আমি কেমন শুধু শুধু ঝগড়া করি একটু আইসা দ্যেখেন...

মা!

ও ,,, মা,,

কে ফোন করেছে?

  কার সাথে কথা বলছো?.

ভেবে ছিলাম হয়তো প্রিয়াঙ্কা ফোন করেছে।
 মা ওর সাথে কথা বলছে। 
এর আগে ওরা অনেক বার কথা বলেছে আমি জানিই না।।
 হয়তো আজও তাই। 
মা খুব হেসে হেসে কথা বলছে। 

আমি সামনে আসতেই বলে রাখছি আমার শত্রু টা বাড়ি এসেছে।  
গরু টা খাটালে খাবার দিয়ে নেই পরে কথা হবে।
 ফোন গরম হয়ে গেছে।

কথাটা শোনার পরে কৌতূহল আরো অনেক বেড়ে গিয়েছিল। 

কি জানি হয়তো আমার ভাবনাটাই সত্যি হতে পারে!  
তাই যেন হয়।  

আমি এখনো তার অপেক্ষায়। 

আর পারছি না চলতে। 

একবার যদি বাঁবলা গাছের কষ লেগে যায় সেই দাগ যেমন উঠতে চায় না। 
প্রেমের স্বাদ ঠিক ওই কষের মতো, প্রেমের নেশা হৃদয়  থেকে গেলেও চোখের নেশা যেন শেষ হয় না।  
তাই তার জন্য আমার সেই নেশা সব সময়। 

মা বললো এই নে কথা বলবে তোর সাথে দেখ কে?

চমকে যাই। 

তবে কি সিত্যিই এটা প্রিয়! 

ফোন নিতেই দেখলাম অচেনা নম্বর কৌতূহল তখন উর্ধ্বে টান। 

সে এক দারুণ অনুভূতি। 

ফোন স্কিনে দেখছি ৪৮ মিনিটের কথপোকথন ভেসে উঠেছে। 

কি অবস্থা বুঝতে পেরেছেন? 

ফোন কানে দিতেই ওপাশ থেকে বলে উঠলো 

ও মামা কেমন আছো?  আমি তোমার বাবাই বলছি।

বুঝলাম এ আমার মায়ের  বৈধ দ্বিতীয় প্রেমিক। 

তাকে তো একটু আদর করেই ডাকতে হবে নইলে মা কষ্ট পাবে।  

নাঃ  নাঃ মা কে কষ্ট দেওয়া পাপ ওই কাজ ভুলেও যেন না হয়। 
মা ক্ষমা করো আমি ওকে বাবাই কেন বাবা বলেও ডাকতে রাজি। 
হ্যা , ঠিক আছে। 

তো!  আমার ওই দ্বিতীয় বাবা কথা বলতে জানতে পারলাম আজ বাড়িতে ডিমের ঝোল, আমড়া দিয়ে মুসুর ডাল,,,উচ্ছে তোতো থাকবেই। 

সব ভুলে গিয়ে মা কে জিজ্ঞেস করলাম
 ও মা আমার জন্য ডিমের মামলেট করে ঝোলে দিয়েছোতো!  
নইলে আমি খাবো না।

আমি মনে মনে বলছি মা যেন কোন কারণেই ভুলে না যায়।  
মা যেন হ্যা  বলে। 

মা বলল না ওসব করিনি! 

আমার অত সব কিছু মনে নেই। 

আমি সব এক রকম করে রেখেছি। 

তুই  খেলে খাবি না খেলে কিছু করার নেই।

 রোজ রোজ ওইসব ঝামেলা আমার ভালো লাগেনা। 
আমি অতো ভাগাভাগি করতে পারবোনা। 

তোর যদি ভাগে ভাগে খেতে হয! 

 তাহলে তুই রান্না করার লোক নিয়ে আয়। 
তোকে ভাগে ভাগে করে দেবে খাবি।

আমি আর পারবো না। 

(এই শুরু মায়ের সাথে ঝগড়া,,) 

ও   তার মানে এখন আর তুমি আমার উপরে তোমার সব অধিকার তুমি রাখো না। 

আমি কি বঞ্চিত হয়েছি তোমার সেই অধিকার থেকে? । 

আমার কি এখন অবশ্যই আমার দ্বায়িত্ব নিতে কোন একজন কে আনতেই হবে। 

 ও মা,, সন্তান কি তোমার বড়ো হয়েছে আজ! 
যে আমার জন্য কিছুই করতে পারবে না বলছো?

তোমার সেই ছোট্ট সন্তান কি আজ আর ছোট্ট টা নেই?

  মা! 

ও মা!  

তবে কেন এখনো মনে প্রাণে শরিরে একটু আঘাত পেলেই বলে উঠি,, 

ও!   মা!  

কারণ  এই আমি টা তোমার অদ্বিতীয় অংশ তাই।
 আমার সব অনুভব অনুভূতি তোমার হয়ে আমায় সুস্থতায় নিশ্চিত ভাবে রাখে তাই ডাকি 

মা! বলে,, 

আর তুমি বলছো আজ থেকে আর আমার জন্য কিছুই করতে পারবে না!

আমাকেই আমার ব্যাবস্থা করে নিতে। 

হ্যা  আমি তাই করবো। 

আজ একটা বিঞ্জাপণে দেখলাম যদি পাত্রীর দাবি মেনে থাকতে পারে পাত্রীর সাথে তবেই যোগাযোগ করতে। 

আমি ওই যোগাযোগ টা করবো।  
সে যেমন হোক আমি মেনে নিয়ে চলে যাবো। 

আমি  সারাজীবন সকলের চোখে ঘরজামাই আর আমার চোখে আমার দ্বায়িত্ব নিতে পারবে সেই মানুষ টার কাছেই থাকবো। 

আর আসবো না তোমার কাছে।

হাজার ডাকলেও আসবো না ফিরে। 

তারপর যদি এখন কার মতো খুব ব্যাথা পাই! 

 কিংবা মনের ঘরের কোন দেওয়ালের ফাঁটল ধরে তবুও কাঁদবো না।
  ডাকবো না মা বলে। 

আমি তখন সেই মানুষ টাকেই ডাকবো। 
তোমাকে তো শুধু মা বলেই ভগবান মেনেছি।

কিন্তু  তাকে আমি নাড়ির ষোল কলায় চৌষট্টি গুনে প্রতি গুনে আলাদা আলাদা করে ডাকবো।, 

কখনো  প্রিয়,  কখনো  মাধবীলতা,  
কখনো  শুখ পাখি,, 
খুব অশুখে বন্ধু,

স্নেহে তার কাছেও তোমার মতোই মায়ের ভালোবাসাই চাইবো,,
  সেও তখন মা।  

আর হৃদপিণ্ডে ওই মানুষ টাকে পূজো করবো। 

সম্মানে তাকে তোমার মতোই মর্যাদা দেবো। 

নইলে যে তোমার ঘাড়ে দোষ পরবে।

বলবে আমার মা সংস্কারি নয়।  

না  মা! । 
আমি তা পারবো না। 

আমি ওর বাবা মা কে আমিও বাবা মা ডাকবো। 

আমার সব কিছুতে ওদের ঠিকানা ব্যবহার করবো। 
আমি ওদের সাথে ওদের মতো থাকতে নিজেকে  বাধ্য করবো যদি কোন অসুবিধা হয়।  

ও,,,এসব তোমায় বলছি কেন?
 বলে কি লাভ?
আমিতো তোমার সাথে কোন যোগাযোগ রাখব না। 
সুতরাং আমি কেমন থাকি বা না থাকি তোমার না জানলেও চলবে। 

তবুও ফিরবো না,, আমি  আমার দ্বায়িত্ব নিতে পারার মানুষ টার কাছেই থাকবো। 

হ্যাঁ  মা তুমি ঠিকই বলেছো,, 

এখন আমি শুধুই তোমার সন্তান। 

আর কিছু না? 

সে সন্তান তো কুকুর ছাগলেরও থাকে তবে আমার আর ওদের মধ্যে পার্থক্য কোথায়? 


হ্যাঁ মা তুমি ঠিক,

 এই যে আমি ভাবতাম আমার কষ্ট হলে আমি ব্যথা পেলেই এই যে এখনো মা বলে উঠি,,
 আমি সেই তোমার গর্ভের থেকেই শিখে এসেছি এই মা ডাক টা। 

 এই অভ্যাসে  খুব কষ্টেও  মা! বলে ডাকি। 

কিন্তু  কি জানো মা!  

আমার সেই কষ্ট তোমার ডাকেও আজকাল বিন্দুমাত্র কমে না।  

আমি যতটা শুখ পাই একজন কে ভেবে ততটা শুখ আমি আর কিছুতেই পাই না।  

আমি নিজেও জানিনা ওই মানুষটাকে না পাওয়ার কষ্ট আমার এই জীবনে কবে ঘুচবে।  

তাই সেই অনুভূতি তো তোমায় কোন দিন আঘাত করেনি?  

কেন?  

সে টা আজ বুঝতে পেরেছি মা। 

আমি আজ তোমার ছোট্ট সন্তান টা অনেক বড়ো হয়েছি। 

আজ নিজের কষ্ট নিজের নামের মুখোশের আড়ালে রেখে প্রত্যেকবার তোমার সামনে আসি।।
 প্রত্যেকবার তোমায় মা বলে ডাকি। 
 আসলে আমিই তো মুখোশ পরে থাকি। 

তোমাকে দেখতে দেইনা কোথায় আমার ব্যথা। 

হ্যাঁ মা তুমিই ঠিক,,, আমি নিজের কতো ইচ্ছে তোমায় বলি না। 
এই যেমন ধরো সেদিন বৃষ্টির রাতে ভাত খেতে ইচ্ছে করছিল না।।
 ইচ্ছে ছিল যদি একটু খিচুড়ি পেতাম। 
দেখলাম তোমার শরীরটা খুব একটা ভালো না।

সেই ইচ্ছেটা প্রকাশ করিনি। 
তখন আমিও তোমার মতোই ভেবে ছিলাম। 
সত্যিই যদি আমার একটা কেউ থাকতো!
 আজ রাতে সে একটু খিচুড়ি করে দিতোই।

হ্যা আজ,,, আমার পাশে একটা মানুষের খুব দরকার। 

তারপর যেমন গতকাল রাতে ঘুম হয় নি। 
 জীবনের একাকিত্বের রোগে ধরেছে মা। 
ভীষণ জ্বালা একা থাকাই যায় না,,, 
আমি খুব খুজেছি এক জনের সাথে থাকার অভাব।  
শেষ রাতে ঘুম আসে ক্লান্তিতে শরিরও আজ খুব একটা ভালো না। 
আমি নেশায় পরেছি মা। 

ভীষণ রকম নেশায় পরেছি,, একজনের।। 

হ্যা  মা আমি প্রেম পরেছি এক জনের আজ প্রায় এক মাস তার সাথে যোগাযোগ নেই।

ওই যে দেখো আমি ফোনে বকবক করি দুই তিন জনের সাথে ওরা আজ আমার আঘাতের ওপর একটু একটু মলম দিতে আসে,,, 

"পিউ" টা সবার থেকে বেশি খেয়াল রাখে। 
মৌরি অনেক টাই চেষ্টা করে,, 
ঝিঁঝি পোকা ফুলের সুভাষের মতো এসে সব ভুলিয়ে মিনিশে উধাও হয়ে যায়।  

তবে ঝিঁঝি পোকা টাও অনেকটা আগলে রাখতে চায়।  

ওরা সবাই আমার এই যুদ্ধের বীর সৈনিক।
 আমি ওদের সাথে নিয়ে এই যাত্রায় জয় পেয়েছি।

তবে কি জানো মা! 
 আমিও ভাবি আমার একটা মানুষ খুব দরকার। 

আমি যেই কারণে মুখোশ পরে তোমার সামনে আসি,, 
আমি তারকাছে কিচ্ছুটি লোকাবো না। 

আমি তার কাছে নিজেকে খোলা বই এর মতো রাখবো। 
সে যেমন খুশি যখন খুশি যাখুশি তাই পড়বে। 

ওহো!
   কেন আমি ভুল করে তোমায় এসব বলে ফেললাম? 
 আমি তোমাদের সাথে কোন যোগাযোগ রাখবো না।

  আমি চলে যাবো আমার দ্বায়িত্ব নেবে যেই মানুষ টা তার কাছে। 

ফিরবো না আর। 
 তারকাছেই থাকবো।। 

তুমি তো অনেক আগেই বলে দিয়েছো।

 তুমি মরলে আমায় অতো কিছু করতে হবে না। 

ওই ১৫' দিনে শ্রাদ্ধ শান্তি কাছা নেওয়া একসিদ্ধ আঁধ ফোটা ভাত আগুনে জ্বেলে আমায় খেতেও হবে না। 
 তুমি তো কোন কিছুতেই আমার পিছু ছাড়বে না।  
যখের মতো আমায় খেয়াল রাখবে আমি নাকি তোমার সেই ধন। 

তবে তুমি মরলে আমি এসে ওই শশান ঘাটের কাজ মিটিয়ে সবাই কে মিষ্টি মুখ করিয়ে আবার আমার দ্বায়িত্ব নেওয়া মানুষ টার কাছে চলে যাবো একেবারে তারমতো তারসাথে আজীবন একসাথে থাকতে। 

 কারণ দুনিয়ায় আর আমার কেউ সত্যিই নেই।

সেও  যদি তাড়িয়ে দেয় তবে আমি যাযাবর হয়ে যাবো।  
না,, আমি যাযাবর হতে চাই না। 

আর তুমি কিন্তু আবার কান্নাকাটি  করবে না। 

আমার ছেলে টা আজ আমার নেই। 

এখন পরের মেয়ের হয়ে গেছে। 

কিংবা!  ব্যাঙ্গ করে বলবে না,,
 অন্তত তুমি,
 আমার ছেলে এখন  অন্যের মা কে মা ডাকে। 

জামাই এখন ছেলে হয়েছে। 

অথবা সমাজ যেটাকে বলে ঘরজামাই। 

তুমি এ সব বলবে না। 

একদম বলবে নাঃ 

আমি বছরের ৩৬৪ দিন ওদের সাথে থাকবো একদিন তোমার মৃত্যু  বার্ষিকির দিন গুলোয়  আমি সকলের থেকে নিজেকে হারিয়ে একা থাকবো।

তবুও তোমার................. 



এর মধ্যে মা কাছে এসে বলছে,, 
বাবা রে শুধু একবার তার মুখ টা আমায় দেখিয়ে নিয়ে যাস। 
তোকে ফিরে আসতে হবে না।  

খুব সুখে থাকিস,,, 
এবার স্নান করে আয়,,, 
অনেক বেলা হয়েছে,,  আমি খাবার পরিবেশন করি।  তারাতাড়ি আয় বাবা। 

হ্যাঁ  আজকের মতো তোমায় আর একটু  জ্বলাই তারপর  বিকেলে ফোন করবো,, 

কথা শেষ হতেনা হতেই আমার জ্যান্ত দুর্গা হাতে হাতা নিয়ে  রুদ্ধকন্ঠে  হারামজাদা  তুই  যাবি এখন,,,  

আমি দে দৌড়,, সোজা স্নানের ঘরে।  







সেই ছেলেটার জন্মদিন ''

আজ সেই ছেলে টাকে  এই ৩৬ বছরের এই ছোট্ট জিবনে এই দ্বিতীয় বার কেউ জানতে চাইলো তোমার জন্মদিন কবে? 

ছেলে টা  খানিকটা চমকে যায়!. 

. তারপর তাকে বলে ! 
এই যে তোমরা তোমাদের জন্মদিন ঘিরে এতো আনন্দ করো;! 

আমি সেই ছেলেটা যার কোন দিন জন্মদিন পালন হয়নি।

প্রতিবার তার জন্মদিন টা ঘিরে সে অনেক পরিকল্পনা করে অনেক,, 

না শেষে সেই ছেলেটা কিছুই করতে পারে না।

আর দিন টা এমনিই অন্য পাঁচ দিনের মতো কেটে যায়। 
এই পাঁচ দিন কথা টা খুব দামি কথা তাই এই ভাবেই বললাম।  

ওই পাঁচ দিনে মানুষের স্মৃতি ভুলতে শুরু হয়।

যাইহোক এই ভাবেই কাটে সেই ছেলেটার প্রতিটি জন্মদিন।  

সেই ছেলে টাও ভাবে এই বারের জন্মদিনে ওর মা ওকে বলবে! 

বাবু আজ তোর জন্মদিন, 

তো একটু কাজের চাপ কম রাখিস। 
 একটু বাড়িতে থাকার চেষ্টা করিস,,, 

আর সন্ধ্যেবেলা তোর রাক্ষসের দলের নিমন্ত্রণ রইলো ওদের আসতে বলিস।

আর হ্যাঁ  পারলে বাবা কে একটা প্রনাম করে তারপর দিনের সব কাজ শুরু করিস। 

সকাল সকাল গঙা স্নান করে আসার সময় পোড়ামাকে একটু পূজো দিয়ে আসবি। 

ওঠ বাবা!  

