ভালোবাসা অন্তহীন


সত্যিকারের ভালোবাসার গভীরতা পরিমাপ করা যায় না, 
দেখা যায় না, ছোঁয়া যায় না..।।
শুধু অনুভব করতে হয়; হৃ'দয় দিয়ে অনুভব...!! 

যার প্রখ'রতা এতো বেশি যে হৃ'দয় ক্ষা'ন্ত হয়, 
শান্ত হয়, তৃ'প্তি পায়..।। 
আহাঃ
নতুন করে বাঁচতে ইচ্ছে করে, 

ভালোবাসতে ইচ্ছে করে...!! 
আবার! 


আবার স্বাদ পেতে ইচ্ছে করে সেই অমৃতের!! 

আহাঃ!   আহা!    আহাঃ

নিজের মধ্যে জেগে ওঠে  নতুন এক স্ব'ত্বা।
 যে স্ব'ত্বা ভালোবাসায় পূর্ণ গোটা একটা সাম্রাজ্য  আবি'ষ্কার করে..!! 

যেমন ,  প্রিয় "কাঠগোলা ”,,,,,

যে সাম্রাজ্য  জুড়ে খুঁজে পায় প্রিয় মানুষটাকে, 
যাকে সে সারাজীবন নিজের করে রাখতে চায়, ভালোবাসতে চায়,
আঁক'ড়ে ধরে বাঁচতে চায়..!!

নিজের চারপাশে যার অস্তি'ত্ব কল্পনা করে 
নিজেকে বি'লীন করে দেয়...।। 

এ যেন এক অদ্ভু'ত রকমের ভালো লাগা, 
যে ভালো লাগা প্রতিনিয়ত নতুন করে ভালোবাসতে শেখায়।
আনমনে হাসতে শেখায়, পাখিদের মতো উড়তে শেখায়, বাচ্চাদের মতো চ'ঞ্চল হতে শেখায়..!! 
আমার মতো উন্মাদ হতেও শেখায়,, 

শেখায় সর্বত্যাগী হয়ে,,, ভবঘুরে হয়ে ঘোরে ওরা,, 
শেখায় " "! মুখোশের আড়ালে হাসি কান্নার লুকোচুরি। 
শেখায় যতুগৃহে শীতল বাতাস বয়ে আনতে,,, 

আর তাই তো আজ'ন্মকাল বেঁচে থাকুক সকল ভালোবাসা, 
পূর্ণতা পাক সবার চাওয়া, 
ভালোবেসে ভালো থাকুক ভালোবাসে!" যারা"...!!!!!



একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে...

"একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে", কথাটা একটা ডাহা মিথ্যা কথা। এটা আমাদের মত দূর্বল লোকদের জন্য সান্ত্বনার বাণী, বেঁচে থাকার খুঁটি, নিজেকে বুঝ দেয়ার মন্ত্র!! 

আমাদের কোনোদিনই সব ঠিক হয় না। আমাদের কোনোকিছু কখনোই ঠিক হয় না। সময় গড়িয়ে যায়, আমাদের পুরোনো ক্ষতের উপর প্রলেপ পড়ে কেবল। সেই পাতলা প্রলেপের উপর ভর করে আমরা অতীতের কষ্ট ভুলে যাওয়ার ভান করি। 

এই ভানের উপর আশ্রয় করে আমরা নিজেদেরকে নতুন করে গুছাই, স্বপ্ন দেখার চেষ্টা করি। ভুলে যাওয়ার ভানটুকুকে আঁকড়ে ধরে আমরা নিজেদেরকে সান্ত্বনা দেই এই বলে যে, "একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে।" 

আসলে আমাদের ক্ষতগুলো কখনো শুকায় না। আমরা শুধু দিনকে দিন নিজেকে ভুল বুঝানোর ব্যাপারে, সান্ত্বনা দেবার ব্যপারে দক্ষ হয়ে উঠি। বাস্তবে আমাদের জীবনগুলো কেটে যায় মিথ্যা প্রতিশ্রুতি আর অর্থহীন সান্ত্বনায়।
মাঝে মাঝে নিজেকে একা মনে হয় অনেক বেশি একা! আসলে একা বাঁচা কঠিন কিন্তু অসম্ভব কিছু না!'

