আমি কেউ না। আমি শুকনো পাতার মতো আমাকে চাইলে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া যায়। 

আমি ধুলোর মতো। আমাকে চাইলে আবর্জনার মতো ঝেড়ে ফেলা যায়। 

আমি অপ্রয়োজনীয় কাঠপেন্সিল। যাকে কেউ রেখে দেয় অভ্যাসে কিংবা নিছক শৌখিনতায়। 

আমি কারও আকাশ হতে পারিনি, হতে পারিনি কারও প্রিয় কাঠগোলাপ। আকাশে জুড়ে ঝলমলে জ্বলতে থাকা ধ্রুব তারা হতে পারনি কারও জীবনে। হতে পারিনি ভোরের প্রথম শিশির কিংবা কারও পূর্ণিমার চাঁদ। আমি কারও ভালোলাগার বৃষ্টি হতে পারিনি। ছুঁতে না পারা মানুষটাকে বাতাস হয়ে ছু্ঁয়ে দিতে পারিনি। আমি কিচ্ছু না! 

আমি বেড়ে উঠেছি অপ্রয়োজনীয় মূল্যহীন আগাছার মতো। আমাকে যেই চেয়েছে সেই পেয়েছে, শুধু আমি যাদেরকে চেয়েছি তাদেরকে আমি পাইনি। আমি অনেকেই হারিয়েছে, আমাকে কেউ হারায়নি! হারানোর মতো মূল্যবান কেউ ছিলামও না কখনও। আমি কেউ না। কিচ্ছু না!
থ্রি ইডিয়টসের চেয়ে ছিচোড়ে মুভিটা আমার কাছে বেশি প্রিয়।কারণ, থ্রি ইডিয়টস আপনাকে বলবে, তুমিও জিতবে।বাট ছিচোড়ে  মুভিটা আপনাকে বলবে, তুমি হারবে, তারপরেও তুমি বেঁচে থাকবে।

"জীবনের কাছে হেরে গেলাম" লিখে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহাগ ছেলেটা মরে গেল। হয়তো তাকে কেউ কখনও বলেনি, জিতে যাওয়া মানেই জীবন না, হেরে যাওয়ার মধ্যেও থাকে বেঁচে থাকার আনন্দ।

শিব খেরা, ডেল কার্নেগি থেকে আমাদের বাবা মা, বারবার আমাদের একটা কথাই বলে, তুমিও জিতবে। শক্ত হও। উঠে দাঁড়াও। দৌড়াও। জিততে তোমাকে হবেই।
কিন্তু কেউ কখনও বলে না, তুমিও হারবে। তুমিও তো রক্ত মাংসেরই মানুষ, তোমারও ক্লান্ত লাগবে। একটু বসো। সবসময়ই উঠে দাঁড়ানোর দরকার নাই। সবসময়ই দৌড়ানোর দরকার নাই।একটু বিশ্রাম করো। অনেকক্ষণ তো শক্ত থেকেছো, এবার একটু নরম হও।কেউ বলে না।

বলে না বলেই, সোহাগের মতো ছেলেমেয়েগুলো ঝুলে পড়ে। কেউ রিলেশনশিপের জন্য, কেউ টাকার জন্য, কেউ ক্যারিয়ারের জন্য, কেউ রেজাল্ট বা সিজির জন্য, কেউ বা একটুখানি ভালোবাসার জন্য।

হেলাল হাফিজ এক বুক কষ্ট নিয়ে লিখেছিলেন,

কেউ বলেনি,
ক্লান্ত পথিক,
দুপুর রোদে গাছের নিচে একটু বসে জিরিয়ে নিও...

ওদিকে হুমায়ূন আজাদ লিখেছিলেন আরো ভয়ঙ্কর কথা।

আমি সম্ভবত খুব ছোট্ট কিছুর জন্যে মারা যাবো
খুব ছোট একটি স্বপ্নের জন্যে
খুব ছোট দুঃখের জন্যে
আমি হয়তো মারা যাবো কারো ঘুমের ভেতরে
একটি ছোট দীর্ঘশ্বাসের জন্যে
একফোঁটা সৌন্দর্যের জন্যে।

মা বাবা, শিক্ষক, গার্জিয়ান, বন্ধু, সমাজ, পৃথিবী, আপনাদের সবার কাছে আমার একটাই অনুরোধ,জিতে যাওয়ার মোটিভেশন দেন, সমস্যা নাই।কিন্তু হেরে যাওয়াদের কথাও একটু বলেন। পৃথিবীতে সবাই জিততে আসে নাই। সবার জেতার দরকারও নাই। কিন্তু এই পৃথিবীতে সবাই বাঁচতে আসছে। 

এই পৃথিবীর প্রতিটা মানুষ ছোট্ট একটা স্বপ্ন ডিজার্ভ করে, একটুখানি সিমপ্যাথি ডিজার্ভ করে, এক ফোঁটা রোদ্র ডিজার্ভ করে, ছোট্ট একটা ঘাসফুল ডিজার্ভ করে।
এই পৃথিবীর আলো বাতাস, জল বা জোছনায় সবার সমান অধিকার আছে। জিতে যাওয়া মানুষটার যেমন দোয়েলের শিষ শোনার অধিকার আছে, হেরে যাওয়া মানুষটারও তেমন এক ফোঁটা বৃষ্টির পানি পাওয়ার অধিকার আছে।

জয়ের মালা বিজয়ীরই থাকুক, ওটার ভাগ কেউ চায় নাই। তাই বলে হেরে যাওয়া মানুষের উপর থেকে এক টুকরো মেঘের ছায়া কেড়ে নেওয়ার অধিকার কারো নাই।
কারো না।

From the group of Positive Thinkers.
সংগৃহিত..

নীলাক্ত নীল

যে কিশোরী বয়সে শরীরের আকর্ষণে মোহ হয়ে অনেক মেয়ে চার দেয়ালে প্রেমিকের আকুল দীর্ঘশ্বাসের অপেক্ষা করে, ওই বয়সেই নীলা আমাকে শিখিয়েছে জীবন মানে অনেক বিশাল, চার দেয়ালে কিছুই নেই। রেললাইনে দেখিয়ে বলতো -  রেল লাইনের দুটি পথ সবসময় আলাদা থাকলে ও সবসময় পাশাপাশি  থাকে, আমাদের ও এভাবে থাকতে হবে ; আলাদা তবে একসাথে। নীলা ঝড়ের রাতে আমাকে ফেলে চলে যাওয়ার ভান ধরতো, ও আমাকে শিখাতে চাইতো ধকল নেওয়া। 
প্রাপ্ত বয়সে যখন সংসার দেখার স্বপ্ন দেখে সবাই! নীলা আমার শার্টের কলার চেপে ধরে বলেছিলো " ভালো মানুষ হও"। আমি একবার নীলার হাত ধরে অবাক হয়ে বললাম "তোমার হাতের রেখা নেই কেন?" এক গাল হেসে জবাবে বলে দিলো " আমার জন্ম তো তোমাকে কাছে পাওয়ার জন্যে হয়নি, রেখা দেখে গণক যদি বুঝে যায়!"

 সত্যি! যে   নীলার এমন ভালোবাসা আমাকে বিমোহিত করে, অবাক করে।

আজ কেন জানি না মনে হচ্ছে আজ নীলার সেই সব স্মৃতি আমায় ভুলিয়ে দেবে একটা কাঠ গোলাপের সুগন্ধিতে। 
আমি কাউরে জোর করবার পারি না,কাউরে অধিকারের দোহাই দিয়া মনের খাঁচায় বন্দী করবার পারি না। যার যহন মন চায়,তহনই আমারে ভাইঙ্গা চুইরা  দিয়া গেলেও আমি কইবার পারি না;"এমন কইরা ক্যান দুঃখ দেও?আমি যে সইবার পারি না!"

জীবনে মেলা দুঃখ পাইছি!তয় কেউ সুখ নিয়া আইসা কয় নাই;"অনেক অইছে,অহন আহো,আমি তোমারে সুখ দিমু।"

আমার যা মেলা পাইতে ইচ্ছা করছে,আমি তা চাইতে পারি নাই।কাঁইন্দা বুক ভাসাইছি,তাও মুখ ফুইটা কইতে পারি নাই;"ঐডা আমার লাগবো!"

মাইনষের সুখ দেইখ্যা হাস ফাঁস করছি,তয় নিজে কোনদিন সুখে থাকবার পারি নাই!থাকবার পারমু ক্যামনে?যারে সুখ ভাবছি,ঐডাই আমার দুঃখের কারণ অইছে!

জীবনে অনেককিছুই হারাইছি,তয় এমন কিছু পাই নাই,যা নিয়া আমি একটু ভালা থাকুম!

কেউ আমার রাইতের ঘুম কাইড়া নিলেও,আমি কারো সুখের ঘরে আগুন লাগাই নাই।কত মাইনষে ভালাবাসে কইয়া আমার কাছে আইছে,তয় কেউ মন থাইকা ভালাবাসে নাই!

ভালাবাসবো ক্যামনে?আমার মতোন নিঃস্ব মাইনষেরে কি আর ভালাবাসন যায়? যার কেউ নাই-কিচ্ছু নাই!দিনশেষে আমারে কেউ ভালাবাসে নাই,তাতে দুঃখ নাই।তয় দুঃখ অইলো,যারা ভালা না বাইসাও কইছে "ভালাবাসে",তাগোর কি এমন ক্ষতি আমি করছিলাম?

"ক"

"ক" ব্যবহার করে এতো দীর্ঘ লেখা আমি প্রথম পড়লাম। লেখক বা লেখিকার নাম উল্লেখ ছাড়াই লেখাটা পেলাম। অসাধারণ দক্ষতা।  🙏🏻

পুরোটা পরে দেখুন খুব ভালো লাগবে আপনাদের। 

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী কলেজের কনিষ্ঠ কেরাণী কার্তিক কুমার কর্মকারের কোকিল কন্ঠী কন্যা কপিলা কর্মকার কাশিতে কাশিতে করুণ কন্ঠে কমল কাকাকে কহিল, "কাকা, কড়ি কাঠের কেদারা কিংবা কারখানার কাপড় কেনাকাটায় কৃষাণীরা কিছুটা কৃচ্ছতা করিলেও কলকাতার কিশোরী কন্যাদের কাছে কুষ্টিয়ার কুচকুচে কালো কাতান কাপড়ের কদর কল্পনাতীত। 
কীর্তিমান কতিপয় কলাকুশলী কিংবা কিশোর কবিরাও কালি-কলমের কল্যাণে- কদরের কিছু কার্যকর কথা কৌশলে, কখনো কবিতার কিতাবে, কখনো 'কালের কন্ঠ' কাগজের কলামে কহিয়াছেন।
কিন্তু কাকা, কষ্মীনকালে কেউ কী কখনো কহিয়াছেন? কী কারণে, কিসের কারসাজিতে, কেমন করিয়া কোথাকার কোন কাশ্মিরী কম্বল কিংবা কর্ণাটকের কমলা কাতানের কাছে কালক্রমে কুলীন কূলের কায়িক কৃষাণীদের কাঙ্খিত কালজয়ী কারুকার্যময় কাতান কাপড়ের কদর কমিল"?

কাজে-কর্মে কুশীলব কিন্তু কেবলই কৌতুহলী কপিলা কর্মকারের কঠিন কথায় কিঞ্চিত কর্ণপাত করিয়া ক্লান্ত কাকা কুষ্টিয়ার কিংবদন্তি কালো কাতানের ক্রমেই কদর কমার কয়েকটি কারণ কোমল কন্ঠে কপিলার কানে কানে কহিলেন। 

কৃষ্ণকায় কাকাকে কাপড়ের কষ্টের কিচ্ছা কাহিনী কহিয়া কপিলা কর্দমাক্ত কলস কাঙ্খে করিয়া কালোকেশী কাকিকে কহিল, _"কাবেরী কোলের কেয়া-কুঞ্জে কোয়েলের কলকাকলি কিংবা কেতকী কদম কুসুম কাননে কোকিলের কন্ঠে কুহু কুহু কুজনের কতই কারিশমা! কিন্তু কাকী, কদর্য কাক কী কারণে কর্কশ কন্ঠে কানের কাছে কেবল কা-কা করে"?_

কাঁচের কংকন করিয়া কিংকর্তব্যবিমূঢ় কাকী কিলানো কাঁঠালের কদলি কচলাইতে কচলাইতে কহিলেন, _"কুৎসিত কেতাদুরস্ত কাকের কাজই কা-কা কলরবে কোলাহল করিয়া কেরামতির কৃতিত্ব কুড়ানো"।_

সংগৃহীত
বাস্তববাদী
২৪/২৫ বছরের এক যুবক উপহারের দোকানে মাঝবয়সী দোকানদারের উদ্দেশ্যে বলছেন 
"আচ্ছা বিধবার জন্মদিনে কী উপহার দেয়া যায় বলুন তো ?"

দোকানদার 
" ভদ্রমহিলার বয়স কী রকম হতে পারে?"

 যুবক

"ধরুন ২১/২২"

 দোকানদার 
"আচ্ছা উনি আপনার নিকট আত্মীয় মানে বোন, মামাতো বোন ,এইরকম কেউ নন তো ?"

যুবক 
"না সেরকম কিছু নয় "

দোকানদার
 "আচ্ছা আপনি কি বিবাহিত না অবিবাহিত?"

যুবক 
"এ তো পুলিশের মত জেরা"

 দোকানদার
" সেরা উপহার এর জন্য জেরার দরকার আছে।"

যুবক 
"আমি অবিবাহিত "

দোকানদার 
"এ তো সোনায় সোহাগা ,আচ্ছা একটা খুব কম দামের ভালো উপহার ,যেমন ধরুন 
৬ টাকা চলবে ?"

যুবক 
"আপনি কি লটারির  টিকিটের কথা বলছেন ?"

 দোকানদার 
 "না স্যার তার চেয়েও অনেক দামি জিনিস সম্ভবত দুজনেই জিতবেন।"

যুবক
"যেমন ?"

দোকানদার
"৬ টাকা দিয়ে একপাতা সিঁদুর নিয়ে যান না ,দু একজন কে সাক্ষী রেখে  সিঁথিতে সুন্দর করে লাগিয়ে দেবেন ।"

যুবক
"আপনি দোকানদার নন, আপনি তো দার্শনিক, দিন ৬ টাকার সিদূর দেখা যাক জীবনের সেরা ছক্কাটা  ৬ টাকাতেই মারা যায় কিনা !"

কি শুনতে চাও বলো? 
আমার দীর্ঘশ্বাসের রাত্রি গুলোয় তুমি ছিলে না, বিষন্নতায় মোড়ানো চাপা হতাশায় একই কি ভাবে কাটিয়েছি   এসব"
না'কি শূন্য পকেটে রাস্তার মোড়ে বসে যখন এক গ্লাস জলের জন্য ছটফট করেও তোমার কন্ঠ মাখিয়ে তৃপ্ত করনি,সে অবমাননার কথা!!


নীলাম্বরী

শুনছেন নীলাম্বরী, 
জানি শুনছেন না, তবুও অনুভূতির অদৃশ্য দেয়াল ভেদে লিখছি কিছু সিক্ত কথামালা। লিখছি বিষাদের বিষাদ নীলে অশ্রুসিদ্ধ কিছু সময়ের কথা। আপনি তো আবছা নীলে নীলাক্ত আর আমি? আমি আপনার সেই নীলে আসক্ত আপনার বিষে বিষাক্ত। নীলের আদ্রতা হতে পারিনি আমি তবে সেই বিষে সপে দিয়েছি নিজেকে। বুকের মাঝে মনক্ষুণ হওয়ার বিশাল একটা দেয়াল গড়ে উঠেছে। অভিমান নামক রুদ্ধ দরজায় দাঁড়িয়ে আছে। নীলের অবহেলার পাহাড় এক দম্ভেয় মতো আঘাতে চূর্ণ করেছে হৃদয়কে। মনের অন্তঃকোণ হয়ে আছে আবছা নীলে নীলাভ। আমিও দিব্যি গিলে খাচ্ছি সেই নীলে নীলাভের বিষ। বুকের মাঝে হাহাকারের হুইসেল বাঁচছে, 
হুম হয়তো বেঁচে আছি আমি আবার হয়তো না । 
কখনো কি শুনবেন নীলাম্বরী এই হৃদয়ের ডাক, কখনো কি বুঝবেন এই মনের আত্নহুতি। আমার দুনিয়া আপনি অস্তিত্ব আপনি, আবছা নীলে নীলাক্ত আমি!!   আপনি  নীলাম্বরী?? !! 

তোমার শুন্যতা

একটা অদ্ভুত ব্যপার কি জানো, আমাদের আর ভুল করেও দেখা হবেনা। ভুল করেও আর চোখে চোখ রাখা হবেনা। ভুল করেও আমাদের আর হাতে হাত রাখা হবেনা। ভুল করেও ভুলেও তোমার গন্তব্য আমার বাড়ির  রাস্তায় আর আসবে না। 

চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে আছে বড্ড, চিৎকার করে কাঁদতে চাইছি কিন্তু পারছি না। অনবরত অশ্রু বর্ষন হচ্ছে। মনে আছে আমাদের প্রিয় সেই বকুল গাছের কথা?  কতশত স্মৃতি জড়িয়ে আছে সেখানে তোমার আমার। সেই চেনা পথ, চেনা রাস্তা যেখানে মিশে আছে আমাদের সহস্র অনুভূতি।। 

তোমার প্রিয় কাঠগোলাপ গাছে এখন বেশ নিয়ম করে ফুল ফোঁটে।  বেলীফুলের  ফুলে  ভরে গেছে বাগান । রাতের বেলা পুরো বারান্দায় বেলীফুলের সুভাস ছড়িয়ে যায়।আমার রুমের উত্তর দিকের জানালা দিয়ে এখনো ভোরের আলো প্রবেশ করে।।
তোমার জন্য মনের  কোণে বানানো কুঠিরে এখনো নিয়ম করে পরিষ্কার করা হয়। তবে এখন আর সেখানে বসে আমার আনন্দ হয়না জানো!! 

সব কিছু আগের মতোই আছে সব কিছু। তবুও যেন কিছু একটার শূন্যতা রয়েই যায়।   কাঠগোলাপ তোমার অপেক্ষায় আছে,  ফোঁটা বেলীফুল গুলো তোমার অপেক্ষায় আছে,
একলা ঘরের কোণে দোলনায় বসে থাকা কেউ একজন তোমার অপেক্ষায় আছে। তবে তুমি নেই, তুমি এইসবের কিছুই দেখতে পাচ্ছো না।। 

প্রতিটি চোখের জল তোমার শূন্যতা জানান দিচ্ছে, খুব কঠিন ভাবে হৃদয়কে ক্ষতবিক্ষত করে দিচ্ছে।। 
প্রেম, ভালোবাসা জিনিসটা আসলে কি? যখন প্রেমে পড়বেন নিজেকে নিজের এত ভালো লাগবে! আয়নার সামনে গিয়ে নিজেকে বার বার দেখতেও বিরক্ত লাগবেনা! প্রেমের সবচেয়ে সুন্দর মুহুর্ত কি জানেন? প্রেম হবে হবে; কিন্তু হচ্ছেনা! এরপর প্রেম চলাকালীন সময়ে মনে হবে এই প্রেম কোথায় ছিলো এতদিন? মনে হবে এর চেয়ে চমৎকার জিনিস বোধহয় এই নশ্বর পৃথিবীতে আর কিছুই নেই! আর একবার যদি ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়? হাজার মানুষের ভীড়েও একা লাগার মত যন্ত্রণা কিংবা সারারাত অকারণে জেগে থাকার অভ্যেস তোমাকে একদম শেষ করে দিবে!

