ভালোবাসা অন্তহীন


সত্যিকারের ভালোবাসার গভীরতা পরিমাপ করা যায় না, 
দেখা যায় না, ছোঁয়া যায় না..।।
শুধু অনুভব করতে হয়; হৃ'দয় দিয়ে অনুভব...!! 

যার প্রখ'রতা এতো বেশি যে হৃ'দয় ক্ষা'ন্ত হয়, 
শান্ত হয়, তৃ'প্তি পায়..।। 
আহাঃ
নতুন করে বাঁচতে ইচ্ছে করে, 

ভালোবাসতে ইচ্ছে করে...!! 
আবার! 


আবার স্বাদ পেতে ইচ্ছে করে সেই অমৃতের!! 

আহাঃ!   আহা!    আহাঃ

নিজের মধ্যে জেগে ওঠে  নতুন এক স্ব'ত্বা।
 যে স্ব'ত্বা ভালোবাসায় পূর্ণ গোটা একটা সাম্রাজ্য  আবি'ষ্কার করে..!! 

যেমন ,  প্রিয় "কাঠগোলা ”,,,,,

যে সাম্রাজ্য  জুড়ে খুঁজে পায় প্রিয় মানুষটাকে, 
যাকে সে সারাজীবন নিজের করে রাখতে চায়, ভালোবাসতে চায়,
আঁক'ড়ে ধরে বাঁচতে চায়..!!

নিজের চারপাশে যার অস্তি'ত্ব কল্পনা করে 
নিজেকে বি'লীন করে দেয়...।। 

এ যেন এক অদ্ভু'ত রকমের ভালো লাগা, 
যে ভালো লাগা প্রতিনিয়ত নতুন করে ভালোবাসতে শেখায়।
আনমনে হাসতে শেখায়, পাখিদের মতো উড়তে শেখায়, বাচ্চাদের মতো চ'ঞ্চল হতে শেখায়..!! 
আমার মতো উন্মাদ হতেও শেখায়,, 

শেখায় সর্বত্যাগী হয়ে,,, ভবঘুরে হয়ে ঘোরে ওরা,, 
শেখায় " "! মুখোশের আড়ালে হাসি কান্নার লুকোচুরি। 
শেখায় যতুগৃহে শীতল বাতাস বয়ে আনতে,,, 

আর তাই তো আজ'ন্মকাল বেঁচে থাকুক সকল ভালোবাসা, 
পূর্ণতা পাক সবার চাওয়া, 
ভালোবেসে ভালো থাকুক ভালোবাসে!" যারা"...!!!!!



একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে...

"একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে", কথাটা একটা ডাহা মিথ্যা কথা। এটা আমাদের মত দূর্বল লোকদের জন্য সান্ত্বনার বাণী, বেঁচে থাকার খুঁটি, নিজেকে বুঝ দেয়ার মন্ত্র!! 

আমাদের কোনোদিনই সব ঠিক হয় না। আমাদের কোনোকিছু কখনোই ঠিক হয় না। সময় গড়িয়ে যায়, আমাদের পুরোনো ক্ষতের উপর প্রলেপ পড়ে কেবল। সেই পাতলা প্রলেপের উপর ভর করে আমরা অতীতের কষ্ট ভুলে যাওয়ার ভান করি। 

এই ভানের উপর আশ্রয় করে আমরা নিজেদেরকে নতুন করে গুছাই, স্বপ্ন দেখার চেষ্টা করি। ভুলে যাওয়ার ভানটুকুকে আঁকড়ে ধরে আমরা নিজেদেরকে সান্ত্বনা দেই এই বলে যে, "একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে।" 

আসলে আমাদের ক্ষতগুলো কখনো শুকায় না। আমরা শুধু দিনকে দিন নিজেকে ভুল বুঝানোর ব্যাপারে, সান্ত্বনা দেবার ব্যপারে দক্ষ হয়ে উঠি। বাস্তবে আমাদের জীবনগুলো কেটে যায় মিথ্যা প্রতিশ্রুতি আর অর্থহীন সান্ত্বনায়।
মাঝে মাঝে নিজেকে একা মনে হয় অনেক বেশি একা! আসলে একা বাঁচা কঠিন কিন্তু অসম্ভব কিছু না!'

তবে একটা সময় নিজেকে এত্ত নিঃসঙ্গ লাগে তখন মনে হয় কাউকে দরকার। একটা মানুষ হলে যে আমার সমস্যা দূর হবে" আমার দিনগুলো আবার সুন্দর করে ফিরে আসবে"সে ডাক্তার হয়ে সব রোগের ওষুধ দিবে এমনটা না।
তবুও একটা মানুষ দরকার পরে" মানুষটা চুপ করে পাশে বসে থাকবে-মাঝে মাঝে মাথায় হাত বুলিয়ে দিবে এবং মন দিয়ে এলোমেলো এই জীবনের সম্পূর্ন গল্প শুনবে।

জীবটা এলোমেলো করে দেওয়া ঝড় হয়তো সামলাতে পারবে না কিন্তু এই বিশাল ঝড় একা-একা সামলানোর থেকে একটা মানুষ হাত ধরে পাশে দাঁড়িয়ে থাকলে অনেকটা সাহস পাওয়া যাবে।

মাঝেমেধ্য যখন ডিপ্রেশন ভর করে তখন মানুষটা পাশে লাগে একটু ভাগাভাগি করলে নিজেকে হালকা মনে হয়।

গ্রীষ্মের সন্ধ্যা, তুমি আমি পাশাপাশি হাঁটতে যাবো রেললাইনের ধারে। ক্লান্ত হয়ে গেলে কাছেই কোনো দোকান থেকে এক কাপ রঙ চা নিয়ে বসে পড়বো দুজন 
গল্প করবো সারাদিনের, কাল কি করবো কোথায় যাবো
লোডশেডিং এর সন্ধ্যা আলো একদম নেই। মৃদু দখিনা বাতাস এসে লাগছে চোখে মুখে 
আমি শাড়ির আচল জড়িয়ে গরম কাপ হাতে নিতে পারছি না বলে তুমি ফু দিয়ে দিচ্ছো..
জানো, এমন একটা দিনের আশা আমি সবসময় করি। 
সারাদিন অনেক কথা বললেও তাঁর সামনে আসলে, শব্দ বোধহয় একটু জিরিয়ে নেয়। ভাষা তো অনেকেই বোঝে কিন্তু নিস্তব্ধতা সবাই যে বোঝেনা। শব্দহীন সেই কথোপকথনের লোভেই হয়তো বারবার তাঁর কাছে যাই। কি অদ্ভুত তাই না! দু'টা মানুষ পাশাপাশি বসে আছে। অথচ কেউ কিছু বলছে না..

এমন একটা দিন হলেও আসুক। কোনো কথা হবে না, ছুঁয়ে দেখা হবে না শুধু চোখের দিকে তাকিয়েই কেটে যাবে পুরোটা সময়।
কিন্তু, আজ তুমি নেই কবে আসবে কিচ্ছু জানি না
শুধু জানি তীব্র ভালোবেসে অপেক্ষা করলে, কেটে যাওয়া প্রতিটা মুহূর্ত সুখের হয়।

তোমার জন্য পৃথিবীর সমস্ত কিছু ছেড়ে এসে দেখি তোমার মধ্যে পৃথিবী নেই তুমি আমার কল্পনার কাব্য মাত্র।
পুরনো সে পৃথিবীই বরং ভালো ছিলো, যে পৃথিবীর সমস্তটা জুড়ে ছিলে শুধুই তুমি...

চাওয়া থেকে পাওয়া অবধি যেতে যেতে এর মধ্যে আমাদের অনেক কিছু হারিয়ে যায়। এমনকি চাওয়ারও পরিবর্তন হয়।

জানি দেখা হবে-
রাতের শরীরে........


নৈতিকতার জয়

এক দৌড় প্রতিযোগিতায়। 
কেনিয়ার হয়ে দৌড়চ্ছিলেন আবেল মুতাই। খুব ভাল দৌড়চ্ছিল, সবাইকে পিছনে ফেলে প্রায় পৌঁছে গেছেন শেষ ল্যাপে।

তার পেছন পেছনই ধেয়ে আসছেন স্প্যানিশ অ্যাথলেট ইভান ফার্নান্ডেজ।

শেষ সীমানার অল্প একটু আগে  পৌঁছে বিভ্রান্ত হয়ে পড়লেন আবেল মুতাই, তিনি ফিনিশিং লাইন বুঝতে না পেরে ভাবলেন তিনি জিতে গেছেন আর দৌড়ের গতি কমিয়ে দিলেন...!!

তার পেছনে থাকা স্প্যানিশ অ্যাথলেট ইভান ফার্নান্ডেজ আন্দাজ করে ফেললেন আবেল মুতাইয়ের কনফিউশানের ব্যাপারটা, আর সাথে সাথেই স্প্যানিশ ভাষায় চিৎকার করে আবেলকে বলতে শুরু করলেন,  দৌড় শেষ হয়নি, তুমি দৌড়তে থাকো...!! আবেল স্প্যানিশ ভাষা না বুঝে আরো বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। ইভান বুঝতে পারে আর কোনো উপায় নেই... সে  আবেলের কাছাকাছি এসে  একরকম ধাক্কা মেরে ভিক্ট্রি লাইন পার করে জিতিয়ে দেয় আবেল মুতাই কে...!!

দৌড় শেষ হবার পর সাংবাদিকরা ঘিরে ধরে ইভানকে। প্রশ্ন একটাই, তুমি এইরকম কেন করলে..??

ইভান  ফার্নান্ডেজ বললেন, আমি একটি  সামাজিক পৃথিবী চাই যেখানে আমরা সবাই সবাইকে সাহায্য করব। সাংবাদিকরা সন্তুষ্ট হয়না এই জবাবে, সে প্রশ্ন করে, কিন্তু তুমি না জিতে ওকে জিতিয়ে দিলে কেন..??
ইভান ফার্নান্ডেজ বললেন জয়টা আমার প্রাপ্য ছিলোনা, যে প্রাপ্য ছিলো আমি তাকে সাহায্য করেছি মাত্র।  আর এমন জয় দিয়ে কি পাবো, একটা মেডেল...?
যেখানে নৈতিকতা থাকবে না...
আমার মা আমাকে সে শিক্ষা দেয় নি....।

কাহিনীটা পড়ে এক অন্যরকম অনূভুতি হলো আমার...
আমাদের পরিবার-সমাজ, আমাদের শিক্ষা-সংস্কৃতি শুধুমাত্র আমাদেরকে জিততেই শিখাচ্ছে কাউকে জিতাতে শিখায়নি কখনো । আমাদের শুধু জিতা প্রয়োজন, সফল হওয়া প্রয়োজন সেটা যেভাবেই হোক যে কোন মাধ্যমেই হোক।
কাউকে জিতানোর মধ্যেও জিতে যাওয়া থাকতে পারে কাউকে সাহায্য করার মধ্যেও সফলতা থাকতে পারে এগুলা কখনোই আমাদের শিক্ষায় আমাদের চিন্তায় নেই, কেনো নেই...!!

শূন্য হিসেবের খাতা


তোমায় নিয়ে আমার কোনো স্মৃতি লেখা নেই।তোমার  সাথে কাটানো দিন গোনা নেই, তোমার  সাথে কল্পনার সমাহার নেই, তোমায় ছোঁয়ার সাধ্য নেই।
তুমি  যেন আমার ছুঁতে না পারা ব্যাকুলতা। 

বৃষ্টিতে  কাঠগোলাপের গাছটি ভিজে ছুপছুপ। তোমার  নামে লাগিয়েছিলাম এই গাছটি, 
আমার হাত কাঁপছে এই  কাব্যের......

এই যাক-জমক আলোর শহর আর আমার হৃদয়টা!  অন্ধকার! 

এই যে গতরাতে ভেবে রাখলাম কতশত কথা বলবো তোমায়, তবে সব কিছু কেমন ধোঁয়াসা হয়ে গেলো। 
আমি চুপচাপ শক্ত ভাবে চেয়ে রইলাম মাত্র। 
পুরো তিন রাত জানালায়  বসে মন খারাপির জোগান দিয়েছি।
 আজও হয়তো তাই করবো 
এতে আমার প্রাপ্তির খাতা শূন্য রবে আর আমি সিক্ত। 
দীর্ঘশ্বাস ফেলে বিদায়ের ঘন্টা বাজছে কোথাও । যতটুকু ভেবেছি তারচেয়ে অনেক কিছু ভাবনা  বাকি আছে।
আমি হারিয়ে যাচ্ছি তীব্র অভিমানে। 

শব্দ দিয়ে কি কখনো অনুভূতি পুরোপুরি বোঝানো যায়? 

এই যে পরিপাটি দেয়ালের মতো নিজেকে সাজিয়ে রেখেছি বাহির থেকে, 
আর ভেতর থেকে  ঝলসে গেছি।
কেউ বুঝবে না!  কেউ জানলোও না।
তুমি!  নিজেও বুঝলেন না আমি  নামের এক উন্মাদ পাগল  তোমার বিরহে নিজেকে শেষ করে দিচ্ছে তিলে তিলে.......

মানুষ দেবী পূজা করে সেই দেবীও মৃন্ময়ী মূর্তির থেকে চিন্ময়ী হয়ে পুজারির সামনেই থাকেন।  মনেপ্রাণে আমিও সান্নিধ্যে থাকতে চেয়ে ছিলাম তোমার। 
 আর তুমি বার বার শুধুই  উপেক্ষা করেছিলে। 

মানুষ জানেইনা, ফানুস ওড়েনা, বাঁকধারা অভিমান থেকে যায়।
তোমার  সান্নিধ্য ছাড়া কি কখনো কিছু চেয়েছিলো সেই সাধক! ? 
অথচ তুমি  তাকে তীব্র অবহেলায়, হেয়ো করলে!
 তার ভালোবাসাকে আবেগ বললে!

 আচ্ছা আবেগ বুঝি এতো দীর্ঘ দিন রয়ে যায়?

 প্রকৃতি জানে,আকাশ জানে আমার অনুভূতিরা জানে  তোমায় আমি কতটা ভালোবাসি। 
আমি এক হাহাকারে ডুবে গিয়েছি দীর্ঘশ্বাসে। 

"বিষাক্ত হয়ে গেছি আমি, আমার অনুভূতি, আমার স্বপ্ন, আমার শহর, ঠিকানা বিহীন একটা অবয়ব এর নিকট  কেউ একটা চিঠি লিখে জানিয়ে দিও  যাকে আমি প্রাণপণে চেয়েছি।
সে আর কেউ নয়।  সে তুমি। 

জানো,আমি যখন  যোগ-বিয়োগ মিলাতে ব্যস্ত হিসেবের খাতায় তখন পেলাম শূন্যতা। 
আমাদের মধ্যে কার এই যোগ-বিয়োগে আমার সমাধি। 
অবাক হচ্ছো  ?  তোমায় "তুমি" বলে সম্বোধন করায়।
শেষ বেলায় না হয় একটু অধিকার নিয়ে তুমি বলে সম্বোধন করলাম।। 

আমি তোমার তীব্র অবহেলায় এখনো দাঁড়িয়ে। আমার ভেতর বয়ে যাচ্ছে এক অনন্ত সমুদ্র। যদি কখনো এই সাধকের  প্রতি মায়া জম্মে , তবে ফিরে এসো, সেও শত অভিমান আলিঙ্গন করে, সব ভুলে যাবে! 

তুমি এসো........ 

সেদিনও এমন বৃষ্টি ছিলো

ঘরের আলোগুলো  বন্ধ, জানালা গুলো  খোলা , পড়দা গুলো উড়ে ঘরের ভেতর আসছে,,, নিয়ে আসছে ঠান্ডা হাওয়া,,
    জানালার পাসে দেওয়ালে হেলান দিয়ে  দ্বীপ,...শিখা  ওর শরির টা দ্বীপের গায়ে হেলিয়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করে নিচ্ছিলো বড় বড় দীর্ঘ নিশ্বাস।।।। 
এই সময় দীপ বলে উঠলো,, 
একটা কথা বলব মন্দিরা? 

এই তোকে না বলেছি এসব উল্টোপাল্টা নামে আমায় ডাকবি না... 

বলতে বলতে দ্বীপের হাত শিখার মাথায় বুলিয়ে দিতে লাগলো। বার তিনেক ভুলিয়ে দিতেই... 

ও আচ্ছা কি নাম তোর? 

আমার নাম !  আমার নাম....  কি নাম রে আমার? 

ওর মাথায় হাত বুলিয়েই যাচ্ছে দ্বীপ,,,,,
তোর নাম তো ভেবলি বুড়ি,,,, 

জানোয়ার,,,, 
সেটা তো আমার নাম তুই দিয়েছিস।  
তোর নাম কি ?
আমার নাম,,, রাই,,, শুধু তোর রাই,,,

শুধু আমার!  

হ্যাঁ আমি শুধুই তো আমি সারা জীবন তোর,,,।

মন্দিরা!  

তুই আবার আমায় ওইসব নামে ডাকছিস।
 না ওই নামে আমায় একদম ডাকবি না। 
আমার কেমন পাপী পাপী মনে হয়।
প্লিজ তুমি ও নামে ডাকবে না আমায়।


শিখার তুমি করে সম্মোধনে  দ্বীপ খোজে গভীরতা,, 


আমি কখনো তাড়িয়ে দিবি  না তো! 
আমি সেদিন পথে পথে ঘুরবো পথেই পড়ে থাকবে। 
বাড়ি ঘড় আপন আত্মীয় সব ভুলে যাবো,,, 
শুধু অপেক্ষা করব মৃত্যুর,,
আমি কি আবার ফিরে আসবো। 
আমাকে আবার খুঁজে বের করতে হবে তোকে ।
আমি আবার প্রেমে পড়বো। 
আমি যে তোর প্রেমিক হতে চাই জন্ম জন্মান্তরের,, 
আমায় কখনো তাড়িয়ে দিবি না তো! 

এই তোর মুখ থেকে কিসের গন্ধ আসে রে? । তোকে না আমি বারবার বলেছি এসব ছাইপাস খাবিনা। 
খাচ্ছিস খা বুড়ো বয়সে যখন রোগে ভুগবে তখন কিন্তু আমি লাথি মেরে ঘর থেকে বের করে দেবো। 
তখন আমার পাশে গ্যাঙ্গোর গ্যাঙর করলে বুঝবি মজা। 

কি!...
আমার বুড়ো বয়স পর্যন্ত তুই আর আমি একসাথে থাকব!!! 

না না!  অন্য ভাতারের সাথে থাকবে।  হ্যাঁ ভাবতেই তো পারি,,,  আসলে আমি তো তাই!  তাই  না"!। 
 আমার জীবনের সমস্তটাই তো তুই জানিস... 
যেখানে আমার নিজের লোকেরাই বলে আমি একটা নষ্ট মেয়ে,,,,,  সেখানে তুই আর কি বলবি! 

শিখার গালে একটা চড় মেরে জাপটে ধরে বুকের কাছে নিয়ে তুই আমার ভালোবাসার মন্দিরের দেবী,, 
আমি তোর  সেবক হতে চাই জন্মজন্মান্তরের,,, 
তোর এই কথা গুলো আমায় দুঃখ দেয়,,, 
এই ভাবে বলিস না সুন্দরী.... কমলা,,,  

আবার সেই বা★ ছালের নামে ডাকে।

এই তুই আমায় একটা নামে ডাকতে পারবি না? 

বল,,!  বল 

আমি তো ভুবন ভোলা একটা মানুষ। 
মন এই ভালো এই খারাপ,, আবার উদাস,,  
আমি কখন কি নিজেই জানিনা,,,  
আমি তোর এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবো না। 

শুধু আমার একটাই কথা,,,  আমায় কখনো তাড়িয়ে দিস না!... 
কেন জানি বারবার মনে হয় আমার অতিরিক্ত ভালোবাসা এক সময় তোর কাছে বিষের মত মনে হবে।
  আর আমি তখন হয়ে যাব বিষাক্ত একটা মানুষ। 
তখন আমাদের বিচ্ছেদ হবে। 

ও,,আচ্ছা,,,  এতই যদি মনে হয় তাহলে পিরিত একটু কম  কম দেখা,,,  

এখন চল ভিজতে যাই,,,  খুব বৃষ্টি হচ্ছে। 

এই এত রাতে এখন বৃষ্টিতে ভিজবি? 