তবে একটা সময় নিজেকে এত্ত নিঃসঙ্গ লাগে তখন মনে হয় কাউকে দরকার। একটা মানুষ হলে যে আমার সমস্যা দূর হবে" আমার দিনগুলো আবার সুন্দর করে ফিরে আসবে"সে ডাক্তার হয়ে সব রোগের ওষুধ দিবে এমনটা না।
তবুও একটা মানুষ দরকার পরে" মানুষটা চুপ করে পাশে বসে থাকবে-মাঝে মাঝে মাথায় হাত বুলিয়ে দিবে এবং মন দিয়ে এলোমেলো এই জীবনের সম্পূর্ন গল্প শুনবে।

জীবটা এলোমেলো করে দেওয়া ঝড় হয়তো সামলাতে পারবে না কিন্তু এই বিশাল ঝড় একা-একা সামলানোর থেকে একটা মানুষ হাত ধরে পাশে দাঁড়িয়ে থাকলে অনেকটা সাহস পাওয়া যাবে।

মাঝেমেধ্য যখন ডিপ্রেশন ভর করে তখন মানুষটা পাশে লাগে একটু ভাগাভাগি করলে নিজেকে হালকা মনে হয়।

গ্রীষ্মের সন্ধ্যা, তুমি আমি পাশাপাশি হাঁটতে যাবো রেললাইনের ধারে। ক্লান্ত হয়ে গেলে কাছেই কোনো দোকান থেকে এক কাপ রঙ চা নিয়ে বসে পড়বো দুজন 
গল্প করবো সারাদিনের, কাল কি করবো কোথায় যাবো
লোডশেডিং এর সন্ধ্যা আলো একদম নেই। মৃদু দখিনা বাতাস এসে লাগছে চোখে মুখে 
আমি শাড়ির আচল জড়িয়ে গরম কাপ হাতে নিতে পারছি না বলে তুমি ফু দিয়ে দিচ্ছো..
জানো, এমন একটা দিনের আশা আমি সবসময় করি। 
সারাদিন অনেক কথা বললেও তাঁর সামনে আসলে, শব্দ বোধহয় একটু জিরিয়ে নেয়। ভাষা তো অনেকেই বোঝে কিন্তু নিস্তব্ধতা সবাই যে বোঝেনা। শব্দহীন সেই কথোপকথনের লোভেই হয়তো বারবার তাঁর কাছে যাই। কি অদ্ভুত তাই না! দু'টা মানুষ পাশাপাশি বসে আছে। অথচ কেউ কিছু বলছে না..

এমন একটা দিন হলেও আসুক। কোনো কথা হবে না, ছুঁয়ে দেখা হবে না শুধু চোখের দিকে তাকিয়েই কেটে যাবে পুরোটা সময়।
কিন্তু, আজ তুমি নেই কবে আসবে কিচ্ছু জানি না
শুধু জানি তীব্র ভালোবেসে অপেক্ষা করলে, কেটে যাওয়া প্রতিটা মুহূর্ত সুখের হয়।

তোমার জন্য পৃথিবীর সমস্ত কিছু ছেড়ে এসে দেখি তোমার মধ্যে পৃথিবী নেই তুমি আমার কল্পনার কাব্য মাত্র।
পুরনো সে পৃথিবীই বরং ভালো ছিলো, যে পৃথিবীর সমস্তটা জুড়ে ছিলে শুধুই তুমি...

চাওয়া থেকে পাওয়া অবধি যেতে যেতে এর মধ্যে আমাদের অনেক কিছু হারিয়ে যায়। এমনকি চাওয়ারও পরিবর্তন হয়।

জানি দেখা হবে-
রাতের শরীরে........


নৈতিকতার জয়

এক দৌড় প্রতিযোগিতায়। 
কেনিয়ার হয়ে দৌড়চ্ছিলেন আবেল মুতাই। খুব ভাল দৌড়চ্ছিল, সবাইকে পিছনে ফেলে প্রায় পৌঁছে গেছেন শেষ ল্যাপে।

তার পেছন পেছনই ধেয়ে আসছেন স্প্যানিশ অ্যাথলেট ইভান ফার্নান্ডেজ।

শেষ সীমানার অল্প একটু আগে  পৌঁছে বিভ্রান্ত হয়ে পড়লেন আবেল মুতাই, তিনি ফিনিশিং লাইন বুঝতে না পেরে ভাবলেন তিনি জিতে গেছেন আর দৌড়ের গতি কমিয়ে দিলেন...!!

