মায়াবতী নীলাম্বরী

মায়াবতী নীলাম্বরী,, 
তোমার নিয়ে  আমার অভিযোগ ছিলো না কোনোদিন,
এ-ই তুমি তো আমার সেই অধিকার যা আমি নিজের ভেতরে ভালোবাসা নামে প্রতিষ্ঠিত করেছি।
 যদি কিছু  থেকে থাকে!   তবে তা ভুলবসত ছিলো।

আসলে ভুলে জর্জতিত এই আমি টা,,,  দোষ তো! আমার ছিলো। আমিই তো তোমাকে একটু একটু করে পর্যবেক্ষণ করেছি তাও তোমার অনুমতি ছাড়াই,,  আমিই ভুল করেছিলাম সেই তখন থেকেই কোন এক পিতার স্নেহ কে আমিও ঠিক করেছিলাম যদি সারাজীবন আগুনে সেঁকতে হয় নিজেকে তাও মেনে নেবো কিন্তু এই নীলা আমিও ওই পিতার মতো সুরক্ষায় ঢেকে রাখবো,,,, 
 আমার জন্মটাও বোধহয় ভুল ছিলো, ভুল ছিলো পৃথিবীতে আসা। কেন যে এক অভিশপ্ত একাকিত্ব নিয়ে একটা মানুষ তোমার মায়ায় জড়িয়ে গেলাম এখন শুধুই অন্ধকার দেখি.....

সখী,, 
আজ তোমার প্রতি আমার কোন অভিযোগ নেই,
 একটু একটু করে তোমায় দেখেছি, চিনেছি, যত চিনেছি, দেখেছি, তোমায় তত বেশিই ভালোবাসেছি। 
এখন তো মনে হয় আমি বিন্দু বিন্দু করে তোমার নামে ভালোবাসা জমিয়েছি মনে.... 

হে! নীলাম্বরী! 
তোমার কোনো ভুল নেই  সবই মায়া!। 
দোষ, ভুল যা ছিলো বা আছে, সবই আমার। 

জানো দিদিমণি , এত্ত এত্ত ভুল! করেছি আমি। 
আমি নিজেই জানিনি,,  আর কখনো পিছু ফিরে জীবন  দেখিনি আমি।
 কেনইবা দেখব!  কেউ ছিলো না,,,
তাই পিছুটান কি বুঝতাম না ।
ছন্দ হীন একটা মানুষ ছিলাম। 
  ভুলের স্রোতে ভেসে চলেছি অক্লান্ত বিরামহীন । 
সাগর থেকে নদী, নদী থেকে খাল, একের পর এক পাড়ি জমিয়ে চলেছিলাম,, তারপর  তুমি!  
আমি এখন হৃদয় পর্যন্ত কোন সম্পর্ক নেই বলি না,,,
নীলাম্বরী সেখানে সব সময় থাকে। 
দুনিয়ার কেউ তা কেড়ে নিতে পারবে না। 
এখন তো নিজেকে দেখলেও হাসি পায়। 
এতো ভুলের মাঝে আজকাল আমি আমায় খুঁজে পাই না আর। 
এত্ত ভুলের মাঝে কি করে নিজেকে খুঁজে পাই বলোতো! হারিয়ে ফেলেছি নিজেকে বোধহয়। 
বিশুদ্ধ নেই এখন আর। 
অশুদ্ধ আমি।
 প্রচন্ড অশুদ্ধ।
মাঝে মধ্যে মনে হয় আমি পঁচে  গেছি। 
আজকাল ভুল গুলো কি বেড়েই চলেছে? 
আমার ভুল গুলো তোমার কষ্টের কারণ, একের পর এক। 
মায়াবতী!
 তুমি এত বিশুদ্ধ কেনো? 
তোমার কোনো ভুল নেই কেনো? 
তোমার প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই কেনো?

প্রশ্ন আছে, উত্তর নেই। উত্তর অবশ্যি আছে। সে উত্তর না হয় নাইবা দিলাম। ক্ষতি কি? সবজান্তা ছিলাম না, হতেও চাইনি কোনোদিন। তাই হয়তো কোনো এক বোর্ড পরীক্ষায় জানা উত্তরও ছেড়ে দিয়ে এসেছিলাম সময় থাকতেও। তোমার বিশ্বাসযোগ্য উত্তর দেবার ক্ষমতা যখন নেই, সে উত্তর কি করে দিই বলোতো?

মায়াবতী,
তুমি মহামানবী।
সাধারণ নও। আগে কোনোদিন সাধারণ ছিলে কিনা জানি না, তবে এখন তুমি দেবী। আমি যে সামান্য, নগণ্য, তুচ্ছ। তোমায় ভালোবাসা দিতে গিয়ে পরাজিত, লাঞ্চিত হয়েছি প্রতিবার। প্রতিবার তোমার কষ্ট হয়ে।

মায়াবতী,
আমি বোধহয় ভালোবাসতে জানি না। দেবীকে সবাই ভালোবাসতে পারে? বলোতো? আমি যে দেবতা নই!
আমি সাধক হয়ে কি তোমাকে ভালবাসতে পারিনা!  তোমার কষ্টের স্রষ্টা হয়েছি প্রতিবার, শতবার, সহস্রবার। আমি যে নগণ্য। অতি নগণ্য।

একা একা পৃথিবীর কোনো কোনায়, কোনো একবিন্দুতে আজকাল পড়ে থাকি। গুটিশুটি মেরে। ভয়ে কম্পণ তুলি। এই বুঝি তোমার বিদায়ের পালা।

জানো মায়া!
আমি চুপচাপ হয়ে গেছি, অনেক। এখন আর কথা বলতে পারি না। নিকোটিন শুষে শুষে খায় আমাকে, একের পর এক। এখন আমি লিখতেও পারি না। ভুলের ভিড়ে মস্তিষ্ক অকেজো হয়ে পড়েছে বোধহয়। 
তোমায় দেয়া কষ্ট কুঁড়ে কুঁড়ে খায় আমাকে। 
কষ্টপোকা সব খেয়ে ফেলেছে গো, ভিতরটা কেমন ফাঁকা ফাঁকা! সব শূণ্য হয়ে গেছে বোধহয়। ভেতরটাতে নেই, কিচ্ছু নেই। হারিয়ে গেছে সব, খুইয়ে ফেলেছি সব। আছে শুধু পাহাড় পর্বত ভুলের রাজ্য। ওই রাজ্যের আকাশটাও ভুল। শুধুই ভুল।
শুধুই ভুল,,, 
আমি পারিনি! 
আমি তোমার তুমি হতে পারিনি, আমি তোমার ভালোবাসা হতে পারিনি। হয়েছে কেবল ভুলের পরিনামে পাহাড় পর্বত কষ্ট। আর কতো সইবে? যেখানে ভালোবাসা নেই, যেখানে শান্তি নেই, যেখানে তোমার মন নেই, সেখানে কেনো পড়ে রইবে? কতকাল পড়ে রইবে?

আমি বসে বসে ভয়ে গুটিশুটি মেরে অপেক্ষার প্রহর গুনি, এই বুঝি সময় শেষ, এই বুঝি হারিয়ে যাওয়ার সময় হলো। চুপচাপ, প্রচন্ড চুপচাপ। অভিশপ্ত এই আমি থেকে অচিরেই চলে যাবে। বসে বসে সেই প্রহর গুনি। এই বুঝি অবসান! এই বুঝি শেষ, সব শেষ। কষ্ট হয়ে না থাকাটাই বোধহয় শ্রেয়। ভালোবাসা না হতে পারি, অন্তত কষ্ট টা তো আর হবো না! ওটাই শান্তি।

তোমায় ফিরিয়ে দেবার ক্ষমতা আমার নেই, তুমি যে দেবী! দেবীকে ফিরিয়ে দেবার সাধ্য আমার নেই। তুমি চলে গেলে তোমায় আটকে রাখার সাধ্য আমার নেই। অত শক্ত কিছু নেই আমার মাঝে যে তোমায় আটকে রাখা যাবে। একজীবন।

মায়াবতী,
আরণ্যক বসুর মতো আমার আর দ্বিতীয় জন্ম হবে না। আমি আর জন্মাবো না। এই জন্মের ভুল গুলো পরের জন্মে শুধরানোর কোনো সুযোগ নেই। এই জন্মের দেবী-মানুষ দূরত্ব কমানোরও কোনো সুযোগ নেই। পরের জন্মে বাউল হতে পারবো না, তোমায় নিয়ে গান বেঁধে মেলায় মেলায় ঘোরার সুযোগটাও নেই। আমার একটাই জন্ম। এই জন্মটাই অভিশপ্ত।

এই মজার বিষয় কি জানো? আরণ্যক বলেছিলো এই জন্মের পরিপাট্য সবার আগে ঘুঁচিয়ে দেবে। উনি মনে হয় জানতেন না বিশৃঙ্খলা থেকেই ভুলের শুরু হয়।

আরণ্যকের দেখা যদি পেয়েই যাই মৃত্যুর আগে বা পরে, বলে দেবো, আর যাই করুক, ভুল যেন না করে, না একবার, না বারবার, যেনো শিখতে শেখে।

মায়াবতী,
আমি আর জন্মাবো না, না এই জন্মে, না পরের জন্মে। নতুন আমার জন্ম হবে না কোনোদিন। নাটকীয়তা, বর্বরতা, রুক্ষতা আর লক্ষকোটি ভুল করে আমি মরে গেছি। এই ভুল শুধরাবে না।

যদি চলে যাও,
তবে জেনে রেখো,
তোমার ভুল ছিলো না কোনো,
ভুল যা সব, আমারই।
অপরাধ যা সব, আমারই।

তুমি নিষ্পাপ ছিলে, আছো, থাকবে।
তুমি দেবী।
তুমি মায়াবতী নীলাম্বরী…...

খিদে.।।



এক সাথে নয়" কিন্তু একই আকাশে নিচে এমন সন্ধ্যায় একটু না হয়  তুমিও ভিজলে! 
সে না হয়   নাই-বা ভিজলে আমার সাথে,, 
তবু্ও তো ভিজলে! 
নাইবা  হলো দূর্বা ছোঁয়া মল্লিকা বনের,, , 
 নাই বা হলো!  
 মালতী মাধবী কোমল বাহুতে স্পর্শের পিপাসা,,, 
নাই বা হলো ঝুমুর ফুলের মধু তুলে ধরা,,, 
কাঠগোলাপের পিঁপড়ে কামড় হয়তো সেদিন পাবো না!
যে বায়ুথলী ক্ষয়ক্ষতিতে আমি শেষ হয়ে যাবো! তাকেও সেদিন হৃদমাঝারে গৌড়াধিপতি করে বেঁধে রাখবো,৷  
কতো গল্প খাওয়া,,,, ও সব কিছুই না! না!  
 সোহাগ কাদায় মাখামাখি তুমি আর আমি,,,
হারিয়ে যাওয়া;,,,অচেনা দিগন্তে,,,
  পাহাড় থেকে ঝাপিয়ে শ্রীরুপ নদীর জলে নাই বা হলো স্নান...  
হবে না সেদিন ইরা পিঙ্গলা সুষুম্নার মহা মিলনের ত্রিবেণী সঙ্গত.... 
জ্বালামুখীর আগুনে না হয় নিজেকে নাই!  বা সেঁকলাম,,  
তো! 
মায়ায় ভরা চোখের নীল আকাশে নীলাম্বরী কে না হয় নাই বা আবার দেখা হলো!
তবুও একটু বৃষ্টি ভিজো,,,  না-ই বা ভিজলে আমার সাথে,,,, 
শুধু কোনো এক মন খারাপের রাতে,
আকাশ দেখে আমায় ভেবে,
একটু হেসে দিও।
ভালোবাসি  প্রিয়,,, নীলা 👰
তাই! একটু  ভালোবাসা দিও,,,
মিটিয়ে দিও এও আমার আজন্মের এই খিদে,,,
তবুও একটু বৃষ্টি ভিজো প্রিয়👰...
..

অপেক্ষায়!



আমি বৃষ্টি ভেজা সকালে  সুখ-দুখ নিয়ে
খোলা জানালায় হাসিমুখ...

দেখি উড়ছে কিছু চাতক চাতকী 
মেঘ মনের অন্ত্রে... 
কোথায় আছিস বন্ধু রে!
আমি খোলা  জানালায়.....

জানালায় ছিলো বৃষ্টির ছোয়া যেই না আমার লাগলো! 

মনের সব উদাসীনতা মেঘ ভেসে গেল বহূদুর...
বহু দূর,, 
ও! মেঘ 
আমার বাড়ির পশ্চিমে  নগরের প্রিয় চিরকুট-হয়ে জানান দিও আমার নীলা! কে
আমি বৃষ্টি ভিজছি,,,৷ 
আর কাঁদছি,, কেউ দেখলো না! 
কেউ না!


সবাই বললো আমি শিশুর মতো,,,
 কিন্তু কেউ একটু আদর করলো না!  

আদর করবে কি করে আমি তো ভিজে গেছি,,,
 আমি যে কেঁদেছি কেউ দেখেনি,,, 
হ্যাঁ এখন ভালো আছি। 
মাঝেমধ্যে এমন বৃষ্টি আসলে আমিও একটু আবার ভিজবো,,, 
মনে হয় সব  কষ্ট জীবন ছেড়ে পালায়।

তুমি চেয়ে আছ তাই আমি পথে হেঁটে যাই,
হেঁটে হেঁটে বহুদূর, বহুদূর যেতে চাই।
বহু দূর..... 
মায়াবী নীরবতার মায়া সূতোয় হাত কেটেছে 
 তাই হারিয়েছি ঘূড়িরে,(মন)
উড়বে আকাশে বলবে নিঃশব্দে
রয়ে গেছি অগোচরে।
 কথার পাহাড় জমেছে  তবো ক্ষয়ে-- ক্ষয়ে যায়, 
এক ভিখারি  আজো আছে তবুও  অপেক্ষায় ...
        








ইন্দুবালা!

আমি ইন্দু কেবললাম আমি কি তোমার প্রেম! 

ইন্দু বললো না!  

তুমি আমার তার থেকেও প্রিয়!


ও! আচ্ছা!',, 
কি জানি প্রেমের থেকেও প্রিয় কিছু আছে নাকি! 
আমি জানতাম না।
 এইমাত্র জানলাম সত্যি বলছি। 

দেখো মাষ্টার মশাই...
  তোমায় আমি সব দিতে পারবো কিন্তু আমি বা তুমি আমরা কেউই যৌবনের দোলায় দুলতে দুলতে সব সব রঙ মিলেমিশে এক হতে পারবো না।
  যৌবনের অমৃত সুধা  আমারা কেউ পাবো না।
 আর তুমি তা' চাও না। 
চাইলে তো কবেই চাইতে!  
তুমি কেন চাও নি!? 
 তবে আজ তো প্রেম হতাম তোমার। 
নারী সম্পুর্ন হয় পুরুষের বুকের ওপর,,, 
বলো!  তুমি কি তা চাইতে পারবে!? 
 না আমি দিতে পারবো!  
আমি তো!
 তোমার পবিত্র মৌরিফুল,,, 
 তুমি কি তার মন্থন করতে পারবে ভ্রমর হয়ে?! 

তবে কি করে!? প্রেম! 

হু তোমার তো!  
আবার নন্দিনী  আর  চন্দনা পছন্দ,
  সব ভাসা ভাসা আর কি যেন বলো!  গর্ত গর্ত,,  আঁকাবাঁকা রাস্তা,,  গোলাপের পাপড়ির মতো,,  পটল চেরা চোখ আর উল্টানো নৌকার মতো!  কি সব,,, 
অসভ্য ছেলে একটা তুমি... 

ও! মাষ্টার!!  
তবে তিথি-ই তোমার প্রেম ছিলো,,,  
দেখবে আর কেউই সেই প্রেম তোমায় দেবে না...
আজ ও থাকলে তুমি খুব খুশি থাকতে এমন বাউলিয়ানা ভাবে থাকতে না,,, 

কিন্তু আমি ভালো থাকতাম না,, 
যদি তোমায় ও-ই সময় না পেতাম।  
হয়তো মরেই যেতাম এতো দিনে,,৷ 
এ-ই জন্যই তো বলি তুই আমার......

 কি!:😁 ,,, 

প্রেমের থেকেও মধুর সম্পর্কের মানুষ তুমি।। 

তুমি আমার অনেক ভরসার অটুট একটা মানুষ।। 

তুমি আমার মাষ্টার মশাই,, 
 গুরুদেব,,  
রোজ সন্ধ্যায় ঠাকুর ঘরের কাজের মধ্যেও তুমি মিশে থাকো,, 
গুরুর নামের মধ্যেও তোমার নাম মুখে আসে,,,  
ঠাকুর কে বলি তোমায় যেন ভালো রাখে,,, 
আমি তো তোমার সেই মৌরিফুল,,,,  
তাই না! 
তারপর  ইত্যাদি ,,
 তারপর বোকা★★... 
আরো অনেক কিছু... পিরিতের,,, কি যেন!
ও! মাষ্টার এই মাসে তোমার কথায় একটা ভালো উপকার হয়েছে,,, 
 কষ্ট টা অনেক কম হয়ে এ মাসে,, 
আমি ভুলেই গিয়েছিলাম তোমায় বলতে,,, 
ওই!! চুপচাপ কেন!  বুঝলে,,  কিছু? 

