রাত বলে দিন কে
কেমন আছো তুমি?
দিন বলে রাত উচ্চস্বরে 
খুব ভালো আছি আমি,,,

দিন শুধালো আমার একটা কথা ছিলো
বলো দেখি "রাত" তুমি এত কেনো কালো?

রাত বলে অন্ধকারে
আমি থাকি খুব ভালো?
কালো হবে  এটা 
           স্বাভাবিক কথা,,,
তাই তো কেউ বোঝে না
   আমার যত ব্যাথা,,
দিবা স্বপ্নে মানুষ গুলো  মুখোশ মুখে 
যে আনন্দে করে
অন্ধকারে মনের মধু 
        সব অশ্রু হয়ে ঝড়ে,,,

ভালোবাসা ফুরায় না


স্বার্থ ফুরাইলে দেখবে  বন্ধু আর  নাই। 
 আর কাজ ফুরাইলে আদর নাই।।
আলো ফুরাইলে  যেমন আধার ভাই!
দিন ফুরাইলেও দেখবে একদিন জীবন নাই,,,,

শুধু ভালোবাসা ফুরায় না ভাই
  সে তো কেমনে কেমনে বাড়ে,,,
ঘড়ির কাটার সাথে সাথে
যেমন  আমার বয়স টাও বাড়ে,,

জীবন থেকে ফুরিয়ে  গেছে আত্রিশ টা বসন্ত,,,,,
আর ফিরে পাবো না,, করলে তপস্যা অনন্ত,,

চুরি করে ফিরিয়ে আনতাম ফুরিয়ে  যাওয়া বসন্ত, অনেক চোরই সঙ্গ দিতো যদি ঠিকানা কেউ জানতো,, 

ফুরিয়ে গেছে ছেলেবেলা দুধের দাতের সাথে,,
হারিয়ে গেছে খেলারমাঠ বিদ্যালয়ের সাথে,,,
নানান কাজে ব্যাস্ত সবাই সময় কাউর নাই,
ভালোবাসা  আজও আছে,কিচ্ছু ফুরায় নাই,,

ফুলবাগিচা আজও আছে ফুলেরা সব বাহারি,, 
জুই,মালতী, চাপা,কদম, গন্ধহীন আজ আহারে!!

নকল ফুলের মেলায় আজ আসল চেনা দ্বায়,,
ভালোবাসা  একই আছে কিচ্ছু ফুরায় নাই,,

পান্ডু বংশ

🏹

পাণ্ডবদের নাম সবাই বলতে পারবেন। কিন্তু পাণ্ডবপুত্রদের নাম জিজ্ঞেস করলে? অভিমন্যু, ঘটোৎকচ..... ব্যাস্, তালিকা শেষ। যাদের একটু চর্চা আছে, তারা বভ্রুবাহন, ইরাবন বলতে কীপারেন। এর পরেও গোটা আটেক নাম আছে, তা ক'জন জানেন?

বড় গাছের নীচে ছোট গাছপালা টেঁকে না কারণ, বড় গাছের ডালপালা, নীচে রোদ-বৃষ্টি আসতে দেয়না। কিছু বড় গাছের শেকড় থেকে জাগলন (জুগ্লনে) নামক একরকম রাসায়নিক পদার্থ নির্গত হয় যা ছোট গাছপালাগুলিকে শেকড় ছাড়তে দেয়না। তাতে ছোট গাছগুলির বাড় যায় কমে। কখনও তারা শুকিয়েও যায়।তেমনি বিরাট ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি, তুলনায় কম শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব, চোখেই পড়েনা। তাই, প্রত্যেকে বড় বীর হওয়া সত্ত্বেও, পাণ্ডবদের ছেলেদের কথা বিশেষ শোনা যায়না।

পাঁচ পাণ্ডবের, দ্রৌপদীর গর্ভজাত, একটি করে ছেলে ছিল। এরা হল 'উপপাণ্ডব' অর্থাৎ 'জুনিয়র পাণ্ডব'।

সর্বজ্যেষ্ঠ উপপাণ্ডব হল যুধিষ্ঠিরের ছেলে - প্রতিবিন্ধ্য। মেজভাই, নকুলের ছেলে শতানীক। পরের ভাই, ভীমের ছেলে সুতসোম। চার নম্বর ভাই, সহদেবের ছেলে শ্রুতসেনা। আর কনিষ্ঠ উপপাণ্ডব হল শ্রুতকর্মা, যার পিতা অর্জুন। এরা প্রত্যেকেই বিশিষ্ট বীর। প্রত্যেকেই কুরুযুদ্ধে পাণ্ডবপক্ষে বীরত্বের সাথে লড়াই করেছিল।মহাভারতে উপপাণ্ডবদের কথা বিশদে বলা হলেও, আমরা, সাধারণ পাঠককুল তাদের কোন খোঁজ রাখিনা, কারণ তাদের বাবারা হল পাণ্ডবরা। শৌর্যবীর্যে অতি দীপ্যমান। প্রাংশু মহীরুহ।

দ্রৌপদী ছাড়াও, যুধিষ্ঠিরের বিয়ে হয়েছিল শৈব্য সম্প্রদায়ের কন্যা দেবিকার সাথে। তাদের একটি ছেলে ছিল, নাম যৌধ্যেয়। নকুলের আরেক স্ত্রী হলেন চেদী রাজকন্যা করেনুমতী। এঁদের ছেলে নিরমিত্র। মদ্রদেশের রাজকন্যা বিজয়া ছিলেন সহদেবের অপর স্ত্রী। তাদের ছেলে সুহোত্র। 

পাণ্ডবসন্তানদের মধ্যে বয়সে সবচেয়ে বড় হল ঘটোৎকচ। বাবা ভীম, মা রাক্ষসকন্যা হিড়িম্বী (হিড়িম্বা নয়। হিড়িম্বা ছিল হিড়িম্বীর দাদা, যে ভীমের হাতে প্রাণ দিয়েছিল।)। ঘটোৎকচের বীরত্ব মহাভারতে সবিস্তারে বর্ণিত হয়েছে।

আর অভিমন্যু ছিল পাণ্ডবদের ছেলেদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ। অর্জুন-সুভদ্রার  ছেলে। ষোল বছরের এই অত্যাশ্চর্য যোদ্ধার মর্মান্তিক মৃত্যু ছিল মহাভারতের একটা টার্নিং পয়েন্ট।

অর্জুনের মণিপুরী স্ত্রী ছিল রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদা। তাদের ছেলে বভ্রুবাহন। চিত্রাঙ্গদার সাথে অর্জুনের বিয়ের শর্ত ছিল, ওদের সন্তানাদি হলে সে মণিপুর ত্যাগ করতে পারবেনা,মণিপুরের রাজ্যপাট তাকেই সামলাতে হবে। সেইমত, বভ্রুবাহন মণিপুরেই থেকে গিয়েছিল। কুরুযুদ্ধে অংশ নেয়নি সে।

অজ্ঞাতবাসকালে নাগকন্যা (নাগাল্যাণ্ডের রাজকন্যা) উলুপীর সাথেও অর্জুনের বিয়ে হয়। তাদের একটি ছেলেও হয়। নাম ইরাবন। কুরুযুদ্ধে অংশ নিয়ে, যুদ্ধের অষ্টম দিনে ইরাবনের মৃত্যু হয়েছিল রাক্ষস অলম্বুষের মায়াজালে বিভ্রান্ত হয়ে। তবে মারা যাবার আগে কৌরবপক্ষের  অসংখ্য গান্ধার (আফগান) যোদ্ধার প্রাণ নিয়েছিল বীর ইরাবন। শ্রীকৃষ্ণ আগেই জানতেন, সেদিনের যুদ্ধে ইরাবনের মৃত্যু হবে। কিন্তু, ইরাবনের মৃত্যু আটকাতে শ্রীকৃষ্ণ একটুও চেষ্টা করেননি (কেন করেননি, সে আরেকটা কাহিনী।)।

মহাভারত পড়লে দেখা যায়, পাণ্ডবরা ছাড়া, (বিশেষ করে অর্জুন), শ্রীকৃষ্ণ আর কাউকে বাঁচাতে তেমন তৎপর ছিলেননা। তিনি চেষ্টা করলেই ইরাবনের মৃত্যু আটকাতে পারতেন। ঘটোৎকচেরও। পুত্রসম ঘটোৎকচের প্রাণ গেল কর্ণের 'বাসবী শক্তিতে'। ভীমপুত্রের অন্তিম  আর্তচিৎকার কৃষ্ণের বুকে শেল হয়ে বিঁধেছিল ঠিকই, কিন্তু তাঁর মুখে ছিল স্মিত হাসি। কারণ, প্রাণে রক্ষা পেয়ে গিয়েছিল সখা অর্জুন। কর্ণের 'বাসবী শক্তির' কোন জবাব ছিলনা অর্জুনের কাছে। কর্ণ এই তীরটা সযত্নে বেছে রেখেছিল অর্জুনকে মারার জন্য। 

শ্রীকৃষ্ণ জানতেন, কৌরবদের সমূলে বিনাশ করতে গেলে অর্জুনের বাঁচাটা অনেক বেশি প্রয়োজনীয়। তাই, তাঁর সবচেয়ে প্রিয় ভাগনে, অভিমন্যুও যখন ব্যূহ থেকে বেরোনোর রাস্তা না জেনেও চক্রব্যূহে প্রবেশ করছে, তখন বাসুদেব তাকে নিরস্ত করেননি। প্রতিটি মৃত্যুই তিনি রোধ করতে পারতেন। যেমন, অশ্বত্থামার ছোঁড়া ব্রহ্মাস্ত্রে নিহত উত্তরার গর্ভস্থ পরীক্ষিৎকে বাঁচিয়েছিলেন। তিনি অন্যদের ব্যাপারে এতটা নির্বিকার থাকলেন কীভাবে?