আমি এক প্রশ্নবোধক চিহ্ন

সবাই বলে আমি দুর্বল প্রকৃতির মানুষ!
আমি প্রচন্ড আবেগি,সাধারণ কিছু নিয়েই দুশ্চিন্তায় ভোগী,কারোর সামান্য কটু কথায় কেঁদে দেই! আসলেই আমি দুর্বল প্রকৃতির মানুষ.. 
অথচ আমি সেই ব্যক্তি যে প্রচন্ড কষ্ট পেয়ে, শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতেও নিজের চোখের অশ্রু নিজে মুছে নিজেকে সান্ত্বনা দিয়ে হাসি এবং সকলের মাঝে স্বাভাবিক ভাবে জীবন অতিবাহিত করি কেউ বুঝতেই পারে নাহ আমার সাথে কি ঘটছে! তাহলে আমি দুর্বল কিভাবে? আদৌও কি আমি দুর্বল প্রকৃতির মানুষ? 

বেহায়া সময়

মাঝরাতে অথবা ভর দুপুরে; বৃষ্টি হওয়া মানেই তোমাকে মনে পড়তে হবে তা কিন্তু না! আমার মনে হয় এই এমন একটা জিনিস কখনোই নিয়ম হতে পারেনা! তবুও তুমি বৃষ্টি হলে নিয়ম করে মনের মাঝে ভয়ংকর ভাবে হানা দাও! আমার ইচ্ছে হয় প্রথম দিনের মত মনে প্রচন্ড আবেগ আর তীব্র ভয় নিয়ে তোমাকে ছুয়ে দেখি! প্রথমবার ছুয়ে দেখার মত একটা আবেগ ঠিক কি পরিমাণ পবিত্র হতে পারে আমার জানা নেই! 

কতগুলো দিন আমরা একসাথে ছিলাম; একই পথে হাতে হাত রেখে হেটেঁছি; প্রতিটি দিনের কথা আমার এখনো মনে আছে দিন তারিখসহ; কড়া রোদে কুলফি কিংবা বৃষ্টিতে দুধ-চিনি বাড়িয়ে মালটোভা দেয়া চায়ের কাপ; কি সুন্দর দিন ছিল না বল?

একদিন হুট করে কোন কিছু বুঝে উঠার আগে এত এত ভালোবাসা ছেড়ে বোকাদের দলে নাম লিখিয়ে তুমি চলে গেলে; তোমাকে রেখে চলে আসার সময় কি কি সব যে মনে হচ্ছিল ভেবে হাসি পায় আজকাল; বিশ্বাস কর হাটঁতে পারছিলাম না ঠিকমত; মনে হচ্ছিল রাস্তার সাথে পা আটঁকে যাচ্ছে; বাসে একদম পিছনের সিটে জানালার পাশে গিয়ে বসতেই চোখ দিয়ে টুপ টুপ করে জল বেয়ে পড়ল; বাসের সবাই যে কিভাবে তাকাচ্ছিল ভাবলেই আজকাল লজ্জা লাগে; আমি তোমার মত ফর্সা হলে লজ্জায় মুখ লাল হয়ে যেত!

আমাকে ছাড়া এক মুহুর্ত থাকতে না পারা মানুষটা কিভাবে আমাকে ছাড়া আছে আমি এখনো বুঝিনা; আমিও বা কম কিসে বল; তোমাকে ছাড়া কতগুলো দিন বেহায়ার মত হাসতে হাসতে কাটিঁয়ে দিচ্ছি; সময় জিনিসটা কেমন যেন না? নিরব ঘাতক; সব কেড়ে নিয়ে আবার সব ক্ষত নিজেই মুছে দেই! হা হা হা!
এ-জীবন থমকে আছে তুমি আসবে বলে,
তুমি আসবে বলে -তোমার অপেক্ষায় প্রকৃতপক্ষে আমিই থমকে আছি "জীবন থমকে আছে" এই অজুহাত দেখিয়ে! 
চাইনা তুমি যাও কভু  দূরে,
তোমায় ছাড়া আমার এ জীবন তলিয়ে যাবে অচেনা ছন্দহীণ সুরে!
ইতি আপনার পিচ্চি,,
❝আমার বিকল্পের মানুষটি'র প্রাপ্তিতে কি এমন ছিলো?
সে কি নক্ষত্র চিনতো, শেষ প্রহর বুঝতো?
নাকি সে দেবতা ছিলো!
যার দর্শনে খুঁজে পেয়েছিলে তোমার শ্যামকে।❞

❝তোমাতে আবদ্ধ হওয়ার তাড়নায় প্রেম নাযিল হয়েছে এই মনে -
হয়েছি প্রেমিক তোমার একনিষ্ঠ'তায়।❞


অসাহিত্অশান্তির অনলে পুড়ে ছাই হলেও 
শান্তি মিলেনি কোথাও।। 
চাওয়া পাওয়ার এই ছোট জীবনে সব কিছু থাকে আর যা থাকে না তা হলো শান্তি। সবাই কোনো না কোনো ভাবে মানসিক অশান্তির মাঝে জীবন পার করছে এবং দিন শেষে "ভালো আছি" বলে নিজেই নিজেক
তোমার জন্য হটাৎ করে চোখের কোণে জল,
মনে পড়ে ওইসব সুন্দর আকারে থাকা অজস্র ভালোবাসার দল!
ইতি আপনার পিচ্চি কবি
বাহিরে কি পিনপতন নীরবতা, অথচ ভেতরে ভেতরে সবাই ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে! 

আমরা সেই না বলা কথা গুলো

অশান্তির অনলে পুড়ে ছাই হলেও 
শান্তি মিলেনি কোথাও।। 
চাওয়া পাওয়ার এই ছোট জীবনে সব কিছু থাকে আর যা থাকে না তা হলো শান্তি। সবাই কোনো না কোনো ভাবে মানসিক অশান্তির মাঝে জীবন পার করছে এবং দিন শেষে "ভালো আছি" বলে নিজেই নিজেকে শান্তনা দিচ্ছে! 

কাঠ গোলাপের আগুন

মন টা,,,, সেদিন থেকেই বারেবারে একটা কথাই বলে ওঠে,,, গেয়ে ওঠে সেই ছন্দ,,, 

" কি নামে ডেকে বলবো তোমাকে 
মন্দ করেছে আমাকে ওই দুটি চোখে,,
আমি যে মাতাল হাওয়ার মতো 
যেতে যেতে পায়ে পায়ে গেছি জড়িয়ে ,,

তবে তোমায় কাঠ গোলাপ বলে ডাকলে আমি সত্যিই খুব আনন্দিত হবো। 
সত্যিই কি এমন কোন দিন হবে! 

না তুমি প্রেম নও আবার ভালোবাসাও নও। 
প্রশ্ন এখানেই তবে তুমি কে? 

তুমি!  তুমি অন্তরে আগুন নিয়ে বাইরে শীতল শ্যয্যার মতো।  
আমি নতজানু প্রিয় কাঠ গোলাপ তোমার আগুনের ভীষণ শিখায় নিজের আহুতি দিতে যেমন শ্যামা পোকা ছুটে আসে প্রখর আলোক শিখার দিকে আমিও নিজেকে শ্যামা পোকাই ভাবতে চাই প্রিয়।

সেদিন সত্যিই আমি মাতাল ছিলাম  আমার সমস্ত নেশা এক নিমেষে দূর করে দিয়েছে । 
সেই চোখ থেকে যে লেলিহান দাবালনের শিখা  আমি দেখেছি তা এক কথায় বলা সম্ভব নয়।

সত্যি বলতে সেদিন ওই চোখ থেকে যে আগুন আমি দেখেছি নিজেকে কেন জানিনা ঐ আগুনে পুড়িয়ে ছাই বা ভষ্মে  পরিনত হতে বারবার আমায় টানে। 

আমি  জানি এর পরিনাম খুব খারাপ হবে খারাপ বুঝলে আর কি ওই যে ছাই বা ভষ্মে পরিণত হওয়া  তার থেকে আনন্দের আর কিছু নেই।  
তারপর আর এই  পৃথিবী থেকে আমার আর কিছু প্রয়োজন নেই।  কারণ লোক মুখে  সবাই বলে ছাইতে জল ঢালা ও বেকার।  

কাঠ গোলাপ!  
এযাবৎকাল অনেক আগুনে পূড়েছি।   পুড়তে পুড়তেই এই পর্যন্ত এসে তোমার আগুনে নিজের আহুতি দিতে চাই। হ্যাঁ আমি একদম প্রস্তুত। 
এবার প্রাথনা তোমার কাছে  যদি অনুমতি পাই আমি তোমার মধ্যে যে আগুন দেখেছি আমি সেই আগুন জালিয়ে  দেখিয়ে দিয়ে যাবো তুমিই আমার মুক্তির সাধনা। 
হ্যাঁ তোমার মধ্যেও সেই আগুন আছে।
 বিশ্বাসের সাথে নিজেকে সন্ধান করলে  তুমি নিজেই পরখ করে জানতে পারবে। 

তবে অনুরোধে শুধু একটা-ই  আমি নিজেকে  কাঠ কয়লার সাথে কেন বলেছি তার ব্যাখ্যা নিজেই জানি।  তবে আমি জীবনে সব সময়ে নিজের যুক্তিকে সম্মতি দিয়েছি।  আর তোমার থেকেও প্রাথমিক ভাবে তাই প্রাথনা করবো। 

জীবন আর ভুল মানুষ

ভুল মানুষের পাল্লায় পড়ে জীবন শেষ করে দেয়ার থেকে,সারাজীবন নিঃসঙ্গ থাকা ঢের ভালো!
আমি কখনোই বিচ্ছেদের পক্ষে নই।কিন্তু তাই বলে যে ভুল মানুষের কাছেই সারাজীবন কাটিয়ে দিতে হবে,এমনটাও বলছি না!

সঠিক মানুষ আর ভুল মানুষের মধ্যে পার্থক্যটা ঠিক বোঝার উপায় নেই, তবে একটা মানুষের সাথে থাকতে থাকতে যখন প্রমাণ হয়েই যায় যে মানুষটা ভুল;তখনও তার কাছে থেকে যাওয়ার কোনো মানেই হয় না!

ভুল মানুষকে শত চেষ্টা করেও সঠিক মানুষে রুপান্তরিত করা যায় না কখনোই। স্বভাবে যার মিথ্যা,প্রতারণা এবং উদাসীন মনোভাব লুকিয়ে থাকে তাকে মানুষ করতে গিয়ে বরং আপনি নিজেই অমানুষে পরিণত হয়ে যাবেন;তবে তাকে আর মানুষ বানাতে পারবেন না!

শত অবহেলা,শত কষ্ট বুকে চেপে দিনের পর দিন একতরফা ত্যাগ করে যাবেন;কিন্তু যে মানুষটা নিতান্তই ভুল,সেই মানুষটা কখনোই আপনার কথা ভেবে বিন্দুমাত্র ত্যাগ  করবে না,করার কথাও না!
কেননা সে নিজেও জানে আপনার প্রতি তার আচরণ কেমন,কিন্তু তারপরও আপনি তাকে ছাড়বেন না,ছাড়তে পারবেন না।

সংসার কয়েক মাস কিংবা ১ যুগের জন্য নয়। দু'জন পাশাপাশি থেকে সকল সুখ-দুঃখ,হাসি-কান্না,অভাব-অনটন এর মধ্যে দিয়ে পরস্পরের স্যাক্রিফাইজ,সহমর্মিতা,দায়িত্ববোধ,বোঝাপড়া,ভালোবাসা-যত্ন দিয়ে আগলে রেখে আমৃত্যু পরস্পরের জীবন পার করে দেয়ার নামই সংসার!

ভুল মানুষ নিয়ে অন্তত সংসার করা যায় না!
আমি আবার বলছি;একদমই যায় না!

এদের ঠিক তাদের মতো করে ছেড়ে দিতে হয়,যেন তারা নিজেরাও ঠিক তাদের মতোই কাউকে খুঁজে নিতে পারে।তারপর দেখবেন,একদিন ঠিক আপনার জন্য আফসোস করবে।যখন দেখবে আপনার মতো করে আর কেউ একতরফা স্যাক্রিফাইজ করে না,করতে চায় না।

জীবন একটাই,আর এ জীবন কেউ রঙ্গিন করে সাজিয়ে দেবে না বরং নিজেকেই সাজাতে হবে।ভুল মানুষকে আঁকড়ে ধরে সারাজীবন মানসিক যন্ত্রণা পেয়ে তীলে তীলে মরে যাওয়ার থেকে,সঠিক সময়ে তার কাছ থেকে সরে আসাই উত্তম!জীবনকে সহজ করতে জীবন থেকে ভুল মানুষকে সরিয়ে ফেলুন,দেখবেন জীবন কত সুন্দর!

আমায় একটু ভালোবাসবে!

আমায় আমায় একটু ভালোবাসবে! একটু? 

কথা দিচ্ছি, হ্যাঁ,,  
আমি তোমাকে কখনোই হারাতে দিবো না!
চেষ্টা করবো নিজেকে শুন্য করে তোমায় সব টা দিয়ে ভালোবাসতে।

জানো তো?
আমার নিকৃষ্ট অতীত আছে,যেখানে কেউ একজন আমায় তীব্র ভাবে ভালোবেসে ছেড়ে চলে গিয়েছিল! 
আমায় ঠাকানো হয়েছে বোকার মতো। 
মানুষ হারানোর যন্ত্রণা যে আমি সেই তখন থেকেই বুঝি!
ভালোবাসা হারানোর যন্ত্রণার সাথে  আমি সেই থেকেই খুব পরিচিত। 
আমায় ভালোবাসবে একটু?
একটু ভালোবাসবে!  
বোলো! 
এই আমায় একটু ভালোবাসবে?
ঠিক সেই রকম ভালোবাসা যে ভালোবাসা বাঁচতে শেখায়,প্রবল হতাশায় বেঁচে থাকার ইচ্ছেকে কেড়ে নেয় না কখনো।

আমায় কেউ কখনোই ভালোবাসেনি!
যারা ভালোবাসবে বলেছে,তারা এখন যে যার মতো বেশ ভালো আছে।
ভালো থাকুক  সব চাতুর বর্গের গুনিজন।

আমি,,, আমি তোমায় কখনোই ঠকাবো না কথা দিলাম। বিশ্বাস করো,,,

আমায় একটু বিশ্বস্ততা দিবে?

ভন্ডদের এ যুগে যে আমি কাউকে বিশ্বাস করতে পারি না!

একটু বিশ্বস্ততা দিবে আমায়,বলো?

কেবল আমার হয়েই থাকবে তো?

 আমি...
আমি পুরো পৃথিবীকে জানিয়ে দেবো,
তুমি শুধুই আমার!

এবার একটু ভালোবাসবে আমায়?
সত্যিকারের ভালোবাসা। 

মন থেকে না হোক,অন্তত মিথ্যে করে হলেও একটু ভালোবাসবে তুমি?

বলো না...

ভালোবাসা যায় না আমায়?
একটুও বাসা যায় না?
একটু ভালোবেসে দেখো আমায়!

সবাই তো কষ্ট আর অবহেলাই দিলো,
তুমি একটু ভালোবাসা দিতে পারো না কি?

বলো...

জানো তো?
মানুষ একবার ভেঙ্গে গেলে নতুন করে কাউকে ভালোবাসতে ভয় পায়।
আর আমি,,  
আমি আজ ভয় পাচ্ছি না।
আমারও যে বেঁচে থাকা বড্ড প্রয়োজন,
আমারও যে ভালোবাসা ভীষণ দরকার।

আমিও যে ভালোবাসতে চাই,
আমিও এবার একটু ভালো থাকতে চাই।

বলো না....
আমায় ভালোবাসবে একটু?

মৃত্যুর মতো ভালোবাসা

এই যে তোমায় মৃত্যুর মতো ভালোবেসেছিলাম একজীবন!
তুমি কি আজও বেঁচে আছো;
প্রচন্ড রকম জানতে চাওয়ার ইচ্ছে আমার। 

তোমায় আমি দেখিনা বহুদিন যাবত। 
 কিন্তু মনে হয় গোটা জীবন  ধরে তুমি বিলীন আমার শহর।

আমি কি! তো অভিমানে দূরত্ব টেনেছিলাম,
আর তুমি? 
 হাতের ঘড়িখানা খুলে অপেক্ষা দেখিয়ে দিলে।

শেষ বেলায় আমার হাতে ছিলো সতেরোটা নীল পদ্ম।
তুমি তিনখান ফিরিয়ে নিয়ে বললে,বিদায় বেলায় আমায় কিছু স্মৃতি দাও,যা তে তোমায় মনে পড়লে আমি ভেসে যেতে পারি স্মৃতির জলে।

কেমন হিংসুটে আবদার করলে,আমি আজ হিসাব শিখে নিলাম।
তোমাকে দেখার ইচ্ছে মিটিয়ে নিলাম,তবুও ভুলে গেলাম না,তুমি নেই। 

সতেজ পদ্ম আজ শুকিয়ে গেলো,অপেক্ষায় চোখের চাওনি বদলে, ডায়েরির ভাজ বদলালো।

আজকাল শরীর জুড়ে নিকোটিনের গন্ধ,
পুরাতন শরীরে নতুন পোষাক  জুড়লেও,মানুষ পুরাতনই থাকে।
কিছু সম্পর্ক পুরাতনই ভালো,নতুন যেনো গোলাপের কাটার ন্যায়। 
শুধু হাত ফুটে রক্তে ভেসে যায়।

তুমি তো অভিযোগ জানতে,বলে ফেলতে পারতে,
আমায় চোখে তোমার তিক্ত বসবাস,অন্যের চোখে তুমি সুগন্ধি রজনী খুঁজো। 
আমার বেলা যে ফুরিয়ে গেলো,তোমার উঠানে আমার নামে ঘাসফুল ছেঁয়ে গেলো।

সে তো দূরত্বের রঙ,দূবা ঘাসে লাল পায়ের ছাপ।
তুমি চলে গেলে,কতো বছর  পেরিয়ে গেলো।
আমার চুলের তেলতেলে ভাব কেটে শুষ্কতা জুড়ে গেলো।
কিন্তু তোমার অভিমানে জল মিশলো না,বরং আমার চোখের জলে তোমার মৃত্যুর গল্পটা   ভিজে গেলো।

বিষাক্ত বিষাদ

*ফিকে হয়েছে কাঠ গোলাপের স্মৃতি.. 

স্মৃতির পাতা ছিড়েছে  ধুলোরঝড়ে... 


প্রিয়, কলমের বিষাক্ত ছোবলে.....  

হৃদয়ে জমেছে লেবু-কাঁটার বিষ....


হেমন্তের হিমেল হাওয়ায় হাওয়ায় 

দেখতে দেখতে এখন ছত্রিশ.. 


মৌরি ফুলের মুকুল এসেছিলো

মৌমাছিদের উৎপাতে ঝড়ে গেলো সেই ফুল..


বিষাক্ত এই বিষাদ নিয়েই

  হয়তো চলতে হবে 

আরো বছর বিশ.. আরো বছর বিশ...*



*ফিকে হয়েছে কাঠ গোলাপের স্মৃতি.. 

স্মৃতির পাতা ছিড়েছে  ধুলোরঝড়ে... 

প্রিয়, কলমের বিষাক্ত ছোবলে.....  

হৃদয়ে জমেছে কাঠ পিঁপড়ের বিষ.......