কিন্তু প্রেম না... মাষ্টার মশাইর,,

আমার সব থেকে খুশির আনন্দ...
মন খারাপের ওষুধ... 
 দীনবন্ধুর মতো.... তুমি... 
কিন্তু কেউ না... 
ভেবেছিলাম মেয়ে টা তোমায় দেবো,, 
তোমার বউমা করবে,, আমি মরলেও নিশ্চিন্তায় থাকবো শ্রীতমা,,  
তোমার কাছে তোমার মেয়ে,,, 
তুমি শালা এখনো বিয়ে,, টাই করলে না,,,
 আবার প্রেম মারা_ ★তে এসেছ,,! হু 

কি বলো মৌরি!  


প্রেমের থেকেও মধুর.... এমন কি আছে,,!  

তবে তুমি আমায় মাষ্টার মশাই,, , তারপর ওই কথা টা,,, ওই যে অসব্য ভাষা টা কেন বলো?


ওরে,,বোকা*★ তুই আমার বন্ধু রে,,,
  বন্ধু,,,, 
বুঝিস না!  তুই কতো দামি! আমার,,, 
  তোমায় আজ আবার তুই বলে ফেললাম  ভুল হয়ে গেছে মাষ্টার মশাই। 

ও!

  তবে বুঝলি ইন্দুবালা!
  ঐ দিদিমণি ও যদি এই ঠিক তোর মতো বন্ধু হয় আমার আর কিচ্ছু চাই না... 
এই ঝিঁঝিঁ পোকার মতো দুই মাস তিন মাস পরে পরে একটু কথা বলবে। 
আর যখন বলবে ঠিক ঝিঁঝি পোকার মতো থামবে না। 
আমি নূপুরের এই পাড় থেকে নিশুতি রাতের মতো নিরবে  শুনবো!! 
ঠাকুর আমার দিদিমণি কেও আমার এমন একটা গোলাপ ফুল করে দাও! 
আর সেই জন্যই তো গাছ টা কেও সখী বলে ডাকতাম,,, 

ও! ওই বা★,, ভালো কথা,,
তোমার দিদিমণি'র কি খবর  দিদিমণির!?
ভালো আছে!  
কথা বলে!  
তোমায় ডাকে কাব্য বলে!
কি বলে!  এই কাব্য! কেমন আছো? 
নাকি বলে!  কাব্য একটা কবিতা সোনাবে! আচ্ছা তোমার লেখা দিদিমণির পছন্দ হয়! 
কিছু বলে না!  
দিদিমণির,, সত্যিই কি কপাল,,, 
তুমি আমারও না আবার  দিদিমণিও তোমার না,,  
কিন্তু তুমি!  তাকে ভালোবাসো!  
তবে হ্যা তোমার নীলাম্বরী সত্যিই খুব মায়াবী.. 
আর তুমি এই জন্যই এখন আর গান শোনাও না,,,আমায়...

গাইবে,,, একবার,, ইন্দুবালা গোঁ তুমি কোন আকাশে থাকো... 
ও!  মাষ্টার মশাই!  
গাও! না! 'শুনবো,,,,,

পরে কথা হবে রাখছি এখন,,, যাই....

২৬ শে অক্টোবর সন্ধ্যেবেলা,,,,

পোঁড়াবাসি! 
চলো একদিন দেখা করি আমরা। 
পাশাপাশি বসি তুমি আমি কিছুটা সময়।
চলো  ভুলে যাই তুমি কার কিংবা আমার উপর এখন কার অধিকার। 
কিছু কথা হোক আমাদের, যা জমিয়ে রেখেছে নূপুর  নিজেদের মাঝে খুব গোপন করে বহুদিন ধরে।

 ভুল বোঝাবুঝিগুলোকেও না-হয় এই সুযোগে চুকিয়ে নেই আমরা চল! যাই নদীর ঘাটে,,,, 
বেরিয়ে আসি একে অন্যের দাবি-দাওয়া থেকে।

ওই তো!  দুই কাপ চা শেষ হতে ঠিক যতটা সময় লাগে, সেই সময়টুকু দিলেই চলবে আমার।
 এর চেয়ে বেশি সময় কিংবা তোমার সঙ্গ চাইব না আমি।
 কারণ যেখানে অধিকার হারিয়ে যায়, সেখানে আর ধরে রাখার কি'বা বাকি থাকে বলো ? 
তা বুঝতে নিশ্চয়ই ভুল হওয়ার কথা নয় আমার। 
তাই বিদায় নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই তোমার। 

আমাদের দেখে ঘাটের অন্য সবাই ভাববে ওরা যুগের পর যুগ ধরে কি প্রেম করছে,,, কে!  জানে?  
আমরা ওদের কথা কানেই নেবো না,,, 
বল! পোঁড়াবাসি বলো,,, তুমি কি আসবে!?  
আসবে!?

মন হালকা করে আবারও উঠে পড়ব দু'জনেই।
 হাঁটা ধরব আলাদা দুই পথের দিকে। 
তোমার ঠিকানা হতে চাওয়ার আকাঙ্খা থেকে বেরিয়ে এসে আগাবো আমি বর্তমানের বাস্তব ঠিকানার দিকে শঙ্খচিল হয়ে,,, । 
তুমিও এগিয়ে যাবে! হ্যাঁ তুমিও এগিয়ে যাবে  তোমার  গড়ে নেয়া নতুন ঠিকানায়। 

 আবারও মুখে এঁটে নেব নকল হাসি, নতুন করে ভুলে থাকার অভিনয় শুরু হবে আবার । চলবে  এমনটাই চলবে,,, আবার হয়তো শতাব্দী পর  তুমি আর আমি এইভাবেই মিলবো!  আবার কোন নদীর চরে কিংবা কোন ধূ-ধূ মাঠের ওপাড়ে,,,, 
আবার! 'দেখা হবে!  
আবার এক কাপ চা! 
আবার ওই টুকু সময়! 
আবার একটা নূপুর এক শতাব্দীর বেচে থাকার অমৃত সুধা!

জানি এই দেখায় তৃপ্তি হবে না, তৃষ্ণা মিটবে না। জন্মজন্মান্তর,,, 
 বিদায় দিতে বা নিতে মন চাইবে না!
 তবুও চলো দেখা করি! 

২৬ শে অক্টোবর সন্ধ্যেবেলা! 

.

_তবুও চলো দেখা করি... 

চলো!  দেখা করি! 

নীলাম্বরী👰

যা আমার না! তা!  আমার না..
আমার জন্য উত্তম না!
তা আমার পছন্দের- প্রিয় হলেও আমার না! 
আমার না! 
সেটা আমার হাতের নাগালে -সন্নিকটে অবস্থানরত থাকলেও আমার না! 

আমি হাজার বার চাইলেও সেটা আমার না এবং আমার হবে না কখনো!  কোনদিইইইইইন না,,,,,, 

আর যা আমার হবেই না সেটার জন্য আমি নিজেকে নিঃস্ব করে দিবো!  
এ সব কি অদ্ভুত বেচে থাকা! 
যেন প্রাণ আছে অথচ ভিতরে পঁচে গেছে বিকট গন্ধে কেউ সামনে যায় না!

এই ভাবে! তিলে তিলে ধ্বংস করতে থাকবো নিজেকে!
এও কি সম্ভব!  
 আমার  যেটা পাবো না সেটার জন্য দুর্বল হয়ে অসুখে আক্রান্ত থাকবো!  এমন টা হলে কি সার্থক হবে!
না!  না! নাহ! 

নাহ! বরং  মহা ময়া  নীলাম্বরীর পরিকল্পনা অনুসারে নিজেকে  আরো মজবুত করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে থাকবো।
 যতক্ষণ না তিনি চাইবেন নিজেকে চলমান গতিতে চলিয়া যেতে হবে... যেতেই হবে!  
আমরা যখনই ঈশ্বরের  বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো কিছুর প্রতি আকৃষ্ট হই -আসক্ত হই!  ঠিক তখনই তিনি  আমাদের বুঝিয়ে দেন উনার উর্ধ্বে যাওয়ার পরিণতি বরাবর আমাদের জীবনে অসুখ বয়ে আনে! 
নিশ্চয়ই তিনি আমাদের জন্য সব পরিকল্পিত রূপে রেখেছেন।
 তাহলে আমরা উনার পরিকল্পনাকে পরিবর্তন করি কিভাবে?  নাহ!
সুতরাং অপেক্ষা করতে হবে,  পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অপেক্ষা, তিনি আমাদের জন্য যা নির্ধারণ করে রেখেছেন সেটা পাওয়ার অপেক্ষা! 
অপেক্ষা শেষে যদি তিনি আমাদের জীবনে সুখ শান্তি প্রদান করেন তাহলে কৃতজ্ঞতা  জানাবো আজীবন,  আর যদি এতো ধৈর্য্য এবং অপেক্ষার পরেও ভগবান  আমাদের জীবনের অসুখ অশান্তি মিটিয়ে না দেন তবে বুঝে নিবো আমরা পৃথিবীর জীবনে পরকালের জন্য খাজানা-গুপ্তধন জমিয়ে রাখছি এবং স্রষ্টা নিশ্চয়ই সেই জমানো খাজানা -গুপ্তধন আমাদেরকে আরো উত্তম উপায়ে ফিরিয়ে দিবেন যা আমাদের পরিকল্পনা এবং প্রত্যাশার চাইতেও হাজার গুণ উর্ধ্বে। 
সেদিন নীলাম্বরী বিষাক্ত নীল এই নীলাক্তে'র....
সেদিন!  নীলাম্বরীর 👰 নীল... 

প্রিয়! নীলাম্বরী👰

কিছু কিছু মুখের আদল এতো মায়াবী  বুকের মধ্যে দাগ কেটে যায়,
বুকটা ধড়ফড়িয়ে ওঠে প্রচন্ড রকমের আবেগ ওঠে, 
দেখে মনে হয়, সেই মায়াবী নীরবতা  আমার কত্ত আপন!
এই তুমিই তো শতাব্দী শতাব্দী ধরেই আমার ছিলে!

তাই না?  নীলাম্বরী👰.....

তারপর মশার কামড়ে  বাস্তব জ্ঞান ফিরে পাই,,,
আমি স্বপ্ন দেখেছি..... 

বুঝতে পারি, এই তুমি আমার নও!
 তুমি অন্য কারো, হ্যাঁ তুমি আমার নও!

এমন আদলের কেউ আমার ছিলো, একদিন ছিলো! 
ভালোবেসেছিলো হয়তো, খুব ভালোবেসেছিলো৷ তারপর!  তারপর  কি যেন হলো আমার আর কিছু মনে নেই......
শুধু ভালোবাসা ছিলো ভালোবাসা... 

বুঝতে পারি তুমি আমার নও!

তবে কষ্ট পাওয়ার মতো মনের গভীরে
আরো একটা তিথির  আদল দাগ কাটে,
 স্থায়ী হয়.... 
দূর্বলতা বাড়ে, হৃদয়ন্ত্রে  আদলটা দাগ কেটে থাকে।
তবু মুখ ফুটে বলা যায় না—
"ভালোবাসি, ভালোবাসি ভীষণ!  প্রিয়! নীলাম্বরী 👰

নীলাম্বরী!

জানি তুমি ডাকলে  সাড়া দাও না তুমি বাইরে থেকে এমনই।
তুমি সাড়া না  দিলেও যেমন  অনেক বার 
তোমার শহরে হেঁটেছি মনে-আনমনে,,  জানি তোমার মনে আছে। খুব ভালো মনে আছে তোমার। 
সেই  যন্ত্রণার পদধ্বনি শুনতে পেয়েই তুমি বুঝে যেতে ওই ডাকাত আবার হানা দিয়েছে। কিন্তু তুমি  কখনো ফিরে দেখোনি,,,,  আমি!  আমি  চাইতাম 
তুমি কখনো  ফিরে তাকাও,, একবার!  একবার তাকালেই আমি ধন্য....

তুমি কাছে না ডাকলেও বারংবার 
তোমায় পাশে দেখতে   অনেক  পথ হেঁটে গিয়েছি 
যদি তুমি একবার ফিরে তাকাও।
তুমি না বললেও প্রতিদিন পড়ন্ত বিকালে এসে পথের ধাড়ে অপেক্ষা করেছি,,, এখন অপেক্ষা করি।
যদি তুমি ভুল করে এসে কাছে দাঁড়াও। 
একবার!  হ্যাঁ ঠিক একবার.... 
তুমি না চাইলেও প্রত্যেক পূর্ণিমার 
রাতে সব ইচ্ছে এক  করে  খোলা মাঠে 
দাঁড়িয়ে  চাঁদ দেখি  আর ছুয়ে দেখার স্বপ্নগুলো চাঁদের কাছে বলি। অপেক্ষায় থাকি যদি কোন পুর্নিমা রাতে বকুল ফুলের   মালা গিঁথে দাও আমার গলে।
তুমি না চাইলেও আমি সারাজীবন
 এভাবেই অপেক্ষা করে যাব! 
আমি এভাবেই তোমাকে 
অনুভব করে যাব.....

ওকে কেন "মা" বলি!

ও এসেছিলো অনেক আগেই মায়ের মতোই চুপচাপ শুধু দিন গুলো একটা একটা করে কাটিয়েছে,,আমার সাথে বন্ধুর মতো,, , 
তারপর একদিন কথায় কথায়,, বলে ফেললাম তুমি তো ঠিক মা''এর মতো,,,  কোমল,,,  তুই!  

মরিচিকার পেছনে ছুটে বেড়াতাম পাগলের মতো।
 মনে করতাম আমার স্বর্গ,, কিন্তু না আমি নির্বোধ ছিলাম। আমি স্বার্থের নরক কে অন্যের চোখে দেখে বিশ্বাস করে ছিলাম স্বর্গ,,, 
  সেখানে ওই চালাক মানুষ গুলো তার নাম শুনতেই ত্বেলে বেগুনে জ্বলেপুড়ে খাক হয়ে যেতে লাগলো। পরিস্থিতি যখন তাকে সেই স্বার্থের নরকের দ্বারে নিয়ে গেলো সেদিন "মা" আমার জন্য ভীষণ অপমানিত হয়েও যোগ্য জবাবে সেই স্থানে নিজের নাম টা প্রকাশ করেছিলো,,, 
সেইদিন থেকে আর অন্যের উপর নয় নিজের ওপর নিজের বিশ্বাস অটুট হয়েছে,,,,, তখন থেকেই আর অন্যের ইচ্ছে,,কে নিজের করে সাজাই না,,  মেনে নেওয়া অনেক দূরের কথা... 
  তারপর যখন  বীরভূম থেকে সেই নরকের রাস্তায় যাওয়ার সময়  আমার গাড়ি ডাম্পারের নিচে তখন ভেবেই নিয়েছিলাম আমি কিছুক্ষণের মধ্যে মরে যাবো,,, 
প্রথমে নিজেই বিশ্বাস করতে পারিনি আমি বেচে আছি গাড়ি চাকার নিচে,,  প্রচুর লোকজন চিতৎকার চেচামেচিতে ঘোর কেটেছিলো ওর হঠাৎ  ইনকামিং ভিডিও  কলে,,, 
ও বলছিলো "দাদা মন টা কেমন করছিলো,, তুমি ভালো নেই,, খুব বিপদ তাই একটু দেখতে চাই তোমায়,,  রক্তে ভেজা আমায় দেখে ওর সেই স্নেহ আমায় ওর সন্তান তূল্য মূল্য ও অধিকার দিয়েছে,,,  তাই ওকে " মা" বলি। 

সেই মা গতকাল রাতে প্রথম এক শক্তিশালী মাতৃ স্নেহের আশীর্বাদ দিয়েছেন,,,  
বলেছেন,,,  তুমি তো!  আমার বুদ্ধিমান ছেলে,,
  তুমি কাঁদবে না,,,  কাঁদলে বুদ্ধি ক্ষয় হবে।
হ্যা খুব কাঁদছিলাম কেউ খোজ রাখেনি ও! রাত ২ টোয় ঘোমায়নি। শান্ত করেছে বুকের আগুন।   
হ্যাঁ!  ঠিক  হাসলে যদি আয়ুকাল বৃদ্ধি পায়,, 
তবে তবে   কাঁদলে'ও কিছু হয়,,
 নিশ্চয়ই হয়,,,
 আর কি হয় তা জানতাম না,,,,
  আর তোমার কথা যদিও আমি বিশ্বাস করি,,, 
তাই সারাজীবন মেনেও চলবো,,, 
আর শুধু মানবোই না আমি এই কথা  সবাইকে বলবো,,,  
জানো!  আমার "মা" বলেছে,,,  "
কাঁদতে নেই যদি শিশু কাল কেটে যায়"
বাল্যকালে বন্ধুদের সাথে বেড়ে ওঠে।
 তারপর  কৈশোরে তো উল্লাসে থাকতে হয় সেখানে থেকে জীবন  যৌবনে পথে পা দেয়,,, 
তখন  যুক্তির সাথে হাসি মুখে চলার নাম জীবন।  
নিজের খুশী অন্যের কাছে অমানত রাখার নাম ত্যাগ,, 
তাই জীবন হাসি মুখে হাসির ছলে উপভোগ করবো,,, 

তবে এই মা,, বলে না আমার ছেলে লক্ষী ছেলে,,
সে জানে ওর ছেলে একটা ডাকাত 😜

খোলা খাতায় খোলা দপ্তর

একটা ডাষ্টবিনের সাথে ফুলের কোন সম্পর্ক থাকে না। আমি সেই ডাষ্টবিন,,   
আমাদের বিচ্ছেদ যেহেতু অবশ্যম্ভাবী, 
সেখানে কিছুক্ষণ পাশে বসো মনের জানালা খুলে দাও 
আমরা কিছুক্ষণ অহেতুক গল্প করি.. এই ইচ্ছে গুলো কেও বিদায় দিতে হয়। 
ওই! যে  ফুলের গাছ  টাকে  ডাকতাম যেন আমার কতো আপন ছিলো সে,,, 

কি!  
কথা বলতাম তাকে!? 