চল না!  চল,,  চল।

তোর ঠান্ডা লাগবে তো কাল আমাদের বাড়ি ফিরতেই হবে,,,  

আমার কাছে তুই আছিস তো চিন্তা কিসের আমার চল এখন বৃষ্টি ভিজি। 

সেদিন ও এমনই বৃষ্টি ছিলো,,,  



বিদ্যুৎ আসার আগে গ্রীষ্মকালে এ অঞ্চলের মানুষ ঘরের বাইরে গাছতলা কিংবা বারান্দায় ঘুমাত, সঙ্গে থাকত হাতপাখা। পরবর্তীতে ব্রিটিশদের দেখাদেখি স্বচ্ছল ও অভিজাত বাড়িতেও পাংখা বা টানা পাখা ব্যবহৃত হতে থাকে।

*****বারান্দায় শুয়ে পাখা টানছেন তিন পাঙ্খাওয়ালা।
ছবি: রয়াল সোসাইটি ফর এশিয়ান অ্যাফেয়ার্স, লন্ডন/ ব্রিজম্যান ইমেজেস******

টানাপাখাকে কেন্দ্র করে ১৭ শতকে পাঙ্খাওয়ালা নামের নতুন এক পেশাজীবী শ্রেণির উদ্ভব ঘটে। পাখাগুলো যারা টানতেন, তাদের পাঙ্খাপুলার বা পাঙ্খাওয়ালা বলা হতো।

ঔপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থায় বৃটিশরা ভারতীয়দের সঙ্গে কীরূপ আচরণ করত, তা পাঙ্খাওয়ালাদের সঙ্গে তাদের ব্যবহার থেকেই অনুধাবন করা সম্ভব। ভারতবর্ষে শাসন করা সত্ত্বেও বৃটিশরা এদেশের সাধারণ মানুষকে কখনোই তাদের কাছে ঘেষতে দেয়নি। কিন্তু পাঙ্খাওয়ালাদের কাজ তো দূর থেকে সম্ভব নয়। তাদের দিনরাত ২৪ ঘণ্টাই অবিরাম পাখা টানার কাজ করতে হতো। আর তাই যে ঘরে ইংরেজ সাহেব-বিবিরা অবসর যাপন করতেন সেখানে তাদের উপস্থিতি কাম্য ছিল না। অধিকাংশ সময় বারান্দা কিংবা বাইরের ঘরেই তাদের ঠাঁই মিলত।

তাছাড়া বিশাল এক জনগোষ্ঠীকে পদানত করে শাসন করা যে সহজ কাজ নয় তা ব্রিটিশরা ভালোমতোই জানত। আর তাই গুপ্তচরদের থেকেও তাদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়েছিল। ইতিহাসবিদ অরুণিমা দত্তের মতে, সময়ের সঙ্গে পাঙ্খাওয়ালা নিয়োগে এক নতুন প্রবণতা দেখা দেয়। বধির, বয়স্ক কিংবা শ্রবণ শক্তি কম, এমন ব্যক্তিদের পাঙ্খাওয়ালা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া শুরু হয়।

ঘরের বাইরে ছাড়াও অনেকসময় ঘরের ভেতরে এক কোণায় পাঙ্খাওয়ালার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা বরাদ্দ ছিল।

পাঙ্খাওয়ালাদের গায়ে ইংরেজরা প্রায়ই হাত তুলত। তাদের দিকে জুতা ছুড়ে মারা কিংবা গালিগালাজ করাও ছিল সাধারণ বিষয়। নিয়মিত নির্যাতনের বাইরেও ইংরেজদের বিরুদ্ধে তাদের হত্যার অভিযোগও মিলে। দ্য ডন পত্রিকার কলামিস্ট রাফিয়া জাকারিয়া লিখেছেন, একজন পাঙ্খাওয়ালাকে হত্যার শাস্তি হিসেবে ব্রিটিশ আমলে একজন শ্বেতাঙ্গকে মাত্র ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। ব্রিটিশ উপনিবেশবাদ ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষের ওপর প্রকৃত অর্থেই যে দাসপ্রথা চাপিয়েছিল, ইতিহাসে তার স্বাক্ষ্য বহন করছে পাঙ্খাওয়ালারা। ব্রিটিশ সাহেব, বিবি ও তাদের সন্তানদের কাছে একজন সাধারণ ভারতীয় ভৃত্যের জীবনের মূল্য মাত্র ১০০ রুপির বেশি ছিল না।

শ্বেতাঙ্গরা এই পাঙ্খাওয়ালাদের কীভাবে দেখতেন তার উদাহরণ মিলে 'দ্য কমপ্লিট ইন্ডিয়ান হাউজকিপার এন্ড কুক' বইয়ে। বইটিতে ফ্লোরা অ্যানি স্টিল ও গ্রেস গার্ডিনার লিখেছেন, পাঙ্খাওয়ালারা ছিল অলস। পাখার বিষয়ে দুই লেখকের মতামত হলো, মশা তাড়াতে কিংবা ছাদে ঘুমালে এগুলো তেমন কাজে লাগে না। তবে খাবার সময় এটা ছিল জরুরি। তাদের ভাষায়, কুলির হাতে পাখার দড়ি থাকলেই যেন তাদের চোখে রাজ্যের ঘুম এসে ভর করত।

পাঙ্খাওয়ালার কাজ কঠিন না হলেও পরিশ্রমসাধ্য ছিল। কিন্তু ইংরেজ মনিবদের কাছে যে তার কদর ছিল না, তা তাদের বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়। বাতাস করতে করতে ভুলে ঘুমিয়ে পড়লেই শাস্তি ছিল নিশ্চিত। 

সমাজের নিম্নশ্রেণির মানুষরাই পেটের দায়ে পাখাওয়ালার কাজ নিতেন। এই কাজের জন্য তারা খুব বেশি অর্থ পেতেন না। তা সত্ত্বেও কিন্তু সেসময় পাখাওয়ালাদের পেশা অপরিহার্য হয়ে উঠেছিল।

হিসাবের খাতা অনুযায়ী, ১৮ শতকে সারাদিন পাখা টানার জন্য পাখাওয়ালারা তিন আনা করে মাইনে পেত। রাতে কাজ করলেও একইহারে বেতন থাকত। পাখা টানা ছাড়াও তাদের বাড়ি ও দপ্তরের বিভিন্ন ফুটফরমায়েশ খাটতে হতো।

একসময় ভারতীয় উপমহাদেশের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে টানা পাখা। আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চলেও অনেক প্ল্যান্ট মালিকদের বাড়িতে টানা পাখার প্রচলন শুরু হয়। সেখানেও দরিদ্র শ্রেণির পাঙ্খাপুলারদের অভাব ছিল না।

তবে বিদ্যুৎ আসার সঙ্গেই কমতে থাকে টানা পাখার ব্যবহার। ১৯ শতকের শেষ দিকে উপমহাদেশে বিদ্যুৎ আসে। ১৮৭৯ সালে কলকাতায় প্রথম বিজলিবাতি জ্বালানো হয়। ১৮৯৯ সালে চালু হয় বৈদ্যুতিক পাখা। ফলে সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যেতে থাকে টানা পাখা। বিংশ শতাব্দীতে এসে পাঙ্খাওয়ালা পেশাটিও বিলুপ্ত হয়। প্রযুক্তির উন্নতির সাথে তাদের মুক্তি ঘটলেও ইতিহাসে চিরকাল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক বর্বরতার স্বাক্ষ্য বহন করবে এই পাঙ্খাওয়ালারা।

এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ভারতে গ্রীষ্মকাল। ভারতের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে গ্রীষ্মকাল তাড়াতাড়ি আসে। এই অঞ্চলে এপ্রিল ও মে মাসে সবচেয়ে বেশি গরম পড়ে। এরপর বর্ষা আসলেই কমতে থাকে তাপমাত্রা। পূর্ব ভারতীয় ও উপকূলীয় অঞ্চলে কালবৈশাখী ঝড়বৃষ্টিতে গরম পড়ে দেরিতে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বৃষ্টি কমার সাথে বাড়তে থাকে তাপ। সমুদ্র থেকে আসা আর্দ্রতার কারণে ভ্যাপসা গরমে দমবন্ধ অবস্থার সৃষ্টি হয়।

ঘরের সিলিং থেকে বড় কাঠের ফ্রেমে পাখার কাপড় আটকানো থাকত। পাখার নিচের অংশে থাকত মসলিনের ঝালর। সিলিং থেকে ঝুলানো পাখাগুলো লম্বায় ৮ থেকে ১২ ফিট এমনকি অনেকসময় ২০ থেকে ৩০ ফিটও হতো। সিলিংয়ের ৩-৪টি হুক থেকে বাহারি দড়ির সঙ্গে পাখার কাপড় ঝুলিয়ে দেওয়া হতো। সময়ের সঙ্গে এই পাখায় নানা পরিবর্তন আসে। কাপড়ের পরিবর্তে শীতলপাটির ব্যবহারও দেখা গেছে।

পাখার সঙ্গে যুক্ত অন্য একটি দড়ি দেওয়ালে গাঁথা পিতলের চাকার ওপর দিয়ে গর্তের মধ্যে দিয়ে ঘরের বাইরে পৌঁছাত। সেখানে বাইরে থাকা পাঙ্খাওয়ালার হাতে থাকত দড়ির শেষ প্রান্ত। মেঝের ওপর পা মুড়ে বা বসে বসে তারা বিশেষ ছন্দে পাখা টানত। সাহেবদের ইচ্ছানুযায়ী কখনো ধীরে বা কখনো দ্রুত দড়ি টেনে বাতাস করা হতো।

১৮৯৫ সালে জিএফ অ্যাটকিন্সনের লেখা 'কারি এন্ড রাইস' বই অনুযায়ী এই দিকটিকে বলা হতো বম্বে সাইড। আর অন্য যেদিকে পাখার ঝাপটায় হাওয়া কম, সেদিকটি বেঙ্গল সাইড নামে পরিচিত ছিল।

১৯০৮ সালে প্রকাশিত 'ইকোস ফ্রম ওল্ড কলকাতা' বইয়ে এইচ ই বাস্টিড লিখেছেন, ১৭৮৪ থেকে ১৭৯০ সালের মধ্যে কলকাতায় টানা পাখার আবির্ভাব ঘটে। ১৭৮৩-৮৪ সালে সোফিয়া গোল্ডবর্ন নামের ইউরোপীয় নারীর চিঠিতে ভারতীয় পাখার উল্লেখ পাওয়া যায় বলে তিনি জানান। গোল্ডবর্ন তালপাতার হাতপাখা এবং টানা পাখা এই দু'ধরনের পাখার কথা লিখেছিলেন। টানা পাখাগুলো সাহেব ও অভিজাতদের বাড়ির ঘরের সিলিং থেকে ঝুলত।

তবে বাস্টিড জানান, পর্তুগিজদের আগেও ভারতের মানুষ টানা পাখার সঙ্গে পরিচিত ছিল। তবে সেটি উত্তর ভারতে। মোগল আমলে টানা পাখার প্রচলন ছিল। সম্রাট শাহজাহানের ছেলে যুবরাজ দারা শুখোর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ছিলেন ফরাসি পরিব্রাজক ও চিকিৎসক ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ে। তিনি পরবর্তীকালে সম্রাট আওরঙ্গজেবের দরবারের নিয়মিত সদস্য ছিলেন। বার্নিয়ের 'ট্রাভেলস ইন দ্য মোগল এম্পায়ার' বইয়ে এক মোগল অমাত্যের অন্দরমহলে টানা পাখা দেখার বর্ণনা পাওয়া যায়।

১৭৭৪ সালে স্থাপিত ক্যালকাটা সুপ্রিম কোর্টের বেঙ্গল ইনভেন্টরি অনুসারে, ১৭৮৩ সালের ৩ জুন মৃত্যুবরণ করা রিচার্ড বেরারের সম্পত্তির তালিকায় 'কাপড়ের পাখা'র উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে সে সময়ও টানা পাখার ব্যবহার ছিল সীমিত।

তথ্যসুত্রঃঃঃঃঃ ফ্যানিং দ্য ফরেনারস, রাফিয়া জাকারিয়া , পাংখা: দ্য হ্যান্ড অপারেটেড সিলিং ফ্যানস অব কলোনিয়াল ইন্ডিয়া, কৌশিক পাটোয়ারি , ইরাবতীর ইতিহাস: টানা পাঙ্খার গল্প, দামু মুখোপাধ্যায়

রাত বলে দিন কে
কেমন আছো তুমি?
দিন বলে রাত উচ্চস্বরে 
খুব ভালো আছি আমি,,,

দিন শুধালো আমার একটা কথা ছিলো
বলো দেখি "রাত" তুমি এত কেনো কালো?

রাত বলে অন্ধকারে
আমি থাকি খুব ভালো?
কালো হবে  এটা 
           স্বাভাবিক কথা,,,
তাই তো কেউ বোঝে না
   আমার যত ব্যাথা,,
দিবা স্বপ্নে মানুষ গুলো  মুখোশ মুখে 
যে আনন্দে করে
অন্ধকারে মনের মধু 
        সব অশ্রু হয়ে ঝড়ে,,,

ভালোবাসা ফুরায় না


স্বার্থ ফুরাইলে দেখবে  বন্ধু আর  নাই। 
 আর কাজ ফুরাইলে আদর নাই।।
আলো ফুরাইলে  যেমন আধার ভাই!
দিন ফুরাইলেও দেখবে একদিন জীবন নাই,,,,

শুধু ভালোবাসা ফুরায় না ভাই
  সে তো কেমনে কেমনে বাড়ে,,,
ঘড়ির কাটার সাথে সাথে
যেমন  আমার বয়স টাও বাড়ে,,

জীবন থেকে ফুরিয়ে  গেছে আত্রিশ টা বসন্ত,,,,,
আর ফিরে পাবো না,, করলে তপস্যা অনন্ত,,

চুরি করে ফিরিয়ে আনতাম ফুরিয়ে  যাওয়া বসন্ত, অনেক চোরই সঙ্গ দিতো যদি ঠিকানা কেউ জানতো,, 

ফুরিয়ে গেছে ছেলেবেলা দুধের দাতের সাথে,,
হারিয়ে গেছে খেলারমাঠ বিদ্যালয়ের সাথে,,,
নানান কাজে ব্যাস্ত সবাই সময় কাউর নাই,
ভালোবাসা  আজও আছে,কিচ্ছু ফুরায় নাই,,

ফুলবাগিচা আজও আছে ফুলেরা সব বাহারি,, 
জুই,মালতী, চাপা,কদম, গন্ধহীন আজ আহারে!!

নকল ফুলের মেলায় আজ আসল চেনা দ্বায়,,
ভালোবাসা  একই আছে কিচ্ছু ফুরায় নাই,,

পান্ডু বংশ

🏹

পাণ্ডবদের নাম সবাই বলতে পারবেন। কিন্তু পাণ্ডবপুত্রদের নাম জিজ্ঞেস করলে? অভিমন্যু, ঘটোৎকচ..... ব্যাস্, তালিকা শেষ। যাদের একটু চর্চা আছে, তারা বভ্রুবাহন, ইরাবন বলতে কীপারেন। এর পরেও গোটা আটেক নাম আছে, তা ক'জন জানেন?

বড় গাছের নীচে ছোট গাছপালা টেঁকে না কারণ, বড় গাছের ডালপালা, নীচে রোদ-বৃষ্টি আসতে দেয়না। কিছু বড় গাছের শেকড় থেকে জাগলন (জুগ্লনে) নামক একরকম রাসায়নিক পদার্থ নির্গত হয় যা ছোট গাছপালাগুলিকে শেকড় ছাড়তে দেয়না। তাতে ছোট গাছগুলির বাড় যায় কমে। কখনও তারা শুকিয়েও যায়।তেমনি বিরাট ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি, তুলনায় কম শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব, চোখেই পড়েনা। তাই, প্রত্যেকে বড় বীর হওয়া সত্ত্বেও, পাণ্ডবদের ছেলেদের কথা বিশেষ শোনা যায়না।

পাঁচ পাণ্ডবের, দ্রৌপদীর গর্ভজাত, একটি করে ছেলে ছিল। এরা হল 'উপপাণ্ডব' অর্থাৎ 'জুনিয়র পাণ্ডব'।

সর্বজ্যেষ্ঠ উপপাণ্ডব হল যুধিষ্ঠিরের ছেলে - প্রতিবিন্ধ্য। মেজভাই, নকুলের ছেলে শতানীক। পরের ভাই, ভীমের ছেলে সুতসোম। চার নম্বর ভাই, সহদেবের ছেলে শ্রুতসেনা। আর কনিষ্ঠ উপপাণ্ডব হল শ্রুতকর্মা, যার পিতা অর্জুন। এরা প্রত্যেকেই বিশিষ্ট বীর। প্রত্যেকেই কুরুযুদ্ধে পাণ্ডবপক্ষে বীরত্বের সাথে লড়াই করেছিল।মহাভারতে উপপাণ্ডবদের কথা বিশদে বলা হলেও, আমরা, সাধারণ পাঠককুল তাদের কোন খোঁজ রাখিনা, কারণ তাদের বাবারা হল পাণ্ডবরা। শৌর্যবীর্যে অতি দীপ্যমান। প্রাংশু মহীরুহ।

দ্রৌপদী ছাড়াও, যুধিষ্ঠিরের বিয়ে হয়েছিল শৈব্য সম্প্রদায়ের কন্যা দেবিকার সাথে। তাদের একটি ছেলে ছিল, নাম যৌধ্যেয়। নকুলের আরেক স্ত্রী হলেন চেদী রাজকন্যা করেনুমতী। এঁদের ছেলে নিরমিত্র। মদ্রদেশের রাজকন্যা বিজয়া ছিলেন সহদেবের অপর স্ত্রী। তাদের ছেলে সুহোত্র। 

পাণ্ডবসন্তানদের মধ্যে বয়সে সবচেয়ে বড় হল ঘটোৎকচ। বাবা ভীম, মা রাক্ষসকন্যা হিড়িম্বী (হিড়িম্বা নয়। হিড়িম্বা ছিল হিড়িম্বীর দাদা, যে ভীমের হাতে প্রাণ দিয়েছিল।)। ঘটোৎকচের বীরত্ব মহাভারতে সবিস্তারে বর্ণিত হয়েছে।

আর অভিমন্যু ছিল পাণ্ডবদের ছেলেদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ। অর্জুন-সুভদ্রার  ছেলে। ষোল বছরের এই অত্যাশ্চর্য যোদ্ধার মর্মান্তিক মৃত্যু ছিল মহাভারতের একটা টার্নিং পয়েন্ট।

অর্জুনের মণিপুরী স্ত্রী ছিল রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদা। তাদের ছেলে বভ্রুবাহন। চিত্রাঙ্গদার সাথে অর্জুনের বিয়ের শর্ত ছিল, ওদের সন্তানাদি হলে সে মণিপুর ত্যাগ করতে পারবেনা,মণিপুরের রাজ্যপাট তাকেই সামলাতে হবে। সেইমত, বভ্রুবাহন মণিপুরেই থেকে গিয়েছিল। কুরুযুদ্ধে অংশ নেয়নি সে।

অজ্ঞাতবাসকালে নাগকন্যা (নাগাল্যাণ্ডের রাজকন্যা) উলুপীর সাথেও অর্জুনের বিয়ে হয়। তাদের একটি ছেলেও হয়। নাম ইরাবন। কুরুযুদ্ধে অংশ নিয়ে, যুদ্ধের অষ্টম দিনে ইরাবনের মৃত্যু হয়েছিল রাক্ষস অলম্বুষের মায়াজালে বিভ্রান্ত হয়ে। তবে মারা যাবার আগে কৌরবপক্ষের  অসংখ্য গান্ধার (আফগান) যোদ্ধার প্রাণ নিয়েছিল বীর ইরাবন। শ্রীকৃষ্ণ আগেই জানতেন, সেদিনের যুদ্ধে ইরাবনের মৃত্যু হবে। কিন্তু, ইরাবনের মৃত্যু আটকাতে শ্রীকৃষ্ণ একটুও চেষ্টা করেননি (কেন করেননি, সে আরেকটা কাহিনী।)।

মহাভারত পড়লে দেখা যায়, পাণ্ডবরা ছাড়া, (বিশেষ করে অর্জুন), শ্রীকৃষ্ণ আর কাউকে বাঁচাতে তেমন তৎপর ছিলেননা। তিনি চেষ্টা করলেই ইরাবনের মৃত্যু আটকাতে পারতেন। ঘটোৎকচেরও। পুত্রসম ঘটোৎকচের প্রাণ গেল কর্ণের 'বাসবী শক্তিতে'। ভীমপুত্রের অন্তিম  আর্তচিৎকার কৃষ্ণের বুকে শেল হয়ে বিঁধেছিল ঠিকই, কিন্তু তাঁর মুখে ছিল স্মিত হাসি। কারণ, প্রাণে রক্ষা পেয়ে গিয়েছিল সখা অর্জুন। কর্ণের 'বাসবী শক্তির' কোন জবাব ছিলনা অর্জুনের কাছে। কর্ণ এই তীরটা সযত্নে বেছে রেখেছিল অর্জুনকে মারার জন্য। 

শ্রীকৃষ্ণ জানতেন, কৌরবদের সমূলে বিনাশ করতে গেলে অর্জুনের বাঁচাটা অনেক বেশি প্রয়োজনীয়। তাই, তাঁর সবচেয়ে প্রিয় ভাগনে, অভিমন্যুও যখন ব্যূহ থেকে বেরোনোর রাস্তা না জেনেও চক্রব্যূহে প্রবেশ করছে, তখন বাসুদেব তাকে নিরস্ত করেননি। প্রতিটি মৃত্যুই তিনি রোধ করতে পারতেন। যেমন, অশ্বত্থামার ছোঁড়া ব্রহ্মাস্ত্রে নিহত উত্তরার গর্ভস্থ পরীক্ষিৎকে বাঁচিয়েছিলেন। তিনি অন্যদের ব্যাপারে এতটা নির্বিকার থাকলেন কীভাবে?

