মাঝে মধ্যে আমার চারপাশ আমায় ঝাপসা বানিয়ে রাখে! মাঝে মধ্যে আমি নিজেই আমার চারপাশকে ঝাপসা বানিয়ে রাখি। চারপাশ আমায় ঝাপসা বানায় যাতে আমায় দেখেও না দেখার ভান করা যায় অথচ ওরা ঠিকই জানে সেখানে আমার অস্তিত্ব বিরাজ করে আছে! আর আমি আমার চারপাশকে ঝাপসা বানিয়ে রাখি যাতে সেখানে আমার অস্তিত্ব থাকা সত্বেও আমার আশেপাশের কেউ আমায় না দেখতে পায় এবং আমিও যেন আমার আশেপাশের কাউকে না দেখি। যেভাবে সবাই সব জায়গায় আমার উপস্থিতি চায় না -আমায় দেখতে চায় না তেমনই ভাবে আমিও সব জায়গায় নিজের উপস্থিতি প্রকাশ করি না এবং প্রকাশ করতে চাই না। সব কিছুর পরেও আমি চাইলেই যখন-তখন আমার চারপাশকে পরিষ্কার রূপে দেখতে পারবো কিন্তু আমার চারপাশ তা পারবে নাহ! 

মায়াবী মায়া

মধ্যরাতে আমি প্রায়ই জানালায় বসে  থাকি। এই সময়টা খুব বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে যাই। সিগারেট শেষ হয়ে যায়, ইচ্ছে হলেই  দোকানে গিয়ে সিগারেট নেওয়ার উপায় নেই। 
এই সময় আকাশে তাকালে আবছা আলোয় নীল আকাশ দেখা যায়। চোখে আলি ঝালি দেখায় পেঁয়াজ কালারের জামা পরে মায়া তাকিয়ে আছে। সর্বনাশ! এই মেয়ে আমার পিছু ছাড়ছেনা। 

মায়ার সাথে আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তগুলো কেটেছিল। মায়া একবার আমার বুকে মাথা রেখে ঘুমাতে চেয়েছিলো, তপ্ত দুপুরে আমার ঘামে ভেজা শার্টে তার মাথার চুল আটঁকে যাচ্ছিল। কাজল লাগালে চোখে! মায়া খুব গুছিয়ে কথা বলতে জানতো। মায়ার চোখে তাকালে আমার সব কথা বোবা হয়ে যেতো। মায়া যখন কথা বলে, আমার কথাগুলো তার কথায় চাপা পড়ে যায়। আমি বোকা হয়ে মায়াকে দেখি, মায়ার শিরা উপশিরায় আমি আমাকে দেখতাম। মায়াকে মনে হতো কোন দেয়ালে আঁকা চিত্রশিল্প। যা পিকাসো সাহেব আমার জন্য এঁকেছে, আর কারো জন্য না। মায়া যেদিন শেষবার আমার সামনে দাঁড়িয়েছিল, আমার কথা আটকে যাচ্ছিল মুখে, আমার মনে হচ্ছিল হলুদ জামা গায়ে মায়া মারা যাচ্ছে। আমার ইচ্ছে ছিল তাকে একবার লাশের বেশে দেখার। লাশের প্রতি আমার মায়া দয়া হয় না, হুমায়ূন আহমেদ স্যার এর একটা কথা মনে এনে দিতো  "মৃত মানুষদের জন্য আমাদের কোন সময় নেই"।  তবুও মায়ার লাশটা আমার সময় নষ্ট করছে। 
হে প্রিয়,,
অল্প সুখ -ছোট ছোট প্রাপ্তি - সীমিত সুন্দর মুহুর্ত পাওয়ার সাথে সাথেই কুড়িয়ে নিতে হয়... 
সামান্য কিছু পাওয়ার পর সামান্য বলে সেটাকে অবজ্ঞা করে -আমি এর চাইতে বেশি কিছু পাওয়ার যোগ্যতা রাখি এটা ভেবে পরবর্তী সুযোগ আসার অপেক্ষায় বসে থাকাটা বোকামি এবং এটা আসলে আপনার অপেক্ষা নাহ বরং আপনার লোভ এবং অহংকারকে নির্দেশ করে। 
জীবনে কোনো কিছু সর্ব দিক হতে পরিপূর্ণ হয় না, কোনো কিছুই অবিকল আমাদের মনের মতো হয় না, কোনে কিছুই নাহ!
সাজানো অনেক কিছু পাওয়ার চাইতে 
সামাম্য কিছু পেয়ে সেটাকে মনের মতো করে সাজানোর মধ্যে অধিক ভালো লাগা এবং সন্তুষ্টি কাজ করে। 
তোমার জন্য যে জীবন আমি শূণ্য থেকে ফিরে পেয়েছি, জীবনের সমস্ত ভুলগুলোকে একহাতে নিয়ে চিনতে পেরেছি, সে জীবনের কসম "তোমার শূণ্যতায় আমি হাসফাস করে বাঁচি,বিশ্বাস করো সময় যেন এক মনের পাথর আমার ওপর চাপা পড়তে চায়, তোমারে  শূণ্যতা অনুভব করি,নিজেকে সান্ত্বনা দেই সুখের, তোমার সব অসুখের উপর নেমে আসুক তীব্র বজ্রপাত, তুমি আমার স্পর্শে বাঁচো নিশ্চিন্তে!

জীবনের প্রতি আমার অভিমান, বড্ড অভিমানে অভিযোগে জমছে  প্রতিনিয়ত। 
মাঝে মাঝে মনে হয় বুকের ভেতরে অভিমানের পাহাড় জমে ভারী হয়ে আছে। প্রতিনিয়ত মন ভাঙছে। মাঝে মাঝে মনে হয় গভীর রাতে মাটির ব্যাংকে খুচরো টাকার মতো জমিয়ে রাখি অভিমান গুলো, অবহেলা গুলো। 
প্রতিটি রাতে,জানালার কোণ ঘেঁষে মধ্যে রাতে বসে থেকে মন খারাপির খোঁড়াক জমিয়ে থাকা মানুষ আমি।অভিমানের দারিদ্র্য দুটো চোখ দিয়ে নির্বাক হয়ে থাকিয়ে থাকি আকাশ পানে,
হয়তো কারো অপেক্ষা করি আবার হয়তো নিয়তির কাছে হেরে গিয়ে দুঃখ বিলাসীনি হয়ে উঠি। 
অভিমানে চোখের জল জমতে জমতে এক মহাসমুদ্র পুষে রেখেছি মনে, প্রতিরাতে~প্রতিক্ষণে!! 

সনাতনী ব্যাঞ্জন বর্নের পাচালি

ক= কলিযুগে কৃষ্ণচন্দ্র গৌররূপে আসে
খ= খোল-করতাল নিয়ে মাতে কীর্তন উল্লাসে

গ= গিরিধারী গোবিন্দ ব্রজের জীবন
ঘ= ঘরে ঘরে সবে কর নাম সংকীর্তন

ঙ= শঙ্খের পরশে ধ্রুব জ্ঞান লভিল
চ= চন্দন সুবাসে হরি আনন্দিত হল

ছ= ছয় গোঁসাই করে বৃন্দাবনে বাস
জ= জগতে প্রসিদ্ধ নামাচার্য হরিদাস

ঝ= ঝুলন বেদীতে রাধাকৃষ্ণ বিরাজিত
ঞ= গোঁসাঞি অদ্বৈত প্রভু জগৎ পূজিত

ট= টিয়াপাখি বৃন্দাদেবীর অতি অনুগত
ঠা= ঠাকুর মশাই আছেন যজ্ঞেতে রত

ড= ডাকাতের পিঠে চড়ে ছোট্ট নিমাই
ঢ= ঢাক বাজিয়ে দুর্গা মাকে আহবান জানাই

ণ= বেণুধারী বাজায় বেণু নাচে বৃন্দাবন
ত= তুলসী মঞ্জরি কর কৃষ্ণে সমর্পণ

থ= থৈ থৈ জলে কৃষ্ণের জমুনা বিহার
দ= দুষ্ট কংসেরে কৃষ্ণ করেন সংহার

ধ= ধেনু চরায় বৃন্দাবনে কানাই বলাই
ন= নদীয়ায় বিলায় নাম নিমাই নিতাই

প= পাদসেবন নববিধা ভক্তির এক অঙ্গ
ফ= ফাল্গুনে আবির্ভূত হলেন গৌরাঙ্গ

ব= বিষপানে নীলকণ্ঠ হল মহাদেব
ভ= ভক্ত হরিদাসের প্রিয় শ্রীচৈতন্যদেব

ম= ময়ূরপুচ্ছ করে কৃষ্ণের মস্তক শোভন
য= যমুনায় কৃষ্ণ করেন কালীয় দমন

র= রাধাঠাকুরাণী হন বৃন্দাবনেশ্বরী
ল= লক্ষ্মীদেবী হন সর্ব ধনের অধীশ্বরী

শ= শুকমুখে ভাগবত শোনেন পরীক্ষিৎ
ষ= ষড়ভূজ রূপে গৌর হল প্রকাশিত

স= সর্বজনাশ্রয় কৃষ্ণ জগতের প্রাণ
হ= হরেকৃষ্ণ আন্দোলন কর যোগদান

ড়= গরুড়ের পিঠে চড়ে লক্ষ্মী নারায়ণ
ঢ়= আষাঢ়ে জগন্নাথ করেন রথে আরোহন

য়= হায়! হায়! বদ্ধজীব কত পাপ করে
ৎ= মৎস্যরূপে কৃষ্ণ এলেন জগৎ উদ্ধারে

ং= হংস বাহন ব্রহ্মা করেন সৃজন
ঃ= দুঃখ মোচন করেন শ্রীমধুসূদন
ঁ= গৌরাচাঁদ প্রচারিলেন নাম সংকীর্তন

কাকতালীয়

** কাকতালীয় **

1. শরীরের যে জায়গাটা হাত থেকে বেশি দূরে,  সে জায়গাটা বেশি চুলকায় ।

2. ছোট কোনও বস্তু মেঝেতে পড়ে গেলে, সেটি কখনও পায়ের কাছে থাকে না । জিনিসটা পাওয়া যাবে খাটের তলায় শেষ মাথায় ।

3. কাউকে দেখাতে চাইছেন যে  মেশিনটা কাজ করছে না । স্টার্ট দিলেন তো দেখবেন ঠিক তখনই ওটা কাজ করছে ।

4. ভাবছেন বসের কাছ থেকে ছুটি চাইবেন, ঠিক তখনই আর একজন ছুটি চেয়ে বসবে, আপনার ছুটির বারোটা বাজবে ।

5. যদি কাউকে বলেন আকাশে  100  বিলিয়ন তারা আছে, সে আপনার কথা বিশ্বাস করবে । কিন্তু যদি বলেন, দেওয়ালের রং এখনও শুকোয় নি, সে অবশ্যই হাত দিয়ে ধরে দেখবে ।

6. জেলি মাখানো রুটি কাপড়ে পড়ে গেলে , জেলি লাগানো দিকটাই নীচে থাকবে, কাপড় ময়লা করে দেবে ।

7. দেরি করে আসার কারন হিসাবে যদি বসকে বলেন, গাড়ির চাকা পাংচার হয়েছিল,  পরদিন সত্যিই গাড়ির চাকা পাংচার হবে ।

8 . ব্যাংকে লাইনে দাঁড়িয়েছেন,  পাশের লাইনটা আগে বাড়ছে । লাইন পাল্টে পাশেরটায় এলে দেখবেন,  ছেড়ে আসা লাইনটা দ্রুত এগোচ্ছে ।

9. ম্যাকানিক্যাল কাজ করার সময় যখন আপনার হাত কালি ,ঝুলি , গ্রিজ দিয়ে মাখামাখি, ঠিক তখনই আপনার নাক চুলকোবে ।

10. বাড়ি ফেরার যেদিন তাড়া থাকবে, রাস্তায় বাস পেতে সেদিন দেরি হবে ।

11. যেদিন আগেই স্টেশনে পৌঁছাবেন,  সেদিন ট্রেন লেট করবে । যেদিন আপনার স্টেশনে পৌঁছাতে সামান্য দেরি হবে, ট্রেন ঠিক সময়ে ছেড়ে যাবে ।

12. যদি আপনি ভুল নাম্বার ডায়াল করেন, বিজি টোন পাবেন না, কেউ না কেউ উত্তর দেবে ।

13 . স্নানের সময় যখন আপনার সারা গা ভেজা ঠিক তখনই আপনার টেলিফোন আসবে ।

14. একগাদা বইয়ের থেকে যদি উপর থেকে নির্দিষ্ট বই খোঁজেন, তাহলে বইটা পাওয়া যাবে নীচে । আবার বুদ্ধি করে নীচে থেকে খোঁজা শুরু করলে, বইটা থাকবে সবার উপরে ।

15. অফিসে যেদিন আপনার হাতে ফ্রি সময়,  সব কলিগ সেদিন খুব ব্যস্ত থাকবে ।

16. যে গেম খেলার নিয়ম যত সহজ, দেখবেন সেই গেমের প্রতি আপনার আগ্রহ তত কম ।

** উপরের কোনও একটি ঘটনা আপনার জীবনে ঘটেছে ??????
🌸 একজন প্রবীণ মহিলা বাসে উঠে বসল।  পরের স্টপে একজন শক্ত সমর্থ যুবতী উঠে এসে বৃদ্ধা মহিলার পাশে বেশকিছু ব্যাগ নিয়ে ঠেলে ঠুলে বসে পড়ল।

যুবতীটি যখন দেখল যে বয়স্কা মহিলা চুপ করে রয়েছেন, তখন সে বৃদ্ধা মহিলাকে জিজ্ঞাসা করল যে সে যখন ব্যাগ নিয়ে চেপে চুপে বসল তখন তিনি কেন অভিযোগ করলেন না।

 প্রবীণ মহিলা হাসি দিয়ে জবাব দিলেন: '' এত তুচ্ছ কিছু নিয়ে আলোচনা করার দরকার নেই, কারণ তোমাকে পাশে নিয়ে আমার ভ্রমণটি খুব ছোট কারণ আমি পরের স্টপে নেমে যাচ্ছি।  "

 এই উত্তরটি সোনার অক্ষরে লেখার দাবিদার: "এত তুচ্ছ কিছু নিয়ে আলোচনা করার দরকার নেই, কারণ আমাদের একসাথে যাত্রা খুব ছোট"।

আমাদের প্রত্যেককে বুঝতে হবে যে এই পৃথিবীতে আমাদের সময়টি এতটাই স্বল্প যে রেশারেশি, অনর্থক যুক্তি, হিংসা, অন্যকে ক্ষমা না করা, অসন্তুষ্টি এবং অন্যকে প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবা মনোভাবটা দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়া 'সময় এবং শক্তির' একটি হাস্যকর অপচয়।

কেউ কি আপনার হৃদয় ভেঙেছে?  
শান্ত থাকুন,
ট্রিপটি খুব ছোট।

কেউ আপনার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, ভয় দেখিয়েছে, ঠকিয়েছে বা অপমান করেছে?
"আরাম করুন।  ক্ষমা করে দিন। কারণ ট্রিপটি খুব ছোট"।

কেউ আপনাকে বিনা কারণে অপমান করেছে?  
"শান্ত থাকুন, এড়িয়ে যান কারণ ট্রিপটি খুব ছোট"।

কোন সাক্ষাতে আপনার বন্ধু  আপনি যা পছন্দ করেন না এমন কোন মন্তব্য করেছিলেন?
"শান্ত থাকুন,  তাকে উপেক্ষা করুন,  ক্ষমা করে দিন, কারণ  ট্রিপটি খুব ছোট"।

কেউ আপনার জন্য যে সমস্যাই নিয়ে আসুক না কেন, মনে রাখবেন যে একসাথে আমাদের যাত্রা খুব ছোট।

এই ভ্রমণের দৈর্ঘ্য কেউ জানে না। এটি কখন থামবে তা কেউ জানে না। আমাদের একসাথে ভ্রমণ খুব ছোট।

🌸 আসুন কাউকে প্রতিদ্বন্দ্বী না ভেবে সহযাত্রী ভেবে একে অন্যকে সহযোগিতা করি, কারণ ট্রিপ টি খুবই ছোট্ট কিন্তু কাজ অনেক। এই অল্প সময়ে অনর্থক সময় নষ্ট না করে সততার সাথে নিজেকে সফল করতে চেষ্টা করি। সবার জন্য অবিরাম ভালোবাসা 💝💝
মাঝে মাঝে ইচ্ছে জাগে 
নিরুদ্দেশ হয়ে চলে যাই কোথাও 
যেখানে আমায় কেউ চিনবে না জানবে না! 
আমায় কিছু জিজ্ঞেস করবে না 
কোনো কিছুর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ চাইবে না! 
আমি নিশ্চিন্তে থাকবো, নিজের মতো করে চলবো,
আচ্ছা আদৌও কি এমন জায়গা আছে পৃথিবীতে?
থাকলেই বা কি আমি এমনটা কেবল ভাবতে পারি কেবল! যেতে চাইলেও আমার বিবেক একটা শক্ত দেয়ালের মতো এসে দাঁড়ায় আমার সামনে আমায় বাধা দেওয়ার জন্য। আমি তো পারি না সব কিছু চাইলেই -এমন টা নয় যে আমি অক্ষম বা আমার সুযোগ নেই! সব কিছুই আছে সাহসও আছে তবে ওই যে বিবেক বলেও তো একটা বিষয় আছে
আমার বিবেকে বেঈমানী নাই, সবাই স্বার্থপর ভাবলেও আমি কেবলই নিজের কথা ভেবে চলতে পারি নাহ! যদি ভাবতাম তবে আজ কারোর সাধ্য ছিলো নাহ আমার নয়নে রক্তের অশ্রু প্রবাহিত করার,আমায় জখম দেওয়ার,দুঃখ দেওয়ার!
জখম বলতে কেবল শরীরের আঘাতকে বুঝায় না 
আমি মানুষের কথার আঘাতে বেশি আহত হই
এবং সেই আঘাতে মানুষজন আরো লবণ ছিটিয়ে দিয়েই চলে! আচ্ছা ওরা কি জানে নাহ বুঝে না
আমি চাইলেই তো ওদের প্রতিটা কথার এবং কর্মের জবাব দিতে পারি, চাইলেই সব শেষ করে দিয়ে নিজ ইচ্ছে মতো চলতে পারি এবং তাদের মুখের দিকে তাকানোরও কোনো প্রয়োজন নাই আমার তবুও আমি সব সহ্য করছি -করেই চলেছি 
কেনো? আসলে এই "কেনো"এর উত্তর আমার নিজেরই জানা নেই তবে এটুকু বলতে পারি আমার বিবেক আমায় বাধা দেয় -জীবনের প্রতিটা মুহুর্তে -প্রতিটা পরিস্থিতিতে বাধা দেয়। 
তাতে কি?  তবুও দিন শেষে আমার নাম দেওয়া হয় অপয়া-স্বার্থপর! 