তার পেছনে থাকা স্প্যানিশ অ্যাথলেট ইভান ফার্নান্ডেজ আন্দাজ করে ফেললেন আবেল মুতাইয়ের কনফিউশানের ব্যাপারটা, আর সাথে সাথেই স্প্যানিশ ভাষায় চিৎকার করে আবেলকে বলতে শুরু করলেন,  দৌড় শেষ হয়নি, তুমি দৌড়তে থাকো...!! আবেল স্প্যানিশ ভাষা না বুঝে আরো বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। ইভান বুঝতে পারে আর কোনো উপায় নেই... সে  আবেলের কাছাকাছি এসে  একরকম ধাক্কা মেরে ভিক্ট্রি লাইন পার করে জিতিয়ে দেয় আবেল মুতাই কে...!!

দৌড় শেষ হবার পর সাংবাদিকরা ঘিরে ধরে ইভানকে। প্রশ্ন একটাই, তুমি এইরকম কেন করলে..??

ইভান  ফার্নান্ডেজ বললেন, আমি একটি  সামাজিক পৃথিবী চাই যেখানে আমরা সবাই সবাইকে সাহায্য করব। সাংবাদিকরা সন্তুষ্ট হয়না এই জবাবে, সে প্রশ্ন করে, কিন্তু তুমি না জিতে ওকে জিতিয়ে দিলে কেন..??
ইভান ফার্নান্ডেজ বললেন জয়টা আমার প্রাপ্য ছিলোনা, যে প্রাপ্য ছিলো আমি তাকে সাহায্য করেছি মাত্র।  আর এমন জয় দিয়ে কি পাবো, একটা মেডেল...?
যেখানে নৈতিকতা থাকবে না...
আমার মা আমাকে সে শিক্ষা দেয় নি....।

কাহিনীটা পড়ে এক অন্যরকম অনূভুতি হলো আমার...
আমাদের পরিবার-সমাজ, আমাদের শিক্ষা-সংস্কৃতি শুধুমাত্র আমাদেরকে জিততেই শিখাচ্ছে কাউকে জিতাতে শিখায়নি কখনো । আমাদের শুধু জিতা প্রয়োজন, সফল হওয়া প্রয়োজন সেটা যেভাবেই হোক যে কোন মাধ্যমেই হোক।
কাউকে জিতানোর মধ্যেও জিতে যাওয়া থাকতে পারে কাউকে সাহায্য করার মধ্যেও সফলতা থাকতে পারে এগুলা কখনোই আমাদের শিক্ষায় আমাদের চিন্তায় নেই, কেনো নেই...!!

শূন্য হিসেবের খাতা


তোমায় নিয়ে আমার কোনো স্মৃতি লেখা নেই।তোমার  সাথে কাটানো দিন গোনা নেই, তোমার  সাথে কল্পনার সমাহার নেই, তোমায় ছোঁয়ার সাধ্য নেই।
তুমি  যেন আমার ছুঁতে না পারা ব্যাকুলতা। 

বৃষ্টিতে  কাঠগোলাপের গাছটি ভিজে ছুপছুপ। তোমার  নামে লাগিয়েছিলাম এই গাছটি, 
আমার হাত কাঁপছে এই  কাব্যের......

এই যাক-জমক আলোর শহর আর আমার হৃদয়টা!  অন্ধকার! 

এই যে গতরাতে ভেবে রাখলাম কতশত কথা বলবো তোমায়, তবে সব কিছু কেমন ধোঁয়াসা হয়ে গেলো। 
আমি চুপচাপ শক্ত ভাবে চেয়ে রইলাম মাত্র। 
পুরো তিন রাত জানালায়  বসে মন খারাপির জোগান দিয়েছি।
 আজও হয়তো তাই করবো 
এতে আমার প্রাপ্তির খাতা শূন্য রবে আর আমি সিক্ত। 
দীর্ঘশ্বাস ফেলে বিদায়ের ঘন্টা বাজছে কোথাও । যতটুকু ভেবেছি তারচেয়ে অনেক কিছু ভাবনা  বাকি আছে।
আমি হারিয়ে যাচ্ছি তীব্র অভিমানে। 

শব্দ দিয়ে কি কখনো অনুভূতি পুরোপুরি বোঝানো যায়? 