শেষ বলেছি',৷ আজ,,,  

চলো আমরা একসাথে শেষবারের মতন
যৌথভাবে ক্ষানিকক্ষণ আকাশ দেখি,,
 আমিও অবাক হয়েছি প্রথম ফুল এতো মায়াবী,,,,, এতো সুন্দর!  
এরপরতো তোমার আর আমার আকাশ আলাদা,৷ 
না!  আর  চুপ থেকোনা,,, 
আমাদের সময় ভীষণ অল্প  কথা বলো! 
তবে চোখে চোখ হয়তো আর মেলাবো না,৷ 
তাতে পাপ হবে,,,, আমি সেই পাপ করবো না৷ 

 তুমিও ভুলে যেও সব,,, 
তোমাকে ভুলে যেতে হবে আমার ডাকা 
তোমার যাবতীয় ব্যক্তিগত ডাক নাম,,,  
তোমাকে ভুলে যেতে হবে সব ভুল,,,

আমাদের আর সময় নেই,,,,, মনে হচ্ছিলো খুব ঝড় আসবে,,,  এলোও তাই,, তবে বৃষ্টিতে ফুল ফুটেছে,৷ জুঁইফুল,,,,
আমাদের এখন শুধু ভুলতে হবে ভুলতেই হবে,,,
"যতটা পারো ভালো থেকো নিজের খেয়াল রেখো,, 
তবে যদি কখনো আঘাত পাও ছুট্টে এসো প্রিয়তমা!  আমি আবার সাজিয়ে দেবো নতুন করে,,৷  
আমি শব্দহীনতায় বলবো অজস্র কথা তুমি গল্পের পাতায় থাকবে,,, 
এরপর একটাই ইচ্ছে  তোমার দিকে শেষবার তাকিয়ে বলতে চাই,,,
যদি কখনো আমাকে খুব বেশি মনে পড়ে
বাতাসের গতিতে মন পাখির ডানায়  করে দুঃখ পাঠিয়ে দিও জরুরী বিভাগে.. আমি খোলা খাতায়  খোলা দপ্তরে অপেক্ষায় থাকবো... 

আমার দেওয়া আঘাত গুলো তুমি ভুলে যেও

আমার দেওয়া আঘাতগুলো  ভুলে যেও,,, 

আমি খুব আনন্দ পেয়াছি তোমায় আঘাত করে,,,

মাঝেমধ্যে তো এতো হাসিতে হাসতাম কথা বলা বন্ধ হয়ে যেত আমার,, 

শুধুই হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ    হাঃ    হাঃ 

হাসতে হাসতে হাপিয়ে যেতাম।  
তাও হাসি থামতো না। 

হ্যা আমার দেওয়া আঘাত গুলো তুমি  ভুলে যেও,,
দেখবে তোমারে কেউ আমার মতো এতো আঘাত করবে না,, 
আমি তোমায় অনেক আঘাত দিয়েছি,৷ 

প্লিজ সেই সব আঘাতের ব্যাথা ভুলে যেও,,, 

ভুলে যেও পোঁড়াবাসি,,  ভুলে যেও নূপুরের কথা,,, 
তুমি ভুলে যেও নীলা!  কে,,,  ভুলে যেও নীলাম্বরী কে আরও দুই জন ছিলো ওদের তুমি চেনো নাম জানো না,, একজনের নাম ছিলো "দিল দরিয়া ',,  আরেক জনের নাম "সুজন-মাঝি" ওদেরও ভুলে যেও,,,,  আর কেউ শোনাবে না "আঁড়ি-ভাবের" কি অবস্থা!  
সব থেকে বেশী ভুলে যেও  "ও! দিদিমণি 🥰" দিদিমণি দিদিমণি মনি গোঁ,, ও! দিদিমণি 🥰  ভুলে যেও 🙏
আমার মতো এতো ব্যাথা তোমায় কেউ দেবে না।
এবার দেখবে এখন থেকে তোমায় সবাই ভালোবাসা দেবে,, কিন্তু কেউ আঘাত দেবে।
একটা মানুষ কতো আঘাত সইবে জীবনে!  আমি তোমায় খুব আঘাত করেছি তুমি সেই সব আঘাতের ব্যাথা খুব তারাতাড়ি ভুলে যেও,,,,....
তবে এই অত্যাচারী আমায় কিন্তু ভুলো না! 
না!  আমি ভোলার মতো মানুষ নই।
তুমি আমায় পৃথিবীর সব থেকে বেশী ঘৃণা দিও...
আর যদি  শান্তি পাও অভিশাপ দিও যেন আমিও অনেক দিন বেচে থাকি,,  তোমার অপরাধী হয়ে।
আমার যেন মুক্তি না মেলে...
গলে-পঁচে জরাজীর্ণ হয়েও যেন আমার মৃত্যু না হয়,,, 
আমি যেন তোমার মতো আঘাত পাই পদে পদে। 
আমায় কোন দিনও ক্ষমা কোরো না...
আমার দেওয়া আঘাত গুলো তুমি ভুলে যেও,, 


আমি মায়ায় জড়িয়ে গেছি,,,


আচ্ছা! ওরা সবাই কেন ভুল বলে!  

সবাই বললো আমি প্রেমে পরেছি,,, 

আমি ওদের সকলকে কত করে বললাম,, 
ওরা কেউ বুঝতেই চাইলো না,,, 

ওরা সবাই আমায় বললো আমি প্রেমে পরেছি,,, 

আমি আবার কাউকে ভালোবাসতে শুরু করেছি,, 
ওরা সবাই বললো আমায় নিয়ে ওদের খুব চিন্তা হয়,,

ওরা বললো আমি যেন খুব সাবধানে থাকি,,, 

ফরিং তো হুইপ জারি করে দিলো,, 
বললো ফোন টা একবার রিং হওয়ার মধ্যে ফোন না ধরলে কপালে দুঃখ আছে,,

ঝিঁঝিঁ পোকা টাও খুব খোজ রাখার চেষ্টা করে,,  

 আচ্ছা!  ওরা!  কেন জানিনা আমায় কেউ বোঝে না।

হ্যা একবার নয়,, 
 এটা আমার সাথে বারবার হয়েছে,৷ 
সবাই ভুল বুঝেছে,,৷ 
ওই পোঁড়াবাসি ও  তার মালিক সেও ভুল বুঝেছে,, 

ওরা!  জানেই না,,,  এটা প্রেম নয়,,, 
প্রেম তো আমার মুক্তির জন্য হবে,,,  
তবে কেন হারিয়ে যায়,?
প্রেম যদি জীবনে একবার আসে তবে আর তা যায় না,, এই জন্যই তো বলে প্রেমের দাগ সারাজীবন থাকে,  
ঠিক বাবলা গাছের কষে'র মতো,,,  
লাগলে আর ওঠে না,, 

ওরা!  ওরা!  ওরা সবাই ভুল,,,,,   সবাই ভুল,,,,  

আসলে আমি মায়ায় জড়িয়ে গেছি,,, 

এই মায়া,, এতো শক্তিশালী আমি আমার সব শক্তি দিয়েও চেষ্টা করে দেখেছি,,,  
ওই মায়া! বল থেকে  আমি কিছু তেই নিজেকে সরাতে পারছি না।
এই মায়া! যেন যুগের পর যুগ ধরে আমিও খুব খুজেছি,,, 

ভালবাসা!  কখনো কখনো  "ধ্বংশের উণ্মত্ততা" জাগায় প্রাণে।
কিন্তু মায়া!  আগলে রাখে অনেক যতনে। 

আমি মায়ায় জড়িয়েছি,,, ভালোবাসায় না। 

প্রেম যেমনই অবুঝ ... অবোধ তেমনি অপ্রতিরোধ্য।
শুধুই এক ফল্গুধারা।
একটি যদি ঘড়ায় তোলা জল হয় - অপরটি পাগলপরা নদী ....
গতিহারা দিশেহারা ....মায়া!

এই মায়া  ব্রহ্মার শক্তি জগতের সৃষ্টি ও উত্থান,,,, 
আমি পোড়াঁবাসির সেই মানুষ টার চোখে এই মায়া দেখেছি,,,  
আর আমি সেই থেকেই ওই মায়াবী নীরবতার সখী'র  মায়ায় জড়িয়ে ছটপট করছি।
হ্যাঁ আমি  মায়ায় পরেছি,,,,
 নিরবতার মাঝেও যেন সেই মায়া আমার সামনে থাকে।
মনে হয় যেন আমায় রক্ষাকারী কোন এক শক্তি,,, 

মাঝেমধ্যে মনে হয়,  মা,, সারাজীবন শুধু আমার চিন্তায় ভগবানের কাছে আমার জন্য ভিক্ষে  চাইতো যেন কোন বিপদ আমায় স্পর্শ না করে,,,, 
এ যেন সেই মায়া!  
পোঁড়াবাসি'র সেই মানুষ টা৷  

মিঠে ভালোবাসার কস্তুরি

 আমি অবলাকান্ত,,, 
আইজ বিকালে প্রেত্ত্যেক দিনের নাহান এট্টু হাটতে গ্যাছেলাম,,, 
আইজ মাথায় হঠাৎ একটা অনেক পুরান স্মৃতি উইঠা আইল্য, 
আইজ সেই পথে হাটতে গ্যাছেলাম,৷  
আইজ একটা ছেলে বেলায় একটু ঘুইরা আইলাম৷  
হেই পথে খানিকটা যাইতেই যহন পথ বদলাইলাম দেহি ওই রাস্তায় পুরান বাড়ি গুলান বেবাক, হ প্রায় বেবাক বাড়ি বদলাইয়া গ্যাছে,,, 
দুই একটা বাড়ি আগের মতোই আছে,,, 
আর সবচাইতে বড় বদল যেই যায়গায় সব থিকা বেশী সুন্দর ছেলো হেই জায়গায় এহন একটা ময়লা ফেলানো ডাষ্টবিন হইছে,,,, 
আঃ হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ 
হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ,, 
ভগবান এই তুমি কি দেখাইলা! 
কি দেখাইলা!  আমারে? 
আমি ওই ডাষ্টবিন টার সামনে দারাইয়া ছিলাম দেখি সেই কাকিমা! 
 লাঠি ভর দিয়া আমারে কয়,, 
তুমি ওই গন্ধের মইধ্যে দাড়াইয়া আছো ক্যান! 
আমি কাছে যাইতেই কাকি মা চশমা টা ভালো কইরা মুইচ্ছা পিটপিট কইরা দেইখা কয় তুমি ওই পোলা ডা না! 
রোগা টাইপের পাতলা হাওয়ায় উরত,,
 কথায় যেন দুনিয়া কেনার ক্ষমতা ছিলো,  
চোখ গুলান যেন সকালের নরম পদ্ম,,, হাতে একটা লগা নিয়া আমার বাগানের ফুল চুরি করতা! 
এই তোমার জ্বালায় আমি রাইত থাকতেই উইঠা পাহাড়া দিতাম,৷ 
এই পোলা!  এই তুমি হেই পোলা ডা না!? 
হ! কাকিমা,, আমিই সে,, 
বাঃ চমৎকার  এহনো  সেই মিষ্টিমুখ তোমার,, 
তোমার ডাক গুলা আগের মতোই আছে,  
কাকিমা! 
হ্যাঁ কাকিমা তোমার এই অবস্থা!  আর এই বাগান বাগান নষ্ট করেছ কেন?  এখানে এই ডাষ্টবিন টাই বা কেন বসতে দিয়েছ!? 
তোমার কাকা বাবুর চইলা যাওনের পর বাগানের যত্নের মানুষ ছিলো না। তারপর তোমার দাদা অবনি ও আমেরিকায় থাকে,, ছোট্ট ছেলে টা ছয় মাস আগে আত্মহত্যা করছে,, ওই ঘরে,, পার্টির পোলারা রাস্তার ধারের ঘরে এহন পার্টি অফিস। আমি এই ঘরে থাকি,, 
ক্যান!  ক্যান নীলমণি এমন করতে গেলো!
কি কমু!  ভালোবাসায় ঠকাইছে ওরে,  বিয়া করছিলো বউ চইলা গেলো তারপর পোলা টাও কেমন অচেনা হইতে ছিলো,, তারপর তো! 
আর শ্রাবণী!?  
ওর বিয়া দিছি ওরাও গুজরাটে থাকে,,, 
তো!  তুমি আছো কেমন!  বিয়া করছ বাবা! পোলাপাইন কয়টা!  মা বাবারে দেখো তো! 
আমার মতো ভুল করবা না বাবা,,  
আমি ভুল করছিলাম,, এক মায়ের বুক খালি কইরা আই আমিই একা,, সবাই চইলা গেছে,,, আমিই যাইতে পারি নাই।
না!  কাকিমা,,  আমিও একা বিয়া করি নাই তবে মা বাবার সঙ্গেই আছি,,, 

বাবা বয়স তো অনেক হইছে বিয়া কর বিয়া কইরা সংসার করো।  

দেখো যদি খুঁজে পাও জীবনের সার্থকতা!! 

কাকিমা বাড়ির ভেতরে ঢুইকা দরজা দিতেই একটু দ্যাখলাম আরেক বার,,  
এক কালের মনরম মায়াবী ফুল বাগান এখন ময়লা ফ্যালার ডাষ্টবিন,,,, যেন কেউ জানে না তারে,,, 
মানুষ ও-ই দুর্গন্ধ ভুলেও যেন কেউ নিতে চায় না,,, এতটাই ঘৃণা।  
হ্যাঁ ঠিক!. 
ঠিক!. 
আমিও নিজেরে ওই ডাষ্টবিন টার মতো কইরা রাখমু যেন আর কেউ আমারে সহ্য না করে,, সবাই যেন ঘৃণা করে আমারে ঠিক এই ডাষ্টবিন টার মতো,,, 
যেমন টা!   
"সই " আমারে যতটুকু ভালোবাসা দিছে তার কথা 
পোঁড়াবাসি ও জানে,,, 
আর হয়তো সেই ভালোবাসা পামু না,, এই জীবনে। 
আমিও  সাজানো বাগান এ-ই ডাষ্টবিন টার মতো কইরা রাখমু,,,, 
আর ওই ডাষ্টবিন টারও নাম দিমু  "কস্তুরি "
মিঠা ভালোবাসার কস্তুরি... 


একটা তুমি ঠিক যেন চৈতী হাওয়া,,

একটা তুমি ঠিক যেন চৈতী হাওয়া,,  

সে আমার জীবনের প্রথম কেউ। 

এর আগেও অনেক বসন্ত এসেছিল জীবনে কিন্তু এই ৩৮সের বসন্তে আমায় আমার থেকে এলোমেলো করে দিয়েছে। আমি বারবার হেরেছি। 


কেন জানিনা মনে হয় আমি ফুরিয়ে যাচ্ছি । 

আমি আর নিজেকে গুছিয়ে আবার এক করতে পারছি না। 
আমি জানি আমাকে অনেক টা পথ এখনো চলতে হবে।
হ্যাঁ বিশ বচ্ছর তো বটেই,,,

একা থাকতেও আজকাল খুব ভয় হয়, 
শরিরে একটা উত্তাপ সব সময় থাকে। 
শীত শীত একটা ভাব শরিরে কাঁটা তোলে,,,

 শুধু খুঁজে বেড়ায় দুটো চোখ হাজারো মানুষের ভীড়ে কোথায় সে!  কোথায়!
না কোথাও খুঁজে পাই না সেই চোখ দুটো,,,  

মনকে বোঝাই যদি ভাগ্যে থাকে  একদিন খুঁজে পাবো।

পরিস্থিতি যখন   জীবনে নিজেকে অনাথ ঘোষণা করেছে তখন থেকেই আমি আজও নিজেকে অনাথ মনে করি,৷ 
হ্যাঁ পরিচয় আছে তবে সেই পরিচয় হৃদয় পর্যন্ত নেই। 

নিজেই যেন একটা পুতুল হয়ে চলছি যেদিন থেকে  বুঝেছি এই এতো মায়াবী দুনিয়ায় আমার কেউ নেই।

দুনিয়ায় কতো খুশি দেখি পারিবারিক খুশি,,  
কিচ্ছু খুশি আমার মনেও ছিলো,,৷ 

এখন  আর আগের মতো ঘুম আসেনা।  
চোখ বন্ধ করলেও ভয় হয়। 
যদি আর ঘুম থেকে না উঠি!