 এ ভাবেই হয়তো চলতে হবে 

আরো বছর বিশ.. আরো বছর বিশ...*


আমি

আমি খুবই অগোছালো একজন মানুষ। হ্যা নিজেকে মানুষ ভাবতে বিন্দুমাত্র সংকোচ হয় না।  আমার দৃষ্টিও তাই সীমাবদ্ধ রাখি। ততটুকুই দেখার চেষ্টা করি যতটুকু গুছিয়ে উঠতে পারব। কারো সাথে আমার গল্পটা মিলে গেলেই তার গল্প আমি খুব মন দিয়েই শুনি। আমি চাই কেউ আমার গল্পটাও মন দিয়ে শুনুক।
 কিছু বুঝে নিক। আমাকে কিছু বুঝিয়েদিক । 

আমি জানি আমি সরল সোজা একজন মানুষ। জিলাপি টাইপের মানুষ যেমন আমি না জিলাপির মত মানুষ আমার পছন্দও না। আমি বলব না আমি শুদ্ধ একজন। আমারও মুড সুইং এর মত সমস্যা আছে। আমিও রেগে গিয়ে দু চারটা কথা এদিক ওদিক বলে ফেলি। কিন্তু দিন শেষে আমি চেষ্টা করি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে। 

আমি জানি আমি কতটুকু ক্লান্ত হয়ে পরি নিজেকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে। আমি জানি আমি কতটুকু ঝড় সামলে নিয়ে হাসিমুখে দিন পার করি। 
আমি জানি একটা অন্ধকার একলা ঘরে আমি নিজেকে কতটুকু সামলাবার চেষ্টা করি। 

আমি জানি আমি আমার সাথে কত সময় পার করি। স্বার্থপরের পৃথিবীতে একমাত্র আমিই নিঃস্বার্থভাবে আমার সাথে থাকি। তবুও কখনো আমার আমাকে বলা হয় না; আমি আমাকে ভালোবাসি।  

অন্যদের অবহেলা সইতে সইতে কখন নিজের প্রতিও অবহেলা করা শুরু করেছি। হয়ত এর পরিণতি ভালো হবে না। আবার হতে পারে একদিন খুব জেদি হয়ে সব ছেড়েছুড়ে চলে যাব নিজেকে নিয়ে বাঁচতে। আমি অপেক্ষায় রইলাম আমার গল্পের শেষ দেখার। 

আমার নাম টা লিখে রেখো...



আমি সেই থেকে এই পর্যন্ত নিজেকেই চিনে উঠতে পারলাম না।  এই ভাবি আমিই ঠিক আবার কোথা থেকে সব ভাবনা এলোমেলো করে আমায় ভাসিয়ে নিয়ে যায় সেই গভীর সমুদ্রে আমি হয়ে উঠি অন্য এক নীল। 

সেখানেও খুজতে থাকি আকাশ কুসুম স্বপ্ন, দেখতে থাকি স্বাধীনতার ডানা মেলে বাতাসের বুক চিড়ে উড়ে বেড়ায় পাখিরা মেঘেদের সাথে পাল্লা দিয়ে মনে হয় আমিও যদি ওই পাখিদের সাথে উড়ে বেড়াতে পারতাম তবে বুঝি খুব ভালোই হতো।  বিনা বাধায় দেখতে পেতাম আকাশ থেকে মেঘের আড়াল থেকে এই পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য।  
সেই ভাবনাতেও জোটে এক গুচ্ছো যন্ত্রনার ছবি।
হঠাৎ যখন ঝোড়ো হাওয়ায় ঘরে ফিরতে চাওয়া পাখি পথ ভুলে যায় কিংবা ঝড়ের দাপটে অস্তিত্ব হারায় পাখিদের নীড় ও অস্থিত্ব হারায় তাদের ভালোবাসার স্বপ্ন তখন মনে হয় এই বেশ ভালো আছি।

হ্যাঁ এই বেশ ভালো আছি। 

যেমন চলছে জীবন জীবনের মতো চলুক।আর কোন চিন্তা নয়।  আমি শুধু তালে তাল মিলিয়ে যেতে পারলেই মিলবে সাফল্য। 

তবুও যে প্রশ্ন থাকে তবে কি সকলের মতো আমি কোন মর্যাদা পাবো না!   
আমি কি নাম যস খ্যাতি প্রতিপত্তি  এই সব কিছুই পাবো না? 
না!   না!  এ   এ  হতে পারে না।  
আমাকেও হতে হবে ওদের মতো। 
হতেই হবে ওদের মতো,, ওদের  কতো নামডাক,,, খ্যাতি প্রতিপত্তি।  আমাকেও হতে হবে ওদের মতোই। হ্যা  ওদের থেকে অনেক অনেক বেশি বৈকি কম নয়।  একটুও কম নয়।  

মুহূর্তে সব ম্লান হয়ে যায়। 

কি হবে যদি মানুষ না হই?

 কি হবে ও-ই সব বাহারী মোড়কে নিজের স্বত্যাকে ঢেকে নিজের অস্থিত্বের বিসর্জন দিয়ে? 

না সেই শেয়ালের গল্প নয়  না পেয়ে নিন্দা,, 
 বাস্তব সত্যি,,  জীবন টা গড়ে তুলতে হবে একদম সাধারণ থেকেও সাধারণ। 

জীবন থেকে বিসর্জন দিতে হবে প্রত্যাশা।  

হ্যা এই প্রত্যাশা কে জীবনের একদম শুরু থেকেই বিসর্জন দিতে পারলে সে খুব ভালো থাকবে।  কিন্তু সবাই তা পারে না।  আর যদি কেউ সক্ষম হয়েছে সে সত্যিই খুব সুখি মানুষ।  সে এতোটাই সুখি তার নিজের সুখের অভিজ্ঞতা পর্যন্ত ভাগ করে নেওয়ার জন্যও কাউকে খোজে না।  

জীবনে যতটুকু সম্ভব হবে এবং তার জন্য অপেক্ষা করে সময়ের অনুকূলে নিজের ও নিজের স্বজন বন্ধু সকলের পাশে থাকাই হবে একমাত্র উদ্দেশ্য।  আর এই উদ্দেশ্য হতে হবে অবশ্যই প্রত্যাশা হীন। 

হারাইয়া গেছি যন্ত্রণার বাস্তবতার মাঝে।


ওই!  কইতে পারো অহোন  তোমারে 
 দেহি না ক্যেন ?

আইজ-কাইল পাইনা ক্যেন একটু  দ্যেখতে তোমারে ?

আহাঃ কি,,  চান্দের মতো মুখ খান তোমার। 

আহাঃ!!! 

মুই তো মনে করতাম হগল- হানেই  তুমার ওই চান্দপানা মুহের আলোয় ব্যেবাক বিষণ্ণতা মোর ঘুচাইয়া যাইতো। 

 তহোন চিত্তের  ব্যথা খান ছ্যেলে না মোর।

 বুকে জমাছ্যেলে হুদাই তোমার লগে জীবন যাপনের স্বপ্ন। 

তুমি বোঝ না!  

তোমায় ছাড়া কি!!!!  শান্তিতে আছি ?

হেই কালে তুমি যহোন চোক্কের দিকে চাইয়া ব্যেবাক বুইজ্জঝা নিতা! 
 মোর চোক্কো দুইখান তখন ঝকমক করতো। 
আর আইজ সেই চক্কু যুগল   শুকায়ে গ্যেছে।

খুব যে কইতা তুমি আমার লগে লগে ব্যেবাক খানে থাকপা! 
 কই! কও দেহি!? 
  কও  তুমি আছো আমার লগে !? 
  ভালোবাসো এই পাগল মানুষ টারে? 

এতই যদি সত্যিই ভালোবাইসা   থাইকা থাহো  পাশে!!!  

কই? 
চোক্কের দিয়া আন্ধার রাইতে জল ঝড়ে ক্যান?
এই  জল মুছাইতে কেউ নাই ক্যান ?

মুই বুইঝা গ্যেছি,,, 

মুই  তো হারিয়েছি তোমারে , 
হারিয়েছি বহুদূর..........

ভীষণ এক বাস্তবতার মাঝে।
তুমি  চিন্তা কইরো না!  
আমি তোমার নামে তোমার ভালোবাসা জিন্দা রাখমু.....  সত্যিই  রাখমু.... 

তুমি  কি কইবা নাকি!   কই যহো ন যাইতেছেলাম জন্মের মতো চইলা ,,,  
তহোন  তোমারে  বলিনাই!!!!  
একটা  বার থাইকা  যাও!
তায় লে ক্যে নো এতো আকুলতা এহোন  তোমার  দেখার! 

আসলে হেই দিন তুমি আমারে এমন এক অগ্নি পরিক্ষার সম্মুখীন করছিলা! 
আমি বিধাতার কাছে সব জমা রাখছিলাম হেইদিন নিরুপায় হইয়া । 
আর তুমি নিজেই নিজের সিদ্ধান্তে অনড় আছিলা অন্যের যুক্তিতে সায় দিয়া,,, 

কি লাভ হইলো! 
হ্যাঁ  কও কি লাভ হইলো!

আমিই  তো হারাইয়া গেলাম অনেক  যন্ত্রণার  বাস্তবতার মাঝে।

"মায়া,,

মধ্যরাতে আমি প্রায়ই জানালায় বসে  থাকি। 


এই সময়টা খুব বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে যাই। সিগারেট শেষ হয়ে যায়।

ইচ্ছে হলেই শমির ভাইয়ের দোকানে গিয়ে সিগারেট নেওয়ার উপায় নেই। 
আমি একটা ঘটনার পরে খুব বেশি রাতে একা বাড়ির বাইরে পা দেই না।  
না কোন অলৌকিক বা ভৌতিক ব্যাপার না। 
ব্যাপার টা পরিচিত মহলের লোকেদের থেকেই পাওয়া।  রাত তিনটের সময়ে রাস্তায় ঘুরতে বেড়িয়ে পরতাম। এক বার এক বাল্যবন্ধু বলে ছিলো কিরে কোন ঘর থেকে বেড় হলি? তোরা অবিবাহিত ছেলে কিনা তাই জানতে চাইলাম। 
আমি অবাক হয়ে থমকে গিয়ে জীবনের শেষ কথা টা বলার জন্যই উত্তর দিয়েছিলাম। 
তোর মা, কে গিয়ে জিঞ্জেস করিস । 
তারপর থেকে আর সেই বন্ধুর সামনাসামনি দেখা করিনি। 
যাইহোক ও সব পুরোনো কাসুন্দি না ঘাটাই ভালো। 

 আকাশে পানে তাকিয়েই দেখা যায়, জলমেঘের দল ছুটছে,,  একটা দুটো তারা মায়ার দৃষ্টিতে  তাকিয়ে আছে। এই মায়ার একটা নামও আছে। 
মনে হয় আমি তাকে খুব ভালো করে জানি, খুব চেনা চেনা মনে হয়।

 সর্বনাশ! 
এই মায়া  আমার পিছু ছাড়ছেনা।
 তার সাথে আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তগুলো কেটেছিল। 
 একবার আমার বুকে মাথা রেখে ঘুমিয়েছিল 
তপ্ত দুপুরে। 
আমার ঘামে ভেজা শার্টে তার মাথার চুল আটকে যাচ্ছিল। 
হ্যাঁ  সেই মায়াবী সুন্দরীর সবই মনে আছে। 

 খুব গুছিয়ে কথা বলতে জানতো। 
 চোখে তাকালে আমার সব কথা বোবা হয়ে যেতো। 
 যখন কথা বলতো  আমার কথাগুলো তার কথায় চাপা পড়ে যেত।

 আমি বোকা হয়ে তাকে দেখতাম ঠিক যেমন এখন অন্ধকার আকাশ  দেখি।
আমরা  শিরা উপশিরায় আমি তার ভালোবাসার স্রোতের  অনুভব  পেতাম। 
মাঝেমধ্যে  মনে হতো কোন দেয়ালে আঁকা চিত্রশিল্প।
 যা পিকাসো সাহেব আমার জন্য এঁকেছে, আর কারো জন্য না।

যেদিন শেষবার আমার সামনে দাঁড়িয়েছিল। আমার কথা আটকে যাচ্ছিল মুখে।
কেন জানিনা সেদিন সেই পিকাসোর আঁকা ছবি ঝড়ের বেগে  রাস্তায় পড়ে ললিত হয়ে সব হারিয়ে আজ নীল আকাশের জ্বলজ্বল সেই মায়াবী মায়া হয়ে আমার রাত জাগা সঙ্গী। 

খুব মনে পরতাসে তোমায়...

সত্যিই কইতাছি প্রানপ্রিয়
আইজ বড্ড মনে পরতাসে তোমারে,,
খুবই হিয়ায় হারাতাছি   তোমায়..!

হয়তো জ্বানবা! ,নয়তো জ্বানবা  না! 

হয়তো বৃষ্টি দ্যেখতে ব্যাস্ত আছো,,,
 নয়তো  বৃষ্টিতে ভিজ্জা  যাওনের ভয়ে ঠাই নিবা    নিরাপদ কোনো স্থানে..! 

আমি আইজ খুব কইরা নিজের ভিজাইছি,,,
নিজের ভিজাইছি লোকচক্ষুর ভয়ে,,  কেউ যেন দ্যেখতে না পারে তোমারে মনে কইরা আইজ আমার মনের মইধ্যেও তুফান ওঠছেলো,,,


হু মুই ভালোই  জানি তোমার কিছুই করার নাই আর।
তয় কি!   আদৌ কি কিছু করার ছেলো না!

কিছুই উপায় ছেলে না  আমাগো..?

এই ভাবে দূরত্ব সৃষ্টি না কইরা ,কাছাকাছি থাকার কি নিতান্তই কোনো উপায় ছেলো না..?

পারতা  না?
বৃষ্টি  বা ভীষণ রহোম মন খারাপের দিনগুলোতে পাশে থাকতে..?
প্রচন্ড হতাশায় যখন জীবন আমার ছন্নছাড়া পারতা  না তখন আমার মাথায় হাত বুলাইয়া ,দুচোখে চোখ রাইখা  ভরসা দিতে.?

আজ বড্ড মনে পরতাছে তোমায়! 
তুমি কি শুনছো? দেখছো? 

নাকি সব  দেইখাও না দেখার ভান কইরা এড়াইয়া যাইবে আইজও..? 

যদিও এই সব কথার কোনো  মানেই হয় না। 

কারণ  আমারে ঠকাইতে তোমরা যে পরিকল্পনা  করছিলা তাতে  আমি দেখছি,, 
" তুমি নিজস্বতায় বাঁচোই না।  তোমার মইধ্যে আমি তোমারে পাই নাই। পাইছিলাম সেই তোমার  ভাবনার গিরগিটি নামের এক অন্য পুরুষ ""।


রাত্রি

একাকি মাঝেমধ্যে বসে থাকাটা প্রায় অভ্যস্ত করে ফেলেছি। 
এখন একাকী বসতে, অনেকটা সময় একাকী থাকতে ভীষণ অভ্যস্ত হয়ে উঠেছি।
এখন একাকী বসে থাকলে কিছুই আর মনে পড়ে না। 

এখনতো একাকী ইচ্ছে করেই বসে থাকি। ইচ্ছে করেই মাঝেমধ্যে কাউকে কিছু না জানিয়ে একা শহরের কোন এক সুন্দর কোনায় নিজেকে নিয়ে উপস্থিত হই। 

এই নিজেকে নিয়ে উপস্থিত হই মানেই আমি আমার আমিকে এখন নিজের কাছে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি।

আজকের সন্ধ্যে টাও ঠিক এইরকমই একটা সন্ধ্যে নিজেকে নিয়ে এসেছি সেই সুন্দর এক মনোরম পরিবেশে। 

এক কাপ চায়ের অর্ডার দিয়ে এসে বসেছিলাম একটা মাছের ভেড়ির এককোনে ।  সেখানে থেকে অনেক দুরের খোলা আকাশ দেখা যায় খুব সহজেই।  
আর আকাশের ওই রঙ পালটানোর খেলা আমায় যাদুর মতো আকৃষ্ট করে।  আমিও হারিয়ে গেলাম সেই ভালো লাগায়। 

আকাশ টা আজ অনেক কিছু শিখিয়ে গেলো। 
শিখিয়ে গেলো ঝলমলে মেঘের খেলা কি ভাবে রক্ত বর্নের আলপনা হয়ে ফুটে ওঠে।  আবার সেই রক্তে রাঙানো আকাশ টা গোধুলী নামে ঢলে পড়ে মুখ গুজে দেয় রাত্রি নামের বন্ধুর বুকে। 

রাত্রি আশ্বাস দেয় গোধুলীকে তুমি এখন আর নিজের পরিচয়ে নেই।  তুমি এখন আমাতে মিশে আমার নামেই তোমার পরিচয় হয়েছে।  তুমি এখন আমার অস্তিত্ব।  তুমিই আমার সেই ঘন অন্ধকার। 
আমি তোমাতে একটু একটু করে নিজেকে বিলিয়ে আমিও ফুরিয়ে যাবো। তখন তুমি প্রভাতী আলোর সেই আলোকে রশ্মি আর আমি প্রভাত। 

তারপর আবার সেই তুমি উজালা আর আমি দিন। 

আইজও তোমার খবর রাখি

আইচ্ছা  তুমিও কি দুপুরে খাইতে পারো না? 
খাইতে বইলেই  আমার কথা মনে হয়?
তারপর আর ইচ্ছা থাহে না খাওনের,,,
মা,য় মাঝেমইদ্ধে জিগায় কিরে খাইলি না কেন?  
মিছা কথা কইতে হয়।  
রাস্তায় খাবার খাইছি অহোন ক্ষুদা নাই। 

 সন্ধ্যায় কি তুমিও মোর  শূন্যতা  অনুভব করো?
আমিতো তোমার অস্তিত্ব তালাশ করতে করতে সেই আমাগো নদির পাড়ে গিয়া একা একা এখনো বইসা থাকি,, দেখি স্রোতে ভাসাইয়া নিয়া যায় কতো পানা কচুরির দল, ,,  মাঝেমইদ্ধে দুই একটা পানাকচুরিতে ফুল থাকে। 
তুমি বিশ্বাস করবা না নির্বাক হইয়া দেখি ওই ফুলের ভাইসা যাওয়া।  
তুমি কতো ভালোবাসতা কচুরিপানা ফুল..
যখন অন্ধকার ঘনাইয়া আর কিছু দেখা যায়না গাঙে ফিরা আসি এক বুক হতাশা নিয়া..। 

 রাইতে ঘুম হয় তোমার? 
রাইত দুইটা আড়াই টায় ভিষণ ভাবে কান্না পায় তোমারও?
 তুমিও কি রাইত জাইগা  থাকো?
 তুমিও কি আমার মতো ভেতর ভেতরে শেষ হয়ে যাচ্ছো?
 বলো না! প্রিয়! 

কিছু বেইমান মানুষ কে  আমরা ভালোবাসি।
 কিন্তু মানুষটা বেইমান হতে পারে ভালোবাসাটা তো আর বেইমান নয় 💔
কত্ত কিছু ধইরা রাখার চেষ্টা করতেছি, অবিরাম চালায়ে যাচ্ছি সেই যুদ্ধ এই যেমন.. 
তোমার মন,....আমার রাতের ঘুম....,

আচ্ছা!  তুমি চাও আমি সারাদিন রাত তোমার নামে পইড়া  থাকি,।
 কয়েকশো কোটিবার তোমায় স্মরণ করি।
 আমি করিও, সর্বক্ষণ তোমায় মায়ায় বুদ হইয়া পাগল সাইজা ঘুইরা বেড়াই। 
হিসাবনিকাশ ভুইলা অন্ধকারের সাথে পথ পাড় হই মাঝেমধ্যে। 
 ঘুমের কাছে ভুলের জবাবদিহিতা করতে হয়।
তুমি অনুরোধ দূরে ঠেইলা নিজেরে আকাশ সমান পাখি বানাও।
 আমি ডানাভাঙা শালিক দেইখা  কাতরায়ে উঠি।
 আমি কি তোমারে  ঘিরেই ঘুরপাক খাইতাচ্ছি...?
প্রিয়!
আমার মনের কোঠায়  তেলের প্রদীপ,
সেই আলোতে কাজল আঁকি, 
ছিন্ন হইবার পরেও আমি,
আইজও তোমার খবর রাখি...
কারণে আর অকারণে
 অখোনো  সেই নামেই ডাকি      প্রিয়!!!

এহন আর তোমার জইন্য বাঁচি না প্রিয়,,

হৃদয় খান জুইড়া  শুধু তোমারে  রাখার পরেও পাইলাম না!  
নাঃ পাইলাম না।
পাইলাম শুধু তোমার এক অনিশ্রিত ঘৃণ্ণা , অবহেলা, অপমান। 
এই বুঝি কপালে ছিলো! 

তারপরেও বার বার ফিরা  আইছিলাম এই আমি তোমারই ধারেই।।
কি বোকা ছিলাম।  আশায় ছিলাম যদি বিন্দু বিন্দু ভালোবাসা পাই। আমি তাই দিয়াই বানাইয়া লমু তোমার আমার সিন্ধু... 