যুগে যুগে বিষ্ণু অবতীর্ণ হয়েছেন, ত্রেতাযুগে রাম, তো দ্বাপরযুগে কৃষ্ণ হয়ে। রামের মত, কৃষ্ণের আবির্ভাবও  ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য। গীতায় আছে, 'ধর্মসংস্থাপনার্থায়, সম্ভবামি যুগে যুগে'। তাই তাঁর সবকাজে উদ্দেশ্য ছিল একটাই - ধর্মের জয়, অধর্মের পরাজয়। নিজেই গান্ধারীর, যদুবংশবিলোপের অভিশাপ মাথা পেতে নিয়েছিলেন। ধর্ম প্রতিষ্ঠা করতে গেলে অনেক উৎসর্গের প্রয়োজন হয়, তা যতই মর্মবিদারক হোক না কেন।

তাই অবতারের কোন আনন্দ নেই, আসক্তি নেই, দুঃখ নেই। মামা-ভাগনের পারিবারিক সম্পর্ক অতি তুচ্ছ ব্যাপার তাঁর কাছে।

অর্জুনপুত্র ইরাবনের মৃত্যু ছিল সেই 'বলিদান' যা পাণ্ডবদের জয় সুনিশ্চিত করেছিল, অভিমন্যু বা ঘটোৎকচের প্রাণদান আর দ্রৌপদীর পাঁচ পুত্রের মৃত্যু - সে-ও তাই। 

যুদ্ধশেষে কুরুক্ষেত্রে অষ্টাদশ ও অন্তিম রাত। কৌরব বংশ সমূলে বিনষ্ট। যুদ্ধক্ষেত্রে কৌরব শিবিরগুলি জনমানবহীন। জ্বলন্ত মশালের আলোয় অসংখ্য ক্ষণজীবী পতঙ্গদের আনাগোনা।

শ্রীকৃষ্ণ প্রস্তাব দিলেন, দুর্যোধন হত, তার শিবির শূন্য। রাতটা ওই শিবিরেই কাটানো যাক (প্রস্তাবটা শুনতেই কেমন অদ্ভুত লাগে।)। কৃষ্ণের প্রস্তাব মানেই পাণ্ডবদের কর্তব্য। সেইমত, পাঁচ পাণ্ডব, দ্রৌপদী, কুন্তী এবং শ্রীকৃষ্ণ আশ্রয় নিলেন দুর্যোধনের শিবিরে।

সেই রাতেই, পাণ্ডব শিবিরে  হানা দিল সাক্ষাৎ মৃত্যু। সদ্য পিতৃহারা, উদ্ভ্রান্তপ্রায় অশ্বত্থামার শানিত খড়গ প্রাণ নিল নিদ্রিত পাঁচ পাণ্ডবপুত্রের। প্রাণ হারাল, বাধা দিতে আসা শিখণ্ডী ও ধৃষ্টদ্যুম্নও।

এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের ফলে, হস্তিনাপুর তথা ভারতের রাজ্যভার সামলানোর জন্য পাণ্ডবপরবর্তী প্রজন্মের আর কেউ রইল না। তাই, শ্রীকৃষ্ণের মৃত্যুর পর, পাণ্ডবরা মহাপ্রস্থানে নিষ্ক্রান্ত হলে,  ভারতশাসনের ভার গেল পাণ্ডবদের নাতি, অভিমন্যুর ছেলে পরীক্ষিতের হাতে। সাথে পরামর্শদাতা হিসেবে থেকে গেল একমাত্র জীবিত কৌরব যুযুৎসু। 

আসলে, ভারতের সিংহাসন নিয়ে ভ্রাতৃঘাতী প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনাটাই বিনষ্ট করে দিয়েছিলেন কৌশলী কৃষ্ণ। ধর্মরাজ্য প্রতিষ্ঠা ছিল তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। পাণ্ডবপুত্ররা সবাই বেঁচে থাকলে, সেযুগের নিয়মমত, ঘটোৎকচই হত ভারতসম্রাট। ঘটোৎকচ ছিল অর্ধেক মানুষ, অর্ধেক রাক্ষস। এমন একজনকে ভারতসম্রাট হিসেবে মানাটা একটু সমস্যার হত। আর উপযুক্ততম ব্যক্তি ছিল অভিমন্যু। কিন্তু সে ছিল সর্বকনিষ্ঠ। সবচেয়ে ছোট ভাই হবে সম্রাট, আর বড় ভাইয়েরা  সব মেনে নেবে, এটাও একটু কষ্টকল্পনা ছিল।

তাই পাণ্ডবপরবর্তী প্রজন্মটাকে পর্যায়ক্রমে একেবারে নিঃশেষ করে দিলেন কৃষ্ণ। কারণ, ধর্মপ্রতিষ্ঠার জন্য যা দরকার তা-ই করেছিলেন তিনি। দরকারমত নির্দয়, নির্মমও হতে হয়েছিল তাঁকে।

🧡🧡🧡🧡🧡🧡🧡🧡🧡🧡🧡🧡
🧡🧡🧡🧡🧡🧡🧡🧡🧡🧡🙏🚩🕉️

অপেক্ষার নাম মায়া!

মাঝেমাঝে সবকিছুর উর্ধে গিয়ে হলেও তোমাকে চাই, হয়তো ভালোবাসার খাতিরে নাহয় তোমার মোহমায়ায়, মনে হয় তোমার জন্যে আজীবন ধরে অপেক্ষা করি, অবশ্য আমি অপেক্ষা করবোও তোমার জন্যে সারাজীবন, যতদিন তুমি আমার না হও, আচ্ছা মনে আছে তোমাকে প্রথম যেদিন বলে ছিলাম,তুমি সেদিন হয়তো আমাকে দেখেও নি, প্রথম দেখায় ভালোবাসা বুঝেন মহারাণী? , একদম হুবহু তাই, প্রথম দেখাতেই ভালোবেসে ফেলেছিলাম হয়তো, তখন বুঝি নি এতোটা মায়ায় জড়িয়ে যাবো। আমার,সেই ক্লাস টেন, এক ডানপিটে সদ্য কিশোর আমি, প্রথম দেখায় কাউকে এতটা ভালোবাসা যায় তা আমি তোমাকে না জানলে বুঝতামই না।সেই থেকে তোমাকে জানার আগ্রহটা আমার আজ অবধি কমে নি, তোমাকে জানলাম তো ধীরেধীরে, বয়স বাড়ার সাথেসাথে ভালোবাসাও বাড়লো, জানো তো তোমাকে লুকিয়ে দেখতাম সারাদিন, তুমি হয়তো তখনও জানতে না আমি তোমাকে এতটা ভালোবাসি, বাইশের প্রায় শেষে তোমাকে জানালাম আমার মনের কথা, আমি ভেবেছিলাম পৃথিবীতে যে ছেলে টা তোমাকে এতটা ভালোবাসে তাকে তুমি বুঝতে পারবে,ভালোবাসবে,আগলে রাখবে মায়ায়, অথচ তুমি জানান দিলে উল্টো, ভালোবাসবে না বলে আটকে থাকলে এক সংবিধিবদ্ধ সমীকরণে, নেহাত বন্ধত্বের কথা বলে কাছে রাখলে, তবুও আমি ভালো আছি, সারাদিন তোমার মায়ায় পড়ে থাকি,ইচ্ছে করেই ভালোবাসি, তোমাকে ছাড়া তোমার জায়গায় অন্য কেউকে কল্পনাও করতে পারিনা, শুরুতেই বলেছি আমি তোমাকে চাই, তোমাকেই চাই,প্রয়োজনে একটা গোটা জীবন অপেক্ষা করে হলেও তোমাকে চাই,!
মায়াবী তুমি ইন্দ্রজালের যাদুকর। 

ভাগ্য আর আমি

ভাগ্যঃ তুই এভাবে আমায় কেন মেনে নিতে চাস না?
আমিঃ এমন ভাগ্য কে'বা মেনে নেয় সহজে?
ভাগ্যঃ তুই কি ভেবেছিস?তুই মেনে না নিলেই আমি ভালো হয়ে যাবো?
আমিঃ নাহ...আমি আর তোমার দোষ দেইনা।যতদিন বেঁচে আছি,ততদিন আমি আর তোমায় দোষারোপ করতে চাইনা।
ভাগ্যঃ তোকে এত কষ্ট দেই,জীবন চলার পথটা কত সংকীর্ণ করে দেই,তবুও কেন মিছে মিছে যুদ্ধ করছিস আমার সাথে?

আমিঃ পৃথিবীতে সামান্য একটু ভালো ভাবে কে না বাঁচতে চায়? একটুখানি শান্তি কে না পেতে চায়?
ভাগ্যঃ আমার ডায়েরি তা লেখা নেই।
আমিঃ তা জানি আমি।
ভাগ্যঃ তা জানার পরেও কেন সবকিছু জেনেও মেনে নিতে চাস না?
আমিঃ ঐ যে বললাম,যতদিন বেঁচে থাকা ততদিন ভালো থাকতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।

ভাগ্যঃ আমি তোকে কোনোদিনও সেই চেষ্টায় সফল হতে দিবো না!এর থেকে ভালো,তুই আমায় মেনে নি।
আমিঃ হু...মেনে নিতে চাই তোমায়।কিন্তু মাঝে মাঝে তো আমারও ভালো থাকতে ইচ্ছে করে।সবাই কত হাসিখুশি ভাবে দিন কা*টায়।চাইলে তো তুমিও ভালো হতে পারতে।

ভাগ্যঃ বিধাতা আমায় সেভাবে সৃষ্টি করেনি তোর জন্য।তুই যতই নিজেকে সুখী বানাতে চাস,তা কোনোদিনও পারবি না।যাকে অবলম্বন করে ভালো থাকতে চাইবি,একটা না একটা দুর্যোগ আমি ডেকে আনবোই!
আমিঃ আমার পিছু কি ছাড়া যায় না এবার?
ভাগ্যঃ মৃ ত্যু ছাড়া তো সেটা সম্ভব নয়!
আমিঃ তবেই মৃ ত্যুই দাও আমায়।এমন জীবনের স্বাদের থেকে,মৃ ত্যুর স্বাদই অধিক শ্রেয়!
নীলাম্বরী,, 
আমার নিজস্ব কোনো চাওয়া-পাওয়াই নাই।

আমি কেবল অপেক্ষা করতে জানি...

সেই সব কিছুর অপেক্ষা যা আমার হবে 
হয়তো আজ না তবে কোনো না কোনো একদিন আমার হবে।
 ১০০% এর ১০০% না হলেও ১% তো হবেই! আমি সেই ১% এর জন্যই অপেক্ষা করতে পারবো দিনের পর দিন -যুগের পর যুগ। 
কারণ সেই ১% পুরোপুরি ভাবে আমার হয়ে আসবে। "আমার" এই শব্দটা ভীষণ কঠিন মনে হয় কারণ আমার বলতে তেমন কিছুই নাই -কোনো কিছু নিয়ে জোর গলায় বলতে পারি নাহ এটা "আমার" 
ভয়ে থাকি! আমি যা কিছুই আমার ভাবি সেই সব কিছুই ধ্বংস হয়ে যায়!এমনটা নয় যে আমার চাওয়ায় জোর থাকে না! আমার রাগ-জেদ -ভালোবাসা-মায়া সব কিছুই ভীষণ তিব্র। সহজে কিছু মনে ধরে নাহ আমার আর একবার মনে ধরলে সেটায় পরিবর্তন আসে না কোনো ভাবেই নাহ -এতে কে কি ভাবলো কি বললো তাতে আমার কিচ্ছু যায় আসে না তবে ভাগ্য বলেও একটা ব্যাপার আছে তাই না? আমি আমার দিক থেকে যতই শক্ত করে ধরে রাখি না কেনো আমার কাছে কোনো কিছুই টিকে থাকে না তুচ্ছ থেকে তুচ্ছ বিষয়ও না! এজন্য সহজে কাউকে নিজের করে নেওয়ার দুঃসাহস আমি কখনোই দেখাই না
তবে কেউ যদি আমায় বুঝেশুনে আপন করে সব সময় আমার পাশে থাকে এবং থাকতে চায় তখন আমিও আমার সর্বস্ব দিয়ে সেই মানুষদের সাথে থাকি এবং থাকবো। আমি আমার কথা এবং কাজে সর্বদা অটল থাকি, তাদের আমি আমার দ্বিতীয় মাধ্যম হিসেবে নাহ বরং চিরস্থায়ী রূপে আমার জীবনের অংশ হিসেবে চাই এবং শেষ নিশ্বাস অব্দি চেয়েই যাবো -এটা কারোর কাছে আমার প্রতিজ্ঞা না! এটা আমার নিজস্ব "শপথ"
মাঝে মধ্যে আমার চারপাশ আমায় ঝাপসা বানিয়ে রাখে! মাঝে মধ্যে আমি নিজেই আমার চারপাশকে ঝাপসা বানিয়ে রাখি। চারপাশ আমায় ঝাপসা বানায় যাতে আমায় দেখেও না দেখার ভান করা যায় অথচ ওরা ঠিকই জানে সেখানে আমার অস্তিত্ব বিরাজ করে আছে! আর আমি আমার চারপাশকে ঝাপসা বানিয়ে রাখি যাতে সেখানে আমার অস্তিত্ব থাকা সত্বেও আমার আশেপাশের কেউ আমায় না দেখতে পায় এবং আমিও যেন আমার আশেপাশের কাউকে না দেখি। যেভাবে সবাই সব জায়গায় আমার উপস্থিতি চায় না -আমায় দেখতে চায় না তেমনই ভাবে আমিও সব জায়গায় নিজের উপস্থিতি প্রকাশ করি না এবং প্রকাশ করতে চাই না। সব কিছুর পরেও আমি চাইলেই যখন-তখন আমার চারপাশকে পরিষ্কার রূপে দেখতে পারবো কিন্তু আমার চারপাশ তা পারবে নাহ! 

মায়াবী মায়া

মধ্যরাতে আমি প্রায়ই জানালায় বসে  থাকি। এই সময়টা খুব বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে যাই। সিগারেট শেষ হয়ে যায়, ইচ্ছে হলেই  দোকানে গিয়ে সিগারেট নেওয়ার উপায় নেই। 
এই সময় আকাশে তাকালে আবছা আলোয় নীল আকাশ দেখা যায়। চোখে আলি ঝালি দেখায় পেঁয়াজ কালারের জামা পরে মায়া তাকিয়ে আছে। সর্বনাশ! এই মেয়ে আমার পিছু ছাড়ছেনা। 

মায়ার সাথে আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তগুলো কেটেছিল। মায়া একবার আমার বুকে মাথা রেখে ঘুমাতে চেয়েছিলো, তপ্ত দুপুরে আমার ঘামে ভেজা শার্টে তার মাথার চুল আটঁকে যাচ্ছিল। কাজল লাগালে চোখে! মায়া খুব গুছিয়ে কথা বলতে জানতো। মায়ার চোখে তাকালে আমার সব কথা বোবা হয়ে যেতো। মায়া যখন কথা বলে, আমার কথাগুলো তার কথায় চাপা পড়ে যায়। আমি বোকা হয়ে মায়াকে দেখি, মায়ার শিরা উপশিরায় আমি আমাকে দেখতাম। মায়াকে মনে হতো কোন দেয়ালে আঁকা চিত্রশিল্প। যা পিকাসো সাহেব আমার জন্য এঁকেছে, আর কারো জন্য না। মায়া যেদিন শেষবার আমার সামনে দাঁড়িয়েছিল, আমার কথা আটকে যাচ্ছিল মুখে, আমার মনে হচ্ছিল হলুদ জামা গায়ে মায়া মারা যাচ্ছে। আমার ইচ্ছে ছিল তাকে একবার লাশের বেশে দেখার। লাশের প্রতি আমার মায়া দয়া হয় না, হুমায়ূন আহমেদ স্যার এর একটা কথা মনে এনে দিতো  "মৃত মানুষদের জন্য আমাদের কোন সময় নেই"।  তবুও মায়ার লাশটা আমার সময় নষ্ট করছে। 
হে প্রিয়,,
অল্প সুখ -ছোট ছোট প্রাপ্তি - সীমিত সুন্দর মুহুর্ত পাওয়ার সাথে সাথেই কুড়িয়ে নিতে হয়... 
সামান্য কিছু পাওয়ার পর সামান্য বলে সেটাকে অবজ্ঞা করে -আমি এর চাইতে বেশি কিছু পাওয়ার যোগ্যতা রাখি এটা ভেবে পরবর্তী সুযোগ আসার অপেক্ষায় বসে থাকাটা বোকামি এবং এটা আসলে আপনার অপেক্ষা নাহ বরং আপনার লোভ এবং অহংকারকে নির্দেশ করে। 
জীবনে কোনো কিছু সর্ব দিক হতে পরিপূর্ণ হয় না, কোনো কিছুই অবিকল আমাদের মনের মতো হয় না, কোনে কিছুই নাহ!
সাজানো অনেক কিছু পাওয়ার চাইতে 
সামাম্য কিছু পেয়ে সেটাকে মনের মতো করে সাজানোর মধ্যে অধিক ভালো লাগা এবং সন্তুষ্টি কাজ করে। 
তোমার জন্য যে জীবন আমি শূণ্য থেকে ফিরে পেয়েছি, জীবনের সমস্ত ভুলগুলোকে একহাতে নিয়ে চিনতে পেরেছি, সে জীবনের কসম "তোমার শূণ্যতায় আমি হাসফাস করে বাঁচি,বিশ্বাস করো সময় যেন এক মনের পাথর আমার ওপর চাপা পড়তে চায়, তোমারে  শূণ্যতা অনুভব করি,নিজেকে সান্ত্বনা দেই সুখের, তোমার সব অসুখের উপর নেমে আসুক তীব্র বজ্রপাত, তুমি আমার স্পর্শে বাঁচো নিশ্চিন্তে!

জীবনের প্রতি আমার অভিমান, বড্ড অভিমানে অভিযোগে জমছে  প্রতিনিয়ত। 
মাঝে মাঝে মনে হয় বুকের ভেতরে অভিমানের পাহাড় জমে ভারী হয়ে আছে। প্রতিনিয়ত মন ভাঙছে। মাঝে মাঝে মনে হয় গভীর রাতে মাটির ব্যাংকে খুচরো টাকার মতো জমিয়ে রাখি অভিমান গুলো, অবহেলা গুলো। 
প্রতিটি রাতে,জানালার কোণ ঘেঁষে মধ্যে রাতে বসে থেকে মন খারাপির খোঁড়াক জমিয়ে থাকা মানুষ আমি।অভিমানের দারিদ্র্য দুটো চোখ দিয়ে নির্বাক হয়ে থাকিয়ে থাকি আকাশ পানে,
হয়তো কারো অপেক্ষা করি আবার হয়তো নিয়তির কাছে হেরে গিয়ে দুঃখ বিলাসীনি হয়ে উঠি। 
অভিমানে চোখের জল জমতে জমতে এক মহাসমুদ্র পুষে রেখেছি মনে, প্রতিরাতে~প্রতিক্ষণে!! 

