই ছেলে টা পাগোল? 


আরে  নাঃ নাঃ  

সেই ছেলে টা তার প্রতিটি জন্মদিন এই রকম নানান আনন্দের পরিকল্পনায় ভাবে।  

কোন দিন  সফল হয়নি তার স্বপ্ন দেখা জন্মদিনের  পরিকল্পনা। 


সেই ছেলে টা জন্মদিন এলেই! 
এই তোমাদের মতো কোন দিনই মুখে কেউ এক বাটি পায়েস কিংবা একটু ক্ষীর (ছেলে টা খুব ভালো খায়)  তুলে দেয়নি ।  

নাঃ  কেউ কোন দিন দেয়নি,,,, । 

হ্যা তোমাদের মতো তারও মা আছে। 

তোমাদের মতোই সেই মা ওকে ভালোবাসে। 

কিন্তু কোন দিন তার মা,, 
তার জন্মদিনে মুখে একটু কিছু তুলে দেয় নি। 


আবার আপনারা কেউ ভেবে নিয়েন না সে তার মায়ের বদনাম গাইছে। 

এইভাবে কেউই ভাববেন না। 

ক্ষমা করবেন। 


সে ছেলেটা জানে!  

তার মা তাকে মানুষ করতে জীবনে কত কষ্ট সহ্য করেছে,,, 

তার মা তাকে মানুষ করতে কত রাতের পর রাত নির্ঘুম রাত কাটিয়েছে। 

সেই ছেলেটা জানে!  

সেই ছেলেটা তার মায়ের আত্মা। 

সেই ছেলেটার প্রতিটা জন্মদিনে,, 
সেই ছেলে টা অপেক্ষায় থাকে,, 

প্রতিবার তার জন্ম দিন আসলেই সে যতই হাজারো পরিকল্পনা করুক সে অপেক্ষায় থাকে কবে তার মা তাকে বলবে,,, 

বাবু আজ তোর জন্মদিন। 

সেই ছেলেটার ছোটবেলা আজকের ছোট ছেলেমেয়েদের মত ছিল না। 

 ওদের ওই জন্মদিন নিয়ে কোন মাথা ব্যাথা ছিলো না।  

ওরা সকালে ঘুম থেকে উঠেই দাঁত মুখ ধুয়ে তিন ভাইবোন বসে মা বাবা কে নিয়ে সবাই মিলে মুড়ি খেতো বাটিতে বাটিতে।  

কোন কোন দিন ঠাকুমার চায়ের কাপে ছেলে টা হামলা চালাতো।  

আবার বাবার লাল চোখের ভীষণ ভিতু ছিলো।  

তারপর সেই তিন জন পড়তে বসা সেখানে খুটিনাটি রোজই কিছু লেগেই থাকতো। 

শেষে দিদির হাতের মার খেয়ে চুপচাপ পড়া করতো।  

মাঝেমধ্যে ওই দিদির কাজ টা মা করতেন সেদিন ভিটামিন টা একটু বেশি পেতে হতো তাতে প্রায়  দিন পাঁচেক চলতো।  

এই ভাবেই যেদিন সেই ছেলে টা পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র"
 তখন শম্পা  দিদি,,, একদিন 

 জানতে চেয়েছিলো এ ভাই তোর জন্মদিন কবে রে?  

ওদের স্কুল টা ছেলে মেয়ে একসাথে ছিলো।
শম্পা  অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী।


 আর ওর খুব প্রিয় ছিলো ওই শম্পা দিদি।  

সে এই স্কুলে অলোক নামের এক শান্ত ছেলে কে বন্ধু বানিয়েছে ,, 
আর ওরই নিজের  দিদি  ওই শম্পা দিদি।

হ্যা সেই দিদিও ওকে ভীষণ ভালো বাসতে শুরু করলো।

সেদিন ছেলে টা বাড়ি ফিরে মা কে জানতে চেয়ে ছিলো 

মা!  সবাই কি সুন্দর জন্মদিন পালোন করে।

 আমার তো কোন দিন জন্মদিন করো নি। 

স্কুলের বন্ধু দের সবাই জন্মদিন জানে।

 আমি জানি না। 

ও মা!  আমার জন্মদিন কবে?  

 তুই তো কার্তিক মাসের কৃষ্ণ পক্ষের রবিবার জন্মেছিলি। 

তারিখ মনে নেই।  

ওমা!  

আজকে আমার জন্ম প্রমান পত্র  টা একটু বের করে দেবে! 