যুগে যুগে বিষ্ণু অবতীর্ণ হয়েছেন, ত্রেতাযুগে রাম, তো দ্বাপরযুগে কৃষ্ণ হয়ে। রামের মত, কৃষ্ণের আবির্ভাবও  ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য। গীতায় আছে, 'ধর্মসংস্থাপনার্থায়, সম্ভবামি যুগে যুগে'। তাই তাঁর সবকাজে উদ্দেশ্য ছিল একটাই - ধর্মের জয়, অধর্মের পরাজয়। নিজেই গান্ধারীর, যদুবংশবিলোপের অভিশাপ মাথা পেতে নিয়েছিলেন। ধর্ম প্রতিষ্ঠা করতে গেলে অনেক উৎসর্গের প্রয়োজন হয়, তা যতই মর্মবিদারক হোক না কেন।

তাই অবতারের কোন আনন্দ নেই, আসক্তি নেই, দুঃখ নেই। মামা-ভাগনের পারিবারিক সম্পর্ক অতি তুচ্ছ ব্যাপার তাঁর কাছে।

অর্জুনপুত্র ইরাবনের মৃত্যু ছিল সেই 'বলিদান' যা পাণ্ডবদের জয় সুনিশ্চিত করেছিল, অভিমন্যু বা ঘটোৎকচের প্রাণদান আর দ্রৌপদীর পাঁচ পুত্রের মৃত্যু - সে-ও তাই। 

যুদ্ধশেষে কুরুক্ষেত্রে অষ্টাদশ ও অন্তিম রাত। কৌরব বংশ সমূলে বিনষ্ট। যুদ্ধক্ষেত্রে কৌরব শিবিরগুলি জনমানবহীন। জ্বলন্ত মশালের আলোয় অসংখ্য ক্ষণজীবী পতঙ্গদের আনাগোনা।

শ্রীকৃষ্ণ প্রস্তাব দিলেন, দুর্যোধন হত, তার শিবির শূন্য। রাতটা ওই শিবিরেই কাটানো যাক (প্রস্তাবটা শুনতেই কেমন অদ্ভুত লাগে।)। কৃষ্ণের প্রস্তাব মানেই পাণ্ডবদের কর্তব্য। সেইমত, পাঁচ পাণ্ডব, দ্রৌপদী, কুন্তী এবং শ্রীকৃষ্ণ আশ্রয় নিলেন দুর্যোধনের শিবিরে।

সেই রাতেই, পাণ্ডব শিবিরে  হানা দিল সাক্ষাৎ মৃত্যু। সদ্য পিতৃহারা, উদ্ভ্রান্তপ্রায় অশ্বত্থামার শানিত খড়গ প্রাণ নিল নিদ্রিত পাঁচ পাণ্ডবপুত্রের। প্রাণ হারাল, বাধা দিতে আসা শিখণ্ডী ও ধৃষ্টদ্যুম্নও।

এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের ফলে, হস্তিনাপুর তথা ভারতের রাজ্যভার সামলানোর জন্য পাণ্ডবপরবর্তী প্রজন্মের আর কেউ রইল না। তাই, শ্রীকৃষ্ণের মৃত্যুর পর, পাণ্ডবরা মহাপ্রস্থানে নিষ্ক্রান্ত হলে,  ভারতশাসনের ভার গেল পাণ্ডবদের নাতি, অভিমন্যুর ছেলে পরীক্ষিতের হাতে। সাথে পরামর্শদাতা হিসেবে থেকে গেল একমাত্র জীবিত কৌরব যুযুৎসু। 

আসলে, ভারতের সিংহাসন নিয়ে ভ্রাতৃঘাতী প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনাটাই বিনষ্ট করে দিয়েছিলেন কৌশলী কৃষ্ণ। ধর্মরাজ্য প্রতিষ্ঠা ছিল তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। পাণ্ডবপুত্ররা সবাই বেঁচে থাকলে, সেযুগের নিয়মমত, ঘটোৎকচই হত ভারতসম্রাট। ঘটোৎকচ ছিল অর্ধেক মানুষ, অর্ধেক রাক্ষস। এমন একজনকে ভারতসম্রাট হিসেবে মানাটা একটু সমস্যার হত। আর উপযুক্ততম ব্যক্তি ছিল অভিমন্যু। কিন্তু সে ছিল সর্বকনিষ্ঠ। সবচেয়ে ছোট ভাই হবে সম্রাট, আর বড় ভাইয়েরা  সব মেনে নেবে, এটাও একটু কষ্টকল্পনা ছিল।

তাই পাণ্ডবপরবর্তী প্রজন্মটাকে পর্যায়ক্রমে একেবারে নিঃশেষ করে দিলেন কৃষ্ণ। কারণ, ধর্মপ্রতিষ্ঠার জন্য যা দরকার তা-ই করেছিলেন তিনি। দরকারমত নির্দয়, নির্মমও হতে হয়েছিল তাঁকে।

🧡🧡🧡🧡🧡🧡🧡🧡🧡🧡🧡🧡
🧡🧡🧡🧡🧡🧡🧡🧡🧡🧡🙏🚩🕉️

অপেক্ষার নাম মায়া!

মাঝেমাঝে সবকিছুর উর্ধে গিয়ে হলেও তোমাকে চাই, হয়তো ভালোবাসার খাতিরে নাহয় তোমার মোহমায়ায়, মনে হয় তোমার জন্যে আজীবন ধরে অপেক্ষা করি, অবশ্য আমি অপেক্ষা করবোও তোমার জন্যে সারাজীবন, যতদিন তুমি আমার না হও, আচ্ছা মনে আছে তোমাকে প্রথম যেদিন বলে ছিলাম,তুমি সেদিন হয়তো আমাকে দেখেও নি, প্রথম দেখায় ভালোবাসা বুঝেন মহারাণী? , একদম হুবহু তাই, প্রথম দেখাতেই ভালোবেসে ফেলেছিলাম হয়তো, তখন বুঝি নি এতোটা মায়ায় জড়িয়ে যাবো। আমার,সেই ক্লাস টেন, এক ডানপিটে সদ্য কিশোর আমি, প্রথম দেখায় কাউকে এতটা ভালোবাসা যায় তা আমি তোমাকে না জানলে বুঝতামই না।সেই থেকে তোমাকে জানার আগ্রহটা আমার আজ অবধি কমে নি, তোমাকে জানলাম তো ধীরেধীরে, বয়স বাড়ার সাথেসাথে ভালোবাসাও বাড়লো, জানো তো তোমাকে লুকিয়ে দেখতাম সারাদিন, তুমি হয়তো তখনও জানতে না আমি তোমাকে এতটা ভালোবাসি, বাইশের প্রায় শেষে তোমাকে জানালাম আমার মনের কথা, আমি ভেবেছিলাম পৃথিবীতে যে ছেলে টা তোমাকে এতটা ভালোবাসে তাকে তুমি বুঝতে পারবে,ভালোবাসবে,আগলে রাখবে মায়ায়, অথচ তুমি জানান দিলে উল্টো, ভালোবাসবে না বলে আটকে থাকলে এক সংবিধিবদ্ধ সমীকরণে, নেহাত বন্ধত্বের কথা বলে কাছে রাখলে, তবুও আমি ভালো আছি, সারাদিন তোমার মায়ায় পড়ে থাকি,ইচ্ছে করেই ভালোবাসি, তোমাকে ছাড়া তোমার জায়গায় অন্য কেউকে কল্পনাও করতে পারিনা, শুরুতেই বলেছি আমি তোমাকে চাই, তোমাকেই চাই,প্রয়োজনে একটা গোটা জীবন অপেক্ষা করে হলেও তোমাকে চাই,!
মায়াবী তুমি ইন্দ্রজালের যাদুকর। 

ভাগ্য আর আমি

ভাগ্যঃ তুই এভাবে আমায় কেন মেনে নিতে চাস না?
আমিঃ এমন ভাগ্য কে'বা মেনে নেয় সহজে?
ভাগ্যঃ তুই কি ভেবেছিস?তুই মেনে না নিলেই আমি ভালো হয়ে যাবো?
আমিঃ নাহ...আমি আর তোমার দোষ দেইনা।যতদিন বেঁচে আছি,ততদিন আমি আর তোমায় দোষারোপ করতে চাইনা।
ভাগ্যঃ তোকে এত কষ্ট দেই,জীবন চলার পথটা কত সংকীর্ণ করে দেই,তবুও কেন মিছে মিছে যুদ্ধ করছিস আমার সাথে?