এই যে পরিপাটি দেয়ালের মতো নিজেকে সাজিয়ে রেখেছি বাহির থেকে, 
আর ভেতর থেকে  ঝলসে গেছি।
কেউ বুঝবে না!  কেউ জানলোও না।
তুমি!  নিজেও বুঝলেন না আমি  নামের এক উন্মাদ পাগল  তোমার বিরহে নিজেকে শেষ করে দিচ্ছে তিলে তিলে.......

মানুষ দেবী পূজা করে সেই দেবীও মৃন্ময়ী মূর্তির থেকে চিন্ময়ী হয়ে পুজারির সামনেই থাকেন।  মনেপ্রাণে আমিও সান্নিধ্যে থাকতে চেয়ে ছিলাম তোমার। 
 আর তুমি বার বার শুধুই  উপেক্ষা করেছিলে। 

মানুষ জানেইনা, ফানুস ওড়েনা, বাঁকধারা অভিমান থেকে যায়।
তোমার  সান্নিধ্য ছাড়া কি কখনো কিছু চেয়েছিলো সেই সাধক! ? 
অথচ তুমি  তাকে তীব্র অবহেলায়, হেয়ো করলে!
 তার ভালোবাসাকে আবেগ বললে!

 আচ্ছা আবেগ বুঝি এতো দীর্ঘ দিন রয়ে যায়?

 প্রকৃতি জানে,আকাশ জানে আমার অনুভূতিরা জানে  তোমায় আমি কতটা ভালোবাসি। 
আমি এক হাহাকারে ডুবে গিয়েছি দীর্ঘশ্বাসে। 

"বিষাক্ত হয়ে গেছি আমি, আমার অনুভূতি, আমার স্বপ্ন, আমার শহর, ঠিকানা বিহীন একটা অবয়ব এর নিকট  কেউ একটা চিঠি লিখে জানিয়ে দিও  যাকে আমি প্রাণপণে চেয়েছি।
সে আর কেউ নয়।  সে তুমি। 

জানো,আমি যখন  যোগ-বিয়োগ মিলাতে ব্যস্ত হিসেবের খাতায় তখন পেলাম শূন্যতা। 
আমাদের মধ্যে কার এই যোগ-বিয়োগে আমার সমাধি। 
অবাক হচ্ছো  ?  তোমায় "তুমি" বলে সম্বোধন করায়।
শেষ বেলায় না হয় একটু অধিকার নিয়ে তুমি বলে সম্বোধন করলাম।। 

আমি তোমার তীব্র অবহেলায় এখনো দাঁড়িয়ে। আমার ভেতর বয়ে যাচ্ছে এক অনন্ত সমুদ্র। যদি কখনো এই সাধকের  প্রতি মায়া জম্মে , তবে ফিরে এসো, সেও শত অভিমান আলিঙ্গন করে, সব ভুলে যাবে! 

তুমি এসো........ 

সেদিনও এমন বৃষ্টি ছিলো

ঘরের আলোগুলো  বন্ধ, জানালা গুলো  খোলা , পড়দা গুলো উড়ে ঘরের ভেতর আসছে,,, নিয়ে আসছে ঠান্ডা হাওয়া,,
    জানালার পাসে দেওয়ালে হেলান দিয়ে  দ্বীপ,...শিখা  ওর শরির টা দ্বীপের গায়ে হেলিয়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করে নিচ্ছিলো বড় বড় দীর্ঘ নিশ্বাস।।।। 
এই সময় দীপ বলে উঠলো,, 
একটা কথা বলব মন্দিরা? 

এই তোকে না বলেছি এসব উল্টোপাল্টা নামে আমায় ডাকবি না... 

বলতে বলতে দ্বীপের হাত শিখার মাথায় বুলিয়ে দিতে লাগলো। বার তিনেক ভুলিয়ে দিতেই... 

ও আচ্ছা কি নাম তোর? 

আমার নাম !  আমার নাম....  কি নাম রে আমার? 