~নীলাক্ত

ননিবালা দেবী

কাপড় খুলে শরীরে দুবাটি লঙ্কাবাঁটা ঢোকানো হয়েছিল, না না নেহেরু -গান্ধী মোটেই নয়, ওনারা তো ব্রিটিশ পরিবারের অনুগত।ইনি ননীবালা দেবী।। বাংলার প্রথম মহিলা রাজবন্দী ননীবালা দেবী জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৮৮৮ সালে হাওড়া জেলার বালিতে। বাবা সূর্যকান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়, মা গিরিবালা দেবী। সেই সময়ের সামাজিক রীতি মেনে ১৮৯৯ সালে মাত্র এগার বছর বয়সে তাঁর বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের পাঁচ বছরের মাথায় ১৯০৪ সালে তাঁর স্বামী মারা যান। তাঁর বয়স তখন মাত্র ষোল। এরপর তিনি তাঁর বাবার কাছেই ফিরে আসেন।
১৯১৪ সালে বেধেছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। সেই সময় ভারতে যুগান্তর দলের বিপ্লবীরা জার্মানির কাছ থেকে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ভারতব্যাপী একটা বৈপ্লবিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে, স্বাধীনতা আনবার রাস্তা পরিষ্কার করতে চেষ্টা করেছিলেন। বাঘা যতীন ও রাসবিহারী বসুর মিলিত চেষ্টায় দ্বিতীয় সিপাহি বিদ্রোহের (২১ফেব্রুয়ারি, ১৯১৫) পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়, রাসবিহারী বসু ভারত ত্যাগ করেন। ইংরেজ সরকার ভারত-জার্মান যোগাযোগের খবর জেনে যায়। বাঘা যতীন যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় বালেশ্বরের যুদ্ধে শহীদ হন (১০ই সেপ্টেম্বর ১৯১৫)। তাঁর মৃত্যুতে বাংলার বিপ্লবী কাজে অপূরণীয় ক্ষতি হয়। তবুও ইংরেজের রক্তচক্ষুকে অগ্রাহ্য করে পূর্ব-ভারতের পথ ধরে চীন ও আসামের মধ্য দিয়ে অস্ত্রশস্ত্র আনিয়ে ভারতে বিদ্রোহ ঘটাবার জন্য বিপ্লবীরা আবার চেষ্টা করেছিলেন যাদুগোপাল মুখার্জীর নেতৃত্বে।
চারদিকে চলছে তখন আহত ব্রিটিশ-সিংহের প্রচণ্ড আক্রমণ ও নির্মম অত্যাচার। সেই অত্যাচারের ধরন ছিল- ফাঁসি, দ্বীপান্তর, পুলিসের নির্যাতনে পাগল হয়ে যাওয়া এবং চার্লস টেগার্টের তদারকে নিত্য নতুন বীভৎস অত্যাচার। মলদ্বারে রুল ঢোকানো, কমোড থেকে মলমূত্র এনে মাথায় ঢেলে দেওয়া, চোখের মণিতে সুঁচ ফোটানো, গরম লোহা হাতের তালু বা পায়ে চেপে ধরা, কয়েকদিন উপোস করিয়ে পিছনে হাতকড়া অবস্থায় ঠা ঠা রোদে বন্দীকে দাঁড় করিয়ে রেখে লাথি ও রুলের মার - এই ছিল টেগার্টের অত্যাচারের রীতি। এইরকম অসহায় বিপদভরা দিনে, সম্পর্কে ভাইয়ের ছেলে বিপ্লবী অমরেন্দ্র চ্যাটার্জীর কাছে বিপ্লবের দীক্ষা পেলেন বাল্যবিধবা ননীবালা দেবী।
দেশকে ভালোবেসে বিপ্লবীদের হয়ে তিনি নানা ঝুঁকিপূর্ণ কাজের দায়িত্ব নিতেন ও নিপুণ দক্ষতায় সে কাজ সম্পন্ন করতেন। অনেক কাছের মানুষও টের পেত না যে তিনি বিপ্লবী দলের সক্রিয় সদস্য। তিনি বিপ্লবীদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করতেন, এক জায়গার নেতাদের নির্দেশ ও নানা দরকারি খবর অন্য জায়গার বিপ্লবীদের কাছে পৌঁছে দিতেন। অস্ত্রশস্ত্র নিজের কাছে লুকিয়ে রাখতেন আবার গোপনে বিপ্লবীদের কাছে পৌঁছেও দিতেন।
১৯১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে
ভারত-জার্মান যোগাযোগ এবং তার পরের পর বিভিন্ন ঘটনার খবর পেয়ে, সেই সম্পর্কে পুলিস কলকাতার ‘শ্রমজীবী সমবায়’ নামে এক প্রতিষ্ঠানে তল্লাশী করতে যায়। তল্লাশীর সময় অমর চ্যাটার্জী পলাতক হন এবং এক সঙ্গী রামচন্দ্র মজুমদার গ্রেপ্তার হন।
পলাতক অমর চ্যাটার্জী এবং তাঁর কয়েকজন সহকর্মীকে প্রায় দুই মাস আশ্রয় দিয়ে রাখলেন ননীবালা দেবী রিষড়াতে। এদিকে গ্রেপ্তারের সময় রামচন্দ্র মজুমদার একটা ‘মাউজার’ (Mauser) পিস্তল কোথায় রেখে গেছেন সে-কথা দল কে জানিয়ে যেতে পারেননি। বিপ্লবীদের  দরকার ছিল সেটির, কিন্তু কীভাবে সন্ধান জানা যাবে?
অতএব জেলে ঢুকে রামচন্দ্রের সঙ্গে দেখা করে পিস্তলের খোঁজ আনতে চললেন  দুঃসাহসী ননীবালা দেবী।
সেদিনের সমাজে যা কেউ কল্পনা করতেও পারত না তাই করলেন তিনি। বিধবা ননীবালা দেবী রামচন্দ্র মজুমদারের স্ত্রী সেজে, তাঁর সঙ্গে প্রেসিডেন্সি জেলে দেখা করতে এলেন। ১৯১৫-১৬ সালে যে যুগ ছিল তখন বাঙালী বিধবাদের পক্ষে সিঁদুর মাথায় এরকম পরের স্ত্রী সেজে জেলে গিয়ে পুলিসের কড়া দৃষ্টিকে ফাঁকি দিয়ে কাজ হাসিল করার কথা কেউ চিন্তাও করতে পারত না। পুলিস তো নয়ই, কোনো সাধারণ মেয়েও নয়। আজকের সমাজ ও সেদিনকার সমাজ - মধ্যে আছে বিরাট সাগরের ব্যবধান। বিধবা ননীবালা সধবার সাজে সিঁদুর পরে একগলা ঘোমটা দিয়ে রামচন্দ্রের স্ত্রী সেজে স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে গেলেন জেলে। পুলিশের চোখে  ধুলো দিয়ে পিস্তলের সন্ধান জেনে বেড়িয়ে এলেন প্রেসিডেন্সি জেল থেকে।
পুলিস অনেক পরে জানাত পারল যে, ননীবালা দেবী রামচন্দ্র মজুমদারের স্ত্রী নন। কিন্তু এটা জানতে পারেননি যে, তিনিই রিষড়াতে ছিলেন আশ্রয়দাত্রী।
পুলিশ নজর এড়াতে ১৯১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে চন্দননগরে আবার বাড়ি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। তবে রিষড়ার মতো এখানেও মেয়েরা না থাকলে বাড়ি ভাড়া পাওয়া যেত না। তখন আবার এলেন ননীবালা দেবী, গৃহকর্ত্রীর বেশে। এখানে এইসময়ে আশ্রয়দানের উদ্দেশ্যে তাঁর বড়পিসিকেও এনেছিলেন বিপ্লবী ভোলানাথ চ্যাটার্জী। এই বড়পিসি ও ননীবালা দেবী দুটো আলাদা বাড়িতে আশ্রয় দিয়ে রেখেছিলেন পলাতক বিপ্লবীদের। পলাতক হয়ে আছেন সেখানে বিপ্লবী নেতা যাদুগোপাল মুখার্জী, অমর চ্যাটার্জী, অতুল ঘোষ, ভোলানাথ চ্যাটার্জী, নলিনীকান্ত কর, বিনয়ভূষণ দত্ত ও বিজয় চক্রবর্তী। এঁদের সকলেরই মাথায় অনেক হাজার টাকার হুলিয়া ছিল।
এই নিশাচরেরা সারাদিন দরজা বন্ধ করে ঘরে কাটিয়ে দিতেন। শুধু রাতে সুবিধা মতো বেড়িয়ে পড়তেন। পুলিস এসে পড়লেই এই পলাতক বিপ্লবীরা নিমেষে অদৃশ্য হয়ে যেতেন।
এইভাবে চন্দননগরের বিভিন্ন জায়গায়ে কয়েকটি বাড়িতে তল্লাশী ও বিপ্লবীদের নিমেষে পলাবার পর ননীবালা দেবীকে আর চন্দননগরে রাখা নিরাপদ হলো না। কারণ পুলিস তৎপর হয়ে উঠেছিল ননীবালা দেবীকে গ্রেপ্তার করতে। তাঁর বাবা সূর্যকান্ত ব্যানার্জীকে পুলিস বালি থানাতে নিয়ে গিয়ে দশটা থেকে পাঁচটা অবধি বসিয়ে রেখে জেরা করত - ননীবালা দেবীর কোথায় আছেন জানতে।
ননীবালা দেবী পলাতক হলেন। তাঁর এক বাল্যবন্ধুর দাদা প্রবোধ মিত্র কাজের জন্য যাচ্ছিলেন পেশোয়ার। বাল্যবন্ধু তার দাদাকে অনেক অনুনয় করে রাজী করালেন ননীবালাকে সঙ্গে নিয়ে যেতে। ননীবালা দেবী পলাতক অবস্থায় তাঁর সঙ্গে পেশোয়ার গেলেন। এও এক অনন্য কাজ, এক বাঙালী বিধবা অচেনা এক পুরুষের সাথে কয়েক হাজার কিমি দূরে সম্পূর্ণ অন্য এক জায়গায়ে চলে গেলেন লুকিয়ে থাকতে! প্রায় ষোলো-সতের দিন পরে পুলিস সন্ধান পেয়ে যখন ননীবালা দেবীকে গ্রেপ্তার করতে পেশোয়ার গেছে, তখন ননীবালা দেবীর কলেরা চলছে তিনদিন ধরে। প্রথমদিন বাড়ি ঘিরে রেখে তার পরদিনই নিয়ে গেল তাঁকে পুলিস-হাজতে স্ট্রেচারে করে। কয়েকদিন পেশোয়ার হাজতে রাখার পর একটু সুস্থ অবস্থায় তাঁকে নিয়ে আসা হয় কাশীর জেলে, তখন তিনি প্রায় সেরে উঠেছেন।
কাশীতে আসার কয়েকদিন পরে, প্রতিদিন তাঁকে জেলগেটের অফিসে এনে কাশীর ডেপুটি পুলিস-সুপারিনটেন্ডেন্ট জিতেন ব্যানার্জী জেরা করত। ননীবালা দেবী সবই অস্বীকার করতেন -  বলতেন কাউকেই চেনেন না, কিছুই জানেন না। তারপর জিতেন ব্যানাজীর তুই-তুকারির অসভ্য ভাষা। ননীবালা দেবী তখনও চুপচাপ থাকতেন।
একদিন দুইজন জমাদারনী (Wardress) ননীবালা দেবীকে একটা আলাদা সেলে (cell) নিয়ে গেল। দুজনে মিলে তাকে জোর করে ধরে মাটিতে ফেলে দিল। তারপর সমস্ত কাপড় খুলে নিয়ে দু-বাটি লঙ্কাবাটা ওঁর শরীরের ভেতরে দিয়ে দিতে লাগল। ননীবালা দেবী চীৎকার করে লাথি মারতে লাগলেন সমস্ত শক্তি দিয়ে। অসহ্য অসম্ভব অসহনীয় এক বীভৎস জ্বালা, যার বর্ণনা করার ভাষা নেই। এভাবেই অত্যাচার চলত, তার পর আবার তাঁকে নিয়ে আসা হত সেই জেল-গেটের অফিসে জিতেন ব্যানার্জীর কাছে। আবার জেরা। এত অত্যাচার, শরীরের ভেতরে লঙ্কার জ্বালা, তবু তাঁকে ভাঙা সম্ভব হ'ল না।
কাশীর জেলে - সেখানে মাটির নীচে একটা খুবই ছোট ‘পানিশমেন্ট সেল’ অর্থাৎ শাস্তি কুঠুরী ছিল। তাতে দরজা ছিল একটাই, কিন্তু আলো বাতাস প্রবেশ করবার জন্য কোনো জানালা বা সমান্য ঘুলঘুলিও ছিল না। জিতেন ব্যানার্জী তিন দিন প্রায় আধঘণ্টা সময় ধরে ননীবালা দেবীকে ঐ আলো-বাতাসহীন অন্ধকার সেলে তালাবন্ধ করে আটকে রাখত। কবরের মতো সেলে আধঘণ্টা পরে দেখা যেতো ননীবালা দেবীর অর্ধমৃত অবস্থা, তবু মুখ দিয়ে স্বীকারোক্তি বের করতে পারল না। তৃতীয় দিনে বন্ধ রাখল আধঘণ্টারও বেশি, প্রায় ৪৫ মিনিট। স্নায়ুর শক্তিকে চূর্ণ করে দেবার চূড়ান্ত প্রচেষ্টা। সেদিন তালা খুলে দেখা গেল ননীবালা দেবী পড়ে আছেন মাটিতে, জ্ঞানশূন্য।
হাল ছেড়ে দিয়ে পুলিস ননীবালা দেবীকে কাশী থেকে নিয়ে এল কলকাতা প্রেসিডেন্সি জেলে। ১৮১৮ সালের তিন নম্বর রেগুলেশনের ধারা প্রয়োগ হল তাঁর বিরুদ্ধে, প্রথম মহিলা রাজবন্দি হিসাবে প্রেসিডেন্সি জেলে এলেন তিনি। সেখানে গিয়ে তিনি খাওয়া বন্ধ করে দিলেন। জেল-কর্তৃপক্ষ, এমনকি জেলা-ম্যাজিস্ট্রেটও তাঁকে অনুরোধ করে খাওয়াতে পারলেন না। ননীবালা দেবী বললেন, বাইরে গেলে খাবেন। প্রতিদিন সকাল ৯টায় নিয়ে যেত তাঁকে গোয়েন্দা-আফিসে, সেখানে আই.বি. পুলিসের স্পেশাল সুপারিনটেন্ডেন্ট গোল্ডি (Goldie) তাঁকে জেরা করত।
-আপনাকে এখানেই থাকতে হবে, তাই বলুন কী করলে খাবেন?
-যা চাইব তাই করবেন?
-করব।
-আমাকে বাগবাজারে শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের স্ত্রী সারদা মা'য়ের কাছে রেখে দিন, তাহলে খাব।
গোল্ডি শয়তানি হাসি লুকিয়ে বলে-আপনি দরখাস্ত লিখে দিন।
ননীবালা দেবী তখুনি দরখাস্ত লিখে দিলেন।
গোল্ডি সেটা নিয়ে ছিড়ে দলা পাকিয়ে ছেড়া কাগজের টুকরিতে ফেলে দিল। এবারে সবাইকে চমকে দিয়ে হঠাৎ আহত বাঘের মতো লাফিয়ে উঠে ননীবালা দেবী এক চড় বসিয়ে দিলেন গোল্ডির মুখে। 
-ছিড়ে ফেলবে তো, আমায় দরখাস্ত লিখতে বলেছিলে কেন? আমাদের দেশের মানুষের কোনো মান সম্মান থাকতে নেই? দ্বিতীয় চড় মারবার আগেই অন্য সি.আই.ডি'রা তাঁকে ধরে ফেলে। - একশো বছরেরও আগে এক বাল্য বিধবা মেয়ের কি আশ্চর্য সাহস !
জেলের মধ্যে একদিন সিউড়ির দুকড়িবালা দেবীর (১৮৮৭-১৯৭০) সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। সকলের কাছে তিনি 'মাসিমা' নামে পরিচিতি ছিলেন। দুকড়িবালা দেবী ছিলেন ভারতে 'অস্ত্র আইনে সাজা প্রাপ্ত প্রথম মহিলা বন্দি'। জানতে পারলেন, সিউড়িতে দুকড়িবালা দেবীর বাড়িতে সাতটা ‘মাউসার’  (Mauser) পিস্তল পাবার অপরাধে দুকড়িবালা দেবীর হয়েছে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড। রাখা হয়েছে তৃতীয় শ্রেণীর কয়েদী করে (মানে চোর-ডাকাত'দের সাথে একই সেলে। রাজবন্দী হলে আলাদা সেলে আলাদা ভাবে রাখা হয়)। অসম্ভব খাটাচ্ছে, ডাল ভাঙতে দিচ্ছে প্রতিদিন আধমণ। 
মতলব স্থির করে ফেললেন ননীবালা দেবী। উপবাসের ১৯ থেকে ২০ দিন চলছে তখন। আবার এলেন ম্যাজিস্ট্রেট অনুরোধ করতে।
-আপনাকে তো এখানেই থাকতে হবে। কী করলে খাবেন বলুন?
-আমার ইচ্ছামতো হবে?
-হ্যাঁ, হবে।
-তাহলে আমার রান্না করবার জন্য একজন ব্রাহ্মণ-কন্যা চাই, দুজন ঝি চাই।
-ব্রাহ্মণ-কন্যা কেউ আছেন এখানে?
-আছেন, দুকড়িবালা দেবী।
-আচ্ছা, তাই হবে।
এরপরে এলো সমস্ত নতুন বাসন-কোসন, হাঁড়িকুড়ি। ২১ দিনের পরে ভাত খেলেন সেই অসামান্য দৃঢ়চেতা বন্দিনী। সেইসাথে দুকড়িবালা দেবী'কেও বাঁচালেন পরিশ্রম থেকে।
দুই বছর এইভাবে বন্দীজীবন কাটিয়ে দিলেন তিনি। ১৯১৯ সালের এক দিন ননীবালা দেবীর মুক্তির আদেশ এলো।
জেল থেকে ফিরে এসে বালিতে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে তিনি ঠাই পেলেন না। প্রথমত সকলেই পুলিসকে ভয় পায়। এছাড়া বিধবা হয়েও পরস্ত্রী সাজা, পরপুরুষের সাথে একঘরে থাকা বা পেশোয়ার যাওয়া - এইসব কারনে সেই সময়ের অদ্ভুত সমাজের এক পক্ষ তাঁকে মেনে নেয়নি, মেনে নেয়নি তাঁর নিজের বাড়ীর লোকেরা। অন্যদিকে তাঁর নিজস্ব বিপ্লবী সংগঠন বা চেনাজানা সবটাই ব্রিটিশ পুলিশের অত্যাচারে শেষ হয়ে গেছে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। এই অবস্থায় তখন উত্তর কলকাতার এক বস্তিতে তাঁকে আশ্রয় নিতে হয়। (অন্য মতে, কোনও পূর্বপরিচিতের অনুগ্রহে একটি কুঁড়ে ভাড়া করেছিলেন হুগলিতে)। সুতো কেটে, রান্নার কাজ করে কোনমতে আধপেটা খেয়ে তাঁর দিন কাটতে থাকে। সমাজ এবং নিজের আত্মীয়-স্বজনদের ওপর রাগে, দু:খে, অপমানে তিনি সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছিলেন .. নিজেকে একপ্রকার লুকিয়ে রাখলেন .. এমনকি পরবর্তীকালের কোনও দেশনেতাদের কাছেও গেলেন না। যিনি সমাজকে উপেক্ষা করে দেশের কাজে নিজেকে বিলিয়ে দিলেন, তিনি কোথায় গেলেন সে ব্যাপারে কেউ জানতেও পারল না, খোঁজও করলো না।
দেশ স্বাধীন হওয়ার প্রায় কুড়ি বছর পরে ১৯৬৭ সালের মে মাসে তিনি মারা যান। না, ইতিহাস তাঁর জন্মদিন বা মৃত্যুদিনের তারিখ মনে রাখার প্রয়োজনবোধ করেনি। একটা সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে যে, পুরনো কোনও বিপ্লবী সাথীর চেষ্টায় অথবা পরাধীন জেলের খাতায় নাম থাকায়, বেঁচে থাকা অবস্থায় পঞ্চাশের দশকে ৫০ টাকা পেনশন পেয়েছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী হিসেবে - যদিও তার কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ নেই। কেউ মনে রাখেনি যাঁদের আত্মত্যাগের কথা তাঁদের দলেই ছিলেন বাংলার প্রথম মহিলা রাজবন্দী ননীবালা দেবী। তবে স্বদেশীদের নিয়ে তৈরি একটি বাংলা সিনেমায় (সিনেমার নাম 'বিয়াল্লিশ') তাঁকে নিয়ে কিছু দৃশ্য ছিল, এইটুকুই। শুধু দেশের জন্য বিধবা হয়েও সধবা সেজেছিলেন, খুবই ছোট কুঠুরী ‘পানিশমেন্ট সেলে’ শ্বাস নিতে না পেরে কতবার অজ্ঞান হয়ে গেছিলেন। সামান্য একটা গোটা কাঁচালঙ্কা শুধু খেতে বললেই আমরা ভয় পাবো। এইরকম দু-বাটি লঙ্কাবাটা তাঁর শরীরের গোপন জায়গায়ে ভেতরে দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কি অপরিশীম যন্ত্রণা তিনি সহ্য করেছিলেন - আমরা সুস্থ অবস্থায় কেউই তা অনুভব করতে পরবো না। উনিশ শতকের গোড়ার বিধবা মহিলা হওয়া সত্বেও নিজ চেষ্টায় তিনি সামান্য লেখাপড়া শিখেছিলেন। নিজে সুতো কেটে পৈতে তৈরি করে তা বিক্রি করে নিজের খরচ চালাতেন। তবু সেই সময়ের বাংলার কোথাও তিনি সম্মানের সাথে থাকার জায়গা পেলেন না। স্বাধীন ভারতেই তাঁকে অনাহারে কাটাতে হোলো। একবুক অভিমান নিয়ে তিনি নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখলেন - যা তাঁর মৃত্যুর পরেও শেষ হয়নি।
তাঁর কিছু মহিলা সহযোদ্ধাদের টুকরো টুকরো নানা লেখা থেকে যেটুকু জানা গেছে তাঁর বিষয়ে সেটুকু পুঁজি করেই তাঁকে এই শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন।
জয় হিন্দ্
লেখক - সোমনাথ সিংহ
তথ্য: স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলার নারী: কমলা দাশগুপ্ত।
স্বাধীনতার সংগ্রামের মঞ্চে ভারতের নারী: কৃষ্ণকলি বিশ্বাস 