সনাতনী ব্যাঞ্জন বর্নের পাচালি

ক= কলিযুগে কৃষ্ণচন্দ্র গৌররূপে আসে
খ= খোল-করতাল নিয়ে মাতে কীর্তন উল্লাসে

গ= গিরিধারী গোবিন্দ ব্রজের জীবন
ঘ= ঘরে ঘরে সবে কর নাম সংকীর্তন

ঙ= শঙ্খের পরশে ধ্রুব জ্ঞান লভিল
চ= চন্দন সুবাসে হরি আনন্দিত হল

ছ= ছয় গোঁসাই করে বৃন্দাবনে বাস
জ= জগতে প্রসিদ্ধ নামাচার্য হরিদাস

ঝ= ঝুলন বেদীতে রাধাকৃষ্ণ বিরাজিত
ঞ= গোঁসাঞি অদ্বৈত প্রভু জগৎ পূজিত

ট= টিয়াপাখি বৃন্দাদেবীর অতি অনুগত
ঠা= ঠাকুর মশাই আছেন যজ্ঞেতে রত

ড= ডাকাতের পিঠে চড়ে ছোট্ট নিমাই
ঢ= ঢাক বাজিয়ে দুর্গা মাকে আহবান জানাই

ণ= বেণুধারী বাজায় বেণু নাচে বৃন্দাবন
ত= তুলসী মঞ্জরি কর কৃষ্ণে সমর্পণ

থ= থৈ থৈ জলে কৃষ্ণের জমুনা বিহার
দ= দুষ্ট কংসেরে কৃষ্ণ করেন সংহার

ধ= ধেনু চরায় বৃন্দাবনে কানাই বলাই
ন= নদীয়ায় বিলায় নাম নিমাই নিতাই

প= পাদসেবন নববিধা ভক্তির এক অঙ্গ
ফ= ফাল্গুনে আবির্ভূত হলেন গৌরাঙ্গ

ব= বিষপানে নীলকণ্ঠ হল মহাদেব
ভ= ভক্ত হরিদাসের প্রিয় শ্রীচৈতন্যদেব

ম= ময়ূরপুচ্ছ করে কৃষ্ণের মস্তক শোভন
য= যমুনায় কৃষ্ণ করেন কালীয় দমন

র= রাধাঠাকুরাণী হন বৃন্দাবনেশ্বরী
ল= লক্ষ্মীদেবী হন সর্ব ধনের অধীশ্বরী

শ= শুকমুখে ভাগবত শোনেন পরীক্ষিৎ
ষ= ষড়ভূজ রূপে গৌর হল প্রকাশিত

স= সর্বজনাশ্রয় কৃষ্ণ জগতের প্রাণ
হ= হরেকৃষ্ণ আন্দোলন কর যোগদান

ড়= গরুড়ের পিঠে চড়ে লক্ষ্মী নারায়ণ
ঢ়= আষাঢ়ে জগন্নাথ করেন রথে আরোহন

য়= হায়! হায়! বদ্ধজীব কত পাপ করে
ৎ= মৎস্যরূপে কৃষ্ণ এলেন জগৎ উদ্ধারে

ং= হংস বাহন ব্রহ্মা করেন সৃজন
ঃ= দুঃখ মোচন করেন শ্রীমধুসূদন
ঁ= গৌরাচাঁদ প্রচারিলেন নাম সংকীর্তন

কাকতালীয়

** কাকতালীয় **

1. শরীরের যে জায়গাটা হাত থেকে বেশি দূরে,  সে জায়গাটা বেশি চুলকায় ।

2. ছোট কোনও বস্তু মেঝেতে পড়ে গেলে, সেটি কখনও পায়ের কাছে থাকে না । জিনিসটা পাওয়া যাবে খাটের তলায় শেষ মাথায় ।

3. কাউকে দেখাতে চাইছেন যে  মেশিনটা কাজ করছে না । স্টার্ট দিলেন তো দেখবেন ঠিক তখনই ওটা কাজ করছে ।

4. ভাবছেন বসের কাছ থেকে ছুটি চাইবেন, ঠিক তখনই আর একজন ছুটি চেয়ে বসবে, আপনার ছুটির বারোটা বাজবে ।

5. যদি কাউকে বলেন আকাশে  100  বিলিয়ন তারা আছে, সে আপনার কথা বিশ্বাস করবে । কিন্তু যদি বলেন, দেওয়ালের রং এখনও শুকোয় নি, সে অবশ্যই হাত দিয়ে ধরে দেখবে ।

6. জেলি মাখানো রুটি কাপড়ে পড়ে গেলে , জেলি লাগানো দিকটাই নীচে থাকবে, কাপড় ময়লা করে দেবে ।

7. দেরি করে আসার কারন হিসাবে যদি বসকে বলেন, গাড়ির চাকা পাংচার হয়েছিল,  পরদিন সত্যিই গাড়ির চাকা পাংচার হবে ।

8 . ব্যাংকে লাইনে দাঁড়িয়েছেন,  পাশের লাইনটা আগে বাড়ছে । লাইন পাল্টে পাশেরটায় এলে দেখবেন,  ছেড়ে আসা লাইনটা দ্রুত এগোচ্ছে ।

9. ম্যাকানিক্যাল কাজ করার সময় যখন আপনার হাত কালি ,ঝুলি , গ্রিজ দিয়ে মাখামাখি, ঠিক তখনই আপনার নাক চুলকোবে ।

10. বাড়ি ফেরার যেদিন তাড়া থাকবে, রাস্তায় বাস পেতে সেদিন দেরি হবে ।

11. যেদিন আগেই স্টেশনে পৌঁছাবেন,  সেদিন ট্রেন লেট করবে । যেদিন আপনার স্টেশনে পৌঁছাতে সামান্য দেরি হবে, ট্রেন ঠিক সময়ে ছেড়ে যাবে ।

12. যদি আপনি ভুল নাম্বার ডায়াল করেন, বিজি টোন পাবেন না, কেউ না কেউ উত্তর দেবে ।

13 . স্নানের সময় যখন আপনার সারা গা ভেজা ঠিক তখনই আপনার টেলিফোন আসবে ।

14. একগাদা বইয়ের থেকে যদি উপর থেকে নির্দিষ্ট বই খোঁজেন, তাহলে বইটা পাওয়া যাবে নীচে । আবার বুদ্ধি করে নীচে থেকে খোঁজা শুরু করলে, বইটা থাকবে সবার উপরে ।

15. অফিসে যেদিন আপনার হাতে ফ্রি সময়,  সব কলিগ সেদিন খুব ব্যস্ত থাকবে ।

16. যে গেম খেলার নিয়ম যত সহজ, দেখবেন সেই গেমের প্রতি আপনার আগ্রহ তত কম ।

** উপরের কোনও একটি ঘটনা আপনার জীবনে ঘটেছে ??????
🌸 একজন প্রবীণ মহিলা বাসে উঠে বসল।  পরের স্টপে একজন শক্ত সমর্থ যুবতী উঠে এসে বৃদ্ধা মহিলার পাশে বেশকিছু ব্যাগ নিয়ে ঠেলে ঠুলে বসে পড়ল।

যুবতীটি যখন দেখল যে বয়স্কা মহিলা চুপ করে রয়েছেন, তখন সে বৃদ্ধা মহিলাকে জিজ্ঞাসা করল যে সে যখন ব্যাগ নিয়ে চেপে চুপে বসল তখন তিনি কেন অভিযোগ করলেন না।

 প্রবীণ মহিলা হাসি দিয়ে জবাব দিলেন: '' এত তুচ্ছ কিছু নিয়ে আলোচনা করার দরকার নেই, কারণ তোমাকে পাশে নিয়ে আমার ভ্রমণটি খুব ছোট কারণ আমি পরের স্টপে নেমে যাচ্ছি।  "

 এই উত্তরটি সোনার অক্ষরে লেখার দাবিদার: "এত তুচ্ছ কিছু নিয়ে আলোচনা করার দরকার নেই, কারণ আমাদের একসাথে যাত্রা খুব ছোট"।

আমাদের প্রত্যেককে বুঝতে হবে যে এই পৃথিবীতে আমাদের সময়টি এতটাই স্বল্প যে রেশারেশি, অনর্থক যুক্তি, হিংসা, অন্যকে ক্ষমা না করা, অসন্তুষ্টি এবং অন্যকে প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবা মনোভাবটা দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়া 'সময় এবং শক্তির' একটি হাস্যকর অপচয়।

কেউ কি আপনার হৃদয় ভেঙেছে?  
শান্ত থাকুন,
ট্রিপটি খুব ছোট।

কেউ আপনার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, ভয় দেখিয়েছে, ঠকিয়েছে বা অপমান করেছে?
"আরাম করুন।  ক্ষমা করে দিন। কারণ ট্রিপটি খুব ছোট"।

কেউ আপনাকে বিনা কারণে অপমান করেছে?  
"শান্ত থাকুন, এড়িয়ে যান কারণ ট্রিপটি খুব ছোট"।

কোন সাক্ষাতে আপনার বন্ধু  আপনি যা পছন্দ করেন না এমন কোন মন্তব্য করেছিলেন?
"শান্ত থাকুন,  তাকে উপেক্ষা করুন,  ক্ষমা করে দিন, কারণ  ট্রিপটি খুব ছোট"।

কেউ আপনার জন্য যে সমস্যাই নিয়ে আসুক না কেন, মনে রাখবেন যে একসাথে আমাদের যাত্রা খুব ছোট।

এই ভ্রমণের দৈর্ঘ্য কেউ জানে না। এটি কখন থামবে তা কেউ জানে না। আমাদের একসাথে ভ্রমণ খুব ছোট।

🌸 আসুন কাউকে প্রতিদ্বন্দ্বী না ভেবে সহযাত্রী ভেবে একে অন্যকে সহযোগিতা করি, কারণ ট্রিপ টি খুবই ছোট্ট কিন্তু কাজ অনেক। এই অল্প সময়ে অনর্থক সময় নষ্ট না করে সততার সাথে নিজেকে সফল করতে চেষ্টা করি। সবার জন্য অবিরাম ভালোবাসা 💝💝
মাঝে মাঝে ইচ্ছে জাগে 
নিরুদ্দেশ হয়ে চলে যাই কোথাও 
যেখানে আমায় কেউ চিনবে না জানবে না! 
আমায় কিছু জিজ্ঞেস করবে না 
কোনো কিছুর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ চাইবে না! 
আমি নিশ্চিন্তে থাকবো, নিজের মতো করে চলবো,
আচ্ছা আদৌও কি এমন জায়গা আছে পৃথিবীতে?
থাকলেই বা কি আমি এমনটা কেবল ভাবতে পারি কেবল! যেতে চাইলেও আমার বিবেক একটা শক্ত দেয়ালের মতো এসে দাঁড়ায় আমার সামনে আমায় বাধা দেওয়ার জন্য। আমি তো পারি না সব কিছু চাইলেই -এমন টা নয় যে আমি অক্ষম বা আমার সুযোগ নেই! সব কিছুই আছে সাহসও আছে তবে ওই যে বিবেক বলেও তো একটা বিষয় আছে
আমার বিবেকে বেঈমানী নাই, সবাই স্বার্থপর ভাবলেও আমি কেবলই নিজের কথা ভেবে চলতে পারি নাহ! যদি ভাবতাম তবে আজ কারোর সাধ্য ছিলো নাহ আমার নয়নে রক্তের অশ্রু প্রবাহিত করার,আমায় জখম দেওয়ার,দুঃখ দেওয়ার!
জখম বলতে কেবল শরীরের আঘাতকে বুঝায় না 
আমি মানুষের কথার আঘাতে বেশি আহত হই
এবং সেই আঘাতে মানুষজন আরো লবণ ছিটিয়ে দিয়েই চলে! আচ্ছা ওরা কি জানে নাহ বুঝে না
আমি চাইলেই তো ওদের প্রতিটা কথার এবং কর্মের জবাব দিতে পারি, চাইলেই সব শেষ করে দিয়ে নিজ ইচ্ছে মতো চলতে পারি এবং তাদের মুখের দিকে তাকানোরও কোনো প্রয়োজন নাই আমার তবুও আমি সব সহ্য করছি -করেই চলেছি 
কেনো? আসলে এই "কেনো"এর উত্তর আমার নিজেরই জানা নেই তবে এটুকু বলতে পারি আমার বিবেক আমায় বাধা দেয় -জীবনের প্রতিটা মুহুর্তে -প্রতিটা পরিস্থিতিতে বাধা দেয়। 
তাতে কি?  তবুও দিন শেষে আমার নাম দেওয়া হয় অপয়া-স্বার্থপর! 