সারাজীবন আমি মানুষের কাছে উদ্দেশ্য হীন আমার কোন ভবিষ্যৎ নেই। 
কিছু স্বপ্ন তিস্তা নদীর জলে ভেসেছে আর কিছু স্বপ্ন নিজেই ভুলতে চেয়েছি।
কিন্তু আমি জানি জীবনে কি কি করেছি।
আমি অচেনা যার কাছে সে কোনদিন চেনেই নি আমায় এমন কি জন্মদাতা মা-বাবাও না। 
এই দুনিয়ায় আমার হৃদয় পর্যন্ত কোন সম্পর্ক নেই। 
আছে শুধুই মিথ্যে হাসিতে দুনিয়া জয়ের গল্প।
কে যেন নাম রেখেছেন 'বিজয়,  
শুধু এই ভাবি আমার জীবন আমার কাছে কত পরাজয় দিয়েছে। 
হ্যা তবুও নিজেকে নিজে আজও খুব সম্মান করি,, 
আয়নায় যখন দেখি তখন দেখি চেহারা টা সুন্দর আছে কি নেই না!  তা দেখি না।  

দেখি তিথি'র রেখে যাওয়া একটা মানুষ।  
একটা ইমানদার বিশ্বাসী এক ভালোবাসার ভিক্ষুক। 
সে আজও পথে পথে নাম বিলিয়ে যায় পথের পাসের নাম না জানা ফুলের।  

চলছি চলছি চলছি যেন আমার কোন বিশ্রামের প্রয়োজন নেই। 
যেন যন্ত্রপাতির একটা পুতুল আমি, 
বিশ্রাম করবই বা কোথায়? 
আজ পর্যন্ত সেই মানুষ টাই পাশে পাইনি। 

যার কাছে একটু শান্তির আশায় মাথা টা সেই মানুষ টার কাঁধে রেখে একটু বিশ্রাম নেবো,৷ 

যাদের পেয়েছি সবাই এসেছিলো বসন্তের আনন্দ নিতে।
 তারপর  কালবোশেখীর হাওয়ায় সবাই কে কোথায় " তার আর খবর নেই। যখন নিজের আপনজনেরাই গালমন্দ দিয়েছে। তখন বসন্তের কোকিলের গান কি কিরে মনে আনন্দ এনে দেবে।

তাই আমার জন্য এই দুনিয়ায় হৃদয় পর্যন্ত কোন সম্পর্ক নেই। 

সাবেক সময় সেদিন আমি যখন এক জোড়া চোখের ভাষা দেখেছি৷  
অবাক !  আমি  অবাক! 
যেন এ-ই অপেক্ষায় ছিলাম এই এক যুগ প্রায়,, 
কোন এক অভিশাপের থেকে মুক্তি দিতেই এই অসময়ে আগমনী গান উঠেছে হৃদয়ে দেবী উমা'র আগমন। 

মানুষ অনেক দেখেছি। 
অনেক মানুষের ব্যাবহার পেয়েছি।
 মানুষের উদ্দেশ্য বুঝতে আজকাল খুব সময় লাগে না। 
খুব সহজেই বুঝতে পারি ঠিক কেন এসেছেন আমার কাছে,, তাদের উদ্দেশ্য বুঝতে দু'চার কথাই যথেষ্ট। 

কিন্তু অবাক হয়েছি এই মানুষ টা দেখে,, 
 যতই দেখি ততই যেন নিজেকে হারাই,,, 

 মাঝেমধ্যে তো সেই শুকতারা টার কথা মনে হয়,,  
আজ আর সে নেই দুনিয়ায় তবুও তার কথা যেন বেদ বাক্য হয়ে রয়ে গেছে আমার জীবনে। 

তিনি বলেছিলেন,, 

নীল,, জীবনে এমন একদিন আসবে দেখবে চৈতী হাওয়ার মতো,,,  কোন এক নারীর বিকিরণ আপনাকে বাধ্য করবে মন থেকে  দেবীর মতো শ্রদ্ধা করতে। 
আর আপনি সেই দিন থেকে নিজেকে হারাবেন। 

জীবনের ফেলে আসা দিন গুলো কোথাও লিখিনি।
 হ্যাঁ কিছু রঙিন প্রচ্ছদ লেখা ছিলো কিছু ডাইরিতে,,, 
সে গুলো ভাসিয়ে দিয়েছিলাম তিস্তায়  অতীত  ভুলে বর্তমানের দিকে এগিয়ে যেতে। 

আজ আমি সেই চৈতী হাওয়ায় একটা তুমির কাছে নিজেকে ফুরিয়ে ফেলেছি৷ । 
আজ আর মনে হয় না আমার হৃদয় পর্যন্ত কোন সম্পর্ক নেই। 
না মনে হয় না। 
মনে হয় একটা নাম সব সময় উচ্চারিত হচ্ছে হৃদয়ে।
 হ্যাঁ আমি এতেই খুশি,, বাকিটা জীবন এই খুশিতেই ফুরিয়ে যাবে। 
শুকতারা'র কাছেও  দেখা সেই চৈতী হাওয়ায় কথা জানিয়েছি৷ 
 আর জানিছি সেই তীথী'র অতিথির ১২ তম মৃত্যুবার্ষিকী তে আশ্রমের শিশুদের সাথে একটু স্মৃতিচারণ,,, ওর তো এ-ই গুলোই ভালো লাগতো।  আমিও ঠিক তাই করি এই তো সেদিন অনেক দূরে ষ্টেশানের বাচ্চা গুলোর সাথে রাত কাটিয়ে বাড়ি ফিরেছি, ওদের আনন্দ দিয়েছি৷ 

হ্যাঁ ভালো আছি।  
ভালো থাকুক ভালোবাসার সেই মানুষ টা। 
ভালো চাই সেই মানুষ টার,,,, 
ভগবান যেন আমার জীবনের সব ভালো কাজের সব উপকারের প্রতিদান সেই মানুষ টাকে দেয়।
সেই মানুষ টা আমার চৈতী হাওয়ার স্পর্শ। 

অঞ্জলি,,

এমন একটা মানুষ চেয়েছিলাম,,, 

আমার সব দুঃখ আমি তারে  শিশুর মতো বলতে পারি,,, 
সারাজীবন শুধু এই কল্পনাই করেছি,,,

 নিজেকে সপে দেবো তার হাতে,,, 

তাই তো যেদিন থেকে মনের ইচ্ছে বুঝেছি ভগবান কে একটাই কথা বলতাম,, 
ভগবান আমি জেন নিজেকে শুদ্ধতায় রাখতে পারি,,,

 আমি যেই মানুষ টার হবো সে ছাড়া আর অন্য কেউ আমায় ছোয়ার অধিকার টাও পাবে না,,

এই দুই হাতের মধ্যে একদিন ওই দেবীর মূখটা থাকবে  আর আমি তার চোখের তারায় নিজেকে দেখবো এ আমার আজন্মের স্বাধ,,, 


না! 

আজ পর্যন্ত আমি কাউকে ছুয়েও দিখিনি,,  
আর এই হাত কোন নারীকে স্পর্শ করবেও না,,কোনদিন,,,  

বউঠান একবার পেছন থেকে কাঁধে হাত রেখেছিলেন সেই সকালেই চর খেয়েছিলেন,,৷ 
রাগ সামলাতে পারিনি,,,  
বউঠান আজও বলে আমি তার ব্রহ্মচারী ভাই..
সেও তার মর্যাদা রেখেছেন। 
আমি স্পর্শ করে কথা বলা টা ঘৃণা করি,,, 

সেই মানুষ টা! 

যখন নীলা কে  চিনতে লাগলো একটু একটু করে তখনই বুঝেছি জীবন টা তোমার স্পর্শেই খাটি সোনা হবে,,, 
একদম খাটি সোনা।

বুকের মধ্যে অনেক আশা ছিলো,,,   
তাই তো নিজে সাধক হয়ে তোমায় দেবীর মতো শ্রদ্ধা করি।
তুমিই তো আমার মুক্তির পথ। 

নীলা! তুমি হয়তো বা অন্য কোথাও অন্য কাউকে বেছে নেবে,, 
তা তোমার অধিকার। 
আমি সেই অধিকারকেও শুভেচ্ছা জানাই,,জীবনে সুখী হও,, 

 কিন্তু কি জানো!  
আমি তোমায় ভুলতে পারবো না। 
তুমি আমার প্রথম চাওয়া ছিলে,,,

তোমাকে চেয়েছিলাম সারাজীবনের সঙ্গী করতে,,  
যেমন করে চলে শুক পাখী শারি কে  সঙ্গী করে। 
 চেয়েছিলাম আমার সব আনন্দের অনুভূতি গুলো প্রথম প্রকাশ করবো তোমার কাছে তা আর হলো কই! 

সময়ে হয়তো বা সব ঠিক হয়ে যাবে। 
তুমিও নতুন জীবনে অনেক নতুন আনন্দে সময়ের সাথে কথা বলার জন্যও সময় পাবে না।  
একদিন দেখবে তুমিও একা হয়ে যাবে প্রিয়!
  না!  না!  এ আমার অভিশাপ নয়!
সেদিন  সময় তোমাকে একা করে দেবে! 
একদম একা,,
 সেদিন তোমার আমায় মনে পরবে,, 
সেদিন আমি তোমার থেকে অনেক দূরে......
অনেক দূরে,,, 
পথ ভোলা পথিক,,,  

কিন্তু কেন জানিনা মনে হয় কোন এক দিন মাটিতেই ছিলো সব ইচ্ছে গুলো। আজ অতৃপ্তির ঢেকুর তুলে সবাই চুপচাপ। কিন্তু কেউ হাসে না,,, 
সবাই গভীর এক সত্যকে মেনে নিতে অপেক্ষায়,,,, 

আমার সেই অধিকার নেই তবুও নীলা! তোমার চোখে আকাশ দেখার স্বপ্ন আমার এ জন্মে হয়তো বা ধুলোয় মিশে আছে কিন্তু আমিও এমন তপস্যা করবো একদিন আমাদেরও সংসার হবে... গাছের ডালে কিংবা নদীর জলে অথবা সৃষ্টির  উন্নত জীব মানুষ হয়ে....

আমি ফিরে আসবো! 

নীলা সেদিন আমি ডাকাতের মতো তোমায় ছিনিয়ে নেবো। 
আজকের মতো এতো ভালো মানুষ হয়ে ভিক্ষে চাইবো না।  
ভালো মানুষ জীবনে কিচ্ছু পায় না। 
তাদের সব টাই যেন অন্যের আমানত।
 তাই সব টাই তাদের কাছে হাতের মধ্যে এসেও আবার দূরে চলে যায়....


আমি আর  ভালো আর থাকতেও পারবো না।
 ভালো থাকার মন্ত্র উচ্চারণ করতে পারি না,৷  
কি করে ভালো থাকি!  
পঁচে যাচ্ছে ভেতরে...  
একদিন হয়তো এই অসুখেই পঁচে যাবে প্রিয় জুঁইফুল এর প্রত্যাশা,,৷ 
তবুও খুব যত্ন করে পুষে রাখবো এই অসুখ জীবন ভর। যেমন করে উপভোগ করছি এই ভীষণ জ্বর, গোটা শরির জুড়ে একটা উষ্ণতার আগুনে যেন সেঁকা পাঁউরুটি ,,,মুখের লালায় বিষ তেতো,,,। 
তবুও যেন কিছু ভালো লাগা লুকিয়ে আছে,, 
এই জ্বর যেন নীলাম্বরীর আলিঙ্গন,,  
আমি তাকে উপেক্ষা নয়!৷  উপভোগ করছি,৷  

আমার সব অসুখের ওষুধ তুমি নীলা!

ভগবান কে ও সেদিন বলে ছিলাম আর তোমার মুখ দেখবো না। তোমার নাম নেবো না। তোমার প্রতি ভরসা করব না।  তুমিও ঠকিয়েছ,, আজ,, 

তিনি বললেন আমি মূর্খ,,, 
জানতে চাইলাম কি করবো? 
বললো তোমার মনের মাধুরি দিয়ে সব টুকু মায়া দিয়ে তোমার নীলাম্বরী' র একটা অবয়ব তৈরি করো বুকের মধ্যে।  তারপর তার যপ, করো,, দেখবে  পঁচন ধরা নীলাদ্রিতেও ভালোবাসার ফুল ফুটবে,৷  

হ্যাঁ ঠিক! 

তাই করবো,,, 
ভগবান কেও তো শ্রদ্ধা করি কিন্তু কোন দিন সামনে দেখিনি,,,  
আর নীলাম্বরী তো! 
আমার সাক্ষাৎ উমা!  
হ্যাঁ ঠিক,,,  
তাই হবে,,৷ 
নিজের সব টুকু মায়া দিয়ে যেমন ছেঁড়া পাতায় লিখেছিলাম প্রাণবন্ত  ইন্দুবালা,৷  
এবার তবে আর লেখা নয়!
নিজের সব টুকু মায়,মমত্ব, ভালবাসা দিয়ে নিজের ভেতরেই দিদিমণি কে সাজিয়ে রাখবো,,৷
 আর জ্বালাতন করব না সময়ে অসময়ে,,,, 
নীলাম্বরী দেবী,, পুজা করব তারে,, 
যেন কোন এক জন্মে এই দেবী আমার মোক্ষ অর্জনের আশীর্বাদ করেন, ,,  
আমিও সেই তপস্যি যার কাছে দেবী কে আসতেই হবে এ-ই জন্মে নয় অন্য কোন জন্মে,,,
তবে আমি তোমার প্রেমিক হয়ে আসবো অন্য কোন সম্পর্ক হয়ে নয়।  শিউলি পাতায় প্রজাপতি হয়ে কিংবা বেগুন গাছের টুনটুনি হয়ে, আমি আসবো তোমার প্রেমিক হয়ে,,, 
কারণ প্রেম জীবের মুক্তি দেয়,,, মোক্ষ দান করে আর সেই আত্মা অমরত্ব নিয়ে স্বর্গে যায় আর ফিরে আসেনা মায়ার এই ধূলোময়লা দুনিয়ায়,,, 
আমি সেই প্রেম নিয়ে আসবো,,, 
অতৃপ্তি নিয়ে আসবো,, 
আসবোই নীলা! ফিরে আসবো তোমার জীবনে,,  
জীবন টা আর অন্য কেউ পাবে না,,  ভালোবাসা সব পুজার ফুল হয়ে নীলাম্বরীর পায়ে দেবো...
হে দেবী!  আমার অর্পণ করা ভালোবাসা তুমি অঞ্জলি নিও ঘৃণা করে অবঞ্জ্যা করে নয়...
আমি তোমার সাধক দেবী,৷  আমার মন মন্দিরের কক্ষে তুমি থেকে যাও দেবী।
আমি আমার সব ভালোবাসা দিয়ে তোমায় পূজা করবো,,,  

এক জ্বহূরি এক টুকরো পাথরের নিরিক্ষায় জীবন টা কাটিয়ে দিয়েছিলো,,৷ সেই পাথরের পরিক্ষা বর্ণনা করতে করতে। অবশেষে সবাই একদিন পাগল বলেছিল।  আমার সেই নীলাম্বরী নীলা ছিলে গোঁ তুমি। 
আমি আর কিছু নয় আমি তোমার জীবনে ফিরে আসবোই,,,,  আসবোই,,,,  ফিরে আসবোই! 

ভরসা!

ভরসা!  
ঠিক ওই!'এক কনা বালির মতো,, এত টুকু ছোট্ট এই প্রায় অদৃশ্য কনা'র ওপর মায়া জন্মায়,, মায়া,, 
তারপর ওই ভরসায় মায়া এতো বেড়ে যায় দেখতে মুক্তা'র মতো লাগে,,, 
কিন্তু যদি সেই বালি কনা একবার ভেঙে যায়! 
ওর!  ওপর জন্মানো মায়া ঝিনুক কের ভেতরে পচন ধরায়,,, 
তারপর ঝিনুক........ 
এবার বুঝলা!  ভরসা কি! 
আমি সেই ভরসা করি,,, 

আমার সংসার

আমি একটা সংসার করবো ভাবছি। চমৎকার সংসার। হাঁসের গলার মতোন লম্বা, কাঁচের মতোন স্বচ্ছ তবে ভঙ্গুর নয়। দিন দু'বেলা চুমু খাবো হরদম, বাকি সময় সংসার করবো। সংসার করতে গিয়ে দু'জন ভাবতে বসবো, মানুষ করে কীভাবে সারাদিন বালের এই সংসার নিয়ে থাকে? আমি বলবো, চলো ঘুম দিই জমাট একখানা। কোলবালিশ ছাড়া ঘুম হয় না, যদি পা তুলে দিই গায়ে, ঘুমের ঘোরে, কোলবালিশ মনে করে ভুলে যেয়ো। 
তুমি বলবা, এসো কামরাঙা খাই। পাশের বাড়ির  বাগান থেকে বেয়ে আসা ডালে কামরাঙা আছে ক'টি, জানালা দিয়ে পেড়ে খাবো। যদিও মনে হবে অনর্থক। ঢং। বইমেলায় সদ্য প্রকাশিত আনাড়ি লেখকের কাঁচা হাতের লেখা বস্তা প্রেমের সস্তা গল্প। অথচ আমরা কিন্তু সংসার করবো ওরকম, ঘুমাতে ঘুমাতে, গায়ের উপর পা তুলে, চুরি করে কামরাঙা খেয়ে।
আমরা সূক্ষ্ণ সব বিষয়-আশয় নিয়ে তুমুল হল্লা করবো। সংসার করার ফাঁকে ফাঁকে আমি মুভি দেখবো। তোমার পছন্দ বই, তুমি পড়বা মেটামরফোসিস। আমি মুভি পজ করে তেলাপোকার মতোন ব্লাউজের ভেতর ঢুকে যাবো তোমার, খসখস করে। তুমি বই রেখে আঁতকে উঠবা। কি নির্লজ্জ ভেবে রাগবা। তুমুল রাগে ঘাড়ের আশেপাশে আমি ঠেসে ভরে দেবো দীর্ঘস্থায়ী চুম্বন। রাগ পড়ে গেলে আমরা আবার সংসার করবো।
সংসার করার পাশাপাশি 'রাজনীতি, অর্থনীতি, সাহিত্য, চলচ্চিত্র' নিয়ে নিত্য ঝগড়া করবো আমরা। হাঁড়ি পাতিল আঁচড়িয়ে, ছুঁড়ে, কামড়ে, খামচে। যেভাবে ঝগড়া করলে পার্শ্ববর্তী  বাসিন্দারা উঁকি দেয় জানালায়, পাড়ার উৎসুক আন্টি সম্প্রদায় কানাকানি করার প্রসঙ্গ পায়। আমরা ওইরকম চরম ঝগড়া করে দু'জন দু'রুমে খিল এঁটে বসে থাকবো ঘণ্টা খানেক। খিল খুলে পড়ার পর দু'জন ছাদে হাত ধরে বসে খিলখিল করে হাসবো। যখন ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি গিলে খাবে সন্ধ্যার বিষাদমাখা রঙ, স্যাঁতসেঁতে গন্ধ, আমাদের হাসির শব্দে বিষাদ কেটে যাবে ঠিক। আমরা হাসতে হাসতে শেখাবো ওদের, কোনো কোনো সন্ধ্যেয় বিষণ্ন হতে নেই কারোর।