 আগের এই মুই  কি অদ্ভুত ছিলাম! 
তাইনা? 
তবে চালাকির কাছে খোয়াইয়া ফেলছো হেই অদ্ভুত বোকা মানুষ টারে। 
তুমি হারাইয়া  ফেলছো হে ই আগের আমিটারে।

 আগের  আমি তোমার অবহেলা, অপমান দিব্যি সহ্য কইরা  যাইতাম। 
তাও হেই  বার বার তোমার দ্বারেই ফিরে যাইতাম।
 আর তুমি বার বার তাড়াইয়া  দিতে আমায় তোমার দুয়ার থেকে। 

তোমার করা অপমানে মাথা নিচু কইরা  আমার চোখের জল গুলো খুব বেশি উপভোগ করতে তুমি। 
যত বার তোমার কাছে ছুটে গেছি ততবারই উপহার হিসেবে পাইছি চোক্কের জল।  
মাঝে মাঝে অস্পষ্ট সুরে বলছি ''আহা, আমায় একটু ভালোবাসলে কি এমন হইতো '' !! 
সত্যিই তো!  কইতে পারো কি এমন হইতো যদি সত্যিই একটু ভালোবাসা দিতা? 

আর এখন কার আমি, 

তোমায় ছাড়াই চলতে শিখে গেছি। 
এখন আর বার বার তোমার কাছে ছুটে যাইনা।
তোমার কাছাকাছি গেলেও তোমায় দেখার জন্য মন চায় না এখন আর।
 বার বার ভালোবাসার দাবি নিয়া  তোমার দুয়ারে পা রাখি না। 
এখন আর মুখ বুঝে তোমার করা অপমান, অবহেলা সহ্য করার প্রশ্নই আসে না।  

এহন আর তোমার জইন্য বাঁচি না প্রিয়,,

এহন শুধু নিজের জইন্যই বাঁচি।। 

হ্যাঁ,আমি বাঁচতে শিখে গেছি। 
তোমার অবহেলা অপমান আমায় বাঁচতে শিখায়ে দিছে। 
তবে এতো কিছুর পরেও তোমায় না পাওয়ার শূন্যতা বুকের বাঁ দিক্র  তিব্র ভাবে জানান দেয় !! 

তোমার দুয়ারে না গেলেও প্রতিনিয়ত অপেক্ষা করি কবে আমার দুয়ারে কড়া নাড়াবে তুমি ।। 

ভাবি এই বুঝি আসলে তবে,কিন্তু সবই যে কল্পনা !! 

তবুও তোমায় নিয়ে ভাবতে আমার ভালো লাগে, 

আইজ অব্দি আমার চোখের ভাষা বুঝলে না তুমি।
 হয়তো বুঝবাও না। 
আচ্ছা,একটু ভালোবাসলে কি খুব বেশি ক্ষতি হইয়া যাইত..? 
ভালোবাসা তো অপরাধ না, ভালোবাসা তো ফুল 
ভালোবাসা তো ঠিক ফুলের নাহান  পবিত্র ।। 
ভালোবাসা তো সুন্দর, অনেক সুন্দর ~~
তুমি কি তা বুঝো না প্রিয় !!

চুপ থাকতে শিখতে হবে...

কেউ যন্ত্রণা দিচ্ছে ? 
                     চু হয়ে যান। 

কেউ অনেক ভালবাসার পরও প্রাপ্যটা দেয়নি ? 
                         চুপ হয়ে যান। 

কোন মানুষ অনেক অপ'মান করছে?
                        চুপ হয়ে যান। 

কেউ ঠকিয়ে গেছে ? 
                        চুপ হয়ে যান। 

কেউ আপনাকে নিয়ে তুমুল মি'থ্যা দোষা'রোপ করছে ? 
                     চুপ হয়ে যান। 

কেউ বিশ্বাস ঘা'ত'ক'তা করছে ?
                  চুপ হয়ে যান।

এমন নিরব হয়ে যান সে মানুষগুলো যেনো আর কখনই আপনার শব্দ কিংবা ছায়া না দেখে । মৃ'ত হয়ে যান তাদের কাছে। 
প্রতিজ্ঞা করুন আর কখনই ঘুরে তাকাবেন না । শুধু এই প্রতিজ্ঞাটা করতে পারলে আপনি কষ্ট পাবেন না । এই যে নিরবতা আপনাকে দম বন্ধ করা আ'র্ত'নাদ দিবে কিন্তু অপর পক্ষকে দিবে আফসোস । আসলে আমরা হারাবার ভয়ে শব্দ দিয়ে প্রতিবাদ করি ।
কিন্তু আপনি জানেন কি ? যে মানুষগুলো আপনাকে মানুষ বলে মূল্যায়ন করেনি , আপনাকে দম'বন্ধ কান্নার অনুভূতি দিয়েছে তারা আপনার কেউ না । তাই শব্দ দিয়ে , কান্না দিয়ে দুনিয়ার সমস্ত প্রায়োরিটি দিলেও ওরা আপনার মূল্য বুঝবে না । 

তাই নিজের স্বার্থে বাঁচুন 
নিজেকে ভালোবাসুন,,
আপনার ভগবান  আছেন.!
শেষ বিচারের হাইকোর্টে  গিয়ে বলে দিন সব অভিযোগ ,,
তিনি দুঃখ মোছার উপশম বিলি করেন..!!

রাধে রাধে 🙏🙏🙏

অন্ধকার রাইত

হেইকালে তোমারে যদি এক্কারে নিজের কইরা পাইতাম!  
হয়তো  মোর  চাওয়া পাওয়ার হিসেবের খাতা খান  ধুলা জমা হইতো। 
 কারণ তোমারে  পাইলে আমার আর কিছু চাওয়ার থাকতো না -- 
অথচ, এই তোমারে  কিছুতেই পাওয়া হইলো না, 
তুমিও  আমার হইলা না !! 

আমিও অনেক বার চেষ্টা কইরাও ফলাফল কিছুই পাইনাই। 

এই যে এই   অন্ধকার রাইত,,  আর নির্ঘুম আমি। 

আসলে তুমি যখন আমারে ছাইড়া যাওয়ার কথা ভাবতেছিলা।
তার অনেক আগেই তুমি আমারে ছাইড়া চইলা গেছিলা।
আমি নিজেরে মিথ্যা বুঝাইয়া তোমারে আমার কাছে রাখছিলাম বোকার মতো। 
আমি জানতাম তুমি থাকবার নয়।
এতো যত্নে যে ভালোবাসা গড়েছিলাম তার শেষ হবে, তাই'ই হলো।

আমি শুকনো পাতার মতো পড়ে রইলাম।
তুমি হাসলে,,, রঙ্গমঞ্চে,,,  বিচ্ছেদ উপন্যাসের একটা বিষাদময় সমাপ্তি করলে।
আমি হারলাম,কাঁদলাম, বেঁচে ফিরলাম, তবু তোমায় ভালোবেসে গেলাম...
এখনো কেন জানিনা মন কাঁদে তোমার জন্য। 

অভাব কাকে বলে!

শোনেন অভাব কাকে বলে ? 

অর্থনীতি ক্লাসে বয়স্ক একজন স্যার, রুমে ঢুকেই সামনে বসা ছেলেটিকে প্রশ্ন করলেন, 
বলো তো, অভাব কাকে বলে ?

-'অর্থনীতিতে বস্তুগত বা অবস্তুগত কোনো দ্রব্য পাওয়ার আকাঙ্খাকে 'অভাব' বলে।' 
ছেলেটি উত্তর দিল।

-এটা তো অর্থনীতির ভাষা, 
সাধারণ ভাবে অভাব কাকে বলে ? অর্থাৎ 'অভাব' বলতে তুমি ঠিক কি বোঝ ?

ছেলেটি মাথা নিচু করে বেঞ্চের দিকে তাকিয়ে আছে। 
কি বলবে ভাবছে সে।
স্যার আবার তাড়া দিলেন 
'বল' ...

ছেলেটি এবার বলতে শুরু করল।

১। আমি কলেজে আসার সময় মা আমাকে ভাড়া দিতে গিয়ে তার ব্যাগ তন্ন তন্ন করে খুঁজে অনেক কষ্টে ২০/৩০ টাকা বের করে দেন, 
আর আমি বাড়ি থেকে বের হয়ে ৫/৭ মিনিট পর বাড়িতে ফিরে ভাড়ার টাকাটা মাকে দিয়ে বলি, মা! আজ কলেজে ক্লাস হবে না। 
মা তখন বলেন, আগে খবর নিবি না ক্লাস হবে কিনা ? 
মায়ের সাথে এই লুকোচুরি হচ্ছে 'অভাব'।

২। বাবা যখন রাত করে বাড়ি আসেন মা তখন বাবাকে জিজ্ঞেস করেন এত রাত হলো কেন ফিরতে ? 
বাবা বলেন, 'ওভারটাইম' ছিল। 
'ওভারটাইম' না করলে সংসার কিভাবে চলবে ? বাবার এই অতিরিক্ত পরিশ্রম হচ্ছে আমার কাছে 'অভাব'।

৩। ছোট বোন মাস শেষে প্রাইভেট টিচারের টাকা বাবার কাছে চাইতে যখন সংকোচবোধ করে সেটাই 'অভাব'।

৪। মাকে যখন দেখি ছেঁড়া কাপড়ে সেলাই দিতে দিতে বলে কাপড়টা অনেক ভাল আরো কিছুদিন পরা যাবে এটাই 'অভাব'।

৫। বন্ধুদের দামী স্মার্টফোনের ভিড়ে নিজের নর্মাল ফোন লজ্জায় যখন লুকিয়ে রাখি এই লজ্জাই আমার কাছে 'অভাব'।

৬। অভাবী হওয়ায় কাছের মানুষগুলো যখন আস্তে আস্তে দূরে সরে যায়,এই দূরে সরে পড়াটাই আমার কাছে 'অভাব'। ....

পুরো ক্লাসের সবাই দাঁড়িয়ে গেল! 
অনেকের চোখে জল! 

স্যার ও চোখের জল মুছতে মুছতে ছেলেটিকে কাছে টেনে নিলেন।

বস্তুতঃ আমাদের সহপাঠীদের মধ্যে এমন অনেকেই আছে, 
যারা কয়েক মাস অপেক্ষা করেও বাড়ি থেকে সামান্য টাকা পায় না। 
সব দুঃখ-কষ্টকে আড়াল করে হাসিমুখে দিনের পর দিন পার করে দেয় খেয়ে না খেয়ে!
তাদের হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকা কষ্ট টুকু বুঝার সুযোগ হয়তো আমাদের হয়ে ওঠে না!

এটাই বাস্তব! 

নীলি! !

কি অতো ভাবতাসো সেই থিকা কইবা! 
নীলি? 
কও কইয়া ফালাও।  
কথা লুকাইয়া রাখতে নাই।
 কথা হারাইয়া যায়।  
কথা লুকাইলে কথার বিষে দিলের ভেতর পীড়া হয়। 
যাইহোউক এখন কও দেখি কি অমন ভাবতেছে হেই থিকা? 
তুমি কি ভোরের সেই স্বপ্ন নিয়া কিছু কইতে চাও? 
দেখো বাপু আমি অতো চুপ চাপ থাকতে পারি না।
ও নীলি কও,,  কও আমি কথা দিতাছি আইজ তোমার কথা মন দিয়া সুনমু, 
কও নীলি!  
জানো নীলি,, 
আমারও মাঝে মাঝে খুব ইচ্ছে হয়  তোমার মাঝে নিজের এক আকাশ বিশলতা ছড়াইয়া দেই,
যাতে তুমি দূরত্ব কি তা বুঝো। 
তুমিও একটু বুজতে  বিচ্ছেদ কেমন অভিশাপ। 

 সেই সব দিনে যখন তোমার মেসেজ এর পর মেসেজ দিয়েও যখন কোনো রিপ্লাই পাওনি তখন ভেবেই নিয়েছিলে অন্য কারো উপন্যাসের পাতায় নিজেরে সাজাচ্ছি,,,  কি তাই না!
আমায় প্রশ্নের বদলে সন্দেহের কাতারে রাখছিলা আমারে । 
তোমার অভিমান এবং সন্দেহের প্রান্তর এতো বেশি ছিলো, যে সেদিন ওই রাস্তা পার করতে অক্ষম হয়েছো !! 
তোমার আর কি। 
আমি মুক্তি পাই নাই। 

সামনে থিকা তোমারে যখন যখন  দেখতাম! 
 এখন তুমি সামনে নাই তাও কেন জানি না আরো বেশি দেখি তোমারে।
, তখনতো  তুমি ভেবে নিয়েছিলে অন্য কারো আকাশে উড়ছি আমি। 
বিশ্বাসের  বদলে দিয়েগেলে তোমার এক অভিমানী দীর্ঘশ্বাস। 

চার রাস্তার মোড়ে আমায় অপমান করে   পিছু ফিরে চলে গিয়েছিলে।  
পেছন ফিরে একবার দেখোনি এক কপাটে অশ্রুসিক্ত নয়ন তোমার চলে যাওয়ার পানে চেয়ে আছে।। 

আমার দরজায় কড়া নাড়ার পরেও কি  আমার কোনো অস্তিত্ব পাওনাই ?
তখন তুমি ভাবলা  কি কইরা  তোমারে  চাইনাই আমি। 
অথচ দরজার ওপাশে কি চলতাছে তা জানার চেষ্টাও করোনাই তুমি। 
হ্যাঁ  আমি স্বীকার করি আমি চেষ্টা করছিলাম  নতুন কইরা একটা মানুষ পাইতে।  
আমি তারে তোমার কথা প্রথমেই কইছি।
আমিতো তোমারে ভুলি নাই। 

অন্য কারো হাতে যখন হাত রাখছিলাম সেই হাতের মাঝেও তোমার স্পর্শ  সন্ধানে ছিলাম।
তুমি বুঝওনি বা আমি বুঝতেও দেইনি। 

তুমি একদিনের জন্য আমি হইতে চাইতাছো?
 আচ্ছা আমার ভিতরে গিয়া  নিজেরে  সামলাইতে পারবা তো..? 
কারণ আমার পুরো ''আমি'' এর  মাঝে তোমার অস্তিত্ব যা তুমি কখনো খুঁজতে চাওনাই। 

তাই তোমার  করা প্রশ্নের উত্তর গুলা  আমি নিদ্রাহীন রাতের আকাশে উড়াইয়া  দিছিলাম। 
যদি কখনো উড়তে উড়তে তোমার জানালায় গিয়ে পরে তবে নিজেকে আফসোসের কাড়ায় দাঁড় করিও না। 
আমার আমি না হয় আমার মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকি,তুমি ভালো থেকো। 

দেখছো,, আমি বক্তৃতা দিতে শুরু করলে সেই বক্তৃতা আর থামতেই চায় না। 

আর তুমিও দেখো সেই থিকা  চুপচাপ কইরা শুনতে কথাগুলো। 

আমি সকালে ঘুম থিকা উইঠাই কথা গুলা মাইয়াডারে জানাইয়া দিছি। 
কিন্তু সব কিচ্ছু কইনাই।  
শুধু কইছি একটা বাচ্চার কথা। 

জানো মৌরি ঘুম থিকা ঊইঠাই ফোন করছে। 
কয় আর কি দেখছি সব কইতে। 
আমি সবটা কই নাই। 

আচ্ছা নীলি!  তুমিও কি তাই চাও? না আমিও খুশি হমু খুব খুশি হমু,,,  তবে কি জানো ও কিন্তু  একটা ছেলে চায়। ও সব সময় কয় আমার একটা ছেলে হইলে আমি ওরে তোমার নামে ডাকবো।

আচ্ছা তুমি কি সত্যিই চাও! ওর কাছে যেতে? 
মেয়ে টা আজকের দিনে দাড়াইয়া একদিকে সংসার আরেক দিকে আমি।
  না এই দিক টা কিছুই না এর মধ্যে শুধুই এক গভীর বিশ্বাস। 

ও নীলি !!!!      নীলি  !!!    !        !        !  

আচ্ছা আমি কি কমু,, সব টা।  


সাধু সঙ্গ সাধু সঙ্গ সর্বশাস্ত্রে কয়

এক ভোমরা ঘুরতে ঘুরতে দেখতে পেল তার নিজের মত অন্য একটি পোকা মাটিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। 
ভোমরা এসে বলল- ভাই তোমার এত দুর্দশা কেন? 
গোবরের পোকা বলল- কেন ভাই, আমার তো কোনো দুঃখ নাই। আমার বাসা এখানেই আছে। 
তুমি দয়া করে আমার বাড়ী এসো।
ভোমরা আস্তে আস্তে গোবরের পোকার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করল। তুমি কোথায় থাক ভাই! 
গোবরের পোকা বলল- আমি এই গোবরের গর্তের মধ্যে থাকি এবং গোবরের রস খাই। 
ভোমরা হো হো করে হেসে উঠল। বলল-ভাই তুমি আমার স্বজাতি হয়ে এত বোকা? 
তোমার দুঃখ তুমি কিছুই বুঝতে পারছ না? 
আমি কি করি জান? আমি সব ফুলের মধু খাই এবং গুন গুন করে গান গাই। 
সকলে আমার কত প্রশংসা করে।
আমি এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পরিব্রাজকের মতো ঘুরে বেড়াই। 
তোমার দুঃখ-কষ্ট তুমি কিছুই বুঝতে পারছ না। 
তুমি আমার সঙ্গে চল, তোমায় ফুলের মধু খাওয়াব। 
আমি তোমার দুঃখ সহ্য করতে পারছি না।” 

গোবরের পোকা বলল- ভাই, আমি তোমার মতো উড়তে পারব না। কেমন করে যাব? 
ভোমরা বলল- তুমি আমার পিঠে ওঠ। আমি তোমায় বয়ে নিয়ে যাব। গোবরের পোকাকে এক কুমুদ পুষ্পে বসিয়ে দিয়ে বলল-“ভাই, যেমন করে তুমি গোবরের রস পান কর, ঠিক সেইভাবেই এই ফুলের মধু পান কর। আমি কয়েকটি ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে আসি।” 
এদিকে প্রভাত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কুমুদ পুষ্প সঙ্কুচিত হয়ে যাওয়ার ফলে গোবরের পোকা তার মধ্যে আবদ্ধ হয়ে পড়ে রইল। ভোমরা বন্ধুকে খুঁজে পেল না।
এদিকে গ্রামের এক বালক শিব পূজার জন্য ফুল তুলতে এসে গোবরের পোকা সহ ফুলটা তুলে নিল। 
পূজারী অগুরু চন্দন ও কর্পূর মিশ্রিত গন্ধের সহিত পুষ্প মিশ্রিত করে শিবমন্ত্রে অর্পণ করলেন। 
ক্রমানুসারে যে ফুলের মধ্যে গোবরের পোকাটি আছে, সেটিও “ইদম্ সগন্ধং পুষ্পং ওঁ নমো শিবায় নমঃ। শিবমন্ত্রে অর্পণ করলেন। 
পরদিন প্রাতঃকালে সেই সমস্ত ফুল গঙ্গায় ভাসিয়ে দিয়ে নতুন ফুল তুলতে গেল বালকটি। গঙ্গার স্রোতে ফুলগুলি ভাসতে ভাসতে চলল। গঙ্গার জলের স্পর্শ পেয়ে মহানন্দে পোকা বলতে লাগল-“আহা! আহা! আমার জন্ম এক গোবরের স্তুপের মধ্যে। আমি পূর্বার্জিত কোন সৌভাগ্যের ফলে এমন একজন সাধুর সঙ্গ লাভ করলাম, যার ফলে আমার পূর্বপুরুষ কেউ যা পাননি, সেই বৈষ্ণবপ্রবর মহাদেবের চরণে অর্পিত হলাম। 
তারপর ব্রহ্মারও দুর্লভ বস্তু যে ভগবৎ পাদপদ্ম থেকে প্রবাহিত গঙ্গা তা প্রাপ্ত হওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে, শুধু সেই সৎ বন্ধুর কৃপা বলে। 
জন্ম যখন হয়েছে তখন মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী। 
আমার এই মৃত্যু, উর্ধ্বগামী মৃত্যু। 
কেননা সাধুসঙ্গের প্রভাবে ভগবৎ পাদপদ্মে যাওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছি। 
তাই শাস্ত্র বলেন-
                   “সাধু সঙ্গ সাধু সঙ্গ সর্বশাস্ত্রে কয়
                    লব মাত্র সাধুসঙ্গে সর্বসিদ্ধি হয়।”
অর্থাৎ -
আমারা এই দুর্লভ নর দেহ লাভ করে যদি সাধুসঙ্গ না করি তাহলে আমাদের জীবন বৃথা। 
শাস্ত্র বলেন-
                        “সাধুসঙ্গে কৃষ্ণনাম এইমাত্র চাই।
                      সংসার জিনিতে আর কোন বস্তু নাই।
                        সাধুসঙ্গে কৃষ্ণভক্তে শ্রদ্ধা যদি হয়।
                    ভক্তির ফল প্রেম হয় সংসার যায় ক্ষয়।”

                             ভারতের সাধক ও সাধিকা
🌺🙏🌺🙏🌺🙏🌺🙏🌺🙏🌺🙏🌺🙏🌺

প্রাপ্তির শেষ কোথায়?