চা এনেছি!  

ছেলেটা  মায়ের হাত টা ধরে ঘুম ঘুম চোখে টেনে বুকে নিয়ে মায়ের কপালে এঁকে দিতো  চুমুর আহ্লাদের আলপনা।  

মা!  এই তুমিই আমার প্রতি জন্মের মা হয়ে আমায় এই রকম  স্নেহের আদরে মানুষ করবে তো! 

ছাড়!  ছাড় বাবা!  

নাঃ আগে বলো,, 
আমার প্রতি জন্মের মা হবে?  

হ্যাঁ তুইও আমার সব জন্মের দস্যি ছেলে হয়ে আসিস রে বাবা । 

ওঠো বাবা যাও আজ বাবাকে প্রনাম করে দিনের শুরু করো,,, 

ছেলেটা  মা কে আগে প্রনাম করতেই বাবা সেখানে হাজির.
 তাকেও প্রনাম করতেই বাড়িতে দিদির উপস্থিতি।
 ভাই ভাইরে  কই তুই আমরা সবাই এসেছি বোন আসছে। 

তোর জামাইবাবু বাজারে আছে তোকে একটু যেতে বলেছে তারাতাড়ি সাইকেল টা নিয়ে বাজারের দিকে যা ভাই ।  

আসার সময় একটা ২ লিটারের ঠান্ডা  কিছু নিয়ে আসবি ,,  

ম্যাডাম  ১ পেটি নিয়ে আসবো, ঠান্ডা ,
 সবাই মিলে একটু 🥰🥰🥰🥰 

জুতো দেখেছিস পায়ে!  

এই জুতো দিয়ে আজ তোর জন্মদিন পালন হবে।  

যেটা যে ভাবে বলছি সেই ভাবেই করবি।  

মনে থাকে যেন। 

 নইলে ওই জুতো দেখিয়ে রাখলাম দেখে নে। 

পাওয়া হলো জন্মদিনের প্রথম শুভেচ্ছা। 

 জানতে চাইলো  তো আর সবাই কই?  

ওরা টিউশন থেকে এখানে আসবে সেই ১০ টায়,, খেয়ে স্কুলে যাবে  তারপর আবার এখানে।  
 ভাই তুই বাজারে যা, আমি রান্নার দিক টা দেখি  ।  

মা!  এদিকে এসো,, দিদি ডাকতেই মা ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন। 




কি ভাবছেন সেই ছেলে টা পাগোল? 


আরে  নাঃ নাঃ  

সেই ছেলে টা তার প্রতিটি জন্মদিন এই রকম নানান আনন্দের পরিকল্পনায় ভাবে।  

কোন দিন  সফল হয়নি তার স্বপ্ন দেখা জন্মদিনের  পরিকল্পনা। 


সেই ছেলে টা জন্মদিন এলেই! 
এই তোমাদের মতো কোন দিনই মুখে কেউ এক বাটি পায়েস কিংবা একটু ক্ষীর (ছেলে টা খুব ভালো খায়)  তুলে দেয়নি ।  

নাঃ  কেউ কোন দিন দেয়নি,,,, । 

হ্যা তোমাদের মতো তারও মা আছে। 

তোমাদের মতোই সেই মা ওকে ভালোবাসে। 

কিন্তু কোন দিন তার মা,, 
তার জন্মদিনে মুখে একটু কিছু তুলে দেয় নি। 


আবার আপনারা কেউ ভেবে নিয়েন না সে তার মায়ের বদনাম গাইছে। 

এইভাবে কেউই ভাববেন না। 

ক্ষমা করবেন। 


সে ছেলেটা জানে!  

তার মা তাকে মানুষ করতে জীবনে কত কষ্ট সহ্য করেছে,,, 

তার মা তাকে মানুষ করতে কত রাতের পর রাত নির্ঘুম রাত কাটিয়েছে। 

সেই ছেলেটা জানে!  

সেই ছেলেটা তার মায়ের আত্মা। 

সেই ছেলেটার প্রতিটা জন্মদিনে,, 
সেই ছেলে টা অপেক্ষায় থাকে,, 

প্রতিবার তার জন্ম দিন আসলেই সে যতই হাজারো পরিকল্পনা করুক সে অপেক্ষায় থাকে কবে তার মা তাকে বলবে,,, 

বাবু আজ তোর জন্মদিন। 

সেই ছেলেটার ছোটবেলা আজকের ছোট ছেলেমেয়েদের মত ছিল না। 

 ওদের ওই জন্মদিন নিয়ে কোন মাথা ব্যাথা ছিলো না।  

ওরা সকালে ঘুম থেকে উঠেই দাঁত মুখ ধুয়ে তিন ভাইবোন বসে মা বাবা কে নিয়ে সবাই মিলে মুড়ি খেতো বাটিতে বাটিতে।  

কোন কোন দিন ঠাকুমার চায়ের কাপে ছেলে টা হামলা চালাতো।  

আবার বাবার লাল চোখের ভীষণ ভিতু ছিলো।  

তারপর সেই তিন জন পড়তে বসা সেখানে খুটিনাটি রোজই কিছু লেগেই থাকতো। 

শেষে দিদির হাতের মার খেয়ে চুপচাপ পড়া করতো।  

মাঝেমধ্যে ওই দিদির কাজ টা মা করতেন সেদিন ভিটামিন টা একটু বেশি পেতে হতো তাতে প্রায়  দিন পাঁচেক চলতো।  

এই ভাবেই যেদিন সেই ছেলে টা পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র"
 তখন শম্পা  দিদি,,, একদিন 

 জানতে চেয়েছিলো এ ভাই তোর জন্মদিন কবে রে?  

ওদের স্কুল টা ছেলে মেয়ে একসাথে ছিলো।
শম্পা  অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী।


 আর ওর খুব প্রিয় ছিলো ওই শম্পা দিদি।  

সে এই স্কুলে অলোক নামের এক শান্ত ছেলে কে বন্ধু বানিয়েছে ,, 
আর ওরই নিজের  দিদি  ওই শম্পা দিদি।

হ্যা সেই দিদিও ওকে ভীষণ ভালো বাসতে শুরু করলো।

সেদিন ছেলে টা বাড়ি ফিরে মা কে জানতে চেয়ে ছিলো 

মা!  সবাই কি সুন্দর জন্মদিন পালোন করে।

 আমার তো কোন দিন জন্মদিন করো নি। 

স্কুলের বন্ধু দের সবাই জন্মদিন জানে।

 আমি জানি না। 

ও মা!  আমার জন্মদিন কবে?  

 তুই তো কার্তিক মাসের কৃষ্ণ পক্ষের রবিবার জন্মেছিলি। 

তারিখ মনে নেই।  

ওমা!  

আজকে আমার জন্ম প্রমান পত্র  টা একটু বের করে দেবে! 

দেখব ইংরেজি কত তারিখে আমার জন্ম ছিল। 

খেয়ে ওঠ  তারপর দিচ্ছি। 

বাঁধাকপি ,  ডালের বড়া,  টামাটোডাল। 

নাঃ সেদিন টা কোন দিন ভুলবে  না ছেলে টা। 

তারপর যখন জন্মের প্রমাণপত্র টা 
দেখেছিলো ! 

দেখলো! 


সেই ছেলেটা দেখেছিলো  
এই  আজই,,,
সেই ছেলেটার জন্মদিন,,,, সেদিন ও ছিলো কার্তিকের এক বুধ বার।  
তারিখ টা সেই ওই দিন। 
*************-*********************
সেদিন ছেলেটা সকালে দেখেছে,,, 
বাজারের কিছুই ছিল না ঘরে।

  সকালে বাবা বলে গেছেন,, 
দিদির  পয়সা জমানো ঘট থে কে তিরিশ টাকা বের করে বাজার করতে ।

ওর   মা সেদিন তাই করেছিলো। 

সেই ছেলেটা নিজেই সাক্ষী   সেই দিনের খাবার যোগারের দৃশ্যে । 

দিদি মামার বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছে সেদিন। 

ওর মা ওকে বলেছিলো দিদিকে বলতে না। 

নাঃ দিদি আজও জানে না। 

দিদির ওই ঘট থেকে সুযোগ ছেলে টাও নিয়েছে অনেক বার,, 

সেই যে বার ধরা পরে খুব ধোলাই খেলো! 
তখন রাগে বলে দিয়েছিলো তোমরাও তো দিদির ঘট থেকে পয়সা বের করে নাও আমি দেখেছি।  

বাবা মা দিদি সবাই চমকে যায় সেদিন। 

দিদি সেই যে ঘট টা ভেঙে দিলো আজও দিদি আর ঘটে পয়সা রাখে না। 

বলে ভাই যদি আবার দুষ্টুমি করে ওই রকম আবার ধোলাই খায়।  সেই দিন দিদির খুব কষ্ট হয়েছিলো।। 
***********---------************


সেই ছেলেটার মা সেদিন জানতে চেয়েছিল কি রে

 কি দেখলি কোন কাগজ টা তোর জন্ম সারটিবিট? 

ছেলেটা ইচ্ছে করেই বলেছিল কি জানি বুঝতে পারছি না। 

ছেলেটা জানে আজ তার জন্মদিন।  

সেই ছেলে টা জানে সে এমন এক পরিবারের আনন্দের সম্পদ তাকে পেয়ে তার বাবা মা নিজেদের জীবনের যে যুদ্ধে প্রতিদিন  অংশগ্রহণ করে!
 সেখানে এই সব তাদের কাছে কেবলই বিলাসিতা।  
ওদের  মতো পরিবারে তিন বেলা সকলের মুখে দুমুঠো ভাতের যোগান দিতে গিয়েই বাবা মা ভুলে গিয়েছে ওদের  জীবনের সব আনন্দ। 

তাই ওসব দাবি মানায় না।  

ও সব বড্ডো বে মানান।  


ছেলেটা সেদিন  মনে মনে স্থির করেছে

  আমার মা যেদিন আমায় বলবে আজ তোর জন্মদিন আমি সেইদিন আমার জন্মদিন পালন করব। 

আমি সেই দিন জন্মদিন পালন করবো। 

সেই তারপর দেখতে দেখতে কেটে গেলো কতো গুলো বছর কোন দিনই তার মা তাকে বলে নি। 

ওই কথা টা। 

আজ সন্ধ্যায় কেউ একজন বলেছে ও ভাই তোমার জন্মদিন কবে গোঁ,,

ছেলেটা  চমকে যায় !  

আজ কেউ বহু বছর পর এই প্রশ্ন করলো। 

ছেলে টা  বলেছে  নাঃ আমি বলতে চাই না। 

সে বলেছে ঠিক জানবেই!!

ছেলেটা জানতে চেয়েছে তারপর? 

তারপর সেদিন সারাদিন তার বাড়িতে ছেলেটার  থাকার নিমন্ত্রণ দেবে।
 তিন বেলা সব তার পছন্দের খাদ্য খাবারের আয়োজন করবে।  

সেদিন সেই পরিবারে উৎসব হবে। 

তারপর !

  তারপর  কি জানি কি হবে কবে? 






ও! তুমি!

ও!   তুমি!  তুমি আইছো? 


অনেক দিন পরে আইলা! 

আমিও না! তোমায় ভুইলাই ছিলাম । 

তোমার কথা আমার একটুও মনে পড়ে নাই। 

ওই মাইয়াডা হেইদিন জিগাতে ছিলো আমি ওর কথাডা হুইননাও হুনিনাই।  

আমি!  তোমারে ভুইলাই গেছি গোঁ,,,,

অখন আর তোমারে মনে ধরেনা গো। 

মনে ওই আমি য্যারে প্রিয় কই!  সে ই  । 

আমি তারে স্বপ্নের মধ্যেও দ্যেখতে পাই। 
আহাঃ,,,
লাল রাঙা সিথিতে পুজার  থালা হাতে 
আমায় ডাকে হ্যেয়,,,,,,, ঘর টা যেন পবিত্র এক মন্দিরে  পরিনত।  আমি সেই সেই মন্দিরের 
ওই  নীল  ওঠো!  অনেক বেলা হয়েছে । 

আমি লক্ষী ছেলের মতো বিছানায় বইসা ফ্যালফ্যাল কইরা চাইয়া দেখি!  

এই তো!  এই তো!  এই তো আমার স্বপ্নের সেই রাজ নন্দিনী। 
 আমি তার হাত ধরতে পারলেই মিলবে আমার মুক্তি।  
আমি সাধক হইয়া  তপস্যা করতেও রাজি যদি একটু ভালোবাসা পাই ওর ।  
এই তো!  সেই মেয়ে।  

কি কও?  কি?  

এতো উন্মাদ হইছি ক্যেন? এতো উন্মাদনা ভালো না? 
হু! 
তোমারে কে কয় এই সব গুরু গম্ভীর কথা কইতে? 
আমি তো কই না!
  তোমার  এতোই যদি দরদ হেই দিন ক্যেন ওই কামডা করলা?  
আগে হেই ক্যেনে এর উত্তর দেওন লাগবে। 
আগে হেইডা কও।
আমি ক্যেন এতো উন্মাদ হইছি তুমি বোঝো না? 
বোঝো না তুমি! 
এই তুমিই  আমার জীবনের সব থিকা বেশি ক্ষতি করছো,, হ্যাঁ  তুমি। 
আইজ আইছো  ক্যেন আমি উন্মাদ হইছি জানতে? 

তুমি হেদিন জানতে না? 
 আমার কি হইতে পারে? 
ও  তুমি ভরসা পাওনা।  আর আমার ওই পরিস্থিতিতে তুমি আমার পিছু নিছো।  
আমি কি খারাপ কইছি?  
আমি তো কইছিলাম আমারে কয়েক মাস সময় দাও।
 না!  তোমার তর সইলো না।  
আমি ভাবতেছি লাম বাগানের দিকে তাকাইয়া তোমারে কি কওন যায়।

তুমি শুধু কইলা"" যা খুশি তাই করো"" তারপর

 মূহুর্তে আমার দুনিয়ায় টায় অন্ধকার দিয়া আইজ আমারে ঞ্জ্যান দেওওন লাগবো না তোমার। 


আমি!  আমি কি খারাপ করছি? 
 আমি ওর সব টা জাননের পরও আমি পিছু পা হইনাই।  
আমি সব টাই মাইনা  নিছি।  
আমি হ্যেরে  ভালোবেসেছি আর এখনো ভালোবাসি।  

নাঃ ও আমারে একটুও পছন্দ করে না। 
আমায় ঘৃণা করে।  ঘৃণা। 
আমায় সে খুব ঘৃণা করে।  

আমি চারদিন আগে একটু কথা বলার বার্তা দিছি এখনো সে যোগাযোগ করে নাই।  
কিন্তু আমার বিশ্বাস যোগাযোগ হবে। 
হ্যাঁ আমি তারে খুব ভালোবাসি। 

বাঃ  

কি এমন মজার কথা কইলাম ওই রকম মুচকি হাসি হাসতে আছো?  

মজা দেখো?  মজা!  

আহাঃ খুব মজা তাই না?

আমি জানি এই গুলা কি?

আমি জানি তুমি ক্যেন হাসতাছো। 

তুমি কি ভাবো আমি বুঝি না?

আমি সবই বুঝি।  

বুঝি এই গুলা তোমারে কান্দানোর শাস্তি। 

আমি খুব মনে করি তারপর তোমার দেওয়া সেই অভিশাপ। 

আমি তো তোমার অভিশাপে অভিশপ্ত। 

আমি সবই বুঝি।  

হাসো!  যদি আনন্দ পাও। 
আর শোনো যদি সত্যিই আনন্দ পাও তবে প্রতিদিন আইসো।  
আমি তোমায় অনেক আনন্দ দিমু।
আমি যখন ওই নতুন মানুষ টার জন্য লুকায়ে চোক্কের জল মুছি।  
তুমি এসো!  এসো তুমি!  
না না আমার চোক্কের জল মোছাইতে হইবে না।
তুমি আমার কান্না দেইখো। 
দ্যেখবা  তোমার আনন্দ হইবে।  
মুখে এই রকম মুখচোরা হাসি হইবে। 

তুমি একটু একটু কইরা  সোধ  নিলা? 

আমি  আইজ সত্যিই একদম ফুরাইয়া গেছি। 

তবে কি জানো,? 