ওর মাথায় হাত বুলিয়েই যাচ্ছে দ্বীপ,,,,,
তোর নাম তো ভেবলি বুড়ি,,,, 

জানোয়ার,,,, 
সেটা তো আমার নাম তুই দিয়েছিস।  
তোর নাম কি ?
আমার নাম,,, রাই,,, শুধু তোর রাই,,,

শুধু আমার!  

হ্যাঁ আমি শুধুই তো আমি সারা জীবন তোর,,,।

মন্দিরা!  

তুই আবার আমায় ওইসব নামে ডাকছিস।
 না ওই নামে আমায় একদম ডাকবি না। 
আমার কেমন পাপী পাপী মনে হয়।
প্লিজ তুমি ও নামে ডাকবে না আমায়।


শিখার তুমি করে সম্মোধনে  দ্বীপ খোজে গভীরতা,, 


আমি কখনো তাড়িয়ে দিবি  না তো! 
আমি সেদিন পথে পথে ঘুরবো পথেই পড়ে থাকবে। 
বাড়ি ঘড় আপন আত্মীয় সব ভুলে যাবো,,, 
শুধু অপেক্ষা করব মৃত্যুর,,
আমি কি আবার ফিরে আসবো। 
আমাকে আবার খুঁজে বের করতে হবে তোকে ।
আমি আবার প্রেমে পড়বো। 
আমি যে তোর প্রেমিক হতে চাই জন্ম জন্মান্তরের,, 
আমায় কখনো তাড়িয়ে দিবি না তো! 

এই তোর মুখ থেকে কিসের গন্ধ আসে রে? । তোকে না আমি বারবার বলেছি এসব ছাইপাস খাবিনা। 
খাচ্ছিস খা বুড়ো বয়সে যখন রোগে ভুগবে তখন কিন্তু আমি লাথি মেরে ঘর থেকে বের করে দেবো। 
তখন আমার পাশে গ্যাঙ্গোর গ্যাঙর করলে বুঝবি মজা। 

কি!...
আমার বুড়ো বয়স পর্যন্ত তুই আর আমি একসাথে থাকব!!! 

না না!  অন্য ভাতারের সাথে থাকবে।  হ্যাঁ ভাবতেই তো পারি,,,  আসলে আমি তো তাই!  তাই  না"!। 
 আমার জীবনের সমস্তটাই তো তুই জানিস... 
যেখানে আমার নিজের লোকেরাই বলে আমি একটা নষ্ট মেয়ে,,,,,  সেখানে তুই আর কি বলবি! 

শিখার গালে একটা চড় মেরে জাপটে ধরে বুকের কাছে নিয়ে তুই আমার ভালোবাসার মন্দিরের দেবী,, 
আমি তোর  সেবক হতে চাই জন্মজন্মান্তরের,,, 
তোর এই কথা গুলো আমায় দুঃখ দেয়,,, 
এই ভাবে বলিস না সুন্দরী.... কমলা,,,  

আবার সেই বা★ ছালের নামে ডাকে।

এই তুই আমায় একটা নামে ডাকতে পারবি না? 

বল,,!  বল 

আমি তো ভুবন ভোলা একটা মানুষ। 
মন এই ভালো এই খারাপ,, আবার উদাস,,  
আমি কখন কি নিজেই জানিনা,,,  
আমি তোর এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবো না। 

শুধু আমার একটাই কথা,,,  আমায় কখনো তাড়িয়ে দিস না!... 
কেন জানি বারবার মনে হয় আমার অতিরিক্ত ভালোবাসা এক সময় তোর কাছে বিষের মত মনে হবে।
  আর আমি তখন হয়ে যাব বিষাক্ত একটা মানুষ। 
তখন আমাদের বিচ্ছেদ হবে। 

ও,,আচ্ছা,,,  এতই যদি মনে হয় তাহলে পিরিত একটু কম  কম দেখা,,,  

এখন চল ভিজতে যাই,,,  খুব বৃষ্টি হচ্ছে। 

এই এত রাতে এখন বৃষ্টিতে ভিজবি? 