~নীলাক্ত

ননিবালা দেবী

কাপড় খুলে শরীরে দুবাটি লঙ্কাবাঁটা ঢোকানো হয়েছিল, না না নেহেরু -গান্ধী মোটেই নয়, ওনারা তো ব্রিটিশ পরিবারের অনুগত।ইনি ননীবালা দেবী।। বাংলার প্রথম মহিলা রাজবন্দী ননীবালা দেবী জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৮৮৮ সালে হাওড়া জেলার বালিতে। বাবা সূর্যকান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়, মা গিরিবালা দেবী। সেই সময়ের সামাজিক রীতি মেনে ১৮৯৯ সালে মাত্র এগার বছর বয়সে তাঁর বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের পাঁচ বছরের মাথায় ১৯০৪ সালে তাঁর স্বামী মারা যান। তাঁর বয়স তখন মাত্র ষোল। এরপর তিনি তাঁর বাবার কাছেই ফিরে আসেন।
১৯১৪ সালে বেধেছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। সেই সময় ভারতে যুগান্তর দলের বিপ্লবীরা জার্মানির কাছ থেকে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ভারতব্যাপী একটা বৈপ্লবিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে, স্বাধীনতা আনবার রাস্তা পরিষ্কার করতে চেষ্টা করেছিলেন। বাঘা যতীন ও রাসবিহারী বসুর মিলিত চেষ্টায় দ্বিতীয় সিপাহি বিদ্রোহের (২১ফেব্রুয়ারি, ১৯১৫) পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়, রাসবিহারী বসু ভারত ত্যাগ করেন। ইংরেজ সরকার ভারত-জার্মান যোগাযোগের খবর জেনে যায়। বাঘা যতীন যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় বালেশ্বরের যুদ্ধে শহীদ হন (১০ই সেপ্টেম্বর ১৯১৫)। তাঁর মৃত্যুতে বাংলার বিপ্লবী কাজে অপূরণীয় ক্ষতি হয়। তবুও ইংরেজের রক্তচক্ষুকে অগ্রাহ্য করে পূর্ব-ভারতের পথ ধরে চীন ও আসামের মধ্য দিয়ে অস্ত্রশস্ত্র আনিয়ে ভারতে বিদ্রোহ ঘটাবার জন্য বিপ্লবীরা আবার চেষ্টা করেছিলেন যাদুগোপাল মুখার্জীর নেতৃত্বে।
চারদিকে চলছে তখন আহত ব্রিটিশ-সিংহের প্রচণ্ড আক্রমণ ও নির্মম অত্যাচার। সেই অত্যাচারের ধরন ছিল- ফাঁসি, দ্বীপান্তর, পুলিসের নির্যাতনে পাগল হয়ে যাওয়া এবং চার্লস টেগার্টের তদারকে নিত্য নতুন বীভৎস অত্যাচার। মলদ্বারে রুল ঢোকানো, কমোড থেকে মলমূত্র এনে মাথায় ঢেলে দেওয়া, চোখের মণিতে সুঁচ ফোটানো, গরম লোহা হাতের তালু বা পায়ে চেপে ধরা, কয়েকদিন উপোস করিয়ে পিছনে হাতকড়া অবস্থায় ঠা ঠা রোদে বন্দীকে দাঁড় করিয়ে রেখে লাথি ও রুলের মার - এই ছিল টেগার্টের অত্যাচারের রীতি। এইরকম অসহায় বিপদভরা দিনে, সম্পর্কে ভাইয়ের ছেলে বিপ্লবী অমরেন্দ্র চ্যাটার্জীর কাছে বিপ্লবের দীক্ষা পেলেন বাল্যবিধবা ননীবালা দেবী।
দেশকে ভালোবেসে বিপ্লবীদের হয়ে তিনি নানা ঝুঁকিপূর্ণ কাজের দায়িত্ব নিতেন ও নিপুণ দক্ষতায় সে কাজ সম্পন্ন করতেন। অনেক কাছের মানুষও টের পেত না যে তিনি বিপ্লবী দলের সক্রিয় সদস্য। তিনি বিপ্লবীদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করতেন, এক জায়গার নেতাদের নির্দেশ ও নানা দরকারি খবর অন্য জায়গার বিপ্লবীদের কাছে পৌঁছে দিতেন। অস্ত্রশস্ত্র নিজের কাছে লুকিয়ে রাখতেন আবার গোপনে বিপ্লবীদের কাছে পৌঁছেও দিতেন।
১৯১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে
ভারত-জার্মান যোগাযোগ এবং তার পরের পর বিভিন্ন ঘটনার খবর পেয়ে, সেই সম্পর্কে পুলিস কলকাতার ‘শ্রমজীবী সমবায়’ নামে এক প্রতিষ্ঠানে তল্লাশী করতে যায়। তল্লাশীর সময় অমর চ্যাটার্জী পলাতক হন এবং এক সঙ্গী রামচন্দ্র মজুমদার গ্রেপ্তার হন।
পলাতক অমর চ্যাটার্জী এবং তাঁর কয়েকজন সহকর্মীকে প্রায় দুই মাস আশ্রয় দিয়ে রাখলেন ননীবালা দেবী রিষড়াতে। এদিকে গ্রেপ্তারের সময় রামচন্দ্র মজুমদার একটা ‘মাউজার’ (Mauser) পিস্তল কোথায় রেখে গেছেন সে-কথা দল কে জানিয়ে যেতে পারেননি। বিপ্লবীদের  দরকার ছিল সেটির, কিন্তু কীভাবে সন্ধান জানা যাবে?
অতএব জেলে ঢুকে রামচন্দ্রের সঙ্গে দেখা করে পিস্তলের খোঁজ আনতে চললেন  দুঃসাহসী ননীবালা দেবী।
সেদিনের সমাজে যা কেউ কল্পনা করতেও পারত না তাই করলেন তিনি। বিধবা ননীবালা দেবী রামচন্দ্র মজুমদারের স্ত্রী সেজে, তাঁর সঙ্গে প্রেসিডেন্সি জেলে দেখা করতে এলেন। ১৯১৫-১৬ সালে যে যুগ ছিল তখন বাঙালী বিধবাদের পক্ষে সিঁদুর মাথায় এরকম পরের স্ত্রী সেজে জেলে গিয়ে পুলিসের কড়া দৃষ্টিকে ফাঁকি দিয়ে কাজ হাসিল করার কথা কেউ চিন্তাও করতে পারত না। পুলিস তো নয়ই, কোনো সাধারণ মেয়েও নয়। আজকের সমাজ ও সেদিনকার সমাজ - মধ্যে আছে বিরাট সাগরের ব্যবধান। বিধবা ননীবালা সধবার সাজে সিঁদুর পরে একগলা ঘোমটা দিয়ে রামচন্দ্রের স্ত্রী সেজে স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে গেলেন জেলে। পুলিশের চোখে  ধুলো দিয়ে পিস্তলের সন্ধান জেনে বেড়িয়ে এলেন প্রেসিডেন্সি জেল থেকে।
পুলিস অনেক পরে জানাত পারল যে, ননীবালা দেবী রামচন্দ্র মজুমদারের স্ত্রী নন। কিন্তু এটা জানতে পারেননি যে, তিনিই রিষড়াতে ছিলেন আশ্রয়দাত্রী।
পুলিশ নজর এড়াতে ১৯১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে চন্দননগরে আবার বাড়ি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। তবে রিষড়ার মতো এখানেও মেয়েরা না থাকলে বাড়ি ভাড়া পাওয়া যেত না। তখন আবার এলেন ননীবালা দেবী, গৃহকর্ত্রীর বেশে। এখানে এইসময়ে আশ্রয়দানের উদ্দেশ্যে তাঁর বড়পিসিকেও এনেছিলেন বিপ্লবী ভোলানাথ চ্যাটার্জী। এই বড়পিসি ও ননীবালা দেবী দুটো আলাদা বাড়িতে আশ্রয় দিয়ে রেখেছিলেন পলাতক বিপ্লবীদের। পলাতক হয়ে আছেন সেখানে বিপ্লবী নেতা যাদুগোপাল মুখার্জী, অমর চ্যাটার্জী, অতুল ঘোষ, ভোলানাথ চ্যাটার্জী, নলিনীকান্ত কর, বিনয়ভূষণ দত্ত ও বিজয় চক্রবর্তী। এঁদের সকলেরই মাথায় অনেক হাজার টাকার হুলিয়া ছিল।
এই নিশাচরেরা সারাদিন দরজা বন্ধ করে ঘরে কাটিয়ে দিতেন। শুধু রাতে সুবিধা মতো বেড়িয়ে পড়তেন। পুলিস এসে পড়লেই এই পলাতক বিপ্লবীরা নিমেষে অদৃশ্য হয়ে যেতেন।
এইভাবে চন্দননগরের বিভিন্ন জায়গায়ে কয়েকটি বাড়িতে তল্লাশী ও বিপ্লবীদের নিমেষে পলাবার পর ননীবালা দেবীকে আর চন্দননগরে রাখা নিরাপদ হলো না। কারণ পুলিস তৎপর হয়ে উঠেছিল ননীবালা দেবীকে গ্রেপ্তার করতে। তাঁর বাবা সূর্যকান্ত ব্যানার্জীকে পুলিস বালি থানাতে নিয়ে গিয়ে দশটা থেকে পাঁচটা অবধি বসিয়ে রেখে জেরা করত - ননীবালা দেবীর কোথায় আছেন জানতে।
ননীবালা দেবী পলাতক হলেন। তাঁর এক বাল্যবন্ধুর দাদা প্রবোধ মিত্র কাজের জন্য যাচ্ছিলেন পেশোয়ার। বাল্যবন্ধু তার দাদাকে অনেক অনুনয় করে রাজী করালেন ননীবালাকে সঙ্গে নিয়ে যেতে। ননীবালা দেবী পলাতক অবস্থায় তাঁর সঙ্গে পেশোয়ার গেলেন। এও এক অনন্য কাজ, এক বাঙালী বিধবা অচেনা এক পুরুষের সাথে কয়েক হাজার কিমি দূরে সম্পূর্ণ অন্য এক জায়গায়ে চলে গেলেন লুকিয়ে থাকতে! প্রায় ষোলো-সতের দিন পরে পুলিস সন্ধান পেয়ে যখন ননীবালা দেবীকে গ্রেপ্তার করতে পেশোয়ার গেছে, তখন ননীবালা দেবীর কলেরা চলছে তিনদিন ধরে। প্রথমদিন বাড়ি ঘিরে রেখে তার পরদিনই নিয়ে গেল তাঁকে পুলিস-হাজতে স্ট্রেচারে করে। কয়েকদিন পেশোয়ার হাজতে রাখার পর একটু সুস্থ অবস্থায় তাঁকে নিয়ে আসা হয় কাশীর জেলে, তখন তিনি প্রায় সেরে উঠেছেন।
কাশীতে আসার কয়েকদিন পরে, প্রতিদিন তাঁকে জেলগেটের অফিসে এনে কাশীর ডেপুটি পুলিস-সুপারিনটেন্ডেন্ট জিতেন ব্যানার্জী জেরা করত। ননীবালা দেবী সবই অস্বীকার করতেন -  বলতেন কাউকেই চেনেন না, কিছুই জানেন না। তারপর জিতেন ব্যানাজীর তুই-তুকারির অসভ্য ভাষা। ননীবালা দেবী তখনও চুপচাপ থাকতেন।
একদিন দুইজন জমাদারনী (Wardress) ননীবালা দেবীকে একটা আলাদা সেলে (cell) নিয়ে গেল। দুজনে মিলে তাকে জোর করে ধরে মাটিতে ফেলে দিল। তারপর সমস্ত কাপড় খুলে নিয়ে দু-বাটি লঙ্কাবাটা ওঁর শরীরের ভেতরে দিয়ে দিতে লাগল। ননীবালা দেবী চীৎকার করে লাথি মারতে লাগলেন সমস্ত শক্তি দিয়ে। অসহ্য অসম্ভব অসহনীয় এক বীভৎস জ্বালা, যার বর্ণনা করার ভাষা নেই। এভাবেই অত্যাচার চলত, তার পর আবার তাঁকে নিয়ে আসা হত সেই জেল-গেটের অফিসে জিতেন ব্যানার্জীর কাছে। আবার জেরা। এত অত্যাচার, শরীরের ভেতরে লঙ্কার জ্বালা, তবু তাঁকে ভাঙা সম্ভব হ'ল না।
কাশীর জেলে - সেখানে মাটির নীচে একটা খুবই ছোট ‘পানিশমেন্ট সেল’ অর্থাৎ শাস্তি কুঠুরী ছিল। তাতে দরজা ছিল একটাই, কিন্তু আলো বাতাস প্রবেশ করবার জন্য কোনো জানালা বা সমান্য ঘুলঘুলিও ছিল না। জিতেন ব্যানার্জী তিন দিন প্রায় আধঘণ্টা সময় ধরে ননীবালা দেবীকে ঐ আলো-বাতাসহীন অন্ধকার সেলে তালাবন্ধ করে আটকে রাখত। কবরের মতো সেলে আধঘণ্টা পরে দেখা যেতো ননীবালা দেবীর অর্ধমৃত অবস্থা, তবু মুখ দিয়ে স্বীকারোক্তি বের করতে পারল না। তৃতীয় দিনে বন্ধ রাখল আধঘণ্টারও বেশি, প্রায় ৪৫ মিনিট। স্নায়ুর শক্তিকে চূর্ণ করে দেবার চূড়ান্ত প্রচেষ্টা। সেদিন তালা খুলে দেখা গেল ননীবালা দেবী পড়ে আছেন মাটিতে, জ্ঞানশূন্য।
হাল ছেড়ে দিয়ে পুলিস ননীবালা দেবীকে কাশী থেকে নিয়ে এল কলকাতা প্রেসিডেন্সি জেলে। ১৮১৮ সালের তিন নম্বর রেগুলেশনের ধারা প্রয়োগ হল তাঁর বিরুদ্ধে, প্রথম মহিলা রাজবন্দি হিসাবে প্রেসিডেন্সি জেলে এলেন তিনি। সেখানে গিয়ে তিনি খাওয়া বন্ধ করে দিলেন। জেল-কর্তৃপক্ষ, এমনকি জেলা-ম্যাজিস্ট্রেটও তাঁকে অনুরোধ করে খাওয়াতে পারলেন না। ননীবালা দেবী বললেন, বাইরে গেলে খাবেন। প্রতিদিন সকাল ৯টায় নিয়ে যেত তাঁকে গোয়েন্দা-আফিসে, সেখানে আই.বি. পুলিসের স্পেশাল সুপারিনটেন্ডেন্ট গোল্ডি (Goldie) তাঁকে জেরা করত।
-আপনাকে এখানেই থাকতে হবে, তাই বলুন কী করলে খাবেন?
-যা চাইব তাই করবেন?
-করব।
-আমাকে বাগবাজারে শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের স্ত্রী সারদা মা'য়ের কাছে রেখে দিন, তাহলে খাব।
গোল্ডি শয়তানি হাসি লুকিয়ে বলে-আপনি দরখাস্ত লিখে দিন।
ননীবালা দেবী তখুনি দরখাস্ত লিখে দিলেন।
গোল্ডি সেটা নিয়ে ছিড়ে দলা পাকিয়ে ছেড়া কাগজের টুকরিতে ফেলে দিল। এবারে সবাইকে চমকে দিয়ে হঠাৎ আহত বাঘের মতো লাফিয়ে উঠে ননীবালা দেবী এক চড় বসিয়ে দিলেন গোল্ডির মুখে। 
-ছিড়ে ফেলবে তো, আমায় দরখাস্ত লিখতে বলেছিলে কেন? আমাদের দেশের মানুষের কোনো মান সম্মান থাকতে নেই? দ্বিতীয় চড় মারবার আগেই অন্য সি.আই.ডি'রা তাঁকে ধরে ফেলে। - একশো বছরেরও আগে এক বাল্য বিধবা মেয়ের কি আশ্চর্য সাহস !
জেলের মধ্যে একদিন সিউড়ির দুকড়িবালা দেবীর (১৮৮৭-১৯৭০) সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। সকলের কাছে তিনি 'মাসিমা' নামে পরিচিতি ছিলেন। দুকড়িবালা দেবী ছিলেন ভারতে 'অস্ত্র আইনে সাজা প্রাপ্ত প্রথম মহিলা বন্দি'। জানতে পারলেন, সিউড়িতে দুকড়িবালা দেবীর বাড়িতে সাতটা ‘মাউসার’  (Mauser) পিস্তল পাবার অপরাধে দুকড়িবালা দেবীর হয়েছে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড। রাখা হয়েছে তৃতীয় শ্রেণীর কয়েদী করে (মানে চোর-ডাকাত'দের সাথে একই সেলে। রাজবন্দী হলে আলাদা সেলে আলাদা ভাবে রাখা হয়)। অসম্ভব খাটাচ্ছে, ডাল ভাঙতে দিচ্ছে প্রতিদিন আধমণ। 
মতলব স্থির করে ফেললেন ননীবালা দেবী। উপবাসের ১৯ থেকে ২০ দিন চলছে তখন। আবার এলেন ম্যাজিস্ট্রেট অনুরোধ করতে।
-আপনাকে তো এখানেই থাকতে হবে। কী করলে খাবেন বলুন?
-আমার ইচ্ছামতো হবে?
-হ্যাঁ, হবে।
-তাহলে আমার রান্না করবার জন্য একজন ব্রাহ্মণ-কন্যা চাই, দুজন ঝি চাই।
-ব্রাহ্মণ-কন্যা কেউ আছেন এখানে?
-আছেন, দুকড়িবালা দেবী।
-আচ্ছা, তাই হবে।
এরপরে এলো সমস্ত নতুন বাসন-কোসন, হাঁড়িকুড়ি। ২১ দিনের পরে ভাত খেলেন সেই অসামান্য দৃঢ়চেতা বন্দিনী। সেইসাথে দুকড়িবালা দেবী'কেও বাঁচালেন পরিশ্রম থেকে।
দুই বছর এইভাবে বন্দীজীবন কাটিয়ে দিলেন তিনি। ১৯১৯ সালের এক দিন ননীবালা দেবীর মুক্তির আদেশ এলো।
জেল থেকে ফিরে এসে বালিতে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে তিনি ঠাই পেলেন না। প্রথমত সকলেই পুলিসকে ভয় পায়। এছাড়া বিধবা হয়েও পরস্ত্রী সাজা, পরপুরুষের সাথে একঘরে থাকা বা পেশোয়ার যাওয়া - এইসব কারনে সেই সময়ের অদ্ভুত সমাজের এক পক্ষ তাঁকে মেনে নেয়নি, মেনে নেয়নি তাঁর নিজের বাড়ীর লোকেরা। অন্যদিকে তাঁর নিজস্ব বিপ্লবী সংগঠন বা চেনাজানা সবটাই ব্রিটিশ পুলিশের অত্যাচারে শেষ হয়ে গেছে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। এই অবস্থায় তখন উত্তর কলকাতার এক বস্তিতে তাঁকে আশ্রয় নিতে হয়। (অন্য মতে, কোনও পূর্বপরিচিতের অনুগ্রহে একটি কুঁড়ে ভাড়া করেছিলেন হুগলিতে)। সুতো কেটে, রান্নার কাজ করে কোনমতে আধপেটা খেয়ে তাঁর দিন কাটতে থাকে। সমাজ এবং নিজের আত্মীয়-স্বজনদের ওপর রাগে, দু:খে, অপমানে তিনি সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছিলেন .. নিজেকে একপ্রকার লুকিয়ে রাখলেন .. এমনকি পরবর্তীকালের কোনও দেশনেতাদের কাছেও গেলেন না। যিনি সমাজকে উপেক্ষা করে দেশের কাজে নিজেকে বিলিয়ে দিলেন, তিনি কোথায় গেলেন সে ব্যাপারে কেউ জানতেও পারল না, খোঁজও করলো না।
দেশ স্বাধীন হওয়ার প্রায় কুড়ি বছর পরে ১৯৬৭ সালের মে মাসে তিনি মারা যান। না, ইতিহাস তাঁর জন্মদিন বা মৃত্যুদিনের তারিখ মনে রাখার প্রয়োজনবোধ করেনি। একটা সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে যে, পুরনো কোনও বিপ্লবী সাথীর চেষ্টায় অথবা পরাধীন জেলের খাতায় নাম থাকায়, বেঁচে থাকা অবস্থায় পঞ্চাশের দশকে ৫০ টাকা পেনশন পেয়েছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী হিসেবে - যদিও তার কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ নেই। কেউ মনে রাখেনি যাঁদের আত্মত্যাগের কথা তাঁদের দলেই ছিলেন বাংলার প্রথম মহিলা রাজবন্দী ননীবালা দেবী। তবে স্বদেশীদের নিয়ে তৈরি একটি বাংলা সিনেমায় (সিনেমার নাম 'বিয়াল্লিশ') তাঁকে নিয়ে কিছু দৃশ্য ছিল, এইটুকুই। শুধু দেশের জন্য বিধবা হয়েও সধবা সেজেছিলেন, খুবই ছোট কুঠুরী ‘পানিশমেন্ট সেলে’ শ্বাস নিতে না পেরে কতবার অজ্ঞান হয়ে গেছিলেন। সামান্য একটা গোটা কাঁচালঙ্কা শুধু খেতে বললেই আমরা ভয় পাবো। এইরকম দু-বাটি লঙ্কাবাটা তাঁর শরীরের গোপন জায়গায়ে ভেতরে দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কি অপরিশীম যন্ত্রণা তিনি সহ্য করেছিলেন - আমরা সুস্থ অবস্থায় কেউই তা অনুভব করতে পরবো না। উনিশ শতকের গোড়ার বিধবা মহিলা হওয়া সত্বেও নিজ চেষ্টায় তিনি সামান্য লেখাপড়া শিখেছিলেন। নিজে সুতো কেটে পৈতে তৈরি করে তা বিক্রি করে নিজের খরচ চালাতেন। তবু সেই সময়ের বাংলার কোথাও তিনি সম্মানের সাথে থাকার জায়গা পেলেন না। স্বাধীন ভারতেই তাঁকে অনাহারে কাটাতে হোলো। একবুক অভিমান নিয়ে তিনি নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখলেন - যা তাঁর মৃত্যুর পরেও শেষ হয়নি।
তাঁর কিছু মহিলা সহযোদ্ধাদের টুকরো টুকরো নানা লেখা থেকে যেটুকু জানা গেছে তাঁর বিষয়ে সেটুকু পুঁজি করেই তাঁকে এই শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন।
জয় হিন্দ্
লেখক - সোমনাথ সিংহ
তথ্য: স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলার নারী: কমলা দাশগুপ্ত।
স্বাধীনতার সংগ্রামের মঞ্চে ভারতের নারী: কৃষ্ণকলি বিশ্বাস 

===================
 ছবি ও তথ্য - সংগৃহীত 🙏
তোমার করা অভিমান গুলো আমার আকাশে সন্ধ্যাতারা হয়ে জ্বলজ্বল করে। আমি আকাশ পানে চেয়ে থাকি। মানুষ ভবিষ্যতের চিন্তা করে, টাকা জমায় জীবনে সফল হয় আর আমার সকল চিন্তা ভাবনা জুড়ে তোমার বিচরণ।। 

জানো দিন শেষে এমন একজন মানুষ না খুব প্রয়োজন যার বুকে সকল ক্লান্তির দীর্ঘশ্বাস নিমজ্জিত করা যায়।যার শরীরে গাঁ এলিয়ে চোখ বুজে নিশ্বাস নেওয়া যায়। 

কেউ তার জীবনে একাকিত্ব চায়না তবে একটা সময় যেন এই একাকিত্ব আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয়।আমি এই একাকিত্ব কখনোই চাইনি, আমি তো সবটা দিয়েই তোমায় চেয়েছিলাম! 

যুগের পর যুগ চলে যাবে কিন্তু তোমায় দেখার তৃষ্ণা আমার মিটবে না। এই চোখ এখনো প্রতিটি মানুষের মাঝে তোমায় খুঁজে চলে। তুমি নেই এটা আমার মন যেন মানতে নারাজ। 

পুরো শহর জুড়ে এক টুকরো মেঘ আর বৃষ্টি এনে দিলাম আমার হয়ে যেন তারা তোমায় ছুঁয়ে দেয়। কেউ যে তোমায় খুব মনে করছে তার বার্তা যেন তোমার কাছে পৌঁছে দেয়-

নিজেকে আজকাল বড্ড নিঃসঙ্গ লাগে। কোনো মতে দিন পার করে রাতের স্মৃতিরা এসে ধরা দেয়! 

*সবাই বলে তুমি নাকি আমার নও তবে এ মন বার বার জানান দেয় তুমি আমার, শুধুই আমার। 
রোজ তোমায় নিয়ে লিখতে বসি তবে তোমায় আর লেখা হয়না। ফোনের টিংটিং শব্দে বুক কেঁপে ওঠে, এই বুঝি ওপাশ থেকে তুমি কল করছো আমায়।

 সারাদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে গভীর রাত অব্দি ফোনের স্কিনের দিকে তাকিয়ে থাকি তোমার অপেক্ষায়। একটা বার তোমার রৌপ্যময় কণ্ঠ শোনার জন্য ব্যকুল হয়ে থাকি। আর আমার এইসব কিনা তোমার পাগলামি মনে হয়।

কি করে বোঝাবো বলো তুমি ছাড়া যে আমি শূন্য। এই পাগলামির মাঝে আমার ভালোবাসাটা অনুধাবন করলে হয়তো শান্তি পেতাম আমি।। 

আমার দিনগুলো না খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। ভালো যাবে কিভাবে তুমি ছাড়া যে আমি পুরোপুরি অন্ধকার আমার জীবন অন্ধকার!

আসবে কি বিশ্বাস করে একবার ভোরের আলো হয়ে আমার শহরে। তোমার প্রতি আমার ভালোবাসা, তোমার প্রতি আমার সম্মান আকাশ সমান। প্রতিটি রাতের গভীরতা জানে কতটা চাই তোমায় আমি। 

*একটা বার বিশ্বাস করে কি ফিরে আসা যায় আমার মতো এক তুচ্ছ মানুষের কাছে? ভালোবাসার কমতি থাকবে না কখনো।

প্রিয় নীলাম্বরী,, 
আপনার মাঝে আমি আমার ভালো থাকা খুঁজে পাই। আপনি আমার জীবনে আসার আগে কখনো অন্য কারো প্রতি এতোটা দূর্বলতা অনুভব হয়নি আমার। বার বার চলে গিয়েও ফিরে আসি আমি আপনার মাঝে। 

আমাদের জীবনে এই ভবিষ্যত, কাল,আজ সবকিছু যখন তখন শেষ হয়ে যেতে পারে। একটা অনিশ্চিত সম্পর্কের মাঝে আপনার সাথে জড়িয়ে পরেছি আমি। কারণ আমাদের সমাজের প্রেক্ষাপট যে ভিন্ন! 

জানেন, আমরা কখনোই সঠিক মানুষটির কদর করিনা। কিন্তু ভুল মানুষ গুলোর জন্য ঠিকই নিজেকে গুটিয়ে নেই সবকিছু থেকে। 
আচ্ছা নীলাম্বরী, একদিন যদি সত্যিই আমি হারিয়ে যাই তখন কি ভালো থাকবেন আপনি ? আমি ছেড়ে গেলে সুখী হবেন? আমি চলে গেলে আপনায় এতো জ্বালাবে কে বলেন? সে সারাক্ষণ বকবক করে আপনার মাথা খাবে? তখন মনে পরবে কি এই আমাকে ?  

আপনায় ছেড়ে গেলে হয়তো একদিন আমি সাকসেসফুল হবো।আপনি বার বার বলেন আমার জীবনে এমন একজন আসবে যে আমায় অনেক ভালোবাসবে, হয়তো এমন একজনকে পেয়েও যাব-
কিন্তু সাকসাসফুল হলেও সুখী হবো না। ভালোবাসায় পূর্ণ এমন একজন মানুষকে পেলেও দিন শেষে পরিচিত এক না পাওয়া গল্পের চরিত্র রয়েই যাবে। 

আমি আমার সফলতা অর্জনে এবং জীবনের প্রতিটা সময় জুড়ে আমার জীবনে আপনার অবস্থান চেয়েছিলাম। তবে কেন জানিনা আপনি নারাজ আমার এই আশায়। মাঝে মাঝে এতোটা তিক্ত হয়ে যাই তখন মনে হয় সত্যিই ফিরে আসি আপনার জীবন থেকে, কিন্তু পরক্ষণেই সবকিছু ভুলে ফিরে যাই আপনার মাঝেই। 

সব চাওয়ার মাঝে আমি এটাও চাই আপনি ভালো থাকুন সব সময়। আপনার ভালো থাকাটা সবার আগে আমি না হয় অপূর্ণতায় রয়ে গেলাম দিনশেষে! 

অচেনা তুমি

পৃথিবীর বুকে অঝোর ধারায় বৃষ্টি নামবে যতবার, ততবারই আমার স্মৃতি গুলো তোমার শহর জুড়ে অবস্থান করবে।

তোমায় চেয়ে প্রাপ্তির খাতায় বিরাট এক হাহাকার মিললো,তবুও তুমি মিললে না। তোমায় পেলাম না,তুমি আমার হলে না।। 

জানো তোমার চোখের সেই শেষ চাহনি আমায় ক্ষতবিক্ষত করে দেয়।তুমি তো আমার সুখ ছিলে, আমার হাসি মুখের কারণ ছিলে তুমি। 

আমার উপস্থিতি তোমার জীবনে হয়তো কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি। তবে বিশ্বাস করো তুমি আসার পর আমি স্বপ্ন দেখছি। আর সেই স্বপ্ন শুধু তোমাকে নিয়েই দেখেছি,সেই স্বপ্নে তোমাকে নিয়ে বাঁচতে চেয়েছি । 

তোমার সেই এক চিলতে হাসিতেই যেন আমার মৃত্যু লেখা। এতো সুন্দর হাসিও হয় কারো ? 