এক সময় নিজের প্রতি খুব অত্যাচার করতাম। পুরা অনিয়মে চলতাম।  

এখন আমি খুব নিয়ম কইরা চলি।  
আমি খাওয়া, ঘুম,, কাজ, খুব মন দিয়া করি।  আমি স্বপ্ন দেখি অনেক দিন বাইচা থাকার।  আমার মুখের দিকে তাকাইয়া থাকবে আমার ভালোবাসার দরদী।
আমার নতুন মানুষ টা । 

তোমারে এখন সত্যিই মনে ধরে না গো। 

আমি ওই নতুন মানুষ টার কাছে নিজেরে সমর্পণ করছি।  
তাই এহন আর তোমারে ভাবিও না আর তুমি মনের কোত্থাও নাই। 

ওই মানুষ টা আমারে শিখাইছে বাস্তবতায় যদি প্রেম হয় সেই প্রেমের কি নেশা। 
সেই প্রেমেই হয় মোখ লাভ।
 সেই প্রেম থেকেই আসে ভক্তি। 
সেই প্রেম থেকে আসে সন্যাস। 
সেই প্রেম থেকেই জীবের মুক্তি। 

ভাবনার প্রেম,, 
বিতৃষ্ণায় বুকফাটা চৈত্রের এক ফালি জমি। 
সেখানে সবই স্বপ্ন।  সেখানে শুধুই মরিচিকা।
সবই নিজের ভেতরে।  সেখানে নেই ভবিষ্যতের কোন স্বপ্ন। 

ঘোর কাটলেই একা। একদম একা সেখানে কেউ নেই পাশে। 

নাঃ যেযাই কয় কইতে থাউক,, নতুন মানুষ টা আমারে  একটা  নেশা শিখাইছে  জানো! 
আমারে শিখাইছে জীবন্ত প্রেমিকার প্রেমের স্পর্শ  কত্তো সুন্দর হয়।
আমি তো মনে করি এই নতুন মানুষটাই আমায় কল্পনার জগত থেইকে তুইল্লা   বাস্তবতায় বাইচা  থাকার নেশায় আমায় উন্মাদ করছে। 

হ্যা  আমি তাই উন্মাদ।  পাগোল।  আমি পাগোল।

  আমি এও মনে করি 
 আমি আজ যা কিছু,, এই সব তোমার দুর্বুদ্ধির ফল। তুমিই  এই সব কিছুর জন্য  দায়ী! 
 হ্যা  তুমি। 

তুমি সেই নিজের কইরাই রাখলা  আমায়!  
আমি অন্য কাউর হইতেই  পারলাম না। 
আমিও  সেই একাই থাইকা গ্যালাম,,,, 

কিন্তু তিথি!!  
এই ভাবে  আর কতো দিন? 
 তিথি!
হ্যা,,,, 

ওমা!  তুমি ফুড়ুৎ।  

আবার কবে আসবা কইয়াও গ্যালানা !

নতুন মানুষ টা তাও কইছে তারে ভাবতে না। 
সে আর ফিরবে না   । 

তুমি তো কিছুই কইলা না! 

এমন একটা মানুষ চাই

আমি না একটু অন্যরকম,,, একদম  সকলের থেকে আলাদা। আমার সাথে আমি অনেকের মিল পাই না। আমি নিজেও বুঝতে পারি যে আমি সম্পূর্ণ আলাদা। আমি একটা ভিন্ন প্রকৃতির মানুষ। 
আমি নিজের জন্য যখন কিছু চেয়েছি, নিজের জন্য বলতে নিজের মনের মানুষটাকে ঠিক যেমন চেয়েছিলাম,,, 
আমার নিজের মানুষটার  গায়ে একটু কলঙ্কের দাগ থাকবে। আমি সেই দাগ গুলো আলপনায় বদলে দেবো। সে-ও চমকে যাবে আমার কারিগরি দেখে। 
আমি ঐ প্রতিটি আলপনার আলাদা আলাদা নাম করণ করবো। আর তোমাকে তোমার সব টা মিলিয়ে নতুন একটা নাম দেবো।  তবে হ্যা শুধু আমিই সেই নামে ডাকবো।  আর কেউ সেই নামে ডাকার অধিকার পাবে না।

আমি চাই না  যে সে  খুব লক্ষ্মী মেয়ে , খুব গুছিয়ে চলে , নম্রতার স্বভাবের আভা  তার  সারা গায়ে থাকুক।  না আমি তা চাই না । 

আমি  চাই আমার যেন একটা  ডানপিটে জীবন যুদ্ধের সহযোদ্ধা থাকে। আমার  সেই মানুষ টা খুব জেদি  মনের মানুষ  হোক!  আমি তাকে খুব ভালোবাসবো। সে খুব   হিংসুটে হবে। আমার সাথে ঝগড়া করবে সব সময় আমি কেন নিজেকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখি।  আমি কেন নিজেকে  সম্পুর্ন গুছিয়ে তার কাছে রাখি না এই অভিযোগে। 
আমি চাই আমার নিজের মানুষ টা অবিকল এই রকম হোক,,নইলে কেমন করে  প্রেমিক হবো!?
 আমি আর কি করবো যদি সে লক্ষী মেয়ে হয়?

আমি  জানতে চাই  সেই মানুষ টা কেন  খুব কষ্টে আছে,  জানতে চাই সেই সব অসংখ্য প্রতারক দের কথা।   সেই মানুষ টার  জীবনে এসে তাকে চরম ঠকিয়ে  সবটা শেষ করে দিয়ে গেছে।

আমি  জানতে চাই  রাত হলে সে ঘুমায়  না,
জেগে থাকে রাতভর।  একপাশে কাত হয়ে ফোনের আলোয়  রাত কেটে যায়। 

আমায়  জানতে হবে সে কেন খুব  কাঁন্না করে। 
খুব একা  একা কেন কাঁদে । 
আমি তার চোখের জল মুছিয়ে বলবো 
ওই পাগলী এখন থেকে আর কাঁদবি না। এখন থেকে আমি আজীবন তোর সাথে আছি  থাকবো।  আমায় বিশ্বাস কর।  আমি ওদের মতো তোকে ছেড়ে যাবো না। আমি তোর হয়ে তোর কাছেই থাকবো। পাগলী তুই কাঁদবি না।


সেই মানুষটার জীবনে যেন আর কাঁন্না না থাকে। আমাকে বুঝতে হবে কেন অতো   সুন্দর কন্ঠ খিটখিটে হয়ে গেছে।
আমাকে দায়িত্ব নিয়ে তার মুখে হাসি ফিরিয়ে আনতে হবে।  সে খিলখিল করে হাসবে আর আমি সেই হাসিতে নিজের হারাবো।
আচ্ছা তোমরাই বলো,,, একটা মেয়ের জীবনের 
সবটা দুঃখ জেনে নীরবে তার পাশে এসে দাঁড়াতে পারলেই না আমি প্রেমিক।
তবেই আমি যোগ্য প্রেমিক। 

মানুষ টার  অতীত শুনে ভয়ে যদি পিছু হাটি আর খুব লক্ষ্মী একটা মেয়ে যদি খুঁজতে থাকি,
 তাহলে এরচেয়ে বরং বাবাকে বলবো একটা কাঠের পুতুল এনে আমার বিয়ে দিয়ে দাও।
না আমি এমন মানুষ চাই না। 

 যার গায়ে কখনো কলঙ্কের দাগ লাগেনি। 


আমি গায়ে কলঙ্কের  দাগ থাকে যেন এমন একটা মানুষ চাই 

রাষ্ট্রবাদী প্রেমিকের নতুন প্রেম নিবেদন।

আমি ঝড়ের বেগে হারিয়ে যাওয়া
 ছোট্ট একটা নীল পাখি। 
আমি তোমার  দেশে নতুন  অতিথি। 
আমি এদেশের ভাষা বুঝিনা। 
আমি এদেশকে চিনিনা ।
আমায় নাগরিত্ব দিয়ে এই দেশের 
নাগরিকের  মর্জাদা দেওয়া হোক! 


আমি যে দেশের  নাগরিক ছিলাম 
সেখানের  সরকার ছিলো বেইমান।
সবাই আইন কে বুড়ো আঙ্গুল দেখায়।
শুধুই বিভেদের আর
 মিথ্যে প্রতিশ্রুতিতে জনগণকে ধোকা দেওয়া ভাওতাবাজীর সরকার 
সেখানে অনেক জনগণের ভীড়। 
সেখানে সবাই মুখোশধারী মিথ্যেবাদী। 

আমি সরকারের  নীতির প্রতিবাদ করায় 
আমায় দেশদ্রোহী মামলায় ফেরারি আসামীর তকমা দিয়েছে। 

আমি সেই দেশ থেকে  বিতাড়িত। 

আজ আমি এই দেশের উদবাস্তু। 


আমি  এই জীবন নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেছি। 
আমি স্বাধীন ভাবে স্বাধীনতায় বাচতে চাই।
এই দেশের জনসাধারণের ভিড় থাকুক
 কিন্তু সরকারের নজরে সব সময় আমি 
একজন  দ্বায়িত্ববান  রাষ্ট্রবাদী  নাগরিকত্বের মর্যাদা চাই।

আমি তোমার দেশে নতুন,,
 আমি এ দেশের নাগরিকত্ব চাই। 
আমায় গ্রহণ করো,,,

মায়ের গল্প মায়ের কাছে

ঐ তোর মনে আছে?
আজ আমরা আমাদের কথায় কথায় আমি একবার বলতে শুরু করেছিলাম আমার মা এর কথা.... 

তারপর তোর একটা ফোন আসলো আমায় বললি অপেক্ষা করো,, আর আমি অনেক্ষণ অপেক্ষায় ছিলাম। 

তখনই ভেবে ছিলাম এই কথা গুলো আমি আজ তোকে বলবো।

আবার এই কথাও ভেবেছিলাম আর কতোক্ষন অপেক্ষায় থাকতে হবে। 

শেষে ভেবেছিলাম আজ,,
 একটা মায়ের কথা আর একটা মা কে বলবো।

অপেক্ষা তো করতেই হবে।

আমি ছিলাম অপেক্ষায় তারপর এক সময় দেখলাম ফোন টাই কেটে দিলি।

হ্যাঁ সত্যি তখন খুব রাগ হয়েছিল। 

আমি তারপরও অপেক্ষায় ছিলাম এই ভেবে হয়তো কোনো ব্যস্ততায় আটকে পরেছে। 

আমি অপেক্ষায় ছিলাম 
আজ,,
 এক মায়ের গল্প মায়ের কাছেই বলবো। 


সেই ছোটবেলার সাধারণ জ্ঞানে যতটুকু শুনেছি, ওদের ৮ ভাইবোনের মধ্যে ও সবার থেকে বড়।
বাংলাদেশের পাবনায় জন্ম। প্রাণ বাচাতে  লোটা কম্বল নিয়ে এদেশে এসেছেন ওনার বাবা মা আরো অন্যান্য আত্মীয় স্বজন। 

এদেশে এসেই সেই ৭ বচ্ছর বয়সেই উদবাস্তু হয়ে ঘুরতে লাগলো। 
 ওনার বাবা ঐ বাচ্চার মাথায় ছাদের চিন্তায় মেয়ে কে এক বনেদি  লোকের বাড়িতে উনুনের কয়লা ভাঙার ও ছাই বাছাইয়ের কাজে দিয়ে দিলেন।
  দু বেলা দু মুঠো ভাত আর ওই ঘরের এক কোনে একটা বিছানা। 

শুরু নিয়তি-র জীবনের পাঠশালা। 

চলতে থাকলো এই ভাবেই ২ বচ্ছর।  কেউ খোজ নেয়নি।  মাঝে একবার খুব হাম হয়েছিলো। তখন ওই বাড়ির মানুষ গুলো রেখে এসেছিলো পাড়ার মন্দিরের দাওয়ায়। ওখানে সবাই বলতো কে এটা কোথায় বাড়ি? কিছুই বলতে পারেনি।  তারপর আবার ওই বাড়ির হেসেলের কর্মি। 

একদিন বাবা এলেন তাকে নিতে বললেন চল আমাদের বাড়ি হয়েছে। বাড়ি চল। বাড়ি যাবো সে কি আনন্দ তার। তারপর বাড়ি ফিরলো।  আর ফিরলো নতুন জীবনে।  বাবার সাথে বাবার কাজে সাহায্য করা। সুতোর কাজ। তখন বয়স প্রায় ১১ হবে। তার মধ্যেই  এতো দ্বায়িত্ব নিয়ে বাবার পাশে।

না লেখা পড়া বিদ্যালয় এর জানলা দরজা শিক্ষক  এসব কিছুই দেখেন নি।  এখনো অনেক শব্দ ঠিক মতো উচ্চারণ করতে পারে না। 
তোর নাম টাও হয়তো একবারে উচ্চারণ করতে পারবে না 
চিনেছে শুধু পরিশ্রম।  চিনেছে  মানবতা।

এইভাবেই  আরো ৩ বচ্ছর পর প্রকৃতির ডাকে হয়ে উঠেছে অপরুপ এক বিষ্ময়।


পাত্র পক্ষের বিভিন্ন ডাক চারিদিক থেকে।
  ওই যে লেখা পড়া জানেনা  অনেকেই ফিরে গেছেন। 
শেষ বার যিনি ফেঁসে ছেন তিনি গত ২ বছরে ৬ বার দেখতে গিয়েছিলেন। । 

এ সব শুনেছি।  দেখিনি। 

আমি তখন ............................. 😁


১৩৯০ সালের ফাল্গুনী পুর্নিমায় লক্ষী বিদায় দেয় এক বাবা।
 লক্ষীর স্থান হয় আর এক জাত ভিখেরির ভাড়া বাড়ির বারান্দায়। 

পরের দিন সকালেই নিয়তির  সে এক করুণ খেলা শুরু।  
হায়!  
ভগবান এ কোথায় আমি?

বাবা!  আমায় কোথায় দিলে? 

মেনে নিয়েই বাসর ছেড়ে সকালের স্নান সেরেছিলো সেদিন।  
এর মধ্যেই বাপের দেওয়া একটাই একটু সোনা সেই টাও হাওয়া। 
ডানা মেলে আকাশে চলে গেছে আর আসেনি ফিরে।
চার দিনের মাথায় নিয়তির নিয়ম হলো কাজ করে খেতে হবে।  
লেগে পরো কাজে। 
 বিয়ের গিট পিঠে নিয়েই বসে পরলেন কাজে। অভিযোগ ছিলো না। 
সাত দিনের মাথায় নিয়তির সংসার আলাদা করে দিলেন।  

শুধু দুটি মানুষ বাড়ি থেকে বেড় করে দিয়ে।
  মাত্র ৬০ পয়সা আঁচলে বাঁধা ছিলো সেদিন। 

ওরা স্বামী-স্ত্রী যখন কথা বলে! 
 মাঝেমধ্যেই বলে ওঠে এটা আমাদের 60 পয়সা সংসার। 

ধার করা উনুন মাটির হাড়ি কলার পাতায় প্রথম দিন। পরের দিন সকালে নিয়তির বাবা  সংসারের প্রয়োজনীয় সব কিছু কিনে কিছু ওনার বাড়ি থেকে দিয়ে গেলেন।  

এভাবেই শুরু সংসার,, নিয়তি মা হতে চলেছে,, 
নিয়তি নিয়ম করে সংসারের দ্বায়িত্ব কাঁধে নিয়ে চলছে। স্বামী তার জাত কূড়ে,, গল্প সিনেমা আড্ডা ঠাট্টায় ওস্তাদ। 
 নাঃ  মাতাল বা  জুয়োরি না। 
তবে হ্যা দ্বায়িত্ব বোধ নেই।
কথা বলার কোন ধরন নেই।
রাজা-বাদশা ভাব। 
হিন্দি সিনেমার পোকা,,, 
ঘরে খাবার না থাকলেও সিনেমা দেখতেই হবে।
তিনি বাপ হয়েছেন। 

মাত্র ১৭ বছরেই প্রথম মা হয়েছেন।  
ছিলো না কোন যত্নশীল কোন মানুষ সেই মানুষ টার কাছে। ঠিক মতো রোজ খেতেও পেতো না। কখনো কখনো ইচ্ছে করেই খেতো না। ও তো জানতো না ওই সময় ওর কি দরকার।  
আমার এক স্কুলের বন্ধুর মা গল্প করেছিলো।  আমার মা ওদের বাড়ির ভাতের ফ্যান এনে দিদিকে খায়িয়ে ছিলো।  নিজেও খেয়ে ঘরে ছিলো। আমায় সেই বন্ধুর মা সেদিন বলেছিল বাবা রে জীবনে যাই হোক মা য়ের যত্ন নিবি। 
তোর মা জীবনে খুব কষ্ট করেছে।

 না বাপের বাড়ি যায় নি। বাপ তো বিদায় দিয়ে দিয়েছে।  সেখানে মেয়েদের যেতে নেই ।  

ও ওই সব কিছুই জানতো না।   তাই  অপুষ্টিতে জন্ম হয় একটা  ৭২০ গ্রামের টুনি।(ডাক নাম)
সবাই বলেছিলো বাচবে না। 

নাম করণ হলো সাবিত্রী, শিখা, সারাদিন শুধু কান্না আর কান্না বেড়ালের বাচ্চার মতো। তারপর একদিন দ্বায়িত্ব হীন লোক টা একদিন কোলে নিয়ে খেতে বসেছে খিদের জালায় মুখ খুলছে।  খিদে তো থাকবেই ঘরে খাবার নেই দিনের পরদিন ও খাবাব দেবে কি করে ওই শিশু টাকে? 