আমাদের সংসারে অশান্তিকে আমরাই আমন্ত্রণ জানিয়ে অতিথি করে আনবো আবার সেই অতিথি কে বিদায় জানিয়ে আমার একে অপরের আলিঙ্গনে।  শক্ত করে তোমায় জড়িয়ে ধরে বলবো এই ঝগড়াটি বুড়ি চল অনেক রাত হয়েছে দুটো ভাত মাখিয়ে দিবি?  খেয়ে শিশুর মতো তোমায় জড়িয়ে গভীর ঘুমে অচেতন হয়ে বলব আমার মরনেও যেন তোমায় পাশে পাই প্রিয়।

 আমিও একটা সংসার তোমায় নিয়ে করতে চাই। যেখানে অভাব থাকবে নিত্যদিনের রসদ যোগানের,, নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মতো অভাব থাকবে আমাদের সংসারে। এক বেলার খাবার দুই বেলা দু জনে ভাগ করে খাবো। তবুও কেউ ছেড়ে যাবো না তরুলতার মতো আষ্টেপৃষ্ঠে থাকবো। 
আমরা মাঝেমধ্যে রাত কাটাবো রেলষ্টেশনে প্লাটফর্ম এর সারা রাত যাযাবর দের সংসার গুলো দেখবো আর আমাদের ভাবনায় ওদের ভালোবাসার গল্প গুলো লিখে রাখবো শেষ জীবনে পড়ার জন্য। মাঝেমধ্যে ওদের জন্য জামা কাপড় শীতের চাদর কিছু খাবার নিয়ে ওদের সাথেই হৈ-হুল্লোড় করে ছুটি কাটিয়ে বাড়ি ফিরে তোমার বুকে মাথা রেখে আমি ভীষণ কান্নায় তোমায় বলবো আর ঝগড়া করবো না তোমার সাথে। 

আ মি একটা সংসারের কথা ভাবছি। পতিদেবতা পরমেশ্বর টাইপ সংসার নয়, অল্প স্বল্প ভুলে কাঁধে হাত রেখে যাতে ফিসফিসিয়ে গাল দিতে পারো তুমি। দু'জনের সমান কান মলে দেয়ার অধিকার সম্পন্ন একটা নিখুঁত সংসার। বিশ্বাসে টইটুম্বুর। পরিচ্ছন্ন এবং অশ্লীল। কোলে শুয়ে যেন নির্দ্বিধায় বলে দিতে পারি, পৃথিবীর অশ্লীলতম গোপন কথা। যেন গা থেকে টুপ করে খুলে নিতে পারি মেকি ভদ্রতার আস্তরণ। কেননা, আমরা নির্লজ্জ্ব হবো একে অপরের কাছে, চরম।
বয়স যখন দু'জনের পিঠে বেঁকে যাবে, কুঁচকে যাবে গাল, তখনো থামাবো না। আমরা বরং সংসার করবো শশ্মানঘাট অবধি। পুড়িয়ে কিংবা পুঁতে ফেলার পরও। ওরা বলে, সব শূন্য থেকে এসেছে, শূন্যতেই গিয়ে পৌঁছুবে আবার। মৃত্যুর পর তুমি বিন্দু হবা? আমি তোমায় কেন্দ্র করে ঘুরতে ঘুরতেই সংসার করবো।

মোহন দাসের মহম্মদী

ভারতবর্ষে মহাভারতের একটি শ্লোক ভুল 
পড়ানো হয়, কিন্তু কেন ভুল পড়ানো হয়???

"অহিংসা পরম ধর্ম"।

এটি একটি অসম্পূর্ণ শ্লোক। এই শ্লোকটির 
অর্ধেক অংশ বাদ দিয়েছিলেন গান্ধীজী।

আসল পূর্ন শ্লোকটি হল-

"অহিংসা পরম ধর্ম"
ধর্মহিংসা তদৈব চ ।

-অর্থাৎ অহিংসা মনুষ্য জীবনের পরম ধর্ম, এবং
ধর্ম রক্ষার স্বার্থে হিংসা করা তার চেয়েও শ্রেষ্ঠ।

মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী শুধু এই শ্লোকটাই
নয়, সনাতন ধর্মের একটি প্রসিদ্ধ ভজনকেও
পাল্টে দিয়েছিলেন।

"রঘুপতি রাঘব রাজারাম" এই ভজনটির আসল নাম ছিল "রাম ধুন", যা খুবই প্রসিদ্ধ ভজন ছিল যেটাকে গান্ধীজী বদলে দিয়ে "আল্লাহ" যুক্ত করে দিয়েছিলেন।

▶️গান্ধীজীর দ্বারা পরিবর্তিত ভজনটি হল-

রঘুপতি রাঘব রাজা রাম
পতিত পাবন সীতারাম ।
সীতারাম সীতারাম, 
ভজ প্যারে তু সীতারাম
ঈশ্বর আল্লাহ তেরে নাম
সবকো সুমতি দে ভগবান ।

✅কিন্তু আসল রামধুন ভজনটি হল-

রঘুপতি রাঘব রাজারাম
পতিত পাবন সীতারাম, 
সুন্দর বিগ্রহ মেঘশ্যাম
গঙ্গা তুলসী শালিগ্রাম, 
ভদ্র গিরিশ্বর সীতারাম
জগৎ-জনপ্রিয় সীতারাম, 
জানকীরমনা সীতারাম
জয় জয় রাঘব সীতারাম।

বড় বড় পন্ডিত বক্তা পর্যন্ত এই ভজনটি ভুল গায়,
আজ অবধি কেউ উনাদের বাধা পর্যন্ত দেননি। 

সর্বধর্ম সমন্বয়ের মানসিকতা আপাত মানবিক 
হলেও সত্যকে জানা ও গ্রহণ করা প্রয়োজন। 

শ্রী রামচন্দ্রের এই ভজনটির রচয়িতা 
হলেন লক্ষ্মনাচার্য, এই ভজনটি বিখ্যাত 
হিন্দু গ্রন্থ "শ্রী নমঃ রামনায়নম" থেকে নেওয়া হয়েছে।

বিঃদ্রঃ সঠিক ইতিহাস জানা খুব জরুরী।
সংগৃহীত

ভালো থাকিস...

আমি ফুরিয়ে গেছি!  যদি খবর যায় এমন,, 
ওদের বলে দিও আমার চিতায় এক হাজার গোলাপ আর একটা কাঠগোলাপ দিতে। 
খেয়াল রেখো তবে "
গোলাপের গাদায় যেন ঝিঁঝিঁ পোকা না থাকে।
জানো!!  সোনার এই দ্যেহ খান ধইরা রাখছিলাম 
তাও তোর জন্যই""""!

আশায় বাঁধি চাষার স্বপ্ন,, 

তুই খুব পছন্দ করবি এই দ্যেহ খান,,,  



আহাঃ  আঃ  আহাঃ  কি দিলি তার প্রতিদান। 

ভালো থাকিস,,,  
ভালো থাকিস,,, 
 খুব ভালো থাকিস,,,  

মনে রাখিস বিচার বিভাগের সচিব তোর হিসাব রাখছে,, 
বেইমানির যোগ্য বিধান তুই পাবিইইইইইই.....
হাঃ হাঃ কার করবি তুই! 

মায়াবী অপরাজিতা তুমি



                  মায়াবী  অপরাজিতা তুমি 


জানেন প্রিয়, আমি আজ অব্দি কোনো নাড়ীর দিকে একদৃষ্টিতে তাকা-ই-নি..
এটা মিথ্যে কথা।
 হ্যাঁ আমি বহু....  নাড়ীর চোখের ভাষায় আমার জন্য প্রেম দেখেছি। 
কিন্তু  আমি কোথাও নিজের খুশি পাইনি।  

এবার যদি বলি আমি সেই খুশি! 
 আমি আপনার চোখে দেখি।
কিন্তু,, 
সমস্যা টা কি জানেন নীলাম্বরী কাঠগোলাপ ! 

আপনি বিশ্বাস করেন না আমার এই সত্যতা। 



এমনটা নয় কোনো নাড়ীর সাথে আমার দেখা হয় নি,
কথা হয় নি।
 চলার পথে কতশত মানুষ দেখতে হয় যে তবে আমারই সাহস হয় নি এবং ইচ্ছেও জাগেনি অনির্দিষ্ট কারোর দিকে তাকিয়ে থাকার। 
মাঝে-মাঝে আফসোস অনুভব হয়।
 এটা ভেবে আমার পাশেও একজন থাকতে পারতো ব্যক্তিগত নাড়ী হিসেবে যদিও আমার এতো সামর্থ্য নাই।
 তবে মনস্থির করে রেখেছি আমার জীবনে খুব নিকটে যদি কোনো নাড়ী আসে তবে সে আমার প্রথম এবং শেষ নাড়ী হবে।
 এটাকে আমার জেদ ভাবলেও ভাবতে পারেন আপনি নীলাম্বরী ! 
এখন সে আমার জন্য উত্তম হোক কিংবা বেমানান এতে আমার কিচ্ছু যায় আসে না! 
তার জীবনের প্রথম পুরুষ  হয়তো আমি নাও হতে পারি এটা আমি ভালো ভাবেই জানি। 
কিন্তু তাতেই বা কি আমার দিক হতে আমি ঠিক থাকলেই হলো। 
সে কেমন হবে?..
 কেমন ভাবে আসবে আমার জীবনে?
তার ব্যক্তিত্ব তার সম্পর্কে কিছুই জানা নেই আমার।
 -এমনকি নির্দিষ্ট কোনো নামই জানা নেই।

একটা কাল্পনিক নামে ডাকি তাকে "নীলাম্বরী" "কাঠগোলাপ" বলে।
 আর কেবল এটুকুই জানি সঠিক সময়ে কেউ একজন আমার জীবনে আসবে রূপকথার রোমাঞ্চকর গল্পের মতো না। 
তবে নিয়তির কারণেই আসবে বাস্তববাদী হয়ে যাকে স্বয়ং স্রষ্টা আমার জন্য বানিয়েছেন।
 তাকে তো আসতেই হবে হোক  ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় এবং তাকে দেখার বড্ড ইচ্ছে জাগে আমার,
তার দিকে নির্লজ্জের মতো একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকার ইচ্ছে। 
সেই ইচ্ছে আমায় তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলে,,,,,  
আ"!! কতো সুন্দর মায়াবী অপরাজিতা তুমি। 


নিতান্ত এক,,, সময়,,

বুঝলি খেপী বুকটা ঠান্ডা হচ্ছে না!  

সেই বিকেল থেকে চোখ দুটো শুধু তোকেই খুঁজছে চারিদিক,,, 
 তারপর চলতে থাকে পাইচারি শুধু এ মাথা আর  ওমাথা,,,  

না!

অনেকবার তোকে এক চোখ দেখার চেষ্টা করেছিলাম  না হয় নি৷ 

ইদানিং  হয়তো  তোর ভাবনা একটু বেশিই বেড়েছে তাই না! 
তোর তো আবার এসব পছন্দ না। 
কিন্তু কি করি বল?
আমিও সত্যিই আর পারছি না। 
চোখে হারাই তোকে,,,, 
হ্যাঁ  সত্যিই রে.... 
খুব ভালোবাসি। 
মাঝে মাঝে কেন  চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করে  খুব ভালোবাসি প্রিয়,  খুব ভালোবাসি। 

কোথায় ছিলি?  

আচ্ছা!  
সেই থেকে এই হাপিত্যেশ এ-ই বুঝি তুই এলি! 
না!
  কেউ আসেনি। 
আমাকে কেউ মনেও করেনি,,,,, 
আমিই মিছে ভাবনার নেশায় এখন... 

আমি সত্যিই খুব বোকা.... 

আচ্ছা!
 আমার মতো বিশ্রী মানুষকে কখনোই ভালোবাসা যায় না?  
তাই কি? 
আমি খুব খারাপ একটা অপদার্থ। 
সত্যিই তো!
 সে আকাশের চাঁদ আর আমি কোথায় ছোট্ট পিদিমের মিটিমিটি ক্ষীণ আলোক শিখার প্রকাশ মাত্র,,,,

তোমার কাছে আমি নিতান্তই........ 



মায়াবী তুমি....

কাঠগোলাপ!!  !""

কি অদ্ভুত তাইনা..?  
মাঝে মাঝে জীবন নামক চলতি পথে আমাদের সাথে এমন একজনের দেখা হয়ে যায় যাকে আমরা আমাদের সেই জীবনের একটা অংশ বানিয়ে ফেলি। 
তারপর ""
আমরা হয়তো কখনো ভাবিনি কেউ এতোটা আপন হয়ে যাবে আমাদের হৃদয়ের। 
কারো মায়ায় এতোটা জড়িয়ে পড়বো আমরা.. 
বিশেষ করে আমি,,,,  
কেউই কখনোই ভাবিনি....

ভালোবাসা,, অনেক কঠিন একটা শব্দ। 
আর মায়া তার চেয়েও কঠিন এবং ভয়ংকর একটা শব্দ। 
মায়া! 
ভালোবাসা কি আমার জানা ছিলো না। 
তবে এখন ভালোবাসা বলতে বুঝছি  তোমার  সেই স্নিগ্ধ চোখ, অমায়িক হাসি,  সেই জড়ানো কন্ঠ । 
এই সবাই ছিলো আমার জন্য...... 


মায়ায় পড়েছি আমিও,,, 
নীলাম্বরীর নীলাম্বরের মাঝে খুঁজে পেয়েছিলাম প্রথম ভালোবাসার অনুভূতি।
 এক  নারীর ভালোবাসা যে বড্ড ভয়ংকর....... 


স্বপ্ন বেঁধেছি আমি,,,
 কাঠগোলাপের সংসার ,, 

পরিবার, নিজের ভবিষ্যৎ এবং নিজের সাফল্যের মাঝে সব সময় সেই মানুষটাকে পাশে পাওয়ার ! 

তাকে নিয়ে অপূর্ণ স্মৃতি চাইনা আমি। 
সেই  মানুষটাকে ছাড়া ছন্নছাড়া আমার পুরো শহর। 
তাকে নিয়ে লিখতে বসলে ক্লান্ত হবেনা আমার মস্তিষ্ক।
 দেখেছ!  কতটা মায়াবী আমার আবছা নীল...নীলাক্ত আকাশ.... . 

পরিস্থিতির স্বীকার হয়ে কখনো হারাতে চাইনা আমি তোমায়  !

কি ছিলো সেদিন?!

এ শহরের ধূলিকণা, রাস্তার প্রতিটি অলিগলি জানে কতটা অপেক্ষায় আছি আমি তোমার। 
বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা জানে কতটা চাই আমি তোমায়,, 

রাতের অন্ধকার আকাশ জানে, কতটা স্মৃতি জমা তোমার নামে,,

প্রতিটি ভোরের আলো জানে, 
পুড়েছি কতটা বিরহে এ মনে...

জ্বলে ওঠা সন্ধ্যাতারা নিয়ে কেউ করে প্রেমালাপ, 
আমি করি স্বপ্ন ভাঙার গল্প। 

পুরনো ব্যথা ঘাঁ হয়ে ফিরে আসে
ব্যথাতুর হয়ে জাগে ফিরে মনে।। 

সেই কবে শুনেছিলাম কারো মুখে -"ভালোবাসি কথাটুকু.. 
আজ বহুদিন হলো কেউ ভালোবাসি বলেনা... 

সে বলেছিল আমাদের আবার দেখা হবে,, আজ ও সে ফিরে আসেনি তবে... 

*তবে কি সে শুধুই!!!  নাকি ছিলো খানিকটা ভালোবাসা ! 

দুগ্গাশিবা

রাত প্রায় মধ্য গাগনে,, আজ আবার  কি একটা মুন নাইট আছে,,৷ আজ সব থেকে বড় চাঁদ উঠবে আকাশে,,   কি জানি কখন।  

আমার চাঁদ থাকলেও কেন জানি না পূর্নিমার ঝলক দেখি না।  কি জানি কি কারণ ভাবছে 
 "শিবা,৷ 
দুগ্গার দুই কানের পাশে হাত বাড়িয়ে৷ গাল দুখানি শিবার শক্ত হাতের মাঝে,,, 


এই দুগ্গা এই চোখ খোল,,,  খোল বলছি,,, 

একটা উষ্ণ আর্দ্র বাতাস নির্গত হচ্ছে দুগ্গার মুখ থেকে,,, 

এই দুগ্গা এবার কিন্তু  থাপ্পড় দেবো,,, চোখ খোল বলছি,,, 

এই,,  এদিকে তাকা,,,  দুগ্গা্ 

আমায় ছেড়ে যাবি না তো!  
ওই,, বল!  বল না!! 
আমায় ছেড়ে যাবি না তো! 

