একটা তুমি ঠিক যেন চৈতী হাওয়া,,

একটা তুমি ঠিক যেন চৈতী হাওয়া,,  

সে আমার জীবনের প্রথম কেউ। 

এর আগেও অনেক বসন্ত এসেছিল জীবনে কিন্তু এই ৩৮সের বসন্তে আমায় আমার থেকে এলোমেলো করে দিয়েছে। আমি বারবার হেরেছি। 


কেন জানিনা মনে হয় আমি ফুরিয়ে যাচ্ছি । 

আমি আর নিজেকে গুছিয়ে আবার এক করতে পারছি না। 
আমি জানি আমাকে অনেক টা পথ এখনো চলতে হবে।
হ্যাঁ বিশ বচ্ছর তো বটেই,,,

একা থাকতেও আজকাল খুব ভয় হয়, 
শরিরে একটা উত্তাপ সব সময় থাকে। 
শীত শীত একটা ভাব শরিরে কাঁটা তোলে,,,

 শুধু খুঁজে বেড়ায় দুটো চোখ হাজারো মানুষের ভীড়ে কোথায় সে!  কোথায়!
না কোথাও খুঁজে পাই না সেই চোখ দুটো,,,  

মনকে বোঝাই যদি ভাগ্যে থাকে  একদিন খুঁজে পাবো।

পরিস্থিতি যখন   জীবনে নিজেকে অনাথ ঘোষণা করেছে তখন থেকেই আমি আজও নিজেকে অনাথ মনে করি,৷ 
হ্যাঁ পরিচয় আছে তবে সেই পরিচয় হৃদয় পর্যন্ত নেই। 

নিজেই যেন একটা পুতুল হয়ে চলছি যেদিন থেকে  বুঝেছি এই এতো মায়াবী দুনিয়ায় আমার কেউ নেই।

দুনিয়ায় কতো খুশি দেখি পারিবারিক খুশি,,  
কিচ্ছু খুশি আমার মনেও ছিলো,,৷ 

এখন  আর আগের মতো ঘুম আসেনা।  
চোখ বন্ধ করলেও ভয় হয়। 
যদি আর ঘুম থেকে না উঠি!

সারাজীবন আমি মানুষের কাছে উদ্দেশ্য হীন আমার কোন ভবিষ্যৎ নেই। 
কিছু স্বপ্ন তিস্তা নদীর জলে ভেসেছে আর কিছু স্বপ্ন নিজেই ভুলতে চেয়েছি।
কিন্তু আমি জানি জীবনে কি কি করেছি।
আমি অচেনা যার কাছে সে কোনদিন চেনেই নি আমায় এমন কি জন্মদাতা মা-বাবাও না। 
এই দুনিয়ায় আমার হৃদয় পর্যন্ত কোন সম্পর্ক নেই। 
আছে শুধুই মিথ্যে হাসিতে দুনিয়া জয়ের গল্প।
কে যেন নাম রেখেছেন 'বিজয়,  
শুধু এই ভাবি আমার জীবন আমার কাছে কত পরাজয় দিয়েছে। 
হ্যা তবুও নিজেকে নিজে আজও খুব সম্মান করি,, 
আয়নায় যখন দেখি তখন দেখি চেহারা টা সুন্দর আছে কি নেই না!  তা দেখি না।  

দেখি তিথি'র রেখে যাওয়া একটা মানুষ।  
একটা ইমানদার বিশ্বাসী এক ভালোবাসার ভিক্ষুক। 
সে আজও পথে পথে নাম বিলিয়ে যায় পথের পাসের নাম না জানা ফুলের।  

চলছি চলছি চলছি যেন আমার কোন বিশ্রামের প্রয়োজন নেই। 
যেন যন্ত্রপাতির একটা পুতুল আমি, 
বিশ্রাম করবই বা কোথায়? 
আজ পর্যন্ত সেই মানুষ টাই পাশে পাইনি। 

যার কাছে একটু শান্তির আশায় মাথা টা সেই মানুষ টার কাঁধে রেখে একটু বিশ্রাম নেবো,৷ 

যাদের পেয়েছি সবাই এসেছিলো বসন্তের আনন্দ নিতে।
 তারপর  কালবোশেখীর হাওয়ায় সবাই কে কোথায় " তার আর খবর নেই। যখন নিজের আপনজনেরাই গালমন্দ দিয়েছে। তখন বসন্তের কোকিলের গান কি কিরে মনে আনন্দ এনে দেবে।