চলতে থাকলো এই ভাবেই চলতে চলতে পুষ্টির অভাবে পোলিও আক্রান্ত হলো মেয়ে।  মাত্র ১ বছর ৭ মাসেই।  

দ্বায়িত্ব হীন মানুষ টা বেশ সংসারের মন দিয়েছে কাজ কর্ম ঠিক ঠাক করে। একটা বাড়ি কিনেছে দুই জনেই সংসার চালিয়ে।  এর মধ্যেই  নিয়তি  একবার রথের মেলায় ওই মেয়ে কোলে নিয়ে রথের দড়িতে টানতে রাজ পথে।  
না মেয়ে হাটতে পারে না। বসিয়ে রাখলে বসেই থাকে উঠে দাড়াতে পারে না। 
আর শরির থেকে রোগ ছাড়ে না। 
আজ,, হাগা তো কাল বমি তারপর জ্বর লেগেই আছে।
টুনির জন্য কেনা হলো কাঠের জগন্নাথ।  সেই দোকানি বার্তা দেয় মা আগামী বচ্ছর তোর কোলে জগন্নাথ আসবে। নিয়ে যা। তোর মেয়ে খেলবে। 

এভাবেই চলতে লাগল,, 
মা হতে চলেছে নিয়তি দ্বিতীয় জীবন যুদ্ধে। 
মনে তার স্বপ্ন তার জগন্নাথ আসবেন।  

এলোও তাই,,, ৩ কেজি ৫০০ কালো অন্ধকারে খুজে পাওয়া মস্কিল নাক চোখ মুখ কান বোঝার উপায় নাই। 

মা একদিন আমায় বলেছিলো,,
আমায় আঁতুড়ঘরের  আলো নিভে গেলে হাতিয়ে হাতিয়ে খুজতো। 
 আমি সেদিন বলেছি ইস!!
আমিও যদি দিদির মতো ফর্সা হতাম তোমায় খুজতে হতো না। 
ঠাটিয়ে গালে খেয়ে উত্তর পাই আমি ওই হোদলকূকুত টা কেই বুকে নিয়ে সেদিন বলেছিলাম আমার প্রাণ এইটা। 
নাম করণের দিন ঘটলো দুর্ঘটনা দিদি বসে বসে মাজা ঘসতে ঘসতে আঁতুড়ঘরের আলো ফেলে আগুন লেগে যায়।  মামা আগুন থেকে তুলে এনে নাম দেয় মৃত্যুঞ্জয়,, আর নাম রাখেন সিনেমা পোকার মাথায় যা থাকতে পারে। 

চলছে ভাই বোনের আদর আর নিয়তির নিয়মের সংসার। চলতে চলতে আবার নিয়তি মা হলো।  এবার তার অনেক সাহস।  অনেক শক্তি। 
 ওই বড় মেয়ে টা মাঝে প্রায় মরে যায় যায়। এমন সময় এক হনুমান ডাক্তার দাতব্য চিকিৎসালয়ে দেখে বলেন এই মরা এনেছিস কেন? যা এখান থেকে নিয়ে যা।  গন্ধ নাকে রুমাল দিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছিলো। সেদিন মেয়ে টা সারাদিন ওই খানেই ছিলো।  ডাক্তার বেলাশেষে ডেকে  কি খেয়েছিস? 
উত্তর কিছুই ছিলো না।

এর মধ্যে টুনি কেঁদে উঠেছে ডাক্তার বলে বেচে আছে? কই দেখি!  দেখি!  
সেই যে টুনি ভালো হয়ে গেলো আজ টুনি তিন সন্তানের মা। 

এরপর এলো অন্য এক জীবন দ্বায়িত্ব হীন লোক টা হয়ে উঠলো অত্যাচারী,  আমি তখন খুব ছোট, মনে আছে, ওই বড় পিসি আর বাবা মিলে মাকে খুব মাড়ছিলো। মায়ের গায়ে কেরসিন ঢেলে দিয়েছিলো বাবা। তারপর পাশের বাড়ির দাদু এসে আমাদের বাচায়। আমি দিদি বোন মা সারারাত ওই দাদু বাড়ির উনুনের পাশে ঘসির বস্তার পাশে রাত কাটিয়ে মামা বাড়ি গিয়ে ছিলাম পরের দিন।
আর একবার মনে আছে ঠাকুমা আর পিসি মা কে ঝাটা দিয়ে মেরেছিলো সে বার ওই লক্ষি পিসি মায়ের পিঠের থেকে বুকের থেকে ঝাটার কাঠি তুলে দিয়েছিলো।  এ গুলো আমার পরিস্কার মনে আছে।
দ্বায়িত্ব হীন মানুষ টার সংসারে কোন টান নেই। সন্তান তিন জনের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোন ভাবনাই তার কোন দিন ছিলো না। আজও নেই।
সিনেমা, আড্ডা, আর ছিলো চোখের খিদের যন্ত্রণা। 
না খেয়ে ওনার মিন ভরে না। সব সময় খাইখাই। আজও তাই।  দুর্ভিক্ষ এর চেহারায়। সুদর্শন এক মহা পুরুষ।  
এই ভাবেই চললো দিন গুলি,,তখন আমি দিদি বোন সবাই স্কুলে যাই। 
আমার সে বার পঞ্চম শ্রেণি,,দিদিও তাই হতো মা বললো ও নাম সই দিতে পারে। ওর আর স্কুলে যেতে হবে না।  আমরা গরিব চালাতে পারবো না তুই স্কুলে পড়াশোনা কর।  তাই হতে লাগলো আমি স্কুলের গন্ডি পার করতেই বোনের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেলো।  
পরিস্থিতি কি দাড়ালো!  সেই দ্বায়িত্ব হীন মানুষ টা এই সব কোন খেয়ালই রাখেন নি।  নিজের মতো জীবন যাপন করেছেন।  

সকলের কাছে আমাদের পরিচয় পর্যন্ত দেয়নি। তার ধ্রুব সাক্ষি আমি আর হবি আজ তুই। 
সেদিন বলেছিলো আমি নাকি এক আত্মিয়ের সন্তান। 
কোথায় আমি আর কোথায় এ( মানে আমি)

  আমি রাস্তার সেই কথা ওই নিমন্ত্রণ বাড়িতে সকলের সামনে বলেছিলাম।  বাবা বলেছিলো তুই ফর্সা হলে বলতাম। 
 বুঝিনি সেদিন মায়া ভালোবাসা এ সব কি?
মাত্র তখন ৭ কি ৮ বছর বয়স হবে।


আমি সে বার ক্লাস  নাইন,, টুকটাক কাজে লেগে গেলাম স্কুল টিউশন আমার খরচ নিজেই যোগাড় করতে লাগলাম।  স্কুলের গন্ডি টপকে গেলাম।  

নিয়তির মনে সন্দেহ হতে লাগলো ওই দ্বায়িত্ব হীন মানুষ টার রোজগারের ভান্ডার কোথায় যায়। হ্যাঁ  মিলে গেলো,,, এই ভাবেই ওই মানুষ টা বাইরে বাইরে ফুর্তি করে বাড়িতে ভালো মানুষ আসতে লাগলো।  কিছুই না সেও আরেক  খিদের টান। 
মা বলতে লাগলো  ভু-ভুক্ষু,,  ওর খিদে, অভাব , হাহাকার কোন দিন মিটবে না। 

মায়ের এই কথা কোথাও নেই,, ভু-ভুক্ষু কি!!?  

আমি এর কোন সামাজিক ব্যাবহার পাইনি। 
তবে বুঝেছি ওনার ওই শব্দ কেবল  দ্বায়িত্ব হীন মানুষ টার জন্যই।  সে অনেক  গভীর ব্যাথার আর্তনাদ এর বাহ্যিক প্রকাশ  ভু-ভুক্ষু।


চলতে লাগলো অধিকারের লড়াই, সে আরেক  সাংঘাতিক দিক। বাড়ি ফেরায় ১ ঘন্টা দেরি হলে রাস্তায় তাকিয়ে থাকা। এক দিন বাড়ি না ফিরলে পরের দিন ভোর বেলা ১০  কিলোমিটার পায়ে হেটে খবর আনতে যাওয়া।  রাতে বাড়ি না ফিরলে খাবার পরের দিন  আবার জাল দিয়ে রাখা।  
আমার জীবনে দেখিনি বাবা জামা কাপড় কিনেছে নিজে।  আমাদের কাউ কেই কোনদিন কিছু কিনে দিয়েছে কি না মনে নেই।  হয়তো দিয়েছে। নইলে আজ কি করে এই গল্প লিখছি??
আজও  যদি বাবা একটা জামা পরেন সেটা মায়ের পছন্দের।  আর সত্যিই  মহাশয় দারুণ দেখতে।  শিবের মতো ভোলা।  মহেশ্বর। 

এর মধ্যে আমিও ডানা মেলে উড়তে শিখেছি সারাদিন কাজ আর শম্পা দিদির বাড়ি।  পড়াশোনা ওই খানেই করতাম।  আমার টেবিল বই খাতা সব ওই বাড়িতেই ছিলো।  
এক সময় হঠাৎ বাড়ি থেকে পালিয়ে যাই দিল্লি।  
সেখানে কাজে লাগি রিবোক এর এক সোরুমে। ঠিক ৩ মাস পর  কলকাতার এক জন ওই মালিক কে বলে এই বাঙালি কে আমার কাছে দিয়ে দাও।  আমিও চলে আসি,, শ্রীরামপুর।  
পরিচয় হয় পারুলের সাথে।  ওদের  সন্তান ছিলো না।  আমায় খুব ভালো বাসতে লাগলো।  ঢুকে গেলাম  আবার  পড়াশোনায় ডিশটেন্স কোর্সের মাধ্যমে। প্রিয়  বিষয় ছিলো  রাষ্ট্র বিজ্ঞান। 
তারপর চলে গেলাম ওয়েব ডিজাইনিং ডিপ্লোমা করতে।  সেখানে ও  ২ বছর।  শরির খারাপ করতে শুরু করলো,,ওখানের জল শরিরে সহ্য হলো না। ফিরে এলাম বাড়ি,, 
হ্যাঁ যোগাযোগ ছিলো বাড়িতে,।  আমি ওদের দোকানে কাজের লোক ছিলাম। মাইনে বাড়িতে পাঠিয়ে দিতাম। 

দায়িত্বহীন মানুষটা  জীবনে ধর্মের মধ্যে কর্ম আর আমাবস্যার রাসের মতো আমায় পয়সা জমানোর জন্য একটা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করে দিয়েছিল। 
আমি সেখানে প্রায় কুড়ি হাজার টাকা জমিয়েছিলাম সেই সময়ে। 

দিদির হঠাৎ বিয়ে হয়ে গেলো সেও আরেক ঠকবাজ পরিবারে।  এক টাও মানুষ না ওরা।  
ঠিক মতো  খোজ টা পর্যন্ত নেয় নি দ্বায়িত্ব হীন মানুষ টা।  বিয়ের দিন আমার এক বন্ধুর বাবা আমায় বলে তোমার দিদি!  হায়!  হায়!  কি করলো তোমার বাবা!  
যাইহোক কন্যাদায় থেকে মুক্ত হতে গিয়ে মেয়ে টার জীবন টা নষ্ট করলো। ছেলে টা পাগল। 
বিয়ের ৬ মাসের মাথায় এক অশান্তিতে আমি ওই বাড়িতে নিজেকে সামলাতে পারিনি।  সেদিন গায়ে হাত তুলে দিয়েছিলাম দিদির বড়ের। 
বাবা ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়ে বলেছিলো এই বাড়িতে জীবনেও  পা দিবি না। 
আমি আজও যাই না। 

আমি তখন ১৯ বছরের, সংসারে সব সময় ঝামেলা ঝগড়া লেগেই আছে। ওই ঐ সেই অধিকারের লড়াই।  ক্রমশ বাড়তে লাগলো সেই সংঘাত।  একেক সময় খুব খারাপ লাগতো তখন শম্পা দি ছিলো আমার মনের চিকিৎসক।  
তারপর আমি আসামে চলে যাই,, সেখানে ৭ মাস থাকি বাড়ি ফিরে আসি। 
তারপর আমার নতুন জীবন শুরু হয় গোলদারের গল্পে,, আমি ঝড়ের বেগে ছুটতে লাগলাম।  
স্মৃতি এলো অর্থ এলো আমি তখন ব্যাস্ত মানুষ। চললো ৩' বচ্ছর।  আমি আবার সেই ঘরে ফিরলাম।  মাঝে বোনের বিয়ে দিলাম।  বিয়ের রাতে শুনতে হলো ঐ বাড়িতে আমি পা দিলে বাবার মরা মুখ দেখবো,, আমি আজও বোনের বাড়ি যাই  না। 

এই  ভাবে চলতে চলতে  নিয়তি আমাকেও ভুল ভেবে একদিন শম্পা কে নিয়ে বাজে কথা বলায়। 
আমি রাগ সামলাতে না পেরে মুখে জুতো ছুড়ে মেড়েছিলাম। 
আমি ওনার হাতের খাবার  ওনার সাথে কথা, মা বলে ডাকতাম না অনেক বছর।  
আমি আবার বাড়ি ছেড়ে দিলাম। এবার বাড়ি ছাড়লাম নিজেকে হারাবো বলে।  আমি ঠাই  নিলাম সেই পাঞ্জাবে। সেখানেই তিন বছর। 
তারপর পরে একদিন এক বন্ধুর প্রেরণ করা ছবি দেখে মায়ের মুখ টা আমায় বাড়ির বাইরে রাখতে পারল না। 
এক ছুটে সেই বাড়ি আজও  বাড়িতেই।  
মায়ের মুখে সে কি খুশি,, 
 খুশি  শম্পা দি, আবার যোগাযোগ আবার সেই আগের মতোই ঘোরাফেরা। 
না কেউ খোজ রাখে নি আমার। 

এইভাবে চলতে চলতে আমার শম্পা দির সাথে সম্পর্ক আরো অনেক দৃঢ় হয়।
আবার বাড়িতে খাওয়া বন্ধ করে দেই ওই দ্বায়িত্ব হীন মানুষ টার কথায়।  সে বার বোনকে নিয়ে বাজে কথা।  বোন দ্বিতীয় বারের জন্য  সন্তান সম্ভবা হয়। আমার বন্ধু বলে দাদা এটা রাখবো না তুমি ব্যাবস্থা করো।  সেই ঘটনা বাড়িতে যখন জানতে পারে,,  বাবা বলেছে মা   নাকি ওনাকে বলেছে ওই কু কর্মের দ্বায় আমার  ।  এই নিয়ে আমি জামাই কে ডেকে ওদের ভুল দূর করি।


প্রায় ৮ মাস হোটেল খাওয়া আর বাড়িতে ঘুম ।  চলতে চলতে শম্পার হাতে ধরা খাই। 
আমি তাকে সেদিন বলেছিলাম ঘটনা টা। 
দিদি সেদিন আমায় উল্টো মেরেছিলো।। 
তারপর থেকে ওর বাড়িতেই তিন বেলা খাওয়া আর বাড়িতে ঘুম।  প্রতিদিন কি খাবো পেচির সাথে মেনু করে বাজারে যেতাম  ।  দিদি মাঝে মধ্যে ওই সকল দিনে রন্না করার ক্ষমতায় থাকতো না। আমায় দেখিয়ে দিতো কি দিয়ে কি রান্না করে।  
একদিন ২ হাজার টাকা দিয়ে একটা মানুষের একা সংসারে যা কিছু প্রয়োজন সব কিনে বলে ভাই আজ থেকে বাড়িতে রান্না করে খাবি। সব শিখিয়ে দিয়েছি। 
চলতে লাগলো প্রায় ৪ বছর  তারপর একদিন ওই সেই দাদু টা একটা বীজ মন্ত্র কানে দিলো পরের দিন থেকে খাওয়া দাওয়া মা বলে ডাকা সব যেন মন্ত্রের মতো শুরু হয়ে গেলো। 

তারপর  থেকে তারপর ,, তারপর  আমি আমার মতোই এই আজকেও আছি।  

আমি আজও বুঝিনা এই এদের মাঝে এতো কিসের অধিকারের লড়াই।  
কেন এরা বোঝেই না সংসারের সকলের আলাদা আলাদা ভাবনা আছে। 
হ্যা খুব লজ্জার বিষয় ওরা আজ দুদিন এমন ঝগড়া করছে আমি সারাদিনে কিছুই খাইনি। তিন টে মানুষ আজ তিন টে বিছানায়। 

জানিস এক সময় ভেবেছিলাম এদের সাথে থাকলে আমার আর সংসার হবে না।  
আমি বিয়ে প্রেম ভালোবাসা এই সব নিয়ে ভাবতামই না। 
তোকে কি বলবো  শম্পা দি আমার বিয়ের জন্য অনেক কিছু করেছে।  আমি সেই মুখ ঘুরিয়ে চলে আসতাম।  বলতাম আমি পারবো না স্মৃতি কে ভুলতে। 
আমার বাড়িতে যেই পরিস্থিতি তাতে মানুষ বাস করে না।  
মান সম্মান থাকবে না। 
আমার কাছে আজ যখন লোকজন আসে দ্বায়িত্ব হীন মানুষ টা আজ ভাব দেখায় আমার ছেলে। 
নিয়তি বলে কেন  সেদিন বলেছিলে আত্মিয়ের। 
আজ কি করে তোমার?  
আজ বুঝি গতি নেই? 