===================
 ছবি ও তথ্য - সংগৃহীত 🙏
তোমার করা অভিমান গুলো আমার আকাশে সন্ধ্যাতারা হয়ে জ্বলজ্বল করে। আমি আকাশ পানে চেয়ে থাকি। মানুষ ভবিষ্যতের চিন্তা করে, টাকা জমায় জীবনে সফল হয় আর আমার সকল চিন্তা ভাবনা জুড়ে তোমার বিচরণ।। 

জানো দিন শেষে এমন একজন মানুষ না খুব প্রয়োজন যার বুকে সকল ক্লান্তির দীর্ঘশ্বাস নিমজ্জিত করা যায়।যার শরীরে গাঁ এলিয়ে চোখ বুজে নিশ্বাস নেওয়া যায়। 

কেউ তার জীবনে একাকিত্ব চায়না তবে একটা সময় যেন এই একাকিত্ব আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয়।আমি এই একাকিত্ব কখনোই চাইনি, আমি তো সবটা দিয়েই তোমায় চেয়েছিলাম! 

যুগের পর যুগ চলে যাবে কিন্তু তোমায় দেখার তৃষ্ণা আমার মিটবে না। এই চোখ এখনো প্রতিটি মানুষের মাঝে তোমায় খুঁজে চলে। তুমি নেই এটা আমার মন যেন মানতে নারাজ। 

পুরো শহর জুড়ে এক টুকরো মেঘ আর বৃষ্টি এনে দিলাম আমার হয়ে যেন তারা তোমায় ছুঁয়ে দেয়। কেউ যে তোমায় খুব মনে করছে তার বার্তা যেন তোমার কাছে পৌঁছে দেয়-

নিজেকে আজকাল বড্ড নিঃসঙ্গ লাগে। কোনো মতে দিন পার করে রাতের স্মৃতিরা এসে ধরা দেয়! 

*সবাই বলে তুমি নাকি আমার নও তবে এ মন বার বার জানান দেয় তুমি আমার, শুধুই আমার। 
রোজ তোমায় নিয়ে লিখতে বসি তবে তোমায় আর লেখা হয়না। ফোনের টিংটিং শব্দে বুক কেঁপে ওঠে, এই বুঝি ওপাশ থেকে তুমি কল করছো আমায়।

 সারাদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে গভীর রাত অব্দি ফোনের স্কিনের দিকে তাকিয়ে থাকি তোমার অপেক্ষায়। একটা বার তোমার রৌপ্যময় কণ্ঠ শোনার জন্য ব্যকুল হয়ে থাকি। আর আমার এইসব কিনা তোমার পাগলামি মনে হয়।

কি করে বোঝাবো বলো তুমি ছাড়া যে আমি শূন্য। এই পাগলামির মাঝে আমার ভালোবাসাটা অনুধাবন করলে হয়তো শান্তি পেতাম আমি।। 

আমার দিনগুলো না খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। ভালো যাবে কিভাবে তুমি ছাড়া যে আমি পুরোপুরি অন্ধকার আমার জীবন অন্ধকার!

আসবে কি বিশ্বাস করে একবার ভোরের আলো হয়ে আমার শহরে। তোমার প্রতি আমার ভালোবাসা, তোমার প্রতি আমার সম্মান আকাশ সমান। প্রতিটি রাতের গভীরতা জানে কতটা চাই তোমায় আমি। 

*একটা বার বিশ্বাস করে কি ফিরে আসা যায় আমার মতো এক তুচ্ছ মানুষের কাছে? ভালোবাসার কমতি থাকবে না কখনো।

প্রিয় নীলাম্বরী,, 
আপনার মাঝে আমি আমার ভালো থাকা খুঁজে পাই। আপনি আমার জীবনে আসার আগে কখনো অন্য কারো প্রতি এতোটা দূর্বলতা অনুভব হয়নি আমার। বার বার চলে গিয়েও ফিরে আসি আমি আপনার মাঝে। 

আমাদের জীবনে এই ভবিষ্যত, কাল,আজ সবকিছু যখন তখন শেষ হয়ে যেতে পারে। একটা অনিশ্চিত সম্পর্কের মাঝে আপনার সাথে জড়িয়ে পরেছি আমি। কারণ আমাদের সমাজের প্রেক্ষাপট যে ভিন্ন! 

জানেন, আমরা কখনোই সঠিক মানুষটির কদর করিনা। কিন্তু ভুল মানুষ গুলোর জন্য ঠিকই নিজেকে গুটিয়ে নেই সবকিছু থেকে। 
আচ্ছা নীলাম্বরী, একদিন যদি সত্যিই আমি হারিয়ে যাই তখন কি ভালো থাকবেন আপনি ? আমি ছেড়ে গেলে সুখী হবেন? আমি চলে গেলে আপনায় এতো জ্বালাবে কে বলেন? সে সারাক্ষণ বকবক করে আপনার মাথা খাবে? তখন মনে পরবে কি এই আমাকে ?  

আপনায় ছেড়ে গেলে হয়তো একদিন আমি সাকসেসফুল হবো।আপনি বার বার বলেন আমার জীবনে এমন একজন আসবে যে আমায় অনেক ভালোবাসবে, হয়তো এমন একজনকে পেয়েও যাব-
কিন্তু সাকসাসফুল হলেও সুখী হবো না। ভালোবাসায় পূর্ণ এমন একজন মানুষকে পেলেও দিন শেষে পরিচিত এক না পাওয়া গল্পের চরিত্র রয়েই যাবে। 

আমি আমার সফলতা অর্জনে এবং জীবনের প্রতিটা সময় জুড়ে আমার জীবনে আপনার অবস্থান চেয়েছিলাম। তবে কেন জানিনা আপনি নারাজ আমার এই আশায়। মাঝে মাঝে এতোটা তিক্ত হয়ে যাই তখন মনে হয় সত্যিই ফিরে আসি আপনার জীবন থেকে, কিন্তু পরক্ষণেই সবকিছু ভুলে ফিরে যাই আপনার মাঝেই। 

সব চাওয়ার মাঝে আমি এটাও চাই আপনি ভালো থাকুন সব সময়। আপনার ভালো থাকাটা সবার আগে আমি না হয় অপূর্ণতায় রয়ে গেলাম দিনশেষে! 

অচেনা তুমি

পৃথিবীর বুকে অঝোর ধারায় বৃষ্টি নামবে যতবার, ততবারই আমার স্মৃতি গুলো তোমার শহর জুড়ে অবস্থান করবে।

তোমায় চেয়ে প্রাপ্তির খাতায় বিরাট এক হাহাকার মিললো,তবুও তুমি মিললে না। তোমায় পেলাম না,তুমি আমার হলে না।। 

জানো তোমার চোখের সেই শেষ চাহনি আমায় ক্ষতবিক্ষত করে দেয়।তুমি তো আমার সুখ ছিলে, আমার হাসি মুখের কারণ ছিলে তুমি। 

আমার উপস্থিতি তোমার জীবনে হয়তো কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি। তবে বিশ্বাস করো তুমি আসার পর আমি স্বপ্ন দেখছি। আর সেই স্বপ্ন শুধু তোমাকে নিয়েই দেখেছি,সেই স্বপ্নে তোমাকে নিয়ে বাঁচতে চেয়েছি । 

তোমার সেই এক চিলতে হাসিতেই যেন আমার মৃত্যু লেখা। এতো সুন্দর হাসিও হয় কারো ? 

*এই পাওয়া না পাওয়ার ভেতরেও তোমার ভেতরটা এখনো আমার অজানা। আচ্ছা তুমি কি সত্যিই আমায় চেয়েছিলে ?  নাকি তোমার অবসর কাটাতে চেয়েছিলে ?  
তোমার চলে যাওয়া আমার হৃদয়কে ক্ষতবিক্ষত চূর্ণ করে দেয়।তোমার চলে যাওয়ার সেই রাত মনে করলেই আমার মাথার মধ্যে অসহনীয় যন্ত্রণা বাসা বাঁধে। প্রিতমকে হারানো শোক আমায় শেষ করে দেয়। নিষ্ঠুর স্মৃতি গুলো হানা দেয় আমার মাঝে, নিষ্ঠুরতম তোমায় এক নজর দেখার তৃষ্ণনায় ক্ষুব্ধ হয় দুচোখ। 

মনে পরে তোমার কথার খিয়ানত করার কথা, তুমি কথা দিয়েছিলে ফিরে আসবে কিন্তু তুমি আসোনি।আমি অপেক্ষায় ছিলাম তোমার,সবাই বার বার আমায় বলছিলো তুমি আর আসবে না, আসবে না তুমি। আমি বিশ্বাস করিনি তাদের আমি জানি তুমি আসবে, সেই তুমিটার অপেক্ষায় আমি আজও বসে আছি। তবে সেই তুমিটার অপেক্ষা যেন শেষ হতে চাচ্ছে না।

 তুমি কি উপলব্ধি করতে পারছো না আমার এই যন্ত্রণা..? তুমি কি বুঝতে পারছো না তোমাকে ছাড়া আমি এক চুল পরিমাণও ভালো নেই?  আগে আমার চোখ দেখেই বুঝতে পারতে আমি কি চাই অথচ আজ এতো গুলো বছর পার হলো আমার এই বিষন্ন চোখের ভাষা কেউ বুঝে উঠতে পারেনা।। 

কেউ বুঝতে চায়না কি চাই আমি,অথবা আমি বুঝতে দেইনা।কি হবে বুঝতে দিয়ে ?  একটা নিষিদ্ধ জিনিসকে চাওয়ার অপরাধে সবাই পাগল বলে আখ্যায়িত করবে আমায়। সেই নিষিদ্ধ জিনিসটা কি জানো ?  ★তুমি,তুমি হলে সেই নিষিদ্ধ চাওয়া আমার। হ্যাঁ আমি তোমাকে চাই, এখনো ঠিক আগের মতো করেই চাই। 

তোমার বুকে মাথা রেখে নিজের অসুস্থতার রাত কাটাতে চাই। বৃষ্টির ফোঁটা হাতে নিয়ে  তোমার মুখে ছিটিয়ে পালিয়ে যেতে যাই।তোমার সেই কোঁকড়ানো চুলে বিলি কেঁটে দিতে চাই। তোমার হাতে খাইয়ে নিতে চাই। চলন্ত বাসে তোমার কাঁধে মাথা রাখতে চাই। তোমার পায়ে পা রেখে তোমার নাকে নিজের নাক ছুঁয়ে দিতে চাই। 
চাওয়া গুলো কি খুব বেশি ছিলো আমার প্রিয়তম? 

তোমার সেই ওষ্ঠধর যখন গোলাপের ন্যায় কাঁপতো ঠান্ডায় তখন ঠান্ডার প্রতি বেশ হিংসে হতো আমায়।
তোমার কপালে জমে থাকে বিন্দু বিন্দু ঘামের প্রতি অভিমান হতো আমার। যেখানে তোমায় ছুঁয়ে দেওয়ার কথা আমার সেখানে তারা তোমায় দিব্যি ছুঁয়ে দিচ্ছে।। 

আমার এই অভিমানের কথা গুলো না বলতেও তুমি বুঝতে আর মুচকি হেসে তুমি প্রকাশ করতে আমার প্রতি তোমার ভালোবাসা। আমাকে পাওয়ার তীব্রতা, তবে আজ কোথায় হারিয়ে তুমি ?  কোথায় সেই অনুভূতি ?  

নিষ্ঠুর আমিও হতে পারি,চাইলে আমিও ভুলে যেতে পারি তবে তুমি ভুলে থাকতে দিচ্ছো কই ?  প্রতিটি রাতে তোমার স্মৃতি গুলো আমায় পোড়াচ্ছে, স্বপ্নে এসে নিজেকে ধরা দিচ্ছো অথচ বাস্তবতায় তুমি নেই কোথাও নেই।। 

*নিঝুম রাতে কেউ সুখের শহরে পারি জমায় আর সেই শহরেই কোথাও না কোথাও কোনো এক প্রেমিকা বিধস্ত অবস্থায় প্রিয়তম চলে যাওয়ার যন্ত্রণা উপভোগ করে।। 
অভিষেকের হাগা।।

অভিষেকের  হাগা এক প্রোপাগাণ্ডাকারী পুঁজিবাদী কমিউনিস্ট প্রশ্ন তুলনেন– নেতারা পাবলিকের বাড়িতে শুধু খান কেন? বৈচিত্র্য আনার জন্য হাগতেও তো পারেন৷

এই খবর রাজনৈতিক দলগুলির অফিসে গেল৷ মাথারা ভাবলেন ভেবে দেখা দরকার৷ তৌসিফ হক বলেছেন মানে ভালোর জন্যই বলেছেন৷ 

জরুরি মিটিং বসলো৷ জনৈক আমলা বললেন– স্যর এই গরমে স্নানও ভালো অপশন৷ 

ভুঁড়িওয়ালা দামোদর শেঠ গোছের নেতা বললেন– পাগল হো ক্যায়া? হম ক্যামেরা কে সামনে নাহায়েঙ্গে!! কহিঁ গামছা খুল গয়া তো? অর ইয়ে সফেদ পাজামা৷ পানি লগনে সে বর্ডার কা ইধার উধার সব দেখা যাতা হ্যায়৷ 

এক বাঙালি আমলা বললেন– স্যর গরীবের খাটে একটু ঘুমিয়ে আসুন৷ তাহলে একঘেয়েমিটা কাটে আর কী! তাছাড়া এই অভূতপূর্ব ঘটনায় আপনার নাম ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে৷ 
দামোদর শেঠ বললেন– আবে বুড়বক! বোকা আছে নাকি? বঙ্গাল মে উইপোকা কে সাথ সাথ ছারপোকা ভি হ্যায়৷ হিন্দু-মুসলমান করকে উইপোকা কো তো ফির ভি ম্যানেজ কর সকতে হ্যায়, লেকিন ছারপোকা? ইতনা বড়া পিছওয়াড়া হমারা৷ কঁহি না কঁহি সে ঘুস যায়েগা৷ সব ঘুসপেটিয়া আছে! 

শেষমেশ ঠিক হল দামোদর শেঠ বাংলায় কোনও দলিতের বাড়িতে হাগবেন৷ আমলারা বারবার বললেন– স্যর রিস্ক নেবেন না৷ খাটা পায়খানায় হাগতে গিয়ে গুয়ে পড়ে যাবেন৷ চোখে সর্ষেফুল দেখবেন৷ এটা বাংলা স্যর৷

দামোদর শেঠ বিচক্ষণ নেতা৷ ঘোড়া কেনাবেচাতেও মুন্সিয়ানা রয়েছে৷ তিনি বললেন– আপলোগ হমসে জাদা জানতে হ্যায়? পাঁচ রাজ্য মে মেজোরিটি না মিলনে পর ভি সরকার বনায়া! হমে মত শিখাইয়ে৷ 

নেতা সত্যিই বিচক্ষণ। তিহার জেলফেরত আসামিদের মতো অভিজ্ঞ৷ তিনি জানেন প্রকাশ্যে স্নান বা শোয়াতে ক্যামেরা নিয়ে সাংবাদিকরা এলেও হাগার সময় আসবেন না। আর যাই হোক, ঢাকঢোল খুলে হাগার সময় মিডিয়া নিশ্চিতভাবে লাইভ টেলিকাস্ট করবে না৷ আমাদের মিডিয়া এতটাও নীচে নামেনি। খুব ট্রাই করলেও মোক্ষম সময়ে পচা শাকপাতার গন্ধে কেউ ধারেকাছে আসতে পারবে না৷ 

দলিতের বাড়িতে অপরিষ্কার পায়খায় দামোদর শেঠ কীভাবে হাগবেন? খাবার বাইরে থেকে আনা যায়৷ মাটির প্লেটে সাজিয়ে দেওয়া যায়৷ কিন্তু পায়খানা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়৷ তারপর ভুঁড়িওয়ালা নেতাজির কোষ্টকাঠিন্যের ধাত, দেখা গেল তিনি হাগতেই পারলেন না৷ হেগে বেরিয়ে আসার পর নিশ্চিতভাবে মিডিয়া গিয়ে সুরতে হাল চেক করবেই। টিআরপির মামলা। এরপর বাপপন্থীরা বলবে– নেতা হাগতে পারেন না৷ দেশ কীভাবে সামলাবেন?
দলিত সংগঠন বলবে– উনি দলিতের বাড়িতে না হেগে চলে এসেছেন৷ দলিতের বাড়ি বলেই হাগেননি৷ এই অপমান আমরা মেনে নেবো না৷
ভোটের আগে দলিতরা ক্ষেপলে কারা ফায়ফরমাস খাটবে? নীচুতলায় খাটার লোকও তো চাই৷ থোড়াই ঠাকুর-ব্রাহ্মণরা...

দামোদর শেঠ অনড়৷ ব্যাপারটিকে ইগোতে নিয়ে নিয়েছেন। –হম হাগেঙ্গে৷ ম্যায় কর সকতা হুঁ তো কর সকতা হুঁ৷ দুধ কা দুধ পানি কা পানি হো যায়েগা৷ আগর না কর সকা তো রাজনীতি ছোড় দুঙ্গা৷ 

দামোদর শেষ যে বাড়িতে যাবেন সেখানে বাথরুম ঝকঝকে তকতকে করে তোলা হল। কেউ একজন গোবরজল দিয়ে ধোওয়ার কথাও বলেছিল। তা শুনে দামোদর শেঠ বললেন– সব জগা এক নীতি নহি চলেগা। জাঁহা ফিনাইল লগেগা ওঁহা ফিনাইন, জাঁহা গোবর পানি জরুরি হোগা ওঁহা গোবরপানি৷ মিডিয়া মে কঁহি আ গয়া তো বাওয়াল হো জায়েগা। 

নির্দিষ্ট দিন উপস্থিত। ১০-১২ টি মিডিয়ার তীক্ষ্ম দৃষ্টি নেতার কর্মসূচির দিকে৷ মিডিয়া যেভাবে ছন্দ মিলিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠানের নাম দেয় তেমন একটি হিন্দি চ্যানেল অনুষ্ঠানের নাম দিল এভাবে– "দলিত কে ঘর হাগনা / দেশ কা নয়া জাগনা?" 