দেখব ইংরেজি কত তারিখে আমার জন্ম ছিল। 

খেয়ে ওঠ  তারপর দিচ্ছি। 

বাঁধাকপি ,  ডালের বড়া,  টামাটোডাল। 

নাঃ সেদিন টা কোন দিন ভুলবে  না ছেলে টা। 

তারপর যখন জন্মের প্রমাণপত্র টা 
দেখেছিলো ! 

দেখলো! 


সেই ছেলেটা দেখেছিলো  
এই  আজই,,,
সেই ছেলেটার জন্মদিন,,,, সেদিন ও ছিলো কার্তিকের এক বুধ বার।  
তারিখ টা সেই ওই দিন। 
*************-*********************
সেদিন ছেলেটা সকালে দেখেছে,,, 
বাজারের কিছুই ছিল না ঘরে।

  সকালে বাবা বলে গেছেন,, 
দিদির  পয়সা জমানো ঘট থে কে তিরিশ টাকা বের করে বাজার করতে ।

ওর   মা সেদিন তাই করেছিলো। 

সেই ছেলেটা নিজেই সাক্ষী   সেই দিনের খাবার যোগারের দৃশ্যে । 

দিদি মামার বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছে সেদিন। 

ওর মা ওকে বলেছিলো দিদিকে বলতে না। 

নাঃ দিদি আজও জানে না। 

দিদির ওই ঘট থেকে সুযোগ ছেলে টাও নিয়েছে অনেক বার,, 

সেই যে বার ধরা পরে খুব ধোলাই খেলো! 
তখন রাগে বলে দিয়েছিলো তোমরাও তো দিদির ঘট থেকে পয়সা বের করে নাও আমি দেখেছি।  

বাবা মা দিদি সবাই চমকে যায় সেদিন। 

দিদি সেই যে ঘট টা ভেঙে দিলো আজও দিদি আর ঘটে পয়সা রাখে না। 

বলে ভাই যদি আবার দুষ্টুমি করে ওই রকম আবার ধোলাই খায়।  সেই দিন দিদির খুব কষ্ট হয়েছিলো।। 
***********---------************


সেই ছেলেটার মা সেদিন জানতে চেয়েছিল কি রে

 কি দেখলি কোন কাগজ টা তোর জন্ম সারটিবিট? 

ছেলেটা ইচ্ছে করেই বলেছিল কি জানি বুঝতে পারছি না। 

ছেলেটা জানে আজ তার জন্মদিন।  

সেই ছেলে টা জানে সে এমন এক পরিবারের আনন্দের সম্পদ তাকে পেয়ে তার বাবা মা নিজেদের জীবনের যে যুদ্ধে প্রতিদিন  অংশগ্রহণ করে!
 সেখানে এই সব তাদের কাছে কেবলই বিলাসিতা।  
ওদের  মতো পরিবারে তিন বেলা সকলের মুখে দুমুঠো ভাতের যোগান দিতে গিয়েই বাবা মা ভুলে গিয়েছে ওদের  জীবনের সব আনন্দ। 

তাই ওসব দাবি মানায় না।  

ও সব বড্ডো বে মানান।  


ছেলেটা সেদিন  মনে মনে স্থির করেছে

  আমার মা যেদিন আমায় বলবে আজ তোর জন্মদিন আমি সেইদিন আমার জন্মদিন পালন করব। 

আমি সেই দিন জন্মদিন পালন করবো। 

সেই তারপর দেখতে দেখতে কেটে গেলো কতো গুলো বছর কোন দিনই তার মা তাকে বলে নি। 

ওই কথা টা। 

আজ সন্ধ্যায় কেউ একজন বলেছে ও ভাই তোমার জন্মদিন কবে গোঁ,,

ছেলেটা  চমকে যায় !  

আজ কেউ বহু বছর পর এই প্রশ্ন করলো। 

ছেলে টা  বলেছে  নাঃ আমি বলতে চাই না। 

সে বলেছে ঠিক জানবেই!!

ছেলেটা জানতে চেয়েছে তারপর? 

তারপর সেদিন সারাদিন তার বাড়িতে ছেলেটার  থাকার নিমন্ত্রণ দেবে।
 তিন বেলা সব তার পছন্দের খাদ্য খাবারের আয়োজন করবে।  

সেদিন সেই পরিবারে উৎসব হবে। 

তারপর !

  তারপর  কি জানি কি হবে কবে? 






ও দয়াল তোমার লীলা বোঝা দ্বায়

ও দয়াল তোমার লীলা বোঝা দায় দীনের বন্ধু করুণা সিন্ধু, রাধার শ্যামরায়।। তুমি গোঠের রাখাল রাজা, যশোদার কানাই, বিষ্ণুপ্রিয়ার প্রাণসখা, নদীয়ার নি...