আমিঃ পৃথিবীতে সামান্য একটু ভালো ভাবে কে না বাঁচতে চায়? একটুখানি শান্তি কে না পেতে চায়?
ভাগ্যঃ আমার ডায়েরি তা লেখা নেই।
আমিঃ তা জানি আমি।
ভাগ্যঃ তা জানার পরেও কেন সবকিছু জেনেও মেনে নিতে চাস না?
আমিঃ ঐ যে বললাম,যতদিন বেঁচে থাকা ততদিন ভালো থাকতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।

ভাগ্যঃ আমি তোকে কোনোদিনও সেই চেষ্টায় সফল হতে দিবো না!এর থেকে ভালো,তুই আমায় মেনে নি।
আমিঃ হু...মেনে নিতে চাই তোমায়।কিন্তু মাঝে মাঝে তো আমারও ভালো থাকতে ইচ্ছে করে।সবাই কত হাসিখুশি ভাবে দিন কা*টায়।চাইলে তো তুমিও ভালো হতে পারতে।

ভাগ্যঃ বিধাতা আমায় সেভাবে সৃষ্টি করেনি তোর জন্য।তুই যতই নিজেকে সুখী বানাতে চাস,তা কোনোদিনও পারবি না।যাকে অবলম্বন করে ভালো থাকতে চাইবি,একটা না একটা দুর্যোগ আমি ডেকে আনবোই!
আমিঃ আমার পিছু কি ছাড়া যায় না এবার?
ভাগ্যঃ মৃ ত্যু ছাড়া তো সেটা সম্ভব নয়!
আমিঃ তবেই মৃ ত্যুই দাও আমায়।এমন জীবনের স্বাদের থেকে,মৃ ত্যুর স্বাদই অধিক শ্রেয়!
নীলাম্বরী,, 
আমার নিজস্ব কোনো চাওয়া-পাওয়াই নাই।

আমি কেবল অপেক্ষা করতে জানি...

সেই সব কিছুর অপেক্ষা যা আমার হবে 
হয়তো আজ না তবে কোনো না কোনো একদিন আমার হবে।
 ১০০% এর ১০০% না হলেও ১% তো হবেই! আমি সেই ১% এর জন্যই অপেক্ষা করতে পারবো দিনের পর দিন -যুগের পর যুগ। 
কারণ সেই ১% পুরোপুরি ভাবে আমার হয়ে আসবে। "আমার" এই শব্দটা ভীষণ কঠিন মনে হয় কারণ আমার বলতে তেমন কিছুই নাই -কোনো কিছু নিয়ে জোর গলায় বলতে পারি নাহ এটা "আমার" 
ভয়ে থাকি! আমি যা কিছুই আমার ভাবি সেই সব কিছুই ধ্বংস হয়ে যায়!এমনটা নয় যে আমার চাওয়ায় জোর থাকে না! আমার রাগ-জেদ -ভালোবাসা-মায়া সব কিছুই ভীষণ তিব্র। সহজে কিছু মনে ধরে নাহ আমার আর একবার মনে ধরলে সেটায় পরিবর্তন আসে না কোনো ভাবেই নাহ -এতে কে কি ভাবলো কি বললো তাতে আমার কিচ্ছু যায় আসে না তবে ভাগ্য বলেও একটা ব্যাপার আছে তাই না? আমি আমার দিক থেকে যতই শক্ত করে ধরে রাখি না কেনো আমার কাছে কোনো কিছুই টিকে থাকে না তুচ্ছ থেকে তুচ্ছ বিষয়ও না! এজন্য সহজে কাউকে নিজের করে নেওয়ার দুঃসাহস আমি কখনোই দেখাই না
তবে কেউ যদি আমায় বুঝেশুনে আপন করে সব সময় আমার পাশে থাকে এবং থাকতে চায় তখন আমিও আমার সর্বস্ব দিয়ে সেই মানুষদের সাথে থাকি এবং থাকবো। আমি আমার কথা এবং কাজে সর্বদা অটল থাকি, তাদের আমি আমার দ্বিতীয় মাধ্যম হিসেবে নাহ বরং চিরস্থায়ী রূপে আমার জীবনের অংশ হিসেবে চাই এবং শেষ নিশ্বাস অব্দি চেয়েই যাবো -এটা কারোর কাছে আমার প্রতিজ্ঞা না! এটা আমার নিজস্ব "শপথ"
মাঝে মধ্যে আমার চারপাশ আমায় ঝাপসা বানিয়ে রাখে! মাঝে মধ্যে আমি নিজেই আমার চারপাশকে ঝাপসা বানিয়ে রাখি। চারপাশ আমায় ঝাপসা বানায় যাতে আমায় দেখেও না দেখার ভান করা যায় অথচ ওরা ঠিকই জানে সেখানে আমার অস্তিত্ব বিরাজ করে আছে! আর আমি আমার চারপাশকে ঝাপসা বানিয়ে রাখি যাতে সেখানে আমার অস্তিত্ব থাকা সত্বেও আমার আশেপাশের কেউ আমায় না দেখতে পায় এবং আমিও যেন আমার আশেপাশের কাউকে না দেখি। যেভাবে সবাই সব জায়গায় আমার উপস্থিতি চায় না -আমায় দেখতে চায় না তেমনই ভাবে আমিও সব জায়গায় নিজের উপস্থিতি প্রকাশ করি না এবং প্রকাশ করতে চাই না। সব কিছুর পরেও আমি চাইলেই যখন-তখন আমার চারপাশকে পরিষ্কার রূপে দেখতে পারবো কিন্তু আমার চারপাশ তা পারবে নাহ! 

মায়াবী মায়া

মধ্যরাতে আমি প্রায়ই জানালায় বসে  থাকি। এই সময়টা খুব বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে যাই। সিগারেট শেষ হয়ে যায়, ইচ্ছে হলেই  দোকানে গিয়ে সিগারেট নেওয়ার উপায় নেই। 
এই সময় আকাশে তাকালে আবছা আলোয় নীল আকাশ দেখা যায়। চোখে আলি ঝালি দেখায় পেঁয়াজ কালারের জামা পরে মায়া তাকিয়ে আছে। সর্বনাশ! এই মেয়ে আমার পিছু ছাড়ছেনা। 

মায়ার সাথে আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তগুলো কেটেছিল। মায়া একবার আমার বুকে মাথা রেখে ঘুমাতে চেয়েছিলো, তপ্ত দুপুরে আমার ঘামে ভেজা শার্টে তার মাথার চুল আটঁকে যাচ্ছিল। কাজল লাগালে চোখে! মায়া খুব গুছিয়ে কথা বলতে জানতো। মায়ার চোখে তাকালে আমার সব কথা বোবা হয়ে যেতো। মায়া যখন কথা বলে, আমার কথাগুলো তার কথায় চাপা পড়ে যায়। আমি বোকা হয়ে মায়াকে দেখি, মায়ার শিরা উপশিরায় আমি আমাকে দেখতাম। মায়াকে মনে হতো কোন দেয়ালে আঁকা চিত্রশিল্প। যা পিকাসো সাহেব আমার জন্য এঁকেছে, আর কারো জন্য না। মায়া যেদিন শেষবার আমার সামনে দাঁড়িয়েছিল, আমার কথা আটকে যাচ্ছিল মুখে, আমার মনে হচ্ছিল হলুদ জামা গায়ে মায়া মারা যাচ্ছে। আমার ইচ্ছে ছিল তাকে একবার লাশের বেশে দেখার। লাশের প্রতি আমার মায়া দয়া হয় না, হুমায়ূন আহমেদ স্যার এর একটা কথা মনে এনে দিতো  "মৃত মানুষদের জন্য আমাদের কোন সময় নেই"।  তবুও মায়ার লাশটা আমার সময় নষ্ট করছে। 
হে প্রিয়,,
অল্প সুখ -ছোট ছোট প্রাপ্তি - সীমিত সুন্দর মুহুর্ত পাওয়ার সাথে সাথেই কুড়িয়ে নিতে হয়... 
সামান্য কিছু পাওয়ার পর সামান্য বলে সেটাকে অবজ্ঞা করে -আমি এর চাইতে বেশি কিছু পাওয়ার যোগ্যতা রাখি এটা ভেবে পরবর্তী সুযোগ আসার অপেক্ষায় বসে থাকাটা বোকামি এবং এটা আসলে আপনার অপেক্ষা নাহ বরং আপনার লোভ এবং অহংকারকে নির্দেশ করে। 
জীবনে কোনো কিছু সর্ব দিক হতে পরিপূর্ণ হয় না, কোনো কিছুই অবিকল আমাদের মনের মতো হয় না, কোনে কিছুই নাহ!
সাজানো অনেক কিছু পাওয়ার চাইতে 
সামাম্য কিছু পেয়ে সেটাকে মনের মতো করে সাজানোর মধ্যে অধিক ভালো লাগা এবং সন্তুষ্টি কাজ করে। 
তোমার জন্য যে জীবন আমি শূণ্য থেকে ফিরে পেয়েছি, জীবনের সমস্ত ভুলগুলোকে একহাতে নিয়ে চিনতে পেরেছি, সে জীবনের কসম "তোমার শূণ্যতায় আমি হাসফাস করে বাঁচি,বিশ্বাস করো সময় যেন এক মনের পাথর আমার ওপর চাপা পড়তে চায়, তোমারে  শূণ্যতা অনুভব করি,নিজেকে সান্ত্বনা দেই সুখের, তোমার সব অসুখের উপর নেমে আসুক তীব্র বজ্রপাত, তুমি আমার স্পর্শে বাঁচো নিশ্চিন্তে!