*এই পাওয়া না পাওয়ার ভেতরেও তোমার ভেতরটা এখনো আমার অজানা। আচ্ছা তুমি কি সত্যিই আমায় চেয়েছিলে ?  নাকি তোমার অবসর কাটাতে চেয়েছিলে ?  
তোমার চলে যাওয়া আমার হৃদয়কে ক্ষতবিক্ষত চূর্ণ করে দেয়।তোমার চলে যাওয়ার সেই রাত মনে করলেই আমার মাথার মধ্যে অসহনীয় যন্ত্রণা বাসা বাঁধে। প্রিতমকে হারানো শোক আমায় শেষ করে দেয়। নিষ্ঠুর স্মৃতি গুলো হানা দেয় আমার মাঝে, নিষ্ঠুরতম তোমায় এক নজর দেখার তৃষ্ণনায় ক্ষুব্ধ হয় দুচোখ। 

মনে পরে তোমার কথার খিয়ানত করার কথা, তুমি কথা দিয়েছিলে ফিরে আসবে কিন্তু তুমি আসোনি।আমি অপেক্ষায় ছিলাম তোমার,সবাই বার বার আমায় বলছিলো তুমি আর আসবে না, আসবে না তুমি। আমি বিশ্বাস করিনি তাদের আমি জানি তুমি আসবে, সেই তুমিটার অপেক্ষায় আমি আজও বসে আছি। তবে সেই তুমিটার অপেক্ষা যেন শেষ হতে চাচ্ছে না।

 তুমি কি উপলব্ধি করতে পারছো না আমার এই যন্ত্রণা..? তুমি কি বুঝতে পারছো না তোমাকে ছাড়া আমি এক চুল পরিমাণও ভালো নেই?  আগে আমার চোখ দেখেই বুঝতে পারতে আমি কি চাই অথচ আজ এতো গুলো বছর পার হলো আমার এই বিষন্ন চোখের ভাষা কেউ বুঝে উঠতে পারেনা।। 

কেউ বুঝতে চায়না কি চাই আমি,অথবা আমি বুঝতে দেইনা।কি হবে বুঝতে দিয়ে ?  একটা নিষিদ্ধ জিনিসকে চাওয়ার অপরাধে সবাই পাগল বলে আখ্যায়িত করবে আমায়। সেই নিষিদ্ধ জিনিসটা কি জানো ?  ★তুমি,তুমি হলে সেই নিষিদ্ধ চাওয়া আমার। হ্যাঁ আমি তোমাকে চাই, এখনো ঠিক আগের মতো করেই চাই। 

তোমার বুকে মাথা রেখে নিজের অসুস্থতার রাত কাটাতে চাই। বৃষ্টির ফোঁটা হাতে নিয়ে  তোমার মুখে ছিটিয়ে পালিয়ে যেতে যাই।তোমার সেই কোঁকড়ানো চুলে বিলি কেঁটে দিতে চাই। তোমার হাতে খাইয়ে নিতে চাই। চলন্ত বাসে তোমার কাঁধে মাথা রাখতে চাই। তোমার পায়ে পা রেখে তোমার নাকে নিজের নাক ছুঁয়ে দিতে চাই। 
চাওয়া গুলো কি খুব বেশি ছিলো আমার প্রিয়তম? 

তোমার সেই ওষ্ঠধর যখন গোলাপের ন্যায় কাঁপতো ঠান্ডায় তখন ঠান্ডার প্রতি বেশ হিংসে হতো আমায়।
তোমার কপালে জমে থাকে বিন্দু বিন্দু ঘামের প্রতি অভিমান হতো আমার। যেখানে তোমায় ছুঁয়ে দেওয়ার কথা আমার সেখানে তারা তোমায় দিব্যি ছুঁয়ে দিচ্ছে।। 

আমার এই অভিমানের কথা গুলো না বলতেও তুমি বুঝতে আর মুচকি হেসে তুমি প্রকাশ করতে আমার প্রতি তোমার ভালোবাসা। আমাকে পাওয়ার তীব্রতা, তবে আজ কোথায় হারিয়ে তুমি ?  কোথায় সেই অনুভূতি ?  

নিষ্ঠুর আমিও হতে পারি,চাইলে আমিও ভুলে যেতে পারি তবে তুমি ভুলে থাকতে দিচ্ছো কই ?  প্রতিটি রাতে তোমার স্মৃতি গুলো আমায় পোড়াচ্ছে, স্বপ্নে এসে নিজেকে ধরা দিচ্ছো অথচ বাস্তবতায় তুমি নেই কোথাও নেই।। 

*নিঝুম রাতে কেউ সুখের শহরে পারি জমায় আর সেই শহরেই কোথাও না কোথাও কোনো এক প্রেমিকা বিধস্ত অবস্থায় প্রিয়তম চলে যাওয়ার যন্ত্রণা উপভোগ করে।। 
অভিষেকের হাগা।।

অভিষেকের  হাগা এক প্রোপাগাণ্ডাকারী পুঁজিবাদী কমিউনিস্ট প্রশ্ন তুলনেন– নেতারা পাবলিকের বাড়িতে শুধু খান কেন? বৈচিত্র্য আনার জন্য হাগতেও তো পারেন৷

এই খবর রাজনৈতিক দলগুলির অফিসে গেল৷ মাথারা ভাবলেন ভেবে দেখা দরকার৷ তৌসিফ হক বলেছেন মানে ভালোর জন্যই বলেছেন৷ 

জরুরি মিটিং বসলো৷ জনৈক আমলা বললেন– স্যর এই গরমে স্নানও ভালো অপশন৷ 

ভুঁড়িওয়ালা দামোদর শেঠ গোছের নেতা বললেন– পাগল হো ক্যায়া? হম ক্যামেরা কে সামনে নাহায়েঙ্গে!! কহিঁ গামছা খুল গয়া তো? অর ইয়ে সফেদ পাজামা৷ পানি লগনে সে বর্ডার কা ইধার উধার সব দেখা যাতা হ্যায়৷ 

এক বাঙালি আমলা বললেন– স্যর গরীবের খাটে একটু ঘুমিয়ে আসুন৷ তাহলে একঘেয়েমিটা কাটে আর কী! তাছাড়া এই অভূতপূর্ব ঘটনায় আপনার নাম ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে৷ 
দামোদর শেঠ বললেন– আবে বুড়বক! বোকা আছে নাকি? বঙ্গাল মে উইপোকা কে সাথ সাথ ছারপোকা ভি হ্যায়৷ হিন্দু-মুসলমান করকে উইপোকা কো তো ফির ভি ম্যানেজ কর সকতে হ্যায়, লেকিন ছারপোকা? ইতনা বড়া পিছওয়াড়া হমারা৷ কঁহি না কঁহি সে ঘুস যায়েগা৷ সব ঘুসপেটিয়া আছে! 

শেষমেশ ঠিক হল দামোদর শেঠ বাংলায় কোনও দলিতের বাড়িতে হাগবেন৷ আমলারা বারবার বললেন– স্যর রিস্ক নেবেন না৷ খাটা পায়খানায় হাগতে গিয়ে গুয়ে পড়ে যাবেন৷ চোখে সর্ষেফুল দেখবেন৷ এটা বাংলা স্যর৷

দামোদর শেঠ বিচক্ষণ নেতা৷ ঘোড়া কেনাবেচাতেও মুন্সিয়ানা রয়েছে৷ তিনি বললেন– আপলোগ হমসে জাদা জানতে হ্যায়? পাঁচ রাজ্য মে মেজোরিটি না মিলনে পর ভি সরকার বনায়া! হমে মত শিখাইয়ে৷ 

নেতা সত্যিই বিচক্ষণ। তিহার জেলফেরত আসামিদের মতো অভিজ্ঞ৷ তিনি জানেন প্রকাশ্যে স্নান বা শোয়াতে ক্যামেরা নিয়ে সাংবাদিকরা এলেও হাগার সময় আসবেন না। আর যাই হোক, ঢাকঢোল খুলে হাগার সময় মিডিয়া নিশ্চিতভাবে লাইভ টেলিকাস্ট করবে না৷ আমাদের মিডিয়া এতটাও নীচে নামেনি। খুব ট্রাই করলেও মোক্ষম সময়ে পচা শাকপাতার গন্ধে কেউ ধারেকাছে আসতে পারবে না৷ 

দলিতের বাড়িতে অপরিষ্কার পায়খায় দামোদর শেঠ কীভাবে হাগবেন? খাবার বাইরে থেকে আনা যায়৷ মাটির প্লেটে সাজিয়ে দেওয়া যায়৷ কিন্তু পায়খানা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়৷ তারপর ভুঁড়িওয়ালা নেতাজির কোষ্টকাঠিন্যের ধাত, দেখা গেল তিনি হাগতেই পারলেন না৷ হেগে বেরিয়ে আসার পর নিশ্চিতভাবে মিডিয়া গিয়ে সুরতে হাল চেক করবেই। টিআরপির মামলা। এরপর বাপপন্থীরা বলবে– নেতা হাগতে পারেন না৷ দেশ কীভাবে সামলাবেন?
দলিত সংগঠন বলবে– উনি দলিতের বাড়িতে না হেগে চলে এসেছেন৷ দলিতের বাড়ি বলেই হাগেননি৷ এই অপমান আমরা মেনে নেবো না৷
ভোটের আগে দলিতরা ক্ষেপলে কারা ফায়ফরমাস খাটবে? নীচুতলায় খাটার লোকও তো চাই৷ থোড়াই ঠাকুর-ব্রাহ্মণরা...

দামোদর শেঠ অনড়৷ ব্যাপারটিকে ইগোতে নিয়ে নিয়েছেন। –হম হাগেঙ্গে৷ ম্যায় কর সকতা হুঁ তো কর সকতা হুঁ৷ দুধ কা দুধ পানি কা পানি হো যায়েগা৷ আগর না কর সকা তো রাজনীতি ছোড় দুঙ্গা৷ 

দামোদর শেষ যে বাড়িতে যাবেন সেখানে বাথরুম ঝকঝকে তকতকে করে তোলা হল। কেউ একজন গোবরজল দিয়ে ধোওয়ার কথাও বলেছিল। তা শুনে দামোদর শেঠ বললেন– সব জগা এক নীতি নহি চলেগা। জাঁহা ফিনাইল লগেগা ওঁহা ফিনাইন, জাঁহা গোবর পানি জরুরি হোগা ওঁহা গোবরপানি৷ মিডিয়া মে কঁহি আ গয়া তো বাওয়াল হো জায়েগা। 

নির্দিষ্ট দিন উপস্থিত। ১০-১২ টি মিডিয়ার তীক্ষ্ম দৃষ্টি নেতার কর্মসূচির দিকে৷ মিডিয়া যেভাবে ছন্দ মিলিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠানের নাম দেয় তেমন একটি হিন্দি চ্যানেল অনুষ্ঠানের নাম দিল এভাবে– "দলিত কে ঘর হাগনা / দেশ কা নয়া জাগনা?" 

নেতা ধুতি পরেছেন৷ বাংলায় কর্মসূচি বলে কথা৷ ধুতি পরাটা সুবিধাজনক না হলেও পরতে হল৷ লুঙ্গি পরাটাই সবচেয়ে সহজ হত৷ কিন্তু লুঙ্গি? সেসব পরলে অন্য সমস্যা৷ পার্টি যে ন্যারেটিভে রাজনীতি করে তা গুবলেট হয়ে যাবে৷ 

প্লাস্টিকের বালতিতে জল। তাতে মগ ভাসছে। দেহরক্ষী পায়খানা ঘরের দরজা পর্যন্ত বয়ে দিলেন বটে, কিন্তু নিয়ে ঢুকতে তো নিজেকেই হবে৷ এত বড় নেতা ধুতি পরে নেতা হাগতে ঢুকছেন৷ এই বিরল দৃশ্য ভারতীয় রাজনীতিতে আগে দেখা যায়নি৷ সবাই ধন্য ধন্য করে উঠছে৷ 'আমি আদরনীয় নেতাজিকে হাগতে দেখেছি। এই হাগার ফলে দেশের অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে।' জাতীয় সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টও রেডি৷ সময়মতো কপি-পেস্ট শুরু হবে৷ নেতা হাগতে ঢুকলেন৷ টিআরপির গন্ধ পেয়ে মিডিয়া ক্ষেপে গেছে৷ 

এক সাংবাদিক এবং নিউজ রুমের সঞ্চালিকার কথোপকথন চলছে৷ 

"ঠিক কী বুঝতে পারছ রাজর্ষি? কী মনে হচ্ছে? দামোদরবাবু কতখানি হাগবেন? হাগার কালার সম্পর্কে তোমার কী অনুমান?" 

"দ্যাখো সুপ্রিয়া, এভাবে কিছুই বলা যাচ্ছে না। যতটুকু জানা যাচ্ছে দামোদর শেঠ গতকাল রাতে পালং পনীর খেয়েছিলেন৷ ভ্যাড়ভ্যাড়ে হলুদ-সবুজ হাগা হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তিনশো গ্রামের বেশি হওয়ার কথা নয়৷" 

"রাজর্ষির সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আমরা এখন বিশেষজ্ঞদের কাছে জেনে নেবো হাগার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য। আচ্ছা শিবনারায়ণবাবু আপনার কী মনে হচ্ছে?"

"সুপ্রিয়া একটা বিষয় আমি বলতে পারি৷ হাগা বেশ শক্তই হবে৷ কারণ দামোদর শেঠের কোষ্টবদ্ধতা রয়েছে।" 

হাগার রঙ এবং প্রকৃতি নিয়ে স্টুডিওর মধ্যেই বিশেষজ্ঞরা বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ছেন৷ কেউ বলছেন পাতলা হাগা হবে, কেউ তথ্য দিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছেন কেন পাতলা হাগা হবে না৷ হাগার ফলে উৎপন্ন গ্যাসের প্রকৃতি নিয়েও জোর তরজা চলছে। 

এরমধ্যেই দামোদরের স্নেহধন্য এক নেতা টুইট করেছেন– "এই হাগা শুধু হাগা নয়৷ বামপন্থী এবং দেশবিরোধীদের মুখে ফেভিকল৷"

এক মিডিয়া তড়িঘড়ি খবর করলো– এই বক্তব্যে ফেভিকলের উল্লেখ থেকে বোঝা যাচ্ছে নেতার আঠালো হাগা হবে৷ আমাদের মিডিয়াই প্রথম আপনাদের জানালো নেতা আঠালো হাগবেন৷ 

প্রায় আধঘন্টা অতিক্রান্ত। নেতা বেরোচ্ছেন না৷ তা দেখে মিডিয়ায় হইচই৷ নেতা-কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে৷ 

এক ফিচকে বামপন্থী সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিল– 'হাগতে গিয়ে অক্কা পেলেন।'

সেই পোস্টে হামলে পড়ে নেতার সমর্থকরা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মা-বোন উদ্ধার করে তাকে কার্যত পাকিস্তানে পাঠিয়ে দিলেন৷ 

অবশেষে নেতা বেরিয়ে এলেন৷ তিনি শৌচ করে হাত ধুয়েছেন কি ধোননি৷ সাংবাদিকরা ছুটে গেলেন৷ নেতাকে ঘিরে প্রশ্ন করলেন– স্যর ক্যায়সা হাগা হুয়া? দলিত কে ঘর মে হাগকর ক্যায়সা লগ রাহা হ্যায়? দেশ মে বদল আয়েগা? 

নেতার মুখ ব্যাজার৷ তিনি বিরক্ত৷ নিজের বাড়ির বিলাসবহুল বাথরুমে হাগার অভ্যাস তাঁর৷ এই পায়খানায় হাগা হয়? রাজনীতির জন্য কতকিছু করে বেড়াতে হয়৷ হেগে জল দেওয়াও যায় না৷ কারণ মিডিয়ায় হাগু হাইলাইট হলে জনমানসের পজিটিভ প্রভাব পড়বে৷ যত্তসব! ক্রোধ প্রকাশ পাবে না অথচ কড়াভাবে বলা হবে, এমনভাবে দামোদর বললেন– আপলোগ কৃপিয়া করকে মুঝে জানে দিজিয়ে৷ আপলোগ স্পট মে যাকে দেখিয়ে, আপকো সব তথ্য মিল যায়েগা৷ 

সাংবাদিকরা ছুটলেন৷ একে অন্যের ঘাড়ে চড়ার মতো পরিস্থিতি৷ আশ্চর্য প্রতিযোগিতা। কে আগে নেতার হাগুর ব্রেকিং নিউজ মিডিয়ায় আনতে পারবেন৷ ছোট পায়খানা ঘর, সেখানেই গুঁতোগুঁতি। আরেকটু হলে একজন ওখানেই পড়ে যেতেন৷ 

অবশেষে মিডিয়ায় দামোদর শেঠের হাগুর ছবি এল৷ ইটের মতো শক্ত কালচে হাগা৷ পঞ্চাশ গ্রামেরও কম৷ সেই হাগার সমর্থন এবং সমালোচনা নিয়ে দেশ তোলপাড়৷

দিল্লির এক সাংবাদিক তাঁর প্রাইমটাইম শো তে দামোদর শেঠের হাগু সম্পর্কে একটানা বলে যাচ্ছেন– 
"দামোদরজি চাইলে বেশি হাগতে পারতেন৷ কিন্তু যে দেশে জলের সংকট সেখানে বেশি হাগা মানে জল অপচয়৷ তিনি সেপথে যাননি। এতেই প্রমাণিত হয় তিনি কতখানি সচেতন৷ উনি সম্ভবত একই কারণে জল কম খান। শক্ত পায়খানা তারই প্রমাণ৷ একজন নেতা কতখানি মহান হলে জল কম খান, কারণ তিনি জানেন দেশের বহু অংশে এখনও পানীয় জল পৌঁছয়নি। এর গুরুত্ব কেবল একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিকই বুঝবে৷" 

এইপর্যন্ত প্রায় সবই প্রত্যাশিত ছিল৷ সকালে খবরের কাগজ খুলে দেখি নেতার ছবির নীচে তাঁর গতকালের রস শুষে নেওয়া হাফ ল্যাংচা সাইজের গুয়ের ছবি৷ পয়েন্ট করে করে লেখা আছে গুয়ের নানা বিবরণ৷ হাগতে কত সময় নিয়েছেন, হাগার পরিমাণ কী, হাগার মধ্যে উপস্থিত রাসায়নিক উপাদান, সে হাগা জমিতে পড়লে কতখানি জায়গা উর্বর করবে ইত্যাদি৷
*****
আমি কেউ না। আমি শুকনো পাতার মতো আমাকে চাইলে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া যায়। 

আমি ধুলোর মতো। আমাকে চাইলে আবর্জনার মতো ঝেড়ে ফেলা যায়। 

আমি অপ্রয়োজনীয় কাঠপেন্সিল। যাকে কেউ রেখে দেয় অভ্যাসে কিংবা নিছক শৌখিনতায়। 

আমি কারও আকাশ হতে পারিনি, হতে পারিনি কারও প্রিয় কাঠগোলাপ। আকাশে জুড়ে ঝলমলে জ্বলতে থাকা ধ্রুব তারা হতে পারনি কারও জীবনে। হতে পারিনি ভোরের প্রথম শিশির কিংবা কারও পূর্ণিমার চাঁদ। আমি কারও ভালোলাগার বৃষ্টি হতে পারিনি। ছুঁতে না পারা মানুষটাকে বাতাস হয়ে ছু্ঁয়ে দিতে পারিনি। আমি কিচ্ছু না! 

আমি বেড়ে উঠেছি অপ্রয়োজনীয় মূল্যহীন আগাছার মতো। আমাকে যেই চেয়েছে সেই পেয়েছে, শুধু আমি যাদেরকে চেয়েছি তাদেরকে আমি পাইনি। আমি অনেকেই হারিয়েছে, আমাকে কেউ হারায়নি! হারানোর মতো মূল্যবান কেউ ছিলামও না কখনও। আমি কেউ না। কিচ্ছু না!
থ্রি ইডিয়টসের চেয়ে ছিচোড়ে মুভিটা আমার কাছে বেশি প্রিয়।কারণ, থ্রি ইডিয়টস আপনাকে বলবে, তুমিও জিতবে।বাট ছিচোড়ে  মুভিটা আপনাকে বলবে, তুমি হারবে, তারপরেও তুমি বেঁচে থাকবে।

"জীবনের কাছে হেরে গেলাম" লিখে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহাগ ছেলেটা মরে গেল। হয়তো তাকে কেউ কখনও বলেনি, জিতে যাওয়া মানেই জীবন না, হেরে যাওয়ার মধ্যেও থাকে বেঁচে থাকার আনন্দ।

শিব খেরা, ডেল কার্নেগি থেকে আমাদের বাবা মা, বারবার আমাদের একটা কথাই বলে, তুমিও জিতবে। শক্ত হও। উঠে দাঁড়াও। দৌড়াও। জিততে তোমাকে হবেই।
কিন্তু কেউ কখনও বলে না, তুমিও হারবে। তুমিও তো রক্ত মাংসেরই মানুষ, তোমারও ক্লান্ত লাগবে। একটু বসো। সবসময়ই উঠে দাঁড়ানোর দরকার নাই। সবসময়ই দৌড়ানোর দরকার নাই।একটু বিশ্রাম করো। অনেকক্ষণ তো শক্ত থেকেছো, এবার একটু নরম হও।কেউ বলে না।

বলে না বলেই, সোহাগের মতো ছেলেমেয়েগুলো ঝুলে পড়ে। কেউ রিলেশনশিপের জন্য, কেউ টাকার জন্য, কেউ ক্যারিয়ারের জন্য, কেউ রেজাল্ট বা সিজির জন্য, কেউ বা একটুখানি ভালোবাসার জন্য।

হেলাল হাফিজ এক বুক কষ্ট নিয়ে লিখেছিলেন,

কেউ বলেনি,
ক্লান্ত পথিক,
দুপুর রোদে গাছের নিচে একটু বসে জিরিয়ে নিও...