প্রাপ্তির শেষ কোথায়?

⛔বিবাহিত? 
সংসারে অশান্তি। মনে করেন বিচ্ছেদ দিয়ে সব মিটমাট করে ফেলতে। ইচ্ছে  ইচ্ছেতেই ইচ্ছের মতো থাকে। 

⛔অবিবাহিত? 
সারাক্ষণ বিয়ের ভাবনায় দিন কাটে। সঙ্গীকে পাওয়ার স্বপ্নে বিভোর! 

⛔ধনী?
একটু শান্তি আর সুখের খোঁজ কোথা থেকে পাওয়া যায়, তা ভাবতে ভাবতে বিষন্নতায় ডুবে থাকা!

⛔গরীব?
আরও বেশি অর্থ উপার্জনের পথ খুঁজে ফেরা!

⛔শিশু?
কবে যে বড় হবো? সবাই ছোট-ছোট বলে!

⛔প্রাপ্তবয়স্ক? 
ইশ্! সেই শৈশবটাকে যদি আবার ফিরে পেতাম!

⛔সন্তানপ্রাপ্ত?
এইগুলোর যন্ত্রণায় জীবনটা শেষ হয়ে গেল। একটাও মানুষ হলো না। যাদের সন্তান নেই তারাই ভালো আছে!

⛔নিঃসন্তান?
ভগবান , পৃথিবীর যেকোন কিছুর বিনিময়ে আমাকে সন্তান দাও!

⛔চাকুরীজীবি?
দিনভর এত খাটুনি আর ভালো লাগে না!

⛔বেকার?
কবে যে একটা চাকুরী হবে!

⛔সেলিব্রেটি? 
মুখ লুকাতে ব্যস্ত!

⛔সাধারণ ব্যাক্তি? 
সেলিব্রেটি হওয়ার স্বপ্নে বিভোর!

✔️এই জগতে একমাত্র মৃত্যু ছাড়া মানুষের এই অসীম ইচ্ছা, চাহিদা আর অপূর্ণতাকে দমানোর কোনো শক্তি নেই।

কাজেই আসুন, যে যেই অবস্থানে আছি ভগবান কে স্মরণ করে প্রার্থনা করি  সেখান থেকেই নিজের মনের সর্বোচ্চ প্রশান্তিটা খুঁজে নেয়ার চেষ্টা করি।
🤍🤍রাধে 💙💙রাধে❤️❤️

নতুন পরিচয়

প্রিয়,, 
তোমার জন্য কত কি'ই না করলাম!

 সারা রাইত না ঘুমাইয়া সকালবেলা তোমারে খোজতে গেলাম।

তুমি লুকাইয়া রইলা! 
 আমি তোমার পাশে  আশ্রয় খুজতেছিলাম।

 আর তুমি আমারে দেউলিয়া বানাইয়া দেলা!

 আশ্রয়শূন্য মানুষ'রে বোঝা যতোটা সহজ,

আশ্রয় দিয়ে বাঁচানো হয়তো তার থেইকা একটু কঠিন।

 তোমার আশ্রয় চাই না আর।
বাঁচতে চাই নতুন পরিচয়..

                                            মূ র্খ রাখাল নীল

রাখিবন্ধনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মহাভারতের কৃষ্ণ ও যমুনার কাহিনি

বাঙালির রাখিবন্ধন দিবস পালন করা উচিত ১৬ই অক্টোবরে। ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে লর্ড কার্জন বাংলাকে ভাগ করেন। তাই প্রতিবাদ স্বরূপ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সেইদিনেই বাংলা ব্যাপী সমস্ত বাঙালিকে এক সুতোয় বাঁধার জন্য রাখিবন্ধনের ডাক দেন।
রবীন্দ্রনাথের এই রাখিবন্ধন কোনভাবেই ‘বোন ভাইকে রাখি বাঁধবে আর ভাই তার সুরক্ষার ভার নেবে’ জাতীয় পুরুষতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে ছিল না। বরং তা ছিল সর্বব্যাপী। যে কেউ, যে কাউকে রাখি বাঁধতে পারে। মূলত বিশ্বমানবতাই ছিল রবীন্দ্রনাথের এই রাখিবন্ধনের ভিত্তি।
ঠিক এজন্যই রবীন্দ্রনাথ তাঁর প্রেম পর্যায়ের গান ‘ ভালবেসে সখী নিভৃত যতনে’তে লিখছেন –
“ধরিয়া রাখিয়ো সোহাগে আদরে আমার মুখর পাখি-- তোমার প্রাসাদপ্রাঙ্গণে॥
মনে ক’রে সখী, বাঁধিয়া রাখিয়ো আমার হাতের রাখী-- তোমার কনককঙ্কণে॥
ভারতের সংস্কৃতি হল বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য। এই দেশে বিভিন্ন উৎসব সাড়ম্বরে পালিত হয়। এক একটি মরসুমে এক-একটি উৎসব ঘিরে তৈরি হয় অনিবার্য মাদকতা। যা আরও রঙিন করে তোলে সংস্কৃতিকে। ভারতের সংস্কৃতির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত রয়েছে নানা মহাকাব্যে বর্ণিত অগণিত ঘটনা। রাখি উৎসবও তার ব্যতিক্রম নয়।
কৃষ্ণ ও দ্রৌপদী

মহাভারতের কাহিনি থেকে জানা যায়, একটি যুদ্ধের সময় শ্রীকৃষ্ণের হাতের কবজিতে আঘাত লাগে। সেই ক্ষত থেকে রক্তপাত হতে শুরু হয়। তা দেখতে পেয়ে দ্রৌপদী নিজের শাড়ির আঁচল ছিঁড়ে কৃষ্ণের হাতে বেঁধে দেন। তার পর থেকেই শ্রীকৃষ্ণ দ্রৌপদীকে নিজের বোন সখী হিসাবে মানতে শুরু করেন। এই উপকারের প্রতিদান দেওয়ারও অঙ্গীকার করেন কৃষ্ণ। এর পর পাশা খেলায় পাণ্ডবরা সর্বস্ব খুইয়ে যখন দ্রৌপদীকে কৌরবদের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হয়, দ্রৌপদীর চরম বিপদ এসে পড়ে। দুঃশাসন তাঁর বস্ত্রহরণ করতে গেলে দ্রৌপদী শ্রীকৃষ্ণকে প্রাণ ভরে স্মরণ করেন। দ্রৌপদীর সম্মানরক্ষা করে সেই শ্রীকৃষ্ণ সেই প্রতিদান দেন। সেই সময় থেকে এই ভাবেই রাখিবন্ধন উৎসবের প্রচলন হয়।

যমুনা ও যম

পুরাণ কথা অনুযায়ী, এক বার যমুনা নদী যমরাজকে রাখি পরিয়েছিলেন। তাতে খুশি হয়েছিলেন যমরাজ। তিনি যমুনা নদীকে অমরত্বের আশীর্বাদ দেন। তার পর থেকেই এটাই প্রচলিত বিশ্বাস যে, যদি কোনো বোন বা দিদি ভাই বা দাদার হাতে রাখি বাঁধে তা হলে সে অমরত্ব প্রাপ্ত হবে।


পুরাণে রাখি বন্ধন

রাখি বন্ধনের প্রচলন নিয়ে ভবিষ্যপুরাণে একটি আগ্রহজনক গল্পের কথা বলা আছে। সত্যযুগে বৃতাসুর নামে এক অসুর ছিল। দেবতাদের যুদ্ধে পরাজিত করে এই অসুর স্বর্গলোক দখল করে। বৃতাসুর বর পেয়েছিল যে কোনও অস্ত্রে তাকে ঘায়েল করা যাবে না। সেই কারণে বারবার চেষ্টা করেও দেবরাজ ইন্দ্র তাকে হারাতে পারেননি। তখন মহর্ষি দধিচি দেবতাদের জন্য নিজের শরীর দান করেন এবং তাঁর হাড় দিয়ে তৈরি হয় ইন্দ্রের অস্ত্র বজ্র।

বৃতাসুরের সঙ্গে যুদ্ধে যাওয়ার আগে ইন্দ্র তাঁর গুরু বৃহস্পতির কাছে যান। বৃহস্পতিকে তিনি বলেন যে এই শেষবার তিনি বৃতাসুরের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হতে চলেছেন। এই যুদ্ধে হয় তাঁর জয় হবে, নয়তো পরাজয়। এই কথা শুনে ইন্দ্রের সুরক্ষা নিয়ে অত্যন্ত ভীত হয়ে পড়েন ইন্দ্রাণী সচী। তিনি তাঁর সমস্ত সাধনার শক্তি একত্রিত করে একটি বিশেষ রক্ষাসূত্র তৈরি করেন। ইন্দ্রের সুরক্ষা কামনা করে এই সুতো তিনি দেবরাজের কবজিতে বেঁধে দেন। সেদিন ছিল শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমা। এই যুদ্ধে বৃতাসুরকে হত্যা করে জয়ী হয়ে ফিরে আসেন দেবরাজ ইন্দ্র।


আমি কেমন শুধু শুধু ঝগড়া করি একটু আইসা দ্যেখেন...

মা!

ও ,,, মা,,

কে ফোন করেছে?

  কার সাথে কথা বলছো?.

ভেবে ছিলাম হয়তো প্রিয়াঙ্কা ফোন করেছে।
 মা ওর সাথে কথা বলছে। 
এর আগে ওরা অনেক বার কথা বলেছে আমি জানিই না।।
 হয়তো আজও তাই। 
মা খুব হেসে হেসে কথা বলছে। 

আমি সামনে আসতেই বলে রাখছি আমার শত্রু টা বাড়ি এসেছে।  
গরু টা খাটালে খাবার দিয়ে নেই পরে কথা হবে।
 ফোন গরম হয়ে গেছে।

কথাটা শোনার পরে কৌতূহল আরো অনেক বেড়ে গিয়েছিল। 

কি জানি হয়তো আমার ভাবনাটাই সত্যি হতে পারে!  
তাই যেন হয়।  

আমি এখনো তার অপেক্ষায়। 

আর পারছি না চলতে। 

একবার যদি বাঁবলা গাছের কষ লেগে যায় সেই দাগ যেমন উঠতে চায় না। 
প্রেমের স্বাদ ঠিক ওই কষের মতো, প্রেমের নেশা হৃদয়  থেকে গেলেও চোখের নেশা যেন শেষ হয় না।  
তাই তার জন্য আমার সেই নেশা সব সময়। 

মা বললো এই নে কথা বলবে তোর সাথে দেখ কে?

চমকে যাই। 

তবে কি সিত্যিই এটা প্রিয়! 

ফোন নিতেই দেখলাম অচেনা নম্বর কৌতূহল তখন উর্ধ্বে টান। 

সে এক দারুণ অনুভূতি। 

ফোন স্কিনে দেখছি ৪৮ মিনিটের কথপোকথন ভেসে উঠেছে। 

কি অবস্থা বুঝতে পেরেছেন? 

ফোন কানে দিতেই ওপাশ থেকে বলে উঠলো 

ও মামা কেমন আছো?  আমি তোমার বাবাই বলছি।

বুঝলাম এ আমার মায়ের  বৈধ দ্বিতীয় প্রেমিক। 

তাকে তো একটু আদর করেই ডাকতে হবে নইলে মা কষ্ট পাবে।  

নাঃ  নাঃ মা কে কষ্ট দেওয়া পাপ ওই কাজ ভুলেও যেন না হয়। 
মা ক্ষমা করো আমি ওকে বাবাই কেন বাবা বলেও ডাকতে রাজি। 
হ্যা , ঠিক আছে। 

তো!  আমার ওই দ্বিতীয় বাবা কথা বলতে জানতে পারলাম আজ বাড়িতে ডিমের ঝোল, আমড়া দিয়ে মুসুর ডাল,,,উচ্ছে তোতো থাকবেই। 

সব ভুলে গিয়ে মা কে জিজ্ঞেস করলাম
 ও মা আমার জন্য ডিমের মামলেট করে ঝোলে দিয়েছোতো!  
নইলে আমি খাবো না।

আমি মনে মনে বলছি মা যেন কোন কারণেই ভুলে না যায়।  
মা যেন হ্যা  বলে। 

মা বলল না ওসব করিনি! 

আমার অত সব কিছু মনে নেই। 

আমি সব এক রকম করে রেখেছি। 

তুই  খেলে খাবি না খেলে কিছু করার নেই।

 রোজ রোজ ওইসব ঝামেলা আমার ভালো লাগেনা। 
আমি অতো ভাগাভাগি করতে পারবোনা। 

তোর যদি ভাগে ভাগে খেতে হয! 

 তাহলে তুই রান্না করার লোক নিয়ে আয়। 
তোকে ভাগে ভাগে করে দেবে খাবি।

আমি আর পারবো না। 

(এই শুরু মায়ের সাথে ঝগড়া,,) 

ও   তার মানে এখন আর তুমি আমার উপরে তোমার সব অধিকার তুমি রাখো না। 

আমি কি বঞ্চিত হয়েছি তোমার সেই অধিকার থেকে? । 

আমার কি এখন অবশ্যই আমার দ্বায়িত্ব নিতে কোন একজন কে আনতেই হবে। 

 ও মা,, সন্তান কি তোমার বড়ো হয়েছে আজ! 
যে আমার জন্য কিছুই করতে পারবে না বলছো?

তোমার সেই ছোট্ট সন্তান কি আজ আর ছোট্ট টা নেই?

  মা! 

ও মা!  

তবে কেন এখনো মনে প্রাণে শরিরে একটু আঘাত পেলেই বলে উঠি,, 

ও!   মা!  

কারণ  এই আমি টা তোমার অদ্বিতীয় অংশ তাই।
 আমার সব অনুভব অনুভূতি তোমার হয়ে আমায় সুস্থতায় নিশ্চিত ভাবে রাখে তাই ডাকি 

মা! বলে,, 

আর তুমি বলছো আজ থেকে আর আমার জন্য কিছুই করতে পারবে না!

আমাকেই আমার ব্যাবস্থা করে নিতে। 

হ্যা  আমি তাই করবো। 

আজ একটা বিঞ্জাপণে দেখলাম যদি পাত্রীর দাবি মেনে থাকতে পারে পাত্রীর সাথে তবেই যোগাযোগ করতে। 

আমি ওই যোগাযোগ টা করবো।  
সে যেমন হোক আমি মেনে নিয়ে চলে যাবো। 

আমি  সারাজীবন সকলের চোখে ঘরজামাই আর আমার চোখে আমার দ্বায়িত্ব নিতে পারবে সেই মানুষ টার কাছেই থাকবো। 

আর আসবো না তোমার কাছে।

হাজার ডাকলেও আসবো না ফিরে। 

তারপর যদি এখন কার মতো খুব ব্যাথা পাই! 

 কিংবা মনের ঘরের কোন দেওয়ালের ফাঁটল ধরে তবুও কাঁদবো না।
  ডাকবো না মা বলে। 

আমি তখন সেই মানুষ টাকেই ডাকবো। 
তোমাকে তো শুধু মা বলেই ভগবান মেনেছি।

কিন্তু  তাকে আমি নাড়ির ষোল কলায় চৌষট্টি গুনে প্রতি গুনে আলাদা আলাদা করে ডাকবো।, 

কখনো  প্রিয়,  কখনো  মাধবীলতা,  
কখনো  শুখ পাখি,, 
খুব অশুখে বন্ধু,

স্নেহে তার কাছেও তোমার মতোই মায়ের ভালোবাসাই চাইবো,,
  সেও তখন মা।  

আর হৃদপিণ্ডে ওই মানুষ টাকে পূজো করবো। 

সম্মানে তাকে তোমার মতোই মর্যাদা দেবো। 

নইলে যে তোমার ঘাড়ে দোষ পরবে।

বলবে আমার মা সংস্কারি নয়।  

না  মা! । 
আমি তা পারবো না। 

আমি ওর বাবা মা কে আমিও বাবা মা ডাকবো। 

আমার সব কিছুতে ওদের ঠিকানা ব্যবহার করবো। 
আমি ওদের সাথে ওদের মতো থাকতে নিজেকে  বাধ্য করবো যদি কোন অসুবিধা হয়।  

ও,,,এসব তোমায় বলছি কেন?
 বলে কি লাভ?
আমিতো তোমার সাথে কোন যোগাযোগ রাখব না। 
সুতরাং আমি কেমন থাকি বা না থাকি তোমার না জানলেও চলবে। 

তবুও ফিরবো না,, আমি  আমার দ্বায়িত্ব নিতে পারার মানুষ টার কাছেই থাকবো। 

হ্যাঁ  মা তুমি ঠিকই বলেছো,, 

এখন আমি শুধুই তোমার সন্তান। 

আর কিছু না? 

সে সন্তান তো কুকুর ছাগলেরও থাকে তবে আমার আর ওদের মধ্যে পার্থক্য কোথায়? 


হ্যাঁ মা তুমি ঠিক,

 এই যে আমি ভাবতাম আমার কষ্ট হলে আমি ব্যথা পেলেই এই যে এখনো মা বলে উঠি,,
 আমি সেই তোমার গর্ভের থেকেই শিখে এসেছি এই মা ডাক টা। 

 এই অভ্যাসে  খুব কষ্টেও  মা! বলে ডাকি। 

কিন্তু  কি জানো মা!  

আমার সেই কষ্ট তোমার ডাকেও আজকাল বিন্দুমাত্র কমে না।  

আমি যতটা শুখ পাই একজন কে ভেবে ততটা শুখ আমি আর কিছুতেই পাই না।  

আমি নিজেও জানিনা ওই মানুষটাকে না পাওয়ার কষ্ট আমার এই জীবনে কবে ঘুচবে।  

তাই সেই অনুভূতি তো তোমায় কোন দিন আঘাত করেনি?  

কেন?  