জীবনের প্রতি আমার অভিমান, বড্ড অভিমানে অভিযোগে জমছে  প্রতিনিয়ত। 
মাঝে মাঝে মনে হয় বুকের ভেতরে অভিমানের পাহাড় জমে ভারী হয়ে আছে। প্রতিনিয়ত মন ভাঙছে। মাঝে মাঝে মনে হয় গভীর রাতে মাটির ব্যাংকে খুচরো টাকার মতো জমিয়ে রাখি অভিমান গুলো, অবহেলা গুলো। 
প্রতিটি রাতে,জানালার কোণ ঘেঁষে মধ্যে রাতে বসে থেকে মন খারাপির খোঁড়াক জমিয়ে থাকা মানুষ আমি।অভিমানের দারিদ্র্য দুটো চোখ দিয়ে নির্বাক হয়ে থাকিয়ে থাকি আকাশ পানে,
হয়তো কারো অপেক্ষা করি আবার হয়তো নিয়তির কাছে হেরে গিয়ে দুঃখ বিলাসীনি হয়ে উঠি। 
অভিমানে চোখের জল জমতে জমতে এক মহাসমুদ্র পুষে রেখেছি মনে, প্রতিরাতে~প্রতিক্ষণে!! 

সনাতনী ব্যাঞ্জন বর্নের পাচালি

ক= কলিযুগে কৃষ্ণচন্দ্র গৌররূপে আসে
খ= খোল-করতাল নিয়ে মাতে কীর্তন উল্লাসে

গ= গিরিধারী গোবিন্দ ব্রজের জীবন
ঘ= ঘরে ঘরে সবে কর নাম সংকীর্তন

ঙ= শঙ্খের পরশে ধ্রুব জ্ঞান লভিল
চ= চন্দন সুবাসে হরি আনন্দিত হল

ছ= ছয় গোঁসাই করে বৃন্দাবনে বাস
জ= জগতে প্রসিদ্ধ নামাচার্য হরিদাস

ঝ= ঝুলন বেদীতে রাধাকৃষ্ণ বিরাজিত
ঞ= গোঁসাঞি অদ্বৈত প্রভু জগৎ পূজিত

ট= টিয়াপাখি বৃন্দাদেবীর অতি অনুগত
ঠা= ঠাকুর মশাই আছেন যজ্ঞেতে রত

ড= ডাকাতের পিঠে চড়ে ছোট্ট নিমাই
ঢ= ঢাক বাজিয়ে দুর্গা মাকে আহবান জানাই

ণ= বেণুধারী বাজায় বেণু নাচে বৃন্দাবন
ত= তুলসী মঞ্জরি কর কৃষ্ণে সমর্পণ

থ= থৈ থৈ জলে কৃষ্ণের জমুনা বিহার
দ= দুষ্ট কংসেরে কৃষ্ণ করেন সংহার

ধ= ধেনু চরায় বৃন্দাবনে কানাই বলাই
ন= নদীয়ায় বিলায় নাম নিমাই নিতাই

প= পাদসেবন নববিধা ভক্তির এক অঙ্গ
ফ= ফাল্গুনে আবির্ভূত হলেন গৌরাঙ্গ

ব= বিষপানে নীলকণ্ঠ হল মহাদেব
ভ= ভক্ত হরিদাসের প্রিয় শ্রীচৈতন্যদেব

ম= ময়ূরপুচ্ছ করে কৃষ্ণের মস্তক শোভন
য= যমুনায় কৃষ্ণ করেন কালীয় দমন

র= রাধাঠাকুরাণী হন বৃন্দাবনেশ্বরী
ল= লক্ষ্মীদেবী হন সর্ব ধনের অধীশ্বরী

শ= শুকমুখে ভাগবত শোনেন পরীক্ষিৎ
ষ= ষড়ভূজ রূপে গৌর হল প্রকাশিত

স= সর্বজনাশ্রয় কৃষ্ণ জগতের প্রাণ
হ= হরেকৃষ্ণ আন্দোলন কর যোগদান

ড়= গরুড়ের পিঠে চড়ে লক্ষ্মী নারায়ণ
ঢ়= আষাঢ়ে জগন্নাথ করেন রথে আরোহন

য়= হায়! হায়! বদ্ধজীব কত পাপ করে
ৎ= মৎস্যরূপে কৃষ্ণ এলেন জগৎ উদ্ধারে

ং= হংস বাহন ব্রহ্মা করেন সৃজন
ঃ= দুঃখ মোচন করেন শ্রীমধুসূদন
ঁ= গৌরাচাঁদ প্রচারিলেন নাম সংকীর্তন

কাকতালীয়

** কাকতালীয় **

1. শরীরের যে জায়গাটা হাত থেকে বেশি দূরে,  সে জায়গাটা বেশি চুলকায় ।

2. ছোট কোনও বস্তু মেঝেতে পড়ে গেলে, সেটি কখনও পায়ের কাছে থাকে না । জিনিসটা পাওয়া যাবে খাটের তলায় শেষ মাথায় ।

3. কাউকে দেখাতে চাইছেন যে  মেশিনটা কাজ করছে না । স্টার্ট দিলেন তো দেখবেন ঠিক তখনই ওটা কাজ করছে ।

4. ভাবছেন বসের কাছ থেকে ছুটি চাইবেন, ঠিক তখনই আর একজন ছুটি চেয়ে বসবে, আপনার ছুটির বারোটা বাজবে ।

5. যদি কাউকে বলেন আকাশে  100  বিলিয়ন তারা আছে, সে আপনার কথা বিশ্বাস করবে । কিন্তু যদি বলেন, দেওয়ালের রং এখনও শুকোয় নি, সে অবশ্যই হাত দিয়ে ধরে দেখবে ।

6. জেলি মাখানো রুটি কাপড়ে পড়ে গেলে , জেলি লাগানো দিকটাই নীচে থাকবে, কাপড় ময়লা করে দেবে ।

7. দেরি করে আসার কারন হিসাবে যদি বসকে বলেন, গাড়ির চাকা পাংচার হয়েছিল,  পরদিন সত্যিই গাড়ির চাকা পাংচার হবে ।

8 . ব্যাংকে লাইনে দাঁড়িয়েছেন,  পাশের লাইনটা আগে বাড়ছে । লাইন পাল্টে পাশেরটায় এলে দেখবেন,  ছেড়ে আসা লাইনটা দ্রুত এগোচ্ছে ।

9. ম্যাকানিক্যাল কাজ করার সময় যখন আপনার হাত কালি ,ঝুলি , গ্রিজ দিয়ে মাখামাখি, ঠিক তখনই আপনার নাক চুলকোবে ।

10. বাড়ি ফেরার যেদিন তাড়া থাকবে, রাস্তায় বাস পেতে সেদিন দেরি হবে ।

11. যেদিন আগেই স্টেশনে পৌঁছাবেন,  সেদিন ট্রেন লেট করবে । যেদিন আপনার স্টেশনে পৌঁছাতে সামান্য দেরি হবে, ট্রেন ঠিক সময়ে ছেড়ে যাবে ।

12. যদি আপনি ভুল নাম্বার ডায়াল করেন, বিজি টোন পাবেন না, কেউ না কেউ উত্তর দেবে ।

13 . স্নানের সময় যখন আপনার সারা গা ভেজা ঠিক তখনই আপনার টেলিফোন আসবে ।

14. একগাদা বইয়ের থেকে যদি উপর থেকে নির্দিষ্ট বই খোঁজেন, তাহলে বইটা পাওয়া যাবে নীচে । আবার বুদ্ধি করে নীচে থেকে খোঁজা শুরু করলে, বইটা থাকবে সবার উপরে ।

15. অফিসে যেদিন আপনার হাতে ফ্রি সময়,  সব কলিগ সেদিন খুব ব্যস্ত থাকবে ।

16. যে গেম খেলার নিয়ম যত সহজ, দেখবেন সেই গেমের প্রতি আপনার আগ্রহ তত কম ।

** উপরের কোনও একটি ঘটনা আপনার জীবনে ঘটেছে ??????
🌸 একজন প্রবীণ মহিলা বাসে উঠে বসল।  পরের স্টপে একজন শক্ত সমর্থ যুবতী উঠে এসে বৃদ্ধা মহিলার পাশে বেশকিছু ব্যাগ নিয়ে ঠেলে ঠুলে বসে পড়ল।

যুবতীটি যখন দেখল যে বয়স্কা মহিলা চুপ করে রয়েছেন, তখন সে বৃদ্ধা মহিলাকে জিজ্ঞাসা করল যে সে যখন ব্যাগ নিয়ে চেপে চুপে বসল তখন তিনি কেন অভিযোগ করলেন না।