ওদিকে হুমায়ূন আজাদ লিখেছিলেন আরো ভয়ঙ্কর কথা।

আমি সম্ভবত খুব ছোট্ট কিছুর জন্যে মারা যাবো
খুব ছোট একটি স্বপ্নের জন্যে
খুব ছোট দুঃখের জন্যে
আমি হয়তো মারা যাবো কারো ঘুমের ভেতরে
একটি ছোট দীর্ঘশ্বাসের জন্যে
একফোঁটা সৌন্দর্যের জন্যে।

মা বাবা, শিক্ষক, গার্জিয়ান, বন্ধু, সমাজ, পৃথিবী, আপনাদের সবার কাছে আমার একটাই অনুরোধ,জিতে যাওয়ার মোটিভেশন দেন, সমস্যা নাই।কিন্তু হেরে যাওয়াদের কথাও একটু বলেন। পৃথিবীতে সবাই জিততে আসে নাই। সবার জেতার দরকারও নাই। কিন্তু এই পৃথিবীতে সবাই বাঁচতে আসছে। 

এই পৃথিবীর প্রতিটা মানুষ ছোট্ট একটা স্বপ্ন ডিজার্ভ করে, একটুখানি সিমপ্যাথি ডিজার্ভ করে, এক ফোঁটা রোদ্র ডিজার্ভ করে, ছোট্ট একটা ঘাসফুল ডিজার্ভ করে।
এই পৃথিবীর আলো বাতাস, জল বা জোছনায় সবার সমান অধিকার আছে। জিতে যাওয়া মানুষটার যেমন দোয়েলের শিষ শোনার অধিকার আছে, হেরে যাওয়া মানুষটারও তেমন এক ফোঁটা বৃষ্টির পানি পাওয়ার অধিকার আছে।

জয়ের মালা বিজয়ীরই থাকুক, ওটার ভাগ কেউ চায় নাই। তাই বলে হেরে যাওয়া মানুষের উপর থেকে এক টুকরো মেঘের ছায়া কেড়ে নেওয়ার অধিকার কারো নাই।
কারো না।

From the group of Positive Thinkers.
সংগৃহিত..

নীলাক্ত নীল

যে কিশোরী বয়সে শরীরের আকর্ষণে মোহ হয়ে অনেক মেয়ে চার দেয়ালে প্রেমিকের আকুল দীর্ঘশ্বাসের অপেক্ষা করে, ওই বয়সেই নীলা আমাকে শিখিয়েছে জীবন মানে অনেক বিশাল, চার দেয়ালে কিছুই নেই। রেললাইনে দেখিয়ে বলতো -  রেল লাইনের দুটি পথ সবসময় আলাদা থাকলে ও সবসময় পাশাপাশি  থাকে, আমাদের ও এভাবে থাকতে হবে ; আলাদা তবে একসাথে। নীলা ঝড়ের রাতে আমাকে ফেলে চলে যাওয়ার ভান ধরতো, ও আমাকে শিখাতে চাইতো ধকল নেওয়া। 
প্রাপ্ত বয়সে যখন সংসার দেখার স্বপ্ন দেখে সবাই! নীলা আমার শার্টের কলার চেপে ধরে বলেছিলো " ভালো মানুষ হও"। আমি একবার নীলার হাত ধরে অবাক হয়ে বললাম "তোমার হাতের রেখা নেই কেন?" এক গাল হেসে জবাবে বলে দিলো " আমার জন্ম তো তোমাকে কাছে পাওয়ার জন্যে হয়নি, রেখা দেখে গণক যদি বুঝে যায়!"

 সত্যি! যে   নীলার এমন ভালোবাসা আমাকে বিমোহিত করে, অবাক করে।

আজ কেন জানি না মনে হচ্ছে আজ নীলার সেই সব স্মৃতি আমায় ভুলিয়ে দেবে একটা কাঠ গোলাপের সুগন্ধিতে। 
আমি কাউরে জোর করবার পারি না,কাউরে অধিকারের দোহাই দিয়া মনের খাঁচায় বন্দী করবার পারি না। যার যহন মন চায়,তহনই আমারে ভাইঙ্গা চুইরা  দিয়া গেলেও আমি কইবার পারি না;"এমন কইরা ক্যান দুঃখ দেও?আমি যে সইবার পারি না!"

জীবনে মেলা দুঃখ পাইছি!তয় কেউ সুখ নিয়া আইসা কয় নাই;"অনেক অইছে,অহন আহো,আমি তোমারে সুখ দিমু।"

আমার যা মেলা পাইতে ইচ্ছা করছে,আমি তা চাইতে পারি নাই।কাঁইন্দা বুক ভাসাইছি,তাও মুখ ফুইটা কইতে পারি নাই;"ঐডা আমার লাগবো!"

মাইনষের সুখ দেইখ্যা হাস ফাঁস করছি,তয় নিজে কোনদিন সুখে থাকবার পারি নাই!থাকবার পারমু ক্যামনে?যারে সুখ ভাবছি,ঐডাই আমার দুঃখের কারণ অইছে!

জীবনে অনেককিছুই হারাইছি,তয় এমন কিছু পাই নাই,যা নিয়া আমি একটু ভালা থাকুম!

কেউ আমার রাইতের ঘুম কাইড়া নিলেও,আমি কারো সুখের ঘরে আগুন লাগাই নাই।কত মাইনষে ভালাবাসে কইয়া আমার কাছে আইছে,তয় কেউ মন থাইকা ভালাবাসে নাই!

ভালাবাসবো ক্যামনে?আমার মতোন নিঃস্ব মাইনষেরে কি আর ভালাবাসন যায়? যার কেউ নাই-কিচ্ছু নাই!দিনশেষে আমারে কেউ ভালাবাসে নাই,তাতে দুঃখ নাই।তয় দুঃখ অইলো,যারা ভালা না বাইসাও কইছে "ভালাবাসে",তাগোর কি এমন ক্ষতি আমি করছিলাম?

"ক"

"ক" ব্যবহার করে এতো দীর্ঘ লেখা আমি প্রথম পড়লাম। লেখক বা লেখিকার নাম উল্লেখ ছাড়াই লেখাটা পেলাম। অসাধারণ দক্ষতা।  🙏🏻

পুরোটা পরে দেখুন খুব ভালো লাগবে আপনাদের। 

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী কলেজের কনিষ্ঠ কেরাণী কার্তিক কুমার কর্মকারের কোকিল কন্ঠী কন্যা কপিলা কর্মকার কাশিতে কাশিতে করুণ কন্ঠে কমল কাকাকে কহিল, "কাকা, কড়ি কাঠের কেদারা কিংবা কারখানার কাপড় কেনাকাটায় কৃষাণীরা কিছুটা কৃচ্ছতা করিলেও কলকাতার কিশোরী কন্যাদের কাছে কুষ্টিয়ার কুচকুচে কালো কাতান কাপড়ের কদর কল্পনাতীত। 
কীর্তিমান কতিপয় কলাকুশলী কিংবা কিশোর কবিরাও কালি-কলমের কল্যাণে- কদরের কিছু কার্যকর কথা কৌশলে, কখনো কবিতার কিতাবে, কখনো 'কালের কন্ঠ' কাগজের কলামে কহিয়াছেন।
কিন্তু কাকা, কষ্মীনকালে কেউ কী কখনো কহিয়াছেন? কী কারণে, কিসের কারসাজিতে, কেমন করিয়া কোথাকার কোন কাশ্মিরী কম্বল কিংবা কর্ণাটকের কমলা কাতানের কাছে কালক্রমে কুলীন কূলের কায়িক কৃষাণীদের কাঙ্খিত কালজয়ী কারুকার্যময় কাতান কাপড়ের কদর কমিল"?

কাজে-কর্মে কুশীলব কিন্তু কেবলই কৌতুহলী কপিলা কর্মকারের কঠিন কথায় কিঞ্চিত কর্ণপাত করিয়া ক্লান্ত কাকা কুষ্টিয়ার কিংবদন্তি কালো কাতানের ক্রমেই কদর কমার কয়েকটি কারণ কোমল কন্ঠে কপিলার কানে কানে কহিলেন। 

কৃষ্ণকায় কাকাকে কাপড়ের কষ্টের কিচ্ছা কাহিনী কহিয়া কপিলা কর্দমাক্ত কলস কাঙ্খে করিয়া কালোকেশী কাকিকে কহিল, _"কাবেরী কোলের কেয়া-কুঞ্জে কোয়েলের কলকাকলি কিংবা কেতকী কদম কুসুম কাননে কোকিলের কন্ঠে কুহু কুহু কুজনের কতই কারিশমা! কিন্তু কাকী, কদর্য কাক কী কারণে কর্কশ কন্ঠে কানের কাছে কেবল কা-কা করে"?_

কাঁচের কংকন করিয়া কিংকর্তব্যবিমূঢ় কাকী কিলানো কাঁঠালের কদলি কচলাইতে কচলাইতে কহিলেন, _"কুৎসিত কেতাদুরস্ত কাকের কাজই কা-কা কলরবে কোলাহল করিয়া কেরামতির কৃতিত্ব কুড়ানো"।_

সংগৃহীত
বাস্তববাদী
২৪/২৫ বছরের এক যুবক উপহারের দোকানে মাঝবয়সী দোকানদারের উদ্দেশ্যে বলছেন 
"আচ্ছা বিধবার জন্মদিনে কী উপহার দেয়া যায় বলুন তো ?"

দোকানদার 
" ভদ্রমহিলার বয়স কী রকম হতে পারে?"

 যুবক

"ধরুন ২১/২২"

 দোকানদার 
"আচ্ছা উনি আপনার নিকট আত্মীয় মানে বোন, মামাতো বোন ,এইরকম কেউ নন তো ?"

যুবক 
"না সেরকম কিছু নয় "

দোকানদার
 "আচ্ছা আপনি কি বিবাহিত না অবিবাহিত?"

যুবক 
"এ তো পুলিশের মত জেরা"

 দোকানদার
" সেরা উপহার এর জন্য জেরার দরকার আছে।"

যুবক 
"আমি অবিবাহিত "

দোকানদার 
"এ তো সোনায় সোহাগা ,আচ্ছা একটা খুব কম দামের ভালো উপহার ,যেমন ধরুন 
৬ টাকা চলবে ?"

যুবক 
"আপনি কি লটারির  টিকিটের কথা বলছেন ?"

 দোকানদার 
 "না স্যার তার চেয়েও অনেক দামি জিনিস সম্ভবত দুজনেই জিতবেন।"

যুবক
"যেমন ?"

দোকানদার
"৬ টাকা দিয়ে একপাতা সিঁদুর নিয়ে যান না ,দু একজন কে সাক্ষী রেখে  সিঁথিতে সুন্দর করে লাগিয়ে দেবেন ।"

যুবক
"আপনি দোকানদার নন, আপনি তো দার্শনিক, দিন ৬ টাকার সিদূর দেখা যাক জীবনের সেরা ছক্কাটা  ৬ টাকাতেই মারা যায় কিনা !"

কি শুনতে চাও বলো? 
আমার দীর্ঘশ্বাসের রাত্রি গুলোয় তুমি ছিলে না, বিষন্নতায় মোড়ানো চাপা হতাশায় একই কি ভাবে কাটিয়েছি   এসব"
না'কি শূন্য পকেটে রাস্তার মোড়ে বসে যখন এক গ্লাস জলের জন্য ছটফট করেও তোমার কন্ঠ মাখিয়ে তৃপ্ত করনি,সে অবমাননার কথা!!


নীলাম্বরী

শুনছেন নীলাম্বরী, 
জানি শুনছেন না, তবুও অনুভূতির অদৃশ্য দেয়াল ভেদে লিখছি কিছু সিক্ত কথামালা। লিখছি বিষাদের বিষাদ নীলে অশ্রুসিদ্ধ কিছু সময়ের কথা। আপনি তো আবছা নীলে নীলাক্ত আর আমি? আমি আপনার সেই নীলে আসক্ত আপনার বিষে বিষাক্ত। নীলের আদ্রতা হতে পারিনি আমি তবে সেই বিষে সপে দিয়েছি নিজেকে। বুকের মাঝে মনক্ষুণ হওয়ার বিশাল একটা দেয়াল গড়ে উঠেছে। অভিমান নামক রুদ্ধ দরজায় দাঁড়িয়ে আছে। নীলের অবহেলার পাহাড় এক দম্ভেয় মতো আঘাতে চূর্ণ করেছে হৃদয়কে। মনের অন্তঃকোণ হয়ে আছে আবছা নীলে নীলাভ। আমিও দিব্যি গিলে খাচ্ছি সেই নীলে নীলাভের বিষ। বুকের মাঝে হাহাকারের হুইসেল বাঁচছে, 
হুম হয়তো বেঁচে আছি আমি আবার হয়তো না । 
কখনো কি শুনবেন নীলাম্বরী এই হৃদয়ের ডাক, কখনো কি বুঝবেন এই মনের আত্নহুতি। আমার দুনিয়া আপনি অস্তিত্ব আপনি, আবছা নীলে নীলাক্ত আমি!!   আপনি  নীলাম্বরী?? !! 

তোমার শুন্যতা

একটা অদ্ভুত ব্যপার কি জানো, আমাদের আর ভুল করেও দেখা হবেনা। ভুল করেও আর চোখে চোখ রাখা হবেনা। ভুল করেও আমাদের আর হাতে হাত রাখা হবেনা। ভুল করেও ভুলেও তোমার গন্তব্য আমার বাড়ির  রাস্তায় আর আসবে না। 

চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে আছে বড্ড, চিৎকার করে কাঁদতে চাইছি কিন্তু পারছি না। অনবরত অশ্রু বর্ষন হচ্ছে। মনে আছে আমাদের প্রিয় সেই বকুল গাছের কথা?  কতশত স্মৃতি জড়িয়ে আছে সেখানে তোমার আমার। সেই চেনা পথ, চেনা রাস্তা যেখানে মিশে আছে আমাদের সহস্র অনুভূতি।। 

তোমার প্রিয় কাঠগোলাপ গাছে এখন বেশ নিয়ম করে ফুল ফোঁটে।  বেলীফুলের  ফুলে  ভরে গেছে বাগান । রাতের বেলা পুরো বারান্দায় বেলীফুলের সুভাস ছড়িয়ে যায়।আমার রুমের উত্তর দিকের জানালা দিয়ে এখনো ভোরের আলো প্রবেশ করে।।
তোমার জন্য মনের  কোণে বানানো কুঠিরে এখনো নিয়ম করে পরিষ্কার করা হয়। তবে এখন আর সেখানে বসে আমার আনন্দ হয়না জানো!! 

সব কিছু আগের মতোই আছে সব কিছু। তবুও যেন কিছু একটার শূন্যতা রয়েই যায়।   কাঠগোলাপ তোমার অপেক্ষায় আছে,  ফোঁটা বেলীফুল গুলো তোমার অপেক্ষায় আছে,
একলা ঘরের কোণে দোলনায় বসে থাকা কেউ একজন তোমার অপেক্ষায় আছে। তবে তুমি নেই, তুমি এইসবের কিছুই দেখতে পাচ্ছো না।। 

প্রতিটি চোখের জল তোমার শূন্যতা জানান দিচ্ছে, খুব কঠিন ভাবে হৃদয়কে ক্ষতবিক্ষত করে দিচ্ছে।। 
প্রেম, ভালোবাসা জিনিসটা আসলে কি? যখন প্রেমে পড়বেন নিজেকে নিজের এত ভালো লাগবে! আয়নার সামনে গিয়ে নিজেকে বার বার দেখতেও বিরক্ত লাগবেনা! প্রেমের সবচেয়ে সুন্দর মুহুর্ত কি জানেন? প্রেম হবে হবে; কিন্তু হচ্ছেনা! এরপর প্রেম চলাকালীন সময়ে মনে হবে এই প্রেম কোথায় ছিলো এতদিন? মনে হবে এর চেয়ে চমৎকার জিনিস বোধহয় এই নশ্বর পৃথিবীতে আর কিছুই নেই! আর একবার যদি ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়? হাজার মানুষের ভীড়েও একা লাগার মত যন্ত্রণা কিংবা সারারাত অকারণে জেগে থাকার অভ্যেস তোমাকে একদম শেষ করে দিবে!

আমি এক প্রশ্নবোধক চিহ্ন

সবাই বলে আমি দুর্বল প্রকৃতির মানুষ!
আমি প্রচন্ড আবেগি,সাধারণ কিছু নিয়েই দুশ্চিন্তায় ভোগী,কারোর সামান্য কটু কথায় কেঁদে দেই! আসলেই আমি দুর্বল প্রকৃতির মানুষ.. 
অথচ আমি সেই ব্যক্তি যে প্রচন্ড কষ্ট পেয়ে, শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতেও নিজের চোখের অশ্রু নিজে মুছে নিজেকে সান্ত্বনা দিয়ে হাসি এবং সকলের মাঝে স্বাভাবিক ভাবে জীবন অতিবাহিত করি কেউ বুঝতেই পারে নাহ আমার সাথে কি ঘটছে! তাহলে আমি দুর্বল কিভাবে? আদৌও কি আমি দুর্বল প্রকৃতির মানুষ? 

বেহায়া সময়

মাঝরাতে অথবা ভর দুপুরে; বৃষ্টি হওয়া মানেই তোমাকে মনে পড়তে হবে তা কিন্তু না! আমার মনে হয় এই এমন একটা জিনিস কখনোই নিয়ম হতে পারেনা! তবুও তুমি বৃষ্টি হলে নিয়ম করে মনের মাঝে ভয়ংকর ভাবে হানা দাও! আমার ইচ্ছে হয় প্রথম দিনের মত মনে প্রচন্ড আবেগ আর তীব্র ভয় নিয়ে তোমাকে ছুয়ে দেখি! প্রথমবার ছুয়ে দেখার মত একটা আবেগ ঠিক কি পরিমাণ পবিত্র হতে পারে আমার জানা নেই! 

কতগুলো দিন আমরা একসাথে ছিলাম; একই পথে হাতে হাত রেখে হেটেঁছি; প্রতিটি দিনের কথা আমার এখনো মনে আছে দিন তারিখসহ; কড়া রোদে কুলফি কিংবা বৃষ্টিতে দুধ-চিনি বাড়িয়ে মালটোভা দেয়া চায়ের কাপ; কি সুন্দর দিন ছিল না বল?

একদিন হুট করে কোন কিছু বুঝে উঠার আগে এত এত ভালোবাসা ছেড়ে বোকাদের দলে নাম লিখিয়ে তুমি চলে গেলে; তোমাকে রেখে চলে আসার সময় কি কি সব যে মনে হচ্ছিল ভেবে হাসি পায় আজকাল; বিশ্বাস কর হাটঁতে পারছিলাম না ঠিকমত; মনে হচ্ছিল রাস্তার সাথে পা আটঁকে যাচ্ছে; বাসে একদম পিছনের সিটে জানালার পাশে গিয়ে বসতেই চোখ দিয়ে টুপ টুপ করে জল বেয়ে পড়ল; বাসের সবাই যে কিভাবে তাকাচ্ছিল ভাবলেই আজকাল লজ্জা লাগে; আমি তোমার মত ফর্সা হলে লজ্জায় মুখ লাল হয়ে যেত!

আমাকে ছাড়া এক মুহুর্ত থাকতে না পারা মানুষটা কিভাবে আমাকে ছাড়া আছে আমি এখনো বুঝিনা; আমিও বা কম কিসে বল; তোমাকে ছাড়া কতগুলো দিন বেহায়ার মত হাসতে হাসতে কাটিঁয়ে দিচ্ছি; সময় জিনিসটা কেমন যেন না? নিরব ঘাতক; সব কেড়ে নিয়ে আবার সব ক্ষত নিজেই মুছে দেই! হা হা হা!
এ-জীবন থমকে আছে তুমি আসবে বলে,
তুমি আসবে বলে -তোমার অপেক্ষায় প্রকৃতপক্ষে আমিই থমকে আছি "জীবন থমকে আছে" এই অজুহাত দেখিয়ে! 
চাইনা তুমি যাও কভু  দূরে,
তোমায় ছাড়া আমার এ জীবন তলিয়ে যাবে অচেনা ছন্দহীণ সুরে!
ইতি আপনার পিচ্চি,,
❝আমার বিকল্পের মানুষটি'র প্রাপ্তিতে কি এমন ছিলো?
সে কি নক্ষত্র চিনতো, শেষ প্রহর বুঝতো?
নাকি সে দেবতা ছিলো!
যার দর্শনে খুঁজে পেয়েছিলে তোমার শ্যামকে।❞

❝তোমাতে আবদ্ধ হওয়ার তাড়নায় প্রেম নাযিল হয়েছে এই মনে -
হয়েছি প্রেমিক তোমার একনিষ্ঠ'তায়।❞


অসাহিত্অশান্তির অনলে পুড়ে ছাই হলেও 
শান্তি মিলেনি কোথাও।। 
চাওয়া পাওয়ার এই ছোট জীবনে সব কিছু থাকে আর যা থাকে না তা হলো শান্তি। সবাই কোনো না কোনো ভাবে মানসিক অশান্তির মাঝে জীবন পার করছে এবং দিন শেষে "ভালো আছি" বলে নিজেই নিজেক
তোমার জন্য হটাৎ করে চোখের কোণে জল,
মনে পড়ে ওইসব সুন্দর আকারে থাকা অজস্র ভালোবাসার দল!
ইতি আপনার পিচ্চি কবি
বাহিরে কি পিনপতন নীরবতা, অথচ ভেতরে ভেতরে সবাই ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে! 