সে টা আজ বুঝতে পেরেছি মা। 

আমি আজ তোমার ছোট্ট সন্তান টা অনেক বড়ো হয়েছি। 

আজ নিজের কষ্ট নিজের নামের মুখোশের আড়ালে রেখে প্রত্যেকবার তোমার সামনে আসি।।
 প্রত্যেকবার তোমায় মা বলে ডাকি। 
 আসলে আমিই তো মুখোশ পরে থাকি। 

তোমাকে দেখতে দেইনা কোথায় আমার ব্যথা। 

হ্যাঁ মা তুমিই ঠিক,,, আমি নিজের কতো ইচ্ছে তোমায় বলি না। 
এই যেমন ধরো সেদিন বৃষ্টির রাতে ভাত খেতে ইচ্ছে করছিল না।।
 ইচ্ছে ছিল যদি একটু খিচুড়ি পেতাম। 
দেখলাম তোমার শরীরটা খুব একটা ভালো না।

সেই ইচ্ছেটা প্রকাশ করিনি। 
তখন আমিও তোমার মতোই ভেবে ছিলাম। 
সত্যিই যদি আমার একটা কেউ থাকতো!
 আজ রাতে সে একটু খিচুড়ি করে দিতোই।

হ্যা আজ,,, আমার পাশে একটা মানুষের খুব দরকার। 

তারপর যেমন গতকাল রাতে ঘুম হয় নি। 
 জীবনের একাকিত্বের রোগে ধরেছে মা। 
ভীষণ জ্বালা একা থাকাই যায় না,,, 
আমি খুব খুজেছি এক জনের সাথে থাকার অভাব।  
শেষ রাতে ঘুম আসে ক্লান্তিতে শরিরও আজ খুব একটা ভালো না। 
আমি নেশায় পরেছি মা। 

ভীষণ রকম নেশায় পরেছি,, একজনের।। 

হ্যা  মা আমি প্রেম পরেছি এক জনের আজ প্রায় এক মাস তার সাথে যোগাযোগ নেই।

ওই যে দেখো আমি ফোনে বকবক করি দুই তিন জনের সাথে ওরা আজ আমার আঘাতের ওপর একটু একটু মলম দিতে আসে,,, 

"পিউ" টা সবার থেকে বেশি খেয়াল রাখে। 
মৌরি অনেক টাই চেষ্টা করে,, 
ঝিঁঝি পোকা ফুলের সুভাষের মতো এসে সব ভুলিয়ে মিনিশে উধাও হয়ে যায়।  

তবে ঝিঁঝি পোকা টাও অনেকটা আগলে রাখতে চায়।  

ওরা সবাই আমার এই যুদ্ধের বীর সৈনিক।
 আমি ওদের সাথে নিয়ে এই যাত্রায় জয় পেয়েছি।

তবে কি জানো মা! 
 আমিও ভাবি আমার একটা মানুষ খুব দরকার। 

আমি যেই কারণে মুখোশ পরে তোমার সামনে আসি,, 
আমি তারকাছে কিচ্ছুটি লোকাবো না। 

আমি তার কাছে নিজেকে খোলা বই এর মতো রাখবো। 
সে যেমন খুশি যখন খুশি যাখুশি তাই পড়বে। 

ওহো!
   কেন আমি ভুল করে তোমায় এসব বলে ফেললাম? 
 আমি তোমাদের সাথে কোন যোগাযোগ রাখবো না।

  আমি চলে যাবো আমার দ্বায়িত্ব নেবে যেই মানুষ টা তার কাছে। 

ফিরবো না আর। 
 তারকাছেই থাকবো।। 

তুমি তো অনেক আগেই বলে দিয়েছো।

 তুমি মরলে আমায় অতো কিছু করতে হবে না। 

ওই ১৫' দিনে শ্রাদ্ধ শান্তি কাছা নেওয়া একসিদ্ধ আঁধ ফোটা ভাত আগুনে জ্বেলে আমায় খেতেও হবে না। 
 তুমি তো কোন কিছুতেই আমার পিছু ছাড়বে না।  
যখের মতো আমায় খেয়াল রাখবে আমি নাকি তোমার সেই ধন। 

তবে তুমি মরলে আমি এসে ওই শশান ঘাটের কাজ মিটিয়ে সবাই কে মিষ্টি মুখ করিয়ে আবার আমার দ্বায়িত্ব নেওয়া মানুষ টার কাছে চলে যাবো একেবারে তারমতো তারসাথে আজীবন একসাথে থাকতে। 

 কারণ দুনিয়ায় আর আমার কেউ সত্যিই নেই।

সেও  যদি তাড়িয়ে দেয় তবে আমি যাযাবর হয়ে যাবো।  
না,, আমি যাযাবর হতে চাই না। 

আর তুমি কিন্তু আবার কান্নাকাটি  করবে না। 

আমার ছেলে টা আজ আমার নেই। 

এখন পরের মেয়ের হয়ে গেছে। 

কিংবা!  ব্যাঙ্গ করে বলবে না,,
 অন্তত তুমি,
 আমার ছেলে এখন  অন্যের মা কে মা ডাকে। 

জামাই এখন ছেলে হয়েছে। 

অথবা সমাজ যেটাকে বলে ঘরজামাই। 

তুমি এ সব বলবে না। 

একদম বলবে নাঃ 

আমি বছরের ৩৬৪ দিন ওদের সাথে থাকবো একদিন তোমার মৃত্যু  বার্ষিকির দিন গুলোয়  আমি সকলের থেকে নিজেকে হারিয়ে একা থাকবো।

তবুও তোমার................. 



এর মধ্যে মা কাছে এসে বলছে,, 
বাবা রে শুধু একবার তার মুখ টা আমায় দেখিয়ে নিয়ে যাস। 
তোকে ফিরে আসতে হবে না।  

খুব সুখে থাকিস,,, 
এবার স্নান করে আয়,,, 
অনেক বেলা হয়েছে,,  আমি খাবার পরিবেশন করি।  তারাতাড়ি আয় বাবা। 

হ্যাঁ  আজকের মতো তোমায় আর একটু  জ্বলাই তারপর  বিকেলে ফোন করবো,, 

কথা শেষ হতেনা হতেই আমার জ্যান্ত দুর্গা হাতে হাতা নিয়ে  রুদ্ধকন্ঠে  হারামজাদা  তুই  যাবি এখন,,,  

আমি দে দৌড়,, সোজা স্নানের ঘরে।  







সেই ছেলেটার জন্মদিন ''

আজ সেই ছেলে টাকে  এই ৩৬ বছরের এই ছোট্ট জিবনে এই দ্বিতীয় বার কেউ জানতে চাইলো তোমার জন্মদিন কবে? 

ছেলে টা  খানিকটা চমকে যায়!. 

. তারপর তাকে বলে ! 
এই যে তোমরা তোমাদের জন্মদিন ঘিরে এতো আনন্দ করো;! 

আমি সেই ছেলেটা যার কোন দিন জন্মদিন পালন হয়নি।

প্রতিবার তার জন্মদিন টা ঘিরে সে অনেক পরিকল্পনা করে অনেক,, 

না শেষে সেই ছেলেটা কিছুই করতে পারে না।

আর দিন টা এমনিই অন্য পাঁচ দিনের মতো কেটে যায়। 
এই পাঁচ দিন কথা টা খুব দামি কথা তাই এই ভাবেই বললাম।  

ওই পাঁচ দিনে মানুষের স্মৃতি ভুলতে শুরু হয়।

যাইহোক এই ভাবেই কাটে সেই ছেলেটার প্রতিটি জন্মদিন।  

সেই ছেলে টাও ভাবে এই বারের জন্মদিনে ওর মা ওকে বলবে! 

বাবু আজ তোর জন্মদিন, 

তো একটু কাজের চাপ কম রাখিস। 
 একটু বাড়িতে থাকার চেষ্টা করিস,,, 

আর সন্ধ্যেবেলা তোর রাক্ষসের দলের নিমন্ত্রণ রইলো ওদের আসতে বলিস।

আর হ্যাঁ  পারলে বাবা কে একটা প্রনাম করে তারপর দিনের সব কাজ শুরু করিস। 

সকাল সকাল গঙা স্নান করে আসার সময় পোড়ামাকে একটু পূজো দিয়ে আসবি। 

ওঠ বাবা!  

চা এনেছি!  

ছেলেটা  মায়ের হাত টা ধরে ঘুম ঘুম চোখে টেনে বুকে নিয়ে মায়ের কপালে এঁকে দিতো  চুমুর আহ্লাদের আলপনা।  

মা!  এই তুমিই আমার প্রতি জন্মের মা হয়ে আমায় এই রকম  স্নেহের আদরে মানুষ করবে তো! 

ছাড়!  ছাড় বাবা!  

নাঃ আগে বলো,, 
আমার প্রতি জন্মের মা হবে?  

হ্যাঁ তুইও আমার সব জন্মের দস্যি ছেলে হয়ে আসিস রে বাবা । 

ওঠো বাবা যাও আজ বাবাকে প্রনাম করে দিনের শুরু করো,,, 

ছেলেটা  মা কে আগে প্রনাম করতেই বাবা সেখানে হাজির.
 তাকেও প্রনাম করতেই বাড়িতে দিদির উপস্থিতি।
 ভাই ভাইরে  কই তুই আমরা সবাই এসেছি বোন আসছে। 

তোর জামাইবাবু বাজারে আছে তোকে একটু যেতে বলেছে তারাতাড়ি সাইকেল টা নিয়ে বাজারের দিকে যা ভাই ।  

আসার সময় একটা ২ লিটারের ঠান্ডা  কিছু নিয়ে আসবি ,,  

ম্যাডাম  ১ পেটি নিয়ে আসবো, ঠান্ডা ,
 সবাই মিলে একটু 🥰🥰🥰🥰 

জুতো দেখেছিস পায়ে!  

এই জুতো দিয়ে আজ তোর জন্মদিন পালন হবে।  

যেটা যে ভাবে বলছি সেই ভাবেই করবি।  

মনে থাকে যেন। 

 নইলে ওই জুতো দেখিয়ে রাখলাম দেখে নে। 

পাওয়া হলো জন্মদিনের প্রথম শুভেচ্ছা। 

 জানতে চাইলো  তো আর সবাই কই?  

ওরা টিউশন থেকে এখানে আসবে সেই ১০ টায়,, খেয়ে স্কুলে যাবে  তারপর আবার এখানে।  
 ভাই তুই বাজারে যা, আমি রান্নার দিক টা দেখি  ।  

মা!  এদিকে এসো,, দিদি ডাকতেই মা ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন। 




কি ভাবছেন সেই ছেলে টা পাগোল? 


আরে  নাঃ নাঃ  

সেই ছেলে টা তার প্রতিটি জন্মদিন এই রকম নানান আনন্দের পরিকল্পনায় ভাবে।  

কোন দিন  সফল হয়নি তার স্বপ্ন দেখা জন্মদিনের  পরিকল্পনা। 


সেই ছেলে টা জন্মদিন এলেই! 
এই তোমাদের মতো কোন দিনই মুখে কেউ এক বাটি পায়েস কিংবা একটু ক্ষীর (ছেলে টা খুব ভালো খায়)  তুলে দেয়নি ।  

নাঃ  কেউ কোন দিন দেয়নি,,,, । 

হ্যা তোমাদের মতো তারও মা আছে। 

তোমাদের মতোই সেই মা ওকে ভালোবাসে। 

কিন্তু কোন দিন তার মা,, 
তার জন্মদিনে মুখে একটু কিছু তুলে দেয় নি। 


আবার আপনারা কেউ ভেবে নিয়েন না সে তার মায়ের বদনাম গাইছে। 

এইভাবে কেউই ভাববেন না। 

ক্ষমা করবেন। 


সে ছেলেটা জানে!  

তার মা তাকে মানুষ করতে জীবনে কত কষ্ট সহ্য করেছে,,, 

তার মা তাকে মানুষ করতে কত রাতের পর রাত নির্ঘুম রাত কাটিয়েছে। 

সেই ছেলেটা জানে!  

সেই ছেলেটা তার মায়ের আত্মা। 

সেই ছেলেটার প্রতিটা জন্মদিনে,, 
সেই ছেলে টা অপেক্ষায় থাকে,, 

প্রতিবার তার জন্ম দিন আসলেই সে যতই হাজারো পরিকল্পনা করুক সে অপেক্ষায় থাকে কবে তার মা তাকে বলবে,,, 

বাবু আজ তোর জন্মদিন। 

সেই ছেলেটার ছোটবেলা আজকের ছোট ছেলেমেয়েদের মত ছিল না। 

 ওদের ওই জন্মদিন নিয়ে কোন মাথা ব্যাথা ছিলো না।  

ওরা সকালে ঘুম থেকে উঠেই দাঁত মুখ ধুয়ে তিন ভাইবোন বসে মা বাবা কে নিয়ে সবাই মিলে মুড়ি খেতো বাটিতে বাটিতে।  

কোন কোন দিন ঠাকুমার চায়ের কাপে ছেলে টা হামলা চালাতো।  

আবার বাবার লাল চোখের ভীষণ ভিতু ছিলো।  

তারপর সেই তিন জন পড়তে বসা সেখানে খুটিনাটি রোজই কিছু লেগেই থাকতো। 

শেষে দিদির হাতের মার খেয়ে চুপচাপ পড়া করতো।  

মাঝেমধ্যে ওই দিদির কাজ টা মা করতেন সেদিন ভিটামিন টা একটু বেশি পেতে হতো তাতে প্রায়  দিন পাঁচেক চলতো।  

এই ভাবেই যেদিন সেই ছেলে টা পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র"
 তখন শম্পা  দিদি,,, একদিন 

 জানতে চেয়েছিলো এ ভাই তোর জন্মদিন কবে রে?  

ওদের স্কুল টা ছেলে মেয়ে একসাথে ছিলো।
শম্পা  অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী।


 আর ওর খুব প্রিয় ছিলো ওই শম্পা দিদি।  

সে এই স্কুলে অলোক নামের এক শান্ত ছেলে কে বন্ধু বানিয়েছে ,, 
আর ওরই নিজের  দিদি  ওই শম্পা দিদি।

হ্যা সেই দিদিও ওকে ভীষণ ভালো বাসতে শুরু করলো।

সেদিন ছেলে টা বাড়ি ফিরে মা কে জানতে চেয়ে ছিলো 

মা!  সবাই কি সুন্দর জন্মদিন পালোন করে।

 আমার তো কোন দিন জন্মদিন করো নি। 

স্কুলের বন্ধু দের সবাই জন্মদিন জানে।

 আমি জানি না। 

ও মা!  আমার জন্মদিন কবে?  

 তুই তো কার্তিক মাসের কৃষ্ণ পক্ষের রবিবার জন্মেছিলি। 

তারিখ মনে নেই।  

ওমা!  

আজকে আমার জন্ম প্রমান পত্র  টা একটু বের করে দেবে! 

দেখব ইংরেজি কত তারিখে আমার জন্ম ছিল। 

খেয়ে ওঠ  তারপর দিচ্ছি। 

বাঁধাকপি ,  ডালের বড়া,  টামাটোডাল। 

নাঃ সেদিন টা কোন দিন ভুলবে  না ছেলে টা। 

তারপর যখন জন্মের প্রমাণপত্র টা 
দেখেছিলো ! 

দেখলো! 


সেই ছেলেটা দেখেছিলো  
এই  আজই,,,
সেই ছেলেটার জন্মদিন,,,, সেদিন ও ছিলো কার্তিকের এক বুধ বার।  
তারিখ টা সেই ওই দিন। 
*************-*********************
সেদিন ছেলেটা সকালে দেখেছে,,, 
বাজারের কিছুই ছিল না ঘরে।

  সকালে বাবা বলে গেছেন,, 
দিদির  পয়সা জমানো ঘট থে কে তিরিশ টাকা বের করে বাজার করতে ।

ওর   মা সেদিন তাই করেছিলো। 

সেই ছেলেটা নিজেই সাক্ষী   সেই দিনের খাবার যোগারের দৃশ্যে । 

দিদি মামার বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছে সেদিন। 

ওর মা ওকে বলেছিলো দিদিকে বলতে না। 

নাঃ দিদি আজও জানে না। 

দিদির ওই ঘট থেকে সুযোগ ছেলে টাও নিয়েছে অনেক বার,, 

সেই যে বার ধরা পরে খুব ধোলাই খেলো! 
তখন রাগে বলে দিয়েছিলো তোমরাও তো দিদির ঘট থেকে পয়সা বের করে নাও আমি দেখেছি।  

বাবা মা দিদি সবাই চমকে যায় সেদিন। 

দিদি সেই যে ঘট টা ভেঙে দিলো আজও দিদি আর ঘটে পয়সা রাখে না। 

বলে ভাই যদি আবার দুষ্টুমি করে ওই রকম আবার ধোলাই খায়।  সেই দিন দিদির খুব কষ্ট হয়েছিলো।। 
***********---------************


সেই ছেলেটার মা সেদিন জানতে চেয়েছিল কি রে

 কি দেখলি কোন কাগজ টা তোর জন্ম সারটিবিট? 

ছেলেটা ইচ্ছে করেই বলেছিল কি জানি বুঝতে পারছি না। 

ছেলেটা জানে আজ তার জন্মদিন।  

সেই ছেলে টা জানে সে এমন এক পরিবারের আনন্দের সম্পদ তাকে পেয়ে তার বাবা মা নিজেদের জীবনের যে যুদ্ধে প্রতিদিন  অংশগ্রহণ করে!
 সেখানে এই সব তাদের কাছে কেবলই বিলাসিতা।  
ওদের  মতো পরিবারে তিন বেলা সকলের মুখে দুমুঠো ভাতের যোগান দিতে গিয়েই বাবা মা ভুলে গিয়েছে ওদের  জীবনের সব আনন্দ। 

তাই ওসব দাবি মানায় না।  

ও সব বড্ডো বে মানান।  


ছেলেটা সেদিন  মনে মনে স্থির করেছে

  আমার মা যেদিন আমায় বলবে আজ তোর জন্মদিন আমি সেইদিন আমার জন্মদিন পালন করব। 

আমি সেই দিন জন্মদিন পালন করবো। 

সেই তারপর দেখতে দেখতে কেটে গেলো কতো গুলো বছর কোন দিনই তার মা তাকে বলে নি। 

ওই কথা টা। 

আজ সন্ধ্যায় কেউ একজন বলেছে ও ভাই তোমার জন্মদিন কবে গোঁ,,

ছেলেটা  চমকে যায় !  

আজ কেউ বহু বছর পর এই প্রশ্ন করলো। 

ছেলে টা  বলেছে  নাঃ আমি বলতে চাই না। 

সে বলেছে ঠিক জানবেই!!

ছেলেটা জানতে চেয়েছে তারপর? 

তারপর সেদিন সারাদিন তার বাড়িতে ছেলেটার  থাকার নিমন্ত্রণ দেবে।
 তিন বেলা সব তার পছন্দের খাদ্য খাবারের আয়োজন করবে।  

সেদিন সেই পরিবারে উৎসব হবে। 

তারপর !

  তারপর  কি জানি কি হবে কবে? 






ও! তুমি!

ও!   তুমি!  তুমি আইছো? 


অনেক দিন পরে আইলা! 

আমিও না! তোমায় ভুইলাই ছিলাম । 

তোমার কথা আমার একটুও মনে পড়ে নাই। 

ওই মাইয়াডা হেইদিন জিগাতে ছিলো আমি ওর কথাডা হুইননাও হুনিনাই।  

আমি!  তোমারে ভুইলাই গেছি গোঁ,,,,

অখন আর তোমারে মনে ধরেনা গো। 

মনে ওই আমি য্যারে প্রিয় কই!  সে ই  । 

আমি তারে স্বপ্নের মধ্যেও দ্যেখতে পাই। 
আহাঃ,,,
লাল রাঙা সিথিতে পুজার  থালা হাতে 
আমায় ডাকে হ্যেয়,,,,,,, ঘর টা যেন পবিত্র এক মন্দিরে  পরিনত।  আমি সেই সেই মন্দিরের 
ওই  নীল  ওঠো!  অনেক বেলা হয়েছে । 

আমি লক্ষী ছেলের মতো বিছানায় বইসা ফ্যালফ্যাল কইরা চাইয়া দেখি!  

এই তো!  এই তো!  এই তো আমার স্বপ্নের সেই রাজ নন্দিনী। 
 আমি তার হাত ধরতে পারলেই মিলবে আমার মুক্তি।  
আমি সাধক হইয়া  তপস্যা করতেও রাজি যদি একটু ভালোবাসা পাই ওর ।  
এই তো!  সেই মেয়ে।  

কি কও?  কি?  

এতো উন্মাদ হইছি ক্যেন? এতো উন্মাদনা ভালো না? 
হু! 
তোমারে কে কয় এই সব গুরু গম্ভীর কথা কইতে? 
আমি তো কই না!
  তোমার  এতোই যদি দরদ হেই দিন ক্যেন ওই কামডা করলা?  
আগে হেই ক্যেনে এর উত্তর দেওন লাগবে। 
আগে হেইডা কও।
আমি ক্যেন এতো উন্মাদ হইছি তুমি বোঝো না? 
বোঝো না তুমি! 
এই তুমিই  আমার জীবনের সব থিকা বেশি ক্ষতি করছো,, হ্যাঁ  তুমি। 
আইজ আইছো  ক্যেন আমি উন্মাদ হইছি জানতে? 