 প্রবীণ মহিলা হাসি দিয়ে জবাব দিলেন: '' এত তুচ্ছ কিছু নিয়ে আলোচনা করার দরকার নেই, কারণ তোমাকে পাশে নিয়ে আমার ভ্রমণটি খুব ছোট কারণ আমি পরের স্টপে নেমে যাচ্ছি।  "

 এই উত্তরটি সোনার অক্ষরে লেখার দাবিদার: "এত তুচ্ছ কিছু নিয়ে আলোচনা করার দরকার নেই, কারণ আমাদের একসাথে যাত্রা খুব ছোট"।

আমাদের প্রত্যেককে বুঝতে হবে যে এই পৃথিবীতে আমাদের সময়টি এতটাই স্বল্প যে রেশারেশি, অনর্থক যুক্তি, হিংসা, অন্যকে ক্ষমা না করা, অসন্তুষ্টি এবং অন্যকে প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবা মনোভাবটা দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়া 'সময় এবং শক্তির' একটি হাস্যকর অপচয়।

কেউ কি আপনার হৃদয় ভেঙেছে?  
শান্ত থাকুন,
ট্রিপটি খুব ছোট।

কেউ আপনার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, ভয় দেখিয়েছে, ঠকিয়েছে বা অপমান করেছে?
"আরাম করুন।  ক্ষমা করে দিন। কারণ ট্রিপটি খুব ছোট"।

কেউ আপনাকে বিনা কারণে অপমান করেছে?  
"শান্ত থাকুন, এড়িয়ে যান কারণ ট্রিপটি খুব ছোট"।

কোন সাক্ষাতে আপনার বন্ধু  আপনি যা পছন্দ করেন না এমন কোন মন্তব্য করেছিলেন?
"শান্ত থাকুন,  তাকে উপেক্ষা করুন,  ক্ষমা করে দিন, কারণ  ট্রিপটি খুব ছোট"।

কেউ আপনার জন্য যে সমস্যাই নিয়ে আসুক না কেন, মনে রাখবেন যে একসাথে আমাদের যাত্রা খুব ছোট।

এই ভ্রমণের দৈর্ঘ্য কেউ জানে না। এটি কখন থামবে তা কেউ জানে না। আমাদের একসাথে ভ্রমণ খুব ছোট।

🌸 আসুন কাউকে প্রতিদ্বন্দ্বী না ভেবে সহযাত্রী ভেবে একে অন্যকে সহযোগিতা করি, কারণ ট্রিপ টি খুবই ছোট্ট কিন্তু কাজ অনেক। এই অল্প সময়ে অনর্থক সময় নষ্ট না করে সততার সাথে নিজেকে সফল করতে চেষ্টা করি। সবার জন্য অবিরাম ভালোবাসা 💝💝
মাঝে মাঝে ইচ্ছে জাগে 
নিরুদ্দেশ হয়ে চলে যাই কোথাও 
যেখানে আমায় কেউ চিনবে না জানবে না! 
আমায় কিছু জিজ্ঞেস করবে না 
কোনো কিছুর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ চাইবে না! 
আমি নিশ্চিন্তে থাকবো, নিজের মতো করে চলবো,
আচ্ছা আদৌও কি এমন জায়গা আছে পৃথিবীতে?
থাকলেই বা কি আমি এমনটা কেবল ভাবতে পারি কেবল! যেতে চাইলেও আমার বিবেক একটা শক্ত দেয়ালের মতো এসে দাঁড়ায় আমার সামনে আমায় বাধা দেওয়ার জন্য। আমি তো পারি না সব কিছু চাইলেই -এমন টা নয় যে আমি অক্ষম বা আমার সুযোগ নেই! সব কিছুই আছে সাহসও আছে তবে ওই যে বিবেক বলেও তো একটা বিষয় আছে
আমার বিবেকে বেঈমানী নাই, সবাই স্বার্থপর ভাবলেও আমি কেবলই নিজের কথা ভেবে চলতে পারি নাহ! যদি ভাবতাম তবে আজ কারোর সাধ্য ছিলো নাহ আমার নয়নে রক্তের অশ্রু প্রবাহিত করার,আমায় জখম দেওয়ার,দুঃখ দেওয়ার!
জখম বলতে কেবল শরীরের আঘাতকে বুঝায় না 
আমি মানুষের কথার আঘাতে বেশি আহত হই
এবং সেই আঘাতে মানুষজন আরো লবণ ছিটিয়ে দিয়েই চলে! আচ্ছা ওরা কি জানে নাহ বুঝে না
আমি চাইলেই তো ওদের প্রতিটা কথার এবং কর্মের জবাব দিতে পারি, চাইলেই সব শেষ করে দিয়ে নিজ ইচ্ছে মতো চলতে পারি এবং তাদের মুখের দিকে তাকানোরও কোনো প্রয়োজন নাই আমার তবুও আমি সব সহ্য করছি -করেই চলেছি 
কেনো? আসলে এই "কেনো"এর উত্তর আমার নিজেরই জানা নেই তবে এটুকু বলতে পারি আমার বিবেক আমায় বাধা দেয় -জীবনের প্রতিটা মুহুর্তে -প্রতিটা পরিস্থিতিতে বাধা দেয়। 
তাতে কি?  তবুও দিন শেষে আমার নাম দেওয়া হয় অপয়া-স্বার্থপর! 