চল না!  চল,,  চল।

তোর ঠান্ডা লাগবে তো কাল আমাদের বাড়ি ফিরতেই হবে,,,  

আমার কাছে তুই আছিস তো চিন্তা কিসের আমার চল এখন বৃষ্টি ভিজি। 

সেদিন ও এমনই বৃষ্টি ছিলো,,,  



বিদ্যুৎ আসার আগে গ্রীষ্মকালে এ অঞ্চলের মানুষ ঘরের বাইরে গাছতলা কিংবা বারান্দায় ঘুমাত, সঙ্গে থাকত হাতপাখা। পরবর্তীতে ব্রিটিশদের দেখাদেখি স্বচ্ছল ও অভিজাত বাড়িতেও পাংখা বা টানা পাখা ব্যবহৃত হতে থাকে।

*****বারান্দায় শুয়ে পাখা টানছেন তিন পাঙ্খাওয়ালা।
ছবি: রয়াল সোসাইটি ফর এশিয়ান অ্যাফেয়ার্স, লন্ডন/ ব্রিজম্যান ইমেজেস******

টানাপাখাকে কেন্দ্র করে ১৭ শতকে পাঙ্খাওয়ালা নামের নতুন এক পেশাজীবী শ্রেণির উদ্ভব ঘটে। পাখাগুলো যারা টানতেন, তাদের পাঙ্খাপুলার বা পাঙ্খাওয়ালা বলা হতো।

ঔপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থায় বৃটিশরা ভারতীয়দের সঙ্গে কীরূপ আচরণ করত, তা পাঙ্খাওয়ালাদের সঙ্গে তাদের ব্যবহার থেকেই অনুধাবন করা সম্ভব। ভারতবর্ষে শাসন করা সত্ত্বেও বৃটিশরা এদেশের সাধারণ মানুষকে কখনোই তাদের কাছে ঘেষতে দেয়নি। কিন্তু পাঙ্খাওয়ালাদের কাজ তো দূর থেকে সম্ভব নয়। তাদের দিনরাত ২৪ ঘণ্টাই অবিরাম পাখা টানার কাজ করতে হতো। আর তাই যে ঘরে ইংরেজ সাহেব-বিবিরা অবসর যাপন করতেন সেখানে তাদের উপস্থিতি কাম্য ছিল না। অধিকাংশ সময় বারান্দা কিংবা বাইরের ঘরেই তাদের ঠাঁই মিলত।

তাছাড়া বিশাল এক জনগোষ্ঠীকে পদানত করে শাসন করা যে সহজ কাজ নয় তা ব্রিটিশরা ভালোমতোই জানত। আর তাই গুপ্তচরদের থেকেও তাদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়েছিল। ইতিহাসবিদ অরুণিমা দত্তের মতে, সময়ের সঙ্গে পাঙ্খাওয়ালা নিয়োগে এক নতুন প্রবণতা দেখা দেয়। বধির, বয়স্ক কিংবা শ্রবণ শক্তি কম, এমন ব্যক্তিদের পাঙ্খাওয়ালা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া শুরু হয়।

ঘরের বাইরে ছাড়াও অনেকসময় ঘরের ভেতরে এক কোণায় পাঙ্খাওয়ালার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা বরাদ্দ ছিল।

পাঙ্খাওয়ালাদের গায়ে ইংরেজরা প্রায়ই হাত তুলত। তাদের দিকে জুতা ছুড়ে মারা কিংবা গালিগালাজ করাও ছিল সাধারণ বিষয়। নিয়মিত নির্যাতনের বাইরেও ইংরেজদের বিরুদ্ধে তাদের হত্যার অভিযোগও মিলে। দ্য ডন পত্রিকার কলামিস্ট রাফিয়া জাকারিয়া লিখেছেন, একজন পাঙ্খাওয়ালাকে হত্যার শাস্তি হিসেবে ব্রিটিশ আমলে একজন শ্বেতাঙ্গকে মাত্র ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। ব্রিটিশ উপনিবেশবাদ ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষের ওপর প্রকৃত অর্থেই যে দাসপ্রথা চাপিয়েছিল, ইতিহাসে তার স্বাক্ষ্য বহন করছে পাঙ্খাওয়ালারা। ব্রিটিশ সাহেব, বিবি ও তাদের সন্তানদের কাছে একজন সাধারণ ভারতীয় ভৃত্যের জীবনের মূল্য মাত্র ১০০ রুপির বেশি ছিল না।