আজ আমি কেমন আছি আমার নিজের আপন জনেরাই জানে না।  নাঃ ওদের অতো সব জানাই না।  ওরা এসব বোঝে না। ওদের কাছে মূল্য নেই।  শুধু মুখ বুঝে থাকি সামাজিকতায় সভ্য হয়ে বাচতে হবে তাই। 

এই যে তোকে,,, মা,,, বলি,, বলি মনের  আনন্দে। সবাই যখন ঠকিয়ে মানুষ টাকে রাস্তায় ফেলে দিয়েছে।  আমি খড়কুটোর মতো একটা  নাড়ি শক্তির প্রার্থনা করেছি। পরিচিত সকলেই ছিলো অনেক বাধার কারণ।  তাই বেছে নিয়েছি তোকে। 

আমি খুব খুশি আজ,,, 
আমার আকাশে এক ফোটাও মেঘ নেই। 
সব টা আমি ছুড়ে ফেলতে পেরেছি তোর জন্য। আমি পরিচিত এতো নাড়ির মধ্যে তোর থেকে যে শান্তি পাই!
 তাতে ওই ডাক টাই আসে রে,,,,, মা,,,  

হ্যা  সব সময় ওই দূরেই থাকিস,,
 খুব বেশি সংস্পর্শে এলে গরিমা হারাতে পারে। 

আমি সূর্যের আলোয় তোর আশীর্বাদ স্নেহ মমতা ভালোবাসা খুজে নেবো । 

আর কোন আফসোস নয়!

মনে রাখতে হবে জীবনে একটা সময়ের পর,,, 

প্রচন্ড ভালোবাসার পরেও আপনি যাকে পেলেন না,,

তার জন্য মন খারাপ করা কিংবা আফসোস করা একদম বোকামির মতো কাজ। 
করবেন না সেই বোকামি। 
 একদমই না। 

একটা সময়ের পর আপনি দেখবেন!  
অবশ্যই দেখতে পাবেন। 
আফসোস তো সে করবে,,,
কেনই বা সে আফসোস করবে না? 
তাকেই আফসোস করতে হবে হ্যাঁ! 

যে আপনার কাছ থেকে এত ভালোবাসা এতো ,যত্ন,এতো আদর পাওয়ার পরেও,, 
নিজেকে আবরণ মুক্ত করতে পারল না অন্য মানুষটির আবেগ থেকে। 
আপনি তো তাকে সর্বোচ্চ সম্মানের স্বীকৃতির আসনে স্থান দিয়েছিলেন,,, 
আর সে কি করলো!? 
 ভালো থাকার জন্য অন্য  কাউকে বেছে নিয়েছে!
সেই মানুষটা সামাজিকতায় তাকে সেই সম্মান কোনদিনই দিতে পারবেনা। 

কি জুটল তবে কপালে! 

জীবনে আফসোস তাকে করতেই হবে। 

ভালোবাসার মানুষটাকে মুক্ত করে দিতে হয়।
তাকে কোন শর্ত দিয়ে বেঁধে রাখতে নেই। 
তাকে উঠতে দিতে হয় আকাশের মাঝে। 

যাতে মানুষটা অন্তত দেখতে পারে;
পৃথিবীর আর কেউ তাকে ঠিক আপনার মতো করে ভালোবাসতে পারে কিনা,
বুঝতে পারে কিনা।

বিনিময় শুধু সন্দেহের খাতায় রেখে বারবার আঘাত  না করাই ভালো। 

আর যখন সেই মানুষটা পুরো পৃথিবী ঘুরেও আপনার মতো কাউকে পাবে না,

ঠিক তখন চরম আফসোস করবে!

নিজেকে সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলবে।

আপনাকে কষ্ট দিয়ে অন্য কোথাও সুখ সে কোনোদিনও পাবে না এটা নিশ্চিত থাকুন।

হয়তোবা আপনার সামনে নিজেকে সুখী উপস্থাপন করার জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করবে ঠিকই কিন্তু ভেতরে ভেতরে সে প্রচন্ড আফসোস করবে আপনার জন্য।

পৃথিবীতে আজকাল প্রকৃত ভালোবাসা যে বড্ড দুর্লভ!
যে মানুষ সামান্য একটু সুখের লোভে কারো ভালোবাসাকে অবজ্ঞা করে,
সে মানুষ আর কোনোদিনও ভালোবাসা পায় না!

 কেননা ভালোবাসার মাঝেই যে প্রকৃত সুখ,

তা অনেক মানুষেরই অজানা।

যাকে মন-প্রাণ দিয়ে ভালোবাসতেন, যাকে মন-প্রাণ দিয়ে যত্ন নিতেন,

আগলে রাখতেন;তাকে না পাওয়াটাই বেশ ভালো!


নিজের ভালো যে না বোঝে আপনাকে তীব্র আঘাত দিয়ে নিজের  স্বার্থে ছলনা করে। 
তার কাছে আপনি অন্তত কখনোই ভালো থাকার আশা রাখতে পারেন না।

সেই চাওয়া অন্যায়। এই অন্যায় থেকে নিজেকে দূরে রাখুন। এদের কাছে কখনোই ভালো থাকবেন না। 
কোনদিনই ভালো থাকতে পারেন না,ভালো থাকার কথাও না!

মনে রাখবেনঃ

জীবনে যাকে  প্রচন্ড ভালোবাসা যায়,,,
তার থেকে–যে প্রচন্ড ভালোবাসে;
তাকে হারানোর বেদনা অধিক কষ্টের এবং যন্ত্রণাদায়কও বটে!

আজ ভালোবাসার মানুষটাকে না পেয়ে আপনি যে আঘাত পাচ্ছেন, 

নিজেকে তীলে তীলে শেষ করে দিচ্ছেন;
সেই মানুষটাও একটা সময় ঠিক আপনার থেকে দ্বিগুণ কষ্ট পাবে। 
কেবল আপনার থেকে পাওয়া প্রচন্ড ভালোবাসা,যত্ন এবং আদরের কথা মনে করেই,,,

বিশ্বাস করুন,অবশ্যই পাবে!

শুনেছি! 
ভালোবাসা আর সময়;কখনোই কারো কাছে তার দেনা-পাওনা বাকি রাখে না।

খুব সচেতন এই দুই অনুভব। 

সময় মতো সুদে-আসলে সব শোধ করে দেয়!

অতঃপর আপনি?
আপনার উচিত  একটা সময় ঠিকই তার স্বার্থপরতার কথা ভেবে নিজেকে বদলে নেওয়া,,।
 নিজেকে  গুছিয়ে নেওয়া।
কষ্টকে জয় করে নিজে ভালো থাকা শিখে নেওয়াই শ্রেয়!
কারণ দিনশেষে প্রতিটা মানুষ সেই একা। 

নাঃ কোন আফসোস বা দুঃখঃ  আপনার জন্য নয়,

আপনার জন্য শুধুই অপেক্ষা। 
এই সব তোলা থাকুক বরং তার জন্য-যে 
আপনার অসীম ভালোবাসাকে মূল্যহীন মনে করে নিজেকে বিকিয়ে দিয়েছে অন্য কারো 
বাসনায় আর নয়তো চাহিদায়!

হ্যাঁ আমি একাই বাঁচতে পারবো।

তুমি বলেছিলে!

 সমুদ্র  নাকি তোমার খুব পছন্দ, 

কিন্তু কোনোদিন সমুদ্রে  

 আমার সাথে ঢেউয়ে ভেজাই  হলো না!

আমি বলেছিলাম,,

 নীল আমার দারুণ লাগে। 

তোমায় দারুণ মানাবে,,  

নীল শাড়ীতে একদিন আমার সামনে এসো,,,

কিন্তু তুমি কখনোই নীল শাড়ীতে  

 আমার সামনে আসো নি!

তুমি বলেছিলে , 

তোমার নাকি খুব ভয় হয় ,

আমি বলেছিলাম আমি রইলাম তো! 

মন চাইলেই কাছে ডেকে নিও,,,

দেখবে  আর ঐ অনুভব হবে না।

কিন্তু তুমি!!

তুমি  কখনোই আমায় কাছে ডাকো নি।

তুমি বলেছিলে! 

আমি নাকি ব্যস্ত থাকি  খুব,

তাই তোমাকে সময় দেেইনি।

আমি বলেছিলাম,,,
প্রিয়,,তোমার সাথে কথা না হলে আমার দিন শুরু হয় না,,,
 আমার খুব খারাপ লাগে।

কিন্তু তুমি!! 

শুনেও তা না শোনার ভান করে 
 এড়িয়ে চলেছো আমায় !

আমি বলেছিলাম!!!
জীবনে   অন্তত একটা দিন 
তোমাকে জড়িয়ে ধরে 

চিৎকার করে বলবো ,। 

খুব ভালোবাসি প্রিয়"

কিন্তু তুমি নাকি ও সব 

একদম পছন্দ করো না!

তুমি বলেছিলে! 

তুমি আমাকে ভালোবাসো,

কিন্তু!
বলো দেখি "  ভালোবাসার মানুষটার মতো 
ব্যবহার কখনো করেছো! 

তুমি বলেছিলে! 
পৃথিবী উল্টো যাবে তবুও তুমি পাল্টাবে না,

কিন্তু আমি সেদিন  ঠিকই জানতাম। 
সময়ের সাথে সাথে মানুষের চেহারা এবং  স্বার্থপর মন দু’টোই পরিবর্তন হয়।

তুমিও বদলে গেলে যেই স্বার্থে আঘাত হলো।


আমি বলেছিলাম! 
তোমাকে ছাড়া  আমার আর কাউকেই
 ভালো লাগে না,  
ইচ্ছেও নেই,,, 

কিন্তু আমি ছাড়াও তোমার পছন্দের তালিকায় কেউ  ছিলো। 

তাই আমায় পাত্তা দিলে না।


আমি বলেছিলাম,,, 

অবহেলা কর,,,,,,,সময় না দাও,,,,,,,,ভালো না বাসো তাতে বিন্দুমাত্র আফসোস নেই,

কিন্তু প্রিয়,,,,,তুমি   প্রতারণা কর না।


আমি সইতে পারবো না।

অবশেষে জীবন থেকে মুক্তির জন্য তুমি প্রতারণাকেই বেছে নিলে!

বাঃ  বাঃ  চমৎকার! 

আমিও এখন তোমাকে প্রতারক ভেবে 
নিজেকে বাঁচিয়ে নিয়েছি। 

আমি বেঁচে গেছি,,, 

কোনো এক প্রতারক এর হাত থেকে।

আমিও এখন  আবার  সেই একা একা বাঁচতে শিখেছি!

হ্যাঁ, সত্যি আমি একা বাঁচতে পারবো,,,,,

বন্ধু ঘৃণা,,,

বন্ধু ঘৃণা,,,,,
 
       যতটা সম্ভব তুমি নিজেকে প্রস্তুত করে তোলো।

 তুমি সম্পুর্ণতায় পরিপূর্ণ  হয়ে ওঠো।

 যতটা তারাতাড়ি পারো নিজের জন্য নিজেকে ভালবাসতে শেখো বন্ধু ।

জীবনের জন্য এসব খুব প্রয়োজন। 

 দিন শেষে তোমার শূন্যতাগুলো তোমার, 

শুধু তোমার। 

দিন শেষে তোমার কান্নাটা ও তোমার, 
কেউ আসবে না কাঁদতে। 

দিন শেষে তোমার জ্বর আসলে নিজেকে
 তোমারই সামলাতে হয় আর হবে । 

পাশে কাউকেই পাবে না।

সবাই সেই ভাগ্য নিয়ে জন্মায় না।

দিন শেষে  তোমার রাত জাগা গুলো তোমার, 

নির্ঘুম রাতের সেই অভিশাপ তোমাকেই ভোগ করতে হবে।

তাই যতটা সম্ভব নিজেকে কষ্ট দেওয়া বন্ধ করো।

 তুমি যখন কাউকে ব্যাখ্যা দিতে যাও কেউ বুঝতে পারেনা তোমার ভাষা। 

তোমার উপস্থাপনা কেউ বোঝে না। 

তুমি যখন কাউকে ভালবাসতে যাও তোমার মত করে তোমাকে কেউ ভালবাসে না।
 

বন্ধু  এই মুখোশের দুনিয়ায় সবাই মুখোশ পরে তাই নিজের বাস্তবতা  নিয়ে কষ্ট পেয়ে লাভ নেই।

নিজেকে প্রস্তুত করো,, 
নিজের মতো করে কি ভাবে ভালোবাসা যায়।

মনে রাখবে  যে মানুষের কাছে তুমি যতটা প্রত্যাশা  রাখবে,,,

 সে মানুষটা তোমাকে,,, 

ততটাই হতাশ করবে, 

তততাই ভেঙ্গে দিবে, 

ততটাই তোমাকে কষ্ট দেবে। 

এ দুনিয়ায় এটাই নিয়ম রে পাগোল। 

তাই সারাক্ষন জীবনের হেরে যাওয়ার গল্প না দেখে,,,, 
শুধু নিজেকে সামান্য ভালবাসো। 

দিনশেষে তোমার একাকীত্বটাকেই ভালবাসো বন্ধু,,,,। 

এটাই জীবন


আমি সেই ঘৃণার মানুষ,,


 আমিহীনা তোমার প্রতিটি দিন প্রতিটি সময় খুব ভালো ভাবে স্নিগ্ধ ও প্রফুল্ল কাটছে বেশ। 
কাটবে না কেন আমি যে আমার প্রার্থনায়  শুধু তোমার ভালো থাকাটা কামনা করি,আরো কামনা করি আমার প্রতি যেন তোমার মনে ঘৃনার পাহাড় জমে। 
একটা মানুষ কতোটা মানসিক যন্ত্রণায় ভুগলে তার প্রিয় মানুষটাকে নিয়ে হাজার চেষ্টা করেও কিছু প্রকাশ করতে পারে না আমার জানা নাই। 
মস্তিষ্ক কতোটা অকেজো হয়ে গেলে একটা চিরকুট  লিখতে গিয়ে কয়েকশ' বার ছিঁড়ে ফেলা হয় তা আমার বোধগম্য নেই। 

শুনছো তুমি....
তোমার ঘৃণার মানুষ টা  আর আগের মত করে কষ্ট পেলেই কাঁদে না, শত কঠিন আঘাতেও তাকে ভাঙ্গতে পারে না।
 তুমি দেখো,,, তোমার সাথে কথা না বলতে পারলেও  কিন্তু  আমি বেঁচে আছি আমাকে বেঁচে থাকতে হয়, দম বন্ধ করা মূহুর্তেও আমাকে সহ্য করতে হয়। কারণ কাঁধে দ্বায়িত্বের ঝোলা টা আছে। 

আচ্ছা প্রিয়,,  সত্যি কি আমার কথা গুলো শুনতে পাচ্ছো তুমি..?

যদি শুনতে পাও তাহলে বলি তোমার জন্য,,,
 আর শত আকুতি মিনতি করে, 
পায়ে ধরে এই মানুষটি আর অনুময় করবে না
 একটু কথা বলো না প্লিজ..! 
তবে কি জানো সময় একদিন ঠিক ঘুরবে ঘুরবেই আমার বিশ্বাস,
 সেদিন তুমি আমার একটা কথার শুনতে তৃষ্ণার্ত পাখির মতো ছটফট করবে। 
সেদিন তোমার এইসব শত কষ্ট আমাকে আর ভাঙ্গতে পারবে না।
 তোমার দেওয়া উপহার গুলো আমাকে একটু একটু করে গড়ে তুলছে একটা অনুভুতি শূন্য মানুষ হিসেবে।
তবে,,, 
কি জানো তো...
জীবনের মায়া যেখানে থাকে না সেখানে সব মানুষ নিজেকে জীবন থেকে মুক্তি দিতে পারে না
সময়, পরিস্থিতি, আর চারপাশের চাপে।
 কিছু মানুষ অল্প কষ্টে কাতর হয়ে জীবনকে মুক্তি দিয়ে দেয়। 
কিছু মানুষ পাহাড় সমান কষ্ট বুকে নিয়ে স্বাভাবিক ভাবে চলার ক্ষমতা রাখে।

 খুব করে পছন্দের জিনিস গুলো যখন না পাওয়ার খাতায় জমা হয় মানুষ তখন হয়তো পছন্দের তালিকা গুলো চেন্জ করে ফেলে।

আজ তবে এটুকুই  তোমাকে নিয়ে অজস্র কথা অজস্র ব্যথা অপ্রকাশিত রয়ে গেছে।
 হয়তো সে অজানা কথা গুলো কখনো শব্দের রূপ ধারণ করবে না। 
ভালো কাটুক তোমার প্রতিটা সময় প্রতিটা মূহুর্ত।

ইতি,
আমি সেই ঘৃণার মানুষ ,, 


অধিকার,,,

মায়া!