~নীলাক্ত

ননিবালা দেবী

কাপড় খুলে শরীরে দুবাটি লঙ্কাবাঁটা ঢোকানো হয়েছিল, না না নেহেরু -গান্ধী মোটেই নয়, ওনারা তো ব্রিটিশ পরিবারের অনুগত।ইনি ননীবালা দেবী।। বাংলার প্রথম মহিলা রাজবন্দী ননীবালা দেবী জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৮৮৮ সালে হাওড়া জেলার বালিতে। বাবা সূর্যকান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়, মা গিরিবালা দেবী। সেই সময়ের সামাজিক রীতি মেনে ১৮৯৯ সালে মাত্র এগার বছর বয়সে তাঁর বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের পাঁচ বছরের মাথায় ১৯০৪ সালে তাঁর স্বামী মারা যান। তাঁর বয়স তখন মাত্র ষোল। এরপর তিনি তাঁর বাবার কাছেই ফিরে আসেন।
১৯১৪ সালে বেধেছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। সেই সময় ভারতে যুগান্তর দলের বিপ্লবীরা জার্মানির কাছ থেকে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ভারতব্যাপী একটা বৈপ্লবিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে, স্বাধীনতা আনবার রাস্তা পরিষ্কার করতে চেষ্টা করেছিলেন। বাঘা যতীন ও রাসবিহারী বসুর মিলিত চেষ্টায় দ্বিতীয় সিপাহি বিদ্রোহের (২১ফেব্রুয়ারি, ১৯১৫) পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়, রাসবিহারী বসু ভারত ত্যাগ করেন। ইংরেজ সরকার ভারত-জার্মান যোগাযোগের খবর জেনে যায়। বাঘা যতীন যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় বালেশ্বরের যুদ্ধে শহীদ হন (১০ই সেপ্টেম্বর ১৯১৫)। তাঁর মৃত্যুতে বাংলার বিপ্লবী কাজে অপূরণীয় ক্ষতি হয়। তবুও ইংরেজের রক্তচক্ষুকে অগ্রাহ্য করে পূর্ব-ভারতের পথ ধরে চীন ও আসামের মধ্য দিয়ে অস্ত্রশস্ত্র আনিয়ে ভারতে বিদ্রোহ ঘটাবার জন্য বিপ্লবীরা আবার চেষ্টা করেছিলেন যাদুগোপাল মুখার্জীর নেতৃত্বে।
চারদিকে চলছে তখন আহত ব্রিটিশ-সিংহের প্রচণ্ড আক্রমণ ও নির্মম অত্যাচার। সেই অত্যাচারের ধরন ছিল- ফাঁসি, দ্বীপান্তর, পুলিসের নির্যাতনে পাগল হয়ে যাওয়া এবং চার্লস টেগার্টের তদারকে নিত্য নতুন বীভৎস অত্যাচার। মলদ্বারে রুল ঢোকানো, কমোড থেকে মলমূত্র এনে মাথায় ঢেলে দেওয়া, চোখের মণিতে সুঁচ ফোটানো, গরম লোহা হাতের তালু বা পায়ে চেপে ধরা, কয়েকদিন উপোস করিয়ে পিছনে হাতকড়া অবস্থায় ঠা ঠা রোদে বন্দীকে দাঁড় করিয়ে রেখে লাথি ও রুলের মার - এই ছিল টেগার্টের অত্যাচারের রীতি। এইরকম অসহায় বিপদভরা দিনে, সম্পর্কে ভাইয়ের ছেলে বিপ্লবী অমরেন্দ্র চ্যাটার্জীর কাছে বিপ্লবের দীক্ষা পেলেন বাল্যবিধবা ননীবালা দেবী।
দেশকে ভালোবেসে বিপ্লবীদের হয়ে তিনি নানা ঝুঁকিপূর্ণ কাজের দায়িত্ব নিতেন ও নিপুণ দক্ষতায় সে কাজ সম্পন্ন করতেন। অনেক কাছের মানুষও টের পেত না যে তিনি বিপ্লবী দলের সক্রিয় সদস্য। তিনি বিপ্লবীদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করতেন, এক জায়গার নেতাদের নির্দেশ ও নানা দরকারি খবর অন্য জায়গার বিপ্লবীদের কাছে পৌঁছে দিতেন। অস্ত্রশস্ত্র নিজের কাছে লুকিয়ে রাখতেন আবার গোপনে বিপ্লবীদের কাছে পৌঁছেও দিতেন।
১৯১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে
ভারত-জার্মান যোগাযোগ এবং তার পরের পর বিভিন্ন ঘটনার খবর পেয়ে, সেই সম্পর্কে পুলিস কলকাতার ‘শ্রমজীবী সমবায়’ নামে এক প্রতিষ্ঠানে তল্লাশী করতে যায়। তল্লাশীর সময় অমর চ্যাটার্জী পলাতক হন এবং এক সঙ্গী রামচন্দ্র মজুমদার গ্রেপ্তার হন।
পলাতক অমর চ্যাটার্জী এবং তাঁর কয়েকজন সহকর্মীকে প্রায় দুই মাস আশ্রয় দিয়ে রাখলেন ননীবালা দেবী রিষড়াতে। এদিকে গ্রেপ্তারের সময় রামচন্দ্র মজুমদার একটা ‘মাউজার’ (Mauser) পিস্তল কোথায় রেখে গেছেন সে-কথা দল কে জানিয়ে যেতে পারেননি। বিপ্লবীদের  দরকার ছিল সেটির, কিন্তু কীভাবে সন্ধান জানা যাবে?
অতএব জেলে ঢুকে রামচন্দ্রের সঙ্গে দেখা করে পিস্তলের খোঁজ আনতে চললেন  দুঃসাহসী ননীবালা দেবী।
সেদিনের সমাজে যা কেউ কল্পনা করতেও পারত না তাই করলেন তিনি। বিধবা ননীবালা দেবী রামচন্দ্র মজুমদারের স্ত্রী সেজে, তাঁর সঙ্গে প্রেসিডেন্সি জেলে দেখা করতে এলেন। ১৯১৫-১৬ সালে যে যুগ ছিল তখন বাঙালী বিধবাদের পক্ষে সিঁদুর মাথায় এরকম পরের স্ত্রী সেজে জেলে গিয়ে পুলিসের কড়া দৃষ্টিকে ফাঁকি দিয়ে কাজ হাসিল করার কথা কেউ চিন্তাও করতে পারত না। পুলিস তো নয়ই, কোনো সাধারণ মেয়েও নয়। আজকের সমাজ ও সেদিনকার সমাজ - মধ্যে আছে বিরাট সাগরের ব্যবধান। বিধবা ননীবালা সধবার সাজে সিঁদুর পরে একগলা ঘোমটা দিয়ে রামচন্দ্রের স্ত্রী সেজে স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে গেলেন জেলে। পুলিশের চোখে  ধুলো দিয়ে পিস্তলের সন্ধান জেনে বেড়িয়ে এলেন প্রেসিডেন্সি জেল থেকে।
পুলিস অনেক পরে জানাত পারল যে, ননীবালা দেবী রামচন্দ্র মজুমদারের স্ত্রী নন। কিন্তু এটা জানতে পারেননি যে, তিনিই রিষড়াতে ছিলেন আশ্রয়দাত্রী।
পুলিশ নজর এড়াতে ১৯১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে চন্দননগরে আবার বাড়ি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। তবে রিষড়ার মতো এখানেও মেয়েরা না থাকলে বাড়ি ভাড়া পাওয়া যেত না। তখন আবার এলেন ননীবালা দেবী, গৃহকর্ত্রীর বেশে। এখানে এইসময়ে আশ্রয়দানের উদ্দেশ্যে তাঁর বড়পিসিকেও এনেছিলেন বিপ্লবী ভোলানাথ চ্যাটার্জী। এই বড়পিসি ও ননীবালা দেবী দুটো আলাদা বাড়িতে আশ্রয় দিয়ে রেখেছিলেন পলাতক বিপ্লবীদের। পলাতক হয়ে আছেন সেখানে বিপ্লবী নেতা যাদুগোপাল মুখার্জী, অমর চ্যাটার্জী, অতুল ঘোষ, ভোলানাথ চ্যাটার্জী, নলিনীকান্ত কর, বিনয়ভূষণ দত্ত ও বিজয় চক্রবর্তী। এঁদের সকলেরই মাথায় অনেক হাজার টাকার হুলিয়া ছিল।
এই নিশাচরেরা সারাদিন দরজা বন্ধ করে ঘরে কাটিয়ে দিতেন। শুধু রাতে সুবিধা মতো বেড়িয়ে পড়তেন। পুলিস এসে পড়লেই এই পলাতক বিপ্লবীরা নিমেষে অদৃশ্য হয়ে যেতেন।
এইভাবে চন্দননগরের বিভিন্ন জায়গায়ে কয়েকটি বাড়িতে তল্লাশী ও বিপ্লবীদের নিমেষে পলাবার পর ননীবালা দেবীকে আর চন্দননগরে রাখা নিরাপদ হলো না। কারণ পুলিস তৎপর হয়ে উঠেছিল ননীবালা দেবীকে গ্রেপ্তার করতে। তাঁর বাবা সূর্যকান্ত ব্যানার্জীকে পুলিস বালি থানাতে নিয়ে গিয়ে দশটা থেকে পাঁচটা অবধি বসিয়ে রেখে জেরা করত - ননীবালা দেবীর কোথায় আছেন জানতে।
ননীবালা দেবী পলাতক হলেন। তাঁর এক বাল্যবন্ধুর দাদা প্রবোধ মিত্র কাজের জন্য যাচ্ছিলেন পেশোয়ার। বাল্যবন্ধু তার দাদাকে অনেক অনুনয় করে রাজী করালেন ননীবালাকে সঙ্গে নিয়ে যেতে। ননীবালা দেবী পলাতক অবস্থায় তাঁর সঙ্গে পেশোয়ার গেলেন। এও এক অনন্য কাজ, এক বাঙালী বিধবা অচেনা এক পুরুষের সাথে কয়েক হাজার কিমি দূরে সম্পূর্ণ অন্য এক জায়গায়ে চলে গেলেন লুকিয়ে থাকতে! প্রায় ষোলো-সতের দিন পরে পুলিস সন্ধান পেয়ে যখন ননীবালা দেবীকে গ্রেপ্তার করতে পেশোয়ার গেছে, তখন ননীবালা দেবীর কলেরা চলছে তিনদিন ধরে। প্রথমদিন বাড়ি ঘিরে রেখে তার পরদিনই নিয়ে গেল তাঁকে পুলিস-হাজতে স্ট্রেচারে করে। কয়েকদিন পেশোয়ার হাজতে রাখার পর একটু সুস্থ অবস্থায় তাঁকে নিয়ে আসা হয় কাশীর জেলে, তখন তিনি প্রায় সেরে উঠেছেন।
কাশীতে আসার কয়েকদিন পরে, প্রতিদিন তাঁকে জেলগেটের অফিসে এনে কাশীর ডেপুটি পুলিস-সুপারিনটেন্ডেন্ট জিতেন ব্যানার্জী জেরা করত। ননীবালা দেবী সবই অস্বীকার করতেন -  বলতেন কাউকেই চেনেন না, কিছুই জানেন না। তারপর জিতেন ব্যানাজীর তুই-তুকারির অসভ্য ভাষা। ননীবালা দেবী তখনও চুপচাপ থাকতেন।