আমরা সেই না বলা কথা গুলো

অশান্তির অনলে পুড়ে ছাই হলেও 
শান্তি মিলেনি কোথাও।। 
চাওয়া পাওয়ার এই ছোট জীবনে সব কিছু থাকে আর যা থাকে না তা হলো শান্তি। সবাই কোনো না কোনো ভাবে মানসিক অশান্তির মাঝে জীবন পার করছে এবং দিন শেষে "ভালো আছি" বলে নিজেই নিজেকে শান্তনা দিচ্ছে! 

কাঠ গোলাপের আগুন

মন টা,,,, সেদিন থেকেই বারেবারে একটা কথাই বলে ওঠে,,, গেয়ে ওঠে সেই ছন্দ,,, 

" কি নামে ডেকে বলবো তোমাকে 
মন্দ করেছে আমাকে ওই দুটি চোখে,,
আমি যে মাতাল হাওয়ার মতো 
যেতে যেতে পায়ে পায়ে গেছি জড়িয়ে ,,

তবে তোমায় কাঠ গোলাপ বলে ডাকলে আমি সত্যিই খুব আনন্দিত হবো। 
সত্যিই কি এমন কোন দিন হবে! 

না তুমি প্রেম নও আবার ভালোবাসাও নও। 
প্রশ্ন এখানেই তবে তুমি কে? 

তুমি!  তুমি অন্তরে আগুন নিয়ে বাইরে শীতল শ্যয্যার মতো।  
আমি নতজানু প্রিয় কাঠ গোলাপ তোমার আগুনের ভীষণ শিখায় নিজের আহুতি দিতে যেমন শ্যামা পোকা ছুটে আসে প্রখর আলোক শিখার দিকে আমিও নিজেকে শ্যামা পোকাই ভাবতে চাই প্রিয়।

সেদিন সত্যিই আমি মাতাল ছিলাম  আমার সমস্ত নেশা এক নিমেষে দূর করে দিয়েছে । 
সেই চোখ থেকে যে লেলিহান দাবালনের শিখা  আমি দেখেছি তা এক কথায় বলা সম্ভব নয়।

সত্যি বলতে সেদিন ওই চোখ থেকে যে আগুন আমি দেখেছি নিজেকে কেন জানিনা ঐ আগুনে পুড়িয়ে ছাই বা ভষ্মে  পরিনত হতে বারবার আমায় টানে। 

আমি  জানি এর পরিনাম খুব খারাপ হবে খারাপ বুঝলে আর কি ওই যে ছাই বা ভষ্মে পরিণত হওয়া  তার থেকে আনন্দের আর কিছু নেই।  
তারপর আর এই  পৃথিবী থেকে আমার আর কিছু প্রয়োজন নেই।  কারণ লোক মুখে  সবাই বলে ছাইতে জল ঢালা ও বেকার।  

কাঠ গোলাপ!  
এযাবৎকাল অনেক আগুনে পূড়েছি।   পুড়তে পুড়তেই এই পর্যন্ত এসে তোমার আগুনে নিজের আহুতি দিতে চাই। হ্যাঁ আমি একদম প্রস্তুত। 
এবার প্রাথনা তোমার কাছে  যদি অনুমতি পাই আমি তোমার মধ্যে যে আগুন দেখেছি আমি সেই আগুন জালিয়ে  দেখিয়ে দিয়ে যাবো তুমিই আমার মুক্তির সাধনা। 
হ্যাঁ তোমার মধ্যেও সেই আগুন আছে।
 বিশ্বাসের সাথে নিজেকে সন্ধান করলে  তুমি নিজেই পরখ করে জানতে পারবে। 

তবে অনুরোধে শুধু একটা-ই  আমি নিজেকে  কাঠ কয়লার সাথে কেন বলেছি তার ব্যাখ্যা নিজেই জানি।  তবে আমি জীবনে সব সময়ে নিজের যুক্তিকে সম্মতি দিয়েছি।  আর তোমার থেকেও প্রাথমিক ভাবে তাই প্রাথনা করবো। 

জীবন আর ভুল মানুষ

ভুল মানুষের পাল্লায় পড়ে জীবন শেষ করে দেয়ার থেকে,সারাজীবন নিঃসঙ্গ থাকা ঢের ভালো!
আমি কখনোই বিচ্ছেদের পক্ষে নই।কিন্তু তাই বলে যে ভুল মানুষের কাছেই সারাজীবন কাটিয়ে দিতে হবে,এমনটাও বলছি না!

সঠিক মানুষ আর ভুল মানুষের মধ্যে পার্থক্যটা ঠিক বোঝার উপায় নেই, তবে একটা মানুষের সাথে থাকতে থাকতে যখন প্রমাণ হয়েই যায় যে মানুষটা ভুল;তখনও তার কাছে থেকে যাওয়ার কোনো মানেই হয় না!

ভুল মানুষকে শত চেষ্টা করেও সঠিক মানুষে রুপান্তরিত করা যায় না কখনোই। স্বভাবে যার মিথ্যা,প্রতারণা এবং উদাসীন মনোভাব লুকিয়ে থাকে তাকে মানুষ করতে গিয়ে বরং আপনি নিজেই অমানুষে পরিণত হয়ে যাবেন;তবে তাকে আর মানুষ বানাতে পারবেন না!

শত অবহেলা,শত কষ্ট বুকে চেপে দিনের পর দিন একতরফা ত্যাগ করে যাবেন;কিন্তু যে মানুষটা নিতান্তই ভুল,সেই মানুষটা কখনোই আপনার কথা ভেবে বিন্দুমাত্র ত্যাগ  করবে না,করার কথাও না!
কেননা সে নিজেও জানে আপনার প্রতি তার আচরণ কেমন,কিন্তু তারপরও আপনি তাকে ছাড়বেন না,ছাড়তে পারবেন না।

সংসার কয়েক মাস কিংবা ১ যুগের জন্য নয়। দু'জন পাশাপাশি থেকে সকল সুখ-দুঃখ,হাসি-কান্না,অভাব-অনটন এর মধ্যে দিয়ে পরস্পরের স্যাক্রিফাইজ,সহমর্মিতা,দায়িত্ববোধ,বোঝাপড়া,ভালোবাসা-যত্ন দিয়ে আগলে রেখে আমৃত্যু পরস্পরের জীবন পার করে দেয়ার নামই সংসার!

ভুল মানুষ নিয়ে অন্তত সংসার করা যায় না!
আমি আবার বলছি;একদমই যায় না!

এদের ঠিক তাদের মতো করে ছেড়ে দিতে হয়,যেন তারা নিজেরাও ঠিক তাদের মতোই কাউকে খুঁজে নিতে পারে।তারপর দেখবেন,একদিন ঠিক আপনার জন্য আফসোস করবে।যখন দেখবে আপনার মতো করে আর কেউ একতরফা স্যাক্রিফাইজ করে না,করতে চায় না।

জীবন একটাই,আর এ জীবন কেউ রঙ্গিন করে সাজিয়ে দেবে না বরং নিজেকেই সাজাতে হবে।ভুল মানুষকে আঁকড়ে ধরে সারাজীবন মানসিক যন্ত্রণা পেয়ে তীলে তীলে মরে যাওয়ার থেকে,সঠিক সময়ে তার কাছ থেকে সরে আসাই উত্তম!জীবনকে সহজ করতে জীবন থেকে ভুল মানুষকে সরিয়ে ফেলুন,দেখবেন জীবন কত সুন্দর!

আমায় একটু ভালোবাসবে!

আমায় আমায় একটু ভালোবাসবে! একটু? 

কথা দিচ্ছি, হ্যাঁ,,  
আমি তোমাকে কখনোই হারাতে দিবো না!
চেষ্টা করবো নিজেকে শুন্য করে তোমায় সব টা দিয়ে ভালোবাসতে।

জানো তো?
আমার নিকৃষ্ট অতীত আছে,যেখানে কেউ একজন আমায় তীব্র ভাবে ভালোবেসে ছেড়ে চলে গিয়েছিল! 
আমায় ঠাকানো হয়েছে বোকার মতো। 
মানুষ হারানোর যন্ত্রণা যে আমি সেই তখন থেকেই বুঝি!
ভালোবাসা হারানোর যন্ত্রণার সাথে  আমি সেই থেকেই খুব পরিচিত। 
আমায় ভালোবাসবে একটু?
একটু ভালোবাসবে!  
বোলো! 
এই আমায় একটু ভালোবাসবে?
ঠিক সেই রকম ভালোবাসা যে ভালোবাসা বাঁচতে শেখায়,প্রবল হতাশায় বেঁচে থাকার ইচ্ছেকে কেড়ে নেয় না কখনো।

আমায় কেউ কখনোই ভালোবাসেনি!
যারা ভালোবাসবে বলেছে,তারা এখন যে যার মতো বেশ ভালো আছে।
ভালো থাকুক  সব চাতুর বর্গের গুনিজন।

আমি,,, আমি তোমায় কখনোই ঠকাবো না কথা দিলাম। বিশ্বাস করো,,,

আমায় একটু বিশ্বস্ততা দিবে?

ভন্ডদের এ যুগে যে আমি কাউকে বিশ্বাস করতে পারি না!

একটু বিশ্বস্ততা দিবে আমায়,বলো?

কেবল আমার হয়েই থাকবে তো?

 আমি...
আমি পুরো পৃথিবীকে জানিয়ে দেবো,
তুমি শুধুই আমার!

এবার একটু ভালোবাসবে আমায়?
সত্যিকারের ভালোবাসা। 

মন থেকে না হোক,অন্তত মিথ্যে করে হলেও একটু ভালোবাসবে তুমি?

বলো না...

ভালোবাসা যায় না আমায়?
একটুও বাসা যায় না?
একটু ভালোবেসে দেখো আমায়!

সবাই তো কষ্ট আর অবহেলাই দিলো,
তুমি একটু ভালোবাসা দিতে পারো না কি?

বলো...

জানো তো?
মানুষ একবার ভেঙ্গে গেলে নতুন করে কাউকে ভালোবাসতে ভয় পায়।
আর আমি,,  
আমি আজ ভয় পাচ্ছি না।
আমারও যে বেঁচে থাকা বড্ড প্রয়োজন,
আমারও যে ভালোবাসা ভীষণ দরকার।

আমিও যে ভালোবাসতে চাই,
আমিও এবার একটু ভালো থাকতে চাই।

বলো না....
আমায় ভালোবাসবে একটু?

মৃত্যুর মতো ভালোবাসা

এই যে তোমায় মৃত্যুর মতো ভালোবেসেছিলাম একজীবন!
তুমি কি আজও বেঁচে আছো;
প্রচন্ড রকম জানতে চাওয়ার ইচ্ছে আমার। 

তোমায় আমি দেখিনা বহুদিন যাবত। 
 কিন্তু মনে হয় গোটা জীবন  ধরে তুমি বিলীন আমার শহর।

আমি কি! তো অভিমানে দূরত্ব টেনেছিলাম,
আর তুমি? 
 হাতের ঘড়িখানা খুলে অপেক্ষা দেখিয়ে দিলে।

শেষ বেলায় আমার হাতে ছিলো সতেরোটা নীল পদ্ম।
তুমি তিনখান ফিরিয়ে নিয়ে বললে,বিদায় বেলায় আমায় কিছু স্মৃতি দাও,যা তে তোমায় মনে পড়লে আমি ভেসে যেতে পারি স্মৃতির জলে।

কেমন হিংসুটে আবদার করলে,আমি আজ হিসাব শিখে নিলাম।
তোমাকে দেখার ইচ্ছে মিটিয়ে নিলাম,তবুও ভুলে গেলাম না,তুমি নেই। 

সতেজ পদ্ম আজ শুকিয়ে গেলো,অপেক্ষায় চোখের চাওনি বদলে, ডায়েরির ভাজ বদলালো।

আজকাল শরীর জুড়ে নিকোটিনের গন্ধ,
পুরাতন শরীরে নতুন পোষাক  জুড়লেও,মানুষ পুরাতনই থাকে।
কিছু সম্পর্ক পুরাতনই ভালো,নতুন যেনো গোলাপের কাটার ন্যায়। 
শুধু হাত ফুটে রক্তে ভেসে যায়।

তুমি তো অভিযোগ জানতে,বলে ফেলতে পারতে,
আমায় চোখে তোমার তিক্ত বসবাস,অন্যের চোখে তুমি সুগন্ধি রজনী খুঁজো। 
আমার বেলা যে ফুরিয়ে গেলো,তোমার উঠানে আমার নামে ঘাসফুল ছেঁয়ে গেলো।

সে তো দূরত্বের রঙ,দূবা ঘাসে লাল পায়ের ছাপ।
তুমি চলে গেলে,কতো বছর  পেরিয়ে গেলো।
আমার চুলের তেলতেলে ভাব কেটে শুষ্কতা জুড়ে গেলো।
কিন্তু তোমার অভিমানে জল মিশলো না,বরং আমার চোখের জলে তোমার মৃত্যুর গল্পটা   ভিজে গেলো।

বিষাক্ত বিষাদ

*ফিকে হয়েছে কাঠ গোলাপের স্মৃতি.. 

স্মৃতির পাতা ছিড়েছে  ধুলোরঝড়ে... 


প্রিয়, কলমের বিষাক্ত ছোবলে.....  

হৃদয়ে জমেছে লেবু-কাঁটার বিষ....


হেমন্তের হিমেল হাওয়ায় হাওয়ায় 

দেখতে দেখতে এখন ছত্রিশ.. 


মৌরি ফুলের মুকুল এসেছিলো

মৌমাছিদের উৎপাতে ঝড়ে গেলো সেই ফুল..


বিষাক্ত এই বিষাদ নিয়েই

  হয়তো চলতে হবে 

আরো বছর বিশ.. আরো বছর বিশ...*



*ফিকে হয়েছে কাঠ গোলাপের স্মৃতি.. 

স্মৃতির পাতা ছিড়েছে  ধুলোরঝড়ে... 

প্রিয়, কলমের বিষাক্ত ছোবলে.....  

হৃদয়ে জমেছে কাঠ পিঁপড়ের বিষ.......

 এ ভাবেই হয়তো চলতে হবে 

আরো বছর বিশ.. আরো বছর বিশ...*


আমি

আমি খুবই অগোছালো একজন মানুষ। হ্যা নিজেকে মানুষ ভাবতে বিন্দুমাত্র সংকোচ হয় না।  আমার দৃষ্টিও তাই সীমাবদ্ধ রাখি। ততটুকুই দেখার চেষ্টা করি যতটুকু গুছিয়ে উঠতে পারব। কারো সাথে আমার গল্পটা মিলে গেলেই তার গল্প আমি খুব মন দিয়েই শুনি। আমি চাই কেউ আমার গল্পটাও মন দিয়ে শুনুক।
 কিছু বুঝে নিক। আমাকে কিছু বুঝিয়েদিক । 

আমি জানি আমি সরল সোজা একজন মানুষ। জিলাপি টাইপের মানুষ যেমন আমি না জিলাপির মত মানুষ আমার পছন্দও না। আমি বলব না আমি শুদ্ধ একজন। আমারও মুড সুইং এর মত সমস্যা আছে। আমিও রেগে গিয়ে দু চারটা কথা এদিক ওদিক বলে ফেলি। কিন্তু দিন শেষে আমি চেষ্টা করি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে। 

আমি জানি আমি কতটুকু ক্লান্ত হয়ে পরি নিজেকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে। আমি জানি আমি কতটুকু ঝড় সামলে নিয়ে হাসিমুখে দিন পার করি। 
আমি জানি একটা অন্ধকার একলা ঘরে আমি নিজেকে কতটুকু সামলাবার চেষ্টা করি। 

আমি জানি আমি আমার সাথে কত সময় পার করি। স্বার্থপরের পৃথিবীতে একমাত্র আমিই নিঃস্বার্থভাবে আমার সাথে থাকি। তবুও কখনো আমার আমাকে বলা হয় না; আমি আমাকে ভালোবাসি।  

অন্যদের অবহেলা সইতে সইতে কখন নিজের প্রতিও অবহেলা করা শুরু করেছি। হয়ত এর পরিণতি ভালো হবে না। আবার হতে পারে একদিন খুব জেদি হয়ে সব ছেড়েছুড়ে চলে যাব নিজেকে নিয়ে বাঁচতে। আমি অপেক্ষায় রইলাম আমার গল্পের শেষ দেখার। 

আমার নাম টা লিখে রেখো...



আমি সেই থেকে এই পর্যন্ত নিজেকেই চিনে উঠতে পারলাম না।  এই ভাবি আমিই ঠিক আবার কোথা থেকে সব ভাবনা এলোমেলো করে আমায় ভাসিয়ে নিয়ে যায় সেই গভীর সমুদ্রে আমি হয়ে উঠি অন্য এক নীল। 

সেখানেও খুজতে থাকি আকাশ কুসুম স্বপ্ন, দেখতে থাকি স্বাধীনতার ডানা মেলে বাতাসের বুক চিড়ে উড়ে বেড়ায় পাখিরা মেঘেদের সাথে পাল্লা দিয়ে মনে হয় আমিও যদি ওই পাখিদের সাথে উড়ে বেড়াতে পারতাম তবে বুঝি খুব ভালোই হতো।  বিনা বাধায় দেখতে পেতাম আকাশ থেকে মেঘের আড়াল থেকে এই পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য।  
সেই ভাবনাতেও জোটে এক গুচ্ছো যন্ত্রনার ছবি।
হঠাৎ যখন ঝোড়ো হাওয়ায় ঘরে ফিরতে চাওয়া পাখি পথ ভুলে যায় কিংবা ঝড়ের দাপটে অস্তিত্ব হারায় পাখিদের নীড় ও অস্থিত্ব হারায় তাদের ভালোবাসার স্বপ্ন তখন মনে হয় এই বেশ ভালো আছি।

হ্যাঁ এই বেশ ভালো আছি। 

যেমন চলছে জীবন জীবনের মতো চলুক।আর কোন চিন্তা নয়।  আমি শুধু তালে তাল মিলিয়ে যেতে পারলেই মিলবে সাফল্য। 

তবুও যে প্রশ্ন থাকে তবে কি সকলের মতো আমি কোন মর্যাদা পাবো না!   
আমি কি নাম যস খ্যাতি প্রতিপত্তি  এই সব কিছুই পাবো না? 
না!   না!  এ   এ  হতে পারে না।  
আমাকেও হতে হবে ওদের মতো। 
হতেই হবে ওদের মতো,, ওদের  কতো নামডাক,,, খ্যাতি প্রতিপত্তি।  আমাকেও হতে হবে ওদের মতোই। হ্যা  ওদের থেকে অনেক অনেক বেশি বৈকি কম নয়।  একটুও কম নয়।  

মুহূর্তে সব ম্লান হয়ে যায়। 

কি হবে যদি মানুষ না হই?

 কি হবে ও-ই সব বাহারী মোড়কে নিজের স্বত্যাকে ঢেকে নিজের অস্থিত্বের বিসর্জন দিয়ে? 

না সেই শেয়ালের গল্প নয়  না পেয়ে নিন্দা,, 
 বাস্তব সত্যি,,  জীবন টা গড়ে তুলতে হবে একদম সাধারণ থেকেও সাধারণ। 

জীবন থেকে বিসর্জন দিতে হবে প্রত্যাশা।  

হ্যা এই প্রত্যাশা কে জীবনের একদম শুরু থেকেই বিসর্জন দিতে পারলে সে খুব ভালো থাকবে।  কিন্তু সবাই তা পারে না।  আর যদি কেউ সক্ষম হয়েছে সে সত্যিই খুব সুখি মানুষ।  সে এতোটাই সুখি তার নিজের সুখের অভিজ্ঞতা পর্যন্ত ভাগ করে নেওয়ার জন্যও কাউকে খোজে না।  

জীবনে যতটুকু সম্ভব হবে এবং তার জন্য অপেক্ষা করে সময়ের অনুকূলে নিজের ও নিজের স্বজন বন্ধু সকলের পাশে থাকাই হবে একমাত্র উদ্দেশ্য।  আর এই উদ্দেশ্য হতে হবে অবশ্যই প্রত্যাশা হীন। 

ভজে ব্রজৈকমণ্ডন্ম

ভজে ব্রজৈকমণ্ডনম (কৃষ্ণাষ্টকম) [ 1 ] ১. ভজে ব্রজৈক-মণ্ডলং সমস্ত-পাপ-খণ্ডনং স্বভক্ত-চিত্ত-রঞ্জনং সদৈব নন্দ-নন্দনম । সুপিক্চ্ছ-গুচ্ছ-মস্তকং স...