হ্যা তুমি আমার সেই মায়া,,
আমি হাজার চাইলেও ভুলতে পারবো না।
আমায় একটু অধিকার দেবে! অধিকার! 
কিঞ্চিৎ পরিমানে অধিকার দেবে আমায়?
যেমন,,, 
এক মগ চা  হাতে-
প্রতিটি ভোরের সূর্যদয় দেখার অধিকার তোমার সাথে !

অথবা
 প্রতিটি পড়ন্ত বিকেলে-
তোমার আধভেজা চুলের খোপায়-
একটি ফুল গুঁজে দেবার অধিকার!
 হাঃ হাঃ হাঃ ,,,, 
হ্যা হাসি আমার ও পায়,,, 
কি করে ভাবি এই সব?
আসলে আমি সত্যিই তোমার প্রেমের মরা।

যাইহোক আবার  যেমন,,, 

 প্রতিটি রাতে-
বাড়ির ছাদে কিংবা ঘাসের চাদরে বসে- তুমি আর আমি  আকাশ দেখার অধিকার!

হোক না সে আকাশ জ্যোৎস্নাময়ী-
অথবা অমবশ্যায় কলঙ্কিনী!
শুধু পাশে থাকবে  তুমি,, 

থাকবে তো প্রিয়,,,!! 

প্রতিটি সম্পর্কতেই বিশ্বাস থাকুক

সম্পর্ক গুলো  শুধু মাত্র কোনো একজনের অবহেলা কিংবা তৃতীয় ব্যক্তির আগমনের কারনেই নষ্ট হয় না।
 সম্পর্ক নষ্ট হবার মূল উৎসই হচ্ছে বিশ্বাস শব্দটার অনুপস্থিতি।
 যে সম্পর্কের মধ্যে বিশ্বাস থাকে না,সে সম্পর্ক মধুর মতো মিষ্টি হলেও খুব বেশি দিন টিকে থাকতে পারে না।
 হোক সেটা প্রেম,বন্ধুত্ব, আত্মীয় স্বজন বা অন্য কারোর সাথে। 
লক্ষ্য করে দেখবেন বর্তমান প্রেমিক-প্রেমিকাদের সম্পর্কগুলোতে সন্দেহ জিনিসটাকে নিয়ে কি ভয়ানক যুদ্ধ চলে।
 একজন আরেকজনকে কি পরিমান সন্দেহ করে! ফেসবুকের পাসওয়ার্ড দেওয়া নেওয়া না করা পর্যন্ত নাকি সেখানে ভালোবাসা পূর্ণতাই পায় না।
 মূলত বিশ্বাস শব্দটার অনুপস্থিতিতেই সেখানে সন্দেহ, ভুল বোঝাবুঝি, অবহেলা ইত্যাদি শব্দগুলো মাথা চাড়া দিয়ে উপড়ে উঠে।
আর তারই প্রেক্ষিতে মধুর মতো মিষ্টি, ইস্পাতের মতো দৃঢ় সম্পর্কগুলোতেও ফাটলের সৃষ্টি হয় এবং এক সময় তা ভেঙে সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু যে সম্পর্কগুলোর মধ্যে বিশ্বাস নামক শব্দটা উপস্থিত থাকে সে সম্পর্কগুলোর উপর দিয়ে হাজারটা ঝড় তুফান উড়ে গেলেও সম্পর্ক সম্পর্কই থেকে যায়। 
তাই সন্দেহ নয়, প্রতিটি সম্পর্কতেই বিশ্বাস থাকাটা জরুরী।

এখন আর স্বপ্ন নয় লক্ষ্য নিয়ে চলবো,,,

আমার কপাল,ডাই খারাপ!  আমি বুঝি নাই। 
এই তুমি একদিন আমারে ভুইলা যাইবা।
এই কথাডা আমি সত্যিই 
কোনোদিনও বুঝতে পারিনাই,,,,

যে দুই চোক্ষে রাইতের আকাশের তারার মত স্বপ্ন দেখাইলা, আমি স্বপ্নে বিভোর হইয়া আমার পুড়ানো সব স্মৃতি ভুলতে চাইছিলাম। 
আঃহাঃ,,,
আঃ,,,,একবারও আমি বুঝতে পারিনাই,,
তুমি আমারে এই ভাবে ভুইলা যাবা । 

দিনের আলোতে তাঁরা গুলান আর খুঁইজা পামু না।
একদিন আর খুইজা পামু না তোমারে।। 
আমি সেই কথা স্বপ্নেও ভাবতাম না।
আমি বুঝতে পারিনাই তুমি বুকের বাঁপাশে থাকবা ঠিকই, কিন্তু তুমিও বিদায় দিবা আমারে। 
আর মনেই রাখবা না। 
 একদিন তুমি চোখের আড়াল হইয়া যাইবা।

যেমন কইরা ভোর আইলে চাঁদ হারাইয়া যায়,
তুমিও ঠিক তেমন কইরা হারাইয়া যাইবা আমি কল্পনায় আনিনি কোন দিন ।।

আমারে আশা দিলা আমার হইবা,
ভালোবাসার কথা কইয়া মনের ভিতর যায়গা নিলা, 
অথচ আইজ তুমি!!! 
আমার সামান্য ভুলে এতো বড় সাজা দিলে?
অপেক্ষা করো,,,,,
তুমিই হেরেছো,,,,

আমার মনে তুমি থাকলেও তোমার মনে আইজ আমি নাই। 
আমার কোনো দুঃখ নাই। 
আসলে আমার জীবনে প্রেম টা খুব দীর্ঘ সময় থাকে না। অভিশপ্ত জীবনের মানুষ আমি।
তাই আজ থেকে তোমার জন্য অপেক্ষায় থাকমু,,,আর স্বপ্ন গুলা ভুইলা থাকার চেষ্টা করমু।

তুমি সুখে শান্তিতে থাইকো,,,এই তৌফিক রইলো। 

তোমার অবহেলিত ভালোবাসায় আমার জীবন হয়তো......... 

তোমারে ভালোবাইসা আমি তোমারে আর পাইলাম কই? পাইলাম শুধু অবহেলা, অবঞ্জ্যা,  মায়াজালের দরার টানে ছাল ওঠা রক্তাক্ত একটা হৃদপিণ্ড। 
বাঃ চমৎকার। এই বুঝি কপালে ছিলো! 

তুমিও আপন কইরা চাইলা না আমারে 
এহনো আর তুমি আমার নাই ভাবতে গেলেই
আমার চোক্ষের জল যেনো তুফান হইয়া যায়।

সেই তুফানে আমার ভিতর ভাঙে বাহির ভাঙে
তুমি একটুও কি টের পাও?

আমি আইজ হইতে আর স্বপ্নের কথা ভাবমু না এখন থিকা  জীবনের লক্ষ্য নিয়া চলতে শুরু করবো। আর থাইমা থাকলে চলবে না। কাঁধের ঝোলাব্যাগে  বাবা,  মা য়ের দ্বায়িত্ব আছে। 
সুসন্তানের মতো সেই দ্বায়িত্ব আমায় পালন করতেই হইবে। 

এখন থেকে জীবনের মূল উদ্দেশ্য থাকলো আমায় লক্ষ্যে পৌঁছাইতেই হবে। 
যে স্বপ্ন দেইখা নেশায় মগ্ন হইছিলাম ওই নেশা আমায় ত্যাগ কইরা লক্ষ্য, উদ্দেশ্য,, নিয়াই ভাবতে হইবে।

আজ আমার খুব আনন্দের দিন....

আজ মনে হচ্ছে যদি বিধাতাকে সামনে পেতাম জানতে চাইতাম করুন মিনতি করে আর কি কি লেখা আছে ঐ পোড়া কপালে? 

আমায় বলবেন ধর্মাবতার!  

আজ মন চাইছে নিজেকে নিশ্চিহ্ন করে মুছে দেই জীবনের নাম টা।
আমি!  আমি একটা কল্পনার জগতের মানুষ।  আমি এতটা কাল্পনিক স্বপ্ন নিয়ে চলতাম আমি ভুলে গিয়েছিলাম বাস্তবতা আলাদা। আর আমায় ফিরে যেতেই হবে। এটাই নিয়ম। 
বাস্তবতায়,, প্রখরতা,,, অনেক তাপ,, অনেক দ্বায়,, অনেক না পাওয়াই বেশি থাকে। ওই নিয়েই চলতে হয়। আমি ভুলে গিয়েছিলাম এই সব।
কল্পনার জগৎ টা তো নিজের মতো ভেবেছিলাম তাই ওখানে  বাস্তবতার ওই সব ঝামেলা থাকে না।

আজ বলতে ইচ্ছে করছে এই পৃথিবী টা কে,,, 
হে!  পৃথিবী তুমি আমায় আবার সেই হাজার বছরের ঘুমের দেশে আমায় রেখে এসো।
আমি অনেক দিন একটু শান্তিতে ঘোমাই না।  আজ আমার ভীষণ ঘুম পাচ্ছে।  আমায় তোমরা কেউ ডাকবে না।  আমি যদি না উঠি এই ঘুম থেকে তোমরা কেউ আমায় ঘুম ভাঙতে এসো না। 

হে পৃথিবী! "
 আমায় নিয়ে যাও সেই নির্জন দেশে,,, 
  আমি  ঐ খানে থেকে নিজেকে জীবাশ্ম করে রেখে দেবো  আমার প্রিয়র নামে। 
আমি জীবাশ্ম হবো। 
আবার হাজার বচ্ছর পর যখন যখন আমি আবার ফিরবো!  
আমি সেই ঘুরেফিরে আবার তাকেই খুজবো,,,,

আজ বলতে ইচ্ছে করছে তোমাকে ও,,,

ভুল টা ক্ষমা করে আবার আমায় একটা সুযোগ দিতেই পারতে।
নাঃ তাতে খুব ক্ষতি হতো না।
শুধু তুমি চাওনি তাই। 


চাইতেই পারতে,,,  

নাঃ চাইলে না!


আজ এও বলতে ইচ্ছে হচ্ছে আমিই জিতেছি,,,
তুমি হেরেছো,,,তুমি একদম হেরেছো।
আমি সেই ঘৃণা টাই একদিন চেয়েছিলাম।

আমি চেয়েছিলাম আমায় একটা  ঘৃণা করার মানুষ থাকুক। 

আজ আমি পেয়েছি।
  খুব খুশি আজ।
আজ আমার খুব খুশির দিন। 

হ্যাঁ তুমিই ঠিক আমায় ভালোবাসার লোক অনেক আছে।  হ্যাঁ আছে। তারা সবাই থাকবে। ওদের মাঝেই তোমাকে চেয়েছিলাম।  চাঁদের হাট বসলে বুঝতে তুমি ওদের কতো আদরের,,,,

আমার আজ একটা অনেক বড় চাওয়া পুর্ণ হয়েছে। 

ঠিকই তো আজ আমি পৃথিবীর একটা মানুষের শুদ্ধতায় শুধু ঘৃণা!! 

চমৎকার এক নতুন অনুভূতির মধ্যে নিজেকে খুজে পাচ্ছি,,,

আজ আমার খুব আনন্দের দিন। 

নীল কাব্যের স্বর্গ : আমার আমি.....

নীল কাব্যের স্বর্গ : আমার আমি.....: আমার আমি এক পাগোল বটে।  এই আমি টা শুধুই আমার,,  নাঃ তার কেউই নিজের মতো নেই। যে সে বলবে আমার!   আমার যে জগতের বসবাস!   শুধুই কল্পনায় আঁকা।  আ...

আমার আমি.....

আমার আমি এক পাগোল বটে। 
এই আমি টা শুধুই আমার,,  নাঃ তার কেউই নিজের মতো নেই। যে সে বলবে আমার!  

আমার যে জগতের বসবাস!
  শুধুই কল্পনায় আঁকা। 
আমার সেই  জগৎ টা অনেক  আলাদা। 

বিবেক নামের একজন শাসন কর্তার অনুশাসন চলে সেই দুনিয়ায়,,,,, 

 ওখানে বলা হয়- সব সময় বলা হয়,,,

কোনোকিছুই  কঠিন করে ভাবার নেই।
কোন কিছুই  জটিল করো না, 
সব কিছুই  একটা  সহজ সরলতায় 
একটু সচল  সাবলীল রাখো।

প্রতি মূহুর্তে বিশ্বাস রাখো,,,
সকলের উপরে,,
 "এটাই মূল মন্ত্র জীবনের"  । 

আত্মবিশ্বাস না পেলেও 
 বিশ্বাস করতে শেখো,.......

তাতে ক্ষতি হোক! 

হোক তাতে ক্ষতি হোক!"

কিচ্ছু যায় আসেনা,,,,,

 বিশ্বাস করে ঠকে যাও, 
একবার নয়, বারবার। 

তবুও বিশ্বাস করো।


এখানে বলা হয়,,,

ওই,,,,, মানে আমার  দুনিয়ায় ,,,,,

বলা হয় নত হও, নত। 

দেখবে বেচে থাকার আনন্দ পাবে......

ক্ষমা করতে শেখো, 
 সকলকেই ক্ষমা করে দাও,,.......

মন টা দেখবে সব সময় হালকা লাগবে। 
একটু হাওয়ায়  দুলবে প্রকৃতির তালে।

আর....

জীবিনে যদি কিছু হতেই হয়!
তবে!  তবে দয়াবান হও......

তার থেকে মহান কেউ নয়.....

প্রতি মূহুর্তে  পরম শ্রদ্ধাশীল 
দয়াবান হও.....

একবার নয়, বারবার, প্রতিবার।
প্রতিবার!  প্রতিবার।। 

ঠিক এই ভাবেই..... 

সহজ, সরল, সাবলীল ভাবে বিশ্বাস করে ঠকে যাওয়ার মাঝে যেই প্রশান্তি আছে,.... 

ক্ষমা করার মাঝে যেই শান্তি  আছে,.....


 অবিস্বাসে জিতে যাওয়ার মাঝে যেই প্রশান্তি নেই.....

 থাকেও না। 

ওই প্রশান্তি অন্য কোথাও পাওয়া যায় না.....


আমি হেরে যেতে চাই বারবার, প্রতিবার।
 আমি হেরে যাবার মাঝে বিজয়ের আনন্দ খুঁজে পাই.....

আমি সবার কাছে ছোট হয়ে নিজের মনে বড় হয়ে যাই.....

আমি ছোট হতে চাই,
 আমি আরো ক্ষুদ্র হতে চাই,,,,...

আমায় পদধূলিতে মিশিয়ে দাও, 
আমি তোমাদের এ জগৎ থেকে শেষবারের মতোন অন্য জগতে চলে যেতে চাই........