তুমি হেদিন জানতে না? 
 আমার কি হইতে পারে? 
ও  তুমি ভরসা পাওনা।  আর আমার ওই পরিস্থিতিতে তুমি আমার পিছু নিছো।  
আমি কি খারাপ কইছি?  
আমি তো কইছিলাম আমারে কয়েক মাস সময় দাও।
 না!  তোমার তর সইলো না।  
আমি ভাবতেছি লাম বাগানের দিকে তাকাইয়া তোমারে কি কওন যায়।

তুমি শুধু কইলা"" যা খুশি তাই করো"" তারপর

 মূহুর্তে আমার দুনিয়ায় টায় অন্ধকার দিয়া আইজ আমারে ঞ্জ্যান দেওওন লাগবো না তোমার। 


আমি!  আমি কি খারাপ করছি? 
 আমি ওর সব টা জাননের পরও আমি পিছু পা হইনাই।  
আমি সব টাই মাইনা  নিছি।  
আমি হ্যেরে  ভালোবেসেছি আর এখনো ভালোবাসি।  

নাঃ ও আমারে একটুও পছন্দ করে না। 
আমায় ঘৃণা করে।  ঘৃণা। 
আমায় সে খুব ঘৃণা করে।  

আমি চারদিন আগে একটু কথা বলার বার্তা দিছি এখনো সে যোগাযোগ করে নাই।  
কিন্তু আমার বিশ্বাস যোগাযোগ হবে। 
হ্যাঁ আমি তারে খুব ভালোবাসি। 

বাঃ  

কি এমন মজার কথা কইলাম ওই রকম মুচকি হাসি হাসতে আছো?  

মজা দেখো?  মজা!  

আহাঃ খুব মজা তাই না?

আমি জানি এই গুলা কি?

আমি জানি তুমি ক্যেন হাসতাছো। 

তুমি কি ভাবো আমি বুঝি না?

আমি সবই বুঝি।  

বুঝি এই গুলা তোমারে কান্দানোর শাস্তি। 

আমি খুব মনে করি তারপর তোমার দেওয়া সেই অভিশাপ। 

আমি তো তোমার অভিশাপে অভিশপ্ত। 

আমি সবই বুঝি।  

হাসো!  যদি আনন্দ পাও। 
আর শোনো যদি সত্যিই আনন্দ পাও তবে প্রতিদিন আইসো।  
আমি তোমায় অনেক আনন্দ দিমু।
আমি যখন ওই নতুন মানুষ টার জন্য লুকায়ে চোক্কের জল মুছি।  
তুমি এসো!  এসো তুমি!  
না না আমার চোক্কের জল মোছাইতে হইবে না।
তুমি আমার কান্না দেইখো। 
দ্যেখবা  তোমার আনন্দ হইবে।  
মুখে এই রকম মুখচোরা হাসি হইবে। 

তুমি একটু একটু কইরা  সোধ  নিলা? 

আমি  আইজ সত্যিই একদম ফুরাইয়া গেছি। 

তবে কি জানো,? 

এক সময় নিজের প্রতি খুব অত্যাচার করতাম। পুরা অনিয়মে চলতাম।  

এখন আমি খুব নিয়ম কইরা চলি।  
আমি খাওয়া, ঘুম,, কাজ, খুব মন দিয়া করি।  আমি স্বপ্ন দেখি অনেক দিন বাইচা থাকার।  আমার মুখের দিকে তাকাইয়া থাকবে আমার ভালোবাসার দরদী।
আমার নতুন মানুষ টা । 

তোমারে এখন সত্যিই মনে ধরে না গো। 

আমি ওই নতুন মানুষ টার কাছে নিজেরে সমর্পণ করছি।  
তাই এহন আর তোমারে ভাবিও না আর তুমি মনের কোত্থাও নাই। 

ওই মানুষ টা আমারে শিখাইছে বাস্তবতায় যদি প্রেম হয় সেই প্রেমের কি নেশা। 
সেই প্রেমেই হয় মোখ লাভ।
 সেই প্রেম থেকেই আসে ভক্তি। 
সেই প্রেম থেকে আসে সন্যাস। 
সেই প্রেম থেকেই জীবের মুক্তি। 

ভাবনার প্রেম,, 
বিতৃষ্ণায় বুকফাটা চৈত্রের এক ফালি জমি। 
সেখানে সবই স্বপ্ন।  সেখানে শুধুই মরিচিকা।
সবই নিজের ভেতরে।  সেখানে নেই ভবিষ্যতের কোন স্বপ্ন। 

ঘোর কাটলেই একা। একদম একা সেখানে কেউ নেই পাশে। 

নাঃ যেযাই কয় কইতে থাউক,, নতুন মানুষ টা আমারে  একটা  নেশা শিখাইছে  জানো! 
আমারে শিখাইছে জীবন্ত প্রেমিকার প্রেমের স্পর্শ  কত্তো সুন্দর হয়।
আমি তো মনে করি এই নতুন মানুষটাই আমায় কল্পনার জগত থেইকে তুইল্লা   বাস্তবতায় বাইচা  থাকার নেশায় আমায় উন্মাদ করছে। 

হ্যা  আমি তাই উন্মাদ।  পাগোল।  আমি পাগোল।

  আমি এও মনে করি 
 আমি আজ যা কিছু,, এই সব তোমার দুর্বুদ্ধির ফল। তুমিই  এই সব কিছুর জন্য  দায়ী! 
 হ্যা  তুমি। 

তুমি সেই নিজের কইরাই রাখলা  আমায়!  
আমি অন্য কাউর হইতেই  পারলাম না। 
আমিও  সেই একাই থাইকা গ্যালাম,,,, 

কিন্তু তিথি!!  
এই ভাবে  আর কতো দিন? 
 তিথি!
হ্যা,,,, 

ওমা!  তুমি ফুড়ুৎ।  

আবার কবে আসবা কইয়াও গ্যালানা !

নতুন মানুষ টা তাও কইছে তারে ভাবতে না। 
সে আর ফিরবে না   । 

তুমি তো কিছুই কইলা না! 

এমন একটা মানুষ চাই

আমি না একটু অন্যরকম,,, একদম  সকলের থেকে আলাদা। আমার সাথে আমি অনেকের মিল পাই না। আমি নিজেও বুঝতে পারি যে আমি সম্পূর্ণ আলাদা। আমি একটা ভিন্ন প্রকৃতির মানুষ। 
আমি নিজের জন্য যখন কিছু চেয়েছি, নিজের জন্য বলতে নিজের মনের মানুষটাকে ঠিক যেমন চেয়েছিলাম,,, 
আমার নিজের মানুষটার  গায়ে একটু কলঙ্কের দাগ থাকবে। আমি সেই দাগ গুলো আলপনায় বদলে দেবো। সে-ও চমকে যাবে আমার কারিগরি দেখে। 
আমি ঐ প্রতিটি আলপনার আলাদা আলাদা নাম করণ করবো। আর তোমাকে তোমার সব টা মিলিয়ে নতুন একটা নাম দেবো।  তবে হ্যা শুধু আমিই সেই নামে ডাকবো।  আর কেউ সেই নামে ডাকার অধিকার পাবে না।

আমি চাই না  যে সে  খুব লক্ষ্মী মেয়ে , খুব গুছিয়ে চলে , নম্রতার স্বভাবের আভা  তার  সারা গায়ে থাকুক।  না আমি তা চাই না । 

আমি  চাই আমার যেন একটা  ডানপিটে জীবন যুদ্ধের সহযোদ্ধা থাকে। আমার  সেই মানুষ টা খুব জেদি  মনের মানুষ  হোক!  আমি তাকে খুব ভালোবাসবো। সে খুব   হিংসুটে হবে। আমার সাথে ঝগড়া করবে সব সময় আমি কেন নিজেকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখি।  আমি কেন নিজেকে  সম্পুর্ন গুছিয়ে তার কাছে রাখি না এই অভিযোগে। 
আমি চাই আমার নিজের মানুষ টা অবিকল এই রকম হোক,,নইলে কেমন করে  প্রেমিক হবো!?
 আমি আর কি করবো যদি সে লক্ষী মেয়ে হয়?

আমি  জানতে চাই  সেই মানুষ টা কেন  খুব কষ্টে আছে,  জানতে চাই সেই সব অসংখ্য প্রতারক দের কথা।   সেই মানুষ টার  জীবনে এসে তাকে চরম ঠকিয়ে  সবটা শেষ করে দিয়ে গেছে।

আমি  জানতে চাই  রাত হলে সে ঘুমায়  না,
জেগে থাকে রাতভর।  একপাশে কাত হয়ে ফোনের আলোয়  রাত কেটে যায়। 

আমায়  জানতে হবে সে কেন খুব  কাঁন্না করে। 
খুব একা  একা কেন কাঁদে । 
আমি তার চোখের জল মুছিয়ে বলবো 
ওই পাগলী এখন থেকে আর কাঁদবি না। এখন থেকে আমি আজীবন তোর সাথে আছি  থাকবো।  আমায় বিশ্বাস কর।  আমি ওদের মতো তোকে ছেড়ে যাবো না। আমি তোর হয়ে তোর কাছেই থাকবো। পাগলী তুই কাঁদবি না।


সেই মানুষটার জীবনে যেন আর কাঁন্না না থাকে। আমাকে বুঝতে হবে কেন অতো   সুন্দর কন্ঠ খিটখিটে হয়ে গেছে।
আমাকে দায়িত্ব নিয়ে তার মুখে হাসি ফিরিয়ে আনতে হবে।  সে খিলখিল করে হাসবে আর আমি সেই হাসিতে নিজের হারাবো।
আচ্ছা তোমরাই বলো,,, একটা মেয়ের জীবনের 
সবটা দুঃখ জেনে নীরবে তার পাশে এসে দাঁড়াতে পারলেই না আমি প্রেমিক।
তবেই আমি যোগ্য প্রেমিক। 

মানুষ টার  অতীত শুনে ভয়ে যদি পিছু হাটি আর খুব লক্ষ্মী একটা মেয়ে যদি খুঁজতে থাকি,
 তাহলে এরচেয়ে বরং বাবাকে বলবো একটা কাঠের পুতুল এনে আমার বিয়ে দিয়ে দাও।
না আমি এমন মানুষ চাই না। 

 যার গায়ে কখনো কলঙ্কের দাগ লাগেনি। 


আমি গায়ে কলঙ্কের  দাগ থাকে যেন এমন একটা মানুষ চাই 

রাষ্ট্রবাদী প্রেমিকের নতুন প্রেম নিবেদন।

আমি ঝড়ের বেগে হারিয়ে যাওয়া
 ছোট্ট একটা নীল পাখি। 
আমি তোমার  দেশে নতুন  অতিথি। 
আমি এদেশের ভাষা বুঝিনা। 
আমি এদেশকে চিনিনা ।
আমায় নাগরিত্ব দিয়ে এই দেশের 
নাগরিকের  মর্জাদা দেওয়া হোক! 


আমি যে দেশের  নাগরিক ছিলাম 
সেখানের  সরকার ছিলো বেইমান।
সবাই আইন কে বুড়ো আঙ্গুল দেখায়।
শুধুই বিভেদের আর
 মিথ্যে প্রতিশ্রুতিতে জনগণকে ধোকা দেওয়া ভাওতাবাজীর সরকার 
সেখানে অনেক জনগণের ভীড়। 
সেখানে সবাই মুখোশধারী মিথ্যেবাদী। 

আমি সরকারের  নীতির প্রতিবাদ করায় 
আমায় দেশদ্রোহী মামলায় ফেরারি আসামীর তকমা দিয়েছে। 

আমি সেই দেশ থেকে  বিতাড়িত। 

আজ আমি এই দেশের উদবাস্তু। 


আমি  এই জীবন নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেছি। 
আমি স্বাধীন ভাবে স্বাধীনতায় বাচতে চাই।
এই দেশের জনসাধারণের ভিড় থাকুক
 কিন্তু সরকারের নজরে সব সময় আমি 
একজন  দ্বায়িত্ববান  রাষ্ট্রবাদী  নাগরিকত্বের মর্যাদা চাই।

আমি তোমার দেশে নতুন,,
 আমি এ দেশের নাগরিকত্ব চাই। 
আমায় গ্রহণ করো,,,

মায়ের গল্প মায়ের কাছে

ঐ তোর মনে আছে?
আজ আমরা আমাদের কথায় কথায় আমি একবার বলতে শুরু করেছিলাম আমার মা এর কথা.... 

তারপর তোর একটা ফোন আসলো আমায় বললি অপেক্ষা করো,, আর আমি অনেক্ষণ অপেক্ষায় ছিলাম। 

তখনই ভেবে ছিলাম এই কথা গুলো আমি আজ তোকে বলবো।

আবার এই কথাও ভেবেছিলাম আর কতোক্ষন অপেক্ষায় থাকতে হবে। 

শেষে ভেবেছিলাম আজ,,
 একটা মায়ের কথা আর একটা মা কে বলবো।

অপেক্ষা তো করতেই হবে।

আমি ছিলাম অপেক্ষায় তারপর এক সময় দেখলাম ফোন টাই কেটে দিলি।

হ্যাঁ সত্যি তখন খুব রাগ হয়েছিল। 

আমি তারপরও অপেক্ষায় ছিলাম এই ভেবে হয়তো কোনো ব্যস্ততায় আটকে পরেছে। 

আমি অপেক্ষায় ছিলাম 
আজ,,
 এক মায়ের গল্প মায়ের কাছেই বলবো। 


সেই ছোটবেলার সাধারণ জ্ঞানে যতটুকু শুনেছি, ওদের ৮ ভাইবোনের মধ্যে ও সবার থেকে বড়।
বাংলাদেশের পাবনায় জন্ম। প্রাণ বাচাতে  লোটা কম্বল নিয়ে এদেশে এসেছেন ওনার বাবা মা আরো অন্যান্য আত্মীয় স্বজন। 

এদেশে এসেই সেই ৭ বচ্ছর বয়সেই উদবাস্তু হয়ে ঘুরতে লাগলো। 
 ওনার বাবা ঐ বাচ্চার মাথায় ছাদের চিন্তায় মেয়ে কে এক বনেদি  লোকের বাড়িতে উনুনের কয়লা ভাঙার ও ছাই বাছাইয়ের কাজে দিয়ে দিলেন।
  দু বেলা দু মুঠো ভাত আর ওই ঘরের এক কোনে একটা বিছানা। 

শুরু নিয়তি-র জীবনের পাঠশালা। 

চলতে থাকলো এই ভাবেই ২ বচ্ছর।  কেউ খোজ নেয়নি।  মাঝে একবার খুব হাম হয়েছিলো। তখন ওই বাড়ির মানুষ গুলো রেখে এসেছিলো পাড়ার মন্দিরের দাওয়ায়। ওখানে সবাই বলতো কে এটা কোথায় বাড়ি? কিছুই বলতে পারেনি।  তারপর আবার ওই বাড়ির হেসেলের কর্মি। 

একদিন বাবা এলেন তাকে নিতে বললেন চল আমাদের বাড়ি হয়েছে। বাড়ি চল। বাড়ি যাবো সে কি আনন্দ তার। তারপর বাড়ি ফিরলো।  আর ফিরলো নতুন জীবনে।  বাবার সাথে বাবার কাজে সাহায্য করা। সুতোর কাজ। তখন বয়স প্রায় ১১ হবে। তার মধ্যেই  এতো দ্বায়িত্ব নিয়ে বাবার পাশে।

না লেখা পড়া বিদ্যালয় এর জানলা দরজা শিক্ষক  এসব কিছুই দেখেন নি।  এখনো অনেক শব্দ ঠিক মতো উচ্চারণ করতে পারে না। 
তোর নাম টাও হয়তো একবারে উচ্চারণ করতে পারবে না 
চিনেছে শুধু পরিশ্রম।  চিনেছে  মানবতা।

এইভাবেই  আরো ৩ বচ্ছর পর প্রকৃতির ডাকে হয়ে উঠেছে অপরুপ এক বিষ্ময়।


পাত্র পক্ষের বিভিন্ন ডাক চারিদিক থেকে।
  ওই যে লেখা পড়া জানেনা  অনেকেই ফিরে গেছেন। 
শেষ বার যিনি ফেঁসে ছেন তিনি গত ২ বছরে ৬ বার দেখতে গিয়েছিলেন। । 

এ সব শুনেছি।  দেখিনি। 

আমি তখন ............................. 😁


১৩৯০ সালের ফাল্গুনী পুর্নিমায় লক্ষী বিদায় দেয় এক বাবা।
 লক্ষীর স্থান হয় আর এক জাত ভিখেরির ভাড়া বাড়ির বারান্দায়। 

পরের দিন সকালেই নিয়তির  সে এক করুণ খেলা শুরু।  
হায়!  
ভগবান এ কোথায় আমি?

বাবা!  আমায় কোথায় দিলে? 

মেনে নিয়েই বাসর ছেড়ে সকালের স্নান সেরেছিলো সেদিন।  
এর মধ্যেই বাপের দেওয়া একটাই একটু সোনা সেই টাও হাওয়া। 
ডানা মেলে আকাশে চলে গেছে আর আসেনি ফিরে।
চার দিনের মাথায় নিয়তির নিয়ম হলো কাজ করে খেতে হবে।  
লেগে পরো কাজে। 
 বিয়ের গিট পিঠে নিয়েই বসে পরলেন কাজে। অভিযোগ ছিলো না। 
সাত দিনের মাথায় নিয়তির সংসার আলাদা করে দিলেন।  

শুধু দুটি মানুষ বাড়ি থেকে বেড় করে দিয়ে।
  মাত্র ৬০ পয়সা আঁচলে বাঁধা ছিলো সেদিন। 

ওরা স্বামী-স্ত্রী যখন কথা বলে! 
 মাঝেমধ্যেই বলে ওঠে এটা আমাদের 60 পয়সা সংসার। 

ধার করা উনুন মাটির হাড়ি কলার পাতায় প্রথম দিন। পরের দিন সকালে নিয়তির বাবা  সংসারের প্রয়োজনীয় সব কিছু কিনে কিছু ওনার বাড়ি থেকে দিয়ে গেলেন।  

এভাবেই শুরু সংসার,, নিয়তি মা হতে চলেছে,, 
নিয়তি নিয়ম করে সংসারের দ্বায়িত্ব কাঁধে নিয়ে চলছে। স্বামী তার জাত কূড়ে,, গল্প সিনেমা আড্ডা ঠাট্টায় ওস্তাদ। 
 নাঃ  মাতাল বা  জুয়োরি না। 
তবে হ্যা দ্বায়িত্ব বোধ নেই।
কথা বলার কোন ধরন নেই।
রাজা-বাদশা ভাব। 
হিন্দি সিনেমার পোকা,,, 
ঘরে খাবার না থাকলেও সিনেমা দেখতেই হবে।
তিনি বাপ হয়েছেন। 

মাত্র ১৭ বছরেই প্রথম মা হয়েছেন।  
ছিলো না কোন যত্নশীল কোন মানুষ সেই মানুষ টার কাছে। ঠিক মতো রোজ খেতেও পেতো না। কখনো কখনো ইচ্ছে করেই খেতো না। ও তো জানতো না ওই সময় ওর কি দরকার।  
আমার এক স্কুলের বন্ধুর মা গল্প করেছিলো।  আমার মা ওদের বাড়ির ভাতের ফ্যান এনে দিদিকে খায়িয়ে ছিলো।  নিজেও খেয়ে ঘরে ছিলো। আমায় সেই বন্ধুর মা সেদিন বলেছিল বাবা রে জীবনে যাই হোক মা য়ের যত্ন নিবি। 
তোর মা জীবনে খুব কষ্ট করেছে।

 না বাপের বাড়ি যায় নি। বাপ তো বিদায় দিয়ে দিয়েছে।  সেখানে মেয়েদের যেতে নেই ।  

ও ওই সব কিছুই জানতো না।   তাই  অপুষ্টিতে জন্ম হয় একটা  ৭২০ গ্রামের টুনি।(ডাক নাম)
সবাই বলেছিলো বাচবে না। 

নাম করণ হলো সাবিত্রী, শিখা, সারাদিন শুধু কান্না আর কান্না বেড়ালের বাচ্চার মতো। তারপর একদিন দ্বায়িত্ব হীন লোক টা একদিন কোলে নিয়ে খেতে বসেছে খিদের জালায় মুখ খুলছে।  খিদে তো থাকবেই ঘরে খাবার নেই দিনের পরদিন ও খাবাব দেবে কি করে ওই শিশু টাকে? 