কিরে কাদছিস কেন? 

উত্তর  দে?  

না,  তোকে ছেড়ে যাবো না।  

সত্যিই !!!!   যাবি না তো!! 

কোথায় যাবো তোকে ছেড়ে?  

আর,,  আমার পাগলামি গুলোয় রাগ করবি না তো!

না,, রে বাবা না,,  রাগ করব না।  
তবে বাঁদরামি করলে ঘরে আটকে তোর মায়ের মতো ঠ্যাঙাবো বলে দিলাম,,,  

ঘোমাবি না!  চল.... আয়...

আজ সারাদিন


জানিস লকু,,, 
তোকে আজ সারাদিন অনেক কথা বলার ছিলো। 
কিন্তু কি করবো বল,,! 

আমার তো কপালে নেই,,,  

তোকে আমার মনের খবর পৌঁছে দেবার,,৷ 
যাইহোক,,,  
তাও সব মিলিয়ে আজ সারাদিনের গল্প তোকে বলি,,,,, 

আনন্দ দিয়ে শুরু করি,,,,  

শ্রীতমা'র মা ফোন করেছিলো,,,,  
ঐ যে মৌরি,,,,, (শুধুই বন্ধু  অন্য কিছু না🤬)

মৌরিফুলের  মৌ,,,,  

আমি মৌ বলেই ডাকবো বলেছি,,,,

সাত সকালে তিনি ফোন করেছেন (মৌরি) বলছে ও বেয়াই,,  এরপরে কিন্তু  আমার জামাইয়ের বয়স অনেক ছোট হয়ে যাবে,,, আপনি যা করার তাড়াতাড়ি করুন কিছু একটা। 

আমি উত্তরে  বললাম মৌ কি করছে,,,  
ঘুমিয়ে ছিল রাজকন্যা বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে আছে আমার দিকে,,,,  

কি দারুন লাগছিল আমি তোকে ভাষায় বোঝাতে পারবো না বলে কাঠগোলাপ,,,,  

মৌরী মুহূর্তের মধ্যে  ফোনটা কেটে দিয়ে আবার ফোন করে বলছে,,  নীল,,,   তোমার কাঠগোলাপ  কেমন আছে? 

আমি বলেছি,,  তুই  ভালো নেই,,, 

তারপর,,,,  একটাই কথা,,  তোমার বান্ধবী ললিতাকে তারাতাড়ি বিয়ে টা করো,,,,



দুপুরে ফোন করলো,, জ্যোতি,,,  ওরা দিঘায় আছে,, 
সেও বলছে দাদা এবার এলে না আগামী বছর  আমরা চার জন এই দিঘায় থাকবো,,, 

তুমি  তোমার নীলাম্বরী কে বলো সিদ্ধান্ত টা একটু তারাতাড়ি নিতে,,,,..


তারপর  প্রিয়া এসেছিলো,,,  ও আমায় যখন থেকে দাদা (যেহেতু ওর দাদা/ ভাই নেই) ডাকে তখন ও মাত্র  প্রেমে পরে,,, (সে আরেক গল্প অন্য দিন বলবো (...



সন্ধ্যেবেলা....... 

তারপর তোর ফোন.... 
তারপর  তোর সাথে কথা... 


তারপর আমি মাতাল.... 
তারপর  তোর সেই  পাগল করে দেওয়া তাকানো,,,,
তারপর আমি উন্মাদ.... 


প্রিয়,,,  রান্না টা যাই করো,,,, 
আমার জন্য রান্না করতে পারবে?  
আমি যেমন টা বলবো ঠিক তেমন "!!  
একদিনে না হলে অবশ্যই চেষ্টায় একদিন হবেই,,৷ 
কি তাই তো! প্রিয়,,, 
সেদিন হয়তো সব কিছু থাকতেও  এই আজকের মতো ঘৃণার খাবার খেয়ে ঘোমাতে হবে না,,,  


তবে হ্যাঁ আমি আগেও বলেছি,,, আর এটাই চাই,,, 

আমাদের সংসার শুধু তোমার আর আমার হবে,, সেখানে বাকি সব আমাদের মতো চলবে,,,  

প্রিয়,,,  পারবে সব ছেড়ে শুধু আমার হতে !  

ভালোবাসা অন্তহীন


সত্যিকারের ভালোবাসার গভীরতা পরিমাপ করা যায় না, 
দেখা যায় না, ছোঁয়া যায় না..।।
শুধু অনুভব করতে হয়; হৃ'দয় দিয়ে অনুভব...!! 

যার প্রখ'রতা এতো বেশি যে হৃ'দয় ক্ষা'ন্ত হয়, 
শান্ত হয়, তৃ'প্তি পায়..।। 
আহাঃ
নতুন করে বাঁচতে ইচ্ছে করে, 

ভালোবাসতে ইচ্ছে করে...!! 
আবার! 


আবার স্বাদ পেতে ইচ্ছে করে সেই অমৃতের!! 

আহাঃ!   আহা!    আহাঃ

নিজের মধ্যে জেগে ওঠে  নতুন এক স্ব'ত্বা।
 যে স্ব'ত্বা ভালোবাসায় পূর্ণ গোটা একটা সাম্রাজ্য  আবি'ষ্কার করে..!! 

যেমন ,  প্রিয় "কাঠগোলা ”,,,,,

যে সাম্রাজ্য  জুড়ে খুঁজে পায় প্রিয় মানুষটাকে, 
যাকে সে সারাজীবন নিজের করে রাখতে চায়, ভালোবাসতে চায়,
আঁক'ড়ে ধরে বাঁচতে চায়..!!

নিজের চারপাশে যার অস্তি'ত্ব কল্পনা করে 
নিজেকে বি'লীন করে দেয়...।। 

এ যেন এক অদ্ভু'ত রকমের ভালো লাগা, 
যে ভালো লাগা প্রতিনিয়ত নতুন করে ভালোবাসতে শেখায়।
আনমনে হাসতে শেখায়, পাখিদের মতো উড়তে শেখায়, বাচ্চাদের মতো চ'ঞ্চল হতে শেখায়..!! 
আমার মতো উন্মাদ হতেও শেখায়,, 

শেখায় সর্বত্যাগী হয়ে,,, ভবঘুরে হয়ে ঘোরে ওরা,, 
শেখায় " "! মুখোশের আড়ালে হাসি কান্নার লুকোচুরি। 
শেখায় যতুগৃহে শীতল বাতাস বয়ে আনতে,,, 

আর তাই তো আজ'ন্মকাল বেঁচে থাকুক সকল ভালোবাসা, 
পূর্ণতা পাক সবার চাওয়া, 
ভালোবেসে ভালো থাকুক ভালোবাসে!" যারা"...!!!!!



একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে...

"একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে", কথাটা একটা ডাহা মিথ্যা কথা। এটা আমাদের মত দূর্বল লোকদের জন্য সান্ত্বনার বাণী, বেঁচে থাকার খুঁটি, নিজেকে বুঝ দেয়ার মন্ত্র!! 

আমাদের কোনোদিনই সব ঠিক হয় না। আমাদের কোনোকিছু কখনোই ঠিক হয় না। সময় গড়িয়ে যায়, আমাদের পুরোনো ক্ষতের উপর প্রলেপ পড়ে কেবল। সেই পাতলা প্রলেপের উপর ভর করে আমরা অতীতের কষ্ট ভুলে যাওয়ার ভান করি। 

এই ভানের উপর আশ্রয় করে আমরা নিজেদেরকে নতুন করে গুছাই, স্বপ্ন দেখার চেষ্টা করি। ভুলে যাওয়ার ভানটুকুকে আঁকড়ে ধরে আমরা নিজেদেরকে সান্ত্বনা দেই এই বলে যে, "একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে।" 

আসলে আমাদের ক্ষতগুলো কখনো শুকায় না। আমরা শুধু দিনকে দিন নিজেকে ভুল বুঝানোর ব্যাপারে, সান্ত্বনা দেবার ব্যপারে দক্ষ হয়ে উঠি। বাস্তবে আমাদের জীবনগুলো কেটে যায় মিথ্যা প্রতিশ্রুতি আর অর্থহীন সান্ত্বনায়।
মাঝে মাঝে নিজেকে একা মনে হয় অনেক বেশি একা! আসলে একা বাঁচা কঠিন কিন্তু অসম্ভব কিছু না!'

তবে একটা সময় নিজেকে এত্ত নিঃসঙ্গ লাগে তখন মনে হয় কাউকে দরকার। একটা মানুষ হলে যে আমার সমস্যা দূর হবে" আমার দিনগুলো আবার সুন্দর করে ফিরে আসবে"সে ডাক্তার হয়ে সব রোগের ওষুধ দিবে এমনটা না।
তবুও একটা মানুষ দরকার পরে" মানুষটা চুপ করে পাশে বসে থাকবে-মাঝে মাঝে মাথায় হাত বুলিয়ে দিবে এবং মন দিয়ে এলোমেলো এই জীবনের সম্পূর্ন গল্প শুনবে।

জীবটা এলোমেলো করে দেওয়া ঝড় হয়তো সামলাতে পারবে না কিন্তু এই বিশাল ঝড় একা-একা সামলানোর থেকে একটা মানুষ হাত ধরে পাশে দাঁড়িয়ে থাকলে অনেকটা সাহস পাওয়া যাবে।

মাঝেমেধ্য যখন ডিপ্রেশন ভর করে তখন মানুষটা পাশে লাগে একটু ভাগাভাগি করলে নিজেকে হালকা মনে হয়।

গ্রীষ্মের সন্ধ্যা, তুমি আমি পাশাপাশি হাঁটতে যাবো রেললাইনের ধারে। ক্লান্ত হয়ে গেলে কাছেই কোনো দোকান থেকে এক কাপ রঙ চা নিয়ে বসে পড়বো দুজন 
গল্প করবো সারাদিনের, কাল কি করবো কোথায় যাবো
লোডশেডিং এর সন্ধ্যা আলো একদম নেই। মৃদু দখিনা বাতাস এসে লাগছে চোখে মুখে 
আমি শাড়ির আচল জড়িয়ে গরম কাপ হাতে নিতে পারছি না বলে তুমি ফু দিয়ে দিচ্ছো..
জানো, এমন একটা দিনের আশা আমি সবসময় করি। 
সারাদিন অনেক কথা বললেও তাঁর সামনে আসলে, শব্দ বোধহয় একটু জিরিয়ে নেয়। ভাষা তো অনেকেই বোঝে কিন্তু নিস্তব্ধতা সবাই যে বোঝেনা। শব্দহীন সেই কথোপকথনের লোভেই হয়তো বারবার তাঁর কাছে যাই। কি অদ্ভুত তাই না! দু'টা মানুষ পাশাপাশি বসে আছে। অথচ কেউ কিছু বলছে না..

এমন একটা দিন হলেও আসুক। কোনো কথা হবে না, ছুঁয়ে দেখা হবে না শুধু চোখের দিকে তাকিয়েই কেটে যাবে পুরোটা সময়।
কিন্তু, আজ তুমি নেই কবে আসবে কিচ্ছু জানি না
শুধু জানি তীব্র ভালোবেসে অপেক্ষা করলে, কেটে যাওয়া প্রতিটা মুহূর্ত সুখের হয়।

তোমার জন্য পৃথিবীর সমস্ত কিছু ছেড়ে এসে দেখি তোমার মধ্যে পৃথিবী নেই তুমি আমার কল্পনার কাব্য মাত্র।
পুরনো সে পৃথিবীই বরং ভালো ছিলো, যে পৃথিবীর সমস্তটা জুড়ে ছিলে শুধুই তুমি...

চাওয়া থেকে পাওয়া অবধি যেতে যেতে এর মধ্যে আমাদের অনেক কিছু হারিয়ে যায়। এমনকি চাওয়ারও পরিবর্তন হয়।

জানি দেখা হবে-
রাতের শরীরে........


নৈতিকতার জয়

এক দৌড় প্রতিযোগিতায়। 
কেনিয়ার হয়ে দৌড়চ্ছিলেন আবেল মুতাই। খুব ভাল দৌড়চ্ছিল, সবাইকে পিছনে ফেলে প্রায় পৌঁছে গেছেন শেষ ল্যাপে।

তার পেছন পেছনই ধেয়ে আসছেন স্প্যানিশ অ্যাথলেট ইভান ফার্নান্ডেজ।

শেষ সীমানার অল্প একটু আগে  পৌঁছে বিভ্রান্ত হয়ে পড়লেন আবেল মুতাই, তিনি ফিনিশিং লাইন বুঝতে না পেরে ভাবলেন তিনি জিতে গেছেন আর দৌড়ের গতি কমিয়ে দিলেন...!!

তার পেছনে থাকা স্প্যানিশ অ্যাথলেট ইভান ফার্নান্ডেজ আন্দাজ করে ফেললেন আবেল মুতাইয়ের কনফিউশানের ব্যাপারটা, আর সাথে সাথেই স্প্যানিশ ভাষায় চিৎকার করে আবেলকে বলতে শুরু করলেন,  দৌড় শেষ হয়নি, তুমি দৌড়তে থাকো...!! আবেল স্প্যানিশ ভাষা না বুঝে আরো বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। ইভান বুঝতে পারে আর কোনো উপায় নেই... সে  আবেলের কাছাকাছি এসে  একরকম ধাক্কা মেরে ভিক্ট্রি লাইন পার করে জিতিয়ে দেয় আবেল মুতাই কে...!!

দৌড় শেষ হবার পর সাংবাদিকরা ঘিরে ধরে ইভানকে। প্রশ্ন একটাই, তুমি এইরকম কেন করলে..??

ইভান  ফার্নান্ডেজ বললেন, আমি একটি  সামাজিক পৃথিবী চাই যেখানে আমরা সবাই সবাইকে সাহায্য করব। সাংবাদিকরা সন্তুষ্ট হয়না এই জবাবে, সে প্রশ্ন করে, কিন্তু তুমি না জিতে ওকে জিতিয়ে দিলে কেন..??
ইভান ফার্নান্ডেজ বললেন জয়টা আমার প্রাপ্য ছিলোনা, যে প্রাপ্য ছিলো আমি তাকে সাহায্য করেছি মাত্র।  আর এমন জয় দিয়ে কি পাবো, একটা মেডেল...?
যেখানে নৈতিকতা থাকবে না...
আমার মা আমাকে সে শিক্ষা দেয় নি....।

কাহিনীটা পড়ে এক অন্যরকম অনূভুতি হলো আমার...
আমাদের পরিবার-সমাজ, আমাদের শিক্ষা-সংস্কৃতি শুধুমাত্র আমাদেরকে জিততেই শিখাচ্ছে কাউকে জিতাতে শিখায়নি কখনো । আমাদের শুধু জিতা প্রয়োজন, সফল হওয়া প্রয়োজন সেটা যেভাবেই হোক যে কোন মাধ্যমেই হোক।
কাউকে জিতানোর মধ্যেও জিতে যাওয়া থাকতে পারে কাউকে সাহায্য করার মধ্যেও সফলতা থাকতে পারে এগুলা কখনোই আমাদের শিক্ষায় আমাদের চিন্তায় নেই, কেনো নেই...!!

শূন্য হিসেবের খাতা


তোমায় নিয়ে আমার কোনো স্মৃতি লেখা নেই।তোমার  সাথে কাটানো দিন গোনা নেই, তোমার  সাথে কল্পনার সমাহার নেই, তোমায় ছোঁয়ার সাধ্য নেই।
তুমি  যেন আমার ছুঁতে না পারা ব্যাকুলতা। 

বৃষ্টিতে  কাঠগোলাপের গাছটি ভিজে ছুপছুপ। তোমার  নামে লাগিয়েছিলাম এই গাছটি, 
আমার হাত কাঁপছে এই  কাব্যের......

এই যাক-জমক আলোর শহর আর আমার হৃদয়টা!  অন্ধকার! 

এই যে গতরাতে ভেবে রাখলাম কতশত কথা বলবো তোমায়, তবে সব কিছু কেমন ধোঁয়াসা হয়ে গেলো। 
আমি চুপচাপ শক্ত ভাবে চেয়ে রইলাম মাত্র। 
পুরো তিন রাত জানালায়  বসে মন খারাপির জোগান দিয়েছি।
 আজও হয়তো তাই করবো 
এতে আমার প্রাপ্তির খাতা শূন্য রবে আর আমি সিক্ত। 
দীর্ঘশ্বাস ফেলে বিদায়ের ঘন্টা বাজছে কোথাও । যতটুকু ভেবেছি তারচেয়ে অনেক কিছু ভাবনা  বাকি আছে।
আমি হারিয়ে যাচ্ছি তীব্র অভিমানে। 

শব্দ দিয়ে কি কখনো অনুভূতি পুরোপুরি বোঝানো যায়? 

এই যে পরিপাটি দেয়ালের মতো নিজেকে সাজিয়ে রেখেছি বাহির থেকে, 
আর ভেতর থেকে  ঝলসে গেছি।
কেউ বুঝবে না!  কেউ জানলোও না।
তুমি!  নিজেও বুঝলেন না আমি  নামের এক উন্মাদ পাগল  তোমার বিরহে নিজেকে শেষ করে দিচ্ছে তিলে তিলে.......