আমি ফিরবো না আর....
      আমি এই স্বপ্নের দেশের
               সমাধিতে  যেতে চাই....
 আমার আজ  বিদায় চাই!  বিদায়। 

জীবন্ত লাশ

আজ আমার ব্যস্ততায় থাকা,  রঙিন  আর কোলাহলে পূর্ণ এই  জীবন টাও থমকে আছে। 

  বাস্তবতায়  ভীড়ে, সেই তোমার  কাছেই , 
কোন কারন আর অকারনের মায়াজালে আটকে আছে। 

চুপচাপ হয়ে  আছি আজ  এতটা দূরত্বের 
 মাঝে দু- জন যেন  ক্ষুদ্রতম কোনে থাকা দুটি বিন্দুর দুই মানুষ আমরা,,,

কথা সব হারিয়ে গেছে,  যেনো  সেই অনন্তকাল আগেই ! 
তারপর আর 
কোনো ভাষার সৃষ্টি হয়নি এখনো।

তারপর আর কেউ কথা বলিনি কখনোই,, 
আর আজ সেই তৃষ্ণায় বুক ফেটে যাচ্ছে।

এখন লিখছি  আর মুছছি,,,, সব হিসেবে গুলো। 

আসলেই আমি অঙ্কে বরাবর ভালো থাকলেও নিজের  জীবনের হিসেবের খাতার নাজেহাল অবস্থা আমার।  
আমি সেই অঙ্ক ভুল করেছি প্রতি বার।
আমি হয়তো তাই ব্যার্থ।।।

অন্য মানুষটারও হয়তো অন্য কোন  অনুভূতি।
জানি না।  যার মনের হদিস পাইনি তার অনুভূতি কি করে জানবো?  না   জানা নেই।


নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শেখা মানুষ গুলোর স্বপ্ন হারিয়ে যাওয়ার ভয়টা প্রকান্ড।
 তালগোল পাকিয়ে যায় সমস্ত কিছু।
আজ যেমন আমি নিজের সব খিচুড়ি পাকিয়ে ফেলেছি। 
এখন   সবাই ঘৃণা করে। অবঞ্জ্যা করে। 
আবার কেউ কেউ গাল দেয়,,, 
অসহ্য লাগে, তবুও মুখ বুজে থাকি।


ক্লান্ত দুটো মানুষ, চুপচাপ। আজ। 

অনুভূতি আছে,,,, 

নেই কোন কথা,, 
নেই কোন  ভাষা,,,,,,,, নেই। 
ওদের আজ নিরবতায় গ্রাস করেছে। 

সমস্ত কিছু অসাড় হয়ে গেছে ওদের।

 ওরা আজ সব হারিয়ে  দ্বিধায়,,, 
কেনো এমন হয়?
প্রশ্ন আছে,  কিন্তু  উত্তর নেই,,,,,

হয়তো উত্তরও আছে, 
তবে সে উত্তরের মাঝে সুখ নেই, 
শান্তি নেই, 
ভালোবাসা নেই। 

জীবন থমকে যায়, 
প্রতিটা সেকেন্ড পরিনত হয় ঘন্টা, দিন, সপ্তাহ, মাস, বছর, কাল, মহাকালে। মহাকালে থমকে আছে সব।

প্রচন্ড কোলাহলে দুটি মন প্রচন্ড নীরব আজ।

নিশ্বাস প্রশ্বাসের ভারী আওয়াজ, বুকের মাঝের হৃদকম্পনটা শোনা যায়,
 কষ্ট হয়।
 প্রচন্ড কষ্ট কয়।

হারতে না জানা মানুষ গুলো হেরে যায়,
 প্রতারিত হতে না চাওয়া মানুষ গুলোও হারিয়ে যায়,,,, 
দূরে বহু দূরে।

জীবন থেকেও নেই হয়ে জড় মূর্তি হয়ে যায়
 কিছু কিছু ব্যর্থতায় ঘেরা স্বপ্নে।

আলো নিভতে শুরু করে,
অন্ধকার, সমস্ত কিছুতে নেমে আসে প্রচন্ড কালো অন্ধকার।
পূর্ণিমায় দেখা যায় অমবস্যার ঘোর অন্ধকার ।

ভয় হয়, কষ্ট হয়,

প্রকাশ করার ভাষা নেই, 
অর্থহীন ধ্বনি তুলবার শক্তি নেই।
শক্তি নেই সেই চিৎকার করে গোটা দুনিয়াকে 

জানিয়ে দিতে,,, প্রিয় আমি তোমায় খুব ভালবাসি। আমি তোমায় ছাড়া বাঁচবো না। তুমি আমায় ক্ষমা করে দিয়ে আমায়, আমায় আবার টেনে নাও তোমার কাছে।
 নইলে,,  নইলে এই আমি টা হারিয়ে যাবো অনেক দূরে.......

আজ আমার.... 
সব কিছু হারিয়ে গেছে, 
  খুইয়ে গেছে আঁধারে।
কিছু বলার ক্ষমতা নেই, 
 কিছু করার ক্ষমতা নেই।
মনে হচ্ছে,, 
জীবন্ত কিছু লাশ পড়ে আছে আমার চারি পাশে,, ওদের শরিরে কি পঁচা গন্ধ,,, আর  আমিও   ওদের সাথেই মিশে গেছি,,,

নিস্তব্ধতায় , নীরবে , চুপচাপ,,, থেমে গেছে এই জীবন। 

আবার আমি মাতাল হবো,,

তন্দ্রা!!!!"
মনে আছে সেদিন ঐ 
স্নিগ্ধ ভোর
 তোমার মাতাল কেশ, আধভেজা  বা  পুরো,
ঘাঁড়ের দিকে  চকচক করছিলো  ফোটা ফোটা জল,,,,,, আর আমার পাগলামির উন্মাদনা। 

মনে পড়ে কিছু? তন্দ্রা!!!!

পড়নে পিংক  সেই  নাইটি    ছিলো তোমার-
ওটার পিঠের দিকটা ভিজে  গিয়েছিলো তোমার পিঠে !
 বুঝলাম,,, , সবে স্নান সেরে এসেছো।

আমি অবাক হয়ে দুচোখ  ভরে সেদিন শুধু তোমার ভরা যৌবন দেখেছিলাম।

কি! নির্লজ্জ আমি তাই না!

সংজ্ঞা পেয়েছিলাম সেদিন  
যৌবনের জোয়ার কাকে বলে?

আমি সেই জোয়ারে নিজেকে ভাসিয়ে দিয়ে আজও দিশেহারা,,,, তন্দ্রা!

সেদিন  পেছন থেকে জড়িয়ে ধরার ইচ্ছেটা দমিয়ে রাখতে বেশ কষ্টই হয়েছিলো, ,, 
সে কষ্ট কেউ বুঝবে না। 
বলিনি কাউকেই।  
কি হবে লাভ নেই। 

তাই!!

তোমার ভেজা চুলে  নাক গুঁজে সুগন্ধ নেয়ার লোভটাও ধামাচাপা দিয়েছিলাম, তন্দ্রা!!!!

 তোমার  জলে ভেজা  ঐ পিঠে ঠোঁট আর জিভের স্পর্শ না দিতে পেরে ওইদিন আমার মৃত্যু হয়ে ছিলো একবার। 

 আর কি বলবো! 

সোনো তবে,,,,,,, 

ঠোঁটদুটো তোমার  বরাবরই সুন্দর ,
আমার খুব পছন্দের,,,, 

ওই দিন সেই  মিষ্টির স্বাদ পাওয়ার  লোভ সামলে উঠতে হিমশিম খেয়েছিলাম খুব রকম!


ওই ঠোঁটে ঠোঁট রাখতে পারিনি বলে বোধহয়-
আজও আমার ঠোঁটদুটো শুষ্কতায় ফেঁটে যায়।
চৈত্রের জমির মতোই,,,, 

ওড়নার  আড়ালে তোমার উন্নত বক্ষযুগল সে কি চমৎকার!!!  
আহাঃ ,,,, চোখ এড়ায়নি আমার,,, 

ওড়না সেদিন  অক্ষমতা প্রকাশ করেছিলো বেশ!
আমি নিজে হাতে কিছুই করিনি।

আমিও উৎসাহ পেয়েছি। 
তোমায় লুকিয়ে দেখতে,,,,,, 

ছুঁয়ে দেখার দুঃসাহস করতে পারিনি তোমায়,,,

 তন্দ্রা!!
নীরবে দেখেছিলাম সব,,,,

দেখেছিলাম ভরা যৌবনের জোয়ার,,,,,, 
দেখেছিলাম কিশোর প্রেমের যৌবনের নেশা।
দেখেছিলাম ওই পথেই তোমার সাথে এই জীবন।। 

নাঃ,,,,,,, 

কিছু বলার ক্ষমতা সেদিন ছিলো না, 
নীরবে দেখেছিলাম সব,,,,
দুচোখ ভরে দেখেছিলাম তোমায়।
কি অপুর্ব তুমি।।

বাড়ি ফিরে বার্তা  লিখেছিলাম -সব,,,
বলে দিয়েছিলাম মন খুলে সব !
প্রতিউত্তরে তুমি রাগ করো নি,,,,
আমি একটু ভয়েই ছিলাম,,,  
পরে অবশ্য,,, 
অবাক হয়েছিলে আমি তোমায় দেখেছিলাম বলে!

আবার বার্তা  লিখেছিলাম আমি,
চেয়েছিলাম তোমার ঠোঁটের মিষ্টি ছোয়া,,,

প্রতিউত্তরে তুমি অবাক হও নি !

বলেছিলে অন্য কোনদিন যদি তোমায় ওভাবে পাই-
তবে যেন জোর করে অধিকারটা আদায় করে যাই! আঃ   আঃ  কি সুখ আমার। 

তারপর? 


তারপর! 

 তোমায় ওভাবে  আর পাইনি কোন দিন,,,

সব এলোমেলো হয়ে গেলো,,,
একদিন তুমি হারিয়ে গেলে,,,, 
আমিও তোমাকে না পেয়ে
পাগোলের মতো ঘুরে বেড়িয়েছি,, 

আমিও হারিয়ে গেলাম আমার স্বপ্নের থেকে,

পরে শতশত নারী দেখেছি, কয়েক জন কে  ছুঁয়েছি! সেখানেও  হারিয়েছি,,,

হ্যাঁ 

হারিয়েছি !

তবে তুমি  বিশ্বাস করবে না  জানি, 

হ্যা  তন্দ্রা!!!!

ওই স্নিগ্ধ ভোরের অনুভূতি কোনদিন আমি পাইনি।

হয়তো আবার পেয়েছি তোমায় !
এই তুমি, আজ সন্ধ্যার সেই তুমি-,,,

সারাদিন  যেন বড্ড অমিলময় ! আজ। 

মুঠোফোনে  যখন রাতে কথা হতো,, সারাদিন। 

গভীর রাতে যৌবনভার সে স্মৃতি সাড়া দেয়,
তখনই প্রতিবার জানিয়েছি বিদায়,
বলেছি-

"গভীর রাতে বড্ড ভুলভাল বকি,
নিদ্রাদেবীর পরশ লেগে যায়।"

তন্দ্রা!!

তুমি যাকে অধিকার বলেছিলে !
আজ যদি সেই অনধিকার চর্চার
 এক চুমুক শুধা আজ  চাই?

চাই তোমার ওই ঠোটের উষ্ণ পরশ?

দেবে আমায়?

তন্দ্রা!!!!!

মাতাল হবো তোমা-য়,  যদি পাই!!!

এই ভেবে ভেবে প্রতিরাতে
                    আমার আবার মৃত্যু হয় তন্দ্রা,,,,,

আমার আকাশ

তুমি গভীর রাতের শেষে; আমার প্রহরী দুই চোখে 
প্রথম সূর্যোদয় ছিলে আমার। কি! অদ্ভুত তার কিরণ। আমি মুগ্ধতায় হারিয়েছি নিজেকে।

তারপরেই ঘটলো অঘটন।  একদিন এক ভুলের দোষে ছেড়ে গেলে আমায়,
তারপর হারিয়ে গেলে।
আর ফিরিলে না। 
আমি অনেক অনুরোধ করেছি।
তুমি সব উপেক্ষা করে হারিয়ে গেলে।


না ঃ আমি হারাতে দিইনি। আমি তোমার অবহেলা নিয়েই ভালোবেসে তোমায় রেখেছি মনের মনি কোটায়।  তুমিই শুধু হারিয়ে গেলে। 

তাই এখন আমার সূর্যোদয় হয় না,
আমার আকাশ এখন সব সময় অন্ধকারে ঢাকা। 
এখন আমি সকাল দেখি না।।
 কারণ তুমি নেই।

তোমার কি এখন মধ্যদুপুর?
চকচকে আলো; চারিদিক রোদ্দুর?
বলো প্রিয় বলো!

বল না! আবার কবে!

বল না!  আবার কবে!
এমন এক সকাল আসবে!
 আসবে জ্যোতির  কিরনে সোনা রদ্রুরের গুড়ি,,
তুইও আসবি।  
আসবি নিয়ে গল্প কথার ঝুড়ি।
বল না!  আবার কবে!,,,,

বল না!  আবার কবে! 

এমন এক সকাল হবে। 
আমরা সবাই আবার  এক হবো 
সেই পথে,,,  
লুকিয়ে দেখবো তোর চোখের ভাষা, 
আর নিজেকে ভাসাবো তোর প্রেমে।
বল না! আবার কবে.....


বল না!  আবার কবে!

এমন এক রাত আসবে। 
সেই রাতের  তিথি কে আমি মিথ্যে করেই কবো!!!!
 বলবো আমায় ভালোবাসি আমি সত্যি করেই কবো!!!
বল না!  আবার কবে!

বল না!  আবার কবে!

এমন একটা সন্ধ্যে হবে 
তুই আমি ঝগড়াঝাটি আমায় গালি দিবি।
আমি সেই চুপটি করে বোকার  মতোই আবার হেসেই গেলাম। তুই তবুও গালি দিবি!!"

বল না!  আবার কবে!

বল না!  আবার কবে!

এমন এক বৃষ্টি হবে। 
আমি ভিজবো শুধু তোর পরশ ভেবেই,,,,,,,
তুই রাগ করবি আমার ছবি  দেখেই 
বল না!  আবার কবে!

বল না!  আবার কবে!

তুই আমি প্রেম করবো,, 
গভীর মগ্ন মনে দুজ,,,ন,,,,, 
ঠিক তখনই,, 
 কোকিলের কুহুরবে বলবো আমি রেগে 
তোর থেকেও আমার প্রিয়'র গলা ভালো,,,, 
বল না!  আবার কবে!

পাড়ি জমানো হলো না এই জীবন

একটা সময়ের পর জীবনের প্রতি চাওয়া বলতে কিছুই ছিলো না। সেদিন অনেক আনন্দ ছিলো, অফুরন্ত সেই আনন্দ গুলো কালো এক মেঘের সাথে কোথায় আজ হারিয়ে গেলো। এখন চাইলেই সেই আনন্দ, গুলোর দেখা মেলে না। এখন চাইলেই ওদের সাথে নিজেকে মিলিয়ে হাসতে পারি না। এখন চাইলেই অতো প্রানবন্ত হয়ে চলতে পারি না।
কারণ!  কারণ!  কারণ, 

আমি স্বপ্ন দেখেছিলাম এই মরুভূমিতে স্বর্গোদ্যান হয়েছে।  আমি সেই উদ্যানে সমাবেশর মধ্য মনি।
আমি স্বপ্ন টাকে ভালোবাসতে শুরু করে দেই।
তারপর একটু  একটু করে আমার প্রতিটি ইচ্ছের সাথে মিশে সেই স্বপ্ন আমায় রঙিন করে তোলে।

আমি আজ এক ব্যার্থ প্রেমিক।  হ্যাঁ শুধু এই টুকুই পরিচয় আজ আমার। 

আমরা চাই জীবনে কেউ  আমাদের একটু  বুঝুক,
আর তাই জীবনের সব একদিকে রেখে 
হয়তো কখনো প্রচন্ড চেষ্টা করি যে এই মানুষটা আমাকে বুঝুক!

অথচ সেই চেষ্টাটুকু আমরা অন্যকে বোঝার ক্ষেত্রে করিনা। না একদম করি না। মাথায় তখন ওই ভুতের উৎপাতে সব ভুলে থাকি।

অন্যকে বুঝতে চাই না।

যদিও বা কালক্ষেত্রে কেউ বুঝতে চেষ্টা করে, নিজেদের দোষে তাকেও গোলমেলে গোত্রের বর্ননা দেই। তাতে ফলাফল ভালো আসে না তেমন একটা।
আর  আমরা যাকে বুঝতে চাই, সে আমাদের বুঝতে চায় না। যে আমাদের বুঝতে চায়, আমরা তাকে বুঝতে চাই না। 

সত্যিই কি অদ্ভুত জীবনের এই খেলা! 
আর শুনে এসেছি এই ভাবেই নাকি চলছে 
জগৎ সংসার।  অনেকেই  বলেছেন না আমি কিছুই পাই নি, এই জীবন থেকে শুরু করে সংসারে মধ্যে। শুধুই মায়া,, মায়ার বন্ধন ছাড়া কিছু নেই।

প্রিয়,,, 
আমি তোমায় বুঝতে চেয়েছি একজীবন,
অবুঝ তুমি, না বুঝেই হারিয়ে গেছো,
পাড়ি জমানো হলো না এই জীবন।

নিজেকে ছুঁড়ে দিয়েছি অচেনায়,,

নিজেকে ছুঁড়ে দিয়েছি
সেই অচেনায় অজানায়!
কোন হিসেবেই রাখিনি,,,,
যদি কেউ পায়! যদি রাখতেই চায়"! 
কি ক্ষতি আর তবে কি বা আসে যায়!!?