চলতে থাকলো এই ভাবেই চলতে চলতে পুষ্টির অভাবে পোলিও আক্রান্ত হলো মেয়ে।  মাত্র ১ বছর ৭ মাসেই।  

দ্বায়িত্ব হীন মানুষ টা বেশ সংসারের মন দিয়েছে কাজ কর্ম ঠিক ঠাক করে। একটা বাড়ি কিনেছে দুই জনেই সংসার চালিয়ে।  এর মধ্যেই  নিয়তি  একবার রথের মেলায় ওই মেয়ে কোলে নিয়ে রথের দড়িতে টানতে রাজ পথে।  
না মেয়ে হাটতে পারে না। বসিয়ে রাখলে বসেই থাকে উঠে দাড়াতে পারে না। 
আর শরির থেকে রোগ ছাড়ে না। 
আজ,, হাগা তো কাল বমি তারপর জ্বর লেগেই আছে।
টুনির জন্য কেনা হলো কাঠের জগন্নাথ।  সেই দোকানি বার্তা দেয় মা আগামী বচ্ছর তোর কোলে জগন্নাথ আসবে। নিয়ে যা। তোর মেয়ে খেলবে। 

এভাবেই চলতে লাগল,, 
মা হতে চলেছে নিয়তি দ্বিতীয় জীবন যুদ্ধে। 
মনে তার স্বপ্ন তার জগন্নাথ আসবেন।  

এলোও তাই,,, ৩ কেজি ৫০০ কালো অন্ধকারে খুজে পাওয়া মস্কিল নাক চোখ মুখ কান বোঝার উপায় নাই। 

মা একদিন আমায় বলেছিলো,,
আমায় আঁতুড়ঘরের  আলো নিভে গেলে হাতিয়ে হাতিয়ে খুজতো। 
 আমি সেদিন বলেছি ইস!!
আমিও যদি দিদির মতো ফর্সা হতাম তোমায় খুজতে হতো না। 
ঠাটিয়ে গালে খেয়ে উত্তর পাই আমি ওই হোদলকূকুত টা কেই বুকে নিয়ে সেদিন বলেছিলাম আমার প্রাণ এইটা। 
নাম করণের দিন ঘটলো দুর্ঘটনা দিদি বসে বসে মাজা ঘসতে ঘসতে আঁতুড়ঘরের আলো ফেলে আগুন লেগে যায়।  মামা আগুন থেকে তুলে এনে নাম দেয় মৃত্যুঞ্জয়,, আর নাম রাখেন সিনেমা পোকার মাথায় যা থাকতে পারে। 

চলছে ভাই বোনের আদর আর নিয়তির নিয়মের সংসার। চলতে চলতে আবার নিয়তি মা হলো।  এবার তার অনেক সাহস।  অনেক শক্তি। 
 ওই বড় মেয়ে টা মাঝে প্রায় মরে যায় যায়। এমন সময় এক হনুমান ডাক্তার দাতব্য চিকিৎসালয়ে দেখে বলেন এই মরা এনেছিস কেন? যা এখান থেকে নিয়ে যা।  গন্ধ নাকে রুমাল দিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছিলো। সেদিন মেয়ে টা সারাদিন ওই খানেই ছিলো।  ডাক্তার বেলাশেষে ডেকে  কি খেয়েছিস? 
উত্তর কিছুই ছিলো না।

এর মধ্যে টুনি কেঁদে উঠেছে ডাক্তার বলে বেচে আছে? কই দেখি!  দেখি!  
সেই যে টুনি ভালো হয়ে গেলো আজ টুনি তিন সন্তানের মা। 

এরপর এলো অন্য এক জীবন দ্বায়িত্ব হীন লোক টা হয়ে উঠলো অত্যাচারী,  আমি তখন খুব ছোট, মনে আছে, ওই বড় পিসি আর বাবা মিলে মাকে খুব মাড়ছিলো। মায়ের গায়ে কেরসিন ঢেলে দিয়েছিলো বাবা। তারপর পাশের বাড়ির দাদু এসে আমাদের বাচায়। আমি দিদি বোন মা সারারাত ওই দাদু বাড়ির উনুনের পাশে ঘসির বস্তার পাশে রাত কাটিয়ে মামা বাড়ি গিয়ে ছিলাম পরের দিন।
আর একবার মনে আছে ঠাকুমা আর পিসি মা কে ঝাটা দিয়ে মেরেছিলো সে বার ওই লক্ষি পিসি মায়ের পিঠের থেকে বুকের থেকে ঝাটার কাঠি তুলে দিয়েছিলো।  এ গুলো আমার পরিস্কার মনে আছে।
দ্বায়িত্ব হীন মানুষ টার সংসারে কোন টান নেই। সন্তান তিন জনের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোন ভাবনাই তার কোন দিন ছিলো না। আজও নেই।
সিনেমা, আড্ডা, আর ছিলো চোখের খিদের যন্ত্রণা। 
না খেয়ে ওনার মিন ভরে না। সব সময় খাইখাই। আজও তাই।  দুর্ভিক্ষ এর চেহারায়। সুদর্শন এক মহা পুরুষ।  
এই ভাবেই চললো দিন গুলি,,তখন আমি দিদি বোন সবাই স্কুলে যাই। 
আমার সে বার পঞ্চম শ্রেণি,,দিদিও তাই হতো মা বললো ও নাম সই দিতে পারে। ওর আর স্কুলে যেতে হবে না।  আমরা গরিব চালাতে পারবো না তুই স্কুলে পড়াশোনা কর।  তাই হতে লাগলো আমি স্কুলের গন্ডি পার করতেই বোনের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেলো।  
পরিস্থিতি কি দাড়ালো!  সেই দ্বায়িত্ব হীন মানুষ টা এই সব কোন খেয়ালই রাখেন নি।  নিজের মতো জীবন যাপন করেছেন।  

সকলের কাছে আমাদের পরিচয় পর্যন্ত দেয়নি। তার ধ্রুব সাক্ষি আমি আর হবি আজ তুই। 
সেদিন বলেছিলো আমি নাকি এক আত্মিয়ের সন্তান। 
কোথায় আমি আর কোথায় এ( মানে আমি)

  আমি রাস্তার সেই কথা ওই নিমন্ত্রণ বাড়িতে সকলের সামনে বলেছিলাম।  বাবা বলেছিলো তুই ফর্সা হলে বলতাম। 
 বুঝিনি সেদিন মায়া ভালোবাসা এ সব কি?
মাত্র তখন ৭ কি ৮ বছর বয়স হবে।


আমি সে বার ক্লাস  নাইন,, টুকটাক কাজে লেগে গেলাম স্কুল টিউশন আমার খরচ নিজেই যোগাড় করতে লাগলাম।  স্কুলের গন্ডি টপকে গেলাম।  

নিয়তির মনে সন্দেহ হতে লাগলো ওই দ্বায়িত্ব হীন মানুষ টার রোজগারের ভান্ডার কোথায় যায়। হ্যাঁ  মিলে গেলো,,, এই ভাবেই ওই মানুষ টা বাইরে বাইরে ফুর্তি করে বাড়িতে ভালো মানুষ আসতে লাগলো।  কিছুই না সেও আরেক  খিদের টান। 
মা বলতে লাগলো  ভু-ভুক্ষু,,  ওর খিদে, অভাব , হাহাকার কোন দিন মিটবে না। 

মায়ের এই কথা কোথাও নেই,, ভু-ভুক্ষু কি!!?  

আমি এর কোন সামাজিক ব্যাবহার পাইনি। 
তবে বুঝেছি ওনার ওই শব্দ কেবল  দ্বায়িত্ব হীন মানুষ টার জন্যই।  সে অনেক  গভীর ব্যাথার আর্তনাদ এর বাহ্যিক প্রকাশ  ভু-ভুক্ষু।


চলতে লাগলো অধিকারের লড়াই, সে আরেক  সাংঘাতিক দিক। বাড়ি ফেরায় ১ ঘন্টা দেরি হলে রাস্তায় তাকিয়ে থাকা। এক দিন বাড়ি না ফিরলে পরের দিন ভোর বেলা ১০  কিলোমিটার পায়ে হেটে খবর আনতে যাওয়া।  রাতে বাড়ি না ফিরলে খাবার পরের দিন  আবার জাল দিয়ে রাখা।  
আমার জীবনে দেখিনি বাবা জামা কাপড় কিনেছে নিজে।  আমাদের কাউ কেই কোনদিন কিছু কিনে দিয়েছে কি না মনে নেই।  হয়তো দিয়েছে। নইলে আজ কি করে এই গল্প লিখছি??
আজও  যদি বাবা একটা জামা পরেন সেটা মায়ের পছন্দের।  আর সত্যিই  মহাশয় দারুণ দেখতে।  শিবের মতো ভোলা।  মহেশ্বর। 

এর মধ্যে আমিও ডানা মেলে উড়তে শিখেছি সারাদিন কাজ আর শম্পা দিদির বাড়ি।  পড়াশোনা ওই খানেই করতাম।  আমার টেবিল বই খাতা সব ওই বাড়িতেই ছিলো।  
এক সময় হঠাৎ বাড়ি থেকে পালিয়ে যাই দিল্লি।  
সেখানে কাজে লাগি রিবোক এর এক সোরুমে। ঠিক ৩ মাস পর  কলকাতার এক জন ওই মালিক কে বলে এই বাঙালি কে আমার কাছে দিয়ে দাও।  আমিও চলে আসি,, শ্রীরামপুর।  
পরিচয় হয় পারুলের সাথে।  ওদের  সন্তান ছিলো না।  আমায় খুব ভালো বাসতে লাগলো।  ঢুকে গেলাম  আবার  পড়াশোনায় ডিশটেন্স কোর্সের মাধ্যমে। প্রিয়  বিষয় ছিলো  রাষ্ট্র বিজ্ঞান। 
তারপর চলে গেলাম ওয়েব ডিজাইনিং ডিপ্লোমা করতে।  সেখানে ও  ২ বছর।  শরির খারাপ করতে শুরু করলো,,ওখানের জল শরিরে সহ্য হলো না। ফিরে এলাম বাড়ি,, 
হ্যাঁ যোগাযোগ ছিলো বাড়িতে,।  আমি ওদের দোকানে কাজের লোক ছিলাম। মাইনে বাড়িতে পাঠিয়ে দিতাম। 

দায়িত্বহীন মানুষটা  জীবনে ধর্মের মধ্যে কর্ম আর আমাবস্যার রাসের মতো আমায় পয়সা জমানোর জন্য একটা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করে দিয়েছিল। 
আমি সেখানে প্রায় কুড়ি হাজার টাকা জমিয়েছিলাম সেই সময়ে। 

দিদির হঠাৎ বিয়ে হয়ে গেলো সেও আরেক ঠকবাজ পরিবারে।  এক টাও মানুষ না ওরা।  
ঠিক মতো  খোজ টা পর্যন্ত নেয় নি দ্বায়িত্ব হীন মানুষ টা।  বিয়ের দিন আমার এক বন্ধুর বাবা আমায় বলে তোমার দিদি!  হায়!  হায়!  কি করলো তোমার বাবা!  
যাইহোক কন্যাদায় থেকে মুক্ত হতে গিয়ে মেয়ে টার জীবন টা নষ্ট করলো। ছেলে টা পাগল। 
বিয়ের ৬ মাসের মাথায় এক অশান্তিতে আমি ওই বাড়িতে নিজেকে সামলাতে পারিনি।  সেদিন গায়ে হাত তুলে দিয়েছিলাম দিদির বড়ের। 
বাবা ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়ে বলেছিলো এই বাড়িতে জীবনেও  পা দিবি না। 
আমি আজও যাই না। 

আমি তখন ১৯ বছরের, সংসারে সব সময় ঝামেলা ঝগড়া লেগেই আছে। ওই ঐ সেই অধিকারের লড়াই।  ক্রমশ বাড়তে লাগলো সেই সংঘাত।  একেক সময় খুব খারাপ লাগতো তখন শম্পা দি ছিলো আমার মনের চিকিৎসক।  
তারপর আমি আসামে চলে যাই,, সেখানে ৭ মাস থাকি বাড়ি ফিরে আসি। 
তারপর আমার নতুন জীবন শুরু হয় গোলদারের গল্পে,, আমি ঝড়ের বেগে ছুটতে লাগলাম।  
স্মৃতি এলো অর্থ এলো আমি তখন ব্যাস্ত মানুষ। চললো ৩' বচ্ছর।  আমি আবার সেই ঘরে ফিরলাম।  মাঝে বোনের বিয়ে দিলাম।  বিয়ের রাতে শুনতে হলো ঐ বাড়িতে আমি পা দিলে বাবার মরা মুখ দেখবো,, আমি আজও বোনের বাড়ি যাই  না। 

এই  ভাবে চলতে চলতে  নিয়তি আমাকেও ভুল ভেবে একদিন শম্পা কে নিয়ে বাজে কথা বলায়। 
আমি রাগ সামলাতে না পেরে মুখে জুতো ছুড়ে মেড়েছিলাম। 
আমি ওনার হাতের খাবার  ওনার সাথে কথা, মা বলে ডাকতাম না অনেক বছর।  
আমি আবার বাড়ি ছেড়ে দিলাম। এবার বাড়ি ছাড়লাম নিজেকে হারাবো বলে।  আমি ঠাই  নিলাম সেই পাঞ্জাবে। সেখানেই তিন বছর। 
তারপর পরে একদিন এক বন্ধুর প্রেরণ করা ছবি দেখে মায়ের মুখ টা আমায় বাড়ির বাইরে রাখতে পারল না। 
এক ছুটে সেই বাড়ি আজও  বাড়িতেই।  
মায়ের মুখে সে কি খুশি,, 
 খুশি  শম্পা দি, আবার যোগাযোগ আবার সেই আগের মতোই ঘোরাফেরা। 
না কেউ খোজ রাখে নি আমার। 

এইভাবে চলতে চলতে আমার শম্পা দির সাথে সম্পর্ক আরো অনেক দৃঢ় হয়।
আবার বাড়িতে খাওয়া বন্ধ করে দেই ওই দ্বায়িত্ব হীন মানুষ টার কথায়।  সে বার বোনকে নিয়ে বাজে কথা।  বোন দ্বিতীয় বারের জন্য  সন্তান সম্ভবা হয়। আমার বন্ধু বলে দাদা এটা রাখবো না তুমি ব্যাবস্থা করো।  সেই ঘটনা বাড়িতে যখন জানতে পারে,,  বাবা বলেছে মা   নাকি ওনাকে বলেছে ওই কু কর্মের দ্বায় আমার  ।  এই নিয়ে আমি জামাই কে ডেকে ওদের ভুল দূর করি।


প্রায় ৮ মাস হোটেল খাওয়া আর বাড়িতে ঘুম ।  চলতে চলতে শম্পার হাতে ধরা খাই। 
আমি তাকে সেদিন বলেছিলাম ঘটনা টা। 
দিদি সেদিন আমায় উল্টো মেরেছিলো।। 
তারপর থেকে ওর বাড়িতেই তিন বেলা খাওয়া আর বাড়িতে ঘুম।  প্রতিদিন কি খাবো পেচির সাথে মেনু করে বাজারে যেতাম  ।  দিদি মাঝে মধ্যে ওই সকল দিনে রন্না করার ক্ষমতায় থাকতো না। আমায় দেখিয়ে দিতো কি দিয়ে কি রান্না করে।  
একদিন ২ হাজার টাকা দিয়ে একটা মানুষের একা সংসারে যা কিছু প্রয়োজন সব কিনে বলে ভাই আজ থেকে বাড়িতে রান্না করে খাবি। সব শিখিয়ে দিয়েছি। 
চলতে লাগলো প্রায় ৪ বছর  তারপর একদিন ওই সেই দাদু টা একটা বীজ মন্ত্র কানে দিলো পরের দিন থেকে খাওয়া দাওয়া মা বলে ডাকা সব যেন মন্ত্রের মতো শুরু হয়ে গেলো। 

তারপর  থেকে তারপর ,, তারপর  আমি আমার মতোই এই আজকেও আছি।  

আমি আজও বুঝিনা এই এদের মাঝে এতো কিসের অধিকারের লড়াই।  
কেন এরা বোঝেই না সংসারের সকলের আলাদা আলাদা ভাবনা আছে। 
হ্যা খুব লজ্জার বিষয় ওরা আজ দুদিন এমন ঝগড়া করছে আমি সারাদিনে কিছুই খাইনি। তিন টে মানুষ আজ তিন টে বিছানায়। 

জানিস এক সময় ভেবেছিলাম এদের সাথে থাকলে আমার আর সংসার হবে না।  
আমি বিয়ে প্রেম ভালোবাসা এই সব নিয়ে ভাবতামই না। 
তোকে কি বলবো  শম্পা দি আমার বিয়ের জন্য অনেক কিছু করেছে।  আমি সেই মুখ ঘুরিয়ে চলে আসতাম।  বলতাম আমি পারবো না স্মৃতি কে ভুলতে। 
আমার বাড়িতে যেই পরিস্থিতি তাতে মানুষ বাস করে না।  
মান সম্মান থাকবে না। 
আমার কাছে আজ যখন লোকজন আসে দ্বায়িত্ব হীন মানুষ টা আজ ভাব দেখায় আমার ছেলে। 
নিয়তি বলে কেন  সেদিন বলেছিলে আত্মিয়ের। 
আজ কি করে তোমার?  
আজ বুঝি গতি নেই? 

আজ আমি কেমন আছি আমার নিজের আপন জনেরাই জানে না।  নাঃ ওদের অতো সব জানাই না।  ওরা এসব বোঝে না। ওদের কাছে মূল্য নেই।  শুধু মুখ বুঝে থাকি সামাজিকতায় সভ্য হয়ে বাচতে হবে তাই। 

এই যে তোকে,,, মা,,, বলি,, বলি মনের  আনন্দে। সবাই যখন ঠকিয়ে মানুষ টাকে রাস্তায় ফেলে দিয়েছে।  আমি খড়কুটোর মতো একটা  নাড়ি শক্তির প্রার্থনা করেছি। পরিচিত সকলেই ছিলো অনেক বাধার কারণ।  তাই বেছে নিয়েছি তোকে। 

আমি খুব খুশি আজ,,, 
আমার আকাশে এক ফোটাও মেঘ নেই। 
সব টা আমি ছুড়ে ফেলতে পেরেছি তোর জন্য। আমি পরিচিত এতো নাড়ির মধ্যে তোর থেকে যে শান্তি পাই!
 তাতে ওই ডাক টাই আসে রে,,,,, মা,,,  

হ্যা  সব সময় ওই দূরেই থাকিস,,
 খুব বেশি সংস্পর্শে এলে গরিমা হারাতে পারে। 

আমি সূর্যের আলোয় তোর আশীর্বাদ স্নেহ মমতা ভালোবাসা খুজে নেবো । 

ভজে ব্রজৈকমণ্ডন্ম

ভজে ব্রজৈকমণ্ডনম (কৃষ্ণাষ্টকম) [ 1 ] ১. ভজে ব্রজৈক-মণ্ডলং সমস্ত-পাপ-খণ্ডনং স্বভক্ত-চিত্ত-রঞ্জনং সদৈব নন্দ-নন্দনম । সুপিক্চ্ছ-গুচ্ছ-মস্তকং স...