নেতা ধুতি পরেছেন৷ বাংলায় কর্মসূচি বলে কথা৷ ধুতি পরাটা সুবিধাজনক না হলেও পরতে হল৷ লুঙ্গি পরাটাই সবচেয়ে সহজ হত৷ কিন্তু লুঙ্গি? সেসব পরলে অন্য সমস্যা৷ পার্টি যে ন্যারেটিভে রাজনীতি করে তা গুবলেট হয়ে যাবে৷ 

প্লাস্টিকের বালতিতে জল। তাতে মগ ভাসছে। দেহরক্ষী পায়খানা ঘরের দরজা পর্যন্ত বয়ে দিলেন বটে, কিন্তু নিয়ে ঢুকতে তো নিজেকেই হবে৷ এত বড় নেতা ধুতি পরে নেতা হাগতে ঢুকছেন৷ এই বিরল দৃশ্য ভারতীয় রাজনীতিতে আগে দেখা যায়নি৷ সবাই ধন্য ধন্য করে উঠছে৷ 'আমি আদরনীয় নেতাজিকে হাগতে দেখেছি। এই হাগার ফলে দেশের অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে।' জাতীয় সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টও রেডি৷ সময়মতো কপি-পেস্ট শুরু হবে৷ নেতা হাগতে ঢুকলেন৷ টিআরপির গন্ধ পেয়ে মিডিয়া ক্ষেপে গেছে৷ 

এক সাংবাদিক এবং নিউজ রুমের সঞ্চালিকার কথোপকথন চলছে৷ 

"ঠিক কী বুঝতে পারছ রাজর্ষি? কী মনে হচ্ছে? দামোদরবাবু কতখানি হাগবেন? হাগার কালার সম্পর্কে তোমার কী অনুমান?" 

"দ্যাখো সুপ্রিয়া, এভাবে কিছুই বলা যাচ্ছে না। যতটুকু জানা যাচ্ছে দামোদর শেঠ গতকাল রাতে পালং পনীর খেয়েছিলেন৷ ভ্যাড়ভ্যাড়ে হলুদ-সবুজ হাগা হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তিনশো গ্রামের বেশি হওয়ার কথা নয়৷" 

"রাজর্ষির সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আমরা এখন বিশেষজ্ঞদের কাছে জেনে নেবো হাগার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য। আচ্ছা শিবনারায়ণবাবু আপনার কী মনে হচ্ছে?"

"সুপ্রিয়া একটা বিষয় আমি বলতে পারি৷ হাগা বেশ শক্তই হবে৷ কারণ দামোদর শেঠের কোষ্টবদ্ধতা রয়েছে।" 

হাগার রঙ এবং প্রকৃতি নিয়ে স্টুডিওর মধ্যেই বিশেষজ্ঞরা বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ছেন৷ কেউ বলছেন পাতলা হাগা হবে, কেউ তথ্য দিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছেন কেন পাতলা হাগা হবে না৷ হাগার ফলে উৎপন্ন গ্যাসের প্রকৃতি নিয়েও জোর তরজা চলছে। 

এরমধ্যেই দামোদরের স্নেহধন্য এক নেতা টুইট করেছেন– "এই হাগা শুধু হাগা নয়৷ বামপন্থী এবং দেশবিরোধীদের মুখে ফেভিকল৷"

এক মিডিয়া তড়িঘড়ি খবর করলো– এই বক্তব্যে ফেভিকলের উল্লেখ থেকে বোঝা যাচ্ছে নেতার আঠালো হাগা হবে৷ আমাদের মিডিয়াই প্রথম আপনাদের জানালো নেতা আঠালো হাগবেন৷ 

প্রায় আধঘন্টা অতিক্রান্ত। নেতা বেরোচ্ছেন না৷ তা দেখে মিডিয়ায় হইচই৷ নেতা-কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে৷ 

এক ফিচকে বামপন্থী সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিল– 'হাগতে গিয়ে অক্কা পেলেন।'

সেই পোস্টে হামলে পড়ে নেতার সমর্থকরা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মা-বোন উদ্ধার করে তাকে কার্যত পাকিস্তানে পাঠিয়ে দিলেন৷ 

অবশেষে নেতা বেরিয়ে এলেন৷ তিনি শৌচ করে হাত ধুয়েছেন কি ধোননি৷ সাংবাদিকরা ছুটে গেলেন৷ নেতাকে ঘিরে প্রশ্ন করলেন– স্যর ক্যায়সা হাগা হুয়া? দলিত কে ঘর মে হাগকর ক্যায়সা লগ রাহা হ্যায়? দেশ মে বদল আয়েগা? 

নেতার মুখ ব্যাজার৷ তিনি বিরক্ত৷ নিজের বাড়ির বিলাসবহুল বাথরুমে হাগার অভ্যাস তাঁর৷ এই পায়খানায় হাগা হয়? রাজনীতির জন্য কতকিছু করে বেড়াতে হয়৷ হেগে জল দেওয়াও যায় না৷ কারণ মিডিয়ায় হাগু হাইলাইট হলে জনমানসের পজিটিভ প্রভাব পড়বে৷ যত্তসব! ক্রোধ প্রকাশ পাবে না অথচ কড়াভাবে বলা হবে, এমনভাবে দামোদর বললেন– আপলোগ কৃপিয়া করকে মুঝে জানে দিজিয়ে৷ আপলোগ স্পট মে যাকে দেখিয়ে, আপকো সব তথ্য মিল যায়েগা৷ 

সাংবাদিকরা ছুটলেন৷ একে অন্যের ঘাড়ে চড়ার মতো পরিস্থিতি৷ আশ্চর্য প্রতিযোগিতা। কে আগে নেতার হাগুর ব্রেকিং নিউজ মিডিয়ায় আনতে পারবেন৷ ছোট পায়খানা ঘর, সেখানেই গুঁতোগুঁতি। আরেকটু হলে একজন ওখানেই পড়ে যেতেন৷ 

অবশেষে মিডিয়ায় দামোদর শেঠের হাগুর ছবি এল৷ ইটের মতো শক্ত কালচে হাগা৷ পঞ্চাশ গ্রামেরও কম৷ সেই হাগার সমর্থন এবং সমালোচনা নিয়ে দেশ তোলপাড়৷

দিল্লির এক সাংবাদিক তাঁর প্রাইমটাইম শো তে দামোদর শেঠের হাগু সম্পর্কে একটানা বলে যাচ্ছেন– 
"দামোদরজি চাইলে বেশি হাগতে পারতেন৷ কিন্তু যে দেশে জলের সংকট সেখানে বেশি হাগা মানে জল অপচয়৷ তিনি সেপথে যাননি। এতেই প্রমাণিত হয় তিনি কতখানি সচেতন৷ উনি সম্ভবত একই কারণে জল কম খান। শক্ত পায়খানা তারই প্রমাণ৷ একজন নেতা কতখানি মহান হলে জল কম খান, কারণ তিনি জানেন দেশের বহু অংশে এখনও পানীয় জল পৌঁছয়নি। এর গুরুত্ব কেবল একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিকই বুঝবে৷" 

এইপর্যন্ত প্রায় সবই প্রত্যাশিত ছিল৷ সকালে খবরের কাগজ খুলে দেখি নেতার ছবির নীচে তাঁর গতকালের রস শুষে নেওয়া হাফ ল্যাংচা সাইজের গুয়ের ছবি৷ পয়েন্ট করে করে লেখা আছে গুয়ের নানা বিবরণ৷ হাগতে কত সময় নিয়েছেন, হাগার পরিমাণ কী, হাগার মধ্যে উপস্থিত রাসায়নিক উপাদান, সে হাগা জমিতে পড়লে কতখানি জায়গা উর্বর করবে ইত্যাদি৷
*****
আমি কেউ না। আমি শুকনো পাতার মতো আমাকে চাইলে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া যায়। 

আমি ধুলোর মতো। আমাকে চাইলে আবর্জনার মতো ঝেড়ে ফেলা যায়। 

আমি অপ্রয়োজনীয় কাঠপেন্সিল। যাকে কেউ রেখে দেয় অভ্যাসে কিংবা নিছক শৌখিনতায়। 

আমি কারও আকাশ হতে পারিনি, হতে পারিনি কারও প্রিয় কাঠগোলাপ। আকাশে জুড়ে ঝলমলে জ্বলতে থাকা ধ্রুব তারা হতে পারনি কারও জীবনে। হতে পারিনি ভোরের প্রথম শিশির কিংবা কারও পূর্ণিমার চাঁদ। আমি কারও ভালোলাগার বৃষ্টি হতে পারিনি। ছুঁতে না পারা মানুষটাকে বাতাস হয়ে ছু্ঁয়ে দিতে পারিনি। আমি কিচ্ছু না! 

আমি বেড়ে উঠেছি অপ্রয়োজনীয় মূল্যহীন আগাছার মতো। আমাকে যেই চেয়েছে সেই পেয়েছে, শুধু আমি যাদেরকে চেয়েছি তাদেরকে আমি পাইনি। আমি অনেকেই হারিয়েছে, আমাকে কেউ হারায়নি! হারানোর মতো মূল্যবান কেউ ছিলামও না কখনও। আমি কেউ না। কিচ্ছু না!
থ্রি ইডিয়টসের চেয়ে ছিচোড়ে মুভিটা আমার কাছে বেশি প্রিয়।কারণ, থ্রি ইডিয়টস আপনাকে বলবে, তুমিও জিতবে।বাট ছিচোড়ে  মুভিটা আপনাকে বলবে, তুমি হারবে, তারপরেও তুমি বেঁচে থাকবে।

"জীবনের কাছে হেরে গেলাম" লিখে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহাগ ছেলেটা মরে গেল। হয়তো তাকে কেউ কখনও বলেনি, জিতে যাওয়া মানেই জীবন না, হেরে যাওয়ার মধ্যেও থাকে বেঁচে থাকার আনন্দ।

শিব খেরা, ডেল কার্নেগি থেকে আমাদের বাবা মা, বারবার আমাদের একটা কথাই বলে, তুমিও জিতবে। শক্ত হও। উঠে দাঁড়াও। দৌড়াও। জিততে তোমাকে হবেই।
কিন্তু কেউ কখনও বলে না, তুমিও হারবে। তুমিও তো রক্ত মাংসেরই মানুষ, তোমারও ক্লান্ত লাগবে। একটু বসো। সবসময়ই উঠে দাঁড়ানোর দরকার নাই। সবসময়ই দৌড়ানোর দরকার নাই।একটু বিশ্রাম করো। অনেকক্ষণ তো শক্ত থেকেছো, এবার একটু নরম হও।কেউ বলে না।

বলে না বলেই, সোহাগের মতো ছেলেমেয়েগুলো ঝুলে পড়ে। কেউ রিলেশনশিপের জন্য, কেউ টাকার জন্য, কেউ ক্যারিয়ারের জন্য, কেউ রেজাল্ট বা সিজির জন্য, কেউ বা একটুখানি ভালোবাসার জন্য।

হেলাল হাফিজ এক বুক কষ্ট নিয়ে লিখেছিলেন,

কেউ বলেনি,
ক্লান্ত পথিক,
দুপুর রোদে গাছের নিচে একটু বসে জিরিয়ে নিও...

ওদিকে হুমায়ূন আজাদ লিখেছিলেন আরো ভয়ঙ্কর কথা।

আমি সম্ভবত খুব ছোট্ট কিছুর জন্যে মারা যাবো
খুব ছোট একটি স্বপ্নের জন্যে
খুব ছোট দুঃখের জন্যে
আমি হয়তো মারা যাবো কারো ঘুমের ভেতরে
একটি ছোট দীর্ঘশ্বাসের জন্যে
একফোঁটা সৌন্দর্যের জন্যে।

মা বাবা, শিক্ষক, গার্জিয়ান, বন্ধু, সমাজ, পৃথিবী, আপনাদের সবার কাছে আমার একটাই অনুরোধ,জিতে যাওয়ার মোটিভেশন দেন, সমস্যা নাই।কিন্তু হেরে যাওয়াদের কথাও একটু বলেন। পৃথিবীতে সবাই জিততে আসে নাই। সবার জেতার দরকারও নাই। কিন্তু এই পৃথিবীতে সবাই বাঁচতে আসছে। 

এই পৃথিবীর প্রতিটা মানুষ ছোট্ট একটা স্বপ্ন ডিজার্ভ করে, একটুখানি সিমপ্যাথি ডিজার্ভ করে, এক ফোঁটা রোদ্র ডিজার্ভ করে, ছোট্ট একটা ঘাসফুল ডিজার্ভ করে।
এই পৃথিবীর আলো বাতাস, জল বা জোছনায় সবার সমান অধিকার আছে। জিতে যাওয়া মানুষটার যেমন দোয়েলের শিষ শোনার অধিকার আছে, হেরে যাওয়া মানুষটারও তেমন এক ফোঁটা বৃষ্টির পানি পাওয়ার অধিকার আছে।

জয়ের মালা বিজয়ীরই থাকুক, ওটার ভাগ কেউ চায় নাই। তাই বলে হেরে যাওয়া মানুষের উপর থেকে এক টুকরো মেঘের ছায়া কেড়ে নেওয়ার অধিকার কারো নাই।
কারো না।

From the group of Positive Thinkers.
সংগৃহিত..

নীলাক্ত নীল

যে কিশোরী বয়সে শরীরের আকর্ষণে মোহ হয়ে অনেক মেয়ে চার দেয়ালে প্রেমিকের আকুল দীর্ঘশ্বাসের অপেক্ষা করে, ওই বয়সেই নীলা আমাকে শিখিয়েছে জীবন মানে অনেক বিশাল, চার দেয়ালে কিছুই নেই। রেললাইনে দেখিয়ে বলতো -  রেল লাইনের দুটি পথ সবসময় আলাদা থাকলে ও সবসময় পাশাপাশি  থাকে, আমাদের ও এভাবে থাকতে হবে ; আলাদা তবে একসাথে। নীলা ঝড়ের রাতে আমাকে ফেলে চলে যাওয়ার ভান ধরতো, ও আমাকে শিখাতে চাইতো ধকল নেওয়া। 
প্রাপ্ত বয়সে যখন সংসার দেখার স্বপ্ন দেখে সবাই! নীলা আমার শার্টের কলার চেপে ধরে বলেছিলো " ভালো মানুষ হও"। আমি একবার নীলার হাত ধরে অবাক হয়ে বললাম "তোমার হাতের রেখা নেই কেন?" এক গাল হেসে জবাবে বলে দিলো " আমার জন্ম তো তোমাকে কাছে পাওয়ার জন্যে হয়নি, রেখা দেখে গণক যদি বুঝে যায়!"

 সত্যি! যে   নীলার এমন ভালোবাসা আমাকে বিমোহিত করে, অবাক করে।

আজ কেন জানি না মনে হচ্ছে আজ নীলার সেই সব স্মৃতি আমায় ভুলিয়ে দেবে একটা কাঠ গোলাপের সুগন্ধিতে। 
আমি কাউরে জোর করবার পারি না,কাউরে অধিকারের দোহাই দিয়া মনের খাঁচায় বন্দী করবার পারি না। যার যহন মন চায়,তহনই আমারে ভাইঙ্গা চুইরা  দিয়া গেলেও আমি কইবার পারি না;"এমন কইরা ক্যান দুঃখ দেও?আমি যে সইবার পারি না!"

জীবনে মেলা দুঃখ পাইছি!তয় কেউ সুখ নিয়া আইসা কয় নাই;"অনেক অইছে,অহন আহো,আমি তোমারে সুখ দিমু।"

আমার যা মেলা পাইতে ইচ্ছা করছে,আমি তা চাইতে পারি নাই।কাঁইন্দা বুক ভাসাইছি,তাও মুখ ফুইটা কইতে পারি নাই;"ঐডা আমার লাগবো!"

মাইনষের সুখ দেইখ্যা হাস ফাঁস করছি,তয় নিজে কোনদিন সুখে থাকবার পারি নাই!থাকবার পারমু ক্যামনে?যারে সুখ ভাবছি,ঐডাই আমার দুঃখের কারণ অইছে!

জীবনে অনেককিছুই হারাইছি,তয় এমন কিছু পাই নাই,যা নিয়া আমি একটু ভালা থাকুম!

কেউ আমার রাইতের ঘুম কাইড়া নিলেও,আমি কারো সুখের ঘরে আগুন লাগাই নাই।কত মাইনষে ভালাবাসে কইয়া আমার কাছে আইছে,তয় কেউ মন থাইকা ভালাবাসে নাই!

ভালাবাসবো ক্যামনে?আমার মতোন নিঃস্ব মাইনষেরে কি আর ভালাবাসন যায়? যার কেউ নাই-কিচ্ছু নাই!দিনশেষে আমারে কেউ ভালাবাসে নাই,তাতে দুঃখ নাই।তয় দুঃখ অইলো,যারা ভালা না বাইসাও কইছে "ভালাবাসে",তাগোর কি এমন ক্ষতি আমি করছিলাম?

"ক"

"ক" ব্যবহার করে এতো দীর্ঘ লেখা আমি প্রথম পড়লাম। লেখক বা লেখিকার নাম উল্লেখ ছাড়াই লেখাটা পেলাম। অসাধারণ দক্ষতা।  🙏🏻

পুরোটা পরে দেখুন খুব ভালো লাগবে আপনাদের। 

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী কলেজের কনিষ্ঠ কেরাণী কার্তিক কুমার কর্মকারের কোকিল কন্ঠী কন্যা কপিলা কর্মকার কাশিতে কাশিতে করুণ কন্ঠে কমল কাকাকে কহিল, "কাকা, কড়ি কাঠের কেদারা কিংবা কারখানার কাপড় কেনাকাটায় কৃষাণীরা কিছুটা কৃচ্ছতা করিলেও কলকাতার কিশোরী কন্যাদের কাছে কুষ্টিয়ার কুচকুচে কালো কাতান কাপড়ের কদর কল্পনাতীত। 
কীর্তিমান কতিপয় কলাকুশলী কিংবা কিশোর কবিরাও কালি-কলমের কল্যাণে- কদরের কিছু কার্যকর কথা কৌশলে, কখনো কবিতার কিতাবে, কখনো 'কালের কন্ঠ' কাগজের কলামে কহিয়াছেন।
কিন্তু কাকা, কষ্মীনকালে কেউ কী কখনো কহিয়াছেন? কী কারণে, কিসের কারসাজিতে, কেমন করিয়া কোথাকার কোন কাশ্মিরী কম্বল কিংবা কর্ণাটকের কমলা কাতানের কাছে কালক্রমে কুলীন কূলের কায়িক কৃষাণীদের কাঙ্খিত কালজয়ী কারুকার্যময় কাতান কাপড়ের কদর কমিল"?