একদিন দুইজন জমাদারনী (Wardress) ননীবালা দেবীকে একটা আলাদা সেলে (cell) নিয়ে গেল। দুজনে মিলে তাকে জোর করে ধরে মাটিতে ফেলে দিল। তারপর সমস্ত কাপড় খুলে নিয়ে দু-বাটি লঙ্কাবাটা ওঁর শরীরের ভেতরে দিয়ে দিতে লাগল। ননীবালা দেবী চীৎকার করে লাথি মারতে লাগলেন সমস্ত শক্তি দিয়ে। অসহ্য অসম্ভব অসহনীয় এক বীভৎস জ্বালা, যার বর্ণনা করার ভাষা নেই। এভাবেই অত্যাচার চলত, তার পর আবার তাঁকে নিয়ে আসা হত সেই জেল-গেটের অফিসে জিতেন ব্যানার্জীর কাছে। আবার জেরা। এত অত্যাচার, শরীরের ভেতরে লঙ্কার জ্বালা, তবু তাঁকে ভাঙা সম্ভব হ'ল না।
কাশীর জেলে - সেখানে মাটির নীচে একটা খুবই ছোট ‘পানিশমেন্ট সেল’ অর্থাৎ শাস্তি কুঠুরী ছিল। তাতে দরজা ছিল একটাই, কিন্তু আলো বাতাস প্রবেশ করবার জন্য কোনো জানালা বা সমান্য ঘুলঘুলিও ছিল না। জিতেন ব্যানার্জী তিন দিন প্রায় আধঘণ্টা সময় ধরে ননীবালা দেবীকে ঐ আলো-বাতাসহীন অন্ধকার সেলে তালাবন্ধ করে আটকে রাখত। কবরের মতো সেলে আধঘণ্টা পরে দেখা যেতো ননীবালা দেবীর অর্ধমৃত অবস্থা, তবু মুখ দিয়ে স্বীকারোক্তি বের করতে পারল না। তৃতীয় দিনে বন্ধ রাখল আধঘণ্টারও বেশি, প্রায় ৪৫ মিনিট। স্নায়ুর শক্তিকে চূর্ণ করে দেবার চূড়ান্ত প্রচেষ্টা। সেদিন তালা খুলে দেখা গেল ননীবালা দেবী পড়ে আছেন মাটিতে, জ্ঞানশূন্য।
হাল ছেড়ে দিয়ে পুলিস ননীবালা দেবীকে কাশী থেকে নিয়ে এল কলকাতা প্রেসিডেন্সি জেলে। ১৮১৮ সালের তিন নম্বর রেগুলেশনের ধারা প্রয়োগ হল তাঁর বিরুদ্ধে, প্রথম মহিলা রাজবন্দি হিসাবে প্রেসিডেন্সি জেলে এলেন তিনি। সেখানে গিয়ে তিনি খাওয়া বন্ধ করে দিলেন। জেল-কর্তৃপক্ষ, এমনকি জেলা-ম্যাজিস্ট্রেটও তাঁকে অনুরোধ করে খাওয়াতে পারলেন না। ননীবালা দেবী বললেন, বাইরে গেলে খাবেন। প্রতিদিন সকাল ৯টায় নিয়ে যেত তাঁকে গোয়েন্দা-আফিসে, সেখানে আই.বি. পুলিসের স্পেশাল সুপারিনটেন্ডেন্ট গোল্ডি (Goldie) তাঁকে জেরা করত।
-আপনাকে এখানেই থাকতে হবে, তাই বলুন কী করলে খাবেন?
-যা চাইব তাই করবেন?
-করব।
-আমাকে বাগবাজারে শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের স্ত্রী সারদা মা'য়ের কাছে রেখে দিন, তাহলে খাব।
গোল্ডি শয়তানি হাসি লুকিয়ে বলে-আপনি দরখাস্ত লিখে দিন।
ননীবালা দেবী তখুনি দরখাস্ত লিখে দিলেন।
গোল্ডি সেটা নিয়ে ছিড়ে দলা পাকিয়ে ছেড়া কাগজের টুকরিতে ফেলে দিল। এবারে সবাইকে চমকে দিয়ে হঠাৎ আহত বাঘের মতো লাফিয়ে উঠে ননীবালা দেবী এক চড় বসিয়ে দিলেন গোল্ডির মুখে। 
-ছিড়ে ফেলবে তো, আমায় দরখাস্ত লিখতে বলেছিলে কেন? আমাদের দেশের মানুষের কোনো মান সম্মান থাকতে নেই? দ্বিতীয় চড় মারবার আগেই অন্য সি.আই.ডি'রা তাঁকে ধরে ফেলে। - একশো বছরেরও আগে এক বাল্য বিধবা মেয়ের কি আশ্চর্য সাহস !
জেলের মধ্যে একদিন সিউড়ির দুকড়িবালা দেবীর (১৮৮৭-১৯৭০) সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। সকলের কাছে তিনি 'মাসিমা' নামে পরিচিতি ছিলেন। দুকড়িবালা দেবী ছিলেন ভারতে 'অস্ত্র আইনে সাজা প্রাপ্ত প্রথম মহিলা বন্দি'। জানতে পারলেন, সিউড়িতে দুকড়িবালা দেবীর বাড়িতে সাতটা ‘মাউসার’  (Mauser) পিস্তল পাবার অপরাধে দুকড়িবালা দেবীর হয়েছে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড। রাখা হয়েছে তৃতীয় শ্রেণীর কয়েদী করে (মানে চোর-ডাকাত'দের সাথে একই সেলে। রাজবন্দী হলে আলাদা সেলে আলাদা ভাবে রাখা হয়)। অসম্ভব খাটাচ্ছে, ডাল ভাঙতে দিচ্ছে প্রতিদিন আধমণ। 
মতলব স্থির করে ফেললেন ননীবালা দেবী। উপবাসের ১৯ থেকে ২০ দিন চলছে তখন। আবার এলেন ম্যাজিস্ট্রেট অনুরোধ করতে।
-আপনাকে তো এখানেই থাকতে হবে। কী করলে খাবেন বলুন?
-আমার ইচ্ছামতো হবে?
-হ্যাঁ, হবে।
-তাহলে আমার রান্না করবার জন্য একজন ব্রাহ্মণ-কন্যা চাই, দুজন ঝি চাই।
-ব্রাহ্মণ-কন্যা কেউ আছেন এখানে?
-আছেন, দুকড়িবালা দেবী।
-আচ্ছা, তাই হবে।
এরপরে এলো সমস্ত নতুন বাসন-কোসন, হাঁড়িকুড়ি। ২১ দিনের পরে ভাত খেলেন সেই অসামান্য দৃঢ়চেতা বন্দিনী। সেইসাথে দুকড়িবালা দেবী'কেও বাঁচালেন পরিশ্রম থেকে।
দুই বছর এইভাবে বন্দীজীবন কাটিয়ে দিলেন তিনি। ১৯১৯ সালের এক দিন ননীবালা দেবীর মুক্তির আদেশ এলো।
জেল থেকে ফিরে এসে বালিতে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে তিনি ঠাই পেলেন না। প্রথমত সকলেই পুলিসকে ভয় পায়। এছাড়া বিধবা হয়েও পরস্ত্রী সাজা, পরপুরুষের সাথে একঘরে থাকা বা পেশোয়ার যাওয়া - এইসব কারনে সেই সময়ের অদ্ভুত সমাজের এক পক্ষ তাঁকে মেনে নেয়নি, মেনে নেয়নি তাঁর নিজের বাড়ীর লোকেরা। অন্যদিকে তাঁর নিজস্ব বিপ্লবী সংগঠন বা চেনাজানা সবটাই ব্রিটিশ পুলিশের অত্যাচারে শেষ হয়ে গেছে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। এই অবস্থায় তখন উত্তর কলকাতার এক বস্তিতে তাঁকে আশ্রয় নিতে হয়। (অন্য মতে, কোনও পূর্বপরিচিতের অনুগ্রহে একটি কুঁড়ে ভাড়া করেছিলেন হুগলিতে)। সুতো কেটে, রান্নার কাজ করে কোনমতে আধপেটা খেয়ে তাঁর দিন কাটতে থাকে। সমাজ এবং নিজের আত্মীয়-স্বজনদের ওপর রাগে, দু:খে, অপমানে তিনি সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছিলেন .. নিজেকে একপ্রকার লুকিয়ে রাখলেন .. এমনকি পরবর্তীকালের কোনও দেশনেতাদের কাছেও গেলেন না। যিনি সমাজকে উপেক্ষা করে দেশের কাজে নিজেকে বিলিয়ে দিলেন, তিনি কোথায় গেলেন সে ব্যাপারে কেউ জানতেও পারল না, খোঁজও করলো না।
দেশ স্বাধীন হওয়ার প্রায় কুড়ি বছর পরে ১৯৬৭ সালের মে মাসে তিনি মারা যান। না, ইতিহাস তাঁর জন্মদিন বা মৃত্যুদিনের তারিখ মনে রাখার প্রয়োজনবোধ করেনি। একটা সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে যে, পুরনো কোনও বিপ্লবী সাথীর চেষ্টায় অথবা পরাধীন জেলের খাতায় নাম থাকায়, বেঁচে থাকা অবস্থায় পঞ্চাশের দশকে ৫০ টাকা পেনশন পেয়েছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী হিসেবে - যদিও তার কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ নেই। কেউ মনে রাখেনি যাঁদের আত্মত্যাগের কথা তাঁদের দলেই ছিলেন বাংলার প্রথম মহিলা রাজবন্দী ননীবালা দেবী। তবে স্বদেশীদের নিয়ে তৈরি একটি বাংলা সিনেমায় (সিনেমার নাম 'বিয়াল্লিশ') তাঁকে নিয়ে কিছু দৃশ্য ছিল, এইটুকুই। শুধু দেশের জন্য বিধবা হয়েও সধবা সেজেছিলেন, খুবই ছোট কুঠুরী ‘পানিশমেন্ট সেলে’ শ্বাস নিতে না পেরে কতবার অজ্ঞান হয়ে গেছিলেন। সামান্য একটা গোটা কাঁচালঙ্কা শুধু খেতে বললেই আমরা ভয় পাবো। এইরকম দু-বাটি লঙ্কাবাটা তাঁর শরীরের গোপন জায়গায়ে ভেতরে দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কি অপরিশীম যন্ত্রণা তিনি সহ্য করেছিলেন - আমরা সুস্থ অবস্থায় কেউই তা অনুভব করতে পরবো না। উনিশ শতকের গোড়ার বিধবা মহিলা হওয়া সত্বেও নিজ চেষ্টায় তিনি সামান্য লেখাপড়া শিখেছিলেন। নিজে সুতো কেটে পৈতে তৈরি করে তা বিক্রি করে নিজের খরচ চালাতেন। তবু সেই সময়ের বাংলার কোথাও তিনি সম্মানের সাথে থাকার জায়গা পেলেন না। স্বাধীন ভারতেই তাঁকে অনাহারে কাটাতে হোলো। একবুক অভিমান নিয়ে তিনি নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখলেন - যা তাঁর মৃত্যুর পরেও শেষ হয়নি।
তাঁর কিছু মহিলা সহযোদ্ধাদের টুকরো টুকরো নানা লেখা থেকে যেটুকু জানা গেছে তাঁর বিষয়ে সেটুকু পুঁজি করেই তাঁকে এই শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন।
জয় হিন্দ্
লেখক - সোমনাথ সিংহ
তথ্য: স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলার নারী: কমলা দাশগুপ্ত।
স্বাধীনতার সংগ্রামের মঞ্চে ভারতের নারী: কৃষ্ণকলি বিশ্বাস 

