হারাইয়া গেছি যন্ত্রণার বাস্তবতার মাঝে।


ওই!  কইতে পারো অহোন  তোমারে 
 দেহি না ক্যেন ?

আইজ-কাইল পাইনা ক্যেন একটু  দ্যেখতে তোমারে ?

আহাঃ কি,,  চান্দের মতো মুখ খান তোমার। 

আহাঃ!!! 

মুই তো মনে করতাম হগল- হানেই  তুমার ওই চান্দপানা মুহের আলোয় ব্যেবাক বিষণ্ণতা মোর ঘুচাইয়া যাইতো। 

 তহোন চিত্তের  ব্যথা খান ছ্যেলে না মোর।

 বুকে জমাছ্যেলে হুদাই তোমার লগে জীবন যাপনের স্বপ্ন। 

তুমি বোঝ না!  

তোমায় ছাড়া কি!!!!  শান্তিতে আছি ?

হেই কালে তুমি যহোন চোক্কের দিকে চাইয়া ব্যেবাক বুইজ্জঝা নিতা! 
 মোর চোক্কো দুইখান তখন ঝকমক করতো। 
আর আইজ সেই চক্কু যুগল   শুকায়ে গ্যেছে।

খুব যে কইতা তুমি আমার লগে লগে ব্যেবাক খানে থাকপা! 
 কই! কও দেহি!? 
  কও  তুমি আছো আমার লগে !? 
  ভালোবাসো এই পাগল মানুষ টারে? 

এতই যদি সত্যিই ভালোবাইসা   থাইকা থাহো  পাশে!!!  

কই? 
চোক্কের দিয়া আন্ধার রাইতে জল ঝড়ে ক্যান?
এই  জল মুছাইতে কেউ নাই ক্যান ?

মুই বুইঝা গ্যেছি,,, 

মুই  তো হারিয়েছি তোমারে , 
হারিয়েছি বহুদূর..........

ভীষণ এক বাস্তবতার মাঝে।
তুমি  চিন্তা কইরো না!  
আমি তোমার নামে তোমার ভালোবাসা জিন্দা রাখমু.....  সত্যিই  রাখমু.... 

তুমি  কি কইবা নাকি!   কই যহো ন যাইতেছেলাম জন্মের মতো চইলা ,,,  
তহোন  তোমারে  বলিনাই!!!!  
একটা  বার থাইকা  যাও!
তায় লে ক্যে নো এতো আকুলতা এহোন  তোমার  দেখার! 

আসলে হেই দিন তুমি আমারে এমন এক অগ্নি পরিক্ষার সম্মুখীন করছিলা! 
আমি বিধাতার কাছে সব জমা রাখছিলাম হেইদিন নিরুপায় হইয়া । 
আর তুমি নিজেই নিজের সিদ্ধান্তে অনড় আছিলা অন্যের যুক্তিতে সায় দিয়া,,, 

কি লাভ হইলো! 
হ্যাঁ  কও কি লাভ হইলো!

আমিই  তো হারাইয়া গেলাম অনেক  যন্ত্রণার  বাস্তবতার মাঝে।

"মায়া,,

মধ্যরাতে আমি প্রায়ই জানালায় বসে  থাকি। 


এই সময়টা খুব বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে যাই। সিগারেট শেষ হয়ে যায়।

ইচ্ছে হলেই শমির ভাইয়ের দোকানে গিয়ে সিগারেট নেওয়ার উপায় নেই। 
আমি একটা ঘটনার পরে খুব বেশি রাতে একা বাড়ির বাইরে পা দেই না।  
না কোন অলৌকিক বা ভৌতিক ব্যাপার না। 
ব্যাপার টা পরিচিত মহলের লোকেদের থেকেই পাওয়া।  রাত তিনটের সময়ে রাস্তায় ঘুরতে বেড়িয়ে পরতাম। এক বার এক বাল্যবন্ধু বলে ছিলো কিরে কোন ঘর থেকে বেড় হলি? তোরা অবিবাহিত ছেলে কিনা তাই জানতে চাইলাম। 
আমি অবাক হয়ে থমকে গিয়ে জীবনের শেষ কথা টা বলার জন্যই উত্তর দিয়েছিলাম। 
তোর মা, কে গিয়ে জিঞ্জেস করিস । 
তারপর থেকে আর সেই বন্ধুর সামনাসামনি দেখা করিনি। 
যাইহোক ও সব পুরোনো কাসুন্দি না ঘাটাই ভালো। 

 আকাশে পানে তাকিয়েই দেখা যায়, জলমেঘের দল ছুটছে,,  একটা দুটো তারা মায়ার দৃষ্টিতে  তাকিয়ে আছে। এই মায়ার একটা নামও আছে। 
মনে হয় আমি তাকে খুব ভালো করে জানি, খুব চেনা চেনা মনে হয়।