কাজে-কর্মে কুশীলব কিন্তু কেবলই কৌতুহলী কপিলা কর্মকারের কঠিন কথায় কিঞ্চিত কর্ণপাত করিয়া ক্লান্ত কাকা কুষ্টিয়ার কিংবদন্তি কালো কাতানের ক্রমেই কদর কমার কয়েকটি কারণ কোমল কন্ঠে কপিলার কানে কানে কহিলেন। 

কৃষ্ণকায় কাকাকে কাপড়ের কষ্টের কিচ্ছা কাহিনী কহিয়া কপিলা কর্দমাক্ত কলস কাঙ্খে করিয়া কালোকেশী কাকিকে কহিল, _"কাবেরী কোলের কেয়া-কুঞ্জে কোয়েলের কলকাকলি কিংবা কেতকী কদম কুসুম কাননে কোকিলের কন্ঠে কুহু কুহু কুজনের কতই কারিশমা! কিন্তু কাকী, কদর্য কাক কী কারণে কর্কশ কন্ঠে কানের কাছে কেবল কা-কা করে"?_

কাঁচের কংকন করিয়া কিংকর্তব্যবিমূঢ় কাকী কিলানো কাঁঠালের কদলি কচলাইতে কচলাইতে কহিলেন, _"কুৎসিত কেতাদুরস্ত কাকের কাজই কা-কা কলরবে কোলাহল করিয়া কেরামতির কৃতিত্ব কুড়ানো"।_

সংগৃহীত
বাস্তববাদী
২৪/২৫ বছরের এক যুবক উপহারের দোকানে মাঝবয়সী দোকানদারের উদ্দেশ্যে বলছেন 
"আচ্ছা বিধবার জন্মদিনে কী উপহার দেয়া যায় বলুন তো ?"

দোকানদার 
" ভদ্রমহিলার বয়স কী রকম হতে পারে?"

 যুবক

"ধরুন ২১/২২"

 দোকানদার 
"আচ্ছা উনি আপনার নিকট আত্মীয় মানে বোন, মামাতো বোন ,এইরকম কেউ নন তো ?"

যুবক 
"না সেরকম কিছু নয় "

দোকানদার
 "আচ্ছা আপনি কি বিবাহিত না অবিবাহিত?"

যুবক 
"এ তো পুলিশের মত জেরা"

 দোকানদার
" সেরা উপহার এর জন্য জেরার দরকার আছে।"

যুবক 
"আমি অবিবাহিত "

দোকানদার 
"এ তো সোনায় সোহাগা ,আচ্ছা একটা খুব কম দামের ভালো উপহার ,যেমন ধরুন 
৬ টাকা চলবে ?"

যুবক 
"আপনি কি লটারির  টিকিটের কথা বলছেন ?"

 দোকানদার 
 "না স্যার তার চেয়েও অনেক দামি জিনিস সম্ভবত দুজনেই জিতবেন।"

যুবক
"যেমন ?"

দোকানদার
"৬ টাকা দিয়ে একপাতা সিঁদুর নিয়ে যান না ,দু একজন কে সাক্ষী রেখে  সিঁথিতে সুন্দর করে লাগিয়ে দেবেন ।"

যুবক
"আপনি দোকানদার নন, আপনি তো দার্শনিক, দিন ৬ টাকার সিদূর দেখা যাক জীবনের সেরা ছক্কাটা  ৬ টাকাতেই মারা যায় কিনা !"

কি শুনতে চাও বলো? 
আমার দীর্ঘশ্বাসের রাত্রি গুলোয় তুমি ছিলে না, বিষন্নতায় মোড়ানো চাপা হতাশায় একই কি ভাবে কাটিয়েছি   এসব"
না'কি শূন্য পকেটে রাস্তার মোড়ে বসে যখন এক গ্লাস জলের জন্য ছটফট করেও তোমার কন্ঠ মাখিয়ে তৃপ্ত করনি,সে অবমাননার কথা!!


নীলাম্বরী

শুনছেন নীলাম্বরী, 
জানি শুনছেন না, তবুও অনুভূতির অদৃশ্য দেয়াল ভেদে লিখছি কিছু সিক্ত কথামালা। লিখছি বিষাদের বিষাদ নীলে অশ্রুসিদ্ধ কিছু সময়ের কথা। আপনি তো আবছা নীলে নীলাক্ত আর আমি? আমি আপনার সেই নীলে আসক্ত আপনার বিষে বিষাক্ত। নীলের আদ্রতা হতে পারিনি আমি তবে সেই বিষে সপে দিয়েছি নিজেকে। বুকের মাঝে মনক্ষুণ হওয়ার বিশাল একটা দেয়াল গড়ে উঠেছে। অভিমান নামক রুদ্ধ দরজায় দাঁড়িয়ে আছে। নীলের অবহেলার পাহাড় এক দম্ভেয় মতো আঘাতে চূর্ণ করেছে হৃদয়কে। মনের অন্তঃকোণ হয়ে আছে আবছা নীলে নীলাভ। আমিও দিব্যি গিলে খাচ্ছি সেই নীলে নীলাভের বিষ। বুকের মাঝে হাহাকারের হুইসেল বাঁচছে, 
হুম হয়তো বেঁচে আছি আমি আবার হয়তো না । 
কখনো কি শুনবেন নীলাম্বরী এই হৃদয়ের ডাক, কখনো কি বুঝবেন এই মনের আত্নহুতি। আমার দুনিয়া আপনি অস্তিত্ব আপনি, আবছা নীলে নীলাক্ত আমি!!   আপনি  নীলাম্বরী?? !! 

তোমার শুন্যতা

একটা অদ্ভুত ব্যপার কি জানো, আমাদের আর ভুল করেও দেখা হবেনা। ভুল করেও আর চোখে চোখ রাখা হবেনা। ভুল করেও আমাদের আর হাতে হাত রাখা হবেনা। ভুল করেও ভুলেও তোমার গন্তব্য আমার বাড়ির  রাস্তায় আর আসবে না। 

চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে আছে বড্ড, চিৎকার করে কাঁদতে চাইছি কিন্তু পারছি না। অনবরত অশ্রু বর্ষন হচ্ছে। মনে আছে আমাদের প্রিয় সেই বকুল গাছের কথা?  কতশত স্মৃতি জড়িয়ে আছে সেখানে তোমার আমার। সেই চেনা পথ, চেনা রাস্তা যেখানে মিশে আছে আমাদের সহস্র অনুভূতি।। 

তোমার প্রিয় কাঠগোলাপ গাছে এখন বেশ নিয়ম করে ফুল ফোঁটে।  বেলীফুলের  ফুলে  ভরে গেছে বাগান । রাতের বেলা পুরো বারান্দায় বেলীফুলের সুভাস ছড়িয়ে যায়।আমার রুমের উত্তর দিকের জানালা দিয়ে এখনো ভোরের আলো প্রবেশ করে।।
তোমার জন্য মনের  কোণে বানানো কুঠিরে এখনো নিয়ম করে পরিষ্কার করা হয়। তবে এখন আর সেখানে বসে আমার আনন্দ হয়না জানো!! 

সব কিছু আগের মতোই আছে সব কিছু। তবুও যেন কিছু একটার শূন্যতা রয়েই যায়।   কাঠগোলাপ তোমার অপেক্ষায় আছে,  ফোঁটা বেলীফুল গুলো তোমার অপেক্ষায় আছে,
একলা ঘরের কোণে দোলনায় বসে থাকা কেউ একজন তোমার অপেক্ষায় আছে। তবে তুমি নেই, তুমি এইসবের কিছুই দেখতে পাচ্ছো না।। 

প্রতিটি চোখের জল তোমার শূন্যতা জানান দিচ্ছে, খুব কঠিন ভাবে হৃদয়কে ক্ষতবিক্ষত করে দিচ্ছে।। 
প্রেম, ভালোবাসা জিনিসটা আসলে কি? যখন প্রেমে পড়বেন নিজেকে নিজের এত ভালো লাগবে! আয়নার সামনে গিয়ে নিজেকে বার বার দেখতেও বিরক্ত লাগবেনা! প্রেমের সবচেয়ে সুন্দর মুহুর্ত কি জানেন? প্রেম হবে হবে; কিন্তু হচ্ছেনা! এরপর প্রেম চলাকালীন সময়ে মনে হবে এই প্রেম কোথায় ছিলো এতদিন? মনে হবে এর চেয়ে চমৎকার জিনিস বোধহয় এই নশ্বর পৃথিবীতে আর কিছুই নেই! আর একবার যদি ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়? হাজার মানুষের ভীড়েও একা লাগার মত যন্ত্রণা কিংবা সারারাত অকারণে জেগে থাকার অভ্যেস তোমাকে একদম শেষ করে দিবে!

আমি এক প্রশ্নবোধক চিহ্ন

সবাই বলে আমি দুর্বল প্রকৃতির মানুষ!
আমি প্রচন্ড আবেগি,সাধারণ কিছু নিয়েই দুশ্চিন্তায় ভোগী,কারোর সামান্য কটু কথায় কেঁদে দেই! আসলেই আমি দুর্বল প্রকৃতির মানুষ.. 
অথচ আমি সেই ব্যক্তি যে প্রচন্ড কষ্ট পেয়ে, শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতেও নিজের চোখের অশ্রু নিজে মুছে নিজেকে সান্ত্বনা দিয়ে হাসি এবং সকলের মাঝে স্বাভাবিক ভাবে জীবন অতিবাহিত করি কেউ বুঝতেই পারে নাহ আমার সাথে কি ঘটছে! তাহলে আমি দুর্বল কিভাবে? আদৌও কি আমি দুর্বল প্রকৃতির মানুষ? 

বেহায়া সময়

মাঝরাতে অথবা ভর দুপুরে; বৃষ্টি হওয়া মানেই তোমাকে মনে পড়তে হবে তা কিন্তু না! আমার মনে হয় এই এমন একটা জিনিস কখনোই নিয়ম হতে পারেনা! তবুও তুমি বৃষ্টি হলে নিয়ম করে মনের মাঝে ভয়ংকর ভাবে হানা দাও! আমার ইচ্ছে হয় প্রথম দিনের মত মনে প্রচন্ড আবেগ আর তীব্র ভয় নিয়ে তোমাকে ছুয়ে দেখি! প্রথমবার ছুয়ে দেখার মত একটা আবেগ ঠিক কি পরিমাণ পবিত্র হতে পারে আমার জানা নেই! 

কতগুলো দিন আমরা একসাথে ছিলাম; একই পথে হাতে হাত রেখে হেটেঁছি; প্রতিটি দিনের কথা আমার এখনো মনে আছে দিন তারিখসহ; কড়া রোদে কুলফি কিংবা বৃষ্টিতে দুধ-চিনি বাড়িয়ে মালটোভা দেয়া চায়ের কাপ; কি সুন্দর দিন ছিল না বল?

একদিন হুট করে কোন কিছু বুঝে উঠার আগে এত এত ভালোবাসা ছেড়ে বোকাদের দলে নাম লিখিয়ে তুমি চলে গেলে; তোমাকে রেখে চলে আসার সময় কি কি সব যে মনে হচ্ছিল ভেবে হাসি পায় আজকাল; বিশ্বাস কর হাটঁতে পারছিলাম না ঠিকমত; মনে হচ্ছিল রাস্তার সাথে পা আটঁকে যাচ্ছে; বাসে একদম পিছনের সিটে জানালার পাশে গিয়ে বসতেই চোখ দিয়ে টুপ টুপ করে জল বেয়ে পড়ল; বাসের সবাই যে কিভাবে তাকাচ্ছিল ভাবলেই আজকাল লজ্জা লাগে; আমি তোমার মত ফর্সা হলে লজ্জায় মুখ লাল হয়ে যেত!

আমাকে ছাড়া এক মুহুর্ত থাকতে না পারা মানুষটা কিভাবে আমাকে ছাড়া আছে আমি এখনো বুঝিনা; আমিও বা কম কিসে বল; তোমাকে ছাড়া কতগুলো দিন বেহায়ার মত হাসতে হাসতে কাটিঁয়ে দিচ্ছি; সময় জিনিসটা কেমন যেন না? নিরব ঘাতক; সব কেড়ে নিয়ে আবার সব ক্ষত নিজেই মুছে দেই! হা হা হা!
এ-জীবন থমকে আছে তুমি আসবে বলে,
তুমি আসবে বলে -তোমার অপেক্ষায় প্রকৃতপক্ষে আমিই থমকে আছি "জীবন থমকে আছে" এই অজুহাত দেখিয়ে! 
চাইনা তুমি যাও কভু  দূরে,
তোমায় ছাড়া আমার এ জীবন তলিয়ে যাবে অচেনা ছন্দহীণ সুরে!
ইতি আপনার পিচ্চি,,
❝আমার বিকল্পের মানুষটি'র প্রাপ্তিতে কি এমন ছিলো?
সে কি নক্ষত্র চিনতো, শেষ প্রহর বুঝতো?
নাকি সে দেবতা ছিলো!
যার দর্শনে খুঁজে পেয়েছিলে তোমার শ্যামকে।❞

❝তোমাতে আবদ্ধ হওয়ার তাড়নায় প্রেম নাযিল হয়েছে এই মনে -
হয়েছি প্রেমিক তোমার একনিষ্ঠ'তায়।❞


অসাহিত্অশান্তির অনলে পুড়ে ছাই হলেও 
শান্তি মিলেনি কোথাও।। 
চাওয়া পাওয়ার এই ছোট জীবনে সব কিছু থাকে আর যা থাকে না তা হলো শান্তি। সবাই কোনো না কোনো ভাবে মানসিক অশান্তির মাঝে জীবন পার করছে এবং দিন শেষে "ভালো আছি" বলে নিজেই নিজেক
তোমার জন্য হটাৎ করে চোখের কোণে জল,
মনে পড়ে ওইসব সুন্দর আকারে থাকা অজস্র ভালোবাসার দল!
ইতি আপনার পিচ্চি কবি
বাহিরে কি পিনপতন নীরবতা, অথচ ভেতরে ভেতরে সবাই ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে! 

আমরা সেই না বলা কথা গুলো

অশান্তির অনলে পুড়ে ছাই হলেও 
শান্তি মিলেনি কোথাও।। 
চাওয়া পাওয়ার এই ছোট জীবনে সব কিছু থাকে আর যা থাকে না তা হলো শান্তি। সবাই কোনো না কোনো ভাবে মানসিক অশান্তির মাঝে জীবন পার করছে এবং দিন শেষে "ভালো আছি" বলে নিজেই নিজেকে শান্তনা দিচ্ছে! 

কাঠ গোলাপের আগুন

মন টা,,,, সেদিন থেকেই বারেবারে একটা কথাই বলে ওঠে,,, গেয়ে ওঠে সেই ছন্দ,,, 

" কি নামে ডেকে বলবো তোমাকে 
মন্দ করেছে আমাকে ওই দুটি চোখে,,
আমি যে মাতাল হাওয়ার মতো 
যেতে যেতে পায়ে পায়ে গেছি জড়িয়ে ,,

তবে তোমায় কাঠ গোলাপ বলে ডাকলে আমি সত্যিই খুব আনন্দিত হবো। 
সত্যিই কি এমন কোন দিন হবে! 

না তুমি প্রেম নও আবার ভালোবাসাও নও। 
প্রশ্ন এখানেই তবে তুমি কে? 

তুমি!  তুমি অন্তরে আগুন নিয়ে বাইরে শীতল শ্যয্যার মতো।  
আমি নতজানু প্রিয় কাঠ গোলাপ তোমার আগুনের ভীষণ শিখায় নিজের আহুতি দিতে যেমন শ্যামা পোকা ছুটে আসে প্রখর আলোক শিখার দিকে আমিও নিজেকে শ্যামা পোকাই ভাবতে চাই প্রিয়।

সেদিন সত্যিই আমি মাতাল ছিলাম  আমার সমস্ত নেশা এক নিমেষে দূর করে দিয়েছে । 
সেই চোখ থেকে যে লেলিহান দাবালনের শিখা  আমি দেখেছি তা এক কথায় বলা সম্ভব নয়।

সত্যি বলতে সেদিন ওই চোখ থেকে যে আগুন আমি দেখেছি নিজেকে কেন জানিনা ঐ আগুনে পুড়িয়ে ছাই বা ভষ্মে  পরিনত হতে বারবার আমায় টানে। 

আমি  জানি এর পরিনাম খুব খারাপ হবে খারাপ বুঝলে আর কি ওই যে ছাই বা ভষ্মে পরিণত হওয়া  তার থেকে আনন্দের আর কিছু নেই।  
তারপর আর এই  পৃথিবী থেকে আমার আর কিছু প্রয়োজন নেই।  কারণ লোক মুখে  সবাই বলে ছাইতে জল ঢালা ও বেকার।  

কাঠ গোলাপ!  
এযাবৎকাল অনেক আগুনে পূড়েছি।   পুড়তে পুড়তেই এই পর্যন্ত এসে তোমার আগুনে নিজের আহুতি দিতে চাই। হ্যাঁ আমি একদম প্রস্তুত। 
এবার প্রাথনা তোমার কাছে  যদি অনুমতি পাই আমি তোমার মধ্যে যে আগুন দেখেছি আমি সেই আগুন জালিয়ে  দেখিয়ে দিয়ে যাবো তুমিই আমার মুক্তির সাধনা। 
হ্যাঁ তোমার মধ্যেও সেই আগুন আছে।
 বিশ্বাসের সাথে নিজেকে সন্ধান করলে  তুমি নিজেই পরখ করে জানতে পারবে। 

তবে অনুরোধে শুধু একটা-ই  আমি নিজেকে  কাঠ কয়লার সাথে কেন বলেছি তার ব্যাখ্যা নিজেই জানি।  তবে আমি জীবনে সব সময়ে নিজের যুক্তিকে সম্মতি দিয়েছি।  আর তোমার থেকেও প্রাথমিক ভাবে তাই প্রাথনা করবো। 

জীবন আর ভুল মানুষ

ভুল মানুষের পাল্লায় পড়ে জীবন শেষ করে দেয়ার থেকে,সারাজীবন নিঃসঙ্গ থাকা ঢের ভালো!
আমি কখনোই বিচ্ছেদের পক্ষে নই।কিন্তু তাই বলে যে ভুল মানুষের কাছেই সারাজীবন কাটিয়ে দিতে হবে,এমনটাও বলছি না!

সঠিক মানুষ আর ভুল মানুষের মধ্যে পার্থক্যটা ঠিক বোঝার উপায় নেই, তবে একটা মানুষের সাথে থাকতে থাকতে যখন প্রমাণ হয়েই যায় যে মানুষটা ভুল;তখনও তার কাছে থেকে যাওয়ার কোনো মানেই হয় না!

ভুল মানুষকে শত চেষ্টা করেও সঠিক মানুষে রুপান্তরিত করা যায় না কখনোই। স্বভাবে যার মিথ্যা,প্রতারণা এবং উদাসীন মনোভাব লুকিয়ে থাকে তাকে মানুষ করতে গিয়ে বরং আপনি নিজেই অমানুষে পরিণত হয়ে যাবেন;তবে তাকে আর মানুষ বানাতে পারবেন না!

শত অবহেলা,শত কষ্ট বুকে চেপে দিনের পর দিন একতরফা ত্যাগ করে যাবেন;কিন্তু যে মানুষটা নিতান্তই ভুল,সেই মানুষটা কখনোই আপনার কথা ভেবে বিন্দুমাত্র ত্যাগ  করবে না,করার কথাও না!
কেননা সে নিজেও জানে আপনার প্রতি তার আচরণ কেমন,কিন্তু তারপরও আপনি তাকে ছাড়বেন না,ছাড়তে পারবেন না।

সংসার কয়েক মাস কিংবা ১ যুগের জন্য নয়। দু'জন পাশাপাশি থেকে সকল সুখ-দুঃখ,হাসি-কান্না,অভাব-অনটন এর মধ্যে দিয়ে পরস্পরের স্যাক্রিফাইজ,সহমর্মিতা,দায়িত্ববোধ,বোঝাপড়া,ভালোবাসা-যত্ন দিয়ে আগলে রেখে আমৃত্যু পরস্পরের জীবন পার করে দেয়ার নামই সংসার!

ভুল মানুষ নিয়ে অন্তত সংসার করা যায় না!
আমি আবার বলছি;একদমই যায় না!