===================
 ছবি ও তথ্য - সংগৃহীত 🙏
তোমার করা অভিমান গুলো আমার আকাশে সন্ধ্যাতারা হয়ে জ্বলজ্বল করে। আমি আকাশ পানে চেয়ে থাকি। মানুষ ভবিষ্যতের চিন্তা করে, টাকা জমায় জীবনে সফল হয় আর আমার সকল চিন্তা ভাবনা জুড়ে তোমার বিচরণ।। 

জানো দিন শেষে এমন একজন মানুষ না খুব প্রয়োজন যার বুকে সকল ক্লান্তির দীর্ঘশ্বাস নিমজ্জিত করা যায়।যার শরীরে গাঁ এলিয়ে চোখ বুজে নিশ্বাস নেওয়া যায়। 

কেউ তার জীবনে একাকিত্ব চায়না তবে একটা সময় যেন এই একাকিত্ব আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয়।আমি এই একাকিত্ব কখনোই চাইনি, আমি তো সবটা দিয়েই তোমায় চেয়েছিলাম! 

যুগের পর যুগ চলে যাবে কিন্তু তোমায় দেখার তৃষ্ণা আমার মিটবে না। এই চোখ এখনো প্রতিটি মানুষের মাঝে তোমায় খুঁজে চলে। তুমি নেই এটা আমার মন যেন মানতে নারাজ। 

পুরো শহর জুড়ে এক টুকরো মেঘ আর বৃষ্টি এনে দিলাম আমার হয়ে যেন তারা তোমায় ছুঁয়ে দেয়। কেউ যে তোমায় খুব মনে করছে তার বার্তা যেন তোমার কাছে পৌঁছে দেয়-

নিজেকে আজকাল বড্ড নিঃসঙ্গ লাগে। কোনো মতে দিন পার করে রাতের স্মৃতিরা এসে ধরা দেয়! 

*সবাই বলে তুমি নাকি আমার নও তবে এ মন বার বার জানান দেয় তুমি আমার, শুধুই আমার। 
রোজ তোমায় নিয়ে লিখতে বসি তবে তোমায় আর লেখা হয়না। ফোনের টিংটিং শব্দে বুক কেঁপে ওঠে, এই বুঝি ওপাশ থেকে তুমি কল করছো আমায়।

 সারাদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে গভীর রাত অব্দি ফোনের স্কিনের দিকে তাকিয়ে থাকি তোমার অপেক্ষায়। একটা বার তোমার রৌপ্যময় কণ্ঠ শোনার জন্য ব্যকুল হয়ে থাকি। আর আমার এইসব কিনা তোমার পাগলামি মনে হয়।

কি করে বোঝাবো বলো তুমি ছাড়া যে আমি শূন্য। এই পাগলামির মাঝে আমার ভালোবাসাটা অনুধাবন করলে হয়তো শান্তি পেতাম আমি।। 

আমার দিনগুলো না খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। ভালো যাবে কিভাবে তুমি ছাড়া যে আমি পুরোপুরি অন্ধকার আমার জীবন অন্ধকার!

আসবে কি বিশ্বাস করে একবার ভোরের আলো হয়ে আমার শহরে। তোমার প্রতি আমার ভালোবাসা, তোমার প্রতি আমার সম্মান আকাশ সমান। প্রতিটি রাতের গভীরতা জানে কতটা চাই তোমায় আমি। 

*একটা বার বিশ্বাস করে কি ফিরে আসা যায় আমার মতো এক তুচ্ছ মানুষের কাছে? ভালোবাসার কমতি থাকবে না কখনো।

প্রিয় নীলাম্বরী,, 
আপনার মাঝে আমি আমার ভালো থাকা খুঁজে পাই। আপনি আমার জীবনে আসার আগে কখনো অন্য কারো প্রতি এতোটা দূর্বলতা অনুভব হয়নি আমার। বার বার চলে গিয়েও ফিরে আসি আমি আপনার মাঝে। 

আমাদের জীবনে এই ভবিষ্যত, কাল,আজ সবকিছু যখন তখন শেষ হয়ে যেতে পারে। একটা অনিশ্চিত সম্পর্কের মাঝে আপনার সাথে জড়িয়ে পরেছি আমি। কারণ আমাদের সমাজের প্রেক্ষাপট যে ভিন্ন! 

জানেন, আমরা কখনোই সঠিক মানুষটির কদর করিনা। কিন্তু ভুল মানুষ গুলোর জন্য ঠিকই নিজেকে গুটিয়ে নেই সবকিছু থেকে। 
আচ্ছা নীলাম্বরী, একদিন যদি সত্যিই আমি হারিয়ে যাই তখন কি ভালো থাকবেন আপনি ? আমি ছেড়ে গেলে সুখী হবেন? আমি চলে গেলে আপনায় এতো জ্বালাবে কে বলেন? সে সারাক্ষণ বকবক করে আপনার মাথা খাবে? তখন মনে পরবে কি এই আমাকে ?  

আপনায় ছেড়ে গেলে হয়তো একদিন আমি সাকসেসফুল হবো।আপনি বার বার বলেন আমার জীবনে এমন একজন আসবে যে আমায় অনেক ভালোবাসবে, হয়তো এমন একজনকে পেয়েও যাব-
কিন্তু সাকসাসফুল হলেও সুখী হবো না। ভালোবাসায় পূর্ণ এমন একজন মানুষকে পেলেও দিন শেষে পরিচিত এক না পাওয়া গল্পের চরিত্র রয়েই যাবে। 

আমি আমার সফলতা অর্জনে এবং জীবনের প্রতিটা সময় জুড়ে আমার জীবনে আপনার অবস্থান চেয়েছিলাম। তবে কেন জানিনা আপনি নারাজ আমার এই আশায়। মাঝে মাঝে এতোটা তিক্ত হয়ে যাই তখন মনে হয় সত্যিই ফিরে আসি আপনার জীবন থেকে, কিন্তু পরক্ষণেই সবকিছু ভুলে ফিরে যাই আপনার মাঝেই। 

সব চাওয়ার মাঝে আমি এটাও চাই আপনি ভালো থাকুন সব সময়। আপনার ভালো থাকাটা সবার আগে আমি না হয় অপূর্ণতায় রয়ে গেলাম দিনশেষে! 

অচেনা তুমি

পৃথিবীর বুকে অঝোর ধারায় বৃষ্টি নামবে যতবার, ততবারই আমার স্মৃতি গুলো তোমার শহর জুড়ে অবস্থান করবে।

তোমায় চেয়ে প্রাপ্তির খাতায় বিরাট এক হাহাকার মিললো,তবুও তুমি মিললে না। তোমায় পেলাম না,তুমি আমার হলে না।। 

জানো তোমার চোখের সেই শেষ চাহনি আমায় ক্ষতবিক্ষত করে দেয়।তুমি তো আমার সুখ ছিলে, আমার হাসি মুখের কারণ ছিলে তুমি। 

আমার উপস্থিতি তোমার জীবনে হয়তো কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি। তবে বিশ্বাস করো তুমি আসার পর আমি স্বপ্ন দেখছি। আর সেই স্বপ্ন শুধু তোমাকে নিয়েই দেখেছি,সেই স্বপ্নে তোমাকে নিয়ে বাঁচতে চেয়েছি । 

তোমার সেই এক চিলতে হাসিতেই যেন আমার মৃত্যু লেখা। এতো সুন্দর হাসিও হয় কারো ? 

*এই পাওয়া না পাওয়ার ভেতরেও তোমার ভেতরটা এখনো আমার অজানা। আচ্ছা তুমি কি সত্যিই আমায় চেয়েছিলে ?  নাকি তোমার অবসর কাটাতে চেয়েছিলে ?  

শিব তাণ্ডব

শিব তাণ্ডব || Shiv Tandav || (শিব তাণ্ডব রচনা করেছিলেন রাবণ) জটা-টবী-গলজ্জ্বল-প্রবাহ-পাবিতস্থলে গলেবলম্ব্য লম্বিতাং ভুজঙ্গ-তুঙ্গ-মালিকাম্ । ...