 সর্বনাশ! 
এই মায়া  আমার পিছু ছাড়ছেনা।
 তার সাথে আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তগুলো কেটেছিল। 
 একবার আমার বুকে মাথা রেখে ঘুমিয়েছিল 
তপ্ত দুপুরে। 
আমার ঘামে ভেজা শার্টে তার মাথার চুল আটকে যাচ্ছিল। 
হ্যাঁ  সেই মায়াবী সুন্দরীর সবই মনে আছে। 

 খুব গুছিয়ে কথা বলতে জানতো। 
 চোখে তাকালে আমার সব কথা বোবা হয়ে যেতো। 
 যখন কথা বলতো  আমার কথাগুলো তার কথায় চাপা পড়ে যেত।

 আমি বোকা হয়ে তাকে দেখতাম ঠিক যেমন এখন অন্ধকার আকাশ  দেখি।
আমরা  শিরা উপশিরায় আমি তার ভালোবাসার স্রোতের  অনুভব  পেতাম। 
মাঝেমধ্যে  মনে হতো কোন দেয়ালে আঁকা চিত্রশিল্প।
 যা পিকাসো সাহেব আমার জন্য এঁকেছে, আর কারো জন্য না।

যেদিন শেষবার আমার সামনে দাঁড়িয়েছিল। আমার কথা আটকে যাচ্ছিল মুখে।
কেন জানিনা সেদিন সেই পিকাসোর আঁকা ছবি ঝড়ের বেগে  রাস্তায় পড়ে ললিত হয়ে সব হারিয়ে আজ নীল আকাশের জ্বলজ্বল সেই মায়াবী মায়া হয়ে আমার রাত জাগা সঙ্গী। 

খুব মনে পরতাসে তোমায়...

সত্যিই কইতাছি প্রানপ্রিয়
আইজ বড্ড মনে পরতাসে তোমারে,,
খুবই হিয়ায় হারাতাছি   তোমায়..!

হয়তো জ্বানবা! ,নয়তো জ্বানবা  না! 

হয়তো বৃষ্টি দ্যেখতে ব্যাস্ত আছো,,,
 নয়তো  বৃষ্টিতে ভিজ্জা  যাওনের ভয়ে ঠাই নিবা    নিরাপদ কোনো স্থানে..! 

আমি আইজ খুব কইরা নিজের ভিজাইছি,,,
নিজের ভিজাইছি লোকচক্ষুর ভয়ে,,  কেউ যেন দ্যেখতে না পারে তোমারে মনে কইরা আইজ আমার মনের মইধ্যেও তুফান ওঠছেলো,,,


হু মুই ভালোই  জানি তোমার কিছুই করার নাই আর।
তয় কি!   আদৌ কি কিছু করার ছেলো না!

কিছুই উপায় ছেলে না  আমাগো..?

এই ভাবে দূরত্ব সৃষ্টি না কইরা ,কাছাকাছি থাকার কি নিতান্তই কোনো উপায় ছেলো না..?

পারতা  না?
বৃষ্টি  বা ভীষণ রহোম মন খারাপের দিনগুলোতে পাশে থাকতে..?
প্রচন্ড হতাশায় যখন জীবন আমার ছন্নছাড়া পারতা  না তখন আমার মাথায় হাত বুলাইয়া ,দুচোখে চোখ রাইখা  ভরসা দিতে.?

আজ বড্ড মনে পরতাছে তোমায়! 
তুমি কি শুনছো? দেখছো? 

নাকি সব  দেইখাও না দেখার ভান কইরা এড়াইয়া যাইবে আইজও..? 

যদিও এই সব কথার কোনো  মানেই হয় না। 

কারণ  আমারে ঠকাইতে তোমরা যে পরিকল্পনা  করছিলা তাতে  আমি দেখছি,, 
" তুমি নিজস্বতায় বাঁচোই না।  তোমার মইধ্যে আমি তোমারে পাই নাই। পাইছিলাম সেই তোমার  ভাবনার গিরগিটি নামের এক অন্য পুরুষ ""।


রাত্রি

একাকি মাঝেমধ্যে বসে থাকাটা প্রায় অভ্যস্ত করে ফেলেছি। 
এখন একাকী বসতে, অনেকটা সময় একাকী থাকতে ভীষণ অভ্যস্ত হয়ে উঠেছি।
এখন একাকী বসে থাকলে কিছুই আর মনে পড়ে না। 

এখনতো একাকী ইচ্ছে করেই বসে থাকি। ইচ্ছে করেই মাঝেমধ্যে কাউকে কিছু না জানিয়ে একা শহরের কোন এক সুন্দর কোনায় নিজেকে নিয়ে উপস্থিত হই। 

এই নিজেকে নিয়ে উপস্থিত হই মানেই আমি আমার আমিকে এখন নিজের কাছে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি।

আজকের সন্ধ্যে টাও ঠিক এইরকমই একটা সন্ধ্যে নিজেকে নিয়ে এসেছি সেই সুন্দর এক মনোরম পরিবেশে। 

এক কাপ চায়ের অর্ডার দিয়ে এসে বসেছিলাম একটা মাছের ভেড়ির এককোনে ।  সেখানে থেকে অনেক দুরের খোলা আকাশ দেখা যায় খুব সহজেই।  
আর আকাশের ওই রঙ পালটানোর খেলা আমায় যাদুর মতো আকৃষ্ট করে।  আমিও হারিয়ে গেলাম সেই ভালো লাগায়। 