এদের ঠিক তাদের মতো করে ছেড়ে দিতে হয়,যেন তারা নিজেরাও ঠিক তাদের মতোই কাউকে খুঁজে নিতে পারে।তারপর দেখবেন,একদিন ঠিক আপনার জন্য আফসোস করবে।যখন দেখবে আপনার মতো করে আর কেউ একতরফা স্যাক্রিফাইজ করে না,করতে চায় না।

জীবন একটাই,আর এ জীবন কেউ রঙ্গিন করে সাজিয়ে দেবে না বরং নিজেকেই সাজাতে হবে।ভুল মানুষকে আঁকড়ে ধরে সারাজীবন মানসিক যন্ত্রণা পেয়ে তীলে তীলে মরে যাওয়ার থেকে,সঠিক সময়ে তার কাছ থেকে সরে আসাই উত্তম!জীবনকে সহজ করতে জীবন থেকে ভুল মানুষকে সরিয়ে ফেলুন,দেখবেন জীবন কত সুন্দর!

আমায় একটু ভালোবাসবে!

আমায় আমায় একটু ভালোবাসবে! একটু? 

কথা দিচ্ছি, হ্যাঁ,,  
আমি তোমাকে কখনোই হারাতে দিবো না!
চেষ্টা করবো নিজেকে শুন্য করে তোমায় সব টা দিয়ে ভালোবাসতে।

জানো তো?
আমার নিকৃষ্ট অতীত আছে,যেখানে কেউ একজন আমায় তীব্র ভাবে ভালোবেসে ছেড়ে চলে গিয়েছিল! 
আমায় ঠাকানো হয়েছে বোকার মতো। 
মানুষ হারানোর যন্ত্রণা যে আমি সেই তখন থেকেই বুঝি!
ভালোবাসা হারানোর যন্ত্রণার সাথে  আমি সেই থেকেই খুব পরিচিত। 
আমায় ভালোবাসবে একটু?
একটু ভালোবাসবে!  
বোলো! 
এই আমায় একটু ভালোবাসবে?
ঠিক সেই রকম ভালোবাসা যে ভালোবাসা বাঁচতে শেখায়,প্রবল হতাশায় বেঁচে থাকার ইচ্ছেকে কেড়ে নেয় না কখনো।

আমায় কেউ কখনোই ভালোবাসেনি!
যারা ভালোবাসবে বলেছে,তারা এখন যে যার মতো বেশ ভালো আছে।
ভালো থাকুক  সব চাতুর বর্গের গুনিজন।

আমি,,, আমি তোমায় কখনোই ঠকাবো না কথা দিলাম। বিশ্বাস করো,,,

আমায় একটু বিশ্বস্ততা দিবে?

ভন্ডদের এ যুগে যে আমি কাউকে বিশ্বাস করতে পারি না!

একটু বিশ্বস্ততা দিবে আমায়,বলো?

কেবল আমার হয়েই থাকবে তো?

 আমি...
আমি পুরো পৃথিবীকে জানিয়ে দেবো,
তুমি শুধুই আমার!

এবার একটু ভালোবাসবে আমায়?
সত্যিকারের ভালোবাসা। 

মন থেকে না হোক,অন্তত মিথ্যে করে হলেও একটু ভালোবাসবে তুমি?

বলো না...

ভালোবাসা যায় না আমায়?
একটুও বাসা যায় না?
একটু ভালোবেসে দেখো আমায়!

সবাই তো কষ্ট আর অবহেলাই দিলো,
তুমি একটু ভালোবাসা দিতে পারো না কি?

বলো...

জানো তো?
মানুষ একবার ভেঙ্গে গেলে নতুন করে কাউকে ভালোবাসতে ভয় পায়।
আর আমি,,  
আমি আজ ভয় পাচ্ছি না।
আমারও যে বেঁচে থাকা বড্ড প্রয়োজন,
আমারও যে ভালোবাসা ভীষণ দরকার।

আমিও যে ভালোবাসতে চাই,
আমিও এবার একটু ভালো থাকতে চাই।

বলো না....
আমায় ভালোবাসবে একটু?

মৃত্যুর মতো ভালোবাসা

এই যে তোমায় মৃত্যুর মতো ভালোবেসেছিলাম একজীবন!
তুমি কি আজও বেঁচে আছো;
প্রচন্ড রকম জানতে চাওয়ার ইচ্ছে আমার। 

তোমায় আমি দেখিনা বহুদিন যাবত। 
 কিন্তু মনে হয় গোটা জীবন  ধরে তুমি বিলীন আমার শহর।

আমি কি! তো অভিমানে দূরত্ব টেনেছিলাম,
আর তুমি? 
 হাতের ঘড়িখানা খুলে অপেক্ষা দেখিয়ে দিলে।

শেষ বেলায় আমার হাতে ছিলো সতেরোটা নীল পদ্ম।
তুমি তিনখান ফিরিয়ে নিয়ে বললে,বিদায় বেলায় আমায় কিছু স্মৃতি দাও,যা তে তোমায় মনে পড়লে আমি ভেসে যেতে পারি স্মৃতির জলে।

কেমন হিংসুটে আবদার করলে,আমি আজ হিসাব শিখে নিলাম।
তোমাকে দেখার ইচ্ছে মিটিয়ে নিলাম,তবুও ভুলে গেলাম না,তুমি নেই। 

সতেজ পদ্ম আজ শুকিয়ে গেলো,অপেক্ষায় চোখের চাওনি বদলে, ডায়েরির ভাজ বদলালো।

আজকাল শরীর জুড়ে নিকোটিনের গন্ধ,
পুরাতন শরীরে নতুন পোষাক  জুড়লেও,মানুষ পুরাতনই থাকে।
কিছু সম্পর্ক পুরাতনই ভালো,নতুন যেনো গোলাপের কাটার ন্যায়। 
শুধু হাত ফুটে রক্তে ভেসে যায়।

তুমি তো অভিযোগ জানতে,বলে ফেলতে পারতে,
আমায় চোখে তোমার তিক্ত বসবাস,অন্যের চোখে তুমি সুগন্ধি রজনী খুঁজো। 
আমার বেলা যে ফুরিয়ে গেলো,তোমার উঠানে আমার নামে ঘাসফুল ছেঁয়ে গেলো।

সে তো দূরত্বের রঙ,দূবা ঘাসে লাল পায়ের ছাপ।
তুমি চলে গেলে,কতো বছর  পেরিয়ে গেলো।
আমার চুলের তেলতেলে ভাব কেটে শুষ্কতা জুড়ে গেলো।
কিন্তু তোমার অভিমানে জল মিশলো না,বরং আমার চোখের জলে তোমার মৃত্যুর গল্পটা   ভিজে গেলো।

বিষাক্ত বিষাদ

*ফিকে হয়েছে কাঠ গোলাপের স্মৃতি.. 

স্মৃতির পাতা ছিড়েছে  ধুলোরঝড়ে... 


প্রিয়, কলমের বিষাক্ত ছোবলে.....  

হৃদয়ে জমেছে লেবু-কাঁটার বিষ....


হেমন্তের হিমেল হাওয়ায় হাওয়ায় 

দেখতে দেখতে এখন ছত্রিশ.. 


মৌরি ফুলের মুকুল এসেছিলো

মৌমাছিদের উৎপাতে ঝড়ে গেলো সেই ফুল..


বিষাক্ত এই বিষাদ নিয়েই

  হয়তো চলতে হবে 

আরো বছর বিশ.. আরো বছর বিশ...*



*ফিকে হয়েছে কাঠ গোলাপের স্মৃতি.. 

স্মৃতির পাতা ছিড়েছে  ধুলোরঝড়ে... 

প্রিয়, কলমের বিষাক্ত ছোবলে.....  

হৃদয়ে জমেছে কাঠ পিঁপড়ের বিষ.......

 এ ভাবেই হয়তো চলতে হবে 

আরো বছর বিশ.. আরো বছর বিশ...*


আমি

আমি খুবই অগোছালো একজন মানুষ। হ্যা নিজেকে মানুষ ভাবতে বিন্দুমাত্র সংকোচ হয় না।  আমার দৃষ্টিও তাই সীমাবদ্ধ রাখি। ততটুকুই দেখার চেষ্টা করি যতটুকু গুছিয়ে উঠতে পারব। কারো সাথে আমার গল্পটা মিলে গেলেই তার গল্প আমি খুব মন দিয়েই শুনি। আমি চাই কেউ আমার গল্পটাও মন দিয়ে শুনুক।
 কিছু বুঝে নিক। আমাকে কিছু বুঝিয়েদিক । 

আমি জানি আমি সরল সোজা একজন মানুষ। জিলাপি টাইপের মানুষ যেমন আমি না জিলাপির মত মানুষ আমার পছন্দও না। আমি বলব না আমি শুদ্ধ একজন। আমারও মুড সুইং এর মত সমস্যা আছে। আমিও রেগে গিয়ে দু চারটা কথা এদিক ওদিক বলে ফেলি। কিন্তু দিন শেষে আমি চেষ্টা করি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে। 

আমি জানি আমি কতটুকু ক্লান্ত হয়ে পরি নিজেকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে। আমি জানি আমি কতটুকু ঝড় সামলে নিয়ে হাসিমুখে দিন পার করি। 
আমি জানি একটা অন্ধকার একলা ঘরে আমি নিজেকে কতটুকু সামলাবার চেষ্টা করি। 

আমি জানি আমি আমার সাথে কত সময় পার করি। স্বার্থপরের পৃথিবীতে একমাত্র আমিই নিঃস্বার্থভাবে আমার সাথে থাকি। তবুও কখনো আমার আমাকে বলা হয় না; আমি আমাকে ভালোবাসি।  

অন্যদের অবহেলা সইতে সইতে কখন নিজের প্রতিও অবহেলা করা শুরু করেছি। হয়ত এর পরিণতি ভালো হবে না। আবার হতে পারে একদিন খুব জেদি হয়ে সব ছেড়েছুড়ে চলে যাব নিজেকে নিয়ে বাঁচতে। আমি অপেক্ষায় রইলাম আমার গল্পের শেষ দেখার। 

আমার নাম টা লিখে রেখো...



আমি সেই থেকে এই পর্যন্ত নিজেকেই চিনে উঠতে পারলাম না।  এই ভাবি আমিই ঠিক আবার কোথা থেকে সব ভাবনা এলোমেলো করে আমায় ভাসিয়ে নিয়ে যায় সেই গভীর সমুদ্রে আমি হয়ে উঠি অন্য এক নীল। 

সেখানেও খুজতে থাকি আকাশ কুসুম স্বপ্ন, দেখতে থাকি স্বাধীনতার ডানা মেলে বাতাসের বুক চিড়ে উড়ে বেড়ায় পাখিরা মেঘেদের সাথে পাল্লা দিয়ে মনে হয় আমিও যদি ওই পাখিদের সাথে উড়ে বেড়াতে পারতাম তবে বুঝি খুব ভালোই হতো।  বিনা বাধায় দেখতে পেতাম আকাশ থেকে মেঘের আড়াল থেকে এই পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য।  
সেই ভাবনাতেও জোটে এক গুচ্ছো যন্ত্রনার ছবি।
হঠাৎ যখন ঝোড়ো হাওয়ায় ঘরে ফিরতে চাওয়া পাখি পথ ভুলে যায় কিংবা ঝড়ের দাপটে অস্তিত্ব হারায় পাখিদের নীড় ও অস্থিত্ব হারায় তাদের ভালোবাসার স্বপ্ন তখন মনে হয় এই বেশ ভালো আছি।

হ্যাঁ এই বেশ ভালো আছি। 

যেমন চলছে জীবন জীবনের মতো চলুক।আর কোন চিন্তা নয়।  আমি শুধু তালে তাল মিলিয়ে যেতে পারলেই মিলবে সাফল্য। 

তবুও যে প্রশ্ন থাকে তবে কি সকলের মতো আমি কোন মর্যাদা পাবো না!   
আমি কি নাম যস খ্যাতি প্রতিপত্তি  এই সব কিছুই পাবো না? 
না!   না!  এ   এ  হতে পারে না।  
আমাকেও হতে হবে ওদের মতো। 
হতেই হবে ওদের মতো,, ওদের  কতো নামডাক,,, খ্যাতি প্রতিপত্তি।  আমাকেও হতে হবে ওদের মতোই। হ্যা  ওদের থেকে অনেক অনেক বেশি বৈকি কম নয়।  একটুও কম নয়।  

মুহূর্তে সব ম্লান হয়ে যায়। 

কি হবে যদি মানুষ না হই?

 কি হবে ও-ই সব বাহারী মোড়কে নিজের স্বত্যাকে ঢেকে নিজের অস্থিত্বের বিসর্জন দিয়ে? 

না সেই শেয়ালের গল্প নয়  না পেয়ে নিন্দা,, 
 বাস্তব সত্যি,,  জীবন টা গড়ে তুলতে হবে একদম সাধারণ থেকেও সাধারণ। 

জীবন থেকে বিসর্জন দিতে হবে প্রত্যাশা।  

হ্যা এই প্রত্যাশা কে জীবনের একদম শুরু থেকেই বিসর্জন দিতে পারলে সে খুব ভালো থাকবে।  কিন্তু সবাই তা পারে না।  আর যদি কেউ সক্ষম হয়েছে সে সত্যিই খুব সুখি মানুষ।  সে এতোটাই সুখি তার নিজের সুখের অভিজ্ঞতা পর্যন্ত ভাগ করে নেওয়ার জন্যও কাউকে খোজে না।  

জীবনে যতটুকু সম্ভব হবে এবং তার জন্য অপেক্ষা করে সময়ের অনুকূলে নিজের ও নিজের স্বজন বন্ধু সকলের পাশে থাকাই হবে একমাত্র উদ্দেশ্য।  আর এই উদ্দেশ্য হতে হবে অবশ্যই প্রত্যাশা হীন। 

হারাইয়া গেছি যন্ত্রণার বাস্তবতার মাঝে।


ওই!  কইতে পারো অহোন  তোমারে 
 দেহি না ক্যেন ?

আইজ-কাইল পাইনা ক্যেন একটু  দ্যেখতে তোমারে ?

আহাঃ কি,,  চান্দের মতো মুখ খান তোমার। 

আহাঃ!!! 

মুই তো মনে করতাম হগল- হানেই  তুমার ওই চান্দপানা মুহের আলোয় ব্যেবাক বিষণ্ণতা মোর ঘুচাইয়া যাইতো। 

 তহোন চিত্তের  ব্যথা খান ছ্যেলে না মোর।

 বুকে জমাছ্যেলে হুদাই তোমার লগে জীবন যাপনের স্বপ্ন। 

তুমি বোঝ না!  

তোমায় ছাড়া কি!!!!  শান্তিতে আছি ?

হেই কালে তুমি যহোন চোক্কের দিকে চাইয়া ব্যেবাক বুইজ্জঝা নিতা! 
 মোর চোক্কো দুইখান তখন ঝকমক করতো। 
আর আইজ সেই চক্কু যুগল   শুকায়ে গ্যেছে।

খুব যে কইতা তুমি আমার লগে লগে ব্যেবাক খানে থাকপা! 
 কই! কও দেহি!? 
  কও  তুমি আছো আমার লগে !? 
  ভালোবাসো এই পাগল মানুষ টারে? 

এতই যদি সত্যিই ভালোবাইসা   থাইকা থাহো  পাশে!!!  

কই? 
চোক্কের দিয়া আন্ধার রাইতে জল ঝড়ে ক্যান?
এই  জল মুছাইতে কেউ নাই ক্যান ?

মুই বুইঝা গ্যেছি,,, 

মুই  তো হারিয়েছি তোমারে , 
হারিয়েছি বহুদূর..........

ভীষণ এক বাস্তবতার মাঝে।
তুমি  চিন্তা কইরো না!  
আমি তোমার নামে তোমার ভালোবাসা জিন্দা রাখমু.....  সত্যিই  রাখমু.... 

তুমি  কি কইবা নাকি!   কই যহো ন যাইতেছেলাম জন্মের মতো চইলা ,,,  
তহোন  তোমারে  বলিনাই!!!!  
একটা  বার থাইকা  যাও!
তায় লে ক্যে নো এতো আকুলতা এহোন  তোমার  দেখার! 

আসলে হেই দিন তুমি আমারে এমন এক অগ্নি পরিক্ষার সম্মুখীন করছিলা! 
আমি বিধাতার কাছে সব জমা রাখছিলাম হেইদিন নিরুপায় হইয়া । 
আর তুমি নিজেই নিজের সিদ্ধান্তে অনড় আছিলা অন্যের যুক্তিতে সায় দিয়া,,, 

কি লাভ হইলো! 
হ্যাঁ  কও কি লাভ হইলো!

আমিই  তো হারাইয়া গেলাম অনেক  যন্ত্রণার  বাস্তবতার মাঝে।

"মায়া,,

মধ্যরাতে আমি প্রায়ই জানালায় বসে  থাকি। 


এই সময়টা খুব বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে যাই। সিগারেট শেষ হয়ে যায়।

ইচ্ছে হলেই শমির ভাইয়ের দোকানে গিয়ে সিগারেট নেওয়ার উপায় নেই। 
আমি একটা ঘটনার পরে খুব বেশি রাতে একা বাড়ির বাইরে পা দেই না।  
না কোন অলৌকিক বা ভৌতিক ব্যাপার না। 
ব্যাপার টা পরিচিত মহলের লোকেদের থেকেই পাওয়া।  রাত তিনটের সময়ে রাস্তায় ঘুরতে বেড়িয়ে পরতাম। এক বার এক বাল্যবন্ধু বলে ছিলো কিরে কোন ঘর থেকে বেড় হলি? তোরা অবিবাহিত ছেলে কিনা তাই জানতে চাইলাম। 
আমি অবাক হয়ে থমকে গিয়ে জীবনের শেষ কথা টা বলার জন্যই উত্তর দিয়েছিলাম। 
তোর মা, কে গিয়ে জিঞ্জেস করিস । 
তারপর থেকে আর সেই বন্ধুর সামনাসামনি দেখা করিনি। 
যাইহোক ও সব পুরোনো কাসুন্দি না ঘাটাই ভালো। 

 আকাশে পানে তাকিয়েই দেখা যায়, জলমেঘের দল ছুটছে,,  একটা দুটো তারা মায়ার দৃষ্টিতে  তাকিয়ে আছে। এই মায়ার একটা নামও আছে। 
মনে হয় আমি তাকে খুব ভালো করে জানি, খুব চেনা চেনা মনে হয়।

 সর্বনাশ! 
এই মায়া  আমার পিছু ছাড়ছেনা।
 তার সাথে আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তগুলো কেটেছিল। 
 একবার আমার বুকে মাথা রেখে ঘুমিয়েছিল 
তপ্ত দুপুরে। 
আমার ঘামে ভেজা শার্টে তার মাথার চুল আটকে যাচ্ছিল। 
হ্যাঁ  সেই মায়াবী সুন্দরীর সবই মনে আছে। 

 খুব গুছিয়ে কথা বলতে জানতো। 
 চোখে তাকালে আমার সব কথা বোবা হয়ে যেতো। 
 যখন কথা বলতো  আমার কথাগুলো তার কথায় চাপা পড়ে যেত।

 আমি বোকা হয়ে তাকে দেখতাম ঠিক যেমন এখন অন্ধকার আকাশ  দেখি।
আমরা  শিরা উপশিরায় আমি তার ভালোবাসার স্রোতের  অনুভব  পেতাম। 
মাঝেমধ্যে  মনে হতো কোন দেয়ালে আঁকা চিত্রশিল্প।
 যা পিকাসো সাহেব আমার জন্য এঁকেছে, আর কারো জন্য না।

যেদিন শেষবার আমার সামনে দাঁড়িয়েছিল। আমার কথা আটকে যাচ্ছিল মুখে।
কেন জানিনা সেদিন সেই পিকাসোর আঁকা ছবি ঝড়ের বেগে  রাস্তায় পড়ে ললিত হয়ে সব হারিয়ে আজ নীল আকাশের জ্বলজ্বল সেই মায়াবী মায়া হয়ে আমার রাত জাগা সঙ্গী। 

খুব মনে পরতাসে তোমায়...