নিজেকে সস্তায় বিকিয়ে দিয়েছি
আরো যতো টুকু অবশিষ্ট আছে,
সবটাই বিকিয়ে দেবো আরো সস্তায়। 

এক সময় হয়তোবা
 নিজের বলে কিছুই থাকবে না।
নিজের কোন ইচ্ছে থাকবে না।
নিজের কোন দাবি থাকবে না।
নিজের জন্য সময় থাকবে না।
তবুও নিজেকে বিলিয়ে দেবো,,,

কি হবে! 
 যদি নিস্বাস টাই না থাকে?
তার আগে যা কিছু আছে আমার 
চলার পথে  ছড়িয়ে দিয়ে
 যদি  বর্ষার বৃষ্টির মতো  তৃপ্তি ফিরে পাই ক্ষতি কি!

নিজেকে তো সেই কবেই দেউলিয়া ঘোষণা করে ছিলাম।
না কেউ বিশ্বাস করে নি। 
আসলে ওদের মন ভরে নি। 
ওরা আরো আরো দাও বলে চিৎকার করে আমার মাথা খারাপ করে দিয়ে আমায় আজ পাগোলে পরিনত করেছে।

তাই আজ নিজেকে ছুঁড়ে দিয়েছি 
অচেনায় অজানায়, কোন হিসেব রাখিনি। 
কেউ যদি  একটু  যত্ন নেয়,  একটু ভালোবাসা দেয়! 
আমি থেকে যাবো হেথায় হিয়ায়।

বিদায় প্রিয়,,

নিজেকে নিয়ে ভাবতে বসেছিলাম। 

হ্যাঁ নিজের সাথে দেখা হয়েছে।  
আর দেখা হয়েছে হাজার বছরে বার বার জন্ম নেওয়া একটা আত্মার সাথে।  

আমি প্রতি জন্মের ও মৃত্যুর কারণ দেখেছি। 

ভুল সত্যিই আমার ছিলো।  

আমি প্রতি বার তোমায় তোমার নিরাপত্তায়  রেখে এসেছি। 
আমি এক বারও দাবি করিনি তোমার। 
শুধু আকাঙ্ক্ষায় জন্মেছি একদিন পাবোই।  

এই পাগলের প্রলাপ তুমিও বুঝবে তবে অনেক দেরি আছে।  ওই! ওই! 
আগের মতোই  হবে আমি থাকবো না। 

তুমি খুজবে,,, 

আবার  অল্পতেই নিজেকে থামাতে পারো তুমি। 
থেমেও যাবে তোমার অনুসন্ধান। 
আর আমি তো আনাড়ি,, হাল ধরা টাই শিখতে পারিনি।  
ডুবে ঠাই নিয়েছি অতলে। 

তবে!
আমি অতো ভালো মানুষ নই!  
বলতে পারো হয়তো মনুষ্যত্ব টাই নেই।
বলতেই পারো। 
তবে আমি নিজের আত্মবিশ্বাস কে  ঐ মহাশাগরের মতো বিশাল ভাবি  তাই সেখানে কোন কূল নেই,,দ্বীপও নেই। 
আগ্নেয়গিরি যা আছে ওই অতল তলেই। 

আমার আর ফেরা হবে না। 
 আমি প্রতি জন্মের ফিরে আসার কারণ টা এই জন্মে তোমায় বলতে পেরেছি। 
আমি এই ভাবে কোন জন্মেই বলতে পারিনি তোমায়।
 আমি প্রকাশ করতে পারিনি আমার মনের ভাব। 

হ্যাঁ  এ জন্মে তা পেরেছি   আসলেই কি চাই আমি। 

তারপর আর কিছু থাকে না।  
তাই নিস্বঃ হয়েছি নিজের প্রত্যয়ের কাছে। 
শুধু তুলে ধরেছি তোমায়,  হ্যাঁ প্রিয় তোমায়।


ধুলোর এই পৃথিবীতে আমি আর ফিরবো না। 
আমার আর কোন আকাঙ্খা নেই।

 আমার  আমি নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছি তোমার নামে। 
তাই আমার ওই আমি টার আর কোন দাবি নেই।  
যদি তুমি হীন আমায় থাকতেই হয়,,,,,

আমি ধুলোয় মিশেই যদি পারি গড়ে তুলবো এক উর্বর উদ্যান।  
তারপর যদি ভগবানের কৃপা ও আপনার দয়া হয়। 

হয়তো একদিন এই উদ্যানেই তুমি ফুল হয়ে ফুটবে নয়তো পাখি হয়ে গান গাইবে। 

তবুও  আমি ওই মাটি ছেড়ে আর ফিরবো না।

বিদায় !  ! !... প্রিয়। 

মেঘের কথা

ঘড়িতে সময় তখন সকাল দশটা। 
 আমি আমার মতোই প্রতিদিনকার নিত্যনৈমিত্তিক কাজে ব্যস্ততায় উপযুক্ত স্থানে রেখেছি। 
বলতে পারেন যদিও আমি এখানে প্রতিদিনই আসি। 
প্রতিদিন এখানে দিনের কিছুটা সময় অতিক্রম  করি বিভিন্ন ভাবে।
কখনো কর্মব্যস্ততায়, কিংবা চা  সিগারেটের টানে সাথে প্রকৃতির হাওয়া, অথবা  অচেনা কোন মানুষের সাথে নিজের পরিচয় দেওয়া এবং তার পরিচয় নেওয়া। 
সেখান থেকে অনেকটাই আনন্দ কূড়াই আর তাই আমি এই স্থানের নাম রেখেছি আনন্দপুর। 
 আমি এখানে অনেক আনন্দ পেয়েছি।  
পেয়েছি জীবনের কঠিন সময়ে নিজেকে কি ভাবে পরিচালনা করতে হবে সেই ভাবনার উপযুক্ত পরিবেশ।  
প্রকৃতির এই স্থান আমায় দিয়েছে জীবনের মার্গ দর্শনের বীজ মন্ত্র। 
আমি এই স্থান কে হৃদয়ের অন্তস্থল থেকে কুর্নিশ জানাই। 

আজ এই আনন্দ পুরে আমি যখন পৌছাই। তারপর নিজের মতো নিজের কাজে থাকি। 
চোখ দুটো এঁদিক ওঁদিক কিছু একটা খুজছিলো। না তেমন কিছুই না। 
আবার অনেক কিছুই।  
আমি কথা কেই খুজছিলাম। 
 কই মেয়ে টা কে আজ দেখছি না তো!!!
আজ কি আসেনি? 
এর মধ্যে একটি অচেনা একটা ছেলে পাশে এসে খানিক দূরে বসেছে। 
আমায় ঘনঘন দেখছে আমি সেটা বুঝতেই বাবু একটু ইতস্তত বোধ করছেন। 

তামাটে রঙ,,গায়ের  সাদা চেক জামা নস্যি রঙের কটন জীন্স প্যান্ট হাতে ষ্টীলের বালা সামনে সামান্য কিছু চুল রঙ করা।  
স্বাস্থ্য টা ভালোই  চওড়া কাঁধ,,গোলগাল চেহারা। হালকা গোঁফ বিশিষ্ট এক জন সাধারণ কৌতুহলী মানুষ। 
দেখে মনে হচ্ছে বেশ চিন্তায় আছেন।  

প্রায়  ২০ মিনিট পর কথার আগমন হয়। 

কথা আসতেই তার পাশে গিয়ে বলতে শুরু করলো এতো দেরি কেন হলো?
আমি সেই অনেক সময় আগে এসে বসেছি।

ছেলেটির  পরিচয় আমার আর কিছুই নিতে বাকি রইলো না। 

মল্লিকা!  ইনিই কি সেই লোক টা?  
যার কথা তুমি আমায় বলেছো এই কয় দিন। 


কথা বলতে শুরু করে হ্যা উনিই সেই চা খায়িয়ে দুনিয়ায় জুড়ে বিঞ্জাপন দেওয়া মানুষ।  
আমায় পিসি পিসি করে মাথা খারাপ করে দিয়ে অতো সুন্দর একটা নাম দিয়েছে।  কথা।।।


ছেলেটি আমার সামনে এসে সোজা হাত জোড় করে কাঁদতে কাঁদতে বললো  দাদা নমস্কার আমি জয়দ্বীপ।  বাড়ি মালদা।  
আমি আপনার কথার প্রেমিক। 
 আমি গতকাল রাতে ওর সেথে গল্প করার পর আর বাড়ি ফিরিনি সোজা এখানে এসেছি একটা অনুরোধ করতে আপনাকে। 

আমি ছেলেটিকে  দুই কাঁধে হাত দিয়ে তুলে জড়িয়ে ধরতেই আবেগের আম আরো পেঁকে গেলো।  

বললাম  কি হচ্ছে এই সব? 
আর কেনই বা হচ্ছে? 
এই কথা এই সব কি হচ্ছে??? 
তুমি বলো দেখি এসব কি হচ্ছে??? 

মেঘের মতো উড়ে এসে ভিজিয়ে দিয়ে কি চাইছে? 
 আনন্দ পুরে আজ শুধুই  বৃষ্টিই আসবে??  
রৌদ্দুর উঠবেই না ঘুম থেকে?? 
সে কি ঘোমাচ্ছে আজ?
এই মেঘের এখন উদয়ের কারণ কি? 

ছেলে টি হেসে ফেললো  কি?  আমি ☁ মেঘ!! "
হ্যা আমি উড়েই এসেছি।
  এসেছি  আপনাকে দেখতে।  
কেন জানেন  প্রথমে যখন আপনারা কথা ওর মুখে শুনি মনে হয়েছিলো আর সাধারণ পাচজনের মতো মেয়ে মানুষ দেখলেই খেজুরে পিরিত শুরু করেন।  
তারপর যখন আরো শুনলাম মনে হলো খুব রসিক আপনি। 
তারপর  যখন এই ভাবে শুনতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত শুনতে শুনতে এখন আমার একদিকে ভয় হচ্ছে অন্য দিকে এই ভয় টা কে সামনে থেকে দেখার ইচ্ছে হচ্ছে। 

জানেন দাদা গত তিন দিন ও আর আমি যখন কথা বলেছি শুধু আপনাকে নিয়েই কথা হয়েছে।  
দাদা দুইদিন হলো ও আমায় আমার নাম নিয়ে সুপ্রভাত, শুভরাত্রি বলে না। 
আজ তিন দিন আমার ফোন কল রেকর্ডিং শুনেছি  ও আমায় এক বার নাম ধরে ডাকেনি। 
খুব ভয় হচ্ছে দাদা আমার জীবনের সেই কষ্টের দিন ডেকে এনেন না। 
আমার এই অনুরোধ আপনাদের দুজনের কাছেই।  আমি জীবনের সেই দিন টা সহ্য করতে পারবো না। 
আমার পৃথিবী টা সেদিন ধ্বংস হয়ে যাবে। 
আমি আপনাকে শুনেছি আর ভেবেছি কি করে বন্ধুত্বের প্রস্তাব দিতে হয় পৃথিবীর সকল মানুষকে  আপনার থেকে শিখতে হবে। 
কি দারুণ উপস্থাপনা আপনার।  চমৎকার দাদা।

দাদা আমিও আসবো এই আপনার আনন্দপুরেই আসবো ওর সাথেই আসবো আমাদেরও দেখা হবে এই আনন্দ পুরে।
  কিন্তু অনুরোধ দাদা আপনাদের এই সম্পর্ক যেন শুধু বন্ধুত্বই থাকে। 
আপনারা চাইলে অনেক কিছু করতে পারেন।
  না! আমি কিছুই চাই না।
 আমি চাই আপনাদের মাঝে আমাকেও ঠাই দিন।  আমিও বন্ধু হবো। 
ক্ষমা করবেন দাদা এই ভাবে বলার জন্য।

আমি ছেলে টার প্রতি বিন্দু মাত্র রাগ করিনি। আমি ওর ভেতরে নিজের ছবি দেখছিলাম।  নিজেকে দেখছিলাম।
  ছেলে টার মায়াবী মুখ আমায় কিছুক্ষণের জন্য গভীর ভাবনায় ফেলেছিলো। 

সত্যিই তো আমিও তাকে হারিয়ে ওর মতোই অসহায় হয়ে এখনো আছি। মুখোশের আড়ালে নিজের বুক টা কেঁপে উঠল। 

কথা  আজ কেন জানি না চুপচাপ।
  আজ কথার মুখে কোন কথা নেই। 
কোন প্রশ্ন নেই।
 আজ কথা   কথা হারিয়েছে। 
 কি জানি নিজেকে কি ভাবছে। 
ওর চোখে মুখে একটা নির্বোধ ভুলের ছবি ভেসে উঠেছে। 

দুজন কে দুই হাতে কাঁধে হাত দিয়ে বললাম 
 আচ্ছা!  ☁  মেঘ  তোমার কথা কে নিয়ে ওই খানে গিয়ে বসলে কেমন হয়? তারপর জমিয়ে আড্ডা দেওয়া যাবে। চলো।। ও,,,,ই  ওই  খানে বসি সবাই মিলে। 

কি!  কি নাম বললেন  মেঘ??  আমি মেঘ!!.

হ্যা তোমায় ওই নামেই ডাকবো যেমন আজ এসে আনন্দ পুরের আবহাওয়া বদলে দিয়েছো। 
তাতে তোমার ওই নাম টাই শ্রেয়.....


জানেন দাদা আপনার নাম এতোবার ওর মুখে শুনেছি,,, তা আর কি বলবো???
এক সময় ভেবেছি এই মানুষ গুলো কি পাগোল!! নাকি মানসিক রুগি। কিংবা যাদুকর (ওই মানুষ কে হ্যালুসিনেশনের মধ্যে যারা রাখে)....

রাখতে পারবেন আপনার  কথা আপনি আর মল্লিকা কোন দিন কেউ কাউর ঠিকানা বা যোগাযোগ এর কোন সুত্র রাখবেন না।
  শুধু এই আনন্দ পুরে যদি দেখা হয় তবেই কথা হবে? 
দাদা কি করে এতো অবাস্তব ধারণা এলো আপনার মাথায়?
 কোথায় পান এই সব ধারণা?  
আমার তো সত্যিই  আপনাকে পাগোল মনে হচ্ছে। 
শুনলাম  প্রেমও  করেন।  
তাকে নাকি খুব ভালোবাসেন।  
খুব সুন্দর করে ডাকেন তাকেও। 

ঝিঁঝি পোকা, টুনটুনির বাসা, মোটাভাই, প্রিয়,,  ছুচো, কাকাতুয়া, কথা, সবই শুনেছি। 




হ্যা এবার আমি বলি একটু শান্ত হও ভাই। আমি তোমার ইচ্ছে মতোই আমার কথা আমার কাছেই রাখবো।  
তুমি কোন চিন্তা কোরো না ভাই। 

মেঘের মুখ কালো হয়ে গেলো,,,,
দেখলাম  কথার  চোখে মুখে অন্য এক ঝলক।

খানিকটা হেসে বললাম আমি আমার উপস্থাপনার বাক্যের বিবরণ বলছি। 
তোমার মল্লিকা সেই  কথা নয়। 
এবার ঘটলো চমৎকার  
মেঘের মুখে হাসি দেখে  মনে হচ্ছিল বেচারা  মৃত্যু কালিন মুখে জল পাওয়ার মতো  তৃষ্ণার অবশেষে ঘটলো। 

কি! মেঘ খুশি তো আমার কথায়???

আপনার কথার(মল্লিকা) জন্যই জীবন যাপন করি,, 
আর ওর সাথেই বুড়ো হয়ে এই আনন্দ পুরে আপনার সাথে একদিন,,,
  এক কাপ চা য়ে আমি এই সবাই কে চাই।।।।
তবে হ্যা বার্ধক্যের কারণে সেদিন যদি বাড়ি ফিরতে না পারি আপনার বাড়িতেই সেই রাত্রি বাস হয় যেন। 

মেঘ,,,আমি তোমায় তোমার এই ইচ্ছের একদিন বাস্তবতায় পরিনত হওয়ার তৌফিক ভগবানের কাছে প্রার্থনা করবো।

আমি যেমন বন্ধুত্ব চেয়ে জ্যাকপট  পেয়েছি।  
মানে একসাথে ডবল বন্ধু,,, 

 কথায় কথায় বলে যাই ,,, 
 আমার কথা মেঘের জন্যই রইলো ভাই.......
 তোমরা ভালো থেকো। 

গল্প করো আজ আমি চলি একটু ব্যাস্ততায় আছি। 
 আবার দেখা হবে এই আনন্দ পুরেই।
 যদি সবাই ফিরে আসি। 


তোমাদের এই গল্প টা মেঘের কথা,য় বলবো,,,

ভজে ব্রজৈকমণ্ডন্ম

ভজে ব্রজৈকমণ্ডনম (কৃষ্ণাষ্টকম) [ 1 ] ১. ভজে ব্রজৈক-মণ্ডলং সমস্ত-পাপ-খণ্ডনং স্বভক্ত-চিত্ত-রঞ্জনং সদৈব নন্দ-নন্দনম । সুপিক্চ্ছ-গুচ্ছ-মস্তকং স...