শ্বেতাঙ্গরা এই পাঙ্খাওয়ালাদের কীভাবে দেখতেন তার উদাহরণ মিলে 'দ্য কমপ্লিট ইন্ডিয়ান হাউজকিপার এন্ড কুক' বইয়ে। বইটিতে ফ্লোরা অ্যানি স্টিল ও গ্রেস গার্ডিনার লিখেছেন, পাঙ্খাওয়ালারা ছিল অলস। পাখার বিষয়ে দুই লেখকের মতামত হলো, মশা তাড়াতে কিংবা ছাদে ঘুমালে এগুলো তেমন কাজে লাগে না। তবে খাবার সময় এটা ছিল জরুরি। তাদের ভাষায়, কুলির হাতে পাখার দড়ি থাকলেই যেন তাদের চোখে রাজ্যের ঘুম এসে ভর করত।

পাঙ্খাওয়ালার কাজ কঠিন না হলেও পরিশ্রমসাধ্য ছিল। কিন্তু ইংরেজ মনিবদের কাছে যে তার কদর ছিল না, তা তাদের বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়। বাতাস করতে করতে ভুলে ঘুমিয়ে পড়লেই শাস্তি ছিল নিশ্চিত। 

সমাজের নিম্নশ্রেণির মানুষরাই পেটের দায়ে পাখাওয়ালার কাজ নিতেন। এই কাজের জন্য তারা খুব বেশি অর্থ পেতেন না। তা সত্ত্বেও কিন্তু সেসময় পাখাওয়ালাদের পেশা অপরিহার্য হয়ে উঠেছিল।

হিসাবের খাতা অনুযায়ী, ১৮ শতকে সারাদিন পাখা টানার জন্য পাখাওয়ালারা তিন আনা করে মাইনে পেত। রাতে কাজ করলেও একইহারে বেতন থাকত। পাখা টানা ছাড়াও তাদের বাড়ি ও দপ্তরের বিভিন্ন ফুটফরমায়েশ খাটতে হতো।

একসময় ভারতীয় উপমহাদেশের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে টানা পাখা। আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চলেও অনেক প্ল্যান্ট মালিকদের বাড়িতে টানা পাখার প্রচলন শুরু হয়। সেখানেও দরিদ্র শ্রেণির পাঙ্খাপুলারদের অভাব ছিল না।

তবে বিদ্যুৎ আসার সঙ্গেই কমতে থাকে টানা পাখার ব্যবহার। ১৯ শতকের শেষ দিকে উপমহাদেশে বিদ্যুৎ আসে। ১৮৭৯ সালে কলকাতায় প্রথম বিজলিবাতি জ্বালানো হয়। ১৮৯৯ সালে চালু হয় বৈদ্যুতিক পাখা। ফলে সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যেতে থাকে টানা পাখা। বিংশ শতাব্দীতে এসে পাঙ্খাওয়ালা পেশাটিও বিলুপ্ত হয়। প্রযুক্তির উন্নতির সাথে তাদের মুক্তি ঘটলেও ইতিহাসে চিরকাল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক বর্বরতার স্বাক্ষ্য বহন করবে এই পাঙ্খাওয়ালারা।

এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ভারতে গ্রীষ্মকাল। ভারতের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে গ্রীষ্মকাল তাড়াতাড়ি আসে। এই অঞ্চলে এপ্রিল ও মে মাসে সবচেয়ে বেশি গরম পড়ে। এরপর বর্ষা আসলেই কমতে থাকে তাপমাত্রা। পূর্ব ভারতীয় ও উপকূলীয় অঞ্চলে কালবৈশাখী ঝড়বৃষ্টিতে গরম পড়ে দেরিতে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বৃষ্টি কমার সাথে বাড়তে থাকে তাপ। সমুদ্র থেকে আসা আর্দ্রতার কারণে ভ্যাপসা গরমে দমবন্ধ অবস্থার সৃষ্টি হয়।

ঘরের সিলিং থেকে বড় কাঠের ফ্রেমে পাখার কাপড় আটকানো থাকত। পাখার নিচের অংশে থাকত মসলিনের ঝালর। সিলিং থেকে ঝুলানো পাখাগুলো লম্বায় ৮ থেকে ১২ ফিট এমনকি অনেকসময় ২০ থেকে ৩০ ফিটও হতো। সিলিংয়ের ৩-৪টি হুক থেকে বাহারি দড়ির সঙ্গে পাখার কাপড় ঝুলিয়ে দেওয়া হতো। সময়ের সঙ্গে এই পাখায় নানা পরিবর্তন আসে। কাপড়ের পরিবর্তে শীতলপাটির ব্যবহারও দেখা গেছে।