সত্যিই কইতাছি প্রানপ্রিয়
আইজ বড্ড মনে পরতাসে তোমারে,,
খুবই হিয়ায় হারাতাছি   তোমায়..!

হয়তো জ্বানবা! ,নয়তো জ্বানবা  না! 

হয়তো বৃষ্টি দ্যেখতে ব্যাস্ত আছো,,,
 নয়তো  বৃষ্টিতে ভিজ্জা  যাওনের ভয়ে ঠাই নিবা    নিরাপদ কোনো স্থানে..! 

আমি আইজ খুব কইরা নিজের ভিজাইছি,,,
নিজের ভিজাইছি লোকচক্ষুর ভয়ে,,  কেউ যেন দ্যেখতে না পারে তোমারে মনে কইরা আইজ আমার মনের মইধ্যেও তুফান ওঠছেলো,,,


হু মুই ভালোই  জানি তোমার কিছুই করার নাই আর।
তয় কি!   আদৌ কি কিছু করার ছেলো না!

কিছুই উপায় ছেলে না  আমাগো..?

এই ভাবে দূরত্ব সৃষ্টি না কইরা ,কাছাকাছি থাকার কি নিতান্তই কোনো উপায় ছেলো না..?

পারতা  না?
বৃষ্টি  বা ভীষণ রহোম মন খারাপের দিনগুলোতে পাশে থাকতে..?
প্রচন্ড হতাশায় যখন জীবন আমার ছন্নছাড়া পারতা  না তখন আমার মাথায় হাত বুলাইয়া ,দুচোখে চোখ রাইখা  ভরসা দিতে.?

আজ বড্ড মনে পরতাছে তোমায়! 
তুমি কি শুনছো? দেখছো? 

নাকি সব  দেইখাও না দেখার ভান কইরা এড়াইয়া যাইবে আইজও..? 

যদিও এই সব কথার কোনো  মানেই হয় না। 

কারণ  আমারে ঠকাইতে তোমরা যে পরিকল্পনা  করছিলা তাতে  আমি দেখছি,, 
" তুমি নিজস্বতায় বাঁচোই না।  তোমার মইধ্যে আমি তোমারে পাই নাই। পাইছিলাম সেই তোমার  ভাবনার গিরগিটি নামের এক অন্য পুরুষ ""।


রাত্রি

একাকি মাঝেমধ্যে বসে থাকাটা প্রায় অভ্যস্ত করে ফেলেছি। 
এখন একাকী বসতে, অনেকটা সময় একাকী থাকতে ভীষণ অভ্যস্ত হয়ে উঠেছি।
এখন একাকী বসে থাকলে কিছুই আর মনে পড়ে না। 

এখনতো একাকী ইচ্ছে করেই বসে থাকি। ইচ্ছে করেই মাঝেমধ্যে কাউকে কিছু না জানিয়ে একা শহরের কোন এক সুন্দর কোনায় নিজেকে নিয়ে উপস্থিত হই। 

এই নিজেকে নিয়ে উপস্থিত হই মানেই আমি আমার আমিকে এখন নিজের কাছে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি।

আজকের সন্ধ্যে টাও ঠিক এইরকমই একটা সন্ধ্যে নিজেকে নিয়ে এসেছি সেই সুন্দর এক মনোরম পরিবেশে। 

এক কাপ চায়ের অর্ডার দিয়ে এসে বসেছিলাম একটা মাছের ভেড়ির এককোনে ।  সেখানে থেকে অনেক দুরের খোলা আকাশ দেখা যায় খুব সহজেই।  
আর আকাশের ওই রঙ পালটানোর খেলা আমায় যাদুর মতো আকৃষ্ট করে।  আমিও হারিয়ে গেলাম সেই ভালো লাগায়। 

আকাশ টা আজ অনেক কিছু শিখিয়ে গেলো। 
শিখিয়ে গেলো ঝলমলে মেঘের খেলা কি ভাবে রক্ত বর্নের আলপনা হয়ে ফুটে ওঠে।  আবার সেই রক্তে রাঙানো আকাশ টা গোধুলী নামে ঢলে পড়ে মুখ গুজে দেয় রাত্রি নামের বন্ধুর বুকে। 

রাত্রি আশ্বাস দেয় গোধুলীকে তুমি এখন আর নিজের পরিচয়ে নেই।  তুমি এখন আমাতে মিশে আমার নামেই তোমার পরিচয় হয়েছে।  তুমি এখন আমার অস্তিত্ব।  তুমিই আমার সেই ঘন অন্ধকার। 
আমি তোমাতে একটু একটু করে নিজেকে বিলিয়ে আমিও ফুরিয়ে যাবো। তখন তুমি প্রভাতী আলোর সেই আলোকে রশ্মি আর আমি প্রভাত। 

তারপর আবার সেই তুমি উজালা আর আমি দিন। 

আইজও তোমার খবর রাখি

আইচ্ছা  তুমিও কি দুপুরে খাইতে পারো না? 
খাইতে বইলেই  আমার কথা মনে হয়?
তারপর আর ইচ্ছা থাহে না খাওনের,,,
মা,য় মাঝেমইদ্ধে জিগায় কিরে খাইলি না কেন?  
মিছা কথা কইতে হয়।  
রাস্তায় খাবার খাইছি অহোন ক্ষুদা নাই। 

 সন্ধ্যায় কি তুমিও মোর  শূন্যতা  অনুভব করো?
আমিতো তোমার অস্তিত্ব তালাশ করতে করতে সেই আমাগো নদির পাড়ে গিয়া একা একা এখনো বইসা থাকি,, দেখি স্রোতে ভাসাইয়া নিয়া যায় কতো পানা কচুরির দল, ,,  মাঝেমইদ্ধে দুই একটা পানাকচুরিতে ফুল থাকে। 
তুমি বিশ্বাস করবা না নির্বাক হইয়া দেখি ওই ফুলের ভাইসা যাওয়া।  
তুমি কতো ভালোবাসতা কচুরিপানা ফুল..
যখন অন্ধকার ঘনাইয়া আর কিছু দেখা যায়না গাঙে ফিরা আসি এক বুক হতাশা নিয়া..। 

 রাইতে ঘুম হয় তোমার? 
রাইত দুইটা আড়াই টায় ভিষণ ভাবে কান্না পায় তোমারও?
 তুমিও কি রাইত জাইগা  থাকো?
 তুমিও কি আমার মতো ভেতর ভেতরে শেষ হয়ে যাচ্ছো?
 বলো না! প্রিয়! 

কিছু বেইমান মানুষ কে  আমরা ভালোবাসি।
 কিন্তু মানুষটা বেইমান হতে পারে ভালোবাসাটা তো আর বেইমান নয় 💔
কত্ত কিছু ধইরা রাখার চেষ্টা করতেছি, অবিরাম চালায়ে যাচ্ছি সেই যুদ্ধ এই যেমন.. 
তোমার মন,....আমার রাতের ঘুম....,

আচ্ছা!  তুমি চাও আমি সারাদিন রাত তোমার নামে পইড়া  থাকি,।
 কয়েকশো কোটিবার তোমায় স্মরণ করি।
 আমি করিও, সর্বক্ষণ তোমায় মায়ায় বুদ হইয়া পাগল সাইজা ঘুইরা বেড়াই। 
হিসাবনিকাশ ভুইলা অন্ধকারের সাথে পথ পাড় হই মাঝেমধ্যে। 
 ঘুমের কাছে ভুলের জবাবদিহিতা করতে হয়।
তুমি অনুরোধ দূরে ঠেইলা নিজেরে আকাশ সমান পাখি বানাও।
 আমি ডানাভাঙা শালিক দেইখা  কাতরায়ে উঠি।
 আমি কি তোমারে  ঘিরেই ঘুরপাক খাইতাচ্ছি...?
প্রিয়!
আমার মনের কোঠায়  তেলের প্রদীপ,
সেই আলোতে কাজল আঁকি, 
ছিন্ন হইবার পরেও আমি,
আইজও তোমার খবর রাখি...
কারণে আর অকারণে
 অখোনো  সেই নামেই ডাকি      প্রিয়!!!

এহন আর তোমার জইন্য বাঁচি না প্রিয়,,

হৃদয় খান জুইড়া  শুধু তোমারে  রাখার পরেও পাইলাম না!  
নাঃ পাইলাম না।
পাইলাম শুধু তোমার এক অনিশ্রিত ঘৃণ্ণা , অবহেলা, অপমান। 
এই বুঝি কপালে ছিলো! 

তারপরেও বার বার ফিরা  আইছিলাম এই আমি তোমারই ধারেই।।
কি বোকা ছিলাম।  আশায় ছিলাম যদি বিন্দু বিন্দু ভালোবাসা পাই। আমি তাই দিয়াই বানাইয়া লমু তোমার আমার সিন্ধু... 

 আগের এই মুই  কি অদ্ভুত ছিলাম! 
তাইনা? 
তবে চালাকির কাছে খোয়াইয়া ফেলছো হেই অদ্ভুত বোকা মানুষ টারে। 
তুমি হারাইয়া  ফেলছো হে ই আগের আমিটারে।

 আগের  আমি তোমার অবহেলা, অপমান দিব্যি সহ্য কইরা  যাইতাম। 
তাও হেই  বার বার তোমার দ্বারেই ফিরে যাইতাম।
 আর তুমি বার বার তাড়াইয়া  দিতে আমায় তোমার দুয়ার থেকে। 

তোমার করা অপমানে মাথা নিচু কইরা  আমার চোখের জল গুলো খুব বেশি উপভোগ করতে তুমি। 
যত বার তোমার কাছে ছুটে গেছি ততবারই উপহার হিসেবে পাইছি চোক্কের জল।  
মাঝে মাঝে অস্পষ্ট সুরে বলছি ''আহা, আমায় একটু ভালোবাসলে কি এমন হইতো '' !! 
সত্যিই তো!  কইতে পারো কি এমন হইতো যদি সত্যিই একটু ভালোবাসা দিতা? 

আর এখন কার আমি, 

তোমায় ছাড়াই চলতে শিখে গেছি। 
এখন আর বার বার তোমার কাছে ছুটে যাইনা।
তোমার কাছাকাছি গেলেও তোমায় দেখার জন্য মন চায় না এখন আর।
 বার বার ভালোবাসার দাবি নিয়া  তোমার দুয়ারে পা রাখি না। 
এখন আর মুখ বুঝে তোমার করা অপমান, অবহেলা সহ্য করার প্রশ্নই আসে না।  

এহন আর তোমার জইন্য বাঁচি না প্রিয়,,

এহন শুধু নিজের জইন্যই বাঁচি।। 

হ্যাঁ,আমি বাঁচতে শিখে গেছি। 
তোমার অবহেলা অপমান আমায় বাঁচতে শিখায়ে দিছে। 
তবে এতো কিছুর পরেও তোমায় না পাওয়ার শূন্যতা বুকের বাঁ দিক্র  তিব্র ভাবে জানান দেয় !! 

তোমার দুয়ারে না গেলেও প্রতিনিয়ত অপেক্ষা করি কবে আমার দুয়ারে কড়া নাড়াবে তুমি ।। 

ভাবি এই বুঝি আসলে তবে,কিন্তু সবই যে কল্পনা !! 

তবুও তোমায় নিয়ে ভাবতে আমার ভালো লাগে, 

আইজ অব্দি আমার চোখের ভাষা বুঝলে না তুমি।
 হয়তো বুঝবাও না। 
আচ্ছা,একটু ভালোবাসলে কি খুব বেশি ক্ষতি হইয়া যাইত..? 
ভালোবাসা তো অপরাধ না, ভালোবাসা তো ফুল 
ভালোবাসা তো ঠিক ফুলের নাহান  পবিত্র ।। 
ভালোবাসা তো সুন্দর, অনেক সুন্দর ~~
তুমি কি তা বুঝো না প্রিয় !!

চুপ থাকতে শিখতে হবে...

কেউ যন্ত্রণা দিচ্ছে ? 
                     চু হয়ে যান। 

কেউ অনেক ভালবাসার পরও প্রাপ্যটা দেয়নি ? 
                         চুপ হয়ে যান। 

কোন মানুষ অনেক অপ'মান করছে?
                        চুপ হয়ে যান। 

কেউ ঠকিয়ে গেছে ? 
                        চুপ হয়ে যান। 

কেউ আপনাকে নিয়ে তুমুল মি'থ্যা দোষা'রোপ করছে ? 
                     চুপ হয়ে যান। 

কেউ বিশ্বাস ঘা'ত'ক'তা করছে ?
                  চুপ হয়ে যান।

এমন নিরব হয়ে যান সে মানুষগুলো যেনো আর কখনই আপনার শব্দ কিংবা ছায়া না দেখে । মৃ'ত হয়ে যান তাদের কাছে। 
প্রতিজ্ঞা করুন আর কখনই ঘুরে তাকাবেন না । শুধু এই প্রতিজ্ঞাটা করতে পারলে আপনি কষ্ট পাবেন না । এই যে নিরবতা আপনাকে দম বন্ধ করা আ'র্ত'নাদ দিবে কিন্তু অপর পক্ষকে দিবে আফসোস । আসলে আমরা হারাবার ভয়ে শব্দ দিয়ে প্রতিবাদ করি ।
কিন্তু আপনি জানেন কি ? যে মানুষগুলো আপনাকে মানুষ বলে মূল্যায়ন করেনি , আপনাকে দম'বন্ধ কান্নার অনুভূতি দিয়েছে তারা আপনার কেউ না । তাই শব্দ দিয়ে , কান্না দিয়ে দুনিয়ার সমস্ত প্রায়োরিটি দিলেও ওরা আপনার মূল্য বুঝবে না । 

তাই নিজের স্বার্থে বাঁচুন 
নিজেকে ভালোবাসুন,,
আপনার ভগবান  আছেন.!
শেষ বিচারের হাইকোর্টে  গিয়ে বলে দিন সব অভিযোগ ,,
তিনি দুঃখ মোছার উপশম বিলি করেন..!!

রাধে রাধে 🙏🙏🙏

অন্ধকার রাইত

হেইকালে তোমারে যদি এক্কারে নিজের কইরা পাইতাম!  
হয়তো  মোর  চাওয়া পাওয়ার হিসেবের খাতা খান  ধুলা জমা হইতো। 
 কারণ তোমারে  পাইলে আমার আর কিছু চাওয়ার থাকতো না -- 
অথচ, এই তোমারে  কিছুতেই পাওয়া হইলো না, 
তুমিও  আমার হইলা না !! 

আমিও অনেক বার চেষ্টা কইরাও ফলাফল কিছুই পাইনাই। 

এই যে এই   অন্ধকার রাইত,,  আর নির্ঘুম আমি। 

আসলে তুমি যখন আমারে ছাইড়া যাওয়ার কথা ভাবতেছিলা।
তার অনেক আগেই তুমি আমারে ছাইড়া চইলা গেছিলা।
আমি নিজেরে মিথ্যা বুঝাইয়া তোমারে আমার কাছে রাখছিলাম বোকার মতো। 
আমি জানতাম তুমি থাকবার নয়।
এতো যত্নে যে ভালোবাসা গড়েছিলাম তার শেষ হবে, তাই'ই হলো।

আমি শুকনো পাতার মতো পড়ে রইলাম।
তুমি হাসলে,,, রঙ্গমঞ্চে,,,  বিচ্ছেদ উপন্যাসের একটা বিষাদময় সমাপ্তি করলে।
আমি হারলাম,কাঁদলাম, বেঁচে ফিরলাম, তবু তোমায় ভালোবেসে গেলাম...
এখনো কেন জানিনা মন কাঁদে তোমার জন্য। 

অভাব কাকে বলে!

শোনেন অভাব কাকে বলে ? 

অর্থনীতি ক্লাসে বয়স্ক একজন স্যার, রুমে ঢুকেই সামনে বসা ছেলেটিকে প্রশ্ন করলেন, 
বলো তো, অভাব কাকে বলে ?

-'অর্থনীতিতে বস্তুগত বা অবস্তুগত কোনো দ্রব্য পাওয়ার আকাঙ্খাকে 'অভাব' বলে।' 
ছেলেটি উত্তর দিল।

-এটা তো অর্থনীতির ভাষা, 
সাধারণ ভাবে অভাব কাকে বলে ? অর্থাৎ 'অভাব' বলতে তুমি ঠিক কি বোঝ ?

ছেলেটি মাথা নিচু করে বেঞ্চের দিকে তাকিয়ে আছে। 
কি বলবে ভাবছে সে।
স্যার আবার তাড়া দিলেন 
'বল' ...

ছেলেটি এবার বলতে শুরু করল।

১। আমি কলেজে আসার সময় মা আমাকে ভাড়া দিতে গিয়ে তার ব্যাগ তন্ন তন্ন করে খুঁজে অনেক কষ্টে ২০/৩০ টাকা বের করে দেন, 
আর আমি বাড়ি থেকে বের হয়ে ৫/৭ মিনিট পর বাড়িতে ফিরে ভাড়ার টাকাটা মাকে দিয়ে বলি, মা! আজ কলেজে ক্লাস হবে না। 
মা তখন বলেন, আগে খবর নিবি না ক্লাস হবে কিনা ? 
মায়ের সাথে এই লুকোচুরি হচ্ছে 'অভাব'।

২। বাবা যখন রাত করে বাড়ি আসেন মা তখন বাবাকে জিজ্ঞেস করেন এত রাত হলো কেন ফিরতে ? 
বাবা বলেন, 'ওভারটাইম' ছিল। 
'ওভারটাইম' না করলে সংসার কিভাবে চলবে ? বাবার এই অতিরিক্ত পরিশ্রম হচ্ছে আমার কাছে 'অভাব'।

৩। ছোট বোন মাস শেষে প্রাইভেট টিচারের টাকা বাবার কাছে চাইতে যখন সংকোচবোধ করে সেটাই 'অভাব'।

৪। মাকে যখন দেখি ছেঁড়া কাপড়ে সেলাই দিতে দিতে বলে কাপড়টা অনেক ভাল আরো কিছুদিন পরা যাবে এটাই 'অভাব'।

৫। বন্ধুদের দামী স্মার্টফোনের ভিড়ে নিজের নর্মাল ফোন লজ্জায় যখন লুকিয়ে রাখি এই লজ্জাই আমার কাছে 'অভাব'।

৬। অভাবী হওয়ায় কাছের মানুষগুলো যখন আস্তে আস্তে দূরে সরে যায়,এই দূরে সরে পড়াটাই আমার কাছে 'অভাব'। ....

পুরো ক্লাসের সবাই দাঁড়িয়ে গেল! 
অনেকের চোখে জল! 

স্যার ও চোখের জল মুছতে মুছতে ছেলেটিকে কাছে টেনে নিলেন।

বস্তুতঃ আমাদের সহপাঠীদের মধ্যে এমন অনেকেই আছে, 
যারা কয়েক মাস অপেক্ষা করেও বাড়ি থেকে সামান্য টাকা পায় না। 
সব দুঃখ-কষ্টকে আড়াল করে হাসিমুখে দিনের পর দিন পার করে দেয় খেয়ে না খেয়ে!
তাদের হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকা কষ্ট টুকু বুঝার সুযোগ হয়তো আমাদের হয়ে ওঠে না!

এটাই বাস্তব! 

নীলি! !