মানুষ দেবী পূজা করে সেই দেবীও মৃন্ময়ী মূর্তির থেকে চিন্ময়ী হয়ে পুজারির সামনেই থাকেন।  মনেপ্রাণে আমিও সান্নিধ্যে থাকতে চেয়ে ছিলাম তোমার। 
 আর তুমি বার বার শুধুই  উপেক্ষা করেছিলে। 

মানুষ জানেইনা, ফানুস ওড়েনা, বাঁকধারা অভিমান থেকে যায়।
তোমার  সান্নিধ্য ছাড়া কি কখনো কিছু চেয়েছিলো সেই সাধক! ? 
অথচ তুমি  তাকে তীব্র অবহেলায়, হেয়ো করলে!
 তার ভালোবাসাকে আবেগ বললে!

 আচ্ছা আবেগ বুঝি এতো দীর্ঘ দিন রয়ে যায়?

 প্রকৃতি জানে,আকাশ জানে আমার অনুভূতিরা জানে  তোমায় আমি কতটা ভালোবাসি। 
আমি এক হাহাকারে ডুবে গিয়েছি দীর্ঘশ্বাসে। 

"বিষাক্ত হয়ে গেছি আমি, আমার অনুভূতি, আমার স্বপ্ন, আমার শহর, ঠিকানা বিহীন একটা অবয়ব এর নিকট  কেউ একটা চিঠি লিখে জানিয়ে দিও  যাকে আমি প্রাণপণে চেয়েছি।
সে আর কেউ নয়।  সে তুমি। 

জানো,আমি যখন  যোগ-বিয়োগ মিলাতে ব্যস্ত হিসেবের খাতায় তখন পেলাম শূন্যতা। 
আমাদের মধ্যে কার এই যোগ-বিয়োগে আমার সমাধি। 
অবাক হচ্ছো  ?  তোমায় "তুমি" বলে সম্বোধন করায়।
শেষ বেলায় না হয় একটু অধিকার নিয়ে তুমি বলে সম্বোধন করলাম।। 

আমি তোমার তীব্র অবহেলায় এখনো দাঁড়িয়ে। আমার ভেতর বয়ে যাচ্ছে এক অনন্ত সমুদ্র। যদি কখনো এই সাধকের  প্রতি মায়া জম্মে , তবে ফিরে এসো, সেও শত অভিমান আলিঙ্গন করে, সব ভুলে যাবে! 

তুমি এসো........ 

সেদিনও এমন বৃষ্টি ছিলো

ঘরের আলোগুলো  বন্ধ, জানালা গুলো  খোলা , পড়দা গুলো উড়ে ঘরের ভেতর আসছে,,, নিয়ে আসছে ঠান্ডা হাওয়া,,
    জানালার পাসে দেওয়ালে হেলান দিয়ে  দ্বীপ,...শিখা  ওর শরির টা দ্বীপের গায়ে হেলিয়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করে নিচ্ছিলো বড় বড় দীর্ঘ নিশ্বাস।।।। 
এই সময় দীপ বলে উঠলো,, 
একটা কথা বলব মন্দিরা? 

এই তোকে না বলেছি এসব উল্টোপাল্টা নামে আমায় ডাকবি না... 

বলতে বলতে দ্বীপের হাত শিখার মাথায় বুলিয়ে দিতে লাগলো। বার তিনেক ভুলিয়ে দিতেই... 

ও আচ্ছা কি নাম তোর? 

আমার নাম !  আমার নাম....  কি নাম রে আমার? 

ওর মাথায় হাত বুলিয়েই যাচ্ছে দ্বীপ,,,,,
তোর নাম তো ভেবলি বুড়ি,,,, 

জানোয়ার,,,, 
সেটা তো আমার নাম তুই দিয়েছিস।  
তোর নাম কি ?
আমার নাম,,, রাই,,, শুধু তোর রাই,,,

শুধু আমার!  

হ্যাঁ আমি শুধুই তো আমি সারা জীবন তোর,,,।

মন্দিরা!  

তুই আবার আমায় ওইসব নামে ডাকছিস।
 না ওই নামে আমায় একদম ডাকবি না। 
আমার কেমন পাপী পাপী মনে হয়।
প্লিজ তুমি ও নামে ডাকবে না আমায়।


শিখার তুমি করে সম্মোধনে  দ্বীপ খোজে গভীরতা,, 


আমি কখনো তাড়িয়ে দিবি  না তো! 
আমি সেদিন পথে পথে ঘুরবো পথেই পড়ে থাকবে। 
বাড়ি ঘড় আপন আত্মীয় সব ভুলে যাবো,,, 
শুধু অপেক্ষা করব মৃত্যুর,,
আমি কি আবার ফিরে আসবো। 
আমাকে আবার খুঁজে বের করতে হবে তোকে ।
আমি আবার প্রেমে পড়বো। 
আমি যে তোর প্রেমিক হতে চাই জন্ম জন্মান্তরের,, 
আমায় কখনো তাড়িয়ে দিবি না তো! 

এই তোর মুখ থেকে কিসের গন্ধ আসে রে? । তোকে না আমি বারবার বলেছি এসব ছাইপাস খাবিনা। 
খাচ্ছিস খা বুড়ো বয়সে যখন রোগে ভুগবে তখন কিন্তু আমি লাথি মেরে ঘর থেকে বের করে দেবো। 
তখন আমার পাশে গ্যাঙ্গোর গ্যাঙর করলে বুঝবি মজা। 

কি!...
আমার বুড়ো বয়স পর্যন্ত তুই আর আমি একসাথে থাকব!!! 

না না!  অন্য ভাতারের সাথে থাকবে।  হ্যাঁ ভাবতেই তো পারি,,,  আসলে আমি তো তাই!  তাই  না"!। 
 আমার জীবনের সমস্তটাই তো তুই জানিস... 
যেখানে আমার নিজের লোকেরাই বলে আমি একটা নষ্ট মেয়ে,,,,,  সেখানে তুই আর কি বলবি! 

শিখার গালে একটা চড় মেরে জাপটে ধরে বুকের কাছে নিয়ে তুই আমার ভালোবাসার মন্দিরের দেবী,, 
আমি তোর  সেবক হতে চাই জন্মজন্মান্তরের,,, 
তোর এই কথা গুলো আমায় দুঃখ দেয়,,, 
এই ভাবে বলিস না সুন্দরী.... কমলা,,,  

আবার সেই বা★ ছালের নামে ডাকে।

এই তুই আমায় একটা নামে ডাকতে পারবি না? 

বল,,!  বল 

আমি তো ভুবন ভোলা একটা মানুষ। 
মন এই ভালো এই খারাপ,, আবার উদাস,,  
আমি কখন কি নিজেই জানিনা,,,  
আমি তোর এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবো না। 

শুধু আমার একটাই কথা,,,  আমায় কখনো তাড়িয়ে দিস না!... 
কেন জানি বারবার মনে হয় আমার অতিরিক্ত ভালোবাসা এক সময় তোর কাছে বিষের মত মনে হবে।
  আর আমি তখন হয়ে যাব বিষাক্ত একটা মানুষ। 
তখন আমাদের বিচ্ছেদ হবে। 

ও,,আচ্ছা,,,  এতই যদি মনে হয় তাহলে পিরিত একটু কম  কম দেখা,,,  

এখন চল ভিজতে যাই,,,  খুব বৃষ্টি হচ্ছে। 

এই এত রাতে এখন বৃষ্টিতে ভিজবি? 

চল না!  চল,,  চল।

তোর ঠান্ডা লাগবে তো কাল আমাদের বাড়ি ফিরতেই হবে,,,  

আমার কাছে তুই আছিস তো চিন্তা কিসের আমার চল এখন বৃষ্টি ভিজি। 

সেদিন ও এমনই বৃষ্টি ছিলো,,,  



বিদ্যুৎ আসার আগে গ্রীষ্মকালে এ অঞ্চলের মানুষ ঘরের বাইরে গাছতলা কিংবা বারান্দায় ঘুমাত, সঙ্গে থাকত হাতপাখা। পরবর্তীতে ব্রিটিশদের দেখাদেখি স্বচ্ছল ও অভিজাত বাড়িতেও পাংখা বা টানা পাখা ব্যবহৃত হতে থাকে।

*****বারান্দায় শুয়ে পাখা টানছেন তিন পাঙ্খাওয়ালা।
ছবি: রয়াল সোসাইটি ফর এশিয়ান অ্যাফেয়ার্স, লন্ডন/ ব্রিজম্যান ইমেজেস******

টানাপাখাকে কেন্দ্র করে ১৭ শতকে পাঙ্খাওয়ালা নামের নতুন এক পেশাজীবী শ্রেণির উদ্ভব ঘটে। পাখাগুলো যারা টানতেন, তাদের পাঙ্খাপুলার বা পাঙ্খাওয়ালা বলা হতো।

ঔপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থায় বৃটিশরা ভারতীয়দের সঙ্গে কীরূপ আচরণ করত, তা পাঙ্খাওয়ালাদের সঙ্গে তাদের ব্যবহার থেকেই অনুধাবন করা সম্ভব। ভারতবর্ষে শাসন করা সত্ত্বেও বৃটিশরা এদেশের সাধারণ মানুষকে কখনোই তাদের কাছে ঘেষতে দেয়নি। কিন্তু পাঙ্খাওয়ালাদের কাজ তো দূর থেকে সম্ভব নয়। তাদের দিনরাত ২৪ ঘণ্টাই অবিরাম পাখা টানার কাজ করতে হতো। আর তাই যে ঘরে ইংরেজ সাহেব-বিবিরা অবসর যাপন করতেন সেখানে তাদের উপস্থিতি কাম্য ছিল না। অধিকাংশ সময় বারান্দা কিংবা বাইরের ঘরেই তাদের ঠাঁই মিলত।

তাছাড়া বিশাল এক জনগোষ্ঠীকে পদানত করে শাসন করা যে সহজ কাজ নয় তা ব্রিটিশরা ভালোমতোই জানত। আর তাই গুপ্তচরদের থেকেও তাদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়েছিল। ইতিহাসবিদ অরুণিমা দত্তের মতে, সময়ের সঙ্গে পাঙ্খাওয়ালা নিয়োগে এক নতুন প্রবণতা দেখা দেয়। বধির, বয়স্ক কিংবা শ্রবণ শক্তি কম, এমন ব্যক্তিদের পাঙ্খাওয়ালা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া শুরু হয়।

ঘরের বাইরে ছাড়াও অনেকসময় ঘরের ভেতরে এক কোণায় পাঙ্খাওয়ালার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা বরাদ্দ ছিল।

পাঙ্খাওয়ালাদের গায়ে ইংরেজরা প্রায়ই হাত তুলত। তাদের দিকে জুতা ছুড়ে মারা কিংবা গালিগালাজ করাও ছিল সাধারণ বিষয়। নিয়মিত নির্যাতনের বাইরেও ইংরেজদের বিরুদ্ধে তাদের হত্যার অভিযোগও মিলে। দ্য ডন পত্রিকার কলামিস্ট রাফিয়া জাকারিয়া লিখেছেন, একজন পাঙ্খাওয়ালাকে হত্যার শাস্তি হিসেবে ব্রিটিশ আমলে একজন শ্বেতাঙ্গকে মাত্র ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। ব্রিটিশ উপনিবেশবাদ ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষের ওপর প্রকৃত অর্থেই যে দাসপ্রথা চাপিয়েছিল, ইতিহাসে তার স্বাক্ষ্য বহন করছে পাঙ্খাওয়ালারা। ব্রিটিশ সাহেব, বিবি ও তাদের সন্তানদের কাছে একজন সাধারণ ভারতীয় ভৃত্যের জীবনের মূল্য মাত্র ১০০ রুপির বেশি ছিল না।

শ্বেতাঙ্গরা এই পাঙ্খাওয়ালাদের কীভাবে দেখতেন তার উদাহরণ মিলে 'দ্য কমপ্লিট ইন্ডিয়ান হাউজকিপার এন্ড কুক' বইয়ে। বইটিতে ফ্লোরা অ্যানি স্টিল ও গ্রেস গার্ডিনার লিখেছেন, পাঙ্খাওয়ালারা ছিল অলস। পাখার বিষয়ে দুই লেখকের মতামত হলো, মশা তাড়াতে কিংবা ছাদে ঘুমালে এগুলো তেমন কাজে লাগে না। তবে খাবার সময় এটা ছিল জরুরি। তাদের ভাষায়, কুলির হাতে পাখার দড়ি থাকলেই যেন তাদের চোখে রাজ্যের ঘুম এসে ভর করত।

পাঙ্খাওয়ালার কাজ কঠিন না হলেও পরিশ্রমসাধ্য ছিল। কিন্তু ইংরেজ মনিবদের কাছে যে তার কদর ছিল না, তা তাদের বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়। বাতাস করতে করতে ভুলে ঘুমিয়ে পড়লেই শাস্তি ছিল নিশ্চিত। 

সমাজের নিম্নশ্রেণির মানুষরাই পেটের দায়ে পাখাওয়ালার কাজ নিতেন। এই কাজের জন্য তারা খুব বেশি অর্থ পেতেন না। তা সত্ত্বেও কিন্তু সেসময় পাখাওয়ালাদের পেশা অপরিহার্য হয়ে উঠেছিল।

হিসাবের খাতা অনুযায়ী, ১৮ শতকে সারাদিন পাখা টানার জন্য পাখাওয়ালারা তিন আনা করে মাইনে পেত। রাতে কাজ করলেও একইহারে বেতন থাকত। পাখা টানা ছাড়াও তাদের বাড়ি ও দপ্তরের বিভিন্ন ফুটফরমায়েশ খাটতে হতো।

একসময় ভারতীয় উপমহাদেশের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে টানা পাখা। আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চলেও অনেক প্ল্যান্ট মালিকদের বাড়িতে টানা পাখার প্রচলন শুরু হয়। সেখানেও দরিদ্র শ্রেণির পাঙ্খাপুলারদের অভাব ছিল না।

তবে বিদ্যুৎ আসার সঙ্গেই কমতে থাকে টানা পাখার ব্যবহার। ১৯ শতকের শেষ দিকে উপমহাদেশে বিদ্যুৎ আসে। ১৮৭৯ সালে কলকাতায় প্রথম বিজলিবাতি জ্বালানো হয়। ১৮৯৯ সালে চালু হয় বৈদ্যুতিক পাখা। ফলে সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যেতে থাকে টানা পাখা। বিংশ শতাব্দীতে এসে পাঙ্খাওয়ালা পেশাটিও বিলুপ্ত হয়। প্রযুক্তির উন্নতির সাথে তাদের মুক্তি ঘটলেও ইতিহাসে চিরকাল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক বর্বরতার স্বাক্ষ্য বহন করবে এই পাঙ্খাওয়ালারা।

এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ভারতে গ্রীষ্মকাল। ভারতের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে গ্রীষ্মকাল তাড়াতাড়ি আসে। এই অঞ্চলে এপ্রিল ও মে মাসে সবচেয়ে বেশি গরম পড়ে। এরপর বর্ষা আসলেই কমতে থাকে তাপমাত্রা। পূর্ব ভারতীয় ও উপকূলীয় অঞ্চলে কালবৈশাখী ঝড়বৃষ্টিতে গরম পড়ে দেরিতে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বৃষ্টি কমার সাথে বাড়তে থাকে তাপ। সমুদ্র থেকে আসা আর্দ্রতার কারণে ভ্যাপসা গরমে দমবন্ধ অবস্থার সৃষ্টি হয়।

ঘরের সিলিং থেকে বড় কাঠের ফ্রেমে পাখার কাপড় আটকানো থাকত। পাখার নিচের অংশে থাকত মসলিনের ঝালর। সিলিং থেকে ঝুলানো পাখাগুলো লম্বায় ৮ থেকে ১২ ফিট এমনকি অনেকসময় ২০ থেকে ৩০ ফিটও হতো। সিলিংয়ের ৩-৪টি হুক থেকে বাহারি দড়ির সঙ্গে পাখার কাপড় ঝুলিয়ে দেওয়া হতো। সময়ের সঙ্গে এই পাখায় নানা পরিবর্তন আসে। কাপড়ের পরিবর্তে শীতলপাটির ব্যবহারও দেখা গেছে।

পাখার সঙ্গে যুক্ত অন্য একটি দড়ি দেওয়ালে গাঁথা পিতলের চাকার ওপর দিয়ে গর্তের মধ্যে দিয়ে ঘরের বাইরে পৌঁছাত। সেখানে বাইরে থাকা পাঙ্খাওয়ালার হাতে থাকত দড়ির শেষ প্রান্ত। মেঝের ওপর পা মুড়ে বা বসে বসে তারা বিশেষ ছন্দে পাখা টানত। সাহেবদের ইচ্ছানুযায়ী কখনো ধীরে বা কখনো দ্রুত দড়ি টেনে বাতাস করা হতো।

১৮৯৫ সালে জিএফ অ্যাটকিন্সনের লেখা 'কারি এন্ড রাইস' বই অনুযায়ী এই দিকটিকে বলা হতো বম্বে সাইড। আর অন্য যেদিকে পাখার ঝাপটায় হাওয়া কম, সেদিকটি বেঙ্গল সাইড নামে পরিচিত ছিল।

১৯০৮ সালে প্রকাশিত 'ইকোস ফ্রম ওল্ড কলকাতা' বইয়ে এইচ ই বাস্টিড লিখেছেন, ১৭৮৪ থেকে ১৭৯০ সালের মধ্যে কলকাতায় টানা পাখার আবির্ভাব ঘটে। ১৭৮৩-৮৪ সালে সোফিয়া গোল্ডবর্ন নামের ইউরোপীয় নারীর চিঠিতে ভারতীয় পাখার উল্লেখ পাওয়া যায় বলে তিনি জানান। গোল্ডবর্ন তালপাতার হাতপাখা এবং টানা পাখা এই দু'ধরনের পাখার কথা লিখেছিলেন। টানা পাখাগুলো সাহেব ও অভিজাতদের বাড়ির ঘরের সিলিং থেকে ঝুলত।

তবে বাস্টিড জানান, পর্তুগিজদের আগেও ভারতের মানুষ টানা পাখার সঙ্গে পরিচিত ছিল। তবে সেটি উত্তর ভারতে। মোগল আমলে টানা পাখার প্রচলন ছিল। সম্রাট শাহজাহানের ছেলে যুবরাজ দারা শুখোর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ছিলেন ফরাসি পরিব্রাজক ও চিকিৎসক ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ে। তিনি পরবর্তীকালে সম্রাট আওরঙ্গজেবের দরবারের নিয়মিত সদস্য ছিলেন। বার্নিয়ের 'ট্রাভেলস ইন দ্য মোগল এম্পায়ার' বইয়ে এক মোগল অমাত্যের অন্দরমহলে টানা পাখা দেখার বর্ণনা পাওয়া যায়।

১৭৭৪ সালে স্থাপিত ক্যালকাটা সুপ্রিম কোর্টের বেঙ্গল ইনভেন্টরি অনুসারে, ১৭৮৩ সালের ৩ জুন মৃত্যুবরণ করা রিচার্ড বেরারের সম্পত্তির তালিকায় 'কাপড়ের পাখা'র উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে সে সময়ও টানা পাখার ব্যবহার ছিল সীমিত।

তথ্যসুত্রঃঃঃঃঃ ফ্যানিং দ্য ফরেনারস, রাফিয়া জাকারিয়া , পাংখা: দ্য হ্যান্ড অপারেটেড সিলিং ফ্যানস অব কলোনিয়াল ইন্ডিয়া, কৌশিক পাটোয়ারি , ইরাবতীর ইতিহাস: টানা পাঙ্খার গল্প, দামু মুখোপাধ্যায়

রাত বলে দিন কে
কেমন আছো তুমি?
দিন বলে রাত উচ্চস্বরে 
খুব ভালো আছি আমি,,,

দিন শুধালো আমার একটা কথা ছিলো
বলো দেখি "রাত" তুমি এত কেনো কালো?