পাখার সঙ্গে যুক্ত অন্য একটি দড়ি দেওয়ালে গাঁথা পিতলের চাকার ওপর দিয়ে গর্তের মধ্যে দিয়ে ঘরের বাইরে পৌঁছাত। সেখানে বাইরে থাকা পাঙ্খাওয়ালার হাতে থাকত দড়ির শেষ প্রান্ত। মেঝের ওপর পা মুড়ে বা বসে বসে তারা বিশেষ ছন্দে পাখা টানত। সাহেবদের ইচ্ছানুযায়ী কখনো ধীরে বা কখনো দ্রুত দড়ি টেনে বাতাস করা হতো।

১৮৯৫ সালে জিএফ অ্যাটকিন্সনের লেখা 'কারি এন্ড রাইস' বই অনুযায়ী এই দিকটিকে বলা হতো বম্বে সাইড। আর অন্য যেদিকে পাখার ঝাপটায় হাওয়া কম, সেদিকটি বেঙ্গল সাইড নামে পরিচিত ছিল।

১৯০৮ সালে প্রকাশিত 'ইকোস ফ্রম ওল্ড কলকাতা' বইয়ে এইচ ই বাস্টিড লিখেছেন, ১৭৮৪ থেকে ১৭৯০ সালের মধ্যে কলকাতায় টানা পাখার আবির্ভাব ঘটে। ১৭৮৩-৮৪ সালে সোফিয়া গোল্ডবর্ন নামের ইউরোপীয় নারীর চিঠিতে ভারতীয় পাখার উল্লেখ পাওয়া যায় বলে তিনি জানান। গোল্ডবর্ন তালপাতার হাতপাখা এবং টানা পাখা এই দু'ধরনের পাখার কথা লিখেছিলেন। টানা পাখাগুলো সাহেব ও অভিজাতদের বাড়ির ঘরের সিলিং থেকে ঝুলত।

তবে বাস্টিড জানান, পর্তুগিজদের আগেও ভারতের মানুষ টানা পাখার সঙ্গে পরিচিত ছিল। তবে সেটি উত্তর ভারতে। মোগল আমলে টানা পাখার প্রচলন ছিল। সম্রাট শাহজাহানের ছেলে যুবরাজ দারা শুখোর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ছিলেন ফরাসি পরিব্রাজক ও চিকিৎসক ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ে। তিনি পরবর্তীকালে সম্রাট আওরঙ্গজেবের দরবারের নিয়মিত সদস্য ছিলেন। বার্নিয়ের 'ট্রাভেলস ইন দ্য মোগল এম্পায়ার' বইয়ে এক মোগল অমাত্যের অন্দরমহলে টানা পাখা দেখার বর্ণনা পাওয়া যায়।

১৭৭৪ সালে স্থাপিত ক্যালকাটা সুপ্রিম কোর্টের বেঙ্গল ইনভেন্টরি অনুসারে, ১৭৮৩ সালের ৩ জুন মৃত্যুবরণ করা রিচার্ড বেরারের সম্পত্তির তালিকায় 'কাপড়ের পাখা'র উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে সে সময়ও টানা পাখার ব্যবহার ছিল সীমিত।

তথ্যসুত্রঃঃঃঃঃ ফ্যানিং দ্য ফরেনারস, রাফিয়া জাকারিয়া , পাংখা: দ্য হ্যান্ড অপারেটেড সিলিং ফ্যানস অব কলোনিয়াল ইন্ডিয়া, কৌশিক পাটোয়ারি , ইরাবতীর ইতিহাস: টানা পাঙ্খার গল্প, দামু মুখোপাধ্যায়

শিব তাণ্ডব

শিব তাণ্ডব || Shiv Tandav || (শিব তাণ্ডব রচনা করেছিলেন রাবণ) জটা-টবী-গলজ্জ্বল-প্রবাহ-পাবিতস্থলে গলেবলম্ব্য লম্বিতাং ভুজঙ্গ-তুঙ্গ-মালিকাম্ । ...