তাই আমার জন্য এই দুনিয়ায় হৃদয় পর্যন্ত কোন সম্পর্ক নেই। 

সাবেক সময় সেদিন আমি যখন এক জোড়া চোখের ভাষা দেখেছি৷  
অবাক !  আমি  অবাক! 
যেন এ-ই অপেক্ষায় ছিলাম এই এক যুগ প্রায়,, 
কোন এক অভিশাপের থেকে মুক্তি দিতেই এই অসময়ে আগমনী গান উঠেছে হৃদয়ে দেবী উমা'র আগমন। 

মানুষ অনেক দেখেছি। 
অনেক মানুষের ব্যাবহার পেয়েছি।
 মানুষের উদ্দেশ্য বুঝতে আজকাল খুব সময় লাগে না। 
খুব সহজেই বুঝতে পারি ঠিক কেন এসেছেন আমার কাছে,, তাদের উদ্দেশ্য বুঝতে দু'চার কথাই যথেষ্ট। 

কিন্তু অবাক হয়েছি এই মানুষ টা দেখে,, 
 যতই দেখি ততই যেন নিজেকে হারাই,,, 

 মাঝেমধ্যে তো সেই শুকতারা টার কথা মনে হয়,,  
আজ আর সে নেই দুনিয়ায় তবুও তার কথা যেন বেদ বাক্য হয়ে রয়ে গেছে আমার জীবনে। 

তিনি বলেছিলেন,, 

নীল,, জীবনে এমন একদিন আসবে দেখবে চৈতী হাওয়ার মতো,,,  কোন এক নারীর বিকিরণ আপনাকে বাধ্য করবে মন থেকে  দেবীর মতো শ্রদ্ধা করতে। 
আর আপনি সেই দিন থেকে নিজেকে হারাবেন। 

জীবনের ফেলে আসা দিন গুলো কোথাও লিখিনি।
 হ্যাঁ কিছু রঙিন প্রচ্ছদ লেখা ছিলো কিছু ডাইরিতে,,, 
সে গুলো ভাসিয়ে দিয়েছিলাম তিস্তায়  অতীত  ভুলে বর্তমানের দিকে এগিয়ে যেতে। 

আজ আমি সেই চৈতী হাওয়ায় একটা তুমির কাছে নিজেকে ফুরিয়ে ফেলেছি৷ । 
আজ আর মনে হয় না আমার হৃদয় পর্যন্ত কোন সম্পর্ক নেই। 
না মনে হয় না। 
মনে হয় একটা নাম সব সময় উচ্চারিত হচ্ছে হৃদয়ে।
 হ্যাঁ আমি এতেই খুশি,, বাকিটা জীবন এই খুশিতেই ফুরিয়ে যাবে। 
শুকতারা'র কাছেও  দেখা সেই চৈতী হাওয়ায় কথা জানিয়েছি৷ 
 আর জানিছি সেই তীথী'র অতিথির ১২ তম মৃত্যুবার্ষিকী তে আশ্রমের শিশুদের সাথে একটু স্মৃতিচারণ,,, ওর তো এ-ই গুলোই ভালো লাগতো।  আমিও ঠিক তাই করি এই তো সেদিন অনেক দূরে ষ্টেশানের বাচ্চা গুলোর সাথে রাত কাটিয়ে বাড়ি ফিরেছি, ওদের আনন্দ দিয়েছি৷ 

হ্যাঁ ভালো আছি।  
ভালো থাকুক ভালোবাসার সেই মানুষ টা। 
ভালো চাই সেই মানুষ টার,,,, 
ভগবান যেন আমার জীবনের সব ভালো কাজের সব উপকারের প্রতিদান সেই মানুষ টাকে দেয়।
সেই মানুষ টা আমার চৈতী হাওয়ার স্পর্শ। 

ও দয়াল তোমার লীলা বোঝা দ্বায়

ও দয়াল তোমার লীলা বোঝা দায় দীনের বন্ধু করুণা সিন্ধু, রাধার শ্যামরায়।। তুমি গোঠের রাখাল রাজা, যশোদার কানাই, বিষ্ণুপ্রিয়ার প্রাণসখা, নদীয়ার নি...