রাত বলে অন্ধকারে
আমি থাকি খুব ভালো?
কালো হবে  এটা 
           স্বাভাবিক কথা,,,
তাই তো কেউ বোঝে না
   আমার যত ব্যাথা,,
দিবা স্বপ্নে মানুষ গুলো  মুখোশ মুখে 
যে আনন্দে করে
অন্ধকারে মনের মধু 
        সব অশ্রু হয়ে ঝড়ে,,,

ভালোবাসা ফুরায় না


স্বার্থ ফুরাইলে দেখবে  বন্ধু আর  নাই। 
 আর কাজ ফুরাইলে আদর নাই।।
আলো ফুরাইলে  যেমন আধার ভাই!
দিন ফুরাইলেও দেখবে একদিন জীবন নাই,,,,

শুধু ভালোবাসা ফুরায় না ভাই
  সে তো কেমনে কেমনে বাড়ে,,,
ঘড়ির কাটার সাথে সাথে
যেমন  আমার বয়স টাও বাড়ে,,

জীবন থেকে ফুরিয়ে  গেছে আত্রিশ টা বসন্ত,,,,,
আর ফিরে পাবো না,, করলে তপস্যা অনন্ত,,

চুরি করে ফিরিয়ে আনতাম ফুরিয়ে  যাওয়া বসন্ত, অনেক চোরই সঙ্গ দিতো যদি ঠিকানা কেউ জানতো,, 

ফুরিয়ে গেছে ছেলেবেলা দুধের দাতের সাথে,,
হারিয়ে গেছে খেলারমাঠ বিদ্যালয়ের সাথে,,,
নানান কাজে ব্যাস্ত সবাই সময় কাউর নাই,
ভালোবাসা  আজও আছে,কিচ্ছু ফুরায় নাই,,

ফুলবাগিচা আজও আছে ফুলেরা সব বাহারি,, 
জুই,মালতী, চাপা,কদম, গন্ধহীন আজ আহারে!!

নকল ফুলের মেলায় আজ আসল চেনা দ্বায়,,
ভালোবাসা  একই আছে কিচ্ছু ফুরায় নাই,,

পান্ডু বংশ

🏹

পাণ্ডবদের নাম সবাই বলতে পারবেন। কিন্তু পাণ্ডবপুত্রদের নাম জিজ্ঞেস করলে? অভিমন্যু, ঘটোৎকচ..... ব্যাস্, তালিকা শেষ। যাদের একটু চর্চা আছে, তারা বভ্রুবাহন, ইরাবন বলতে কীপারেন। এর পরেও গোটা আটেক নাম আছে, তা ক'জন জানেন?

বড় গাছের নীচে ছোট গাছপালা টেঁকে না কারণ, বড় গাছের ডালপালা, নীচে রোদ-বৃষ্টি আসতে দেয়না। কিছু বড় গাছের শেকড় থেকে জাগলন (জুগ্লনে) নামক একরকম রাসায়নিক পদার্থ নির্গত হয় যা ছোট গাছপালাগুলিকে শেকড় ছাড়তে দেয়না। তাতে ছোট গাছগুলির বাড় যায় কমে। কখনও তারা শুকিয়েও যায়।তেমনি বিরাট ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি, তুলনায় কম শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব, চোখেই পড়েনা। তাই, প্রত্যেকে বড় বীর হওয়া সত্ত্বেও, পাণ্ডবদের ছেলেদের কথা বিশেষ শোনা যায়না।

পাঁচ পাণ্ডবের, দ্রৌপদীর গর্ভজাত, একটি করে ছেলে ছিল। এরা হল 'উপপাণ্ডব' অর্থাৎ 'জুনিয়র পাণ্ডব'।

সর্বজ্যেষ্ঠ উপপাণ্ডব হল যুধিষ্ঠিরের ছেলে - প্রতিবিন্ধ্য। মেজভাই, নকুলের ছেলে শতানীক। পরের ভাই, ভীমের ছেলে সুতসোম। চার নম্বর ভাই, সহদেবের ছেলে শ্রুতসেনা। আর কনিষ্ঠ উপপাণ্ডব হল শ্রুতকর্মা, যার পিতা অর্জুন। এরা প্রত্যেকেই বিশিষ্ট বীর। প্রত্যেকেই কুরুযুদ্ধে পাণ্ডবপক্ষে বীরত্বের সাথে লড়াই করেছিল।মহাভারতে উপপাণ্ডবদের কথা বিশদে বলা হলেও, আমরা, সাধারণ পাঠককুল তাদের কোন খোঁজ রাখিনা, কারণ তাদের বাবারা হল পাণ্ডবরা। শৌর্যবীর্যে অতি দীপ্যমান। প্রাংশু মহীরুহ।

দ্রৌপদী ছাড়াও, যুধিষ্ঠিরের বিয়ে হয়েছিল শৈব্য সম্প্রদায়ের কন্যা দেবিকার সাথে। তাদের একটি ছেলে ছিল, নাম যৌধ্যেয়। নকুলের আরেক স্ত্রী হলেন চেদী রাজকন্যা করেনুমতী। এঁদের ছেলে নিরমিত্র। মদ্রদেশের রাজকন্যা বিজয়া ছিলেন সহদেবের অপর স্ত্রী। তাদের ছেলে সুহোত্র। 

পাণ্ডবসন্তানদের মধ্যে বয়সে সবচেয়ে বড় হল ঘটোৎকচ। বাবা ভীম, মা রাক্ষসকন্যা হিড়িম্বী (হিড়িম্বা নয়। হিড়িম্বা ছিল হিড়িম্বীর দাদা, যে ভীমের হাতে প্রাণ দিয়েছিল।)। ঘটোৎকচের বীরত্ব মহাভারতে সবিস্তারে বর্ণিত হয়েছে।

আর অভিমন্যু ছিল পাণ্ডবদের ছেলেদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ। অর্জুন-সুভদ্রার  ছেলে। ষোল বছরের এই অত্যাশ্চর্য যোদ্ধার মর্মান্তিক মৃত্যু ছিল মহাভারতের একটা টার্নিং পয়েন্ট।

অর্জুনের মণিপুরী স্ত্রী ছিল রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদা। তাদের ছেলে বভ্রুবাহন। চিত্রাঙ্গদার সাথে অর্জুনের বিয়ের শর্ত ছিল, ওদের সন্তানাদি হলে সে মণিপুর ত্যাগ করতে পারবেনা,মণিপুরের রাজ্যপাট তাকেই সামলাতে হবে। সেইমত, বভ্রুবাহন মণিপুরেই থেকে গিয়েছিল। কুরুযুদ্ধে অংশ নেয়নি সে।

অজ্ঞাতবাসকালে নাগকন্যা (নাগাল্যাণ্ডের রাজকন্যা) উলুপীর সাথেও অর্জুনের বিয়ে হয়। তাদের একটি ছেলেও হয়। নাম ইরাবন। কুরুযুদ্ধে অংশ নিয়ে, যুদ্ধের অষ্টম দিনে ইরাবনের মৃত্যু হয়েছিল রাক্ষস অলম্বুষের মায়াজালে বিভ্রান্ত হয়ে। তবে মারা যাবার আগে কৌরবপক্ষের  অসংখ্য গান্ধার (আফগান) যোদ্ধার প্রাণ নিয়েছিল বীর ইরাবন। শ্রীকৃষ্ণ আগেই জানতেন, সেদিনের যুদ্ধে ইরাবনের মৃত্যু হবে। কিন্তু, ইরাবনের মৃত্যু আটকাতে শ্রীকৃষ্ণ একটুও চেষ্টা করেননি (কেন করেননি, সে আরেকটা কাহিনী।)।

মহাভারত পড়লে দেখা যায়, পাণ্ডবরা ছাড়া, (বিশেষ করে অর্জুন), শ্রীকৃষ্ণ আর কাউকে বাঁচাতে তেমন তৎপর ছিলেননা। তিনি চেষ্টা করলেই ইরাবনের মৃত্যু আটকাতে পারতেন। ঘটোৎকচেরও। পুত্রসম ঘটোৎকচের প্রাণ গেল কর্ণের 'বাসবী শক্তিতে'। ভীমপুত্রের অন্তিম  আর্তচিৎকার কৃষ্ণের বুকে শেল হয়ে বিঁধেছিল ঠিকই, কিন্তু তাঁর মুখে ছিল স্মিত হাসি। কারণ, প্রাণে রক্ষা পেয়ে গিয়েছিল সখা অর্জুন। কর্ণের 'বাসবী শক্তির' কোন জবাব ছিলনা অর্জুনের কাছে। কর্ণ এই তীরটা সযত্নে বেছে রেখেছিল অর্জুনকে মারার জন্য। 

শ্রীকৃষ্ণ জানতেন, কৌরবদের সমূলে বিনাশ করতে গেলে অর্জুনের বাঁচাটা অনেক বেশি প্রয়োজনীয়। তাই, তাঁর সবচেয়ে প্রিয় ভাগনে, অভিমন্যুও যখন ব্যূহ থেকে বেরোনোর রাস্তা না জেনেও চক্রব্যূহে প্রবেশ করছে, তখন বাসুদেব তাকে নিরস্ত করেননি। প্রতিটি মৃত্যুই তিনি রোধ করতে পারতেন। যেমন, অশ্বত্থামার ছোঁড়া ব্রহ্মাস্ত্রে নিহত উত্তরার গর্ভস্থ পরীক্ষিৎকে বাঁচিয়েছিলেন। তিনি অন্যদের ব্যাপারে এতটা নির্বিকার থাকলেন কীভাবে?

যুগে যুগে বিষ্ণু অবতীর্ণ হয়েছেন, ত্রেতাযুগে রাম, তো দ্বাপরযুগে কৃষ্ণ হয়ে। রামের মত, কৃষ্ণের আবির্ভাবও  ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য। গীতায় আছে, 'ধর্মসংস্থাপনার্থায়, সম্ভবামি যুগে যুগে'। তাই তাঁর সবকাজে উদ্দেশ্য ছিল একটাই - ধর্মের জয়, অধর্মের পরাজয়। নিজেই গান্ধারীর, যদুবংশবিলোপের অভিশাপ মাথা পেতে নিয়েছিলেন। ধর্ম প্রতিষ্ঠা করতে গেলে অনেক উৎসর্গের প্রয়োজন হয়, তা যতই মর্মবিদারক হোক না কেন।

তাই অবতারের কোন আনন্দ নেই, আসক্তি নেই, দুঃখ নেই। মামা-ভাগনের পারিবারিক সম্পর্ক অতি তুচ্ছ ব্যাপার তাঁর কাছে।

অর্জুনপুত্র ইরাবনের মৃত্যু ছিল সেই 'বলিদান' যা পাণ্ডবদের জয় সুনিশ্চিত করেছিল, অভিমন্যু বা ঘটোৎকচের প্রাণদান আর দ্রৌপদীর পাঁচ পুত্রের মৃত্যু - সে-ও তাই। 

যুদ্ধশেষে কুরুক্ষেত্রে অষ্টাদশ ও অন্তিম রাত। কৌরব বংশ সমূলে বিনষ্ট। যুদ্ধক্ষেত্রে কৌরব শিবিরগুলি জনমানবহীন। জ্বলন্ত মশালের আলোয় অসংখ্য ক্ষণজীবী পতঙ্গদের আনাগোনা।

শ্রীকৃষ্ণ প্রস্তাব দিলেন, দুর্যোধন হত, তার শিবির শূন্য। রাতটা ওই শিবিরেই কাটানো যাক (প্রস্তাবটা শুনতেই কেমন অদ্ভুত লাগে।)। কৃষ্ণের প্রস্তাব মানেই পাণ্ডবদের কর্তব্য। সেইমত, পাঁচ পাণ্ডব, দ্রৌপদী, কুন্তী এবং শ্রীকৃষ্ণ আশ্রয় নিলেন দুর্যোধনের শিবিরে।

সেই রাতেই, পাণ্ডব শিবিরে  হানা দিল সাক্ষাৎ মৃত্যু। সদ্য পিতৃহারা, উদ্ভ্রান্তপ্রায় অশ্বত্থামার শানিত খড়গ প্রাণ নিল নিদ্রিত পাঁচ পাণ্ডবপুত্রের। প্রাণ হারাল, বাধা দিতে আসা শিখণ্ডী ও ধৃষ্টদ্যুম্নও।

এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের ফলে, হস্তিনাপুর তথা ভারতের রাজ্যভার সামলানোর জন্য পাণ্ডবপরবর্তী প্রজন্মের আর কেউ রইল না। তাই, শ্রীকৃষ্ণের মৃত্যুর পর, পাণ্ডবরা মহাপ্রস্থানে নিষ্ক্রান্ত হলে,  ভারতশাসনের ভার গেল পাণ্ডবদের নাতি, অভিমন্যুর ছেলে পরীক্ষিতের হাতে। সাথে পরামর্শদাতা হিসেবে থেকে গেল একমাত্র জীবিত কৌরব যুযুৎসু। 

আসলে, ভারতের সিংহাসন নিয়ে ভ্রাতৃঘাতী প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনাটাই বিনষ্ট করে দিয়েছিলেন কৌশলী কৃষ্ণ। ধর্মরাজ্য প্রতিষ্ঠা ছিল তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। পাণ্ডবপুত্ররা সবাই বেঁচে থাকলে, সেযুগের নিয়মমত, ঘটোৎকচই হত ভারতসম্রাট। ঘটোৎকচ ছিল অর্ধেক মানুষ, অর্ধেক রাক্ষস। এমন একজনকে ভারতসম্রাট হিসেবে মানাটা একটু সমস্যার হত। আর উপযুক্ততম ব্যক্তি ছিল অভিমন্যু। কিন্তু সে ছিল সর্বকনিষ্ঠ। সবচেয়ে ছোট ভাই হবে সম্রাট, আর বড় ভাইয়েরা  সব মেনে নেবে, এটাও একটু কষ্টকল্পনা ছিল।

তাই পাণ্ডবপরবর্তী প্রজন্মটাকে পর্যায়ক্রমে একেবারে নিঃশেষ করে দিলেন কৃষ্ণ। কারণ, ধর্মপ্রতিষ্ঠার জন্য যা দরকার তা-ই করেছিলেন তিনি। দরকারমত নির্দয়, নির্মমও হতে হয়েছিল তাঁকে।

🧡🧡🧡🧡🧡🧡🧡🧡🧡🧡🧡🧡
🧡🧡🧡🧡🧡🧡🧡🧡🧡🧡🙏🚩🕉️

ভজে ব্রজৈকমণ্ডন্ম

ভজে ব্রজৈকমণ্ডনম (কৃষ্ণাষ্টকম) [ 1 ] ১. ভজে ব্রজৈক-মণ্ডলং সমস্ত-পাপ-খণ্ডনং স্বভক্ত-চিত্ত-রঞ্জনং সদৈব নন্দ-নন্দনম । সুপিক্চ্ছ-গুচ্ছ-মস্তকং স...