আকাশ টা আজ অনেক কিছু শিখিয়ে গেলো। 
শিখিয়ে গেলো ঝলমলে মেঘের খেলা কি ভাবে রক্ত বর্নের আলপনা হয়ে ফুটে ওঠে।  আবার সেই রক্তে রাঙানো আকাশ টা গোধুলী নামে ঢলে পড়ে মুখ গুজে দেয় রাত্রি নামের বন্ধুর বুকে। 

রাত্রি আশ্বাস দেয় গোধুলীকে তুমি এখন আর নিজের পরিচয়ে নেই।  তুমি এখন আমাতে মিশে আমার নামেই তোমার পরিচয় হয়েছে।  তুমি এখন আমার অস্তিত্ব।  তুমিই আমার সেই ঘন অন্ধকার। 
আমি তোমাতে একটু একটু করে নিজেকে বিলিয়ে আমিও ফুরিয়ে যাবো। তখন তুমি প্রভাতী আলোর সেই আলোকে রশ্মি আর আমি প্রভাত। 

তারপর আবার সেই তুমি উজালা আর আমি দিন। 

আইজও তোমার খবর রাখি

আইচ্ছা  তুমিও কি দুপুরে খাইতে পারো না? 
খাইতে বইলেই  আমার কথা মনে হয়?
তারপর আর ইচ্ছা থাহে না খাওনের,,,
মা,য় মাঝেমইদ্ধে জিগায় কিরে খাইলি না কেন?  
মিছা কথা কইতে হয়।  
রাস্তায় খাবার খাইছি অহোন ক্ষুদা নাই। 

 সন্ধ্যায় কি তুমিও মোর  শূন্যতা  অনুভব করো?
আমিতো তোমার অস্তিত্ব তালাশ করতে করতে সেই আমাগো নদির পাড়ে গিয়া একা একা এখনো বইসা থাকি,, দেখি স্রোতে ভাসাইয়া নিয়া যায় কতো পানা কচুরির দল, ,,  মাঝেমইদ্ধে দুই একটা পানাকচুরিতে ফুল থাকে। 
তুমি বিশ্বাস করবা না নির্বাক হইয়া দেখি ওই ফুলের ভাইসা যাওয়া।  
তুমি কতো ভালোবাসতা কচুরিপানা ফুল..
যখন অন্ধকার ঘনাইয়া আর কিছু দেখা যায়না গাঙে ফিরা আসি এক বুক হতাশা নিয়া..। 

 রাইতে ঘুম হয় তোমার? 
রাইত দুইটা আড়াই টায় ভিষণ ভাবে কান্না পায় তোমারও?
 তুমিও কি রাইত জাইগা  থাকো?
 তুমিও কি আমার মতো ভেতর ভেতরে শেষ হয়ে যাচ্ছো?
 বলো না! প্রিয়! 

কিছু বেইমান মানুষ কে  আমরা ভালোবাসি।
 কিন্তু মানুষটা বেইমান হতে পারে ভালোবাসাটা তো আর বেইমান নয় 💔
কত্ত কিছু ধইরা রাখার চেষ্টা করতেছি, অবিরাম চালায়ে যাচ্ছি সেই যুদ্ধ এই যেমন.. 
তোমার মন,....আমার রাতের ঘুম....,

আচ্ছা!  তুমি চাও আমি সারাদিন রাত তোমার নামে পইড়া  থাকি,।
 কয়েকশো কোটিবার তোমায় স্মরণ করি।
 আমি করিও, সর্বক্ষণ তোমায় মায়ায় বুদ হইয়া পাগল সাইজা ঘুইরা বেড়াই। 
হিসাবনিকাশ ভুইলা অন্ধকারের সাথে পথ পাড় হই মাঝেমধ্যে। 
 ঘুমের কাছে ভুলের জবাবদিহিতা করতে হয়।
তুমি অনুরোধ দূরে ঠেইলা নিজেরে আকাশ সমান পাখি বানাও।
 আমি ডানাভাঙা শালিক দেইখা  কাতরায়ে উঠি।
 আমি কি তোমারে  ঘিরেই ঘুরপাক খাইতাচ্ছি...?
প্রিয়!
আমার মনের কোঠায়  তেলের প্রদীপ,
সেই আলোতে কাজল আঁকি, 
ছিন্ন হইবার পরেও আমি,
আইজও তোমার খবর রাখি...
কারণে আর অকারণে
 অখোনো  সেই নামেই ডাকি      প্রিয়!!!

শিব তাণ্ডব

শিব তাণ্ডব || Shiv Tandav || (শিব তাণ্ডব রচনা করেছিলেন রাবণ) জটা-টবী-গলজ্জ্বল-প্রবাহ-পাবিতস্থলে গলেবলম্ব্য লম্বিতাং ভুজঙ্গ-তুঙ্গ-মালিকাম্ । ...