কি অতো ভাবতাসো সেই থিকা কইবা! 
নীলি? 
কও কইয়া ফালাও।  
কথা লুকাইয়া রাখতে নাই।
 কথা হারাইয়া যায়।  
কথা লুকাইলে কথার বিষে দিলের ভেতর পীড়া হয়। 
যাইহোউক এখন কও দেখি কি অমন ভাবতেছে হেই থিকা? 
তুমি কি ভোরের সেই স্বপ্ন নিয়া কিছু কইতে চাও? 
দেখো বাপু আমি অতো চুপ চাপ থাকতে পারি না।
ও নীলি কও,,  কও আমি কথা দিতাছি আইজ তোমার কথা মন দিয়া সুনমু, 
কও নীলি!  
জানো নীলি,, 
আমারও মাঝে মাঝে খুব ইচ্ছে হয়  তোমার মাঝে নিজের এক আকাশ বিশলতা ছড়াইয়া দেই,
যাতে তুমি দূরত্ব কি তা বুঝো। 
তুমিও একটু বুজতে  বিচ্ছেদ কেমন অভিশাপ। 

 সেই সব দিনে যখন তোমার মেসেজ এর পর মেসেজ দিয়েও যখন কোনো রিপ্লাই পাওনি তখন ভেবেই নিয়েছিলে অন্য কারো উপন্যাসের পাতায় নিজেরে সাজাচ্ছি,,,  কি তাই না!
আমায় প্রশ্নের বদলে সন্দেহের কাতারে রাখছিলা আমারে । 
তোমার অভিমান এবং সন্দেহের প্রান্তর এতো বেশি ছিলো, যে সেদিন ওই রাস্তা পার করতে অক্ষম হয়েছো !! 
তোমার আর কি। 
আমি মুক্তি পাই নাই। 

সামনে থিকা তোমারে যখন যখন  দেখতাম! 
 এখন তুমি সামনে নাই তাও কেন জানি না আরো বেশি দেখি তোমারে।
, তখনতো  তুমি ভেবে নিয়েছিলে অন্য কারো আকাশে উড়ছি আমি। 
বিশ্বাসের  বদলে দিয়েগেলে তোমার এক অভিমানী দীর্ঘশ্বাস। 

চার রাস্তার মোড়ে আমায় অপমান করে   পিছু ফিরে চলে গিয়েছিলে।  
পেছন ফিরে একবার দেখোনি এক কপাটে অশ্রুসিক্ত নয়ন তোমার চলে যাওয়ার পানে চেয়ে আছে।। 

আমার দরজায় কড়া নাড়ার পরেও কি  আমার কোনো অস্তিত্ব পাওনাই ?
তখন তুমি ভাবলা  কি কইরা  তোমারে  চাইনাই আমি। 
অথচ দরজার ওপাশে কি চলতাছে তা জানার চেষ্টাও করোনাই তুমি। 
হ্যাঁ  আমি স্বীকার করি আমি চেষ্টা করছিলাম  নতুন কইরা একটা মানুষ পাইতে।  
আমি তারে তোমার কথা প্রথমেই কইছি।
আমিতো তোমারে ভুলি নাই। 

অন্য কারো হাতে যখন হাত রাখছিলাম সেই হাতের মাঝেও তোমার স্পর্শ  সন্ধানে ছিলাম।
তুমি বুঝওনি বা আমি বুঝতেও দেইনি। 

তুমি একদিনের জন্য আমি হইতে চাইতাছো?
 আচ্ছা আমার ভিতরে গিয়া  নিজেরে  সামলাইতে পারবা তো..? 
কারণ আমার পুরো ''আমি'' এর  মাঝে তোমার অস্তিত্ব যা তুমি কখনো খুঁজতে চাওনাই। 

তাই তোমার  করা প্রশ্নের উত্তর গুলা  আমি নিদ্রাহীন রাতের আকাশে উড়াইয়া  দিছিলাম। 
যদি কখনো উড়তে উড়তে তোমার জানালায় গিয়ে পরে তবে নিজেকে আফসোসের কাড়ায় দাঁড় করিও না। 
আমার আমি না হয় আমার মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকি,তুমি ভালো থেকো। 

দেখছো,, আমি বক্তৃতা দিতে শুরু করলে সেই বক্তৃতা আর থামতেই চায় না। 

আর তুমিও দেখো সেই থিকা  চুপচাপ কইরা শুনতে কথাগুলো। 

আমি সকালে ঘুম থিকা উইঠাই কথা গুলা মাইয়াডারে জানাইয়া দিছি। 
কিন্তু সব কিচ্ছু কইনাই।  
শুধু কইছি একটা বাচ্চার কথা। 

জানো মৌরি ঘুম থিকা ঊইঠাই ফোন করছে। 
কয় আর কি দেখছি সব কইতে। 
আমি সবটা কই নাই। 

আচ্ছা নীলি!  তুমিও কি তাই চাও? না আমিও খুশি হমু খুব খুশি হমু,,,  তবে কি জানো ও কিন্তু  একটা ছেলে চায়। ও সব সময় কয় আমার একটা ছেলে হইলে আমি ওরে তোমার নামে ডাকবো।

আচ্ছা তুমি কি সত্যিই চাও! ওর কাছে যেতে? 
মেয়ে টা আজকের দিনে দাড়াইয়া একদিকে সংসার আরেক দিকে আমি।
  না এই দিক টা কিছুই না এর মধ্যে শুধুই এক গভীর বিশ্বাস। 

ও নীলি !!!!      নীলি  !!!    !        !        !  

আচ্ছা আমি কি কমু,, সব টা।  


সাধু সঙ্গ সাধু সঙ্গ সর্বশাস্ত্রে কয়

এক ভোমরা ঘুরতে ঘুরতে দেখতে পেল তার নিজের মত অন্য একটি পোকা মাটিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। 
ভোমরা এসে বলল- ভাই তোমার এত দুর্দশা কেন? 
গোবরের পোকা বলল- কেন ভাই, আমার তো কোনো দুঃখ নাই। আমার বাসা এখানেই আছে। 
তুমি দয়া করে আমার বাড়ী এসো।
ভোমরা আস্তে আস্তে গোবরের পোকার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করল। তুমি কোথায় থাক ভাই! 
গোবরের পোকা বলল- আমি এই গোবরের গর্তের মধ্যে থাকি এবং গোবরের রস খাই। 
ভোমরা হো হো করে হেসে উঠল। বলল-ভাই তুমি আমার স্বজাতি হয়ে এত বোকা? 
তোমার দুঃখ তুমি কিছুই বুঝতে পারছ না? 
আমি কি করি জান? আমি সব ফুলের মধু খাই এবং গুন গুন করে গান গাই। 
সকলে আমার কত প্রশংসা করে।
আমি এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পরিব্রাজকের মতো ঘুরে বেড়াই। 
তোমার দুঃখ-কষ্ট তুমি কিছুই বুঝতে পারছ না। 
তুমি আমার সঙ্গে চল, তোমায় ফুলের মধু খাওয়াব। 
আমি তোমার দুঃখ সহ্য করতে পারছি না।” 

গোবরের পোকা বলল- ভাই, আমি তোমার মতো উড়তে পারব না। কেমন করে যাব? 
ভোমরা বলল- তুমি আমার পিঠে ওঠ। আমি তোমায় বয়ে নিয়ে যাব। গোবরের পোকাকে এক কুমুদ পুষ্পে বসিয়ে দিয়ে বলল-“ভাই, যেমন করে তুমি গোবরের রস পান কর, ঠিক সেইভাবেই এই ফুলের মধু পান কর। আমি কয়েকটি ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে আসি।” 
এদিকে প্রভাত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কুমুদ পুষ্প সঙ্কুচিত হয়ে যাওয়ার ফলে গোবরের পোকা তার মধ্যে আবদ্ধ হয়ে পড়ে রইল। ভোমরা বন্ধুকে খুঁজে পেল না।
এদিকে গ্রামের এক বালক শিব পূজার জন্য ফুল তুলতে এসে গোবরের পোকা সহ ফুলটা তুলে নিল। 
পূজারী অগুরু চন্দন ও কর্পূর মিশ্রিত গন্ধের সহিত পুষ্প মিশ্রিত করে শিবমন্ত্রে অর্পণ করলেন। 
ক্রমানুসারে যে ফুলের মধ্যে গোবরের পোকাটি আছে, সেটিও “ইদম্ সগন্ধং পুষ্পং ওঁ নমো শিবায় নমঃ। শিবমন্ত্রে অর্পণ করলেন। 
পরদিন প্রাতঃকালে সেই সমস্ত ফুল গঙ্গায় ভাসিয়ে দিয়ে নতুন ফুল তুলতে গেল বালকটি। গঙ্গার স্রোতে ফুলগুলি ভাসতে ভাসতে চলল। গঙ্গার জলের স্পর্শ পেয়ে মহানন্দে পোকা বলতে লাগল-“আহা! আহা! আমার জন্ম এক গোবরের স্তুপের মধ্যে। আমি পূর্বার্জিত কোন সৌভাগ্যের ফলে এমন একজন সাধুর সঙ্গ লাভ করলাম, যার ফলে আমার পূর্বপুরুষ কেউ যা পাননি, সেই বৈষ্ণবপ্রবর মহাদেবের চরণে অর্পিত হলাম। 
তারপর ব্রহ্মারও দুর্লভ বস্তু যে ভগবৎ পাদপদ্ম থেকে প্রবাহিত গঙ্গা তা প্রাপ্ত হওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে, শুধু সেই সৎ বন্ধুর কৃপা বলে। 
জন্ম যখন হয়েছে তখন মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী। 
আমার এই মৃত্যু, উর্ধ্বগামী মৃত্যু। 
কেননা সাধুসঙ্গের প্রভাবে ভগবৎ পাদপদ্মে যাওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছি। 
তাই শাস্ত্র বলেন-
                   “সাধু সঙ্গ সাধু সঙ্গ সর্বশাস্ত্রে কয়
                    লব মাত্র সাধুসঙ্গে সর্বসিদ্ধি হয়।”
অর্থাৎ -
আমারা এই দুর্লভ নর দেহ লাভ করে যদি সাধুসঙ্গ না করি তাহলে আমাদের জীবন বৃথা। 
শাস্ত্র বলেন-
                        “সাধুসঙ্গে কৃষ্ণনাম এইমাত্র চাই।
                      সংসার জিনিতে আর কোন বস্তু নাই।
                        সাধুসঙ্গে কৃষ্ণভক্তে শ্রদ্ধা যদি হয়।
                    ভক্তির ফল প্রেম হয় সংসার যায় ক্ষয়।”

                             ভারতের সাধক ও সাধিকা
🌺🙏🌺🙏🌺🙏🌺🙏🌺🙏🌺🙏🌺🙏🌺

প্রাপ্তির শেষ কোথায়?

প্রাপ্তির শেষ কোথায়?

⛔বিবাহিত? 
সংসারে অশান্তি। মনে করেন বিচ্ছেদ দিয়ে সব মিটমাট করে ফেলতে। ইচ্ছে  ইচ্ছেতেই ইচ্ছের মতো থাকে। 

⛔অবিবাহিত? 
সারাক্ষণ বিয়ের ভাবনায় দিন কাটে। সঙ্গীকে পাওয়ার স্বপ্নে বিভোর! 

⛔ধনী?
একটু শান্তি আর সুখের খোঁজ কোথা থেকে পাওয়া যায়, তা ভাবতে ভাবতে বিষন্নতায় ডুবে থাকা!

⛔গরীব?
আরও বেশি অর্থ উপার্জনের পথ খুঁজে ফেরা!

⛔শিশু?
কবে যে বড় হবো? সবাই ছোট-ছোট বলে!

⛔প্রাপ্তবয়স্ক? 
ইশ্! সেই শৈশবটাকে যদি আবার ফিরে পেতাম!

⛔সন্তানপ্রাপ্ত?
এইগুলোর যন্ত্রণায় জীবনটা শেষ হয়ে গেল। একটাও মানুষ হলো না। যাদের সন্তান নেই তারাই ভালো আছে!

⛔নিঃসন্তান?
ভগবান , পৃথিবীর যেকোন কিছুর বিনিময়ে আমাকে সন্তান দাও!

⛔চাকুরীজীবি?
দিনভর এত খাটুনি আর ভালো লাগে না!

⛔বেকার?
কবে যে একটা চাকুরী হবে!

⛔সেলিব্রেটি? 
মুখ লুকাতে ব্যস্ত!

⛔সাধারণ ব্যাক্তি? 
সেলিব্রেটি হওয়ার স্বপ্নে বিভোর!

✔️এই জগতে একমাত্র মৃত্যু ছাড়া মানুষের এই অসীম ইচ্ছা, চাহিদা আর অপূর্ণতাকে দমানোর কোনো শক্তি নেই।

কাজেই আসুন, যে যেই অবস্থানে আছি ভগবান কে স্মরণ করে প্রার্থনা করি  সেখান থেকেই নিজের মনের সর্বোচ্চ প্রশান্তিটা খুঁজে নেয়ার চেষ্টা করি।
🤍🤍রাধে 💙💙রাধে❤️❤️

নতুন পরিচয়

প্রিয়,, 
তোমার জন্য কত কি'ই না করলাম!

 সারা রাইত না ঘুমাইয়া সকালবেলা তোমারে খোজতে গেলাম।

তুমি লুকাইয়া রইলা! 
 আমি তোমার পাশে  আশ্রয় খুজতেছিলাম।

 আর তুমি আমারে দেউলিয়া বানাইয়া দেলা!

 আশ্রয়শূন্য মানুষ'রে বোঝা যতোটা সহজ,

আশ্রয় দিয়ে বাঁচানো হয়তো তার থেইকা একটু কঠিন।

 তোমার আশ্রয় চাই না আর।
বাঁচতে চাই নতুন পরিচয়..

                                            মূ র্খ রাখাল নীল

রাখিবন্ধনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মহাভারতের কৃষ্ণ ও যমুনার কাহিনি

বাঙালির রাখিবন্ধন দিবস পালন করা উচিত ১৬ই অক্টোবরে। ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে লর্ড কার্জন বাংলাকে ভাগ করেন। তাই প্রতিবাদ স্বরূপ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সেইদিনেই বাংলা ব্যাপী সমস্ত বাঙালিকে এক সুতোয় বাঁধার জন্য রাখিবন্ধনের ডাক দেন।
রবীন্দ্রনাথের এই রাখিবন্ধন কোনভাবেই ‘বোন ভাইকে রাখি বাঁধবে আর ভাই তার সুরক্ষার ভার নেবে’ জাতীয় পুরুষতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে ছিল না। বরং তা ছিল সর্বব্যাপী। যে কেউ, যে কাউকে রাখি বাঁধতে পারে। মূলত বিশ্বমানবতাই ছিল রবীন্দ্রনাথের এই রাখিবন্ধনের ভিত্তি।
ঠিক এজন্যই রবীন্দ্রনাথ তাঁর প্রেম পর্যায়ের গান ‘ ভালবেসে সখী নিভৃত যতনে’তে লিখছেন –
“ধরিয়া রাখিয়ো সোহাগে আদরে আমার মুখর পাখি-- তোমার প্রাসাদপ্রাঙ্গণে॥
মনে ক’রে সখী, বাঁধিয়া রাখিয়ো আমার হাতের রাখী-- তোমার কনককঙ্কণে॥
ভারতের সংস্কৃতি হল বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য। এই দেশে বিভিন্ন উৎসব সাড়ম্বরে পালিত হয়। এক একটি মরসুমে এক-একটি উৎসব ঘিরে তৈরি হয় অনিবার্য মাদকতা। যা আরও রঙিন করে তোলে সংস্কৃতিকে। ভারতের সংস্কৃতির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত রয়েছে নানা মহাকাব্যে বর্ণিত অগণিত ঘটনা। রাখি উৎসবও তার ব্যতিক্রম নয়।
কৃষ্ণ ও দ্রৌপদী

মহাভারতের কাহিনি থেকে জানা যায়, একটি যুদ্ধের সময় শ্রীকৃষ্ণের হাতের কবজিতে আঘাত লাগে। সেই ক্ষত থেকে রক্তপাত হতে শুরু হয়। তা দেখতে পেয়ে দ্রৌপদী নিজের শাড়ির আঁচল ছিঁড়ে কৃষ্ণের হাতে বেঁধে দেন। তার পর থেকেই শ্রীকৃষ্ণ দ্রৌপদীকে নিজের বোন সখী হিসাবে মানতে শুরু করেন। এই উপকারের প্রতিদান দেওয়ারও অঙ্গীকার করেন কৃষ্ণ। এর পর পাশা খেলায় পাণ্ডবরা সর্বস্ব খুইয়ে যখন দ্রৌপদীকে কৌরবদের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হয়, দ্রৌপদীর চরম বিপদ এসে পড়ে। দুঃশাসন তাঁর বস্ত্রহরণ করতে গেলে দ্রৌপদী শ্রীকৃষ্ণকে প্রাণ ভরে স্মরণ করেন। দ্রৌপদীর সম্মানরক্ষা করে সেই শ্রীকৃষ্ণ সেই প্রতিদান দেন। সেই সময় থেকে এই ভাবেই রাখিবন্ধন উৎসবের প্রচলন হয়।

যমুনা ও যম

পুরাণ কথা অনুযায়ী, এক বার যমুনা নদী যমরাজকে রাখি পরিয়েছিলেন। তাতে খুশি হয়েছিলেন যমরাজ। তিনি যমুনা নদীকে অমরত্বের আশীর্বাদ দেন। তার পর থেকেই এটাই প্রচলিত বিশ্বাস যে, যদি কোনো বোন বা দিদি ভাই বা দাদার হাতে রাখি বাঁধে তা হলে সে অমরত্ব প্রাপ্ত হবে।


পুরাণে রাখি বন্ধন

রাখি বন্ধনের প্রচলন নিয়ে ভবিষ্যপুরাণে একটি আগ্রহজনক গল্পের কথা বলা আছে। সত্যযুগে বৃতাসুর নামে এক অসুর ছিল। দেবতাদের যুদ্ধে পরাজিত করে এই অসুর স্বর্গলোক দখল করে। বৃতাসুর বর পেয়েছিল যে কোনও অস্ত্রে তাকে ঘায়েল করা যাবে না। সেই কারণে বারবার চেষ্টা করেও দেবরাজ ইন্দ্র তাকে হারাতে পারেননি। তখন মহর্ষি দধিচি দেবতাদের জন্য নিজের শরীর দান করেন এবং তাঁর হাড় দিয়ে তৈরি হয় ইন্দ্রের অস্ত্র বজ্র।

বৃতাসুরের সঙ্গে যুদ্ধে যাওয়ার আগে ইন্দ্র তাঁর গুরু বৃহস্পতির কাছে যান। বৃহস্পতিকে তিনি বলেন যে এই শেষবার তিনি বৃতাসুরের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হতে চলেছেন। এই যুদ্ধে হয় তাঁর জয় হবে, নয়তো পরাজয়। এই কথা শুনে ইন্দ্রের সুরক্ষা নিয়ে অত্যন্ত ভীত হয়ে পড়েন ইন্দ্রাণী সচী। তিনি তাঁর সমস্ত সাধনার শক্তি একত্রিত করে একটি বিশেষ রক্ষাসূত্র তৈরি করেন। ইন্দ্রের সুরক্ষা কামনা করে এই সুতো তিনি দেবরাজের কবজিতে বেঁধে দেন। সেদিন ছিল শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমা। এই যুদ্ধে বৃতাসুরকে হত্যা করে জয়ী হয়ে ফিরে আসেন দেবরাজ ইন্দ্র।


ভজে ব্রজৈকমণ্ডন্ম

ভজে ব্রজৈকমণ্ডনম (কৃষ্ণাষ্টকম) [ 1 ] ১. ভজে ব্রজৈক-মণ্ডলং সমস্ত-পাপ-খণ্ডনং স্বভক্ত-চিত্ত-রঞ্জনং সদৈব নন্দ-নন্দনম । সুপিক্চ্ছ-গুচ্ছ-মস্তকং স...